#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে
#অহর্নিশা
#সূচনা_পর্ব
"তোমার শর্টে একটা মেয়ে জ্ঞান হারিয়েছে গো রক্তিম দা। ওর বাপ ক্লাবের বাইরে ঝামেলা করছে স্যারদের সাথে।”
“তার বক্তব্য কী?”
“মেয়েটা বলের আঘাতে নাকি অজ্ঞান হয়েছে। মেয়ের কিছু হলে উনি পুলিশ পর্যন্ত যাবেন হুমকি দিচ্ছেন।”
“আসছি!! তুই যা।”
কন্ঠে বিরক্ত স্পষ্ট রক্তিমের। বলের আঘাতেও যে কেউ জ্ঞান হারায় জানা ছিল না রক্তিমের। এই আশ্চর্যের ঘটনা প্রথম শুনছে সে।
চোখ বন্ধ করে, ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ছাড়লো রক্তিম। বড্ড ক্লান্ত লাগছে তার, টানা ছয়-সাত ঘণ্টা খেলার পর এইসব ঝামেলা তার মোটেও ভালো লাগছে না।
দুইদিন পরই তাদের ভলিবলের টুর্নামেন্ট আছে, সেজন্য পুরো দমে তাদের প্র্যাকটিস চলছে। আজকে তাদের আর ক্লাবের জুনিয়রদের সাথে একটা ম্যাচ ছিল। এমনি প্র্যাকটিসের জন্য। ম্যাচটা অবশ্য তারা সিনিয়র'রাই জিতেছে, যার শেষ বল রক্তিম দিয়েছিল। যা জুনিয়র'রা ডিফেন্স করতে পারিনি। তারপর বল যে কোথায় গেল রক্তিম জানে না। সে ম্যাচের পরপরই চেঞ্জিং রুমে চলে এসেছিল। আর এইটুকু সময়ের মধ্যেই যে এত কিছু ঘটে যাবে ধারনা ছিল না রক্তিমের।
ঘামে ভিজে থাকা জার্সি খুলে একটা হাফ হাতা টিশার্ট গায়ে জড়িয়ে নিল রক্তিম। তারপর শর্টসের উপরে টাউজার পরে নিল। খুলে রাখা জার্সিটা ব্যাগে পুরে, ব্যাগ কাঁধে তুলে নিয়ে ডান হাত দিয়ে চুল সেট করতে করতে দরজার দিকে হাঁটা দিল। আর তখনই হাঁফাতে হাঁফাতে রিজু এসে পৌঁছালো ।
“ভাই, জ্ঞান হারানো মেয়েটা আর কেউ নয় নয়ন।”
রিজুর কথায় রক্তিম ভ্রু কুঁচকে রিজুর পানে তাকালো। মুখে তার স্পষ্ট বিরক্তি প্রকাশ পাচ্ছে, সে বিড়বিড় করে বলে উঠলো,,,,,
“বেকুবটার দ্বারা সব সম্ভব।”
_________
“কুলতলা বয়েজ ক্লাব” এর সামনে ইতিমধ্যে ভিড় জমে গেছে। ক্লাবের সমস্ত স্যার সহ বেশ কিছু ছেলেরাও উপস্থিত রয়েছে সেখানে।
ঘটনা হল, পুরো কুলতলার বিখ্যাত ব্যবসায়ী নৈতিক মুখার্জির একমাত্র কন্যা নয়ন্তীকা মুখার্জি জ্ঞান হারিয়েছে। তাও আবার কে.বি.সি এর ভলি বলের আঘাতে।
ভদ্রলোকের বাড়ি এই মাঠ থেকে খুব একটা দূরে নয়। খবর পাওয়া মাএই ছুটে এসেছেন তিনি আর তার স্ত্রী। ওনার স্ত্রী তো এসেই কান্না জুড়ে দিয়েছেন মেয়েকে ধরে।আর নৈতিক মুখার্জি এসেই ঝগড়া শুরু করে দিয়েছেন ক্লাবের হেডস্যার মাহিন বাবুর সাথে। মাহিন বাবু অবশ্য বোঝানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ভদ্রলোক বুঝতে নারাজ।
“আমার মেয়ের কিছু হলে আমি আপনাদের ভলিবল ক্লাব বন্ধ করিয়ে ছাড়বো।”
“দেখুন স্যার!! ভলিবলের এই সামান্য আঘাতে কেউ জ্ঞান হারায় না। আমাদের বাচ্চাদের তো রোজই লাগতে থাকে। আপনার মেয়ে হয়তো ভয়ে জ্ঞান হারিয়েছে।”
“আপনাদের বাচ্চারা মাঠের ভিতরে থাকে , তাদের বল লাগবে স্বাভাবিক। কিন্তু আমার মেয়ে তো মাঠের ভিতরে ছিল না, সে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল মাএ। তাহলে ওকে বল কীভাবে লাগলো?? এতে দোষ কাদের??”,,,,, নৈতিক মুখার্জি উচ্চ স্বরে বলে উঠলেন।
এই কথার পরিবর্তে মাহিন বাবু আর কিচ্ছুটি বলতে পারলেন না। কারন এটা নয় যে, ওনার কাছে উওর নেই বা ওনাদের ক্লাবের আসলেই দোষ আছে। কারনটা হল, এই বদমেজাজী লোকটার সাথে তর্ক করতে চাইলেন না মাহিন বাবু। এই পাগল লোককে বোঝানো আর দেয়ালে নিজের মাথা নিজে ঠোকা একই ব্যাপার মনে হল মাহিন বাবুর কাছে । তাই এই মুহূর্তে তিনি চুপ থাকাটাই শ্রেয় মনে করলেন।
এই চেঁচামেচির মধ্যেই নৈতিক মুখার্জির একমাত্র কন্যাকে ধরাধরি করে গাড়িতে তোলা হয়ে গেছে। ওনার স্ত্রী মেয়ের মাথাটা কলে নিয়ে কেঁদে চলেছেন সমানে। আর এইদিকে নৈতিক মুখার্জি হুমকি-ধামকি দিতে ব্যস্ত।
ইতিমধ্যেই রক্তিম এসে পৌঁছালো সেখানে, সে ব্যস্ত পায়ে নৈতিক মুখার্জির কাছে এগিয়ে যাবেই কি তার আগে মাহিন বাবু তার হাতখানা ধরে নিলেন। চোখের চাহনি দ্বারা কিছু একটা বোঝালেন। যা রক্তিম ভালো ভাবেই বুঝলো।
এতক্ষণ নৈতিক মুখার্জি রক্তিমের দিকেই অগ্নি চোখে তাকিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই রক্তিম তাকানো তে তাদের চোখাচোখি হল। বলতে গেলে চোখে চোখে নিরব যুদ্ধ। নৈতিক মুখার্জি রক্তিমের দিকেই দৃষ্টি রেখে নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে মাহিন বাবুর উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,,,,,
“আপনার ক্লাব আর আপনার ছেলেদের পরে দেখছি আমি।”
চলবে,,,,,,,,
( নতুন কিছু লেখার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। কেমন হয়েছে, পরবর্তীতে পড়তে ইচ্ছুক কিনা জানাবেন অবশ্যই।
#লাইব্রেরির_প্রেম ২ গল্পটা শেষের দিকে। তাই আমি শেষ পর্ব একটু গুছিয়ে লিখতে চাইছি। আমার একটু সময় প্রয়োজন, খুব শীঘ্রই দেওয়ার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ 💜🥰।)