১৪ বছরের মেয়ের সাথে জোর করে বিয়ে দেওয়ায় কবুল বলে বিয়ের আসর ছেড়ে এসেছে শ্রাবণ মির্জা আর এদিকে যেখানে তারপর চাচাতো বোনের বসার কথা ছিলো সেখানে নূর বসে আছে চাচাতো পালিয়ে গিয়েছে শুনে তার চাচা চাচী চাচাতো ভাই দোষাক দিচ্ছে নূর নাকি পালানোর জন্য সাহায্য করছে আর বেচারি কিছুই যানে না রায়হান মির্জা বললেন বিয়ে যেহেতু হয়ছে তাহলে নূর মামুনি এখন আমার ছেলের বউ তো ওকে নিয়ে যাবো নূর বলল চাচা আমি যাবো না তোমরা আমাকে কাজের মেয়ে হিসেবে হলেও রাখো আমি বিয়ে মানি না তবে কে শুনে কার কথা কেও শুনলো না তার চাচা চাচী তাকে রাখতে চায় না সেটা ভালো করেই বুজেছে তারপর সবাই গাড়িতে ওঠলো গ্রাম পার করে শহরের রাস্তায় উঠেছে ( এখানে নায়কার পুরো নাম হলো আরশি নূর) নূরের বাবা মা মারা গেছে তার ৯ বছর থাকতে নূরের দাদি যতদিন ছিলো ততদিন তার চাচা চাচী তাকে আদর করছে দাদি মারা যাবার পর আর তাকে দেখতে পারে না। গাড়ি এসে থামলো মির্জা বাড়ি র সামনে তারপর এক এক করে সবাই নামলো প্রথমে রায়হান মির্জা (নায়কের বাবা) তারপর নাজিয়া মির্জা (নায়কের মা) তারপর মেহের (নায়কের বোন) সর্বশেষ আরশি নূর তাকে রুমে নিয়ে গেলো নূর কে একটা রুম দিলো মেহের বলল : ভাবী তুমি এটায় থাকো আর কিছু রাগলে আমাকে বলবা আমি তোমার পাশের রুমেই আছি নূর মাথা নাড়াল।
রাত ১ এর কাছাকাছি এমন সময় শ্রাবণ আসে বাসায় এসে তারর রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয় আসে তারপর ঘুমায় যায় সবাই ঘুমে বেসতো।
ভোর ৫ টা
নূর ঘুম থেকে উঠে নামাজ পরে শুয়ে থাকে তখনো সবাই আধো ঘুমে হঠাৎ নূর কান্না করে দিলো আর তার মাকে বলছে : আরশি ছবিটা বুকে জড়িয়ে ফিসফিস করে কাঁদছে—
"মা... ও মা... তুমি আমাকে কোথায় রেখে গেলে মা?"
"তুমি না বলতে, আমার রাজপুত্র আসবে? যে আমাকে অনেক ভালোবাসবে? দেখো মা, আমার রাজপুত্র আসেনি। একটা পাষাণ এসেছে "জানো মা, আজ সবাই বলছে আমি অনেক সুন্দর লাগছি। কিন্তু তুমি তো নেই, আমাকে কে বলবে 'আমার মেয়েটাকে পরীর মতো লাগছে'? তোমার আদর ছাড়া আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মা।"
"আমাকে নিয়ে যাও মা... তোমার কাছে নিয়ে যাও। এই জোর করে বিয়ে, এই ঘৃণার সংসার আমি আর নিতে পারছি না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মা, খুব..."
আরশি আর বলতে পারে না। ছবিটা বুকে চেপে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। তার কান্নার শব্দে পুরো খালি ঘরটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। কিন্তু সেই কান্না শোনার মতো কেউ নেই। সকালে সবাই ওঠে খাবার টেবিলে বসে আছে সবাই খাবার খাচ্ছে শ্রাবণ খাওয়া শেষ করে অফিসে গেছে শ্রাবণ দেখছে যে মেয়েটাকে আনছে তার বাসায় তবে কিছু বলেনি মেহের খাওয়া শেষ করে কলেজে গেছে আর রায়হান নাজিয়া ঘরে গেছে যাওয়ার আগে নাজিয়া বলে গিয়েছেন যে তুমিও ঘরে যাও এখন তোমার কিছু করা লাগবে না তবে নূর সব কিছু ধুয়ে তারপর গেছে তার রুমে গিয়ে উপন্যাস এর বই বের করে পড়ল। নূর আনমনে হঠাৎ গেয়ে উঠলো : ওই চাদের টিপে মন ভোলে না মা
দোলনা দোলে মন দোলে না মা
রাতের চোখে ঘুম যে নামে
চাদের পাশে মেঘ যে থামে
রাতের চোখে ঘুম যে নামে
চাদের পাশে মেঘ যে থামে
আমার পাশে নেই তো তুমি মা
তোমায় ছাড়া ঘুম আসে না মা
মাগো তোমায় ছাড়া ঘুম আসে না মা।
নূর : মা তুমি এখন বুঝি মা ছাড়া মানুষ কেমন মা আমায় একটা রেখে কেনো গেলে বাবা ও তো চইলা গেলো তুমি গেলা আমাকে কেও ভালোবাসে না মা আমায় নিয়া গেলা না কেন আমি যে ভালো নেই না।
বিকাল ৪ টা বাজে
মেহের আসলো কলেজ থেকে সোজা চলে গেছে নূরের ঘরে ভাবী ও ভাবী নূর : দরজা খুলা আছে ঘরে আসো, আচ্ছা ভাবী, ভাবী তুমি কান্না করছিলা তোমার চোখ ফুলে গেছে, কই না তো আচ্ছা তোমার নাম কি, ভাবী আমার নাম মেহের মির্জা আর তোমার নাম কি, ওহ আমার নাম আরশি নূর, ও আচ্ছা দারাও ভাবী ফ্রেশ হয় আসতাছি একসাথে গল্প করব, আচ্ছা তারপর মেহের গেলো তার মার কাছে রায়হান মির্জা একটু বাহিরে গেছে কাজে, মা আসবো, আস, মা তুমি কি জানো ভাবীর বাবা মা নেই, হ্যা জানি মেয়েটার চাচা চাচী ওকে কাজে মেয়ে হিসেবে রাখছে মেহের : মা একটা কথা বলি আমার কথাটা রাখবা, আচ্ছা বল মেহের : মা তুমি যেমন আমাকে অনেক আদর করো আমি তোমার মেয়ে তুমি আমার মতো ভাবী কেও এমন আদর কইরো এটা তোমার কাছে আমার অনুরোধ না কইরো না ভাবীকে দেখলাম কাদলো, আচ্ছা মা তুই যা ফ্রেশ হয় আয় আমি একটু নূরের ঘরে যাই, আচ্ছা মা।
নূর আসবো, হ্যা হ্যা আসুন আন্টি, আমি কি এখনো মা হতে পারিনি তোমার কাছে, কি বলেন মা আপনাকে আমি আমার মা মনে করি আচ্ছা এখন থেকে আমাকে মা বলে ডাকবে কেমন, আচ্ছা মা, মা আমার একটা কথা ছিলো আপনি আনাকে তুই করে বইল্লেন, তা বলে নূর নাজিয়া কে জরায় ধরে কান্না করে দিলো আর বলল : আমার মা নেই কিন্তু আরেকটা মা পাইছি যানেন মা আমার না খুব কস্ট হয় আমার মা আমাকে বলছিলো যে তুই স্কুলে যা এসে দেখবি আমি তোর জন্য বিরিয়ানি রান্না করে রাখবো আমি বলছি, আচ্ছা মা আমি স্কুল থেকে আসলে আমাকে তুমি খাওয়ায় দিাব, ারপর স্কুল থেকে আসার পর আর নার াতে খাইতে পারিনি মা আমাকে রেখে চলে গেলো আমি কি করছি আমারে একলা রাইখা গেলো, মা কাদে না চুপ কর এইযে আমি আছি না আমাকে মা বলবি আর শুন কালকের থেকে কলেজে যাবি তুই মেহের এক সাথে পড়াশোনা করবি, সত্যি মা আচ্ছা মা, আচ্ছা আমি নিচে গেলাম খেতে আস, আচ্ছা তারপর দুজন গেলো খেতে মেহের: ভাবী তুমি আমাকে তুই করে বইল্লো, আচ্ছা মা আপনি খেতে বসেন, দারা তোরা খা, না বসেন, আচ্ছা তারপর তিনজন মিলে একসাথে খেয়ে ওঠলো মেহের আর নূর একসাথে তারা গল্প করছে, আচ্ছা ভাবী তোমার কি পছন্দ, আমার ফুসকা অনেক পছন্দ, ও আচ্ছা আমারও তো চলো ফুসকা খেতে যাই আচ্ছা চল, কিন্তু মা তো যাইতে দিবে না, আরে আয় তে মেহের মাকে বলছি আমি, মা আমাদের ফুসকা খেতে যেতে দিবেন, না না একলা একলা ছাড়বো না দেন ান মা, আচ্ছা যা তারাতাড়ি আসবি, আচ্ছা মা তারপর দুজন বাইর হলো ফুসকা খেতে সামনে গিয়ে একটা ফুসকা দোকান দেখে নূর বল্লো মেহের চল তারপর দুই প্লেট ফুসকা নিয়ে খেতে লাগলো এমন সময়, ভাবীীীব, কি হইলো ভাবী ভাইয়া আমাদের দিকে আসতেছে, ক কি কস আল্লাহ, শ্রাবণ : কিরে মেহের এখানে কি করিস, আস আসলে ভাইয়া ফুসকা খেতে৷ আসছি শ্রাবণ রেগে গেলো চোখ লাল তারপর কোনো কথা ছাড়া মেহেরকে একটা থাপ্পড় মারল পিছ থেকে নূর বল্লো আরে কি করছেন : ওকে মারলেন কেন শ্রাবণ রেগে বল্লো এখন কি তোমাকে মারবো।