ফন্ট সাইজ:
থিম:
#:তবুও_তোমার_প্রেমে_ আমি _পড়েছি

পর্ব 7

লেখক: #লেখনীতে:অধরা মিনহা

“কী যেন বলেছিলে? ওহ হ্যাঁ হিজড়া বলেছিলে! তাই এখন তোমাকে আমার পুরুষত্বের প্রমাণ দিতে চাচ্ছি।”
কলেজের ইংরেজি প্রফেসর মেহমেত হোসেন আলভীর মুখ থেকে কথাটা শুনে নৌশি মুহূর্তের জন্য ভড়কে গেল।অন্ধকার, ফাঁকা একটা ক্লাসরুম। সেখানে এই মুহূর্তে শুধু সে আর আলভী স্যার। তার ওপর দরজাটা বাইরে থেকে লক করা। চারপাশের নিস্তব্ধতা আর আলভীর অদ্ভুত কথাগুলো মিলিয়ে নৌশির বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে উঠে।

দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আলভীর দিকে তাকিয়ে নৌশি এবার রাগে সামান্য নাকের পাটা ফুলিয়ে বলে,
— এটা কী ধরনের কথা? আপনি আমাকে ফাঁকা ক্লাসরুমে কেন ডেকেছেন?

আলভী সরু চোখে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে,
— তোমাকে আমি ডেকে এনেছি?

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে চুপ হয়ে গেল। সত্যিই তো! আলভী স্যার তাকে সরাসরি ডাকেনি। একটু আগেই নৌশি কলেজে এসে নিজের ক্লাসরুমে ঢুকেছিল কিন্তু সেখানে সাবাকে দেখতে না পেয়ে সে ক্লাস থেকে বেরিয়ে পড়ে। সাবাকে খুঁজতে খুঁজতে বিজ্ঞান বিভাগের তিনতলার করিডর দিয়ে হাঁটছিল, এমন সময় হঠাৎ একটা ছেলে এসে বলে,
— ওই রুমে তোমাকে ডাকছে।

নৌশি ভেবেছিল, নিশ্চয়ই সাবা ডাকছে। তাই আর কিছু না ভেবেই সেদিকে এগিয়ে যায়। অন্ধকার রুমটার দরজাটা হালকা চাপানো। নৌশি ধরাম করে দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকেই থমকে যায়। ক্লাসরুমের একেবারে শেষ প্রান্তে প্রফেসর আলভী দাঁড়িয়ে। তাও আবার ওপাশ ফিরে। নৌশির দরজা ধুমধাড়াক্কা করে খোলার শব্দে আলভী ঘুরে তাকাতেই নৌশি থতমত খেয়ে যায়। আর তখনি আচমকা ক্লাসরুমের দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল। চমকে পেছনে ফিরে নৌশি দরজার কাছে ছুটে গিয়ে সেটা খোলার চেষ্টা করে। খুলল না।

কেউ বাইরে থেকে দরজাটা লক করে দিয়েছে। নৌশি প্রথমে আস্তে ডাকে। তারপর একটু জোরে। এরপর বেশ কিছুক্ষণ ধরে জোরে জোরে ডাকাডাকি করেও যখন কারো সাড়া পেল না, তখন বাধ্য হয়ে ফিরে তাকায় আলভীর দিকে। প্রশ্ন করে,
— আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?

আর তখনি আলভী এমন একটা বিব্রতকর উত্তর দেয়। আলভীর কথায় নিলজ্জ নৌশিও এবার বেশ বিব্রত হয়ে গেল। শুধু বিব্রতই না ভয়ও লাগছে। একটা ফাঁকা ক্লাসরুমে একজন প্রফেসরের সঙ্গে আটকে আছে সে। পুরো ব্যাপারটাই নৌশির কাছে ভীষণ অস্বস্তিকর। নৌশি আলভীর দিকে তাকায়, তার প্রতিক্রিয়াটা বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দূরের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা আলভীকে একদম স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে।

নৌশি বিরক্তি নিয়ে বলে,
— আপনি ডাকেননি তো কে ডেকেছে? আমাকে তো একটা ছেলে বলল, এখানে একজন আমাকে ডাকছে।

আলভী ঠান্ডা গলায় বলে,
— কেউ একজন বলল আর তুমি এসে পড়লে?

— আমি সাবাকে খুঁজছিলাম। ছেলেটা বলায় আমি ভেবেছি সাবা ডাকছে। তাই তো আসলাম।

একটু থেমে নৌশি দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
— এখান থেকে বের হয়ে নেই। তারপর শেয়ালের গু খাওয়াবো ওই কুত্তাটাকে!

আলভী ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
— গালি ছাড়া ভদ্রভাবে কথা বলতে পারো না তুমি?

নৌশি অবাক হয়ে বলে,
— আশ্চর্য! ওই বদমাইশটাকে গালি দিবো না তো কী সালাম দিবো?

আলভী বিরক্ত মুখে বলে,
— মেন্টাল!

নৌশি মনে মনে ফুঁসতে ফুঁসতে বিড়বিড় করে উঠে,
— শয়তান বেডা তুই মেন্টাল। তোর চৌদ্দ গুষ্টি মেন্টাল। আসছে আমাকে মেন্টাল বলতে!

অবশ্য এসব কথা সে মুখের ওপর বলে না। উপরে উপরে কিছুই প্রকাশ না করে ভদ্র মেয়ের মতো চুপ করে থাকে। তাকে মেন্টাল বলা হয়েছে, এটা শুনেও পাল্টা কিছু বলার সাহস হলো না। কারণ এটা আর দশজন সাধারণ মানুষ না। এটা তাদের কলেজের সবচেয়ে ভয়ংকর স্যার, আলভী স্যার। মাত্র দেড় সপ্তাহ হলো কলেজে এসেছে। অথচ এর মধ্যেই পুরো কলেজ কাঁপিয়ে দিয়েছে। কলেজের এমন কেউ নেই, যে আলভী স্যারকে ভয় পায় না। বিশেষ করে ছেলেরা তো আলভী স্যারকে জমের মতো ভয় পায়।

তাই অকারণে জমের সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে নিজের কলেজ লাইফ চাঙ্গা করার কোনো মানে হয় না। নৌশি এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
— আচ্ছা, আমি না হয় বলদ হয়ে এখানে এসে পড়েছি। কিন্তু আপনি এই অন্ধকার ক্লাসরুমে কেন?

আলভী নির্বিকার গলায় বলে,
— আমার প্যান্টের চেইন ছিঁড়ে গেছে! সেটা ঠিক করে এখানে এসেছিলাম।

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠে,
— মিথ্যা কথা!

আলভী এবার নৌশির দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলে,
— চিপায় আসো। প্রমাণ দেই, মিথ্যা বলছি নাকি সত্যিই ছিঁড়া।

কথাটা শুনে নৌশি একেবারে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।কয়েক সেকেন্ড পর নিজেকে সামলে নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— ছিঁড়লো কিভাবে?

আলভী এবার ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
— এটা কোনো যুক্তিসম্মত প্রশ্ন?

নৌশি এবার আর কী বলবে বুঝে উঠতে পারে না। আসলেই তো! কথায় কথায় সে এটা কী পার্সোনাল প্রশ্ন করে ফেলেছে? লজ্জার বিষয়! স্যারের প্যান্টের চেইন কীভাবে ছিঁড়েছে, সেই রহস্য জেনে তার কী লাভ? নৌশি মনে মনে ঠিক করে, এবার মুখটা বন্ধ করা দরকার। নইলে তার মুখ দিয়ে আরো ভয়ংকর কিছু বেরিয়ে যাবে। নিজের মুখটাকে সে নিজেই বিশ্বাস করে না। লজ্জায় আঙুল দিয়ে নিজের ঠোঁট টানতে টানতে নৌশি ভাবতে লাগল, কীভাবে এই রুম থেকে বের হবে?

তখনি আলভী প্রশ্ন করে উঠে,
— সেফটিপিন আছে?

নৌশি ভাবনা থেকে বেরিয়ে মাথা নেড়ে বলে,
— হুম।

— দাও!

নৌশি তার ডান কাঁধ থেকে সেফটিপিনটা খুলে নেয়। তারপর এগিয়ে গিয়ে সেটা আলভীর হাতে দিয়ে আবার হাঁটতে হাঁটতে একটু দূরে গিয়ে মাঝখানে বেশ দূরত্ব মেপে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ পর আলভী লক্ষ্য করে, নৌশি তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আলভী বলে,
— তাকিয়ে আছে কেন? কিছু দেখার ইচ্ছা আছে নাকি!

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলে,
— তওবা তওবা! আল্লাহ আপনার উপর গজব ফালাক!

আলভী নির্বিকার হয়ে বলে,
— তোমার মুখটাই আমার কাছে গজব লাগে!

কথাটা শুনে নৌশি এবার ফুঁসে উঠে। তাকে এত বড় কথা! তার মুখ গজব? কত বড় অকৃতজ্ঞ! নৌশি কোমরে হাত রেখে ঘুরে আলভীর দিকে তাকিয়ে বলে,
— দিন আমার সেফটিপিন দিন! কৃতজ্ঞতা বলতে নেই। এমন একটা উপকার করলাম! আর আমাকেই গজব বলছেন!

আলভী তখন মাত্রই প্যান্টের চেইনের জায়গাটায় সেফটিপিন লাগাতে যাচ্ছিল। সেই মুহূর্তে নৌশিকে ঘুরে তাকাতে দেখে সে থেমে গেল। দাতে দাত পিষে বলে,
— ওদিকে ঘুরো ইডিয়েট!

নৌশিরও মনে পড়ে, সে আবারও একটা লজ্জাজনক কাজ করে ফেলেছে। তাই তাড়াতাড়ি চোখ বন্ধ করে উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলে,
— সরি, সরি। আমি কিছু দেখিনি।

আলভী কঠিন গলায় বলে উঠে,
— খবরদার, পেছন ফিরবে না।

নৌশি আর কোনো উত্তর দেয় না। আলভীও আর কিছু বলে না। আবার নিজের কাজে মন দেয়। সেফটিপিনটা ঠিকমতো লাগানোর চেষ্টা করতে লাগল। এরই মধ্যে নৌশি হঠাৎ ভাবুক হয়ে বলে উঠে,
— আচ্ছা স্যার? ক্লাসরুমে তো সিসিটিভি আছে। এখন প্রিন্সিপাল স্যার যদি বসে বসে আপনার সেফটিপিন মারা দেখে?

আলভী থমকে গেল। বেচারা হতবাক চোখে নৌশির দিকে তাকায়। এই মেয়ে আসলে কী? কীসব বলে! ওর ব্রেইনটা কোন লেভেল পর্যন্ত যায়! নিজের স্যারকে কিনা এসব কথা বলে! তবে কথাটা যে একেবারে ভুল, তাও না। সত্যিই তো প্রতিটা ক্লাসরুমে সিসিটিভি আছে। সত্যিই যদি প্রিন্সিপাল স্যার বসে বসে সবকিছু দেখেন? আলভী এবার অস্বস্তি নিয়ে রুমের চারপাশে চোখ বুলাতে লাগল। আর তখনি তার চোখে পড়ে সিলিংয়ের দিকে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাটা।

আলভীর ভ্রু কুঁচকে গেল। সত্যিই কি প্রিন্সিপাল বসে দেখছেন? সেফটিপিনটা লাগিয়েই বাইরে গিয়ে একবার খোঁজ নিতে হবে। আলভী দ্রুত সেফটিপিনটা লাগানো শেষ করে বলে,
— হুম, হয়েছে। এবার ঘুরতে পারো।

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে ফিরে তাকায়। তারপর বলে,
— স্যার, এবার প্লিজ দরজা খোলেন।

আলভী এবার ক্লাসরুমের সেই কোনার অন্ধকার জায়গা থেকে বেরিয়ে এল। তারপর জানালার কাছে গিয়ে বাইরে তাকিয়ে জোরে বলে উঠে,
— কেউ আছেন এদিকে? দরজাটা খুলেন!

সৌভাগ্যক্রমে তখন সেখানেই কলেজের ঝাড়ুদার ঝাড়ু দিচ্ছিল। আলভীর কণ্ঠ শুনে সে জানালার কাছে এগিয়ে এল। অবাক হয়ে বলে,
— স্যার, আপনে এই বন্ধ রুমে?

আলভী বিরক্ত গলায় বলে,
— কোন ফাজিলে জানি দরজাটা বাইরে দিয়ে লক করে গেছে। তাড়াতাড়ি দরজা খুলো।

ঝাড়ুদার আর দেরি করে না। দ্রুত দরজা খুলে দেয়।
দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই আলভী আর নৌশি দুজনেই ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে এল। কিন্তু দুজনকে একসঙ্গে একটা বন্ধ রুম থেকে বের হতে দেখে ঝাড়ুদার বেশ অবাক হয়ে গেল। তার চোখেমুখেই সেটা স্পষ্ট। আলভী আর নৌশি দুজনেই ব্যাপারটা বুঝতে পারল। তবে কেউই কিছু বলে না। ধরা দেয় না আসল ব্যাপারটা। নৌশি আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ায় না। দ্রুত নিজের ক্লাসরুমের দিকে ছুটে গেল। আর আলভী বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাসায় গিয়ে প্যান্ট বদলে আবার কলেজে আসবে।

আসলে ওয়াশরুমে গিয়েছিল সেখানেই প্যান্টের চেইন ছিঁড়ে গিয়েছে। নৌশি ক্লাসরুমে ঢুকে দেখে, ক্লাস ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আর তার জায়গায় সাবা বসে আছে একেবারে এতিমের মতো মুখ করে। তবে নৌশিকে দেখামাত্রই মেয়েটার যেন প্রাণ ফিরে এল। মুখে খুশির হাসি ঝলঝল করছে। বাংলা স্যার তখন ক্লাস করাচ্ছেন। নৌশি চুপচাপ পেছনের দরজা দিয়ে ক্লাসে ঢুকে সাবার পাশে গিয়ে বসে পড়ে। সাবা ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করে,
— লেইট হলো কেন?

নৌশি আস্তে করে বলে,
— এসেছি সেই কখন!

সাবা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
— এতক্ষণ কোথায় ছিলি?

— পরে বলবো!

তারপর দুজনেই আর কথা বাড়ায় না। মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করতে লাগল। এভাবে দুটো ক্লাস করার পর দুই বান্ধবীই একমত হলো, আজ কলেজ বাঙ্ক দেবে। অবশ্য এটা তাদের জন্য নতুন কিছু না। দুজনেই প্রায়ই এমন করে। তাই বেশি সময় নষ্ট না করে দুজনে কলেজের পেছনের দেওয়াল টপকে কলেজ থেকে বেরিয়ে এল।তারপর কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করে দুজন দুজনের পথ ধরে। সাবা চলে গেল নিজের বাসার উদ্দেশ্যে। আর নৌশি? সে বাসায় ফিরল না। তার গন্তব্য এবার হসপিটাল। হ্যাঁ, রুদ্রিকের হসপিটাল।

নৌশি একটা রিকশায় উঠে বসে। রিকশা চলতে শুরু করে। নৌশি চুপচাপ এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল।
প্রায় বিশ মিনিট পর রিকশাটা হসপিটালের সামনে এসে থামে। নৌশি লাফ দিয়ে রিকশা থেকে নেমে পড়ে। তারপর রিকশাওয়ালাকে বলে,
— মামা, দাঁড়ান। ভেতর থেকে ভাড়া নিয়ে আসছি।

রিকশাওয়ালা সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বলে,
— না মামা, এই রিস্ক নেবো না। যদি ভেতরে গিয়ে আর না আসেন!

— এই মামা! আমাকে দেখলে কি বাটপার লাগে?

রিকশাওয়ালা গম্ভীর মুখে বলে,
— চেহারা দেইখা মামা মানুষ চেনা যায় না।

— আচ্ছা মামা, আমি আপনার ১০০ টাকা ভাড়া মারবো না। এই হসপিটালটা আমার জামাইয়ের। আমি ভেতর থেকে টাকাটা নিয়ে আসি। আমার কাছে টাকা নাই।

— আচ্ছা মামা, তাড়াতাড়ি আয়েন।

নৌশি কাঁধে কলেজ ব্যাগটা নিয়েই হসপিটালের ভেতরের দিকে হাঁটা দেয়। হাঁটতে হাঁটতে হসপিটালের ভেতরে ঢুকে সরাসরি রিসেপশনের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তারপর রিসেপশনিস্টের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— আপনি আমাকে চিনেন?

রিসেপশনিস্ট নৌশির দিকে তাকিয়েই চিনে ফেলে। চিনবে নাই বা কেন? সেদিন নৌশি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর রুদ্রিকই তাকে কোলে করে হসপিটালে নিয়ে এসেছিল। শুধু তাই না, নৌশি যে রুদ্রিকের স্ত্রী, সেদিন পুরো হসপিটালই সেটা জেনে গিয়েছে। তাই রিসেপশনিস্ট মিষ্টি সুরে বলে,
— ইয়েস ম্যাম। রুদ্রিক স্যারের ওয়াইফ আপনি।

নৌশির মুখে সঙ্গে সঙ্গে হাসি ফুটে উঠে। বলে,
— আরে, আপনি তো দেখছি চিনতে পেরেছেন। এখন ৫০০ টাকা দেন!

রিসেপশনিস্ট কিছুটা বিস্মিত হয়ে বলে,
— জি, ম্যাম?

— ৫০০ টাকা দিতেন। রিকশা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। রিকশা ভাড়া দিবো।

রিসেপশনিস্ট এবার পুরোপুরি বিস্মিত হলেও আর কিছু বলে না। ড্রয়ার খুলে সেখান থেকে ৫০০ টাকার একটা নোট বের করে নৌশির হাতে দিয়ে দেয়। নৌশি টাকাটা হাতে নিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলে,
— থাংকুউ।

বলেই সেখান থেকে বেরিয়ে এল। বাইরে এসে রিকশাওয়ালার কাছে গিয়ে ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে দেয়। রিকশাওয়ালা তাকে ৪০০ টাকা ফেরত দেয়। টাকাগুলো নিয়ে নৌশি আবার হসপিটালের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এবার তার গন্তব্য রুদ্রিকের কেবিন। কেবিনের দিকে এগিয়ে যেতে নিতেই হঠাৎ একটা ছেলে এসে তাকে থামিয়ে দেয়। বলে উঠে,
— এই কোথায় যাচ্ছেন?

নৌশি ছেলেটার দিকে তাকাতেই চিনতে পারে। রুদ্রিকের সেক্রেটারি আরাভ। তবে আরাভ প্রথমে নৌশিকে চিনতে পারেনি। তাই ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। কিন্তু ভালো করে নৌশির মুখের দিকে তাকাতেই মুহূর্তের মধ্যে চিনে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে বলে,
— ওহ, সরি ম্যাম। আপনি! আসলে প্রথমে চিনতে পারিনি।

নৌশি স্বাভাবিকভাবে বলে,
— সমস্যা নেই।

আরাভ সঙ্গে সঙ্গে রুদ্রিকের কেবিনের দরজা খুলে দেয়। নৌশি ভেতরে ঢুকে গেল। কেবিনে ঢুকেই তার চোখ আটকে গেল সামনে। রুদ্রিক বসে আছে একটা চেয়ারে।তার চোখ সামনে টেবিলের ওপর রাখা একটা ফাইলের দিকে। দরজা খোলার শব্দও সে শুনেছে নিশ্চয়ই, কিন্তু মাথা তুলে না। ভীষণ মনোযোগ দিয়ে ফাইলটা দেখছে।আসলে সেটা একজন পেশেন্টের ফাইল। নৌশি দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে রুদ্রিকের দিকে তাকিয়ে রইল।

রুদ্রিকের পরনে আকাশী রঙের টি-শার্ট আর আকাশী প্যান্ট। এই হসপিটালের সব ডাক্তারদের জন্যই একই ড্রেস। একই রং, একই ধরনের পোশাক। তার ওপর আবার পরা সাদা এপ্রন। হাতে সিলভার রঙের ঘড়ি। নৌশি কয়েক মুহূর্ত নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল। নিজের অজান্তেই লোকটার প্রতি একটা বড়সড় ক্রাশ খেয়ে বসে। মনে মনে স্বীকার করতে বাধ্য হলো, লোকটা সত্যিই মারাত্মক সুন্দর। রুদ্রিক ফাইল পড়তে পড়তে হঠাৎ খেয়াল করে, রুমটা অস্বাভাবিক রকম চুপচাপ।

কোনো সাড়াশব্দ নেই। সে এবার ফাইল থেকে চোখ তুলে সামনে তাকাতেই থমকে গেল। নৌশি! ও এখানে কেন? কীভাবে এল? ওর তো এই সময়ে কলেজে থাকার কথা। তার ওপর পরনেও কলেজের ড্রেস। তাহলে এখানে এল কীভাবে? রুদ্রিক কয়েক সেকেন্ড অবাক চোখে নৌশির দিকে তাকিয়ে রইল। নৌশি অবশ্য রুদ্রিকের সেই অবাক দৃষ্টি দেখেও একটুও বিচলিত হলো না। বরং নিজেকে আরো একটু গুছিয়ে নিয়ে এমন একটা ভাব করে, যেন এই হসপিটালে আসাটা পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক ঘটনা।

তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে রুদ্রিকের সামনের চেয়ারে বসে পড়ে। সাধারণভাবে বসে না। পা তুলে বেশ আয়েশ করে বসে।

রুদ্রিক ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে,
— তুমি কলেজ বাঙ্ক দিয়ে এখানে এসেছো!

নৌশি মুখের উপর বলে,
— হ্যা।

রুদ্রিক ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
— পড়ালেখায় এমন চুরিচামারি করো দেখেই তো আজ এই অবস্থা তোমার!

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে তীক্ষ্ণ জবাব দেয়,
— তো আপনি পড়ালেখা করে কী তীর মেরে দিয়েছেন?

রুদ্রিক নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে,
— ডাক্তার হয়েছি!

নৌশি দায়সারা গলায় বলে,
— আমার বাপের হসপিটাল হলে আমিও এসএসসি দিয়েই ডাক্তার হয়ে যেতাম।

— বাপের যেহেতু নেই কিন্তু শ্বশুরের তো আছে। হয়ে দেখাও না ডাক্তার!

নৌশি বিরক্তিতে নাক কুঁচকে বলে,
— অসহ্য মানুষ একটা। দ্বিতীয়বার এসেছি আপনার হসপিটালে। কোথায় একটু জিজ্ঞেস করবেন, কী খাবো না খাবো। তা না করে আজাইরা রসিকতা শুরু করেছেন!

রুদ্রিক সঙ্গে সঙ্গে কথাটা সংশোধন করে দেয়,
— দ্বিতীয়বার না। ওটা তৃতীয়বার!

কথাটা শুনেই নৌশির চোখ সামান্য বড় হয়ে গেল। মুখটা হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে এমন। রুদ্রিক স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই তার দিকে তাকিয়ে আছে। সেই দৃষ্টি দেখে নৌশি বুঝে, এই প্রসঙ্গে বেশি কথা বাড়ানো ঠিক হবে না। তাই মুহূর্তেই প্রসঙ্গ বদলে ফেলে।
— উফফ! ক্ষিদে পেয়েছে আমার! কিছু খাওয়ান আমাকে!

রুদ্রিক ভ্রু কুঁচকে বলে,
— এটা হসপিটাল। রেস্টুরেন্ট না।

নৌশি মুখ বাঁকিয়ে বলে,
— হসপিটালে তো ক্যান্টিন আছে। ওখান থেকে এনে খাওয়ান।

রুদ্রিক এবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সেই দৃষ্টি দেখে নৌশি সঙ্গে সঙ্গে নিজের মুখটা একেবারে ইনোসেন্ট করে ফেলে। তারপর মিষ্টি গলায় বলে,
— অনেক ক্ষিদে পেয়েছে। টাকাও দেননি কলেজে যাওয়ার সময়, যে কিছু কিনে খাবো!

নৌশির কথায় রুদ্রিকের দৃষ্টি এবার একটু নরম হলো।
সে নৌশির দিক থেকে চোখ সরিয়ে বলে,
— কী খাবে?

— আমি লাভ বাইট খাবো।

কথাটা শুনেই রুদ্রিক থমকে গেল। চোখ তুলে নৌশির দিকে তাকায়। নৌশি একদম স্বাভাবিক। চেহারায় বিন্দুমাত্র লজ্জা নেই। যেন স্বাভাবিক একটা খাবারের নাম বলেছে।

রুদ্রিক অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে বলে,
— তুমি তো আস্ত একটা লুচ্চা মেয়ে! লজ্জা-শরম একেবারেই নেই।

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা বলে,
— লুচ্চা নাম্বার ওয়ান আপনি! চরিত্র আপনার খারাপ! লজ্জা-শরম আপনার চৌদ্দ গুষ্টির কারোর নেই।

রুদ্রিক চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলে,
— আমার চরিত্র খারাপ? লাভ বাইট কে খেতে চেয়েছে?

নৌশি বিরক্ত মুখে বলে,
— আমি লাভ বাইট কেক খেতে চেয়েছি!

রুদ্রিক থমকে গেল।
— মানে?

নৌশি এবার নিজের কলেজ ব্যাগ থেকে ফোন বের করে। ফোন বের করতেই রুদ্রিক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— তুমি কলেজে ফোন নিয়ে যাও? এলাউ করে কলেজ?

— আরেহ না। চুরি করে নেই।

কথা বলতে বলতেই নৌশি ফোনে দ্রুত কিছু সার্চ করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পেয়েও গেল। সে ফোনটা রুদ্রিকের সামনে ধরে সেখানে থাকা লাভ বাইট কেকের ছবিটা দেখিয়ে বলে,
— মানে, এই কেকটার কথা বলছি। এটার নামই লাভ বাইট! খেতে অনেক মজা! আমি এই কেকটার কথাই বলেছি।

রুদ্রিক ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে ফেলে কেকটার নাম দেখে। লাভ বাইট? এটা একটা কেকের নাম? রুদ্রিক মাথা নিচু করে বিরবির করে বলে,
— শালার কোম্পানি! দুনিয়ায় কি আর কোনো নাম ছিল না? লাভ বাইট রাখা লাগছে?

তারপরই আবার নৌশির দিকে তাকিয়ে বলে,
— আর তোমারও লজ্জা-শরম নেই? এমন নামের কেক ভালো লাগে?!

নৌশি ভেংচি কেটে বলে,
— হ্যা, ভালো লাগে। অনেক মজা লাভ বাইট কেক। এখন আমাকে তাড়াতাড়ি এনে দিন।

রুদ্রিক চুপ করে নৌশির দিকে তাকিয়ে রইল। রুদ্রিকের মাথায় এখন অন্য চিন্তা। সে কীভাবে তার সেক্রেটারিকে ডেকে এনে এই নাম বলবে? নামটাই এমন অস্বস্তিকর! এসব নাম কি সাধারণভাবে এভাবে বলা যায়?

এইসব ভাবনার মাঝেই নৌশি টেবিলে টোকা মেরে বলে,
— তাড়াতাড়ি এনে দিন!

রুদ্রিক আর কিছু না বলে টেবিলের ওপর থাকা একটা বাটনে ক্লিক করে। এটা তার সেক্রেটারিকে ডাকার জন্য রাখা। বাটনে চাপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দরজা খুলে গেল।আরাভ ভেতরে ঢুকে সোজা হয়ে রুদ্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,
— ডেকেছেন স্যার?

রুদ্রিক বলে,
— একটা কেক এনে দাও।

সঙ্গে সঙ্গে নৌশি বলে উঠে,
— একটা না, দশটা।

রুদ্রিক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নৌশির দিকে তাকায়। নৌশি বুঝতে পারে, এভাবে কথা বলায় রুদ্রিক তাকে এমন একটা দৃষ্টি দিয়েছে। কিন্তু তাতে তার কী! সে পাত্তাই দেয় না। রুদ্রিক আবার আরাভের দিকে তাকায়। তারপর পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে একটা এক হাজার টাকার নোট বের করে আরাভের হাতে দিয়ে বলে,
— এই নাও।

আরাভ টাকা নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কী কেক, স্যার?

এবার রুদ্রিক পড়ল চরম অস্বস্তিতে। কী নাম বলবে?
সে একবার নৌশির দিকে তাকায়। ইচ্ছে করছে নৌশিকে দুটো দিতে। তাকে এমন অস্বস্তিতে ফেলে মেয়েটা একদম স্বাভাবিক হয়ে বসে আছে। মেয়েটার চেহারায় বিন্দুমাত্র অস্বস্তি নেই। কিন্তু কিছু করার নেই রুদ্রিককে বলতেই হবে। তাই শেষ পর্যন্ত বলে,
— লাভ বাইট।

আরাভ কথাটা শুনেই বিষম খেল।
— কী স্যার?

রুদ্রিক আরো অস্বস্তিতে পড়ে যায়। তবে সেটা বুঝতে না দিয়ে একটু জোর দিয়ে বলে,
— লাভ বাইট কেক!

যদিও রুদ্রিকের চেহারায় অস্বস্তি ধরা দিচ্ছে। আরাভ অবাক হয়ে বলে,
— এমন নামে কেক?

রুদ্রিক এবার নৌশির দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়,
— আছে বলে!

আরাভ আর কিছু না বলে মাথা নেড়ে জিজ্ঞেস করে,
— আচ্ছা, আর কিছু লাগবে?

রুদ্রিক বলতে যাচ্ছিল না কিন্তু তার আগেই নৌশি বলে উঠে,
— হ্যা, লাগবে!

তারপর এক নিঃশ্বাসে বলা শুরু করে দেয়,
— ২টা লেইস চিপস, ২টা সান চিপস, ২টা কুড়কুড়ে চিপস, ২টা মাটিন চিপস...

বলতে বলতেই নৌশি থেমে গেল। দেখে, আরাভ হা করে তার দিকে তাকিয়ে আছে। নৌশি কপালে ভাজ ফেলে বলে,
— আরে মোবাইলে নোট করুন। নয়ত কোনোটা ভুলে যাবেন।

আরাভ এবার আর কোনো কথা বলে না। মোবাইল বের করে নোট খুলে লিখতে শুরু করে। ২টা লেইস চিপস।
২টা সান চিপস। ২টা কুড়কুড়ে চিপস। ২টা মাটিন চিপস।
১০টা কিটক্যাট। ২টা চকলেট জুস। ৫টা সেন্টার ফ্রুটস।
সাথে একটা বার্গার। একটা স্যান্ডউইচ। একটা পোলারের চকলেট আইসক্রিম। ২টা ক্রিমরোল। ৩টা হানিকম্ব। আর একটা প্রিনকেলস। নৌশি একটার পর একটা বলে চলেছে। লিস্ট শেষই হচ্ছে না। আরাভও বাধ্য ছেলের মতো সবকিছু নোট করে যাচ্ছে। রুদ্রিক নৌশির সেই বিশাল লিস্ট বলার দিকে কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল।

তারপর বিনাবাক্যে আবার মানিব্যাগটা খুলে। সেখান থেকে আরো তিনটা এক হাজার টাকার নোট বের করে। নোটগুলো টেবিলের ওপর রেখে হাত দিয়ে আরাভের দিকে ঠেলে দেয়। নৌশি নির্বিকারভাবে নিজের বিশাল খাবারের তালিকা বলে চলেছে। নৌশির সেই লম্বা খাবারের লিস্ট শুনেই রুদ্রিক বুঝে গিয়েছে, এক হাজার টাকায় এই লিস্টের কিছুই হবে না। আরাভও এত বড় তালিকা শুনে অসহায় চোখে রুদ্রিকের দিকে তাকায়। কিন্তু রুদ্রিক কোনো উত্তর দেয় না। এমন একটা ভাব করে, যে এই বিষয়ে তারও কিছু বলার নেই।

আরাভ আর কথা বাড়ায় না। টাকাগুলো নিয়ে রুদ্রিকের কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। আরাভ বেরিয়ে যেতেই রুদ্রিক নৌশির দিকে তাকিয়ে বলে,
— তুমি মানুষ নাকি জ্বিন?

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়,
— জ্বিন! আশিক জ্বিন!

রুদ্রিক থতমত খেয়ে গেল।
— হ্যা?

নৌশি এবার দুষ্টু হেসে বলে,
— হ্যা, আমি আশিক জ্বিন। আমি আপনার সাথে আশিকি রটাতে এসেছি।

রুদ্রিক স্থির দৃষ্টিতে নৌশির দিকে তাকিয়ে রইল। এই প্রথম তার চোখে রাগ বা বিরক্তির কোনো ছাপ নেই। বরং সেই কঠিন দৃষ্টির জায়গায় নেমে এসেছে একরাশ কোমলতা।সে চুপচাপ দেখতে লাগল মেয়েটাকে। মেয়েটা ভীষণ ছটফটে। প্রাণোচ্ছল। সারাক্ষণই দুষ্টুমিতে ভরা। বয়সের তুলনায় বুঝদারির পরিমাণ খুব একটা বেশি না। তবে দুষ্টুমির দিক থেকে? সে একেবারে মারাত্মক।

হঠাৎ নৌশি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। তারপর জিজ্ঞেস করে,
— ওয়াশরুম নাই?

নৌশির এমন আজব প্রশ্নে রুদ্রিক বিরক্ত হলো। তাই বলে,
— না, আমার হসপিটালে ওয়াশরুম নেই।

নৌশি অবাক হয়ে বলে,
— তাহলে হিসু কোথায় করেন?

রুদ্রিক কয়েক মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। এমন কথা শুনবে, সেটা বোধ হয় কল্পনাতেও ছিল না। পরমুহূর্তেই সে কটমট করে নৌশির দিকে তাকায়। এই মেয়ে কি ভদ্রভাবে কথা বলতে পারে না? কথার কোনো লাগাম নেই কেন? আশ্চর্য ব্যাপার! রুদ্রিক বিরক্ত গলায় বলে,
— তোমার মধ্যে ন্যূনতম ম্যানার্স নেই!

নৌশি এবার একেবারে নির্দোষ মুখ করে বলে,
— আরে, আমার অনেক হিসু চেপে আছে।

রুদ্রিক নিজের রাগটা কোনোমতে চেপে রেখে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে। নৌশির দিক থেকে চোখ সরিয়ে আঙুল তুলে ডান দিকে ইশারা করে বলে,
— রাইট সাইডে।

নৌশি সেদিকে তাকিয়ে দেখে, সেদিকে পর্দা ঝুলছে। বুঝতে পারে, পর্দার পেছনেই ওয়াশরুম। আর দেরি করে না। সেদিকেই এগিয়ে গেল। রুদ্রিক একবার পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে, নৌশি পর্দা সরিয়ে ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকে গেছে। রুদ্রিক আবার নিজের ফাইলের দিকে মনোযোগ দেয়। তখনি টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা বেজে উঠে। রুদ্রিক ফোনটা হাতে তুলে স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে, আননোন নাম্বার। সে কলটা রিসিভ করে বলে,
— হ্যালো?

ওপাশ থেকে ভেসে এল পরিচিত একটা কণ্ঠ,
— হ্যালো ভাইয়া?

কণ্ঠটা শুনেই রুদ্রিক চিনে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যে তার চেহারার ভাব বদলে গেল। কণ্ঠও কর্কশ হয়ে উঠে,
— তুই কল কেন করেছিস? আর তোকে আমি মানা করিনি আমাকে ভাইয়া ডাকতে? তুই যেদিন পালিয়ে গিয়ে আমাদের বাড়ির সম্মান নষ্ট করেছিস, সেদিনই তুই ভাইয়া ডাকার অধিকার হারিয়েছিস!

ওপাশ থেকে এবার উত্তর এল,
— আমি গরিব ছেলেকে পালিয়ে বিয়ে করেছি, তাই বাড়ির সম্মান নষ্ট হয়েছে। আর তুমি যে আমার ভাসুরের ১৭ বছরের মেয়েকে বিয়ে করেছো, এটা কি হাস্যকর না? এটা কি মির্জা বাড়ির সম্মানের জন্য একটা তামাশা না?

কথাটা বলেই থেমে গেল রুমাইরা। ওপাশ থেকে রুদ্রিকের উত্তরের অপেক্ষায় রইল। ফোনটা কানে নিয়েই কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ থাকে রুদ্রিক। তারপর ভারী এবং কঠিন গলায় বলে,
— তোকে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে নুহান আমাদের যে ক্ষতিটা করেছে, সেই ক্ষতির প্রতিশোধ নিতেই ওর ভাতিজিকে বিয়ে করেছি! ভালোবেসে আনিনি তোর ভাসুরের মেয়েকে!

কথাটা শুনেই রুমাইরার গলার স্বর বদলে গেল।
এতক্ষণকার দৃঢ়তা মুহূর্তেই নরম হয়ে এল। কণ্ঠে নেমে এল অনুরোধ।
— এটাই তো ভাইয়া। তুমি তো নৌশিকে ভালোবাসো না। প্লিজ, নৌশিকে তুমি ছেড়ে দাও। ওর তো কোনো দোষ নেই। মির্জা বাড়ির সম্মান নষ্ট করলে আমি আর নুহান করেছি। আয়েশা ভাবি নৌশির চিন্তায় অসুস্থ হয়ে হসপিটালে ভর্তি! আর জাবেদ ভাই তো মেয়ের শোকে কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছে!

রুদ্রিকের ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের একটা ছাপ ফুটে উঠে। গলায় এতক্ষণ জমে থাকা ক্ষোভ এবার স্পষ্ট হয়ে উঠে।
— দুইদিন হয়েছে না বিয়ে করেছিস? এখনই ওই বাড়ির মানুষগুলোর কষ্ট এত বুঝে গেছিস? তোকে হারিয়ে পাপা আর মাম্মি যে কষ্টটা পেয়েছে, সেটা চোখে লাগেনি তোর?

রুমাইরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বুকের ভেতর এতক্ষণ জমে থাকা কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বেরিয়ে এল।
— আমি নুহানকে ভালোবাসি! কিন্তু তোমরা তো ওকে মেনে নাওনি! আমাদের মতো টাকা, নাম, সম্পদ নেই বলে! তো আমার আর কী উপায় ছিল?!

রুদ্রিক এবার কিছুক্ষণ নীরব থাকে। তারপর বেশ শান্ত গলায় বলে,
— তোকে একটা লাস্ট চান্স দেই! তুই নুহানকে ডিভোর্স দিয়ে চলে আয়! আমরা সব ভুলে যাবো! তুই আমাদের কাছে ফিরে আয়। আমি তোর ভাসুরের মেয়েকে ডিভোর্স দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিবো!

কথাগুলো শুনে রুমাইরা এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা করে না। সরাসরি বলে উঠে,
— আমি নুহানকে ছাড়ার জন্য ওর কাছে আসিনি! আমি নুহানকে ভালোবাসি! আমি ওকে কখনো ছাড়বো না।

রুদ্রিকের চোখ দুটো মুহূর্তেই কঠিন হয়ে গেল। তার কণ্ঠও এবার বরফের মতো ঠান্ডা।
— তাহলে তোর লজ্জা থাকলে তুই আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবি না। তারপরও যদি চেষ্টা করিস, তুই কিংবা তোর জামাই কিংবা ভাসুরের পরিবারের কেউ আমাদের সঙ্গে কিংবা নৌশির সঙ্গে যোগাযোগ করার তাহলে আই সোয়ার, কারোর জন্যই ভালো হবে না। বিশেষ করে নুহানের জন্য।

কথাটা শেষ করেই রুদ্রিক ফোনটা কান থেকে নামিয়ে নেয়। এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে কলটা কেটে দেয়।
রাগে তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। মেজাজ এমনিতেই বিগড়ে ছিল। রুমাইরার সঙ্গে এই কথোপকথনের পর সেটা আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেল। অস্থিরতায় পড়নে থাকা এপ্রন টা খুলে চেয়ারের হাতলের ওপর রাখে। তারপর রুদ্রিক শরীরটা চেয়ারে হেলিয়ে দেয়। মাথাটা পেছনে এলিয়ে দেয়। চোখ স্থির হয়ে রইল উপরে ঘুরতে থাকা ফ্যানের দিকে। কিছুক্ষণ সেভাবেই তাকিয়ে রইল রুদ্রিক।

নৌশি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এসে দেখে, রুদ্রিক চেয়ারে মাথা এলিয়ে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছে। দৃশ্যটা দেখে নৌশি চেয়ারের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
— একটা দড়ি এনে দিবো? ঝুলে যাবেন?

নৌশির কণ্ঠ শুনতেই রুদ্রিক মাথা তুলে তাকায়। তারপর তীক্ষ্ণ গলায় বলে,
— এনে দাও। তোমাকে ঝুলিয়ে দেই।

নৌশি ভেংচি কেটে রুদ্রিকের সামনে চেয়ারে বসে পড়ে।
— এতক্ষণ লাগে চিপস-চকলেট আনতে?

রুদ্রিক দৃঢ়তা মেশানো বিরক্ত গলায় বলে,
— মানুষ গেছে আনতে, জ্বিন না। আর অপেক্ষা করতে যদি এতই সমস্যা হয়, তাহলে তুমি জ্বিন চলে যেতে।

নৌশি কিছু একটা ত্যাড়া কথা বলতে যাচ্ছিল। তখনি কেবিনের দরজা খুলে যায়। দুজনেই একসঙ্গে ফিরে তাকায় দরজার দিকে। দেখে, আরাভ দুই হাত ভর্তি করে চারটা ইয়া বড় সাইজের পলিথিন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটা পলিথিন ভর্তি নানা রকমের চিপস, চকলেট আর খাবার। আরাভ ভেতরে এসে সবগুলো পলিথিন রুদ্রিকের টেবিলের ওপর রেখে দেয়। তারপর রুদ্রিককে বলে বেরিয়ে গেল। আরাভ চলে যেতেই নৌশি একে একে পলিথিনগুলো খুলে সবকিছু টেবিলের ওপর ঢালতে শুরু করে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো টেবিলটা চিপস, চকলেট, কেক, বান, সবকিছুর দখলে। রুদ্রিক কপালে ভাঁজ ফেলে নৌশির দিকে তাকিয়ে রইল। চারটা ভর্তি পলিথিনে এতগুলো চিপস-চকলেট! এই মেয়ে এতগুলো খাবে কীভাবে? আবার এগুলো ঢালছে তার টেবিলের উপর টেবিলটা নোংরা করতে।

রুদ্রিক বিরক্ত গলায় বলে,
— এগুলো টেবিলের ওপর ঢাললে কেন? দেখছো না, ফাইল পড়ছি আমি?

নৌশি রুদ্রিকের কথায় পাত্তা না দিয়ে বলে,
— চুপ করুন। দেখে নেই সবগুলো এনেছে কিনা।

রুদ্রিক আর কী করবে! উপায়ন্তর না পেয়ে চুপ হয়ে গেল।ভেতরে ভেতরে তার অসহ্য লাগছে। ইচ্ছে করছে নিজের কপাল নিজেই দেওয়ালে বাড়ি মেরে ভেঙে ফেলতে। কিন্তু সে চুপ করে রইল। নৌশি একে একে সবকিছু মিলিয়ে দেখতে লাগল। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হলো, সবকিছুই এসেছে। এবার তার মুখে স্বস্তির ছাপ ফুটে উঠে। সে লাভ বাইট কেকের প্যাকেট খুলে ফেলে। তারপর প্যাকেটটা কোনো চিন্তা না করেই ছুড়ে দেয় রুমের মাঝখানে। সঙ্গে সঙ্গেই রুদ্রিক চেচিয়ে উঠে,
— নৌশি! এটা আমার কেবিন!

নৌশি নির্বিকার মুখে তাকিয়ে বলে,
— তো আমি কি একবারও বলেছি একটা ভাঙ্গারি দোকান?

রুদ্রিক দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
— প্যাকেটটা তুলে ডাস্টবিনে ফেলো। নয়ত ঘাড় ধাক্কা দিয়ে হসপিটাল থেকে বের করে দিবো।

নৌশি মুখ বাকিয়ে বলে,
— আমার অনেক ক্ষিদে পেয়েছে। খাচ্ছি আমি। আপনি ফেলে দিন ডাস্টবিনে।

রুদ্রিক রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চেয়ার ছেড়ে উঠে গেল।নিজেই প্যাকেটটা তুলে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। তারপর ফিরে এসে চেয়ারে বসতে না বসতেই নৌশি আবার আরেকটা কেকের প্যাকেট ছিঁড়ে ফেলে। এবার প্যাকেটটা গিয়ে পড়ে অন্যদিকে। রুদ্রিক সেটা দেখে বিরক্ত হয়ে বলে,
— সারা রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না ফেলে একটা জায়গায় ফেলো।

নৌশি সরল মুখে জিজ্ঞেস করে,
— তারপর?

রুদ্রিক ভ্রু কুঁচকে বলে,
— কী তারপর?

— তারপর এগুলো ফালাবে কে?

রুদ্রিক নৌশির দিকে তাকিয়ে রইল, মনে হচ্ছে তাকে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে। সেই দৃষ্টি দেখেই নৌশি তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নেয়। তারপর কোনো কথা না বাড়িয়ে আবার নিজের খাওয়ায় মনোযোগ দেয়। রুদ্রিক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা চিপস চকলেটগুলোর দিকে ইশারা করে নৌশিকে বলে,
— এগুলো ব্যাগে ভরে তারপর বাসায় যাও।

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে বলে,
— না, আমি যাবো না বাসায়। বাসায় আমার বোরিং লাগে।

— তাহলে কলেজে যাও। ক্লাস করো!

নৌশি মুখ বাঁকিয়ে বলে,
— না, সেখানে তো আরো বেশি বোরিং লাগে।

রুদ্রিক শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করে,
— তো এখানে ভালো লাগছে?

নৌশি খেতে খেতেই বলে,
— হুমমম। আপাতত তো ভালোই লাগছে।

— হসপিটাল না তোমার ভালো লাগে না?

নৌশি খেতে খেতে উত্তর দেয়,
— আমি এখানে রোগী হয়ে আসিনি। ডক্টরের বউ হয়ে এসেছি।

কথাটা শুনেই রুদ্রিক চুপ হয়ে গেল। সে স্থির দৃষ্টিতে নৌশির দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু নৌশির সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। কথাটা সে এমনিতেই খেতে খেতে বলে ফেলেছে। আর এখনো তার সমস্ত মনোযোগ খাবারের দিকে। রুদ্রিক চুপ করে দেখতে লাগল মেয়েটাকে। ডক্টরের বউ? তার চোখের সামনে নৌশির পুরো অবয়বটা নতুন করে ধরা দেয়। সাদা কলেজ ড্রেসের ওপর নীল ক্রসবেল। চুলগুলো সুন্দর করে বেনী করা। আর সেই মেয়েটা এখন চকলেট খাচ্ছে, একেবারে ছোট্ট কোনো বাচ্চা মেয়ের মতো। রুদ্রিকের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটা সূক্ষ্ম হাসি ফুটে উঠে।

কখন যে তার কাজের কথা, চারপাশের পৃথিবী সবকিছু ভুলে গিয়ে শুধু নৌশির দিকে তাকিয়ে আছে, সে নিজেও জানে না। কেন দেখছে, সেটাও জানে না। শুধু তার মন চাইছে মেয়েটাকে দেখতে। তার বেহায়া চোখ কিছুতেই সরতে চাইছে না। কিন্তু বেশিক্ষণ এভাবে তাকিয়ে থাকতে পারে না রুদ্রিক। হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল, সে কী করছে! কার দিকে তাকিয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গেই চোখ সরিয়ে নেয়। অস্বস্তি নিয়ে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল।

এদিকে নৌশি ততক্ষণে মিনিট দশেকের মধ্যেই স্যান্ডউইচ তিনটা চিপস, দুটো কেক, একটা ক্রিমরোল আর চারটা কিটক্যাট খেয়ে ফেলেছে। পেটও তার ভরে এসেছে।
এখন তার হাতে পাঁচ নম্বর কিটক্যাট।

কিটক্যাট খেতে খেতেই নৌশি খুশি হয়ে বলে,
— উফফ! একটা চকলেট এত মজা হয় কীভাবে?!

রুদিক স্বাভাবিক গলায় বলে,
— এর থেকে মজার চকলেট খাওনি, দেখে কিটক্যাট এত মজার লাগছে!

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে বলে,
— এর চেয়ে মজার কোনো চকলেট আছে নাকি পৃথিবীতে? পৃথিবীর সবচেয়ে মজার চকলেট কিটক্যাট! এটা কোনো মানুষ অপছন্দ করতেই পারে না।

রুদ্রিক শান্ত গলায় বলে,
— রাফেলো চকলেট খেয়েছো?

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে দুইদিকে মাথা নাড়ে। অর্থাৎ না। নৌশির সেই উত্তর দেখে রুদ্রিক হেসে বলে,
— তাই জন্যই কিটক্যাট পৃথিবীর সবচেয়ে মজার চকলেট তোমার কাছে।

নৌশি এবার মুখ বাকিয়ে বলে,
— হয়েছে! খাইনি আর খাবোও না। আমার কাছে কিটক্যাট বেস্ট!

বলেই নৌশি হাতে থাকা কিটক্যাটটাও খেয়ে শেষ করে ফেলে। রুদ্রিক এবার টেবিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
— খাওয়া শেষ হলে এগুলো ব্যাগে রাখো। টেবিলে কোনো ফাইল দেখা যাচ্ছে না তোমার এত খাবারের জ্বালায়।

নৌশি আর কোনো কথা না বলে টেবিলের ওপর থাকা চিপস-চকলেটগুলো নিজের ব্যাগে ঢুকাতে শুরু করে।কিন্তু এত খাবারে ব্যাগটা ফুলে উঠে। তারপরও টেবিলের ওপর প্রায় অর্ধেক চিপস-চকলেট পড়ে রইল। নৌশি এবার চোখ তুলে সামনে তাকাতেই তার নজরে পড়ে সোফার ওপর রাখা রুদ্রিকের মেডিকেল ব্যাগ। সে উঠে গিয়ে ব্যাগটা নিয়ে এল।

রুদ্রিক অবাক হয়ে তাকিয়ে বলে,
— এটা এনেছো কেন?

নৌশি স্বাভাবিক গলায় বলে,
— এটাতে চিপস-চকলেটগুলো ঢুকাবো!

রুদ্রিক হতবাক হয়ে বলে,
— পাগল মেয়ে! মেডিকেল ব্যাগে কেউ চিপস-চকলেট রাখে?

— কেউ না রাখলে না রাখবে। কিন্তু আপনি রাখবেন, কারণ আপনার বউ চিপস-চকলেট পছন্দ করে।

রুদ্রিক বিরক্ত গলায় বলে,
— এতগুলো কিনলে কেন? এখন এগুলো মেডিকেল ব্যাগে ভরছো!

নৌশি ভেংচি মেরে বলে,
— আমার ইচ্ছা।

রুদ্রিক আর কথা বাড়ায় না। সে জানে, এই মেয়ের সঙ্গে যুক্তি করে কোনো লাভ নেই। উল্টো নিজের মেজাজটাই আরো গরম হবে। আর কিছুক্ষণ পরেই তাকে সার্জারি করতে যেতে হবে। তাই এখন কোনোভাবেই মাথা গরম করতে চায় না। রুদ্রিক চুপচাপ বসে রইল। নৌশি নির্বিকারভাবে রুদ্রিকের মেডিকেল ব্যাগে নিজের চিপস-চকলেট ভরতে ব্যস্ত হয়ে গেল।

চলবে?

#তবুও_তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি
#লেখনীতেঃ_অধরা_মিনহা
#পর্ব_৭

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 7 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন