#প্রনয়ের_শেষ_চিঠি
লেখিকা:Fahima
পর্ব:০১
ভোর ৬:০০ টা চোখে বাহিরের মৃদু আলো পরতেই চোখ কুচকে এদিক সেদিক হয়ে আবারও ঘুমে মগ্ন হয় মেহেরিন ঘুমের মধ্যেই বলতে থাকে " এই কে রে আমার চোখে লাইট জ্বালিয়ে রাখছে, ঘুমের দিস্টার্ব করে, উফফ ঘুমিয়েও শান্তি নেই" এই বলে আবার কাঁ থা টেনে চোখের উপরে রেখে ঘুমিয়ে যায়।এইদিকে মাইশা বেশ বিরক্ত হয়, সে জানালার কাছে থাকা পর্দা ভালো ভাবে মেলে দিয়ে থাই গ্লাস খুলে দিলো ভোরের মিষ্টি বাতাস গায়ে লাগতেই শিরশির করে উঠে,কিছুক্ষন পর আবারও বেডের দিকে তাকায় যেখানে মেহেরিন বেডের একেবারে এক সাইড হয়ে গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে,মাইশা বলে উঠলো
"এই মেয়ে এই উঠ,সারাক্ষন কি এভাবেই ঘুমাতে থাকবি? নামাজের সময় চলে যাচ্ছে,উঠ বলছি"
-মেহেরিনের কোনো হোলদোল নেই,নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে মেয়েটা, ও এমনই ঘুম যে তার এত সহজে ছুটে না।হুম অলস মেয়েটার কথাই বলছি নাম"মেহেরিন তাসনিম " আমি তার বড় বোন"মাইশা তাসনিম " আমার বাবারা ৩ ভাই ১ বোন, বড় আব্বু "আহমেদ আলী সিকদার - বড় মা "ফাতেমা বেগম" ওনাদের কোনো সন্তান নেই,ওনারা নিঃসন্তান, মেজু ভাই মানে আমাদের আব্বু" মেহেরজান আলী সিকদার "আম্মু"সাবিহা খাতুন" আর ছোট কাকা "সিরাজ আলি সিকদার " মা মনি(আমরা আমাদের ছোট কাকার বউকে মা মনি বলে থাকি) নাহিয়া বেগম"ওনার এক ছেলে এক মেয়ে ছেলে"ফারাজ সিকদার "মেহেরীনের চেয়ে ২ বছরের বড় - মেয়ে " মাহিরা তাসনিম" সবচেয়ে ছোট সদস্য। আর আমাদের একমাত্র ফুফু:আসমা বেগম, ফুফা:জামশেদ চোধুরি, ওনাদের ২ ছেলে : বড় ছেলে : ইভান চোধুরি ইংল্যান্ড থাকেন। আর ছোট জন:ইহান চোধুরি যিনি ভার্সিটিতেই পড়াশোনা করেন,মাইশার সমবয়সী। আমাদের পরিবার টা যৌথ পরিবার।
- নাহ এই মেয়েকে কোনোভাবেই ডেকে তোলা সম্ভব না,বলতে বলতে মাইশা দোতলা থেকে নেমে নিচে চলে আসে, আসতে গেলেই পা থেমে যায় সোফায় বসে বড় আব্বু খবরের কাগজ পড়ছে আর চা খাওয়ায় বেস্ত, বড় আব্বুকে দেখেই মাইশা ধীরে ধীরে হাটে, আহমেদ আলী মাইশাকে দেখেই
ডাকে
-মাইশা আম্মু এদিকে আসো "
"মাথার ওড়না আরেকটু ভালোভাবে পেছিয়ে চোখ নামিয়ে আস্তে আস্তে বলে
-জ্বী বড় আব্বু!
- তোমার বোনরা কোথায় আম্মু? এখনো উঠেনি?
- না বড় আব্বু, আমি ডেকেছিলাম,এখনো উঠেনি, তাই আম্মুকে ডেকে নিয়ে যেতে আসলাম।
আহমদ আলী মুচকি হেসে বললেন-
- ঠিক আছে আম্মু যাও, তাড়াতাড়ি ডেকে দাও,নামাজের সময় চলে যাচ্ছে।
-জ্বী আচ্ছা।
ছোট্ট করে বলেই কিচেনের দিকে পা বাড়াই মাইশা। যেতে নিলেই নাহিয়া বেগমের সাথে দেখা হয়,যিনি খুব বেস্ত ভঙিতে ছুটতে লাগছিলেন।মাইশা কে দেখেই থেমে যান, মুখে হাসি নিয়ে বললেন।
- আরে মাইশা কখন উঠলে তুমি..?
- এইতো কিছুক্ষন আগেই উঠে ছিলাম,আমার ফাজিল বোনটাকে তো তুলতে পারছি না,এইজন্য মেডিসিন নিতেই আসলাম।
নাহিয়া বেগম মাইশার কথার মানে বুঝেই হাসতে
লাগলেন,
- আচ্ছা যাও,মেজু আপু দেখেলাম পিঠা বানাচ্ছিলো..তুমি দেখো আসতে পারে কিনা।
এই বলে নাহিয়া বেগম চলে গেলেন।
মাইশা দ্রুত কিচেনে গিয়ে দাড়ালো।
সাবিহা খাতুন মেয়ের পানে তাকিয়ে দেখলো একবার আবারও পিঠা বানানোয় মনোযোগ দিলেন, মাইশাকে উদ্যেশ্য করে বললেন-
- তোমার বোন এখনও উঠেনি বুঝি? আমাকেই যেতে হবে কাজ পেলে রেখে..?
মাইশা কি বলবে বুঝলো না..দাঁড়িয়ে থেকেই হাত দুটো একত্র করে দাঁড়িয়ে রইলো। বাসার কাজের ভুয়া "হেনা " সাবিহা খাতুনের পাশে দাঁড়িয়ে গিয়ে বললেন - মেজু আম্মা,আপনে যান ছোট্ট আপারে ডাইকা দেন,নামাজের তো সময় চলে যাইতে নিলো,পিঠা গুলা আমি দেখতাছি,আপনে জলদি যান।
মাইশা বিড়বিড় করলো " এই মেয়ের জন্য আর কি কি করা লাগবে আল্লাহই ভালো জানে,
সাবিহা খাতুন চোখমুখ শক্ত করে এরপর রুমের উদ্যেশ্য চলে যান। অতঃপর বেড়ের পাশে গিয়ে দাড়ান,পেছন থেকে মাইশা মনে মনে বলে " এই ছেমড়ি,আর ঘুমের ঘোরে বকিস না বইন,এবার না উঠলে কপালে যে তোর শনি আছে। এইসব ভাবতে ভাবতেই ডোক গিলল।
সাবিহা খাতুন শক্ত মুখ অবয়ে বলে উঠেন
-মেহেরিন..!!!!
-....হুমম
- তুমি কি দিনের আলো আর রাতের অন্ধকারের মধ্যে পার্থক্য বুঝো না? তোমাকে প্রতিদিন নিয়ম করে আমাকে ডেকে দিতে হয় কেনো? কয়টা বাঝে টাইম দেখেছো?
- এখনো ৮ টায় বাঝে নি, দূরর.....
ঘুমুঘুমু কন্ঠে মেহেরীন বলে উঠে,সাবিহা খাতুন রাগে কটমট করেন,ওদিকে মাইশার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে,এই মেয়ে ৮ টার অপেক্ষায় আছে? কি সাংগাতিক!! কিছুটা নরম কন্ঠেই বলে উঠে
- মেহেরিন উঠ না,দেখ আম্মু ডাকছে তোকে,নামাজের সময় চলে গেছে।
মেহেরিন মায়ের কথা আর নামাজের সময় চলে যাওয়ার কথা শুনে চোখ মেলে তাকায়,সামনে মাকে আর বোনকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ডোক গিকে বলে উঠে..
- আ আম্মু!! আসলে খুব সুন্দর একটা মিষ্টি স্বপ্ন দেখছিলাম তো,তোমাকে নিয়ে তাই উঠতে চাচ্ছি না পুরো স্বপ্ন টা পূর্ণ না করে..আরেকটু বাকি ছিলো....
বাকি কথা শেষ করতে না দিয়েই সাবিহা খাতুন বলে উঠলেন,
- মেহেরিন!! বাঝে বকা বন্ধ করে যাও অযু করে এসো,আমি কাজ পেলে আসছি তোমার এসব কথা শোনার জন্য না।
এই বলে সাবিহা খাতুন গটগট পায়ে হেটে জায়গা প্রস্থান করেন।
প্রনয়ের_শেষ_চিঠি
লেখিকা:Fahima
পর্ব:০২
মাইশা মুখ চিপে হাসতে থাকে শব্দবিহীন,মেহেরিনের চোখে পড়ে মাইশার পানে,
মেহেরিন মাইশার দিকে তাকিয়ে ব্রু কুচকে বলে
- তুই ডেকে আনসোছ না? শালী....
এই বলে বেডে থাকা একটা বালিশ নিয়ে ছুড়ে মারে মাইশাই দিকে, তারপর বেড থেকে নেমে, ওয়াশরুমে চলে যায়,..
নামাজ শেষ করে মেহেরিন রুমে তাকিয়ে দেখে মাইশা নেই কোথাও তারপর ধীর পায়ে বেলকনিতে গিয়ে দেখে মাইশা বেলকনিতে থাকা ছোট ছোট বেলি ফুলের গাছে পানি দিচ্ছে, মেহেরিন পেছন থেকে বলে..
- আহ,আমার তো গাছগুলোর জন্য আফসোস লাগছে রে..
মাইশা পেছনে তাকিয়ে মেহেরিনের দিকে ব্রু কুচকে জিজ্ঞেস করে..
- কেনো,,কেনো?আপনার গাছ গুলোর জন্য এত আফসোস লাগছে কেন..হঠাৎ করে?
- এই যে প্রতিদিন নিয়ম করে গাছ গুলোতে পানি দিস,তোকে বিয়ে দিয়ে দিলে তখন তো গাছ গুলো পানির অভাবে মারা যাবে !
- এই ছেমড়ি,তুই আছিস কি করতে হ্যাঁ?
মুখ কিছুটাঅভিনয়ের ভাব করে বলে..
-আমার কি আর তোর মতো এত মায়া কাজ করে গাছের প্রতি?তাছাড়া আমার তো সময়ও নেই ? আমি যে মোবাইল টিপি এটাও তো আমার কাছে আলসেমি লাগে রে..
- হ্যাঁ এক কাজ কর,,মোবাইল টিপার জন্যও একটা লোক রেখে দে..তাহলে তো সুবিধা হয় তাই না?
- রাখবো রাখবো,আগে বড়লোক হয়ে নি,
- বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন পরে দেখেন,আগে বলেন নাস্তা করলেন..?
- যেতেই নিছিলাম,আবার ভাবলাম একটা অভুক্ত কে খাদ্য দেয়া লাগবে,তাই আবার ফিরে আসলাম,
তাছাড়া সামনে আমার এক্সাম,দোয়ার ওতো একটা ব্যপার আছে তাই না
মাইশা ব্রু কুচকে নিলো মেহেরিনের কথায়,মুখ দিয়ে ভেঙছি কেটেই মারতে নিলে মেহেরিন কে আর পায় কে এক দৌড়ে সোজা ডয়িং রুমে
মেহেরিনকে সিড়ি দিয়ে এবাবে দোড়ে নামতে দেখে আহমদ আলী এবং মেহেরজান আলী ব্রু কুচকে তাকায়,আহমেদ আলী কিছুটা হাসি নিয়েই বললেন-
" মেহেরিন আম্মু কি হলো? তোমায় কে তাড়া করছে ওভাবে দোডাচ্ছিলে কেন?
মেহেরিন দোড়াতে দোড়াতে হাপিয়ে যায় বড় আব্বু আর আব্বুকে দেখে লজ্জায় দোড়ে আবার উপরে চলে যেতে ইচ্ছে করলো, তার মধ্যে বড় আব্বু প্রশ্ন ছুড়ে দিলো, সে কিভাবে বলবে বড় বোনের সাথে বেয়াদবি করে দৌড় লাগিয়েছিলো,ডোক গিলে কিছু বলতে যাবে তার আগেই মেহেরজান আলী শক্ত কন্ঠে বলেন,
- তুমি কি এখনো ছোট বাচ্ছা? এভাবে দোড়াচ্ছো সকাল সকাল?মাহিরা তো নও তুমি,
বাবার এমন কর্কশ কন্ঠে মেহেরিনের কান্না আসার মতো অবস্থা হলো কি বলবে বুঝলো না,চোখ নামিয়ে রাখলো,পেছন থেকে মাইশা দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব কথা শুনলো,আহমেদ আলী মেহেরজান আলীকে উদ্যেশ্য করে বলেন "
- আরে তুমি এত ধমকাচ্ছো কেনো ওকে? ওর বয়স কি খুব বেশি হয়েছে নাকি? ওইরকম বয়সে একটু আধটু থাকে দুষ্টুমি,বাদ দাও তো, আম্মু তুমি নাস্তা করেছো??
- না বড় আব্বু!!
- ঠিক আছে যাও নাস্তা করে নাও,আজকে কলেজ আছে তোমার?
- জ্বী বড় আব্বু আছে,
- আচ্ছা,তাহলে নাস্তা করে পড়তে বসো কেমন..
আহমদ আলী মুচকি হেসে বললেন মেহেরিনকে,
অন্য সবার চেয়ে আহমদ আলী এবং ফাতেমা বেগম একটু বেশি ভালোবাসেন দেবরের ছেলে মেয়েদের,তাদের সন্তান না থাকায়, তাদেরকে নিজের সন্তানের চোখেই দেখেন ওনারা। মেহেরজান আলী একটু কর্কশ হলেও মন অনেক ভালো,মুখে রাগ দেখালেও তিনি তার দূই কন্যাকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন।