ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিষাদ বৃক্ষ

পর্ব 24

লেখক: নূপুর ইসলাম

#বিষাদ_বৃক্ষ
#নূপুর_ইসলাম
#পর্ব- ২৪

গাঁও গ্রামের বিয়েতে সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই বিয়ের ধুম লাগে। আর এখানে তো বাকিই কয়েকদিন। অলি আবসারের বাড়িতেও যেন লেগে গেল আরও জাঁকজমক ভাবে। আত্মীয়- স্বজন, গ্রামের মানুষজন, হাসি - মজা, বাচ্চাদের হইহুল্লোড়ে পুরো বাড়ি মুখরিত। রান্না ঘরের উনুন চলছে অবধারিত ভাবে। হাড়িতে হাড়িতে খাবার নামছে। বিয়ের আয়োজন থেকে সব কিছু করা হয়েছে বাইর বাড়িতে। আত্মীয়- স্বজনদের কোলাহল শুধু ভেতর বাড়িতে।

আর এই এত এত হই হুল্লোড়ের মাঝে আনতারা খাবার ঘরের এক কোণে চুপচাপ বসে আছে। কেউ অবশ্য জানে না, সে বসে আছে সেই ভোর থেকে। তার জ্ঞান ফিরতেই একটা টু শব্দও সে করেনি। আজাদ বেশ কয়েকবার ডেকেছে। সে ঘুমের ভাব ধরে বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে ছিল। আজাদ একটু বেরুতেই সে টুপ করে বেরিয়ে এসেছে।

শবনম বাড়ির বড় বউ। দু- দন্ড বসার তার সময় কই, তবুও তার নজর আনতারার উপরে ঠিক পড়ল। আনতারা এমনিতেই চুপচাপ, তবে আজকের থাকা তার কাছে অন্যরকম মনে হলো। আর তখনি সে খেয়াল করল, আনতারা সেই সকাল থেকে এখানে বসা। আর নড়েই নি। না রুমের দিকে গেছে না অন্য কোথাও। আজাদ অবশ্য তাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিল, -- ভাবি আনতারাকে দেখেছো?

সে তখন ব্যস্ত! ব্যস্ত ভাবেই বলেছে, -- এদিকেই হয়তো আছে দেখো।

তার মনে কু ডাকলো! এই ভাবে সেও বসে থাকে। আজাদ ভাইও কি আসাদের মতোই হলো? সে চিন্তিত ভাবে এগিয়ে গেল। বাড়ি ভরা মানুষ। এমনিতেই বউদের যে দোষ। এভাবে বসে থাকতে দেখলে কানাকানি হতে সময় লাগবে না।

সে এগিয়ে গিয়ে বলল, -- আনতারা একটু আস তো আমার সাথে।

আনতারা বিনা বাক্যকেই উঠল। শবনম খেয়াল করল, আনকারা উঠতে গিয়ে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলেছে।

শবনমের ভেতর ধক করে উঠল। সে তো কিছুই বুঝতে পারছে না। আজাদ ভাই কি আনতারার গায়ে হাত তুলেছে? সে হা হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর কোনরকম টেনে আনতারাকে নিজের ঘরে আনলো। ঘরে দুনিয়ার পুলাপান। হুটোপাটি খাচ্ছে। তাদের সুন্দর করে শবনম বলল, -- তোমরা একটু বাইরে যাওতো।

তারা যেতেই শবনম দরজা লাগালো। আনতারাকে খাটে বসিয়ে জড়িয়ে ধরল। বাবা, মা ছাড়া এতিম সন্তান। ভাগ্যর গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে এখানে ভেসে এসেছে। শবনমের স্বামীর বাড়ির কেউ না থাক। বাবা আছে, মা আছে, সুখ দুঃখ বলার মত ভাইবোন আছে। এই মেয়েটার আছে টা কে? যাবে'ই বা কোথায়?

শবনম ধরতেই আনতারা ফুঁপিয়ে উঠল। শবনমের এত খারাপ লাগল। আজাদ রে আজাদ! তোরে তো আমি ভালোই ভাবছিলাম। তুইও বংশের মতো খাটাশই বের হলি। বলেই সে সাথে সাথেই সব সময়ের মতো তওবা কাটলো। এর মধ্যে তো আবার তাদের দাদা ভাইও পরে গেল। ধুর, ধুর বকতে গিয়েই শান্তি নেই।

সে কি করবে বুঝে উঠতে পারল না। কিছুক্ষণ যেতেই শবনম আনতারাকে উঠালো। চোখ, মুখ মুছালো। এতোটুকুতেই লাল টুকটুকে হয়ে গেছে। এই মেয়ের গায়ে হাত তুলতে আজাদের হাত কাঁপলো না? আজাদরে তোরে তো আমি দেখছি দাঁড়া। কপালগুনে এমন বউ পাইছোস। তা না হলে কালা কাউকা কোন কমলা আনতি আমিও তো দেখতাম।

মনে মনে আজাদের গুষ্টি উদ্ধার করে শবনম আনতারাকে কোমল সুরে বলল, -- কি হয়েছে? আমাকে একটু খুলে বলতো।

আনতারা আবার শবনমকে জড়িয়ে ধরল। তবে কিছুই বলল না। জড়িয়ে ধরে চুপচাপ বসে রইল। তখনি দরজায় টোকা পড়ল। শবনম দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই বাড়িতে দু- মিনিট একটু শান্তিতে বসা যায় না। সে আনতারাকে আবার সোজা করল, করে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলল।

আজাদ দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখেই শবনমের গায়ে কেউ যেন লবণ, মরিচের গুড়া ছুঁড়ে মারলো। সে রাগে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ঝাঁঝিয়ে বলল, -- কি চাই?

আজাদ হেসে ফেলল। হেসে উঁকি দিয়ে শবনমের পেছনে আনতানাকে দেখল। সে চোখ, মুখ শক্ত করে গাল ফুলিয়ে অন্য দিকে তাঁকিয়ে আছে। সে হেসেই বলল, -- ভাবি দু- মিনিট সময় দাও।

শবনম আগের মতোই রাগ নিয়ে বলল, -- দু- মিনিট কেন আধা সেকেন্ডও না।

-- কেন?

শবনম আকাশ থেকে পড়ে বলল, -- তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করছো?

আজাদ আবারো হাসলো। তখনি আমজাদ ডাকলো। বাবুর্চি এসেছে। কোথায় রান্নার আয়োজন করবে দেখিয়ে দিতে। আজাদ আর দাঁড়ালো না। আরেকবার আনতারার দিকে তাঁকিয়ে শবনমের হাতে কিছু গুঁজে চলে গেল।

শবনম ভ্রু কুঁচকে হাতের দিকে তাঁকালো। এই ঔষুধের পাতা তার পরিচিত। হালকা, জ্বর ব্যাথার জন্য ভালো। সে মুখ বাঁকালো। গুরু মেনে জুতো দান। বলতেই তার টনক নড়লো। নড়তেই সে আনতারার দিকে ভালো ভাবে তাকালো। গোড়া থেকে সব একটু ভাবলো। ভেবে বড় বড় চোখ করে আনতারার দিকে তাঁকালো। তাঁকাতেই হেসে ফেলল।

আনতারার ঘুম ভাঙল দুপুরের পরে। ভাবি খাবার ঔষুধ খাইয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বলেছে, আমি সবাইকে বলে দেব তুমি একটু অসুস্থ । কেউ এসে বিরক্ত করবে না। তুমি ঘুামাও।

আনতারা আর কিছু বলেনি। তার নিজেও কিছু ভালো লাগছিল না। কখন ঘুমিয়ে গেছে বুঝতেই পারেনি। সে উঠল! খাটের বাইরে পা ঝুলাতেই অবাক হয়ে তাকালো। তার পায়ে নূপূর। নূপুরটা রুপার, তবুও তার শুভ্র পায়ে ঝিকিমিকি করছে। নূপূরটা দেখতে একেবারে বুকুল ফুলের মালার মতো। শেষে গিয়ে শুধু ছোট্ট তিনটা ঝুমকা। সেটাই হালকা করে রিনঝিন করে বাজচ্ছে ।

সে ইচ্ছে করেই কয়েকবার পা ঝুলালো। তার দেখতে ভালো লাগছে। তখনি দরজা ঠেলে ভাবি, মিথি, তাদের আরো খালোতো, মামাতো ননদরা এসেছে। সবাই ঢুকল। সবার হাতেই অনেকগুলো ব্যাগ। সেই ব্যাগই খাটে ধপাস করে রাখল। ব্যাগ ভর্তি গায়ে হলুদের কাপড়। মুর্শিদা মেয়ের বিয়ের খুশিতে সবাইকে একটা করে দিয়েছে। সেই নিয়েই তাদের যত আমোদ। কে কিভাবে পরবে, কে কিভাবে সাজবে। রুমের মধ্যেই কিছুক্ষণের মধ্যেই বাজার মিলে গেল।

আনতারা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল। তার ঠোঁটের কোণে হাসি। অন্যদের খুশি দেখতেও তো ভালো লাগে। তখনি ধপ করে শবনম আনতারার সাইডে বসল। বসে ভ্রু নাঁচিয়ে বলল, -- কি খবর দেবরেররাণী?

আনতারা তার স্বাভাব মতো মাথা কাত করে আস্তে বলল, - ভালো। তাকে যে দুষ্টুমি করে জিজ্ঞেস করা হয়ে সে বুঝেও নি।

শবনম হেসে ফেলল। হেসে বলল, -- গাধী।

আনতারা নিষ্পাপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কেউ কুশল জিজ্ঞেস করলে, উত্তর দিলেও যে গাধী হয় তার জানা ছিল না।

শবনম আগের মতোই হাসলো! হেসেই টেনে বলল। আস! বাড়ি ভর্তি মেহমান। এখন বের না হলে, কথা শুনতে শুনতে তোমার জান বেরিয়ে যাবে।

আনতারারা বেরুলো। রুম থেকে বের হতেই আজাদের সামনে পড়ল। যেন আশে পাশেই ছিল। আনতারা তাঁকালো না। সে অন্য পাশে তাঁকিয়ে রইল।

আজাদ তার স্বভাব মত হাসল। হেসে বলল, -- শুধু দু- মিনিট ভাবি।

শবনম মুখ বাঁকাল। বাঁকিয়ে বলল, --- দু- মিনিট, দু- মিনিট করে করে তো মাথা খেয়ে ফেলছো। দু- মিনিটে করবেটা কি? বউয়ের ফুলো গাল চিমসা করতে করতেই তো তোমার ঘন্টা পেরিয়ে যাবে।

আজাদ আবারো হাসলো। আনতারা এতক্ষণ গাল না ফুলালেও এখন ঠিক ফুলালো।

শবনম আর তাঁকালো না। সে চলে গেল, যেতে যেতে আজাদের হাতে চিমটি কাটতে ভুললো না। শবনম যেতেই আনতারাও যেতে চাইল। তবে আজাদ সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।

আনতারা কথা বলল না। সে তার ফোলা গাল নিয়েই আরেক সাইড দিয়ে যেতে চাইল। আজাদ আবার সে সাইডেও গিয়ে দাঁড়ালো। আনতারা চোখে মুখে বিরক্তি নিয়ে এবার আজাদের দিকে তাকালো।

আজাদ তাকিয়েই ছিল। চোখে চোখ পড়তেই স্বাভাবিক ভাবে বলল, -- কি হয়েছে?

আনতারা উত্তর দিল না। তার ভালো না লাগলে কথা বলতে ইচ্ছে করে না।

আজাদ আগের মতোই বলল, -- আমার নীল জিন্স কোথায় রেখেছো? সকাল থেকে পুরো ঘর তামাতামা। আমি বেরুবো। তাড়াতাড়ি খুঁজে দাও।

আনতারা এবার হা হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। সে ভেবেছিল আজাদ অন্য কিছু বলবে। সে মনে মনে বড় একটা শ্বাস ফেলল। ফেলে চোখ ঘুরিয়ে আজাদের পেছনে তাকালো।

আজাদও আনতারা সাথে সাথে পেছনে ফিরলো। সে ভেবেছে কেউ এসেছে। কিন্তু আজাদ জানে না। সে পেছনে ফেরার সাথে সাথে আনতারা এই সাইড দিয়ে চলে এসেছে। সে বুঝল একটু পরেই। বুঝতেই হাসলো। তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আজাদকে এই সাদাসিধে মেয়ে মাঝে মাঝে কি সুন্দর বোকা বানিয়ে ফেলে।

শবনম এতক্ষণ রান্না- ঘরে ছিল। এত মানুষের তিনবেলা রান্না কম তো না। অবশ্য সবাই হাতে হাতে করছে। করলেও বাড়ির মানুষ তো বাড়ির মানুষই। কাজের শেষ কোথায়?

সে রান্না ঘর থেকে বের হতেই তার মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। সে সাথে সাথেই বারান্দার গ্রিল ধরে নিজেকে সামলালো। খাওয়া, দাওয়া ঠিক মত হচ্ছে না। আবার এতো দৌড়া দৌড়ি। জানে আর কত সইবে। সে কিছুক্ষণ সেই ভাবেই দাঁড়িয়ে রইল।

মুর্শিদা দেখে বলল, -- হইছে কি তোমার? এমন খাম্বার মতো দাঁড়ায়ে আছ ক্যা? একদিকে এ আরেক দিকে ঐ জন। সে তো পটের বিবি। রুম থেকেই বের হইল আধা বেলা পাড় কইরা। এহন আবার তুমি শুরু করছ। আল্লাহ আমার কপালে পুতের বউগো সুখ তো লেখে নাই, লেখছে শুধু জ্বালা।

শবনম কোন কথাই গা করল না। নতুন কি? শুনতে শুনতে সয়ে গেছে। সে স্বাভাবিক ভাবে বলল, -- কোন কাজ আছে মা?

-- কাজের কি আর শেষ আছে? সন্ধ্যা পইড়া আইল। এতো মানুষ শুইবো। বালিশ তোষকতো বাইর করা লাগবো।

-- আমি দেখছি।

-- হ হ তাড়াতাড়ি দেখো। বলেই তিনি ব্যস্ত ভাবে চলে গেলেন।

সে যেতেই শবনম এলো কল পারে। মুখে মাথায় একটু পানি দেবে। কলে হাত রাখতেই আসাদ বলল, -- আমি দিচ্ছি।

আজকাল শবনম কিছুতেই চমকায় না। তার ভাবও আজাদের মতো হয়ে গেছে। যা হাবার হোক, যা করার করুক গে। তাই আসাদকে দেখেও তেমন ভাবান্তর হলো না। সে সরে দাঁড়ালো। আসাদ কল চাপ দিতেই সে নিচু হয়ে চোখে, মুখে মাথায় পানি দিল।

আসাদ নিশ্চুপ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, -- কি হয়েছে?

শবনমও তার মত শান্ত স্বরে বলল -- কিছু না।

-- খেয়েছো কখন?

শবনম এবার হেসে ফেলল। অবশ্য সাথে সাথেই নিজেকে সংযত করার চেষ্টা করল। তার হাসিতো আবার এই লোকের সহ্য হয় না। আর ধমক খাওয়ার মত মনমানসিকতা এখন তার নেই। সে ফিরিয়েই আঁচল দিয়ে মাথা মুখ মুছলো। মুছে আসাদকে সাইড কেটে বেরুলো চাইল। কাঁথা বালিশ বের করতে হবে।

আসাদ হাত টেনে ধরল। শবনম ভ্রু কুঁচকে তাকালো। এই বাড়ির মানুষদের হয়েছেটা কি? নতুন নতুন রুপ দেখাছে। এই যে তার আজবগজব দেবর। যার কোন কিছুতেই কোন ভাবান্তর হয় না। আজ সেই দেবরই সকাল থেকে তার রুমে চক্ককর'ই কেটেছে হাজার বার। আনতারা ঘুমে ছিল তাই সে জানেনা । আর এই দিকে তার জন। জীবনেতো বউর খোঁজ খবরও নেয় নি। রুম থেকে বের হলেই কাজ ছাড়া বউকে চেনেই না। তো আজ কি হলো? সে ভ্রু কুঁচকেই বলল, -- কিছু লাগবে ?

-- আমি বালিশ কাঁথা বের করছি। তুমি যাও কিছু খেয়ে নাও।

শবনম এবার সত্যিই অবাক হলো। মাগো! সে আবার স্বপ্ন টপ্ন দেখছে নাকি। নাকি মাথা ঘোরার কারণে উল্টা পাল্টা দেখছে। সে অবাক চোখেই কিছুক্ষণ নিশ্চুপ তাঁকিয়ে রইল। ভর সন্ধ্যা! বাথরুমের সাইড। এটা সত্যিই তার শাশুড়ির গুনধর বড় পুত্র তো?

আসাদ শবনমকে এভাবে তাঁকিয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে প্রায় ধমকে বলল -- কি হয়েছে?

শবনম থতমতো খেল। এই তো চলে এসেছে তার শাশুড়ির পুত্র। সে মনে মনে মুখ বাঁকিয়ে চলে এলো। এই বাড়ির মানুষের কত রুপ দেখার বাকি আছে কে জানে। জীবন তো না সিনেমা। দিন যাইতেছে একেক জনের একেক নতুন নতুন রুপ বের হচ্ছে।

সে যেতে যেতেই মিথিকে দেখল। সে এক কোলে মুহিন আরেক হাতে ব্যাগ নিয়ে এঁকেবেঁকে যাচ্ছে। রোগা পটকা মেয়ে। মুহিন, ব্যাগ নিয়ে তার বড়ই করুন অবস্থা। তবুও সারাদিন কোল থেকে নামাবে না। তার এতো হাসি পেল। সাথে সাথেই সে খিলখিল করে হেসে ফেলল। হাসতে হাসতেই তার চোখ আসাদের উপর পড়ল। আসাদ তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সে বিরক্ত হলো। এই বুইড়া ব্যাটার হঠাৎ করে হলোটা কি?

মিথি এসেছে দরজির দোকানে। তার জামা ব্লাউজ হয়েছে দুনিয়ার ঢিলা। দিয়েছে এক মাপ, করেছে আরেক মাপের। সে ঠিক করতে দিয়ে বেরুতেই জহিরের সামনে পড়ল। আগের জহির ভাইয়ের সাথে এই জহিরের কোন মিল মিথি খুঁজে পেল না। এই অল্প কদিনেই একেবারে অপরিচিত লাগছে। সে মুহিনকে কোলে নিয়েই এগিয়ে গেল।

জহির তাকে দেখল। দেখে কোন কথা বলল না। সাইড কেটে চলে গেল। তার চোখে মুখে স্পষ্ট বিরক্তি। মিথি অবাক হলো। পছন্দ করেছে নিজে, প্রেমে পড়েছে নিজে, তার পছন্দের সাথে তার বিয়ে হয়নি। এখানে মিথির দোষ কিরে বাবা?

আজবতো? কত উপকার করল। উপকারের আজকাল দামই নাই। হুহ্! এই মিথি সাদা মনে কালো দোয়া দিল। বিনা দোষে বিরক্ত দেখালি তো। এই জীবনে এই ছ্যাঁকাই তোর শেষ না। ছ্যাঁকা খেতে খেতে ভুট্টার খই হবি। আর জীবনে যদি বিয়ে করিস, বউর পিছনে পিছনে লাটিমের মতো ঘুরবিরে ব্যাটা তবুও মন পাবি না। সারা জীবন কই মাছের মতো মাথা পাছা নিয়ে একসাথে তড়পাবি তবুও পানির দিশা পাবি না।

চলবে.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 24 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন