ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীল আগুনের শহর

১৬তম পর্ব

লেখক: অ্যানা জাহান মায়া

#নীল_আগুনের_শহর

#পর্ব_১৬

#অ্যানা_জাহান_মায়া

"এখন তোমার জীবনটাই দিয়ে দাও।"

বলেই আদ্রিশ একটা নিজের এক হাত উপরে তুলল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাতে একটা তলোয়ার চলে এসো। আর এক মুহূর্তও দেরি না করে আদ্রিশ সেটা দিয়ে লুমিনা আঘাত করলো। লুমিনা চিৎকার করে উঠল।

"আহ্...আদ্রিশ!"

লুমিনার পেট থেকে অঝরে রক্ত পড়ছে। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,

"তু...তুমি স...সত্যিই আমাকে আ...আঘাত করলে আ...আদ্রিশ? সত্যিই ক...করতে পা...পারলে?"

লুমিনা আর কিছু বলতে পারলো না। মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। তাঁর চোখ থেকে টুপটাপ করে পানি পড়তে লাগল। আঘাত এত জোরে করা হয়েছে যে বাঁচা অসম্ভব। শেষ বারের মতো কল্পনায় আরিশার মুখ দেখল।

আরিশা তাকে ছাড়া সত্যিই অচল। মা ছাড়া কিছু বুঝে না। আর লুমিনাও সবসময় মেয়েকে আগলে রেখেছে। যেকোনো বিপদে নিজে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কিছু ভাবতে ভাবতে লুমিনা চোখ বন্ধ করে ফেলল।

____________________

আরিশা চাবিটাকে উল্টে পাল্টে দেখছে। চাবিটা সোনালী রঙের। তবে মাঝখানে দুটো আলাদা রঙ আছে। একটা কালো অপরটা নীল।

"এই চাবিটা ঠিক কিসের হতে পারে? কেমন অদ্ভুত দেখতে! কিন্তু নীল রঙ কেন আছে চাবিটাতে?"

আরিশা এখনও সেই চাবিটাকে ভালো করে দেখছে।

"ব্লু বার্ড তোমার কি মনে হয়? এই চাবি...

ব্লু বার্ডকে দেখাতে যাবে তখন খেয়াল করলো সে একা দাঁড়িয়ে আছে।

"এখান আবার কোথায় চলে গেল?"

আরিশা চাবিটা হাতে নিয়ে ব্লু বার্ডকে খুঁজতে গেল। মিরায়া প্রাসাদের ভেতর থেকে এক অদ্ভুত আলো আসতে লাগলো। লালচে রঙের মনে হচ্ছে। আরিশা খুব কৌতুহল নিয়ে সেদিকে গেল। একটু এগোতেই সে অবাক হলো।

কারণ সেখানেই ব্লু বার্ড বসে আছে। কিন্তু সামনে কিছু জ্বলছে। আরিশা এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেল একটা লাল রঙের মোমবাতি জ্বলছে। ব্লু বার্ড সেই মোমবাতি নিয়ে কিছু করতে চাইছে। অনেকক্ষণ যাবত আরিশা এটা লক্ষ্য করলো।

"এমন কি আছে এই মোমবাতির নিচে?"

আরিশা নিজেই বলল কথাটা। মোমবাতিটা সরাতেই একটা সুরু রাস্তা দেখতে পেল। আরিশা আরও একটা জিনিস খেয়াল করলো ব্লু বার্ডের ঠোঁট হঠাৎ জ্বলজ্বল করছে। কেমন অদ্ভুত লাগছে বিষয়টা! আরিশা আর দেরি করলো না।

ব্লু বার্ডকে নিয়ে সেই সরু রাস্তার দিকে এগিয়ে গেল। যতই তারা সামনে এগোচ্ছে ততই ব্লু বার্ডের ঠোঁট জ্বলজ্বল করে উঠছে। হাঁটতে হাঁটতে আরিশা থেমে গেল। সামনে আর রাস্তা নেই। একটা বদ্ধ দরজা।

আরিশায় দরজায় হাত রাখলো।

ব্লু বার্ড গিয়ে সেই দরজাকে ভেঙে ফেলল। সামনে তাকাতেই আরিশা হতবাক হয়ে গেল। সেখানে আরেকটা রুম আছে। সেই রুমে একটি টেবিল রাখা। টেবিল উপরে একটা নীল রঙের গোলাপ ফুল আর একটা তলোয়ার।

এছাড়া সেই রুমে আর কিছু নেই। আরিশা এগিয়ে টেবিলের সামনে দাঁড়ালো। কিন্তু ব্লু হঠাৎ করেই সেই নীল রঙের গোলাপ ফুলটাকে ঠোঁট দিয়ে ছুয়ে দিলে। এতে আচমকা ব্লু বার্ডের এক পাখায় লাল রঙের আগুন জ্বলতে লাগল।

ব্লু বার্ড পাখা ঝাপটাচ্ছে। যাতে আগুন নিভে যায়। আরিশা কিছু বুঝে উঠার আগেই ব্লু বার্ড ধোঁয়াতে পরিণত হয়ে গেল। সেইটা ধোঁয়া সাথে সাথে সেই গোলাপ ফুলে প্রবেশ করলো। আরিশা এতে হতবাক হয়ে গেল।

"এটা কি হয়ে গেল? ব্লু বার্ড...ফিরে এসো!"

আরিশা কাঁদতে লাগল। কিন্তু ব্লু বার্ড আর ফিরলো না। আরিশা খেয়াল করলো গোলাপটা আগের থেকেও আর উজ্জ্বল হয়ে গেছে। আরিশার চোখের পানি গোলাপটার ওপরে পড়তেই সেটা যেন আরও সতেজ হয়ে যাচ্ছে।

"প্রিন্সেস, তুমি কাঁদছো কেন?"

"আরবিন এসেছে?"

আরিশা দ্রুত পেছনে তাকালো। আরবিন তাঁর ছায়া সঙ্গীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরবিন হাতের ইশারায় ছায়াগুলোকে চলে যেতে বলল। সাথে সাথে সব চলে গেল। আরবিন এগিয়ে এগিয়ে আরিশার চোখের পানি মুছে দিল।

"ব্লু বার্ডের জন্য কান্না করছো? এটা হওয়ারই ছিল। না হলে শক্তি ফেরত পেতে কি করে?

আরিশা চুপ করে আরবিনের কথা শুনছে। আরবিন আবারও বলতে লাগল,

"আমাদের এখনি নীল আগুনের শহরে যেতে হবে। ওখানে কিছু একটা হয়েছে।"

আরিশা চমকে গেল।

"কি হয়েছে সেখানে?"

"গিয়েই দেখে নিও।"

"এখন যাও আর গোলাপটা হাতে তুলে নাও।

আরিশা নীল গোলাপ হাতে তুলে নিল। সাথে সাথে শূন্যে ভাসতে লাগল সে। কেমন অদ্ভুত অনুভুতি হচ্ছে তাঁর ভেতর। আরিশার হাতের সেই নীল-সাদা রঙটা জ্বলে উঠল। আরিশা বুঝতে পারলো তাঁর হারানো শক্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু ব্লু বার্ডের জন্য তাঁর মন খারাপ হয়ে গেল।

"এমনটা না হলে কি হতো? অন্য ভাবে কি সে শক্তি ফেরত পেত না? ব্লু বার্ডই কেন?"

আরিশাকে সান্ত্বনা দিতে আরবিন বলল,

"এটাই একমাত্র উপায় ছিল। এখন চলো এখান থেকে।"

আরবিন ও আরিশা মিরায়া শহর ত্যাগ করলো।

____________________

এদিকে আদ্রিশের হুঁশ ফিরে এসেছে। সামনে তাকিয়ে দেখলো লুমিনার মৃত দেহ পড়ে আছে। আদ্রিশ এ্যালডারের দিকে রাগান্বিত কণ্ঠে বলল,

"আমাকে আবার হ্যালুসিনেশন করেছিলে তাই না এ্যালডার? এটা করেই আমার হাত দিয়ে লুমিনাকে হত্যা করালে? আরিশাকেও এখানে এনেছো আমাকে দিয়ে তাই না?"

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন