ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি শুধুই আমার বউ

পর্ব 9

লেখক: Oyshe Chowdhury

তুমি শুধুই আমার বউ

লেখিকা: Oyshe Chowdhury

পর্ব: ০৯

সকাল ৮টা।

ঘুম থেকে উঠে আইরা দেখল, রুশো বিছানায় নেই। বাথরুমের দরজা বন্ধ। সে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল।

গত রাতের কথাগুলো তার মাথায় ঘুরছে।

রুশো যে এই বিয়েটা চায়নি, সেটা আইরা জানে। কিন্তু কথাটা বারবার শুনতে তারও ভালো লাগে না।

নিজের মনেই বিড়বিড় করল,

— যেন আমি খুব শখ করে এই বাড়িতে এসেছি! সুযোগ পেলে আমিও পালিয়ে যেতাম।

ঠিক তখনই বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল রুশো।

আইরার বিড়বিড় শুনে জিজ্ঞেস করল,

— কিছু বললে?

আইরা মুখ তুলে তাকাল।

— না। নিজের সঙ্গে কথা বলছিলাম।

— নিজের সঙ্গে এত জোরে কথা বলার কী আছে?

— আপনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তো সবসময় পাওয়া যায় না। তাই নিজের সঙ্গেই চালিয়ে নিচ্ছি।

রুশো কিছু না বলে আলমারি থেকে শার্ট বের করল।

আইরা মনে মনে বলল,

উফ! কী অসহ্য মানুষ!

সকাল ৯টা।

ডাইনিং রুমে সবাই নাশতা করতে বসেছে।

রাদিফ আইরার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

— ভাবি, কী হয়েছে? আজকে মুখটা এমন শুকনো কেন?

আইরা পরোটা ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলল,

— কিছু হয়নি।

— আমার সঙ্গে ঝগড়া করবেন না?

— না।

রাদিফ অবাক হয়ে বলল,

— তাহলে কি আপনি অসুস্থ?

আইরা তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— আপনাকে দেখলেই আমার অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

রাদিফ হেসে ফেলল।

— যাক! ভাবি সুস্থ আছেন।

রুশো চুপচাপ বসে সব শুনছিল।

রাদিফ এবার আইরার দিকে ঝুঁকে বলল,

— ভাবি, আজকে একটা প্ল্যান আছে। বিকেলে ছাদে বসে চা খাব।

আইরা বলল,

— ভালোই তো। সঙ্গে কিছু নাশতাও রাখব।

— আপনি বানাবেন?

— না, আপনাকে দিয়ে বানাব।

রাদিফ মুখ বাঁকিয়ে বলল,

— ভাবি, আমি আপনার দেবর। কাজের লোক না!

আইরা হেসে বলল,

— তাহলে আপনার ভাইকে বলব।

রাদিফ সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— না না! আমি বানিয়ে দেব। ভাইকে রান্নাঘরে পাঠালে রান্নাঘরটাই বন্ধ হয়ে যাবে।

এবার রুশো মুখ তুলে তাকাল।

— তোদের দুজনের কথা শেষ হয়েছে?

রাদিফ বলল,

— না ভাই। আমাদের আলোচনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

— তাহলে বাইরে গিয়ে কর।

আইরা মৃদু হেসে বলল,

— আপনার নাশতা শেষ হলে আমরা চলে যাব।

রুশো আর কথা বাড়াল না।

দুপুর ১২টা।

আইরা নিজের ঘরে বসে কাপড় ভাঁজ করছিল। এমন সময় রাদিফ একটা ট্রে হাতে নিয়ে হাজির।

— ভাবি! আপনার জন্য স্পেশাল চা।

আইরা অবাক হয়ে তাকাল।

— আপনি চা বানিয়েছেন?

— হ্যাঁ। নিজের হাতে।

আইরা কাপটা হাতে নিয়ে এক চুমুক দিল।

তারপর মুখটা কেমন করে ফেলল।

রাদিফ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল,

— কেমন হয়েছে?

আইরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— আপনি কি চায়ের মধ্যে চিনি দিয়েছেন?

রাদিফ গর্ব করে বলল,

— হ্যাঁ!

— কত চামচ?

— সেটা মনে নেই। তবে চিনি শেষ হয়ে গিয়েছিল।

আইরা হেসে ফেলল।

— আপনি কি পুরো চিনির কৌটা ঢেলে দিয়েছেন?

রাদিফ মাথা চুলকে বলল,

— একটু বেশি হয়ে গেছে হয়তো।

আইরা কাপটা নামিয়ে বলল,

— এই চা খেলে আমার দাঁতগুলো একসঙ্গে ছুটি নিয়ে নেবে!

রাদিফও হেসে উঠল।

— ভাবি, আপনার জন্য আবার বানিয়ে আনব?

— না, থাক। আপনার হাত থেকে চা খাওয়ার সাহস আর হবে না।

রাদিফ ট্রেটা হাতে নিয়ে বলল,

— ঠিক আছে। পরেরবার চা না, শরবত বানাব।

আইরা চোখ বড় করে বলল,

— না! দয়া করে আর কিছু বানাবেন না।

দুজনের হাসির শব্দ ঘরের বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে গেল।

দুপুর ২টা।

রুশো বাড়িতে ফিরে সোজা নিজের ঘরে যাচ্ছিল। করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় আইরা আর রাদিফের হাসির শব্দ শুনে থেমে গেল।

দরজার কাছে এসে দেখল, রাদিফ বিছানার পাশে বসে আছে আর আইরা তাকে কিছু একটা দেখিয়ে হাসছে।

রুশো দরজায় দাঁড়িয়ে বলল,

— কী হচ্ছে এখানে?

রাদিফ ঘুরে তাকাল।

— ভাই! চলে এসেছিস?

— হ্যাঁ। তুই এখানে কী করছিস?

— ভাবির সঙ্গে গল্প করছি।

রুশো বলল,

— তোর কি কোনো কাজ নেই?

রাদিফ এবার উঠে দাঁড়াল।

— আছে। কিন্তু ভাবির সঙ্গে গল্প করাটা আমার কাছে বেশি জরুরি।

রুশো গম্ভীর হয়ে বলল,

— বাইরে আয়।

রাদিফ আইরার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

— ভাবি, দেখলেন? আবার ডাক পড়েছে।

আইরা হাসি চেপে বলল,

— যান। নাহলে আপনার ভাই আবার আপনাকে খুঁজতে পুরো বাড়ি মাথায় তুলবে।

রাদিফ বেরিয়ে গেল।

রুশো ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করল।

আইরা তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— কী হয়েছে?

— তোমার কি সারাক্ষণ রাদিফের সঙ্গে বসে থাকতে হবে?

আইরা এবার একটু বিরক্ত হলো।

— আবার শুরু করলেন?

— আমি শুধু জিজ্ঞেস করছি।

— আপনার ভাই আমার সঙ্গে কথা বলে, গল্প করে। এতে এত সমস্যা কোথায়?

রুশো কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— আমার ভালো লাগে না।

আইরা এবার শান্ত গলায় বলল,

— আপনার ভালো লাগা-খারাপ লাগার ওপর কি আমার সবকিছু নির্ভর করবে?

রুশো তার দিকে তাকিয়ে রইল।

আইরা আবার বলল,

— আমি এই বাড়িতে এসেছি বলে কি আমার নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার নেই?

রুশো উত্তর দিতে পারল না।

বিকেল ৫টা।

ছাদের এক কোণে ছোট্ট টেবিল সাজানো হয়েছে।

আইরা চা আর কিছু নাশতা নিয়ে এসেছে। রাদিফ চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছে।

আইরা ট্রে নামিয়ে বলল,

— এই নিন, আপনার চা।

রাদিফ কাপ হাতে নিয়ে বলল,

— আজকে কিন্তু চিনি ঠিক আছে তো?

— আগে খেয়ে দেখুন। তারপর বুঝবেন।

রাদিফ এক চুমুক দিয়ে বলল,

— বাহ্! আজ তো বেশ ভালো হয়েছে।

আইরা হাসল।

— আজ আমি বানিয়েছি।

রাদিফ সঙ্গে সঙ্গে কাপ নামিয়ে বলল,

— তাই তো বলি! স্বাদটা এত ভালো কেন!

আইরা একটা নাশতা হাতে নিয়ে তার দিকে ছুড়ে মারল।

— বেশি কথা বলবেন না।

রাদিফ নাশতাটা ধরে ফেলল।

— ভাবি, আপনি আমাকে মারতে গিয়েও খাওয়াচ্ছেন!

দুজনেই হেসে উঠল।

কিছুক্ষণ পর রাদিফ বলল,

— ভাবি, একটা কাজ করি?

— কী?

— ভাইকে ডেকে আনি। সে একা একা ঘরে বসে থাকে। একটু চা খাক।

আইরা বলল,

— ডাকুন। তবে আগে বলে দেবেন, এখানে এসে রাগ করা চলবে না।

রাদিফ উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

— ভাইকে হাসানোর দায়িত্ব আমার। আপনি শুধু চা তৈরি রাখুন।

বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট।

রুশো ছাদে এসে দেখল, আইরা আর রাদিফ পাশাপাশি বসে চা খাচ্ছে।

রাদিফ হাত নেড়ে বলল,

— ভাই, এইদিকে আয়।

রুশো এগিয়ে এসে বসল।

আইরা চায়ের কাপ এগিয়ে দিল।

— নিন।

রুশো কাপ হাতে নিয়ে বলল,

— ধন্যবাদ।

রাদিফ অবাক হওয়ার ভান করে বলল,

— ও মা! ভাই আজ ধন্যবাদ বলেছে! ভাবি, আজকের দিনটা ইতিহাসে লিখে রাখা দরকার।

আইরা হাসি চেপে বলল,

— অবশ্যই। কাল পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেব।

রুশো দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল,

— তোরা কি আমাকে নিয়ে মজা করার জন্যই ডেকেছিস?

রাদিফ বলল,

— না ভাই। তোর জন্য চা বানিয়েছি।

রুশো চায়ে চুমুক দিল।

আইরা আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে।

রুশো কাপ নামিয়ে বলল,

— চা ভালো হয়েছে।

আইরা একটু অবাক হলো।

রাদিফ সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— দেখেছ ভাবি? ভাইয়ের মুখ থেকে প্রশংসা বের করা কত কঠিন!

আইরা মুচকি হেসে বলল,

— আজকে তো ভালোই প্রশংসা করলেন।

রুশো আর কিছু বলল না।

তবে বেশ কিছুক্ষণ সে তাদের সঙ্গেই বসে রইল।

রাত ১০টা।

ঘরে ফিরে আইরা আলমারি থেকে নিজের কাপড় বের করছিল। রুশো বিছানায় বসে ফোন দেখছিল।

হঠাৎ সে বলল,

— আজকে ছাদে ভালোই সময় কাটালে।

আইরা পেছন ফিরে তাকাল।

— হ্যাঁ। ভালোই।

— রাদিফের সঙ্গে?

আইরা মুচকি হেসে বলল,

— আর কার সঙ্গে? আপনার সঙ্গে তো কথা বলাই মুশকিল।

রুশো ফোনটা নামিয়ে রাখল।

— আমার সঙ্গে কথা বলতে এত সমস্যা?

আইরা বলল,

— সমস্যা আপনার সঙ্গে কথা বলায় না। সমস্যা হলো, আপনি কথা বলার আগেই রাগ দেখাতে শুরু করেন।

রুশো কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।

তারপর বলল,

— কাল বিকেলে ছাদে চা খেলে আমাকে ডাকবে।

আইরা অবাক হয়ে তাকাল।

— আপনি নিজে থেকে বলছেন?

— হ্যাঁ। কোনো সমস্যা?

আইরা হাসি চেপে বলল,

— না। তবে আগে থেকে বলে রাখছি, চা বানানোর দায়িত্ব আপনার।

রুশো ভ্রু কুঁচকে বলল,

— কেন?

— কারণ আপনার ভাইয়ের মতো চায়ে পুরো চিনির কৌটা ঢেলে দেওয়ার অভ্যাস আপনারও আছে কি না, সেটা পরীক্ষা করতে হবে।

রুশো বিরক্ত মুখে তাকাল।

আইরা হেসে বিছানায় শুয়ে পড়ল।

কিন্তু রুশোর মুখে এবার খুব সামান্য একটা হাসির আভাস ফুটে উঠল।

সে নিজেও বুঝতে পারল না, আইরার সঙ্গে এভাবে কথা বলতে তার আজ একটু ভালোই লাগছে।

চলবে…

প্রিয় পাঠক-পাঠিকারা, আজ রুশো নিজেই আইরার সঙ্গে চা খাওয়ার কথা বলেছে! তাহলে কি বরফ একটু একটু করে গলছে? আর রাদিফের দুষ্টুমি কেমন লাগছে? গল্পটি ভালো লাগলে লাইক দিও, সুন্দর মন্তব্য করে জানিও। তোমাদের মন্তব্যই আমাকে গল্পের পরবর্তী পর্বগুলো লিখতে অনুপ্রেরণা দেয়। ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 9 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন