#নিষিদ্ধ_প্রণয়
#পর্বঃ২২
#সোনালিকা_আইজা
ঘড়ির কাটা টিকটিক শব্দে বেজে চলেছে। হসপিটালের দেয়ালে দেয়ালে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ। হসপিটালে আসলে বোঝা যায় মানবজাতি ঠিক কতটা অসহায়। স্বজন হারানোর বেদনা ঠিক কতটা পীড়াদায়ক। ইতিমধ্যে দুই ঘন্টা সময় পেরিয়ে গেছে। তুবার অপারেশন এখনও চলছে। কৌশিককে পাশের রুমে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ছেলেটাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। পরিবারের ভারি নিঃশ্বাসে থমথমে হয়ে উঠেছে হসপিটালের পরিবেশ। তাওহীদ সাহেব লাল চোখে দড়জার সামনে অনবরত পায়চারি করছেন। এতো সময় হয়ে গেলো ডক্টর বের হচ্ছে না কেনো? মেয়ে নাতি নাতনির চিন্তায় দু দন্ড স্থির হয়ে বসতে পারছেন না।
প্রায় আধাঘন্টা সময় পর কৌশিকের জ্ঞান ফিরে এলো। পিটপিট করে চোখ খুলে কয়েক সেকেন্ড ধ্যান মেরে পড়ে রইলো। মস্তিষ্ক অচল। কোনো বোধ বুদ্ধি কাজ করছে না। এরপর সেকেন্ড ঘুরতেই হুট করে মনে পড়লো তুবার কথা। কৌশিক সঙ্গে সঙ্গে হুড়মুড়িয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলো। হাতে লাগানো ক্যানুলা টান দিয়ে খুলে এলোমেলো পায়ে বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে।
জামাল সাহেব পেছনে হাত বেঁধে চিন্তিত ভঙ্গিতে পায়চারি করছিলেন। ঠিক এমন সময় হন্তদন্ত ভঙ্গিতে ছুটে আসলো কৌশিক। ক্যানুলা লাগানো হাত থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পড়ছে। নিশ্চিত পাগলটা টেনে টুনে সুচ বের করে ফেলেছে। জামাল সাহেব হতাশ হলেও। একদিকে বাড়ির মেয়ে এবং তার অনাগত সন্তানকে নিয়ে চিন্তা। অন্যদিকে নিজের ছেলে। এতো চিন্তা একসাথে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন ভদ্রলোক। কিভাবে সামলাবেন এতকিছু? বয়স হয়ে গেছে যে। তিনি হতাশ হয়ে ছেলের দিকে এগিয়ে গেলেন। হাতটা ধরে টেনে বসালেন সারি সারি বিছিয়ে রাখা চেয়ারে। কৌশিক ব্যাকুল কন্ঠে প্রশ্ন করলো,
"বাবা তুবা?"
"অপারেশন চলছে। একটু ধৈর্য্য ধরো। তুমি বুদ্ধিমান ছেলে হয়ে এমন পাগলামি করো না। আমি এতোকিছু সামলাতে পারছি না।"
কৌশিক কানেও নিলো না সেই কথা। সে অস্থির নজরে ওটি রুমের দড়জার দিকে তাকিয়ে রইলো। জামাল সাহেবকে কে বোঝাবে কৌশিকের মনের অবস্থা? কেউ আন্দাজও করতে পারছে না এই মুহুর্তে ছেলেটার মনের মধ্যে দিয়ে ঠিক কি পরিমাণ ভয়ানক ঝড় বইছে।
পুরো আড়াই ঘন্টা পর ওটি রুমের লাইট বন্ধ হলো। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সকলে নড়েচড়ে দাঁড়ালো। তিক্ত কোনো বাণী শোনার জন্য মন শক্ত করে নিলো। এর মিনিট খানিক সময় পর দড়জা খুলে বেরিয়ে এলেন তুবার সার্জন। তিনি একটানে মুখের মাস্ক খুলে কপালের ঘাম মুছলেন। জামাল সাহেব এগিয়ে এলেন ডক্টরের কাছে। সবাইকে সরিয়ে আগে এসে দাঁড়ালো কৌশিক। অসহায় চাহনিতে তাকালো ডক্টরের মুখের দিকে। কোনো প্রশ্ন করার সাহস পাচ্ছে না ছেলেটা। যদি কোনো খারাপ খবর শুনতে হয়? কৌশিক মনে মনে ঠিক করে নিলো, ডক্টর তুবাকে বাঁচাতে ব্যার্থ হলে সে হসপিটালের ছাঁদ থেকে লাফ দিবে। তুবার প্রাণহীন দেহ নিয়ে সে কখনোই বাড়ি ফিরবে না। ডক্টর কপালের ঘাম মুছতে মুছতে নিজ উদ্যোগে বললেন,
"আপনাদের ভাগ্য ভালো। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে মা এবং বাচ্চা দু'জনকেই বাঁচাতে সমক্ষ হয়েছি আমরা। বেবির কোনো সমস্যা না থাকলেও মায়ের অবস্থা খুব ক্রিটিক্যাল ছিলো। তবে ফাইনালি দু'জনেই আউট অফ ডেঞ্জার। এন্ড কংগ্র্যাচুলেশনস, ছেলে বাচ্চা হয়েছে।"
ডক্টরের বক্তব্য শেষ হতে না হতেই একজন নার্স তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে বাবুকে নিয়ে বের হলো। উপস্থিত সবাই হামলে পড়লো বাচ্চার দিকে। নার্সটা সবার প্রথম ছেলেকে কৌশিকের কাছে এগিয়ে দিলো। কিন্তু কৌশিক তাকিয়ে দেখলো না পর্যন্ত। ওর অস্থির নয়ন তখনও দড়জায় উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। শেষে অধৈর্য্য হয়ে কৌশিক প্রশ্ন করলো,
"ডক্টর আমার স্ত্রী? ও কেমন আছে?"
"উনি আপাতত সুস্থ আছেন। আপনারা এক ঘন্টা পর পেসেন্টের সাথে দেখা করতে পারেন।"
ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞা কৌশিক থোরাই মানলো। তুবা ওর বউ। নিজের বউয়ের কাছে যেতে কিসের নিষেধাজ্ঞা? কৌশিক হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লো তুবার কেবিনের ভেতর। ডাক্তার আটকাতে গেলে জামাল সাহেব তাকে অনুরোধ করলেন না আটকাতে। কাতর স্বরে বললেন,
"এখন আটকালে আমার ছেলেটা পাগল হয়ে যাবে ডক্টর।"
ডক্টর আর তেমন কিছু বললেন না। তার পেশাগত জীবনে এ ধরনের ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। এতে ডক্টরদের ইমোশনাল হলে চলে না।
-
-
হসপিটালের ছোটোখাটো বেডে চুপচাপ শুয়ে ছিলো তুবা। জ্ঞান ফিরেছে একটু আগেই। সেই থেকেই চুপটি করে শুয়ে আছে। কোমর থেকে নিচের দিকটা এখনও অনুভুতি শূন্য। ওষুধের প্রভাব কাটতে হয়তো আরও কিছুক্ষণ সময় লাগবে।
কৌশিক ভেতরে ঢুকতেই সবার আগে নজর গেলো বেডে পাথরের মতো শুয়ে থাকা তুবার দিকে। এতোক্ষণ পর তুবার মুখটা দেখতেই বুকের পাঁজর ভেঙে এলো কৌশিকের। দিক বেদিক ভুলে ছুটে গেলো তুবার কাছে। একপাশ থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তুবাকে। ঘাড়ের নিচ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে দুই হাতের শক্ত বাঁধনে বেঁধে নিলো কৌশিক। পরপরই মাথা তুললো। উদ্ভ্রান্তের মতো তুবার পুরো মুখ জুড়ে পাগলের মতো চুমু খেলো। এক চিমটি জায়গাও বাদ রাখলো না। এরপর আবারও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তুবাকে। মুখটা তুবার ঘাড়ে গুঁজে দিয়ে নিঃশব্দে চোখের পানি ছেড়ে দিলো কৌশিক। কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে না। কিন্তু থেকে থেকে শরীর কেঁপে ওঠা টের পাওয়া যাচ্ছে। কৌশিক তুবার ঘাড়ে ঠোঁট চেপে ধরলো। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে পাগলের মতো জপতে লাগলো,
"আই লাই ইউ জান। আই লাভ ইউ। আই লাভ ইউ ভেরি মাচ্! আই লাভ ইউ।"
বলতে বলতে ফুঁপিয়ে উঠলো কৌশিক। একদম বাচ্চাদের মতো আবেগ ধরে রাখতে ব্যার্থ হচ্ছে। কৌশিকের পাগলামি দেখে তুবার চোখের কোণেও অশ্রু কণা জমলো। আবার ঠোঁটের কোণে হাসিও ফুটলো। তুবা নিজের ভারি হাত দুটো তুলে কৌশিকের পিঠে রাখলো। আলতো করে বুলিয়ে দিয়ে ভাঙা কন্ঠে বললো,
"শান্ত হন। আমি ঠিক আছি। উঠে দেখুন।"
কৌশিক শুনলো না। তুবার গলায় মুখ গুঁজেই বাচ্চাদের মতো মাথা নেড়ে না বোঝালো। তুবা এবার জোরে হেঁসে ফেললো। ধীরে সুস্থে বলল,
"আমাদের ছেলেকে দেখবেন না? যার জন্য আমি এতো কষ্ট করলাম। জীবন বাজি রাখলাম। আপনি তাকেই উপেক্ষা করে চলে এলেন?"
কৌশিক এবার তুবার ঘাড় থেকে মুখ তুলল। দুই হাতে চোখের পানি মুছে ফেলল। তুবার একটা হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাতের উল্টো পিঠ চুমু খেলো। ভাঙা কন্ঠে বললো,
"আমার সবার আগে তোকে চাই তুবা। তারপর অন্য কিছু। আমি বাচ্চা ছাড়াও এই জীবন অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবো। কিন্তু তোকে ছাড়া পারবো না। ও তো আমার দেহের একটা অংশ। কিন্তু তুই যে আমার প্রাণ।"
তুবা থমকে গেলো। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল। চোখ ফেটে কান্না এলো। ক্রন্দন সুরে মিনমিন করে বললো,
"আমাকে এতো কেনো ভালবাসেন আপনি?"
কৌশিক মাথা ঝুকালো। তুবার ফ্যাকাশে চিকন ঠোঁটে আলতো করে চুমু খেলো। মুখে একচিমটি হাসি টেনে বলল,
"কারণ তুই যে আমার জান। মানুষ তো নিজের জানকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।"
তুবার ঠোঁটের কোণে প্রাপ্তির হাসি ছড়িয়ে পড়লো। নিজের দিকে ঝুঁকে থাকা কৌশিককে ঠেলে ঠুলে উঠিয়ে দিয়ে বলল,
"আগে যান তো। আমার ছেলেকে নিয়ে আসুন। আমি ওকে দেখবো।"
কৌশিক কথা বাড়ালো না। তুবার চিন্তায় দুনিয়াদারীর কথা ভুলে বসেছিল। তবে এখন নিজের অংশকে বুকে জড়িয়ে নিতে কৌশিকের মনটাও আনচান করছে। কৌশিক উঠে গিয়ে দড়জা খুলে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে কনকচাঁপা বেগমের কোলে নিজের অংশকে দেখতে পেলো। সাদা তোয়ালে দিয়ে জড়ানো এক টুকরো রক্তের দলা যেনো। ছোট্ট ছোট্ট হাতের আঙ্গুল গুলো কেমন বাঁকিয়ে আছে। দাদির কোলে চোখ বন্ধ করে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। সময়ের আগে জন্ম হলেও শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক এবং ওজন হয়েছে আড়াই কেজি। এজন্য আর ইনকিউবেটরে রাখার প্রয়োজন পড়েনি।
কৌশিক নিজের মায়ের দিকে দুই হাত বাড়িয়ে দিলো। ছেলের ইশারা বুঝতে পেরে নাতিকে ওর কোলে তুলে দিলেন কনকচাঁপা বেগম। কৌশিক দুই হাতে আগলে নিলো নিজের সন্তানকে। প্রথমবার সন্তানের মুখ দেখে কৌশিকের বুকের ভেতর কেঁপে উঠলো। পা দুটো টলে উঠলো। চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। এই মুহুর্তে কৌশিকের কোলে আছে ওর অংশ। ওর ভবিষ্যতে। ওর অসম্পূর্ণ জীবনের পূর্ণতা। প্রথম বাবা হওয়ার অনুভুতি কৌশিককে পাগল করে দিচ্ছে। শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল হাওয়া বইছে। চারিদিকে যেনো রঙিন প্রজাপতি ডানা মেলে খুশি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতো সুখ কৌশিক আগে কখনো অনুভব করেনি।
ছেলেকে বুকে জড়িয়ে তুবার কাছে নিয়ে গেলো কৌশিক। অর্ধ অবশ দেহ নিয়ে তুবা ছেলের জন্যই অপেক্ষা করছিল। চাতক পাখির মতো দুই নয়ন কাতর হয়ে আছে। কৌশিক ছেলেকে নিয়ে এসে তুবার পাশে শুইয়ে দিলো। হাসি কান্না মিশিয়ে বলল,
"জান দেখ। এতো আমারই ফটোকপি।"
বলতে বলতে হেসে ফেললো কৌশিক। ঝুকে ঘুমন্ত ছেলের কপালে আলতো করে চুমু খেলো। তুবার ঠোঁটে বিজয়ের হাসি। এতো লম্বা ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে অবশেষে নিজের সন্তানকে কাছে পেয়েছে। এর চাইতে সুখের আর কি হতে পারে? তুবা এক হাতে ছেলের নরম তুলতুলে আঙ্গুল আঁকড়ে ধরলো। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
"আমি ওর নাম রাখলাম কুশান। কৌশিকের ছেলে কুশান।"
-
-
হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে চলেছে সময়। কুশানকে পেয়ে ভুঁইয়া মঞ্জিলে যেনো চাঁদের আলো নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র আদরের চোখের মনি সে। গুটিগুটি পায়ে পুরো বাড়ি দৌড়ে বেড়ায়। আধো আধো বুলিতে ডেকে পাগল করে দেয় সবাইকে। কুশানের বয়স এখন সবে দুই বছর। অথচ মুখ থেকে যেনো সবসময় খৈ ফোটে। এই যেমন এই মুহুর্তে ছোটো ছোটো পায়ে পুরো ড্রয়িংরুম জুড়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। জামাল সাহেব পেছন পেছন দৌড়াচ্ছেন নাতিকে কোলে নিতে। অবশেষে ধরতে না পেরে তিনি ক্লান্ত হয়ে সোফায় বসে পড়লেন। পেছন থেকে পায়ের আওয়াজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুশান ছোটো-ছোটো চোখে পিটপিট করে তাকালো। দাদুকে সোফায় বসে হাঁপাতে দেখে জিভ বের করে ভেঙালো। অতঃপর দৌড়ে চলে গেলো জামাল সাহেবের ঘরের দিকে। সঙ্গে আধো আধো বুলিতে ডাকতে লাগলো,
"দাদি! দাদি!"
জামাল সাহেবের কপালে চিন্তার ভাজ পড়লো। তিনি চিন্তিত স্বরে চেচিয়ে উঠলেন,
"দাদু ভাই আস্তে। পড়ে যাবে তো।"
দাদু ভাই তার কথা কানেও তুললো না। ঝড়ের গতিতে মুহুর্তেই স্হান ত্যাগ করলো। জামাল সাহেব হতাশ হলেন। সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বিড়বিড় করলেন,
"বাপের মতোই বিচ্ছু হয়েছে।"
-
-
বিছানা জুড়ে একগাদা জামা কাপড় ছড়িয়ে রেখেছে তুবা। ঠোঁট উল্টে সবগুলো জামা এদিক সেদিক করে দেখছে। সামনে নীরব আর রিমির বিয়ে। বহু ঝামেলার পর শেষমেশ দুই পরিবার রাজি হয়েছে ওদের বিয়ে দিতে। তাহলে আগে থেকেই সবকিছু রেডি করে রাখতে হবে তো। কিন্তু তুবার কাছে বর্তমানে যে জামাগুলো আছে সেগুলো ওর একদম পছন্দ হচ্ছে না। তুবা বিরক্তি নিয়ে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখতে লাগলো।
ঠিক এমন সময় ঘরে উপস্থিত হলো কৌশিক। হাতে অফিসের ব্যাগ। ক্লান্ত দেহটা টেনেটুনে ঘর পর্যন্ত নিয়ে আসলো। তুবাকে খাটের ওপর কাপড় ছড়িয়ে দোকানদারি করতে দেখে কৌশিক সোজা সেই দিকেই গেলো। হাতের ব্যাগটা বিছানায় ফেলে তুবাকে শক্ত করে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। তুবার ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিয়ে ক্লান্ত কন্ঠে বললো,
"কি হয়েছে বউ? কপালে চিন্তার ভাজ কেনো?"
"এগুলোর মধ্যে আমার কোনোটাই পছন্দ হচ্ছে না। আমি নীরব আর রিমির বিয়েতে পড়বো কি?"
"এই ছোটো ব্যপার নিয়ে এতো চিন্তা? আমি ইনকাম তো করিই বউ বাচ্চার জন্য। নতুন জামা কিনে দেবো।"
"এবার আমার শাড়ি চাই।"
"বেশ! কিনে দেবো। কিন্তু শাড়ি পড়ে শুধু আমার সামনে আসবি। অন্য কারোর সামনে যাওয়া চলবে না।"
তুবা হতাশ হলো। চোখ মুখ কুঁচকে গেলো। কৌশিক তখন আলতো করে তুবার ঘাড়ে চুমু খেয়ে যাচ্ছে। তুবা জামাকাপড় গোছাতে গোছাতে বলল,
"কি? আপনার মতলব কি?"
"শরীরের চার্জ ফুরিয়ে গেছে জান। একটু চার্জ দেয়া প্রয়োজন।"
নেশাক্ত কন্ঠে বলল কৌশিক। তুবা আঁতকে উঠলো। তড়িঘড়ি করে সরতে সরতে বলল,
"পাগল। কোনো সময় অসময় নেই। যে কোনো মুহুর্তে ছেলে চলে আসবে, সরুন।"
"উঁহু! আসবে না। ছেলে তার দাদির ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছে।"
একদমে কথাটা বলেই তুবাকে কোলে তুলে নিলো কৌশিক। তুবা শত ছোটাছুটি করেও ছাড়া পেলো না। শেষে হাল ছেড়ে দিয়ে সম্মতি জানালো।
চলবে?