চীনের প্রাচীন এক নগরী শহরটির নাম শুনলেই আজও মানুষের মনে অজানা এক আতষ্কের সৃষ্টি হয় ।
শহরটির নাম লুওয়াং
দিনের আলোই শহরটি যতটা সুন্দর রাতের অন্ধকারে ঠিক ততটাই রহস্যময় শত শত বছরের পুরোনো প্রাসাদ বিশাল পাহাড় আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই নগরীর বুকে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর ইতিহাস
লোক মুখে শোনা যায় এই নগরীতে এমন একজনের বসবাস যে মানুষের মতো দেখতে হলেও মানুষ নয় দিনের আলোই কেউ তাকে দেখেনি আর দেখার চেষ্টাও করেনি চীনের তিন ভাগের দুইভাগ মানুষই জানে এই নগরীর রাতের অন্ধকারে তার রাজত্ব চলে
[এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক উপন্যাস]
:- লুনারা কোথাই
:- ওর রুমে হয়তো
:- হয়তো মানে ? ও এখন আবার কোথাই যাবে ?
:- আপনাদের বাবা মেয়ের তো একটাই কাজ হুটহাট করে বাইরে বেরিয়ে যাওয়া কোথাও যাওয়ার সময় কি আমাকে বলে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেন
:- তোমার যেতে ইচ্ছে করলে তুমিও যাও
কথার তালে তালে কন্ঠে কিছু টা ঝাঁঝ ঢেলে বলে ফেললেন মাহতাব মির্জা ।
:- তুমি আমাকে রাগ দেখাচ্ছো ?
:- আ আরে না না না তোমাকে কেন আমি রাগ দেখাবো তুমি হলে আমার...
কথা শেষ করতে পারলেন না মাহতাব মির্জা তার আগেই সেখানে এলেন একটা বিশ বাইশ বছরের মেয়ে মূলত মেন গেট খোলা থাকাই ভিতরে চলে এসেছে যার গায়ে একটি ব্ল্যাক হুডেড ক্লোল ( ফেস কভারিং নিকাব ) দিয়ে ঢাকা শুধু তার চোখ দুইটা দৃশ্যমান মেয়েটাকে দেখার সাথে সাথে মাহতাব মির্জা আর সালমা বেগম বুঝে গেলেন যে ইনি কে ।
:- আঙ্কেল আন্টি লুনারা কোথায় ?
:- রুমে দেখো
সালমা বেগমের কথা শুনে মেয়েটা লুনারার রুমের দিকে গেলো ।
মাহতাব মির্জা তার বাড়িটা মূলত যশোরের উত্তর দিকে অবস্থিত সেই ঘোনো জঙ্গল টার পাশের গ্ৰামে করেছে যেখানে মানুষের বসত নেই বলেই চলে মির্জা বাড়িটা বেশি বড় না আবার ছোট বললে ভুল হবে দোতলা কালো রঙের এক বিশাল ভিলা যার চারপাশে উঁচু উঁচু করে বাউন্ডারি দেয়া বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কোনো এক মাফিয়ার বাড়ি অথচ বাড়ির ভিতরে সব কিছু পিংক কালার ।
লুনারার ঘরটা উপর তলার ডানপাশে জঙ্গলের দিকে মেয়েটা লুনারার ঘরের সামনে গিয়ে দরজায় টোকা দেই কিন্তু কোনো সারা শব্দ নেই মেয়েটা দরজার ওপাশ থেকে বেশ কয়েক বার লুনারা কে ডাকে কিন্তু কোনো সারা শব্দ না পেয়ে দরজায় ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে যায় মেয়েটা ঘরে গিয়ে দেখে লুনারা ফোনে গান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে সে লুনারার কাছে গিয়ে লুনারাকে ডাকে ।
:- লুনারা এই লুনারা ওঠ
লুনারার উঠছে না দেখে মেয়েটা বেড সাইড টেবিল থেকে পানি নিয়ে পুরো গ্লাসের পানি লুনারার মুখে মেরে দেয় ।
নিজের মুখের উপর ঠান্ডা কিছু পরেছে বুঝতে পেরে হকচকিয়ে উঠে বসে উঠে নিজের সামনে ব্ল্যাক হেডেড ক্লোল পরা মেয়েটাকে দেখে চিৎকার দিতে গেলে পরক্ষনেই মেয়েটা লুনারার মুখে হাত দিয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলে
:- থাম আর ঢং করতে হবে না আমি মেহজাবিন
মেহজাবিন নাম আর পরিচিত কন্ঠশর শুনে কিছুটা শান্ত হয়ে নিজের মুখ থেকে হাত সরিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলে
:- এই অসময়ে হেডেড ক্লোল পরে এতো সেজে গুজে আসছিস কেন কই যাবি
:- সিনিয়র সুপ্রিমের ডাক পরেছে
:- কোনো বিশেষ কারণ
কিছুটা বিরক্ত হয়ে লুনারা কথা টা বলে প্রতি উত্তরে মেহজাবিন বলে
:- জানি না ফাস্ট যেতে হবে দ্রুত রেডি হয়ে নিচে আই
বলে মেহজাবিন নিচে চলে যায় আর এদিকে লুনারা বিরক্ত হয়ে ধুপধাপ পা ফেলে ওয়াশ রুমে চলে যায় কিছুক্ষণ পর বের হয়ে তার রেড হেডেড ক্লোল পরে মাঝাই একটা ব্ল্যাক হোলস্টার ( কোমর ও উরুতে লাগানো সরঞ্জাম রাখার বেল্ট ) পরে পায়ে একটা হাই বুট পরে দ্রুত বের হয়ে নিচে আসে নিচে এসে দেখে মেহজাবিন দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে
লুনারাকে দেখে দরজা দিয়ে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে যায় লুনারা বাবা মাকে বিদায় দিয়ে ভ্যালথর ( ঘোরা ) নিয়ে বেরিয়ে পরে ।
বেশ চিন্তিত কন্ঠ সালমা বেগম বললেন
:- তোমরা বাবা মেয়ে এগুলো কি শুরু করলে আমার একটা মাত্র মেয়ে যদি ওর কিছু হয়ে যায়
:- তোমার মেয়ে এখনো ছোট নেই ওর ভালো মন্দ ও বোঝে
সালমা বেগম স্বামীর কথার প্রতি উত্তর না দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলেন কারণ তিনি যানেন এখন কথা বাড়ালে ঝামেলা হবে
:- সুপ্রিমু ভিতরে আসবো
:- ক্যাম
:- আমাদেরকে ডেকেছেন স্যার
:- হুম তোমরা সবাই নিজের জায়গায় বসো
লুনারাদের একটি টিম আছে যার নাম ব্ল্যাক ফ্যান্টম তাদের টিমের মোট সদস্য 10 জন 1,লুনারা 2, মেহজাবিন 3,স্মৃতি 4,রিমি 5,রিশকা 6,রিহান 7,এরিশ 8,জীবন 9, সাগর 10, সুপ্রিমু ইরান ।
লুনারা এবং তার গবেষক দল মূলত পৃথিবীর বিভিন্ন দুর্গম জঙ্গল, প্রাচীন পাহাড় ও রহস্যময় অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়ে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী, অজানা প্রজাতি, রহস্যময় উদ্ভিদ, প্রাচীন অভিশপ্ত নিদর্শন এবং অতিপ্রাকৃত জীবের অস্তিত্ব সম্পর্কে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু রহস্যের সন্ধান করা, যেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, বিজ্ঞানীরাও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।
তবে এটা শুধু মানুষ কে বলার জন্য তারা এমন কাজ করে যা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে করা কখনো সম্ভব নয়।
তাদের দুইটা ল্যাবরেটরি একটা জনতার ভিড়ে আর একটা এমন এক জায়গায় যেখানে মানুষ যাওয়া তো দুরের কথা কখনো স্বপ্নেও ভাবে না ।
তাদের ল্যাবরেটরি মূলত জঙ্গলের ভিতর বানানো যেখানে সূর্যের আলো যায় কিনা সন্দেহ......
চলবে ইনশাআল্লাহ
[ লেখাই কোনো ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক উপন্যাস বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই ]