ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণ কোমল

২৬তম পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরান হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরিণীতা_আরা_হৃৎ

#পর্ব_২৬

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🤍

খুব সকাল করে ঘুম ভাঙলো কোমলের। ঘুম থেকে উঠে টের পেলো ও কিয়ানের উপরে ওর বুকে শুয়ে রয়েছে। আস্তে আস্তে মনে পরতে লাগলো ওর করা ঘটনা। ওই সিসিটার জন্য ও অনেক হাইপার হয়ে গিয়েছিলো। ওকে কিয়ান একটা ইনজেকশন দিয়েছিলো আর ও তাতে জ্ঞান হারিয়েছিল। এটা ওর মাথায় ঢুকছে না সামান্য চকলেটের জন্য ও এমন করেছে। এটা তো শুধু একটু কষ্ট কম পাওয়ার জন্য খেতো ও। সেটার জন্য এমন পাগলামি করছিলো?

আশেপাশে তাঁকিয়ে চোঁখ কপাল কুঁচকে গেলো ওর। দেখেই বুঝতে পারলো এটা ওদের বেড রুম নয়। তাহলে কোথায় আছে ওরা এখন? আরেকটু ভালো মতো তাকিয়ে দেখলো ছোট একটা কামরার মতো। দেখে একটা কোনো যানবাহনের কেবিনের মতো লাগছে। কিয়ান একটা সিটের উপরে শুয়ে আছে আর ও কিয়ানের উপরে। ওদের অপজিটে আরেকটা সিট খালি পরে আছে। মাঝে একটা টি টেবিল পাতা। তাতে কিছু শুকনো খাবার, স্ন্যাকস আর ড্রিংকস রয়েছে। কেবিনের চারপাশে ভারী লাল পর্দা টানানো। ও ঠিক বুঝতে পারলো না ওরা কোথায় আছে।

কোমল আবার ঘুমিয়ে পরলো কিয়ানের বুকে। এখন ওর এতো তাড়া নেই জানার যে ওরা এখন ঠিক কোথায় রয়েছে। তবে ঘুমাতে পারলো না কোমল। মাথায় এসে আবার হানা দিলো আচ্ছা ওরা অন্য কোনো কান্ট্রিতে যাচ্ছে না তো? নাকি ওরা এখন কোনো ট্রেনের কেবিনে রয়েছে? কোথায় রয়েছে ওরা এখন।

কিয়ানের উপর থেকে উঠে দাড়ালো কোমল। খালি পায়ে পায়ের নিচে স্পষ্ট ঠান্ডা ধাতব মেঝের উপস্থিতি টের পেল। একবার ভাবলো পর্দা গুলো সরিয়ে দেখে বোঝার চেষ্টা করবে আরেকবার ভাবলো নাহ্ থাক কিয়ানকে আগে ডেকে তুলি। যেই ভাবা সেই কাজ। হাঁটু মুড়ে কিয়ানের মাথার কাছে বসলো কোমল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। একবার নাম ধরে ডাকতে গিয়েও মাথায় কিছু আসাতে সেটা করলো না। উল্টো ঘুমন্ত কিয়ানের গালে ঠাস করে একটা থাপ্পড় মারলো কোমল। ঘুমন্ত অবস্থায় গালে এহেন থাপ্পড় খাওয়ায় ধরফরিয়ে ঘুম থেকে উঠে বসে পরলো কিয়ান। হুট করে এমন হওয়ায় আজগুবি কথা বলতে লাগলো,

“কে কে? কোথায়?”

আশে পাশে চোখ বুলিয়ে দেখতে পেলো কোমল ওর দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসছে। বুঝে গেলো ওর বউয়ের হাতের থাপ্পড় খেয়ে সকালের ঘুম ভেঙেছে ওর। গালে হাত দিয়ে মুখ কাদো কাদো করে বলল,

“মারলে কেনো বউ?”

কোমল মেঝে ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। কোমরে হাত বেঁধে কিছুটা মিছি মিছি রাগের ভান ধরে বলল,

“কোথায় নিয়ে এসেছো তুমি আমাকে?”

“কালকে আমার সাথে যা কিছু করেছো তার জন্য তোমাকে যে এখনও এখন থেকে ফেলে দেইনি এটা তোমার কপাল।”

কিয়ান কথা বলতে বলতে কোমলের এক হাত ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো। কোমলকে নিজের কোলে বসালো। কোমলের পিঠ কিয়ানের বুকের সাথে লেগে রয়েছে।

কোমলের কাঁধে নিজের থুতনি ঠেকিয়ে এক হাতে ওর কোমর জড়িয়ে ধরলো। অন্য হাত বাড়িয়ে একটা রশির মতো কিছু টেনে দিলো। আস্তে আস্তে লাল পর্দা সরে উন্মোচিত হলো বাহিরের স্নিগ্ধ পরিবেশ। কোমলের মুখ হা হয়ে গেলো বাহিরের পরিবেশ দেখে। মুখের উপর হাত চলে গেলো ওর। বিস্ময়ে চোঁখ দুটো বড় বড় হয়ে গেলো।

ওর চারপাশে কাঁচের দেয়াল বেষ্টিত। কিয়ানের কোল ছেড়ে উঠে দাড়ালো কোমল। দুই তিন পা হেঁটে কাঁচের দেয়ালেরসামনে এসে দাড়ালো। দুই হাঁটু ভাঁজ করে সেখানে বসে পরলো। কাঁচের দেয়ালে এক হাত রাখতেই শিরশির করে উঠলো ওর পুরো শরীর। কাঁচের দেয়াল ঠান্ডা হয়ে রয়েছে। কোমলের দৃষ্টি তখনও বাহিরে নিবদ্ধ। চারপাশে কুয়াশায় ঘেরা। খুব বেশি দূর পর্যন্ত কিছু স্পষ্ট নয়। আদতে এগুলো কুয়াশা নাকি মেঘ তাও বোঝা মুশকিল। কেনোনা নিচে কোনো কিছুই দৃষ্টি গোচর হচ্ছে না ওর।

হাসপাতাল থেকে একবারেই কোমলকে এখানে নিয়ে এসেছে কিয়ান। ভ্রমণের জন্য জার্মানির সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ জুগস্পিটজ সেরা একটি স্পট। জুগস্পিটজ ক্যাবল কারে বর্তমান অবস্থান ওদের।

একটা পুরুষালী হাত কোমলের কোমর জড়িয়ে ধরে ওর ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিলো। স্পষ্টত কেঁপে উঠলো কোমল। ওর কোমর জড়ানো হাতের উপর নিজের এক হাত রেখে জিজ্ঞেস করলো,

“এটা কোন জায়গা কিয়ান? আমরা কোথায় আছি এখন?”

কিয়ান ওর কাঁধে ছোট একটা চুমু দিয়ে বলল,

“জুগস্পিটজ ক্যাবল কার।”

কোমল উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল,

“জানো…”

কিয়ান ওর ঘাড় থেকে মুখ তুলে ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলল,

“না বললে জানবো কিভাবে?”

“আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো এখানে ঘুরতে আসার। ফাইনালি তোমার জন্য ছলে আসলাম। থ্যাংকস হাজবেন্ড।”

“আমার তো থ্যাংকস এ চলবে না।”

“তাহলে কি চাই তোমার?”

“গিফট।”

কোমল সামান্য হেঁসে বলল,

“আমিই তো তোমার গিফট।”

কিয়ান ওর উত্তরে বাকা হেঁসে বলল,

“তাহলে চলো আনবক্সিং করি।”

কোমল হাতের কনুই দিয়ে কিয়ানের পেটে গুতো দিয়ে ছিটকে ওর থেকে দূরে সরে গেলো।

“পাগল তুমি? এটা কি আমি নামক গিফট আনবক্সিং করার জায়গা বলো? কেউ দেখে নিলে!”

কিয়ান ক্যাবল কারের পর্দা টেনে দিয়ে ওর দিকে এগোতে এগোতে বলল,

“এবার কেউ দেখবে না জান।”

কিয়ানকে ওর দিকে এভাবে এগোতে দেখে কোমলও এক পা দু পা করে পিছিয়ে যেতে লাগলো।

“দে.. দেখো কিয়ান। এটা কিন্তু ঠিক না।”

“হোয়াই নট বেবী?”

পিছিয়ে যেতে গিয়ে সিটের সাথে ধাক্কা খেয়ে সিটের উপরে পরে গেলো কোমল। কিয়ান এগিয়ে এসে ওর উপরে হালকা ঝুঁকে ওর কানে ফিসফিস করে বলল,

“ডক্টর মালিথা কি বলেছে জানো?”

ডক্টর মালিথার কথা শুনে কিয়ানের দিকে প্রশ্ন সূচক দৃষ্টিতে তাকালো কোমল। কিয়ান কোমলের কপালের পাশ থেকে চুল নিয়ে আঙুলে পেচাতে পেচাতে বলল,

“খুব দ্রুত একটা বেবি নিতে। তাহলে…”

কোমল কিয়ানের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,

“তাহলে?”

কিয়ান কোমলের চোখের দিকে নিজের চোখ রেখে বলল,

“তাহলে নাকি তুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে।”

কোমল কিয়ানের বুকে একটা কিল বসিয়ে দিলো। দুহাতে ওকে নিজের উপর থেকে ঠেলে সরাতে চেয়ে বলল,

“মিথ্যুক! মিথ্যা বলার আর জায়গা পাওনা তাইনা?”

কোমল কিয়ানকে ঠেলে সরাতে তো পারলোই না উল্টো কিয়ান কোমলের দুই হাত নিজের এক হাতের মুঠে নিয়ে ওর মাথার উপরে তুলে ধরে বলল,

“তোমার কি একবার ভেবে দেখা উচিত না বলো? আমাদের একটা ছোট্ট মিষ্টি রাজকন্যা আসলে কতো মজা হবে। ওকে একসাথে আমাদের মাঝে নিয়ে ঘুমাবো। চকলেট, আইসক্রিম খাওয়ার জন্য আমাকে বলবে ‘ পাপা আমাকে আইতত্রিম এনে দাও’ ইস কত সুন্দর করে বলবে। তোমাকে বলবে ‘ম্যাম্মা আমাকে তুলে নাও’ ‘আমাকে তাইয়ে দাও’। কতো সুন্দর হবে বলো?”

কোমল কিছুটা তুতলিয়ে বলল,

“দে..দেখো…”

“দেখাও…দেখার জন্যই তো ওয়েট করছি।”

“আমার অবস্থা একবার ভাবো। আমি এমনিতেই সুস্থ নই। যদি বাবুকে আঘাত করে ফেলি? তখন যে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। অনেক কষ্ট পাবো আমি। সাথে তুমিও।”

“মা যতোই অসুস্থ হোক না কেনো তার বাচ্চাকে কখনো আঘাত করতে পারে না। আমার বিশ্বাস একটা বাচ্চাই পারবে তোমাকে সুস্থ করে তুলতে। বাচ্চার কথা চিন্তা করে তুমি আরো তাড়া তাড়ি রিকোভার করবে।”

“তুমি…”

“হ্যাঁ..আমি শুধু তোমার ভালোর জন্যই এখন একটা বেবি চাইছি। প্লীজ না করো না। তোমাকে এভাবে দেখলে আমার কষ্ট লাগে বুকে খুব।”

#চলবে

[ স্পয়লারের কথা মনে আছে? সরি সকলকে। ইদানিং আমি খুব ব্যস্ত থাকায় লিখতে পারছি না। চেষ্টা করবো পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দেয়ার। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন