ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরান আমার ভালোবেসেছে

২য় পর্ব

লেখক: অহনিশা ব্যানার্জি

#পরাণ_আমার_ভালোবেসেছে

#অহর্নিশা

#পর্ব_সংখ্যা ২

অন্ধকারে আচ্ছাদিত ঘর। ছোট্ট খাটে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে নয়ন্তীকা। দখিনা জানালাটা খোলা থাকায়, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় মেয়েটার মুখ জ্বলজ্বল করছে।

বিকেল সাতটা তখন, বাইরে ঠান্ডা হাওয়ার আনাগোনা। বৃষ্টি হবে হবে ভাব, যা কিনা প্রচন্ড শীতের আগমন বার্তা। বাইরের হালকা হাওয়ায় জানালার পর্দা গুলো তখন তীব্র গতিতে উড়ছে। এইদিকে নয়ন্তীকা শীত শীত অনুভব করায় আরও গুটিয়ে গেল, নিজেকে আরও জড়িয়ে নিল উষ্ণ চাদরে।

অন্ধকারময়-নিস্তব্ধ ঘরে ঘড়ির কাঁটার ‘ঠিক্ ঠিক্’ শব্দ ব্যতীত নয়ন্তীকার নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। মেয়েটার ভারী নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস বলে দিচ্ছে, যে মেয়েটা প্রশান্তিতে ঘুমাচ্ছে। তবে , মেয়েটার প্রশান্তির ঘুম বেশিক্ষণ টিকলো না।

সেই মূহূর্তেই নয়ন্তীকার ঘরে একটা বিকট শব্দ হল।সেই শব্দে মেয়েটা ধরফরিয়ে উঠলো। তার ঘুম একেবারে বৃন্দাবন পৌঁছে গেছে ততক্ষনে। মেয়েটা উঠেই আশেপাশে চাইলো। তবে ঘর অন্ধকার থাকার দরুন কিছুই দেখা গেল না। নয়ন্তীকা হাত বাড়িয়ে ঘরের লাইট অন করলো। ওমনি তার চোখ কপালে উঠে গেল।

তার সাধের ঘৃতকুমারী গাছের টব ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আর একটা ছোট্ট বিল্লু মনের সুখে গাছটা দাঁত দিয়ে কুটি কুটি করছে। যা দেখে নয়ন্তীকার পায়ের রক্ত একেবারে মাথায় উঠে গেল। তার কত সখের গাছটা।

নয়ন্তীকা ব্যস্ত পায়ে খাট থেকে নেমে এগিয়ে গেল সেই দিকে।

ততক্ষণে বেয়াদব বিল্লুটা তার ছোট্ট ঘৃতকুমারীর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। ছিঁড়ে একাংশ টুকরো টুকরো হয়ে পরে আছে ছোট্ট গাছটা। নয়ন্তীকা বসে পড়লো সেখানেই। তার এখন হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। তবে, দুঃখে নয় বরং রাগে। কেননা রাগ দেখিয়ে এই বিল্লুটাকে তো আঘাত করা যাবে না। নয়ন্তীকা এতও হৃদয়হীনা নয়। যদি সে এতই পাষাণ হতো, তবে শএু পক্ষের এই বিল্লুকে কবেই গুম করে দিত সে।

বিল্লুটার নাম ‘কাজু’। সুন্দর না ? তবে সে রাখিনি। আর না তো এই বেয়াদব বিল্লুটা তার। তবে এক কালে নয়ন্তীকা এই বেয়াদব বিল্লুটাকে বড়োই ভালোবাসতো। আগে সে নয়ন্তীকার সাথে তার ঘরেই থাকতো। বিল্লুটার মা-বাবা সম্ভবত নেই। একদিন তাদেরই ছাদ থেকে নয়ন্তীকা একে উদ্ধার করেছিল। তারপর থেকে নয়ন্তীকা অনেক যত্ন-আদরেই মানুষ করছিল বিল্লু টা'কে। কিন্তু কথায় আছে না,,,,,“বাঁদরের পেটে ঘি সয় না।”

বিল্লুটার ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই। বিল্লুটা আস্ত একটা বাঁদর।তার পেটেও নয়ন্তীকার আদর-যত্ন হজম হয়নি। তাই তো সে, তার সব থেকে বড়ো শএুর গলায় গিয়ে ঝুলে পড়েছে। আর সেই তার নাম রেখেছে,,,“কাজু”। সে ডাক দিলেই বেয়াদব বিল্লু ভ্যানিশ হয়ে যায়। তাই নয়ন্তীকা বিল্লুটার দওক থেকে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছে। কেননা তার কিছুই করার নেই। বেয়াদব বিল্লু তাকে ধোঁকা দিয়েছে। নয়ন্তীকা কিই বা করবে। কোনো মহান কবি বলেছেন,,,,,“যে যেতে চায়, তাকে যেতে দিতে হয়।”

তাই নয়ন্তীকা ছেড়ে দিয়েছে বিড়াল বাচ্চাটাকে। তবে বেয়াদব বিল্লু দু নৌকার মাঝি কিনা। সে তাদের বাড়ি ও আসে। আবার তার পাশের বাড়ির, তার শএুর কাছেও যায়। এত বেয়াদব বিল্লুটা!

প্রতিদিন বিল্লুটা একবার না একবার তাদের বাড়ি আসবেই। জানালা অথবা বেলকনি থেকে এসে তার ঘরে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। নতুবা তার সমস্ত সখের জিনিসগুলো ধংস করে দিয়ে যায়। যেমনটা আজকে করলো।

নয়ন্তীকা এবার নিজের সমস্ত ভাবনা চিন্তা বাদ দিয়ে বিল্লুটার দিকে নজর দিল। সে তার দিকেই মায়াময় চোখ নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে। মুখ দেখে মনে হচ্ছে কত নিষ্পাপ-অসহায় একটা প্রানী। যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানে না। যারা এই বিল্লুকে চেনে না তারা এই ভোলাভালা মুখ দেখে একেবারে গলে যাবে। কিন্তু নয়ন্তীকা তো চেনে এই বেয়াদবটাকে। সে জানে এই বিল্লু ভাজা মাছ ভালোই উল্টে খেতে জানে। এমনকি কাঁটা সমেত।

নয়ন্তীকা বিল্লুটার সাধু মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে বেশ রাগী গলায় বলে উঠলো,,,,,,,

“এই কাজু-কিশমিশ, তোর এখানে কী রে ?? তোকে না আসতে বারন করেছি। এবার তোকে একদিন পায়েসে দিয়ে খেয়ে নেব তখন বুঝবি।”

“ম্যাও....বিল্লু জ্বলজ্বল চোখে তাকিয়ে ডেকে উঠলো।”

“অসভ্য বিল্লু! আমি সব বুঝি,,,তুমি কেন আসো। আমার চিনি-মিনির থেকে দূরে থাকবি একদম।,,,,, নয়ন্তীকা একটা আঙ্গুল দেখিয়ে শাসিয়ে বললো।”

নয়ন্তীকার কথায় কাজু খুব একটা মাথা ঘামালো না। সে মুখ ফিরিয়ে বেলকনির দিকে হাঁটা দিল। অর্থাৎ, সে বুঝিয়ে দিল সে নয়ন্তীকার কথা কানে তোলেনি। যা দেখে নয়ন্তীকা ভেংচি কেটে বলে উঠলো,,,,,

“অসভ্য বিল্লু! একে একদিন সত্যি পায়েসে দিয়ে গিলে নেব। তখন দেখবো নবাবের এই ভাব কোথায় থাকে।”

-------------------

ফ্লোর পরিষ্কার করে, নয়ন্তীকা ফ্রেস হয়ে নিল চটপট। এতক্ষণে তার একটু আরাম লাগছে, নাহলে তার শরীর টা কেমন ভারী-ভারী লাগছিল।

নয়ন্তীকা ভিজে টাওয়ালটা বেলকনিতে মেলে দিয়ে এল। আর ঠিক তখনই তার মা জননী আর তার প্রান প্রিয় সখী এল তার ঘরে। মায়ের হাতে খাবার আর ওষুধের গাদা। যা দেখে নয়ন্তীকার আর একবার মাথা চক্কর দিতে লাগলো।

“এই শরীর নিয়ে উঠতে গেছিস কেন?? আমাকে ডাকতে পারতিস। তাছাড়া আমি তো তোর কাছেই আসছিলাম।”,,,,,, মিসেস অহনা খাবার ট্রে টা' টেবিলে রাখতে রাখতে বললেন।”

“উফ মা! আমি ঠিক আছি তো। শুধু মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলাম এই যা। তাছাড়া তেমন কিছু হয়নি তো।”,,,,, নয়ন্তীকা বিছানায় বসতে বসতে বলো। ততক্ষণে তার সখী রিহাও তার পাশে বসেছে।

“হ্যাঁ! খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো না করলে কি আর হবে। খাবেন না এই মহারানী আর এইদিকে তার বাপ আমার ঘাড়ে দোষ চাপাবেন। সবাই আমাকেই তো পেয়েছিস এই বাড়ির চাকর, সব করে দেব আর খোঁটাও শুনবো।”,,,, মিসেস আহানা গজগজ করতে করতে বললেন। সেই সাথে নয়ন্তীকা ও তার বন্ধু রিহার হাতে নুডলসের বাটি ধরিয়ে দিলেন।

“ও মা !! এই রকম কেন বলছো?? তুমি কেন চাকর হতে যাবে। তুমি তো এই বাড়ির রাজ রানী। আমার ভালোবাসার মা।”,,,,,,বলেই নয়ন্তীকা মাকে আলতো জড়িয়ে ধরলো।

“হয়েছে হয়েছে! আর তেল লাগাতে হবে না। খাবরটা খেয়ে ওষুধ খেয়ে আমায় উদ্ধার কর, তাহলেই হবে।”,,,,,, মিসেস আহানা নয়ন্তীকার বাঁধন ছাড়িয়ে নিলেন, এবং দরজার দিকে হাঁটা দিলেন। অবশ্য যাওয়ার আগে বলে গেলেন, কিছু লাগলে ওনাকে ডেকে নিতে। যেন নয়ন্তীকা পাকানামো করে নিজে কিছু না করে।

মায়ের এই হালকা রাগে মোটেই দুঃখ পেল না নয়ন্তীকা। কেননা সে তার মা কে ভালো মতোই চেনে। রাগী-রাগী কথা গুলোর পিছনে রয়েছে অগাধ ভালোবাসা আর চিন্তা। যার প্রমাণ সে হসপিটালেই পেয়েছে আজ।

নয়ন্তীকার প্রেসার ফলের কারনে সে ওই ক্লাবের সামনে জ্ঞান হারিয়েছিল। তারপর তো সে নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলো। তখনই সে তার বাবা-মায়ের উদ্বিগ্নতা লক্ষ্য করলো। তাকে নিয়ে অজস্র চিন্তা দেখতে পেল তাদের মধ্যে।

যেহেতু সিরিয়াস কিছু ছিল না, তাই ডক্টর চেকাপ করেই তাকে ছেড়ে দিয়েছিল। আর বেশ কয়েকটা ওষুধ লিখে দিয়েছিলেন। হসপিটাল থেকে বেরোনোর আগে মিসেস আহানাকে বলেছিলেন নয়ন্তীকার খাবার-দাবারে নজর দিতে। আর মেডেসিন ঠিক-ঠাক দিতে। ব্যাস!! তারপর নয়ন্তীকা বাড়ি এসে ঘুম দিয়েছে।

--------------

“তোমার কুন কুন জায়গায় ব্যথা গো,

বান্ধবী ললিতা”......

হঠাৎ রিহার এমন উদ্ভট গান শুনে হকচকিয়ে উঠলো নয়ন্তীকা। সে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো রিহার পানে। যা দেখে রিহা দাঁত বের করে বোকা হাঁসি দিল। তারপর বললো,,,,,,

“না মানে কোথাও ব্যাথা আছে? ভালো আছিস তো ?”

রিহার ফালতু কথায় পাত্তা না দিয়ে নয়ন্তীকা খাওয়ায় মনোযোগ দিল। যা দেখে রিহা আবার কনুই দিয়ে গুঁতো মারল নয়ন্তীকাকে। ফলে নয়ন্তীকা খেতে খেতেই উওর দিল,,,,,,,

“হ্যাঁ ভালোই আছি। খুব ভালো আছি।”

“ভাই, তোর তো ভালো থাকারই কথা। রক্তিম দাশগুপ্ত- এর বলের ধাক্কা খেতেও ভাগ্য লাগে। তুই কত ভাগ্যবতী রে।”,,,,,রিহা নাটকীয় ভঙ্গি করে বললো।

যা দেখে নয়ন্তীকা মনে মনে বেজায় বিরক্ত হল। এই মেয়ে 'রক্তিম দাশগুপ্ত' বলতে অজ্ঞান। শুধু রিহা বলেই নয়, তাদের পাড়ার প্রতিটা মেয়েই সে বলতে অজ্ঞান। যা নয়ন্তীকার বড্ড বাড়াবাড়ি লাগে। আরে ভাই এত কিসের পছন্দ। সেও একটা আর পাঁচ জন মানুষের মত সাধারণ। আবার এরা এমন বিহেভ করে যেন সে স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে। নয়ন্তীকা বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে বিড়বিড় করে বললো,,,,,,,,

“যতসব পাগল-ছাগলের দল। ফালতু!!”

এতক্ষণ রিহা আকাশকুসুম ভাবছিল আর মুচকি মুচকি হাসছিল। সেই ভাবনার মাঝেই সে আপসোসের সুরে বলে উঠলো,,,,,,,

“ভাই , তোর জায়গায় আমি হলাম না কেন। অত্যন্ত তার ছোঁয়া তো পেতাম।”

নয়ন্তীকা বিরক্ত ভরা চোখে তাকালো। তারপর মুখ বেঁকিয়ে রিহাকে উদ্দেশ্য করে বললো,,,,,,

“তোর না বয়ফ্রেন্ড আছে? তারপরও এদিক-ওদিক নজর দিচ্ছিস? লজ্জা করে না?”

“বয়ফ্রেন্ড আছে তো কি ক্রাশ খাওয়া বারন নাকি? আর বারন থাকলে আমি সুধীরকে ছাড়তে রাজি তবে আমার ক্রাশকে না।”

এই পর্যায়ে নয়ন্তীকার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেল। তবু সে চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা চালালো। তারপর রিহাকে উদ্দেশ্য করে বললো,,,,,,

“এই তুই চোখের সামনে থেকে বিদায় হ তো। ওই ভাবের দোকানের গল্প আমার সামনে একদম করবি না শেষবারের মতো বলে দিলাম। এরপর বললে তোর সাথে আমার সব সম্পর্ক শেষ। তোকে ডিভোর্স দিয়ে দেব।”,,,,,বলেই রাগে ফোঁস ফোঁস করতে লাগলো নয়ন্তীকা।

অপরদিকে নয়ন্তীকার কথায় মুখটা ফাটা বেলুনের মতো করে বসে রইলো রিহা। এই মেয়ে অতো সুন্দর ছেলেটাকে অপছন্দ কিভাবে করে রিহার ঘটে ঢোকে না ব্যাপারটা।

_________________

রাত আটটা তখন, রক্তিম বাড়ি এসে পৌঁছালো। দরজা মিসেস রেবা খুললেন। এতক্ষণ তিনি ছেলের অপেক্ষাতেই ছিলেন। যদিও এটা ওনার নিত্য দিনের রুটিন। ছেলে মাঠ থেকে না ফেরা পর্যন্ত ওনার মনে শান্তি থাকে না। তবে আজকে যেন ওনার মনে অশান্তিটা একটু দ্বিগুণ ছিল।

রক্তিম লিভিং রুমে ঢুকেই সোফায় গা এলিয়ে দিল, পাশেই কাঁধের ব্যাগটা রাখলো। ততক্ষণে মিসেস রেবা কিচেন থেকে জল এনে ফেলেছেন। তিনি গ্লাসটা রক্তিমের দিকে এগিয়ে দিলেন। তারপর তিনি ছেলের পাশে চুপচাপ বসলেন। তখন রক্তিম জল খেতে ব্যস্ত।

রক্তিম গ্লাসটা রেখে মাথা তুলে চাইলো আশেপাশে। তার ভাই রূপক আর মা তার দিকেই ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। তবে, মিস্টার অনিমেষের এই দিকে কোনো ধ্যান নেই। তিনি মনোযোগ দিয়ে ম্যাগাজিন দেখতে ব্যস্ত।

রক্তিম মা আর ভাইয়ের দিকে একপলক তাকিয়ে গলা ছেড়ে বেশ জোরে তার আদরের বাচ্ছাকে ডাকলো,,,,,,,

“টুইটার...এই টুইটার।”

ওমনি দোতলার সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বেগে নেমে এল একটা গোল্ডেন রিট্রিভার। এসেই রক্তিমের গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো। লেজ নাড়িয়ে, মুখ থেকে শব্দ করে সে তার মনের ভাব প্রকাশ করতে লাগলো। রক্তিমও তাকে আদর দিতে লাগলো।

বেশ কিছু সময় পর টুইটার একটু শান্ত হল। ততক্ষণে সে রক্তিমের কোলে জায়গা করে নিয়েছে। সে চুপচাপ লক্ষ্মী বাচ্ছাদের মতো বসে আছে। আর রক্তিম তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে ব্যস্ত।

“তা শুনলাম, তোদের ক্লাবে ঝামেলা বেঁধেছিল?? পুরো পাড়ায় গুঞ্জন রটে গেছে। সবাই কানাঘুষো করছে, ব্যক্তিগত আক্রোশ মিটিয়ে এসেছে নয়নের বাবা।”

মায়ের কথায় মাথা তুলে চাইলো রক্তিম। তারপর বেশ শান্ত গলায় বললো,,,,,,

“ওই রকম কিছু না মা। আর তা ছাড়া তুমি তো জানোই পাড়ার মানুষগুলো বাড়িয়ে-চাড়িয়ে বলে।”

“অসুবিধা হলে আমাকে জানাবি।”

“তার হয়তো দরকার পড়বে না মা। তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছো।”,,,,,বলেই রক্তিম টুইটারকে নিয়ে নিজের বরাদ্দকৃত ঘরের দিকে হাঁটা দিল।

আর মিসেস রেবা সেই দিকে চেয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। আর বিড়বিড় করে বললেন,,,,,,

“সময়ের সাথে মানুষগুলোও পরিবর্তনশীল। আর সেই পরিবর্তনের জন্য কতগুলো সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়,,,,,সেই খবর কেউ রাখে কি ?”

চলবে,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন