ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীল আগুনের শহর

১১তম পর্ব

লেখক: অ্যানা জাহান মায়া

#নীল_আগুনের_শহর

#পর্ব_১১

#অ্যানা_জাহান_মায়া

লুমিনা থরথর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

"কিসের চাবি?"

আদ্রিশ চোখ তুলে আয়নার দিকে তাকালো।

"নীল আগুনের শহর ধ্বংসের চাবিকাঠি। একমাত্র আরিশাই এই শহরের শেষ বংশধর। যার সাথে পুরো শহরের ভবিষ্যৎ জড়িত।"

আরবিন বুঝে গেছে আরিশা শুরু তাঁর হৃদয়ের রাণী নয়। সে পুরো নীল আগুনের শহরের ভাগ্য। আরবিন ফিসফিস করে বলল,

"মা তুমি কি বলেছিলে? যে নাম নীল আগুনে লেখা হয় সে বাঁচে না? কিন্তু তুমি একটা কথা ভুলে গেছো মা। আমি সেই আগুন যে নিয়মকে পুড়িয়ে দিতে পারে।"

আরবিনের চোখ জ্বলছে কালো শিখায়। আয়নার ভেতর হঠাৎ নীল গোলাপগুলো কাঁপতে শুরু করলো।

"আরবিন...যদি আমাকে বাঁচাতে চাও..."

আর কিছু শুনতে পেল না আরবিন। তাঁর আগেই আভ্রিলা আয়নাটা গায়েব করে দিয়েছে। আরবিন রাগান্বিত কণ্ঠে বলল,

"এটা তুমি ঠিক করলে না মা।"

"তুমি আমাকে ঠিক ভুল শেখাবে নাকি আরবিন?"

দেয়ালের আয়নায় ফাটল ধরলো। আভ্রিলা চিৎকার করে উঠল,

"না! কালো আগুন এখন কিছুতেই জেগে উঠতে পারে না।"

কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। লুমেরা শহরের আকাশে প্রথমবারের মতো লাল আর কালো আগুন একসাথে জেগে উঠল। লুমেরা শহরের আকাশ দু'ভাগ হয়ে গেছে। একপাশে লাল আগুন। অন্যপাশে কালো আগুন।

মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দুই প্রতীক। মা আর ছেলে। আভ্রিলা ধীরে ধীরে আরবিনের দিকে এগিয়ে এলো। তাঁর লাল পোশাকের চারপাশে আগুন ঘুরছে।

"তুমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করতে চাও?"

আভ্রিলার কণ্ঠ শান্ত। কিন্তু সেই শান্তির ভেতরেই মৃত্যু। আরবিন গম্ভীর স্বরে বলল,

"আমি যুদ্ধ চাইনি মা। তুৃমি আমাকে বাধ্য করেছো।"

আরবিনের পায়ের নিচে কালো আগুন ছড়িয়ে পড়ল।দেয়ালের ছায়াগুলো চিৎকার করে উঠল। এ্যালডার আর ইলহাম দূরে সরে গেল। এই যুদ্ধ তাদের জন্য না।

আভ্রিলা হেসে বলল,

"তুমি জানো কালো আগুনের শেষ পরিণতি কী?"

আরবিন চোখ তুলে তাকালো মায়ের দিকে।

"জানি মৃত্যু। কিন্তু আমি সেই মৃত্যু ভয় পাই না।"

এই কথা শুনে আভ্রিলার বুক এক মুহূর্তের জন্য

কেঁপে উঠল। সে হাত তুলল।

"তাহলে এসো। দেখি আমার ছেলেটা কত শক্তিশালী হয়েছে।"

মুহূর্তেই আভ্রিলার হাত থেকে লাল আগুনের ধারালো শিখা বের হয়ে এলো। সেটা সাপের মতো ছুটে গেল আরবিনের দিকে। আরবিন দুই হাত মেলে ধরলো। কালো আগুন দেয়াল হয়ে দাঁড়ালো।

শিখাটা দেয়ালে আঘাত করেই বিস্ফোরিত হলো। পুরো কক্ষ কেঁপে উঠল। লুমিনা চিৎকার করে উঠল,

"আরবিন, সাবধানে!"

কিন্তু আরবিন থামেনি। সে সামনে এগিয়ে গিয়ে গর্জে উঠল।

"মা তুমি আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে ক্ষমতার জন্য। নিজের আলাদা সাম্রাজ্য গড়ে তুলার জন্য। আজ আমি সব ছেড়ে শুধু একজনকে বাঁচাতে চাই।"

এই কথার সাথে সাথে কালো আগুন আভ্রিলার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লো। আভ্রিলা দুই ছড়িয়ে ধরলো আগুনকে। তাঁর শরীরের চারপাশে লাল আর কালোর সংঘর্ষে আকাশ ফেটে যাচ্ছে। আভ্রিলা চিৎকার করে বলল,

"ভালোবাসা তোমাকে দুর্বল করেছে আরবিন!"

আরবিন দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

"না, ভালোবাসাই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।"

ঠিক তখনই আভ্রিলা আরবিনকে দুর্বল করার জন্য, আবারও আয়না তৈরি করলো দেয়ালে। আয়নার ভেতর দেখা গেল বন্দী আরিশা হাঁটু গেড়ে বসে আছে।

তাঁর বুকের ভেতর লাল আগুন তীব্রভাবে জ্বলছে।

হঠাৎ আয়না ভেঙে আলো ছড়িয়ে পড়ল।লাল আগুনের এক ঢেউ আরবিনের বুক ছুঁয়ে গেল। আরবিন থমকে গেল। সে অনুভব করলো আরিশা হয়তো জ্ঞান

হারাবে। ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাচ্ছে আরিশা।

আরবিনের চোখ পুরোপুরি কালো হয়ে গেল।

"মা... তুমি যদি এক কদম এগিয়ে যাও আমি তোমাকে মা হিসেবে আর চিনবো না।"

আভ্রিলা আরবিনের কথায় থেমে দাঁড়ালো। চারপাশ নিস্তব্ধ। এই প্রথম লুমেরা শহরের রাণী ভয় পেল।

____________________

আরিশা এখনও বসে আছে। চোখে অদ্ভুত এক ক্লান্তি। কি করবে ঠিক বুঝতে পারছে না। হঠাৎ আরিশা নীল গোলাপের বাগানে দিকে কিছু একটা এগিয়ে আসতে দেখলো। আরিশা ভালোভাবে দেখার জন্য উঠে দাঁড়ালো।

পাখির মতো কিছু একটা। সামনে এগিয়ে আসতেই বুঝতে পারলো এটা সত্যিই একটা পাখি। পাখিটা নীল রঙের। পাখিটাকে দেখেই আরিশা "ব্লু বার্ড" বলে ডেকে উঠল। মনে হলো এই পাখিটা যেন আরিশাকেই খুঁজছিল।

"তুমি কোথায় ছিলে "ব্লু বার্ড"? আমি তোমাকে অনেক খুঁজেছিলাম! কিন্তু কোথাও খুঁজে পাইনি তোমায়!"

ব্লু বার্ডকে দেখে মনে হচ্ছে সে কিছু বলতে চাইছে। আরিশা এটা বুঝতে পেরে "ব্লু বার্ড" এর মাথায় হাত রাখলো। এখন সবকিছু তাঁর কাছে পরিষ্কার। আরিশা ব্লু বার্ডকে ইশারা করল। খাঁচাটা ভেঙে ফেলার জন্য।

আরিশা এখনও সম্পূর্ণ শক্তি পাইনি। তাই যেটুকু তাঁর মধ্যে অবশিষ্ট ছিল সেটাও কমে গিয়েছে। ব্লু বার্ড তাঁর লম্বা ঠোঁটের সাহায্যে লোহার মতো দেখতে খাঁচাটি ভেঙে ভেঙে ফেলল। আরিশা মুক্ত হয়ে গেল।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন