ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের শেষ চিঠি

পর্ব 4

লেখক: Fahima akter

প্রনয়ের_শেষ_চিঠি
লেখিকা:Fahima
পর্ব:০৪

মাহিরার কথায় মাইশা মুচকি হেসে বলে,
- এটা আমাদের ফুফাতো ভাই, ইভান চোধুরি।
ওদিকে,আসমা বেগম সহ সবাই বাড়ির সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন,সবাই সোফায় বসে আছে,
ফাতেমা বেগম ইভানের কথা জিজ্ঞেস করতেই ইভান সেখানে প্রবেশ করে,সবাইকে সালাম দিয়ে সে খুব ভদ্রভাবেই সবার সাথে কথা বলে। সিরাজ আলী তার ব্যবসার কাজে বাহিরে গেছেন,মেহেরজান আলী আর আলী আহমদ খান বাসায় আছেন,মেহেরজান আলী ইভানকে জিজ্ঞেস করে,
- ইভান,তুমি কয় মাসের ছুটিতে বাড়ি এসেছো?
- ফর দা হোল,
- তা কি করবে ভেবেছো? কিছু প্ল্যান আছে?
আহমদ আলী কিছুটা চিন্তিত কন্ঠেই বলেন ইভানকে,জামশেদ চোধুরি বলেন,
- আমি তো বলেছি আমার কম্পানিতে জয়েন করতে,তাছাড়া পাশাপাশি অন্য কিছুও চাইলে করতে পারে।
ইভান কিছুই বললো না,দু আঙুলে কপালে স্লাইড করে কিছু ভাবতে থাকে।,মেহেরজান আলী বলেন,
- দেখুক না ওর যেটা ভালো মনে হয়,ওর তো সব কিছুতেই দক্ষতা আছে। কোনো সমস্যা হবে না আশা করে।
তারা সবাই এইসব নিয়েই আলোচনা করতে থাকে।এইদিকে ইহান ফারাজের সাথে ছাদে যেতে যেতে মাথা ঘুরিয়ে এদিক সেদিক কিছু খুজতে থাকে,পাশ থেকে ফারাজ ইহানের কাধে হাত দিয়ে দাঁড়ায় আর বলে
- ভাইয়া, কিছু খুজছেন?
- আমার সুন্দরি মামাতো বোন গুলো কোথায় রে?
- জ্বী ভাইয়া?  কি বললেন?
- আমার সুন্দরী মামাতো....
ইহান কে থামিয়ে দিয়েই ফারাজ বলে..
-আররে ভাইয়া..কি যে বলেন না,ওরা যদি সুন্দর হয় তাহলে সুন্দরিদের অপমান করা হবে..আ
বলতেই কারো হাতের পিঠে থাপ্পড় খেয়েই হঠাৎ থমকে যায়,পাশ থেকে মাইশা কটমট দৃষ্টিতে ফারাজের দিকে তাকিয়ে আছে,মূলত তারা মাইশা আর মেহরিনের রুমের পাশ দিয়েই যাচ্ছিলো ফারাজ কথা বলার সুবাদে খেয়ালই করে নি, তবে মনে মনে আল্লাহর নাম নিয়ে খুশি হয়ে যায়,মাইশার জায়গায় মেহরিন থাকলে এতক্ষনে তাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতো,
ফারাজ বারবার চোখের পলক পেলে বলে,
- আরেহ আপু, আমি তো মেহরিনের কথা বলছিলাম
মাইশা ব্রু উঁচিয়ে তাকায় ফারাজের দিকে আর বলে,
- আসলেই? আচ্ছ মেহরিন আসলে ওকে বলবো এই কথা,
- না না আপু,না প্লিজ বলো না,আমি তো ভাইয়ার সাথে একটু  মজা করছিলাম,
মাইশা মুখ বাকায়,  পাশ থেকেই ইহান বলে উঠে,
- আরে মাইশা,কেমন আছো?
- আলহামদুলিল্লাহ ভালো,তোমার?
- এইতো ভালো,মেহরিন কোথায় ওকে দেখছি না যে?
- ও তো বাসায় নেই।
- ওহ আচ্ছা।  তা তোমার পড়ালেখা কেমন চলছে?
- আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
- আমাদের বাসায় তো যাও ই না! ওই দুষ্টু টাও যায় না।
- হ্যা,আমাদের একটু পড়ালেখার চাপ বেশি তো তাই,আর মেহরিনের তো সামনে এইচএসচি পরিক্ষা,
- ও আচ্ছা,
- ইভান ভাইয়া বাইক কিনলো কবে?
- আসার ২ দিন পরই কিনেছে,আব্বু নিষেধ করেছিলো ভাইয়ার তো কার আছে তাও শুনলো না ভাইয়া,ইংল্যান্ডে থাকতেও বাইক চালিয়েছে তাই এখন কারে নাকি ভালো লাগবে না।
- ও আচ্ছা,
- হুম।

• এদিকে মেহরিন আর ইনায়া মিতুদের বাড়িতে প্রবেশ করে,মিতুর বার্থডে উপলক্ষে খুব সুন্দর করেই সব ডেকোরেশন করেছে,সব কিছু  মেজেন্ডা আর ব্লাক থিমে রেখেছে। বাসায় মিতুদের অন্যান্য মেহমান রাও আছেন।
মেহরিন আর ইনায়া কে দেখেই মিতু এগিয়ে আসে,
দুজনই একসাথে মিতুকে উইশ করে, মিতু দুজনকেই জড়িয়ে ধরে। এরপর  দুজনকে রুমে নিয়ে যায় মিতুর আম্মু  দুজনকে দেখেই হাসিমুখে কথা বলতে থাকেন।কিছুক্ষন পর মেহরিনদের আরো অনেক ফ্রেন্ড সেখানে আসে।সাথে মিতুর কাজিনরাও আছে। ঘরের ভেতর ডেকোরেশন করায় দিনের বেলাও রাতের মতোই মনে হচ্ছে। সবাই সোফায় বসে আড্ডা দেয়।এর মধ্যেই মিতুর একটা কাজিন মেহরিনের দিকে চোখ পড়ে। মিতুকে বারবার ডেকে  এটা সেটা জিজ্ঞেস করতে থাকে মেহরিনের সমন্ধে।কিছুক্ষন পর তারা সবাই ছবি তোলার জন্য ছাদের যায়, সেখানে তারা যার যার মতো করে সবাই Dslr ক্যামেরা পিক তুলতে থাকে মেহরিন রা একটু পরই তুলবে তাই এখন ওরা এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে। মিতুর কাজিন  রাকিব সুযোগ পেয়ে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। মেহরিনের  কেমন খটকা লাগে এই ছেলে মুখে কি হাসি, ছেলেটা তাদের দিকে এগিয়েই বলে,
- আমরা একটু কথা বলতে পারি?
ইনায়া হালকা হাসির ভাব করে বলে,
- জ্বী বলেন কি বলবেন?
- আমি রাকিব,মিতুর খালাতো ভাই,
মেহরিন বুঝছে এই ছেলের মতলব খারাপ সে একে সহ্য করতে পারছে না,এবার বলেই দেয়,
- তো? আপনার বায়ুডাটা আমাদের শুনাচ্ছেন কেনো?
আমরা কি আপনার জন্য পাত্রীর খোজ করবো?
ছেলেটা কিছুটা থতমত খেয়ে লজ্জা পায়,আবার মুখে হাসি রেখেই বলে,
- না আসলে আপনারা তো মিতুর ফ্রেন্ড তাই ভাবলাম একটু পরিচিত হই,
ইনায়া বলে,
- আমরা ছাড়াও মিতুর আরো ফ্রেন্ড এসেছে ওইদিকে দেখুন, ওদের সাথে পরিচিত হন গিয়ে,আমাদের একটু কাজ আছে।
বলেই দুজন অন্য সাইডে চলে যায়।ছেলেটা অপমানিত হয় খুব।তাও মেহরিনের থেকে চোখ সরায় না মনে মনে বলে,
- তোমাকে তো পটিয়েই ছারবো মিস স্মাইলি কুইন,
"এরপর তারা খাবার খেয়ে গল্প করতে থাকে,মিতুর বড় বোন সবার জন্য গ্লাসে করে কোকাকোলা নিয়ে আসে সবাই একসাথে খায়,সবাই চিয়ার করতে নিলেই মিতুর কাজিন হাতটা একটু এগিয়েই মেহরিনের গ্লাসের সাথে বারি দিতে যায়, মেহরিন খেয়াল করতেই গ্লাস নামিয়ে নেয়,সাথে সাথে রাকিবের গ্লাস টা হাত থেকে পরে ভেঙে যায়, মিতুর আরেক মেয়ে কাজিন বলে উঠে,
- আরে ভাই, তুই কি চিয়ার টা ও করতে জানিস না? দিলি তো গ্লাস টা ভেঙে,
মিতু বলে,
- আরে সমস্যা নাই এটার জন্য মন খারাপ করার দরকয়ার নেই।
এরপর মিতু জান্নাত কে ডেকে আরেকগ্লাস আনিয়ে রাকিবের হাতে দেয়।
মেহরিন মনে মনে অনেক খুশি হয় বেশি নাটক করতে আসছিলো এই ছেলে,তারপর মুখ বাকায়।

সিকদার বাড়িতে সবাই দুপুরে খাবার টেবিলে বসে,
এর মাঝেই মাইশা এসে সবার সাথে দেখা ও করেছে,আসমা বেগম মেহরিন কে না দেখে জিজ্ঞেস করে,
- মেহরিন কোথায়,ওকে দেখছি না যে?
ইভান স্বাভাবিক ভাবেই তাকায় মায়ের দিকে,আবার চোখ নামিয়ে নেয়,
সাবিহা খাতুন বলেন,
- ওর এক ফ্রেন্ডের জন্মদিন ওখানেই গিয়েছে,চলে আসবে বিকালে।
-আচ্ছা,ওর পরিক্ষা কখন?
সাবিহা খাতুন বলেন,
- আর এক মাস বাকি আছে,
- পরিক্ষা শেষ হলে আমাদের বাড়িতে পাঠিও দুই বোনকে,
মাইশার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলেন আসমা বেগম।
সাবিহা খাতুন মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়।
কথা বলতে বলতে  আজকে খাবার পর্বে অনেক সময় কাটিয়েছে ১ ঘন্টার জায়গায় ২ ঘন্টায় খাবার শেষ করে সবাই। ইভান বরাবরই নিশ্চুপ, সে অতিরিক্ত কথা বলতে পছন্দ করে না,মুখে হাসি নেই কেমন চুপচাপ।

• বিকাল ঘড়ির কাটায় জানান দিচ্ছে ৪ টা বাঝতে চলেছে।আসমা বেগম কিছুক্ষন অপেক্ষা করছিলেন মেহরিনের জন্য,সোফায় বসে সবাই বিভিন্ন কথা বলছিলেন।ইভান বেশ বিরক্ত। দাড়িয়েই বলে উঠে,
- আই ওয়ান্ট গো বেক।
জামশেদ চোধুরি ঘড়িতে একবার সময় দেখে নিলো,বেশ বেলা হয়েছে,এবার বেরোতে হবে,এমনিতেও এখান থেকে তাদের বাসায় যেতে বেশ সময় ও লাগে, তাই একটু তাড়াতাড়িই বের হওয়া লাগবে।ওনি  আহমদ আলীর দিকে তাকিয়ে বলেন,
- হ্যা ভাইজান এবার আমাদের যেতে হবে,বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে।
ফাতেমা বেগম আসমা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন,
- আজকে থেকে গেলে কি হতো আফা?
- অন্য সময় থাকবো ভাবি।
কিছুক্ষন পর সবাই চলে যায়।
চলে যাওয়ার পর পরই মেহরিন বাসায় আসে।কাউকে না দেখতে পেয়েই বুঝেছে সবাই চলে গেছে, তার একটু মন খারাপ ও হলো, আসলে যখন কোনো ভালো ইভেন্ট হয় তখন সব একসাথেই হয়।কি আর করবে বিস্ময় মুখ নিয়ে রুমে চলে যায়।
মাইশা রুমে বসে আছে,মেহরিনকে দেখে বলে,
- আরেকটু  আগে আসলে তো ফুফুদের সাথে দেখা হতো তোর,ইশশ।
- মাত্রই গিয়েছে?
- হ্যাঁ।
- ওহ,আমি তো ভাবছিলাম থাকবে তাই লেট করে আসছি।
- ইভান ভাইয়া থাকতে চাইছে না তাই চলে গেছে।
মেহরিন মুখ বাকিয়ে বলে,
- কি সমস্যা ওনার থাকলে? ডং
ফারাজ রুমে নক করে,মাইশা ভেতরে আসতে বলে,
ফারাজ ভেতরে গিয়েই বলে,
- আরে মেহরিন,অবশেষে আসলি তুই? আমরা তো আজকে পাটিয়ে মজা করেছি,আহারে তুই মিস করলি।
মেহরিন চোখ ছোট করে করে তাকিয়ে বলে,
- আই থিংক তোর চেয়ে বেশি মজা করেছি আমি,সবাই যেই ফানি ঘটনা ঘটছে বিশেষ করে রাকিব...
বলতে বলতে থেমে যায় মেহরিন, হাসির ঠেলায় কি বলে ফেলছে ভেবেই কথার ইতি টানে,
পাশ থেকে মাইশা বলে,
- কিরে রাকিব কে? কি হইছে?
ফারাজ শয়তানি হাসি দিয়ে,ব্রু উচিয়ে  বলে,
- নিশ্চয়ই আমাদের মেহরিন কোনো বিএফ জুড়িয়েছে,তাইনা রে?
- তোকে বলছে না? ওটা মিতুর এক কাজিন।
- কি করছে মিতুর কাজিন? বলনা।
মাইশা আর ফারাজ শুনতে আগ্রহী হয়ে আছে,এক প্রকার বাধ্য হয়েই মেহরিন সব খুলে বলে,মাইশা আর ফারাজ হাসতে হাসতে শেষ,ফারাজ বলে,
- তুই কি ফাজিল রে ,ওখানে গিয়েও কাউকে শান্তি দিচ্ছিস না।
মেহরিন রেগে গিয়ে বলে,
- এহহ,আমার সাথে বেয়াদবি করে আবার শান্তি খুজতে আসে কে রে হ্যাঁ??
মাইশা পাশ থেকে বলে,
- হুম ঠিকই হয়েছে,নজর দিচ্ছে কেনো আমার বোনের দিকে?
ফারাজ বলে - আমাদের মেহরিন কতটা ভদ্র তা জানলে কেউ ওকে দিস্টার্ব তো দূর ধারে কাছেও ঘেষতো না,
বলেই হাসতে থাকে, মেহরিন বলে- তাহলে তুই এত নির্লজ্জ হলি কবে? আমার পাশে বসে আছিস?
- আমি তো অভ্যস্ত হয়ে গেছি তোর বেহাভিয়রে,
- এহহ,আসছে,
এইভাবে আড্ডা দিতে থাকে ওরা,একটু পর মাগরিবের আযান দিলে ফারাজ মসজিদের উদ্দেশ্য চলে যায় মাইশা ও মেহরিন ও নামাজ পড়ে নেয়।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন