🖤 তোর কারণে বেঁচে আছি 🖤
একটি রোমান্টিক থ্রিলার উপন্যাস
🌸 পর্ব ২ — জিহাদের অতীতের রহস্য 🌸
রাত ২টা।
চারপাশে সবাই ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু জিহাদের চোখে ঘুম নেই। সে বিছানায় বসে পুরোনো ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছে। ছবিতে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির নাম ছিল মেহের। মেয়েটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ। কিন্তু তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা তাদের জীবন সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল।
জিহাদের চোখের কোণে পানি জমে উঠল।
জিহাদ: কেন সেদিন তোকে বাঁচাতে পারলাম না, মেহের? কেন?
হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে অচেনা নম্বর।
জিহাদ: হ্যালো!
অচেনা কণ্ঠ: কেমন আছো, জিহাদ?
জিহাদ: কে আপনি?
অচেনা কণ্ঠ: আমাকে ভুলে গেছ? এত সহজে অতীত ভুলে যাওয়া যায়?
জিহাদ: আপনি কী চান?
অচেনা কণ্ঠ: এবার তোমার জীবনে নতুন একজন এসেছে, তাই না? নওশিন?
নওশিনের নাম শুনে জিহাদ চমকে উঠল।
জিহাদ: নওশিনের নাম আপনার মুখে আসছে কেন?
অচেনা কণ্ঠ: সাবধানে থেকো। অতীত এবার তোমার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নেবে।
কলটা কেটে গেল।
জিহাদ রাগে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মারল। তার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন—এই মানুষটা নওশিনের কথা জানল কীভাবে?
🌸 সকাল — নওশিনের বাড়ি
সকাল ৮টা।
নওশিন নাশতার টেবিলে বসে আছে। কিন্তু তার মন অন্য কোথাও। বারবার গত রাতের মেসেজটার কথা মনে পড়ছে।
তার মা লক্ষ্য করলেন মেয়ের মন খারাপ।
মা: কী হয়েছে মা? শরীর খারাপ?
নওশিন: না মা, কিছু হয়নি।
মা: তাহলে এত চুপচাপ কেন?
নওশিন: এমনিই।
ঠিক তখনই নওশিনের ফোনে ইমুর কল এলো।
ইমু: ম্যাডাম, আজ কলেজে আসবি তো?
নওশিন: হ্যাঁ, তৈরি হচ্ছি।
ইমু: তাড়াতাড়ি আয়। আজ তোকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলব।
নওশিন: কী কথা?
ইমু: কলেজে আয়, তারপর বলব।
নওশিন ফোন রেখে তৈরি হতে গেল।
🌷 কলেজের গেট
কলেজে পৌঁছে নওশিন দেখল ইমু গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। পাশে অভিও দাঁড়িয়ে।
নওশিন: এই ইমু! তুই এখানে?
ইমু: আরে তোর জন্যই তো অপেক্ষা করছি।
অভি: শুধু আপনার বান্ধবীর জন্য? আমার জন্য কেউ অপেক্ষা করে না!
ইমু: আপনাকে অপেক্ষা করতে বলেছে কে?
অভি: মন বলেছে।
ইমু: আপনার মনকে একটু বিশ্রাম দিতে বলেন।
নওশিন হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই জিহাদ এসে দাঁড়াল।
জিহাদ: গুড মর্নিং!
নওশিন: গুড মর্নিং।
জিহাদ: কাল রাতে তোমাকে ফোন করেছিলাম। ধরোনি কেন?
নওশিন: আপনি আমার নম্বর পেলেন কোথায়?
জিহাদ একটু থেমে গেল।
জিহাদ: কাল ক্যান্টিনে অভি তোমাদের নম্বর নিয়েছিল। ওর কাছ থেকেই পেয়েছি।
নওশিন: ওহ।
জিহাদ: তোমার কি আমার ওপর রাগ হয়েছে?
নওশিন: না তো।
জিহাদ: তাহলে আমার দিকে তাকাচ্ছ না কেন?
নওশিন একটু লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে তাকাল।
দূর থেকে অভি ইমুকে বলল—
অভি: দেখেছেন? আপনার বান্ধবী আর আমার বন্ধু তো বেশ ভালোই এগোচ্ছে!
ইমু: আর আপনি আমার সঙ্গে এত কথা বলছেন কেন?
অভি: কারণ আপনাকে ভালো লাগে।
ইমু কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল—
ইমু: আপনি আসলেই অনেক পাগল!
🖤 দুপুর — পুরোনো রহস্যের শুরু
ক্লাস শেষে নওশিন লাইব্রেরিতে গেল। বই খুঁজতে গিয়ে একটা পুরোনো খাম দেখতে পেল। খামের ওপর লেখা ছিল—
"জিহাদের জন্য।"
নওশিন অবাক হয়ে খামটা হাতে নিল। ভেতরে একটি পুরোনো ছবি আর ছোট্ট একটা চিঠি ছিল।
ছবিতে জিহাদের সঙ্গে যে মেয়েটি দাঁড়িয়ে ছিল, তাকে দেখে নওশিন থমকে গেল। মেয়েটিকে সে কোথায় যেন দেখেছে।
চিঠিতে লেখা ছিল—
"জিহাদ, তোমার কাছে সত্যিটা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। নওশিনের পরিবার জানে সেই রাতের সব ঘটনা। তুমি যদি সত্য জানতে চাও, তাহলে পুরোনো বাড়িতে ফিরে এসো।"
নওশিনের হাত কাঁপতে লাগল।
নওশিন: আমার পরিবারের সঙ্গে জিহাদের কী সম্পর্ক?
ঠিক তখন পেছন থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো।
জিহাদ: তুমি এখানে কী করছ?
নওশিন চমকে পেছনে তাকাল।
নওশিন: এটা কী?
জিহাদ চিঠিটা দেখে মুহূর্তের মধ্যে গম্ভীর হয়ে গেল।
জিহাদ: এটা তুমি কোথায় পেয়েছ?
নওশিন: লাইব্রেরিতে। কিন্তু এখানে আমার পরিবারের কথা কেন লেখা?
জিহাদ: নওশিন, প্লিজ। এই বিষয়টা নিয়ে আর প্রশ্ন কোরো না।
নওশিন: কেন? আমি কি জানার অধিকার রাখি না?
জিহাদ: সবকিছু জানার সময় এখনো আসেনি।
নওশিন: তাহলে আপনি আমার কাছ থেকে কী লুকাচ্ছেন?
জিহাদ কিছু না বলে চলে গেল।
নওশিনের চোখে পানি চলে এলো। সে বুঝতে পারছিল না, যে ছেলেটাকে একটু একটু করে ভালো লাগতে শুরু করেছে, সেই ছেলেই কেন তার কাছ থেকে এত কিছু লুকাচ্ছে।
🌑 বিকেল — কালো গাড়ির রহস্য
কলেজ ছুটির পর চারজন একসঙ্গে বের হলো। নওশিন তখনো মন খারাপ করে আছে।
অভি আর ইমু সামনে হাঁটছিল। জিহাদ নওশিনের পাশে এসে দাঁড়াল।
জিহাদ: নওশিন?
নওশিন: কী?
জিহাদ: আমার ওপর রাগ করে থেকো না।
নওশিন: আমি আপনার কে যে রাগ করব?
কথাটা শুনে জিহাদ চুপ হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর সে আস্তে করে বলল—
জিহাদ: একদিন হয়তো তুমি আমার সবকিছু হয়ে যাবে।
নওশিন কোনো উত্তর দিল না। শুধু মাথা নিচু করে হাঁটতে লাগল।
হঠাৎ রাস্তার পাশে সেই কালো গাড়িটা দেখা গেল। গাড়ির ভেতরে বসা লোকটি এবার সরাসরি জিহাদের দিকে তাকাল।
জিহাদ লোকটাকে চিনতে পেরে থেমে গেল।
জিহাদ: তোমরা তিনজন বাসায় যাও। আমি আসছি।
অভি: কী হয়েছে?
জিহাদ: বলেছি যাও!
জিহাদের এমন রাগী কণ্ঠ শুনে সবাই অবাক হয়ে গেল।
গাড়ি থেকে একজন লোক নেমে জিহাদের কাছে এল।
লোকটি: স্যার আপনাকে ডেকেছেন।
জিহাদ: তাকে বলো, আমি ভয় পাই না।
লোকটি: এবার শুধু আপনার জীবন নয়, মেয়েটার জীবনও বিপদে পড়বে।
নওশিন দূর থেকে কথাগুলো শুনে ফেলল।
🌙 রাত — ভয়ংকর ফোনকল
রাতে নওশিন নিজের ঘরে বসে ছিল। হঠাৎ ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে কল এলো।
নওশিন: হ্যালো?
অচেনা কণ্ঠ: তুমি কি নওশিন?
নওশিন: জি। কে বলছেন?
অচেনা কণ্ঠ: তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করো, তিন বছর আগে মেহেরের সঙ্গে কী হয়েছিল।
নওশিন: আপনি আমার বাবাকে চেনেন?
অচেনা কণ্ঠ: শুধু তোমার বাবাকে নয়, জিহাদকেও চিনি। খুব ভালো করে চিনি।
নওশিন: আপনি কী বলতে চান?
অচেনা কণ্ঠ: জিহাদ নির্দোষ নয়, নওশিন। সে তোমার কাছেও একটা বড় সত্য লুকিয়ে রেখেছে।
কলটা কেটে গেল।
নওশিন কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর সে সিদ্ধান্ত নিল, আজই বাবার কাছে সবকিছু জানতে হবে।
সে নিচে নেমে বাবার ঘরের দরজার সামনে দাঁড়াল।
নওশিন: বাবা, তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
বাবা: হ্যাঁ মা, বলো।
নওশিন: মেহের কে?
নামটা শুনেই নওশিনের বাবার হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে ভেঙে গেল।
তিনি ভয়ে মেয়ের দিকে তাকালেন।
বাবা: তুমি... এই নাম কোথায় শুনেছ?
নওশিনের চোখ বড় হয়ে গেল।
তার বাবা কাঁপা কণ্ঠে বললেন—
বাবা: নওশিন, তুমি জিহাদের সঙ্গে আর কখনো দেখা করবে না।
নওশিন: কিন্তু কেন বাবা?
বাবা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন—
বাবা: কারণ তিন বছর আগে যে মেয়েটা মারা গিয়েছিল, সে ছিল তোমার নিজের বড় বোন!
নওশিনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
সে বিশ্বাস করতে পারছিল না, তার জীবনের সঙ্গে জিহাদের অতীত এত গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
ঠিক তখনই তার ফোনে একটি মেসেজ এলো।
"তোমার বোনের মৃত্যুর জন্য যে দায়ী, সে এখনো তোমার খুব কাছেই আছে।"
নওশিন ধীরে ধীরে বাবার দিকে তাকাল।
কিন্তু তার বোনের মৃত্যুর পেছনে আসল রহস্যটা কী? জিহাদ কি সত্যিই দায়ী? নাকি কেউ তাদের দুজনকে আলাদা করার চেষ্টা করছে?
চলবে... 🖤🥀
🌑 পর্ব ৩ — বোনের মৃত্যুর আসল রহস্য
একটি পুরোনো ডায়েরি, রক্তমাখা একটি ছবি এবং এমন এক সত্য, যা নওশিনের জীবন বদলে দেবে।