" তাহলে এড়িয়ে চলছেন কেন? তবে কি রাগ করেছেন আমার উপর?"
" রাগ করিনি। আমার যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে, আসছি। "
আমিরাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই মেহরাব কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল,মেহরাবের পিছু পিছু আমিরাও পা বাড়াল। মেহরাব দরজার চৌকাঠ পেরিয়ে বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই কী মনে করে যেন আবারও পেছন ফিরে তাকাল, অতপর আমিরার দিকে তাকিয়ে বললো,
" আজ তারাতাড়ি ফিরব, তৈরি হয়ে থেকো। তোমায় আইসক্রিম খাওয়াতে নিয়ে যাব। "
মেহরাবের কথা শুনে আমিরার মলিন চেহারায় খুশির আভা ছড়িয়ে পড়লো। মেহরাব বেরিয়ে যাওয়ার মিনিট দশেকের মাঝেই হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেলো সে। আমিরা তখন রান্নাঘরে বসে শাক কাটছিল, সে হাতের কাজ ফেলে, আঁচলে হাত মুছে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে দরজার দিকে। দরজা খুলতেই দেখতে পেলো নূর জাহান দাঁড়িয়ে আছে, তার হাতে এক বাটি পায়েস। সে আমিরাকে দেখে স্মিত হেসে বললো,
" প্রিয়ার জন্য পায়েস বানিয়েছিলাম, তাই ভাবলাম তোমাদের ও দিয়ে যাই। "
নূর জাহানকে দেখে আমিরা খুব একটা খুশি না হলেও সৌজন্যতার খাতিরে মৃদুস্বরে বললো,
" ধন্যবাদ, ভেতরে আসুন ভাবি।"
নূর জাহান পায়েসের বাটিটি সামনের টেবিলের ওপর রেখে আয়েশ করে পিঠ ঠেকালেন সোফায়। অতঃপর আমিরার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বললেন,
" তুমি কি সবসময় এভাবেই থাকো? সাজগোজ করো না? "
নূর জাহানের কথায় আমিরার ভ্রু যুগল সামান্য কুঁচকে এলো। সে মিনমিন করে বললো,
" আমি সাজতে পারি না, সাজিনি কখনো "
" তোমার বর তো পরিপাটি মেয়ে পছন্দ করে, তার কপালে তুমি জুটলে কি করে? তুমি তো দেখছি একদমই অপরিপক্ক। আমি তো সবসময় সেজেগুজে থাকি, আমার বর অবশ্য সাজগোজ একটু বেশিই পছন্দ করে। "
নূর জাহানের কথাগুলো আমিরার কোমল মনে সূক্ষ্ম কাঁটার মতো বিঁধল। সে শাড়ির আঁচল আঙুলে পেঁচাতে লাগল,বুকের গভীরে একরাশ অভিমান জমে উঠলেও মুখ ফুটে কিছু বলল না। নূর জাহান তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
" আমি অবশ্য টুকটাক সাজতে পারি, আজ তোমায় সাজিয়ে দেবো কেমন? দেখবে মেহরাব তোমাকে চিনতেই পারবে না। "
নূর জাহানের কথা শুনে আমিরা যেন এক মুহুর্তের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলো, একটু আগেই যে মহিলা তাকে নিয়ে কটাক্ষ করছিলো সেই কিনা এখন তাকে সাহায্য করতে চায়ছে। বিষয়টা কিছুতেই বোধগম্য হয়ে উঠল না তার কাছে। নূর জাহান তাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললেন,
" দুপুরের পর সাজিয়ে দেব তোমায়, আজ বরং আসি। "
" এসেছেন যখন এক কাপ চা খেয়ে যান । "
" আজ নয়, অন্য কোনদিন খাবো। আসলে ভাবছিলাম একটু পর ভার্সিটিতে যাবো। অবশ্য তোমার বর আর আমার বর দুজনেই একই ভার্সিটির প্রফেসর। তুমি কি যাবে আমার সাথে? "
একেতো নূর জাহানকে খুব একটা পছন্দ করে না আমিরা কিন্তু আবার নূর জাহানের প্রস্তাবে সরাসরি অসম্মতি জানাতেও যেন সংকোচ বোধ হচ্ছিল তার। সে কিছুটা ইতস্ততবোধ করে বললো,
" না জানিয়ে গেলে যদি রাগ করে?"
নূর জাহান মৃদু হাসলো তার কথায়। অত:পর বললেন,
" বোকা মেয়ে, নিজের স্বামীর সাথে দেখা করতে যাবে সেখানে রাগ করবে কেন? উল্টো মেহরাব আরও খুশি হবে। "
নূর জাহানের কথায় আমিরা উচ্ছ্বসিত স্বরে বললো,
" ঠিক আছে, তবে আমি তৈরি হয়ে আসছি।"
---------------
"এই সপ্তাহে পঁয়ত্রিশজন মেয়ের অর্ডার এসেছে, কিন্তু একজন মেয়ে কম পড়েছে, ভাইজান!"
আশরাফ প্রায় ছুটতে ছুটতেই আইযানের সামনে এসে দাঁড়াল৷ তার কণ্ঠে স্পষ্ট উদ্বেগ, মুখাবয়বে উৎকণ্ঠার ছাপ।নিদ্রার দীর্ঘ আবেশ কাটিয়ে মাত্রই জেগে উঠেছে আইযান।ঘুমের রেশ তখনো পুরোপুরি কাটেনি তার। পরনে কালো ট্রাউজার, গলায় সরু রুপালি চেইন। কয়েকবার ঘাড়টা এপাশ-ওপাশ করে শক্ত হয়ে থাকা পেশিগুলো শিথিল করার চেষ্টা করল সে। অতঃপর আশরাফের দিকে শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
" তো, আমাকে এসে বলছিস কেন? গিয়ে মেয়ের ব্যবস্থা কর। "
" ভুলে গেছো নাকি, ভাইজান? তুমিই তো আমাকে বাড়ির বাইরে পা রাখতে নিষেধ করেছিলে। এখন আমি কীভাবে ব্যবস্থা করব বলো?"
আইযান তার পাশে রাখা টি-শার্টটি শরীরে জড়িয়ে নিল। অত:পর বললো,
" ঠিক আছে আমি দেখছি, তুই এদিকটা সামলা। "
-----------
কেবিনের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতেই মেহরাবের দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো চেয়ারে বসে থাকা বোরকা পরিহিতা এক তরুণীর ওপর। নিজের কেবিনে অপরিচিত কাউকে বসে থাকতে দেখে ভ্রু যুগল সামান্য কুঁচকে এলো তার। সে একবার কক্ষের চারপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে নিল। অতঃপর পুনরায় মেয়েটির দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল,
"আপনি কে? আমার কেবিনে কীভাবে এলেন?"
আমিরা নিকাব সরিয়ে মুখখানা উন্মুক্ত করতেই ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। সে ব্যাগ থেকে টিফিনবাক্স বের করে বললো,
" নূর জাহান ভাবি নিয়ে এসেছে। দেখুন আমি আপনার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে এসেছি। "
আমিরাকে দেখে এক মুহুর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো মেহরাব। চেয়ারে বসে থাকা নিকাব পরিহিতা তরুণীটি যে তার বিবি হবে, তা সে ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেনি। মেহরাব আমিরার কাছে এগিয়ে এসে দুহাতের করতলে তার মুখখানি আগলে ধরে বললো,
" আসতে কষ্ট হয়েছে? আমি আর দু ঘন্টা পরেই চলে যেতাম, কষ্ট করে আসতে গেলে কেন?"
" ভাবলাম সুযোগ যখন পাচ্ছি তখন হাতছাড়া করি কিকরে? দেখুন এই সুযোগে আপনাকেও দেখা হয়ে গেলো সাথে আপনার ভার্সিটিও দেখা হয়ে গেলো। "
মেহরাব স্মিত হাসলো তার কথায়। অত:পর বললো,
" আমার বউ তো দেখছি বেশ বুদ্ধিমতী। এতো বুদ্ধি কোথায় রাখো? মাথায় না পেটে?"
আমিরা তার কথায় ভ্রু কুঁচকে বললো,
" ছোটবেলা থেকেই আমার অনেক বুদ্ধি। আমি তো একদিনে শিখে গিয়েছিলাম চিতল পিঠা কি করে বানায়, যেখানে আম্মার লেগেছিলো তিনদিন।"
" হ্যাঁ, খুবই বুদ্ধিমতী বউ পেয়েছি। আল্লাহ'র কাছে লাখো শুকরিয়া। "
আমিরা খিলখিল করে হেসে ফেললো তার কথায়। মেহরাবের ক্লাসের সময় হয়ে এসেছে, সে আমিরাকে বিদায় জানিয়ে চলে যায় ক্লাস নিতে। আমিরা নূর জাহানকে খুঁজে পেলো না শত খুঁজেও। ভাবলো হয়তো বাহিরে অপেক্ষা করছে তার জন্য, যেই ভাবা সেই কাজ। ব্যাগ হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসতেই হঠাৎ শোরগোলের আওয়াজ শুনতে পেলো সে । মুহুর্তেই চোখেমুখে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্কের ছাপ। করিডোরজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত ছুটোছুটি, চারপাশের এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমিরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এদিক ওদিক খুঁজেও নূর জাহানকে দেখতে পেলো না সে। মেহরাব কোন রুমে আছে সেটাও জানে না সে। এবার বাসায় কি করে ফিরবে এটা ভেবেই বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো। রাস্তাঘাট কিছুই চেনে না সে। কিছুটা দূরে একটি কালো রঙের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমিরা সেদিকেই এগিয়ে গেল। চারপাশের হইচই আর শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটিতে সে বেশ ঘাবড়ে গিয়েছে। আমিরা জানালার কাচে আলতো করে কয়েকবার টোকা দিল। উৎকণ্ঠিত দৃষ্টিতে ভেতরের দিকে তাকিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত কণ্ঠে বলে উঠল,
" ভেতরে কেউ আছেন?"
গাড়ির ভেতর থেকে আইযান নিবিড় দৃষ্টিতে আমিরার চোখ দুটির দিকে তাকাল। নিকাবের আড়ালে মুখখানা প্রায় সম্পূর্ণ ঢাকা থাকলেও গাঢ় বাদামি চোখজোড়া স্পষ্ট হয়ে ধরা দিল তার দৃষ্টিতে। ড্রাইভার কিছু একটা বলতে উদ্যত হতেই আইযান হাতের ইশারায় তাকে থামিয়ে দিল। অতঃপর জানালার দিকে ইশারা করে কাচ নামাতে বলল। ড্রাইভার আর কোনো কথা না বাড়িয়ে গাড়ির জানালার কাচ নামাতেই আইযান পুনরায় আমিরার দিকে তাকাল। আমিরা তড়িঘড়ি করে বললো,
" ওয়ারীর র্যাঙ্কিন স্ট্রিটের গলিটা কোন দিকে বলতে পারবেন? আসলে আমি যার সাথে এসেছি তাকে খুঁজে পাচ্ছি না।"
আইযান তার কথার প্রত্যুত্তরে গলা খাঁকারি দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল,
"ওয়ারীর র্যাঙ্কিন স্ট্রিট এখান থেকে খুব একটা কাছে নয়। যেতে হলে আপনাকে বেশ কিছুটা পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি ওদিকেই যাচ্ছি, আপনি চাইলে পৌঁছে দিতে পারি। "
অপরিচিত মানুষটির প্রস্তাব শুনে আমিরা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল।আমিরা এবার দৃষ্টি তুলে সামনের মানুষটির দিকে তাকাল। লোকটির পরনে কালো হুডি, মাথার ওপর টেনে দেওয়া হুডির ক্যাপ আর মুখে কালো মাস্ক। কেবল চোখ দুটোই স্পষ্ট দৃশ্যমান। এমন একজন অচেনা মানুষের সঙ্গে একা গাড়িতে ওঠার কথা ভাবতেই তার মনে ভয় জাগল। তবুও ভদ্রতার খাতিরে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল সে। আঙুলগুলো ব্যাগের ফিতা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে খানিকটা ইতস্তত করে মৃদু কণ্ঠে বলল,
"না, থাক। আমি বরং অন্যভাবে চলে যাব। আপনাকে কষ্ট করতে হবে না।"
" আমাকে দেখে কি আপনার নারী পাচারকারী মনে হচ্ছে? "
আমিরা এক মুহুর্তের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলো তার কথায়, অত:পর আমতাআমতা করে বললো,
" না,তা কেন মনে হতে যাবে। "
" এই মুহুর্তে আপনি গাড়ি পাবেন বলে মনে হয় না। আর আমি নারী পাচারকারী নই যে আপনাকে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেবো। "
ড্রাইভার আইযানের কথা শুনে বাঁকা চোখে তাকালো। অত:পর মনে মনে বললো, " ভুতের মুখে রাম রাম"। আমিরার মন সায় না দিলেও চারপাশের অস্থির পরিস্থিতি আর নূর জাহান খুঁজে না পাওয়ার উৎকণ্ঠায় শেষমেশ রাজি হলো সে। আমিরা গাড়িতে ওঠার জন্য দরজার হাতল ধরে টান দিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দরজাটি খুলতে পারলো না সে। দ্বিতীয়বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে খানিকটা বিব্রত হয়ে হাত সরিয়ে নিল।এবার অসহায় দৃষ্টিতে আইযানের দিকে তাকাল সে। আইযান মাস্কের আড়ালে মৃদু হেসে হাত বাড়িয়ে দরজা খুলে দিলো। আমিরা গাড়ির ভেতরে উঠে একেবারে জড়োসড়ো হয়ে বসে পড়ল। দুহাতের মুঠোয় ব্যাগটি শক্ত করে ধরে নিজের বসার জায়গাটুকুতে গুটিয়ে রইল সে। গাড়ি চলতে শুরু করেছে আপনমনে। এতক্ষণকার ছোটাছুটি আর উৎকণ্ঠায় বেশ তৃষ্ণা পেয়েছে তার। শুকনো ঠোঁট দুটো জিহ্বা দিয়ে সামান্য ভিজিয়ে নিল সে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে, অথচ অপরিচিত মানুষটির কাছে পানি চাইতেও কেমন যেন সংকোচ বোধ হচ্ছে তার। শেষমেশ ইতস্তত করে আইযানের দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ কণ্ঠে বলল,
" একটু পানি পাওয়া যাবে? আমার খুব তেষ্টা পেয়েছে।"
আইযান জলের বোতল এগিয়ে দিতেই আমিরা সংকোচভরা দৃষ্টিতে তা গ্রহণ করলো। অতঃপর নিকাবটি মুখের ওপর থেকে সরিয়ে ঢকঢক করে পানি পান করতে লাগল। তৃষ্ণার্ত কণ্ঠনালি যেন অবশেষে স্বস্তি পেল। আমিরার মুখখানি দৃষ্টিগোচর হতেই আইযান যেন মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো। দুধে-আলতা বর্ণের কোমল মুখাবয়ব, টানা চোখের পাপড়ির নিচে গাঢ় বাদামি চোখজোড়া, ছোট্ট সুচারু নাক আর গোলাপি ঠোঁট। আমিরার আগে বহু মেয়ের আগমন ঘটেছে তার জীবনে, কিন্তু আমিরার মতো সুন্দর রমণী সে তার গোটা জীবনে কখনো দেখেনি। পানি খাওয়া শেষে আমিরা আগের মতোই নিকাব নামিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো। আইযান কিছুসময় চুপ থেকে অত:পর বললো,
" আপনি কি এখানে পড়াশোনা করেন? নাকি অন্যকাজে এসেছেন?"
" আমার স্বামীর কাছে এসেছি। উনি এই ভার্সিটির প্রফেসর। "
আইযান খানিকটা অবাক হলো তার কথায়। আমিরাকে দেখে বোঝাই যাচ্ছে না সে বিবাহিত। আইযান তার দিকে তাকিয়ে বললো,
" নাম কি আপনার স্বামীর?"
" মেহরাব শাহ তুরাব। "
আইযানের গম্ভীর অধরে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো, সে ঘাড় কাত করে আমিরার দিকে তাকিয়ে বললো,
" বরকে খুব ভালোবাসেন বুঝি? "
আমিরা স্মিত হাসলো তার কথায়। আমিরা একবারের জন্যও আইযানের দিকে চোখ তুলে তাকাল না। দৃষ্টি অবনত রেখেই বললো,
" হ্যাঁ। আমার বর ও আমায় খুব ভালোবাসে। "