#নীল_আগুনের_শহর
#পর্ব_১৭
#অ্যানা_জাহান_মায়া
এ্যালডার জোরে জোরে হাত তালি দিতে লাগল। আদ্রিশকে বলল,
"ঠিক বলছো। আরও আছে শুনবে নাকি?"
আদ্রিশ ভ্রু কুঁচালো। এ্যালডার নিজেই আবার বলতে লাগল,
"আভ্রিলাকে আমিই মেরেছি আরবিনের মাধ্যমে। অথচ আরবিন ভেবেছে সে নিজে তাঁর মাকে মেরেছে। আর আমাকে সাহায্য করেছে ইলহাম। আবার আভ্রিলা দিয়ে আরবিনের বাবাকে মেরেছি। তোমাকে দিয়েও লুমিনাকে মেরে ফেললাম। এখন আরিশার পালা।"
"এ্যালডার..."
আদ্রিশ গর্জে উঠল। কিন্তু এ্যালডার তাতে ভয় না পেয়ে বলল,
"ভয় দেখাতে চাইছো আমাকে? কিন্তু কোনো লাভ নেই।
আরিশাকে তো মরবেই! ওকে মারার জন্যই এত কিছু করেছি আমি! আরবিনকে দিয়ে আগুনে নাম লিখিয়েছি। তুমি তো জানোই আদ্রিশ! আগুনে কারো নাম লেখলে তাঁর বাঁচা অসম্ভব! আরিশার হাতেও আর সময় নেই!"
এ্যালডার থেমে আবার বলল,
"জানো আভ্রিলা কেন তোমাকে ঘৃণা করে? আভ্রিলা সবসময় ভেবেছে তাদের মা-ছেলের আলাদা হওয়ার পেছনে তোমার হাত আছে! এটা কাজও আমি করেছি! থাক এখন আর কিছু বলছি না। এমনিতেই অনেক কিছু বলে ফেলেছি।"
আদ্রিশের কাছে এখন সব পরিষ্কার হয়ে গেছে। এ্যালডারই সবকিছুর মূল। ওই এই সব করছে। কিন্তু আরিশাকে মেরে ওর লাভ কি?
"আরিশাকে মেরে তোমার লাভ কি এ্যালডার?"
"আরিশা বেঁচে না থাকলে আমি হবো এই শহরের রাজা। সবকিছু আমার দখলে থাকবে। এই সামন্য বিষয় তুমি বুঝতে পারলে না আদ্রিশ?"
"বাবা না বুঝতে পারুক। আমি আর আরবিন তো বুঝতে পেরেছি সব।"
"কে?"
এ্যালডার পেছনে তাকালো। আরিশা ও আরবিন দাঁড়িয়ে আছে। আরবিন রেগে আছে খুব। তাঁর চোখ সম্পূর্ণ কালো হয়ে গেছে। শরীর থেকে কালো আগুন বের হচ্ছে।
"ছাড়বো না আমি! আমার সাথে এত বড় প্রতারণা? আমার হাত দিয়ে কিনা আমার মাকে মেরে ফেলা হয়েছে! কিছুতেই ছাড়বো না আমি। সব ধ্বংস করে দিবো।"
আরবিনের কথায় এ্যালডার ঘাবড়ে গেল। মনে মনে বলল,
"এই ছেলেকে আমি একটুও বিশ্বাস করি না। কখন কি করবে কেউ জানে না।"
এ্যালডার মুখে স্বাভাবিক ভঙ্গি এনে বলল,
"আরবিন, শান্ত হও। এটাই তোমার জন্য ভালো হবে!"
আরবিন হালকা হাসলো।
"শান্ত হবো? লোহাতে আগুন জ্বালিয়ে সেই দাউদাউ করে জ্বলা আগুন নিভাতে চাইছেন? ব্যাপারটা কেমন মিলাতে পারছি না! যখন জানেই আরবিনের রাগ মানে ধ্বংস। তাহলে সেই ধ্বংস কেন ডেকে আনেন?"
"দেখো আরবিন আমি তোমাকে সব বুঝিয়ে বলছি!"
"কিছু শোনার প্রয়োজন নেই আমার। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হন।"
"আরবিন, তুমি কি বলতে চাইছো?"
"আমি এমন কোনো কঠিন ভাষায় বলিনি। যাতে আপনার বুঝতে অসুবিধা হবে।"
এ্যালডার ভয়ে কিছু বলতে পারছে না। আরবিনের রাগ অনেক ভয়ানক। এ্যালডার আদ্রিশের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো । আরিশাকে বলল,
"আরিশা, তোমাকে কিছু দেখাবো?"
আরিশা শুধু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।
এ্যালডার আদ্রিশের হাতে থাকা তলোয়ার কেড়ে নিল। সেটা আদ্রিশের গলায় নিয়ে ধরলো। এতে আরিশা ও আরবিন একটু পিছিয়ে গেল।
"কি ভয় করছে তোমাদের? ভুলেও কিছু করতে যেও না। নাহলে আদ্রিশ কিন্তু শেষ!"
"এ্যালডার, তুমি কি আমাকে মারতে চাইছো?"
"প্রয়োজন পড়লো করবো! তাতে এমন কি ক্ষতি হবে? এমনিতেও তোমাকে এখন আমার লাগবে না।"
"তুমি কখনো এরকম কিছু করবে আমি কখনো ভাবিনি!"
"আদ্রিশ, তুমি চুপ করে থাকো। এখন আরিশাকে কিছু দেখায়। আরিশা দেখো তো এই মৃত দেহটা কার? চিনতে পারো কি না!"
এ্যালডার একটু সরে দাঁড়ালো। পেছনে তাকাতেই আরিশার চোখ বড় হয়ে গেল। তাঁর মায়ের লাশ পড়ে আছে সেখানে।
"মা..."
আরিশা কেঁদে ফেলল। এ্যালডারকে জিজ্ঞেস করলো,
"আমার মা কি করেছিল? কেন তাকে মারলেন? মা ছাড়া আমি একদম অসহায়! মা আমাকে এতদিন সব বিপদ থেকে বাঁচিয়ে! এখন কে বাঁচাবে আমায়? এমনটা কেন করলেন আপনি?"
এ্যালডার শুধু হাসছে। আরিশা লুমিনার মৃত দেহের পাশে বসে পড়ল। তাঁর চোখের পানিগুলো অঝরে পড়ছে। তাঁর চোখের পানি যেন কোনো কথা শুনছে না। আরবিন গিয়ে আরিশার কাঁধে হাত রাখলো।
"প্রিন্সেস, তুমি একদম কাঁদবে না। তোমার মা নেই তো কি হয়েছে? এই আরবিন তো আছে! আরবিন তোমাকে বাঁচাবে সব বিপদ থেকে।"
আরিশা শুধু কেঁদেই যাচ্ছে। তখন আদ্রিশের চিৎকার ভেসে এলো হঠাৎ।
"আ...আরিশা..."
আরিশা পেছনে তাকালো। তাঁর বুকটা কেঁপে উঠল। চোখ দুটো সেদিকে স্থির হয়ে আছে তাঁর। আরিশা দেখলো আদ্রিশের পেট থেকে রক্ত ঝরছে। এ্যালডার আদ্রিশের পেটে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করেছে। আদ্রিশ আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
চলবে...