#সোনালি_রঙের_বুনোলতা
#নূপুর_ইসলাম
#পর্ব- ২০ ( শেষ পর্ব)
আনিস দেয়ালে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল। ঐশী তাকিয়ে রইল। তার চোখ থেকে টুপটাপ করে পানি পড়ছে।
আনিস বড় একটা নিশ্বাস ফেলে বলল ,---- আমি সত্যিই তাকে ভালোবেসেছি। তাইতো নিজেকে ভালো রাখি। সব সময় ভালো রাখি। যখন ভালো থাকতে পারি না। তখন তাকে ফোন দেই। ফোন দিতে দিতে অভ্যাসে পরিণিত হয়ে গেছে বুঝলি। যখনি ভালো থাকার মধ্যে কোন সমস্যা এসে পরে। কেন জানি তার কথাই আগে মনে পরে। আর সে, তুই কি কখনো খেয়াল করেছিস ঐশী। আমি দিনে রাতে যখনি ফোন দেই। সে একবার রিং হওয়ার সাথে সাথে ফোন ধরবে। কখনো এর ব্যতিক্রম হয়নি। সে ফোন ধরে হাজার বিরক্ত দেখাক, ঝারি মারুক! সে কিন্তু এই ফোনের আশায় বসে থাকে। সে চাইছে আমি ভালো থাকি! আমি চাই সেও ভালো থাকুক। আমাদের দূরত্বে ই আমাদের ভালোথাকা, আমাদের দুজনের ভালোবাসা।
ঐশী মামার হাত ধরে কাঁধে আবার মাথা রাখলো! রেখে বিষন্ন কন্ঠে বলল ---- ভালোবাসা ভালো না মামা! ভালোবাসায় শুধু কষ্ট।
আনিস মাথা উঁচু করে শান্ত ভাবে বলল,---- এই কষ্টের মাঝেও সুখ আছেরে পাগলী ।
-- ছাই আছে।
আনিস হালকা হাসলো! হেসে বলল ,---- সাঈদ যখন ভালোবাসা কি বুঝতে শিখেছে তখন থেকে তোমাকে ভালোবেসেছে। সে তোমাকে দেখেনি, তোমার রুপ দেখনি, তোমার রাজত্ব দেখেনি। কখনো দেখার ইচ্ছাও করেনি, শুধু শুনেছে। আমার তো আর গল্পকরে বলার মতো কেউ নেই। শুধু ছিলি তুই। তোর গল্পই বলতাম। ঐশী আজকে এটা করেছে, ঐ টা করেছে, পরীক্ষায় ডাব্বা মেরেছে, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে ধপাস করে পড়েছে।
সে খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতো। সে যে তোমার প্রতি দূর্বল হচ্ছে। তার আগে আমি বুঝে গিয়েছিলাম। যেমনটা বুঝতে পারছি তোমার টা।
ঐশী লজ্জায় অন্য পাশে মুখ ঘুরালো। আনিস হাসলো!
-- সাঈদ আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ ঐশী। যেমনটা প্রিয় তুমি। আমি চাই তোমরা দু-জনেই ভালো থাকো।
আনিস কিছুক্ষণ থামলো! তারপরে বলল,---- সে কিন্তু এই রাস্তায়ই বেছে নিয়েছে। ভালো থাকার ভালোসার দূরত্ব। তার ধারণা, তুমি তার কাছে ভালো থাকবে না। কিন্তু সে জানে না। পাশে ভালোবাসা নিয়ে কুঁড়েঘরেও শান্তি। তোমাদের ভালোবাসায় ভালোথাকা দূরত্বে না, পাশাপাশি থাকায়। আর এটা প্রমাণ করতে হবে তোমাকেই। তাকে দেখিয়ে দিতে হবে তুমি তার পাশে ছাড়া আর কোথাও ভালো থাকবে না। আমি তোমাকে তার কাছে যেতে বলছি না। তবে একটা প্রশ্ন করছি। এই যে তুমি তোমার বিশাল অট্টালিকায় আছো। আরাম, আয়েশ, কোন কিছুর কমতি নেই। তবুও, তুমি কি ভালো আছো ?
ঐশী দীর্ঘশ্বাস ফেললো! ফেলে করুণ ভাবে আস্তে করে বলল,---- আমি এখন কি করবো মামা?
আনিস স্নেহমাখা কন্ঠে বলল ,---- যেটা তোমার মন বলবে সেটাই। সংকোচ, দ্বিধা, দূরত্ব সব ফেলে দাও। ভালোবাসায় এদের রাখতে নেই।
________
ঐশী রুমে এসে তার মাকে ফোন দিলো। ফোন দিয়ে কোন কথা বলতে পারল না। সে চুপচাপ বসে রইল।
আয়েশা হাসলো! হেসে বললেন, --- ঐশী।
-- হুম।
-- আমি সব সময় চেয়েছি, তুমি ভালো থাকো। যেখানেই, যেভাবেই, যার সাথেই হোক। তোমার ভালো থাকাটা আমার কাছে মূখ্য। আমি কি তোমার যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবো। নাকি তোমার মামা দিয়ে আসবে।
ঐশী লাজুক মুখে বলল,--- আমি একা যেতে চাই।
-- যেতে পারবে?
-- হুম।
-- আচ্ছা যাও, নিজের খেয়াল রেখো। আর একটা কথা সব সময় মনে রেখো। এটা তোমার বাড়ি। আর সব সময় তোমারই থাকবে।
ঐশী ফোন রেখে মায়ের রুমে আসলো! এসে আলমারি খুললো। আলমারিতে মায়ের দুনিয়ার শাড়ি। বাবা শাড়ি পরা খুব পছন্দ করতেন। তাই মা কখনো শাড়ি ছাড়া অন্য কিছু পরেনি। এখনও পরে না। তবে এই সব শাড়ি ধূসর। রঙিন শাড়ি সব আলমারিতে তোলা। সে সব শাড়িই এখন ঐশীর দখলে। সে ই মাঝে মাঝে পরে।
ঐশী হাত বাড়িয়ে মায়ের বিয়ের শাড়িটা নিল। লাল টকটকে বেনারসি। তার মধ্যে সোনালি ফুল তোলা। সে খুব গুছিয়ে শাড়িটি পরলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে নিজেই লজ্জা পেয়ে গেল। তার মনে হলো সে না, সাঈদ তাকে দেখছে।
সাহানা ঐশী কে দেখে মুখ বাঁকালো। বাঁকিয়ে বলল, -- ঢং দেখে আর বাঁচি না। জামাই আছে এক দেশে আর সে বউ সেজে উড়ে বেড়াচ্ছে আরেক দেশে।
ঐশী হেসে ফেললো! হেসে এগিয়ে এসে বলল, --- সেই দেশেই তো যাচ্ছি দাদু! তোমার অহংকারী নাকউঁচু নাত জামাই তো আর আসবেনা। তাই আমি যাচ্ছি।
সাহানা অবাক হয়ে বললেন, ---- সত্যিই!
-- হুম! সত্যিই!
সাহানা ব্যস্ত হয়ে কুসুমকে বলল, --- এই কুটনি, যা তাড়াতাড়ি আমার ব্যাগ গোছা। নাতনী আমার নাত জামাইয়ের কাছে যাবে।
ঐশী লজ্জা মুখে বলল ,---- এবার আমি একা যাচ্ছি দাদু।
সাহানা ভ্রু কুঁচকে বলল ,---- সেটা তো হবে না। আমি সাঈদকে আগেই বলেছি। আমি কিন্তু ভাই আমার নাতনীকে ছাড়া থাকতে পারবো না। আমার নাতনী যেখানে আমিও সেখানে। যদি আমাদের সবাইকে ঝেলতে পারো তবেই ভাই আমার নাতনীকে বউ মনে করো।
ঐশী আবাক হয়ে বলল,-- তুমি এটা বলেছো?
সাহানা নির্বিকার ভাবে বললো,-- হ্যাঁ।
-- সে কি বলেছে?
-- সে আবার কি বলবে? সাঈদের মতো ছেলে হয়। আমার পুরো গুষ্টি সারাবছর তার বাসায় থাকলেও তো সে কিছু মনে করবে না।
ঐশী আবারো মুখ নিচু করে লজ্জামাখা মুখে বললো
,---- তুমি সারাবছর থাকতে চাও থাকবে। কিন্তু আজ আমি একা যেতে চাই দাদু। প্লিজ.....
সাহানা ঐশীর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল । তারপর হেসে ফেললেন। হেসে বললেন,---- যা দুই-দিন দিলাম! যা রঙ তামাসা করার কর। এর পরে ভাই আমি আসছি। তোর মামারও একি অবস্থা হবে দেখিস। উপরে গেলে দু-দিন। তারপরেই দৌড় লাগাবে।
-- লাগালে লাগাবে! আমার আগে তার সাথে তার সম্পর্ক। এই দুই জন দুজনকে পেলে তাদের আর কাউকে লাগে? এবার আসোতো, পা দাও।
সাহানা অবাক হয়ে বললেন ----- কেন?
-- সালাম করবো। সালাম করার পর তুমি আমাকে সালামি দেবে। সেই সালামি দিয়ে আমি গাড়ি ভাড়া করে যাবো।
-- তোর গাড়ি ভাড়া করার দরকার কি? তোর বাপের মায়ের গাড়ি কই।
-- হাহ্! তোমার নাত জামাই বলেছে, তার কাছে যেতে হলে, সব ছেড়ে ছুঁড়ে যেতে হবে। তাই যাচ্ছি! বাপের বাড়ির টাকা আর গাড়ি দিয়ে শুরু করলাম।
-- যা, সব ছেড়েই যা।
তারপর পা এগিয়ে দিয়ে বললেন , ---- নে সালাম কর।
ঐশী হেসে সালাম করতে গেল। সাহানা জাপটে ধরে ফেললো। ধরে আদ্র কন্ঠে বললেল,---- ভালো থাকিস দাদুভাই। দোয়া করি অনেক অনেক ভালো থাকিস।
ঐশী হাসলো! আর মনে মনে বলল,--- আচ্ছা,
তার মতো সোনায় সোহাগা আর কেউ কি আছে?
সাহানা ঐশীকে হালকা ছাড়লো। ছেড়ে সাথে সাথেই চটপটে বললেন, ---- আচ্ছা,শোন। বলেই কানের কাছে মুখ নিতেই, ঐশী লাফ দিয়ে দূরে সরে গেল। সরে গিয়ে বলল, --- তোমার কানাকানি কথা আমার দরকার নেই। টাকা বের করো।
সাহানা ভেংচি কেটে বলল,---- হ্যাঁ, পরে আবার ঊনিশ বিশ হলেই কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে আসবি। গঙ্গা যমুনা ঢেলে বলবি। আগে শিখিয়ে পড়িয়ে দিলে না কেন দাদু?
--- আসলে আসবো দাদু। যখনকার তা তখন দেখা যাবে। এখন মাফ করো।
_______
ঐশীকে দেখে আসমা, সাবিহা দু-জনেই হতবাক হয়ে গেছে। তাদের বিশ্বাসই হচ্ছে না। এই মেয়ে একা এভাবে চলে এসেছে ।
যুথি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,---- এভাবে হা কে দাঁড়িয়ে থাকলে হবে চাচি। আপনার একমাত্র ছেলের একমাত্র বউ বাড়ি এসেছে। তাকে বরণ করবেন না?
আসমার সম্বিত ফিরলো! তাইতো। সে আশে পাশে তাকিয়ে ব্যস্ত ভাবে বলল ,---- এই কে কোথায় আছিস। তাড়াতাড়ি মিষ্টি আন। আমার ছেলের বউ আইছে। আমার সাঈদের বউ আইছে ।
পুরোবাড়িতে হইচই পড়ে গেল। এই হইচই অবশ্য সাঈদ টের পেল না। সে আসলো রাতে! তুহিনদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে একটু দেরি হয়ে গেছে। এমনিতে সে সন্ধ্যার পর পরই বাসায় ফিরে আসে। তা না হলে মা টেনশন করে। বাড়ির ভিতরে বাইক রাখতেই সাঈদ অবাক হলো। পুরো বাড়ি অন্ধকারে ডুবে আছে। আর কোন মানুষের অস্বিত্ব দেখতে পেল না। সে বাইক থেকে নেমে সাবিহাকে ফোন দিলো। সাবিহার ফোন রিসিভ করতেই বলল ,---- কোথায় তুই? আর বাসার এই অবস্থা কেন? মা কোথায়? বাসার সবাই কোথায়?
সাবিহা রেগে বলল ,---- এক সাথে এত প্রশ্ন করছো কেন, কোনটা রেখে কোনটার উত্তর দেবো?
-- যে মন চায় সেটা আগে দে।
-- আমরা সবাই যুথিদের বাড়িতে।
-- হঠাৎ, কোন সমস্যা?
-- না, আমরা পার্টি করছি। ওয়েলকাম পার্টি।
-- কার ওয়েলকাম?
-- সেটা জেনে তোমার কি দরকার, তুমি আসবে?
-- আমার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, রাখ। বাড়ি ঘর সব ফেলে এরা আরেক বাড়ি গিয়ে ওয়েলকাম পার্টি করছে।
সাঈদ বাইক রেখে বারান্দার দরজায় হাত রাখতেই অবাক হলো। ঘর বাড়ির সব দরজা খোলা। আশ্চর্য! এরা কি এভাবে খোলা রেখেই চলে গেছে। হয়েছে কি আজকে এদের। আর মা! সে কবে থেকে এত দায়িত্বজ্ঞানহীন হলো?
বারান্দারও সুইচ টিপলো। কোন লাভ হলো না। সে আশে পাশে তাকালো! সব জায়গায়তো ক্যারেন্ট আছে। তাদের বাড়ির কি হলো। ফিউজ টিউজ গেছে কিনা কে জানে? সে দীর্ঘশ্বাস ফেললো! মোবাইলে ফ্লাস জ্বালিয়ে নিজের রুমের দিকে এগুলো। দরজা খুলতেই থমকে গেল।
লাল শাড়ি পরে ঐশী জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। চুল ছাড়া, চাঁদের আলো গলে তার উপরে পড়ছে। হালকা বাতাসে চুল ঢেউ খাচ্ছে। তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলো। সে কি কোন স্বপ্নের মধ্যে আছে। হয়তো! তা না হলে এখানে ঐশী আসবে কোথা থেকে। এই মেয়ের বিরহে সে নির্ঘাৎ পাগল হচ্ছে।
ঐশী আস্তে করে ফিরে তাকালো!
সাঈদের কয়েকটা হার্টবিট মিস হয়ে গেল। চোখে কাজল, ঠোঁটে লাল টুকটুকে লিপস্টিক। সে মনে মনে বলল,--- এটা যদি স্বপ্ন হয়। এই স্বপ্ন যেন কখনো না ভাঙে। আমি সারা জীবন এই স্বপ্নের মধ্যে থাকতে চাই।
ঐশী স্বাভাবিক ভাবেই বলল ,---- এভাবে হা করে তাকিয়ে মূর্তি মানব হয়ে আছেন কেন? নজর লাগবে আমার। আর এত রাতে কেউ বাসায় আসে?
তরিৎ করে সাঈদের ঘোর কেটে গেল । অবাক হয়ে বলল,---- তুমি? মানে সত্যিই?
-- তা নয়তো কি, আমার ভূত দাঁড়িয়ে আছে? নাকি দেখতে আমাকে ভূতের মতো লাগছে।
সাঈদ হাসলো! হেসে ভিতরে আসলো।
-- হাসছেন কেন?
-- ক্যারেন্ট তুমি অফ করেছো?
-- উঁহু, সাবিহা আর যুথির প্ল্যান। বলেই ঐশী হাত দিয়ে চুল এক সাইডে আনলো।
সাঈদ আড়চোখে তাকালো! তাকিয়ে ঢোক গিললো! চুল সরাতেই তার ফর্সা পিঠ দেখা যাচ্ছে। চাঁদের আলো আর লাল ব্লাউজের জন্য সেটা আরো খাঁ খাঁ করছে। সে চোখ সরিয়ে নিল। নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল। এখন বুঝতে পারছে ওয়েলকাম পার্টির কারণ। সে ভিতরে ঢুকে বেড টেবিলে মোবাইল রাখলো। রেখে বলল,---- কখন এসেছো?
-- বিকেলে।
-- একা?
-- হ্যাঁ, উফ্ গরম লাগছে। বলেই ঐশী দু-হাত উঁচু করে চুলে খোঁপা বাঁধতে লাগলো।
সাঈদের পুরো শরীর ঝিমঝিমিয়ে উঠল ! ঐশী হাত উঁচু করতেই তার ফর্সা পেট দৃশ্যমান আর পেটের মাঝে.....
সাঈদ এবার আর চোখ সরাতে পারল না। সে আটকে গেছে। চম্বুকের মতো কিছু একটা তাকে টানতে লাগলো। এই মেয়ে যে তাকে মারতে এসেছে। সে ঠিক বুঝলো!
ঐশী দেখেও না দেখার ভাণ করলো! ভেংচি কেটে বিরবির করে বলল ,--- সাধুবাবা সাজা না! ভালোবাসবে, বিয়ে করবে, তাকে কাছে চাইবে না। ঢং! এখন একঝলক দেখেই ভেটকি খেয়ে গেছে। সে রুম থেকে বেরুতে চাইলো। আরেকটু থাকলে একে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। একে তো ঐশী ডোজ দেবে ধীরে ধীরে।
সাঈদ এগিয়ে এসে হাত ধরে এক ঝটকায় কাছে টেনে আনলো। একদম কাছে।
ঐশী ঢোক গিললো। তার ভিতর কেঁপে উঠেছে! তবে বুঝতে দিলো না। স্বাভাবিক ভাবেই বলল ,--- কি হয়েছে?
সাঈদ হাসলো! হেসে বলল ,---- পাগল করতে চাইছো, আবার পাগলামি দেখে জিজ্ঞেস করছো, কি হয়েছে?
ঐশী লজ্জা পেল! মাথা নিচু করে ফেললো। এই লোকটা এতো চালাক। সব ধরে ফেলেছে। ঐশীর ছোটার জন্য মোড়ামুড়ি শুরু করল। সাঈদ আরো শক্ত করে চেপে ধরলো। ফিসফিস করে বলল ---- উঁহু, নিজের ইচ্ছায় আমার রাজ্য এসেছো। এখন তুমি চাইলেও আমি যেতে দেবো না।
ঐশী মাথা নিচু করে বিরবির করে বলল ----- ইশ্ ঢং! এই ঢং এতদিন কোথায় ছিল। একবার তো খবরও কেউ নেয়নি।
সাঈদ ঐশীর বরাবর মাথা নিচু করল! কপালের সাথে কপাল মিলিয়ে বলল ,---- খবর নেওয়ার অধিকার কি দিয়েছিলে?
-- দিতে হবে?
-- হ্যাঁ, অবশ্যই।
-- তাহলে থাক, দিচ্ছি না আমি কাউকে অধিকার টধিকার, ছাড়েন।
সাঈদ ছাড়লো না! আরো আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো।
-- এখন অধিকার লাগছে না, না ?
-- সেটা তো তুমি দিয়েই দিয়েছো।
-- আচ্ছা, তা কখন দিলাম?
-- যখন বউ সেজে আমার ঘরে এসেছো তখন।
ঐশী আর কিছু বলতে পারল না। সে যতই স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করুক না কেন! তার শরীর তার সাথে বেঈমানি করছে। ভিতর তো ভালোই উপরেও থরথর করে কাঁপছে।
ঘোর লাগা কন্ঠে সাঈদ ডাকলো,
--- ঐশী।
ঐশী আবারো ঢোক গিললো! এই ডাক উপেক্ষা করার শক্তি কি তার আছে। সে আস্তে আস্তে চোখ তুললো! তুলতেই সাঈদের চোখে আটকে গেল। সেই চোখ ভরা নেশা! ভালোবাসার নেশা। এই নেশা থেকে তার মুক্তি নেই। তার নিশ্বাস ভারি হয়ে গেল। সে লজ্জায় এদিক ঐদিক তাকালো। আর বাঁচার জন্য কিছু বলতে চাইলো। কিন্তু তার আগেই সাঈদ তার লাল টুকটুকে ঠোঁট দখল করে নিল।
#সমাপ্ত