ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীল আগুনের শহর

১২তম পর্ব

লেখক: অ্যানা জাহান মায়া

#নীল_আগুনের_শহর

#পর্ব_১২

#অ্যানা_জাহান_মায়া

আরিশা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাঁর এখন চলার মতো শক্তিও নেই। আভ্রিলার তৈরি খাঁচাটা অন্য সব খাঁচার মতো ছিল না। এটা লাল আগুন দিয়ে তৈরি অদ্ভুত খাঁচা ছিল। যেখানে আরিশা বন্দী হওয়ার ফলে তাঁর সব শক্তি শুষে নিয়েছে খাঁচাটা।

পরবর্তীতে আভ্রিলা আরিশার সেই শক্তিগুলো কোথাও লুকিয়ে ফেলে লুমেরা শহরে বসেই। যেটা আরিশা এখনও জানে না। হঠাৎ আরিশা খেয়াল করলো তাঁর হাতের যেখানে নীল চিহ্ন জ্বলে ওঠতো, সেখানে কিছুই এখন অনুভব করতে পারছে না।

আরিশা এখন শক্তিহীন অবস্থায় আছে। তবে পুরোপুরি নয়। তাঁকে এখন তাঁর সমস্ত শক্তি ফেরত নিতে হবে। নয়তো নীল আগুনের শহরে কোনো বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে। ছোটবেলায় আরিশা মাঝে মাঝে স্বপ্নে দেখতো সে কোথাও আঁটকে আছে।

তাঁর ঠিক কিছুদূরে একটি সুন্দর শহর দেখা যেতো। আরিশা সেই শহরে যেতো চাইতো। তাঁর বারবার মনে হতো শহরটা তাকে ডাকছে। মনে হতো যেন শহরটা খুব আপন। কিন্তু কোনো ভাবেই সে খাঁচা থেকে বের হতে পারতো না। এই একই স্বপ্ন সে বারবার দেখতো।

কিন্তু একদিন দেখতে পেল অন্যকিছু। সে দেখলো তাঁর দেখা সেই সুন্দর শহরে অচেনা এক ব্যক্তি এসে শহরটা ভেঙে দিচ্ছে। আরিশা শহরটা ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে চাইছিল। যখনই সে খাঁচা ভাঙার তাঁর জন্য হাত বাড়াচ্ছিল তখনই এর চারপাশে আগুন জ্বলে উঠে।

সে ভয় পেয়ে যায়। ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠে। আরিশার যখন ঘুম ভাঙলো সে খেয়াল করলো নিজের বিছানাতেই রয়েছে। আরিশার চিৎকার শুনে তার মা ছুটে এলেন। তিনি এসে চিৎকার করার কারণ জানতে চাইলে আরিশা স্বপ্নের কথাটা খুলে বলে। সব শুনে মা বললেন,

"এটা কোনো স্বপ্ন নয় আরিশা। এটা তোমার ভবিষ্যতে ঘটবে এমন কিছুর ইঙ্গিত।"

আরিশা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,

"মা, তুমি এতটা নিশ্চিত হয়ে কি করে বলছো?"

প্রতি উত্তরে মা বললেন,

"সময় হলে তুমিও বুঝতে পারবে মা। মনে রেখো আরিশা, তুমি কিন্তু অন্যদের মতো সাধারণ কেউ না।"

আরিশা অবাক হয়ে বলল,

"আমি অন্যদের মতো সাধারণ কেউ নয় মানে? আমি তাহলে কে মা?"

"সব জানতে পারবে। শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা করো।"

এতটুকু বলেই মা চলে গেলেন ঘর থেকে। আরিশা আজ মায়ের কথাগুলোর মানে বুঝতে পারছে। আরিশা সত্যিই অন্যদের মতো না। মানুষদের মতো দেখতে হলেও সে পুরোপুরি মানুষ নয়। মানুষ আর আগুন এই দুই শক্তির মিশ্রণে তৈরি অদ্ভুত এক শক্তি আরিশা।

শক্তি ছাড়া আরিশা এখন কোনো বিপদের মোকাবেলা করতে পারবে না। কারণ এটা ইলমেরা শহর নয়।

এটা নীল আগুনের শহর যেখানে পদে পদে বিপদ লুকিয়ে থাকে। আরিশা যেই না তাঁর ব্লু বার্ডের কাছে যাবে ওমনিই একটা দেয়াল উঠল মাটির নিচ থেকে।

আরিশা আর ব্লু বার্ডের মাঝে এখন একটা দেয়াল বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। হঠাৎ আরিশা লক্ষ্য করলো সে আবারও সেই নীল গোলাপ ফুলের বাগানে এসে পড়েছে। আচমকা আরিশার শরীরের চারপাশে লাল আগুন জ্বলে উঠলো। আরিশার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে সেই লাল আগুনে। নিজের অজান্তেই আরিশা শুধু একটা নাম উচ্চারণ করলো,

"আরবিন"

____________________

আরবিন আর আভ্রিলা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। মা-ছেলে নয়। দুই শক্তির প্রতীক হিসেবে। আরবিন ভাঙা আয়নায় দেখতে পেল, আরিশার শরীরের চারপাশে লাল আগুন জ্বলছে। আর সেই আগুনে আরিশার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

'আরবিন..."

আরিশার ঠোঁট নড়লো। কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না। আরবিন সেটা অনুভব করলো। তাঁর বুকের ভেতর কিছু একটা ভেঙে গেল। সে ধীরে ধীরে আভ্রিলার দিকে এগিয়ে গেল। কালো আগুন এবার আর ছড়াচ্ছে না। একদম শান্ত, ঘনীভূত, মৃত্যুর মতো স্থির হয়ে আছে।

"শেষবার বলছি মা আরিশাকে ছেড়ে দাও।"

আরবিনের কণ্ঠে কোনো আবেগ নেই। আভ্রিলা চোখ নামিয়ে ছেলের দিকে তাকালো। আভ্রিলা ধীরে বলল,

"যেদিন তুমি জন্মেছিল, সেদিনই জানতাম তুমি একদিন আমার সবচেয়ে বড় ভুল হবে।"

"আরিশাকে তুমি ছেড়ে দাও মা।"

"আরিশাকে আমি ছাড়তে পারবো না আরবিন। ওকে মরতেই হবে। আমাদের জীবন থেকে চলে যেতে হবে চিরদিনের জন্য।"

আরবিন রাগান্বিত কণ্ঠে বলল,

"তুমি তোমার সিদ্ধান্ত বদলাও মা।"

আভ্রিলা শান্ত স্বরে বলল,

"ওই মেয়ের জন্যই আজকে আমার ছেলেটা আমার সাথে এভাবে কথা বলছে। ওকে আমি ছাড়তে পারবো না।"

আভ্রিলা আবার বলল,

"যখন তোমার বাবাকেই ছাড়তে পারিনি! তাহলে ওই সামন্য একটা বাচ্চা মেয়েকে কি করে ছাড়বো?"

এই কথাটাই যথেষ্ট ছিল। আরবিন চোখ বন্ধ করলো। আর যখন খুলল কালো আগুন তাঁর শরীর ছেড়ে ছুটে গেল। লক্ষ্য একটাই। আভ্রিলা হাত তুলতে চেয়েছিল।

কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। কালো আগুন লাল আগুনকে গিলে ফেলল।

এক মুহূর্তের জন্য আকাশের সব আলো যেন নিভে গেল। কোনো চিৎকার নেই। কোনো আর্তনাদ নেই। আভ্রিলা হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। আভ্রিলার লাল পোশাক ছাই হয়ে ঝরে পড়ছে। চোখে বিস্ময়, অবিশ্বাস আর এক ফোঁটা আফসোস।

"তুমি...সত্যিই আমাকে..."

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন