🖤 তোর কারণে বেঁচে আছি 🖤
ধরন: রোমান্টিক থ্রিলার, রহস্য, বন্ধুত্ব ও আবেগ
পর্ব ১৪ — নওশিনের জন্মের শেষ সত্য, আরমানের ভয়ংকর গোপন রহস্য!
সকাল তখন প্রায় নয়টা।
পুরোনো হাসপাতালের রেকর্ডরুমে সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। ইমুর করা প্রশ্নে আরমানের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
নওশিন অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
— বাবা, ইমু শুধু একটা প্রশ্ন করেছে। তুমি এত রেগে যাচ্ছ কেন?
আরমান কাঁপা গলায় বললেন,
— কারণ এই প্রশ্নের উত্তর জানলে তোর জীবনটা বদলে যাবে, মা।
নওশিন বাবার হাত ধরে বলল,
— আমি আর কোনো মিথ্যার মধ্যে থাকতে চাই না। আমাকে সত্যিটা বলো।
আরমান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— ঠিক আছে। আজ সব বলব। কিন্তু তার আগে তোকে একটা কথা জানতে হবে। তোর জন্মের রাতে শুধু ওভি আর জিহাদের পরিচয় বদলায়নি। তোর জন্মের সময়ও একটা ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছিল।
ইমু অবাক হয়ে বলল,
— কী ঘটনা, আঙ্কেল?
আরমান উত্তর দেওয়ার আগেই বাইরে গাড়ির হর্ন শোনা গেল।
তিনি জানালার দিকে তাকিয়ে বললেন,
— আমাদের হাতে আর বেশি সময় নেই। রাশেদ খান অপেক্ষা করছে।
পুরোনো জমিদারবাড়িতে
সকাল ঠিক দশটা।
নওশিন, ইমু আর আরমান পুরোনো জমিদারবাড়িতে এসে পৌঁছাল।
বাড়িটা বিশাল। চারদিকে নীরবতা। দরজার সামনে কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।
তারা ভেতরে ঢুকতেই একজন লোক এসে বলল,
— সাহেব আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছেন।
ঘরের মাঝখানে বসে আছেন রাশেদ খান।
তাঁর মুখে রহস্যময় হাসি।
— স্বাগতম, আরমান। অনেক বছর পর দেখা হলো।
আরমান রাগে বললেন,
— নাটক বন্ধ করো, রাশেদ। আমার মেয়েকে এসবের মধ্যে জড়িয়েছ কেন?
রাশেদ খান হেসে বললেন,
— তোমার মেয়ে? তুমি এখনো ওকে নিজের মেয়ে বলছ?
নওশিন চিৎকার করে উঠল,
— আমার পরিচয় নিয়ে আর কোনো কথা নয়! পরিষ্কার করে বলুন, আমি কে?
রাশেদ খান টেবিলের ওপর একটি ফাইল রাখলেন।
— এই ফাইলেই তোমার জন্মের আসল পরিচয় লেখা আছে।
নওশিন ফাইলটা খুলল।
ভেতরে একটি জন্ম সনদ, একটি পুরোনো ছবি এবং ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট।
রিপোর্ট দেখে নওশিনের হাত কাঁপতে শুরু করল।
— এটা কীভাবে সম্ভব?
ইমু দ্রুত রিপোর্টটা হাতে নিয়ে পড়ল।
তারপর অবিশ্বাসের চোখে আরমানের দিকে তাকাল।
— আঙ্কেল! এখানে তো লেখা আছে, নওশিনের সঙ্গে আরমান আঙ্কেলের কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই!
নওশিনের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
— বাবা... তাহলে আমি তোমার মেয়ে নই?
আরমান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
নওশিনের আসল পরিচয়
রাশেদ খান ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।
— নওশিন, তুমি আমার নিজের মেয়ে নও। তোমার জন্মদাতা বাবা অন্য একজন।
নওশিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— তাহলে আমার জন্মদাতা বাবা কে?
রাশেদ খান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
— তোমার জন্মদাতা বাবা হলেন জিহাদের বাবা!
কথাটা শুনে নওশিনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
— কী! তাহলে জিহাদ আর আমি...
রাশেদ খান সঙ্গে সঙ্গে বললেন,
— না! তোমরা আপন ভাইবোন নও। তোমার মা আর জিহাদের বাবার মধ্যে একসময় একটা সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তোমার জন্মের পর তোমাকে অন্য পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ইমু অবাক হয়ে বলল,
— তাহলে এতদিন নওশিনকে কেন মিথ্যা পরিচয়ে বড় করা হলো?
আরমান এবার মুখ খুললেন।
— কারণ আমি নওশিনকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবেসেছি। ওর জন্মের সত্য জানার পরও আমি ওকে কখনো নিজের কাছ থেকে দূরে সরাইনি।
নওশিন বাবার কাছে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরল।
— তুমি আমার জন্মদাতা না হলেও আমার বাবা। তোমার ভালোবাসা কখনো মিথ্যা হতে পারে না।
আরমান মেয়েকে বুকে টেনে নিলেন।
— মা, তুই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
জিহাদ ও ওভির মুক্তি
অন্যদিকে থানার ভেতরে জিহাদ আর ওভি বসে আছে।
হঠাৎ একজন পুলিশ অফিসার এসে বললেন,
— আপনাদের দুজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিডিওটি জাল প্রমাণিত হয়েছে। আপনাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
জিহাদ অবাক হয়ে বলল,
— সত্যি?
— হ্যাঁ। ভিডিওটি সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছিল।
ওভি খুশিতে জিহাদকে জড়িয়ে ধরল।
— ভাই, আমরা মুক্ত!
জিহাদ হেসে বলল,
— আগে ইমু আর নওশিনকে খুঁজে বের করতে হবে।
ওভি ফোন বের করে ইমুকে কল দিল।
কিন্তু ফোন বন্ধ।
ওভি চিন্তিত হয়ে বলল,
— জিহাদ, আমার খুব ভয় হচ্ছে। ইমুর কিছু হয়নি তো?
জিহাদ বলল,
— চল, আগে বাড়িতে যাই। তারপর সবাইকে খুঁজে বের করব।
ইমু ও ওভির ভালোবাসা
জমিদারবাড়ির বাইরে হঠাৎ একটি গাড়ি এসে থামল।
গাড়ি থেকে নেমে এল জিহাদ আর ওভি।
ইমু ওভিকে দেখেই দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল।
— ওভি! তুমি ঠিক আছো তো?
ওভি মুচকি হেসে বলল,
— তোমাকে ছাড়া আমি ঠিক থাকতে পারি নাকি?
ইমু অভিমান করে বলল,
— আমাকে একবারও ফোন করতে পারলে না?
— জেলের ভেতরে ফোন কোথায় পাব, পাগলি?
ইমু হেসে কাঁদতে লাগল।
জিহাদ নওশিনের সামনে এসে দাঁড়াল।
— কী হয়েছে তোমার? চোখ লাল কেন?
নওশিন কিছু না বলে জিহাদকে জড়িয়ে ধরল।
জিহাদ অবাক হয়ে বলল,
— আরে! কী হয়েছে?
নওশিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— আমি ভেবেছিলাম, তোমাকে হয়তো আর কখনো দেখতে পাব না।
জিহাদ তার মাথায় হাত রেখে বলল,
— পাগলি, তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য কি এত কিছু সহ্য করেছি?
শেষ সত্যের আগেই নতুন বিপদ
সবাই যখন কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে, ঠিক তখনই জমিদারবাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ হলো!
সবাই চমকে উঠল।
আরমান মাটিতে পড়ে গেলেন।
নওশিন চিৎকার করে উঠল,
— বাবা!
জিহাদ দ্রুত আরমানের কাছে ছুটে গেল।
— আঙ্কেল! আপনার কী হয়েছে?
আরমান কষ্ট করে হাত তুলে রাশেদ খানের দিকে দেখালেন।
কিন্তু রাশেদ খান সেখানে নেই।
তিনি পালিয়ে গেছেন।
ইমু জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,
— ওই দেখ! একজন লোক পালাচ্ছে!
ওভি দৌড়ে বাইরে গেল।
কিন্তু লোকটিকে আর খুঁজে পেল না।
এদিকে আরমান নওশিনের হাত শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে বললেন,
— মা... রাশেদ খান আসল অপরাধী নয়।
নওশিন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— তাহলে কে, বাবা?
আরমান কষ্ট করে বললেন,
— যে মানুষটাকে তুই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করিস... সেই মানুষটাই সবকিছুর পেছনে আছে।
নওশিন অবাক হয়ে সবার দিকে তাকাল।
ঠিক তখনই জিহাদের ফোনে একটি মেসেজ এল।
“জিহাদ, তোর মাকে বাঁচাতে চাইলে আজ রাত বারোটার আগে পুরোনো কবরস্থানে চলে আয়। আর মনে রাখিস, তোর বাবা এখনো বেঁচে আছে!”
জিহাদ মেসেজটা পড়ে থমকে গেল।
ওভি তার কাঁধে হাত রেখে বলল,
— কী হয়েছে ভাই?
জিহাদ ধীরে ধীরে বলল,
— আমার বাবা বেঁচে আছে!
সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল।
আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন নারী মুচকি হেসে ফোনে বলল,
— এবার খেলা শেষ হবে। কারণ এতদিন যে সত্য লুকিয়ে রেখেছিলাম, সেটা আজ প্রকাশ পাবে।
চলবে...
পর্ব ১৫-তে:
১. জিহাদের বাবা কি সত্যিই বেঁচে আছেন?
২. আরমানকে কে গুলি করল?
৩. নওশিনের জীবনের সবচেয়ে বিশ্বাসী মানুষটি কে?
৪. রাশেদ খানের আসল উদ্দেশ্য কী?
৫. পুরোনো কবরস্থানে জিহাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?