ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার গোপন পাপ

পর্ব 2

লেখক: Tisha khan

### 🥀 তুমি আমার গোপন পাপ

✍️ লেখিকা: Tisha Khan

### পর্ব — ০২

### 🖤 “প্রফেসর, আপনার চোখে এত রহস্য কেন?”

সকাল ১০টা।

Royal Crown University-এর করিডোরে প্রতিদিনের মতোই শিক্ষার্থীদের ভিড়। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে, কেউ ক্লাসের জন্য ছুটছে। কিন্তু আজ আরিশা রহমানের মনটা অদ্ভুত রকমের অস্থির।

গতরাতে পাওয়া সেই অচেনা মেসেজটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে—

“পুরোনো ব্যাপারটা আবার সামনে আসছে। এবার নিজেকে বাঁচাতে পারবে তো, আরিশা?”

কে পাঠিয়েছে মেসেজটা?

আর তার অতীত সম্পর্কে সে-ই বা কী জানে?

“এই আরিশা! কী হয়েছে তোর? সকাল থেকে এমন ভূতের মতো মুখ করে আছিস কেন?”

বন্ধু নেহার কথায় ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে এল আরিশা।

— কিছু না।

— কিছু না মানে? তোর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, কোনো একটা ঝামেলা হয়েছে।

আরিশা মুচকি হেসে বলল,

— তুই বেশি গোয়েন্দাগিরি করিস না তো!

কথাটা বলে ক্লাসরুমের দিকে পা বাড়াতেই সামনে এসে থামল একজন।

কালো শার্ট, হাতে ঘড়ি, চোখে পাতলা ফ্রেমের চশমা। মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীর ভাব।

প্রফেসর আরহাম মালিক।

তাকে দেখেই আরিশার মুখটা শক্ত হয়ে গেল।

— গুড মর্নিং, স্যার।

আরহাম একবার তার দিকে তাকালেন।

— ক্লাসে যাওয়ার আগে ফোনটা বন্ধ করে ব্যাগে রাখবেন, মিস রহমান।

আরিশা অবাক হয়ে তাকাল।

— স্যার, আমি তো এখনো ফোন বেরই করিনি!

— আমি কি বলেছি আপনি ফোন বের করেছেন?

আরিশা থমকে গেল।

লোকটা কি ইচ্ছে করেই তাকে বিরক্ত করছেন?

— তাহলে আমাকে বলছেন কেন?

আরহাম সামান্য ঝুঁকে নিচু স্বরে বললেন,

— কারণ, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙার আগেই সতর্ক করা ভালো।

কথাটা বলে তিনি চলে গেলেন।

আরিশা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

— অসহ্য! নিজেকে কী মনে করেন উনি? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, নাকি পুরো পৃথিবীর মালিক?

নেহা মুখ চেপে হাসল।

— দোস্ত, তোর তো মনে হচ্ছে নতুন স্যারকে বেশ ভালোই লাগছে!

— চুপ কর! ওই লোকটাকে ভালো লাগার চেয়ে আমার পাহাড় থেকে লাফ দেওয়া ভালো!

কিন্তু আরিশা জানত না, কয়েক পা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা তার প্রতিটি কথা শুনেছেন।

আরহামের ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটল।

— পাহাড় থেকে লাফ দেওয়ার শখ এখনো যায়নি, আরিশা রহমান?

তার চোখের চশমার আড়ালে মুহূর্তের জন্য বদলে গেল দৃষ্টি।

সেই দৃষ্টিতে কোনো সাধারণ শিক্ষকের ছায়া ছিল না।

ছিল এমন এক মানুষের ছায়া, যার নাম শুনলে অন্ধকার জগতের মানুষও একবার পেছনে ফিরে তাকায়।

কিন্তু সেই পরিচয় এখনো সবার অজানা।

### 🥀 ক্লাসরুমে...

আরহাম বোর্ডে একটা প্রশ্ন লিখে ঘুরে দাঁড়ালেন।

— মিস রহমান, দাঁড়ান।

আরিশা বিরক্ত মুখে উঠে দাঁড়াল।

— জি, স্যার?

— এই বাক্যটার অর্থ বলুন।

আরিশা বোর্ডের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল। উত্তর সঠিক হওয়া সত্ত্বেও আরহাম আবার প্রশ্ন করলেন,

— আপনি কি সব সময় এত আত্মবিশ্বাসী থাকেন?

আরিশা ভ্রু কুঁচকে বলল,

— নিজের উত্তর সঠিক হলে আত্মবিশ্বাসী থাকতেই পারি, স্যার।

ক্লাসের কয়েকজন হেসে উঠল।

আরহাম হাসলেন না। বরং তার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বললেন,

— আত্মবিশ্বাস ভালো। তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস মানুষকে বিপদে ফেলে।

আরিশা ঠান্ডা গলায় জবাব দিল,

— আর অতিরিক্ত সন্দেহ মানুষকে একা করে দেয়, স্যার।

পুরো ক্লাস চুপ!

আরহামের চোখ দুটো মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল।

মেয়েটা কি কথাটা শুধু কথার কথা বলল?

নাকি তার ভেতরেও এমন কোনো অন্ধকার লুকিয়ে আছে, যা কেউ দেখতে পায় না?

— বসুন, মিস রহমান।

আরিশা বসে পড়ল।

কিন্তু আরহাম আবার বোর্ডের দিকে ফিরতেই তার ফোনে একটা মেসেজ এল।

অচেনা নম্বর।

“তাকে বিশ্বাস কোরো না। তোমার প্রফেসর যতটা নিরীহ দেখায়, সে ততটা নিরীহ নয়।”

আরিশার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

সে ধীরে ধীরে চোখ তুলে আরহামের দিকে তাকাল।

লোকটা তখন বোর্ডে লিখছেন। একেবারে স্বাভাবিক। শান্ত। নির্বিকার।

তাহলে মেসেজটা কি মিথ্যা?

নাকি সত্যিই এই মানুষের আড়ালে অন্য কেউ লুকিয়ে আছে?

### 🖤 অন্যদিকে...

শহরের এক নির্জন ভবনের অন্ধকার ঘর।

চারপাশে নিস্তব্ধতা। বিশাল টেবিলের সামনে বসে থাকা মানুষটার মুখ স্পষ্ট দেখা যায় না।

তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে কালো পোশাক পরা এক লোক।

— বস, মেয়েটাকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

টেবিলে রাখা ছবিটা হাতে নিলেন সেই ব্যক্তি।

ছবিতে আরিশা রহমান।

লোকটা ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করল,

— ও কি জানে, ও আসলে কে?

— না, বস। এখনো কিছু জানে না।

ছবিটা টেবিলে রেখে লোকটা ধীরে ধীরে হাসল।

— ভালো। ওকে জানতে দিও না। অন্তত এখনই না।

— আর প্রফেসর?

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর উত্তর এল—

— আরহাম মালিককে আমি চিনি। ও যতই ভদ্রতার মুখোশ পরে থাকুক, নিজের অতীত থেকে পালাতে পারবে না।

লোকটা দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

বেরিয়ে যাওয়ার আগে শুধু একটা কথা বলল—

“খেলা শুরু হয়েছে। এবার দেখা যাক, কার পাপ আগে প্রকাশ পায়—ওর, নাকি আমার!”

### 💔 শেষ দৃশ্য...

ক্লাস শেষে আরিশা নিজের ব্যাগ গোছাচ্ছিল। হঠাৎ দেখল, তার ব্যাগের ভেতরে একটা ছোট কালো খাম।

কে রেখেছে?

কাঁপা হাতে খামটা খুলল সে।

ভেতরে একটা ছবি।

ছবিতে ছোট্ট একটা মেয়ে, তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন পুরুষ। ছবির পুরুষটির মুখে কালো কালি দিয়ে দাগ টানা।

ছবির পেছনে লেখা—

“তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় মিথ্যেটা তুমি নিজেই বিশ্বাস করে এসেছ, আরিশা।”

আর নিচে একটা নাম—

জারহান মির্জা।

নামটা পড়তেই আরিশার আঙুল ঠান্ডা হয়ে গেল।

এই নামটা সে ভুলে যেতে চেয়েছিল।

যে নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর স্মৃতি...

ঠিক তখনই পেছন থেকে পরিচিত গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল—

— ছবিটা কোথায় পেয়েছেন, মিস রহমান?

আরিশা ঘুরে দাঁড়াল।

দরজায় দাঁড়িয়ে প্রফেসর আরহাম মালিক।

কিন্তু এবার তার চোখে শিক্ষকের সেই শান্ত দৃষ্টি নেই।

আছে রাগ। আতঙ্ক। আর এমন এক গোপন সত্যের ছায়া, যা আরিশা আগে কখনো দেখেনি।

আরিশা কাঁপা গলায় বলল,

— স্যার... আপনি জারহান মির্জাকে চেনেন?

আরহাম কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন।

তারপর ধীরে ধীরে দরজাটা বন্ধ করে দিলেন।

— আরিশা, তুমি যা দেখেছ, সেটা ভুলে যাও। কারণ এই নামটা যার জীবনে ফিরে আসে, তার জীবন আর কখনো আগের মতো থাকে না।

আরিশা পেছনে সরে গেল।

— কেন, স্যার? লোকটা কে?

আরহাম তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন—

— কারণ, জারহান মির্জা কোনো সাধারণ মানুষ নয়। আর তোমার সবচেয়ে বড় ভুল হলো... তুমি ভেবেছ, তুমি তার কাছ থেকে পালিয়ে বেঁচে গেছ!

চলবে... 🥀🖤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন