ইলমেরা শহরের একটি নিষিদ্ধ কথা আছে। যে নাম আগুনে দেখা যায়,সে বাঁচে না। কেউ বলে এটা কিংবদন্তি। কেউ বলে সত্যি। কিন্তু সবাই ভয় পায়।
কারণ নীল আগুন নিজে থেকে জ্বলে উঠে না।
যদি না কেউ ফিরে আসে। সেই রাত ১২:০৩ AM.
পুরো শহর ঘুমিয়ে আছে। মেঘ এতো ঘন যে চাঁদও ঢুকে যেতে পারছেনা। কিন্তু হঠাৎ পুরনো আগুন-ঘড়ির টাওয়ারে একটা ভয়াবহ শব্দ হলো। ঘড়ি থেমে গেল।
মানুষ চমকে উঠলো। ইলমেরায় আগুন ঘড়ি কখনো থামে না। তারপর ঘড়ির ভেতর থাকা নীল আগুন,
নিজে নিজে ধোঁয়া তুলে উঠতে শুরু করলো। আগুনের ওপর ধীরে ধীরে দেখা গেলো একটা ছায়ামুখ। আর সেই ছায়ামুখ বলে উঠল,
"তাঁর নাম.........ফিরে এসেছে।"
____________________
অন্যদিকে আরিশা ঘুম থেকে চমকে উঠল। তাঁর বুক ধড়ফড় করছে। কিন্তু সমস্যা হলো সে জানে না। কোন ভয়টা বাস্তব আর কোনটা স্বপ্ন। কারণ তাঁর হাতে থাকা নীল-চিহ্নটা, আজ আবার জ্বলে উঠেছে। তবে ব্যথা নিয়ে।
মা দরজা ঠেলে ঢুকলেন। চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
"আরিশা, তুমি আবার সেই চিহ্নটা জ্বলতে দেখেছো?"
আরিশা চুপ। কিন্তু তার চোখ ভয়ে জমে যাচ্ছে। মা জানালার দিকে তাকিয়ে সরে গেলেন।
"আগুন-ঘড়িতে নীল আগুন জ্বলে উঠেছে। এটা ভালো না, মা। এটা আমাদের সাথে আগেও ঘটেছিল।"
আরিশা হতবুদ্ধি।
"আগে? কখন?"
মা কিছু বলতে গেলেন, ঠিক তখনই জানালার ওপাশে ছায়া নড়ল। মানুষের ছায়া নয়। কিছুটা অন্য রকম।
ছায়াটা হাত বাড়িয়ে জানালার কাঁচে আঙুল বুলালো। কাঁচে জমলো নীল দাগ। আর ধীরে ধীরে শব্দ গুলো ফুটে উঠল,
"সে জানে তুমি জেগে ওঠেছো।"
আরিশা পিছিয়ে গেল। সে চিৎকার করতে যাচ্ছিল।
কিন্তু তার আগেই কাঁচটা হঠাৎ ভেঙে পড়লো। মানুষ নয়, বাতাস নয়। একটা নরম নীল আগুনের হাত,
জানালা ভেদ করে উঠে এলো। আর সঙ্গে সঙ্গে ঘরের সব বাতি নিভে গেলো।
মা আরিশাকে জরিয়ে ধরলেন,
"পালাতে হবে..... এখনই।"
আরিশা কাঁপা গলায় বলল,
"ওটা কে?"
মা থরথর করে বললেন,
"যে তোমার নাম আগুনে লিখেছিল... সে ফিরে এসেছে।"
____________________
শহরের অন্য প্রান্তে, একজন লোক ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কালো লম্বা কোট পড়া। মুখ দেখা যায় না। শুধু চোখ দুটোতে নীল আগুনে জ্বলছে। সে আগুন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো,
"এতদিন তুমি লুকিয়ে ছিলে আরিশা...এবার তুমি কোথায় যাবে?"
তার ঠোঁটে হালকা হাসি।
"আমি তোকে খুঁজে পেয়েছি আরিশা।"
____________________
আগুন-ঘড়ির ভাঙা শব্দ পুরো শহরকে অশান্ত করে তুলেছিল, কিন্তু আসল ঝড় এখনো শুরুই হয় নি।
কারণ যেদিন নীল আগুন জানালার কাঁচ ভেদ করে আসে। সেদিন থেকে মানুষের জীবনে স্বাভাবিক কিছু থাকে না।
মা আরিশার হাত শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
ঘরের চারিদিকে ছায়াগুলো যেন নড়ছিল। কেউ যেন অদৃশ্যভাবে তাদের পরিচলনা করছে। আরিশা কাঁপছিল। ভয়ে ভয়ে মাকে জিজ্ঞেস করলো,
"মা, আমরা কোথায় যাবো?
মায়ের কন্ঠ কাঁপা, কিন্তু দৃঢ়।
"শহরের নিচে একটা জায়গা আছে.....যাকে বলে অদৃশ্য দরজা। ওটা না খুললে তুমি বাঁচবে না।"
আরিশা বিভ্রান্ত।
"আমি কে? ওরা কেন এসেছে ?"
মা উত্তর দিলেন না। শুধু বললেন,
"তোমাকে আগুনে চিহ্নিত করেছে.....সে তোমার অতীত জানে। যেটা তুমি জানো না।"
বাড়ির পুরনো কাঠের সিড়ি দিয়ে নামতে নামতেই একটা ঠান্ডা বাতাস এলো।তারপর শুনা গেলো। টুক! টুক! কারো পায়ের শব্দ। কিন্তু কেউ নেই। মা আরিশাকে ঠেলে এগিয়ে দিলেন,
"ওদের দেখো না। ওরা ছায়া মানব। দেখলে চোখ পুড়ে যায়।"
আরিশা কান্না চেপে দৌড়ায়। তার পেছনে ছায়াগুলো দেয়াল বেয়ে নেমে আসছে। দেয়ালের সঙ্গে মানুষের ছায়ার মতো না। এগুলো যেন কাঁটার মতো ছিড়ে যাচ্ছে। আরিশা দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ বুঝলো,
ছায়াগুলো তার নাম ধরে ডাকছে। ফিসফিস করে। নরম কিন্তু ভয়ংকর।
"আ-রি-শা".....
তার বুক হিম হয়ে গেলো। মা তাকে নিয়ে পুরনো খালপাড়ে এলেন। এ জায়গায় কেউ আসে না। কারণ শুনা যায় এখানে নিচে আরেকটা শহর আছে। মা মাটি খুঁড়ে একটা লোহার রিং বের করলেন।
মাটির নিচে একটা গোল দরজা উঠে এলো। দরজায় অদ্ভুত একটা লেখা।
"যে সত্য জানে না, সে ভিতরে ঢুকতে পারবে না।"
আরিশা ভড়কে গেলো।
"আমরা ঢুকতে পারবো?"
মা তার চোখের দিকে তাকালেন।
"হ্যাঁ আমরা পারবো।"
চলবে...
#সূচনা_পর্ব
#নীল_আগুনের_শহর
#অ্যানা_জাহান_মায়া
(আসসালামু আলাইকুম। এটি আমার লেখা প্রথম ফ্যান্টাসি গল্প। আপনারা গঠনমূলক মন্তব্য করার চেষ্টা করবেন। কোনো ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই। এছাড়া পেইজটা ফলো দিয়ে রাখবেন। যাতে পরবর্তী পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথেই আপনি পেয়ে যেতে পারেন। হ্যাপি রিডিং😊💕)