Asslamulikum all...🫡
Amr oponnas a sobai k welcome 🤗
🖤 তোর কারণে বেঁচে আছি 🖤
একটি রোমান্টিক থ্রিলার উপন্যাস
🌸 পর্ব ১ — অচেনা সেই ছেলেটি 🌸
সকাল 9 টা।
নওশিনের ঘরে অ্যালার্মের শব্দে পুরো ঘর কেঁপে উঠছে। কিন্তু ম্যাডামের ঘুম ভাঙার কোনো নাম নেই। বালিশের নিচে মুখ লুকিয়ে আরামে ঘুমাচ্ছে সে। হঠাৎ ফোনের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল।
নওশিন বিরক্ত হয়ে ফোনটা হাতে নিল।
নওশিন: হ্যালো! কে?
ইমু: এই নওশিন! কয়টা বাজে দেখেছিস? আজ কলেজের প্রথম দিন, আর তুই এখনো ঘুমাচ্ছিস!
নওশিন: আরে উঠছি তো! একটু শান্তিতে ঘুমাতেও দিবি না?
ইমু: তুই তাড়াতাড়ি তৈরি হ। আমি তোর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
নওশিন: কী! তুই চলে এসেছিস? আচ্ছা বাবা, আসছি!
ফোন রেখে নওশিন তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠল। ফ্রেশ হয়ে সাদা রঙের সুন্দর একটা ড্রেস পরল। চুলগুলো খোলা রাখল, চোখে হালকা কাজল দিল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে মুচকি হাসল।
নিচে নামতেই ইমু চিৎকার করে উঠল।
ইমু: ওহ মাই গড! আজ তো একেবারে নায়িকা লাগছে!
নওশিন: চুপ কর পাগলি! চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
দুজন হাসতে হাসতে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
অন্যদিকে কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল জিহাদ আর অভি।
জিহাদ দেখতে বেশ সুদর্শন। শান্ত স্বভাবের হলেও তার চোখে সবসময় একটা অদ্ভুত গম্ভীর ভাব থাকে। অন্যদিকে অভি একদম উল্টো। সবসময় হাসি-ঠাট্টা আর দুষ্টুমি করতে ভালোবাসে।
অভি: কিরে জিহাদ, আজ এত চুপচাপ কেন?
জিহাদ: কিছু না।
অভি: তোর এই কিছু না-র মধ্যেই অনেক কিছু লুকানো থাকে।
ঠিক তখনই কলেজের গেট দিয়ে নওশিন আর ইমু প্রবেশ করল। জিহাদের চোখ হঠাৎ নওশিনের দিকে আটকে গেল।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য সে যেন আশপাশের সবকিছু ভুলে গেল।
অভি: ওহ! বুঝেছি। প্রথম দেখাতেই প্রেম!
জিহাদ: চুপ কর, পাগল!
অভি: আচ্ছা বাবা, চুপ করলাম। তবে মেয়েটা কিন্তু সুন্দর!
জিহাদ কোনো উত্তর দিল না। শুধু একবার নওশিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
কিছুদূর যাওয়ার পর নওশিনের হাত থেকে কয়েকটি বই মাটিতে পড়ে গেল। সে বইগুলো তুলতে নিচু হতেই একজন ছেলে এগিয়ে এসে বইগুলো তুলে দিল।
জিহাদ: এই যে, আপনার বই।
নওশিন: ওহ! ধন্যবাদ।
জিহাদ: আমি জিহাদ।
নওশিন: আমি নওশিন।
জিহাদ: নামটা অনেক সুন্দর।
নওশিন: শুধু নামই সুন্দর, আর কিছু না?
জিহাদ হেসে বলল—
জিহাদ: সেটা তো সময় হলে বুঝতে পারবেন।
নওশিন একটু লজ্জা পেয়ে বইগুলো নিয়ে চলে গেল।
দূর থেকে অভি সবকিছু দেখছিল।
অভি: বাহ! ভাইয়ের তো দেখি কথা বলার স্টাইলও বদলে গেছে!
জিহাদ: বেশি কথা বলিস না।
এদিকে অভি ইমুর সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
অভি: হ্যালো, আপনার নাম কী?
ইমু: ইমু। কেন?
অভি: এমনিই। আপনার হাসিটা কিন্তু অনেক সুন্দর।
ইমু: আপনি কি সব মেয়েকেই এমন কথা বলেন?
অভি: না, শুধু যাদের ভালো লাগে তাদের।
ইমু: বাহ! কথা তো কম জানেন না!
অভি হেসে ফেলল। ইমুও মুখ ঘুরিয়ে মুচকি হাসল।
ক্লাস শেষে চারজন ক্যান্টিনে দেখা করল। নওশিন আর ইমু একসঙ্গে বসেছিল। কিছুক্ষণ পর জিহাদ ও অভি এসে তাদের সামনে বসল।
অভি: তাহলে আজ থেকে আমরা সবাই বন্ধু?
ইমু: আগে পরিচয়টা ভালোভাবে হোক, তারপর দেখা যাবে।
জিহাদ: বন্ধুত্ব করতে তো কোনো সমস্যা নেই।
নওশিন চুপচাপ বসে ছিল। জিহাদ মাঝেমধ্যে তার দিকে তাকাচ্ছিল।
হঠাৎ নওশিনের ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এলো।
মেসেজে লেখা—
"জিহাদকে বিশ্বাস করো না। তার অতীত অনেক ভয়ংকর। তার কাছ থেকে দূরে থাকো।"
নওশিন মেসেজটা পড়ে থমকে গেল।
ইমু: কী হয়েছে? এমন চুপ করে গেলি কেন?
নওশিন ফোনটা ইমুর দিকে এগিয়ে দিল।
ইমু: এসব কী! কে পাঠিয়েছে?
নওশিন: জানি না। কিন্তু আমার নাম্বার পেল কীভাবে?
জিহাদ: কী হয়েছে তোমাদের?
নওশিন: কিছু না।
জিহাদ: তুমি কি আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছ?
নওশিন কোনো উত্তর দিল না। জিহাদের চোখে তখন অদ্ভুত একটা অস্থিরতা।
বিকেলে কলেজ ছুটির পর চারজন একসঙ্গে বের হলো। কিন্তু কলেজের গেটের বাইরে একটি কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়ির ভেতর থেকে একজন লোক নওশিনের ছবি তুলছিল।
লোকটি ফোন বের করে বলল—
অচেনা লোক: স্যার, মেয়েটাকে খুঁজে পেয়েছি।
অপর পাশ থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো।
অজানা কণ্ঠ: ভালো। এবার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করো। মেয়েটার যেন কোনো ক্ষতি না হয়।
অচেনা লোক: ঠিক আছে, স্যার।
রাত ১০টা।
জিহাদ নিজের ঘরে বসে ছিল। তার হাতে একটি পুরোনো ছবি। ছবিতে তার পাশে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মেয়েটির মুখে সুন্দর হাসি।
জিহাদ ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলল—
জিহাদ: কেন ফিরে আসছিস আবার? আমি তো সব ভুলে যেতে চেয়েছিলাম!
ঠিক তখনই তার ফোনে একটি মেসেজ এলো।
"তোমার অতীত ফিরে আসছে, জিহাদ। এবার কিন্তু তুমি কাউকে বাঁচাতে পারবে না।"
মেসেজটি পড়ে জিহাদের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
জিহাদ: আবার শুরু হলো! এবার আমি কাউকে ছাড়ব না।
অন্যদিকে নওশিন ঘুমানোর আগে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল রাস্তার ওপারে। কালো পোশাক পরা একজন মানুষ তাদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
নওশিন ভয় পেয়ে দ্রুত পর্দা টেনে দিল।
ঠিক তখনই ফোনে আরেকটি মেসেজ এলো।
"তোমার জীবন এখন বিপদের মুখে। জিহাদ থেকে দূরে থাকো।"
নওশিনের বুক কেঁপে উঠল।
সে বুঝতে পারছিল না, কেন কেউ তাকে জিহাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে বলছে। জিহাদ কি সত্যিই কোনো ভয়ংকর রহস্য লুকিয়ে রেখেছে?
কিন্তু সে জানত না, এই অচেনা ছেলেটির সঙ্গে তার জীবনের এমন এক গল্প জড়িয়ে যেতে চলেছে, যেখান থেকে চাইলেও সে আর ফিরে আসতে পারবে না।
আর সবচেয়ে বড় কথা, জিহাদের অতীতের সঙ্গে নওশিনের পরিবারেরও একটি পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে।
সেই সম্পর্কের সত্যিটা জানলে হয়তো নওশিন নিজেই জিহাদকে ঘৃণা করবে।
চলবে... 🖤
🌑 পর্ব ২ — জিহাদের অতীতের রহস্য
একটি পুরোনো ছবি, একটি হারিয়ে যাওয়া মেয়ে এবং জিহাদের জীবনের ভয়ংকর এক সত্য!
পর্ব 1
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান