ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি শুধুই আমার বউ

পর্ব 10

লেখক: Oyshe Chowdhury

তুমি শুধুই আমার বউ

লেখিকা: Oyshe Chowdhury

পর্ব: ১০

সকাল ৮টা।

খান বাড়ির ডাইনিং রুমে আজ বেশ শান্ত পরিবেশ। রুশো চুপচাপ নাশতা করছে। তার পাশে রাদিফ বসে মোবাইলে কিছু একটা দেখছে।

হঠাৎ রাদিফ হেসে উঠল।

রুশো বিরক্ত হয়ে বলল,

— কী হয়েছে?

রাদিফ ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বলল,

— ভাই, এটা দেখ!

রুশো একবার ফোনের দিকে তাকিয়ে আবার নিজের খাবারে মন দিল।

— এসব দেখে হাসার কী আছে?

রাদিফ মুখ বাঁকিয়ে বলল,

— তোর জীবনে আনন্দ বলে কিছু নেই। শুধু অফিস, কাজ আর রাগ!

ঠিক তখনই আইরা এসে চেয়ারে বসল।

রাদিফ সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা তার দিকে বাড়িয়ে দিল।

— ভাবি, এটা দেখুন!

আইরা ভিডিওটা দেখে হেসে উঠল।

— হায় আল্লাহ! মানুষ এমনও করে?

রাদিফ বলল,

— দেখলেন? ভাবির হাসির ক্ষমতা আছে। শুধু আমার ভাইয়ের নেই।

আইরা রুশোর দিকে তাকিয়ে বলল,

— আপনি একটু হাসার চেষ্টা করতে পারেন। মুখের পেশিগুলোও তো ব্যায়াম চায়।

রুশো চায়ের কাপ নামিয়ে বলল,

— আপনারা দুজন মিলে আমাকে নিয়ে গবেষণা বন্ধ করবেন?

রাদিফ গম্ভীর মুখে বলল,

— না ভাই। গবেষণার ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

আইরা আবার হেসে উঠল।

রুশো আর কথা না বাড়িয়ে উঠে চলে গেল।

রাদিফ আইরার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

— ভাবি, আজকে কিন্তু ভাইয়ের মুখটা একটু বেশি গম্ভীর।

আইরা বলল,

— আপনার ভাইয়ের মুখে হাসি ফুটাতে গেলে মনে হয় আলাদা বাজেট রাখতে হবে।

সকাল ১১টা।

আইরা নিজের ঘরে বসে বই পড়ছিল। হঠাৎ রাদিফ এসে দরজায় দাঁড়াল।

— ভাবি, আজকে একটা প্রতিযোগিতা হবে।

আইরা বই বন্ধ করে তাকাল।

— কীসের প্রতিযোগিতা?

— কে বেশি ভালো রান্না করতে পারে!

আইরা হেসে বলল,

— আপনি রান্না করতে পারেন?

রাদিফ বুক ফুলিয়ে বলল,

— অবশ্যই!

— শেষ কবে করেছেন?

রাদিফ একটু ভেবে বলল,

— সেটা মনে নেই।

আইরা হেসে ফেলল।

— তাহলে প্রতিযোগিতা হবে কীভাবে?

— আপনি আমাকে শিখিয়ে দেবেন। তারপর আমরা দুজন মিলে কিছু বানাব।

আইরা একটু ভেবে বলল,

— ঠিক আছে। তবে রান্নাঘর নোংরা করলে আপনাকেই পরিষ্কার করতে হবে।

রাদিফ সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— রাজি!

দুপুর ১২টা।

রান্নাঘরে আইরা আর রাদিফের প্রবেশ ঘটেছে।

রাদিফ এপ্রোন পরে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখে এমন ভাব, যেন সে কোনো বড় রেস্টুরেন্টের প্রধান শেফ।

আইরা তাকে বলল,

— প্রথমে পেঁয়াজ কাটুন।

রাদিফ ছুরি হাতে নিয়ে বলল,

— ভাবি, আমি কিন্তু খুব দক্ষ।

কিছুক্ষণ পর পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করল।

আইরা হেসে বলল,

— কী হলো? কাঁদছেন কেন?

রাদিফ নাক টেনে বলল,

— পেঁয়াজের সঙ্গে আমার পুরোনো শত্রুতা আছে।

আইরা হেসে কুটিকুটি।

— থাক, আপনি পেঁয়াজ কাটবেন না। আলু ধুয়ে দিন।

রাদিফ আলু হাতে নিয়ে বলল,

— এই কাজটা আমি ভালো পারব।

কিন্তু আলু ধুতে গিয়ে অর্ধেক পানি মেঝেতে ফেলে দিল।

আইরা মাথায় হাত দিয়ে বলল,

— হায় আল্লাহ! আপনাকে দিয়ে কিছু হবে না!

রাদিফ হাসতে হাসতে বলল,

— ভাবি, রান্নাঘরে আমার উপস্থিতি একটা আলাদা সৌন্দর্য তৈরি করেছে।

আইরা বলল,

— হ্যাঁ, বিশেষ করে মেঝেতে পানির সৌন্দর্য!

দুজনের হাসির শব্দ শুনে রুশোর মা রান্নাঘরে এলেন।

— কী হচ্ছে এখানে?

আইরা হেসে বলল,

— মা, আপনার ছোট ছেলে রান্না শিখছে।

রুশোর মা রাদিফের এপ্রোন আর এলোমেলো রান্নাঘর দেখে হেসে ফেললেন।

— তোমরা দুজন মিলে রান্নাঘরটা যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ফেলেছ!

রাদিফ বলল,

— মা, রান্না একটা শিল্প। শিল্পের জন্য একটু বিশৃঙ্খলা তো থাকবেই।

ঠিক তখনই রান্নাঘরের দরজায় রুশো এসে দাঁড়াল।

সে চারদিকে তাকিয়ে বলল,

— এখানে কী হয়েছে?

রাদিফ সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— ভাই, আমরা রান্না করছি।

রুশো অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।

— তোমরা?

আইরা বলল,

— হ্যাঁ। সমস্যা?

রুশো মেঝের দিকে তাকিয়ে বলল,

— সমস্যা নেই। তবে রান্নাঘরটা বাঁচিয়ে রেখো।

রাদিফ হেসে বলল,

— ভাই, তুই চাইলে আমাদের রান্না খেতে পারিস।

রুশো বলল,

— আগে নিশ্চিত হও, এটা খাওয়ার উপযোগী হয়েছে কি না।

আইরা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

— আপনি শুধু সমালোচনা করতে জানেন।

রুশো বলল,

— আমি সত্যি কথা বলি।

রাদিফ মাঝখানে এসে বলল,

— ভাবি, ভাইকে একটা প্লেট দেবেন না। ওর জন্য আলাদা করে কিছু বানাতে হবে না।

রুশো তার দিকে তাকাল।

— তুই চুপ কর।

দুপুর ২টা।

অবশেষে রান্না শেষ হলো।

আইরা আর রাদিফ মিলে চিকেন নুডলস বানিয়েছে। দেখতে মোটামুটি সুন্দর হলেও স্বাদ কেমন হয়েছে, তা এখনো পরীক্ষা করা হয়নি।

রাদিফ প্লেট নিয়ে ডাইনিং টেবিলে এল।

— সবাই আসুন! আজকের বিশেষ রান্না!

রুশোর মা এক চামচ মুখে দিয়ে বললেন,

— বেশ ভালো হয়েছে তো!

রাদিফ আনন্দে লাফিয়ে উঠল।

— শুনেছ ভাবি! আমরা সফল!

আইরাও খুশি হলো।

রুশো প্লেট থেকে একটু নিয়ে মুখে দিল।

রাদিফ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে।

— কেমন হয়েছে ভাই?

রুশো কিছুক্ষণ চিবিয়ে বলল,

— খারাপ না।

রাদিফ মুখ বাঁকিয়ে বলল,

— শুধু খারাপ না? একটু ভালো বলতে পারিস না?

রুশো বলল,

— ভালো হলে ভালো বলতাম।

আইরা হেসে বলল,

— আপনার ভাইয়ের মুখ থেকে প্রশংসা বের করা সত্যিই কঠিন।

রাদিফ মাথা নেড়ে বলল,

— ভাবি, আমরা দুজন মিলে একদিন ভাইকে হাসানোর প্রতিযোগিতা করব।

আইরা বলল,

— তাতে পুরস্কার কী?

রাদিফ বলল,

— যে ভাইকে হাসাতে পারবে, সে এক মাস আমার কাছ থেকে কোনো কাজ করাবে না!

আইরা হাত বাড়িয়ে বলল,

— চুক্তি!

রাদিফ তার হাতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দিল।

রুশো দুজনের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হয়ে বলল,

— আমার জীবনটা তোরা দুজন মিলে অতিষ্ঠ করে তুলেছিস।

বিকেল ৫টা।

আইরা বাগানে বসে বই পড়ছিল। রাদিফ এসে তার পাশে বসল।

— ভাবি, আজকে একটা কথা বুঝলাম।

আইরা বই থেকে চোখ না তুলেই বলল,

— কী?

— আপনি আর আমি একসঙ্গে থাকলে ভাইয়ের রক্তচাপ বেড়ে যায়।

আইরা হেসে বলল,

— তাহলে আমাদের একসঙ্গে থাকা উচিত নয়?

রাদিফ সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— একদম না! ভাইয়ের রক্তচাপের দায়িত্ব ডাক্তারের, আমাদের না।

আইরা হাসতে হাসতে বই বন্ধ করল।

ঠিক তখনই রুশো বাগানের দিকে এল।

— রাদিফ, তুই একটু আমার সঙ্গে আয়।

রাদিফ এবার বিরক্ত মুখে বলল,

— ভাই, তুই কি আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দিবি?

রুশো ভ্রু কুঁচকে বলল,

— কী বললি?

রাদিফ দ্রুত উঠে দাঁড়াল।

— বললাম, তোর সঙ্গে গেলে আমার জীবন ধন্য হবে!

আইরা হেসে ফেলল।

রাদিফ যাওয়ার আগে আইরাকে বলল,

— ভাবি, অপেক্ষা করবেন। আমি আবার ফিরে আসব।

রুশো এবার আর কিছু না বলে তাকে নিয়ে চলে গেল।

আইরা তাদের চলে যাওয়া দেখে মুচকি হাসল।

রাত ১১টা।

রুশো ঘরে ঢুকে দেখল আইরা বিছানায় বসে ফোনে কিছু একটা লিখছে।

— কী করছ?

আইরা তাকিয়ে বলল,

— রাদিফকে মেসেজ দিচ্ছি।

রুশো থমকে গেল।

— আবার কী মেসেজ?

— কালকে রান্নার নতুন একটা রেসিপি পাঠাতে বলেছি।

রুশো কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— কালকে আবার রান্না করবে?

আইরা হাসল।

— হ্যাঁ। কেন? আপনি কি ভয় পাচ্ছেন?

— কীসের ভয়?

— আপনার রান্নাঘর নিয়ে।

রুশো দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— আমার মনে হয়, এই বাড়িতে আসার পর থেকে রান্নাঘরের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

আইরা হেসে বলল,

— তাহলে আপনি আমাদের সঙ্গে রান্না করবেন। দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে।

রুশো বিছানার অন্য পাশে বসে বলল,

— আমার অফিস আছে। তোমাদের মতো সারাদিন গল্প করার সময় নেই।

আইরা ফোনটা রেখে বলল,

— ঠিক আছে। আপনি আপনার অফিস নিয়ে থাকুন। আমরা আমাদের রান্না নিয়ে থাকব।

রুশো আর কিছু বলল না।

কিছুক্ষণ পর আইরা বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ল।

রুশোও শুয়ে পড়ল, কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই।

আজ সারাদিন আইরা আর রাদিফের হাসাহাসি, রান্নাঘরের দুষ্টুমি, তাদের একসঙ্গে সময় কাটানো—সবকিছু তার চোখের সামনে ভাসছে।

সে নিজেকে বোঝাল, রাদিফ তার ছোট ভাই। আইরাও এই বাড়ির বউ। তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকতেই পারে।

তাহলে তার এত অস্বস্তি কেন?

রুশো নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেল না।

আর আইরা?

সে তো ঘুমিয়ে পড়েছে। আগামীকাল আবার নতুন কোনো দুষ্টুমির পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হবে!

চলবে…

প্রিয় পাঠক-পাঠিকারা, আইরা আর রাদিফের রান্নার কাণ্ড কেমন লাগল? এবার কি রুশোও তাদের দলে যোগ দেবে, নাকি দূরে বসে শুধু রাগ দেখাবে? গল্পটি ভালো লাগলে লাইক দিও এবং সুন্দর মন্তব্য করে জানিও। তোমাদের প্রতিটি মন্তব্যই আমাকে নতুন পর্ব লেখার অনুপ্রেরণা দেয়। ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 10 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন