#প্রিয়_অক্টোবর
#সাদিয়া_তাসনিম
৯.
মইনুল শেখ সহ সকলের এমন বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে আরাবীর অনেক মায়া হলো। সকলের মাথা ভরা দুশ্চিন্তা, ভয়, আর ক্লান্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আরাবী নিবিড় মনোযোগে তাদেরকে একটিবার দেখে নিলো। তার বড্ড মায়া হলো। সে জানে নিজের শরীরেরও রক্তের ঘাটতি আছে কিন্তু লোকটাকে বাঁচানো বেশি জরুরি। হুট করে অপ্রত্যাশিত ভাবে বলা আরাবীর কথাগুলো শুনে সবাই তার দিকে তাকাল। ভোর বেলার প্রথম সূর্যকিরণ যেমন নতুন সকালের আশা দেখায়, মইনুল শেখের চোখেও তেমন আশা দেখা গেলো। মেয়ে দুইটার প্রতি অজান্তেই তার ভালোবাসা গভীর হলো। সাদমান চোখ তুলে মেয়েটার দিকে তাকাল। আরাবী লোকটাকে নিজের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে অপ্রস্তুত হলো। আরাবী নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নিল। ডাক্তার ঘাড় ঘুরিয়ে আরাবীকে দেখলো। তিনি চোখ সরু করে আরাবীকে দেখছে। তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে গমগমে সুরে বলল,
‘ ঠিক আছে, তাহলে আমরা এখনই তোমার ব্লাড টেস্ট করে নিই। যদি সব ঠিক থাকে তাহলে রক্ত নেওয়া শুরু করব। তুমি আমার সাথে এসো। ’
ফারাবী আসমা শেখের মাথা নিজের কাঁধের উপর নিয়ে নিঃশব্দে বোনকে দেখতে লাগলো। । মইনুল শেখ এগিয়ে এসে আরাবীর সামনে দাঁড়ালেন। তার চোখ দু'টো ভিজে উঠেছে। তিনি আরাবীকে উদ্দেশ্য করে কৃতজ্ঞতার সুরে বলল,
‘মা, তোমাদের দুইজনের এতো ঋণ আমি কীভাবে শোধ করবো? আজ তোমরা না থাকলে...’
মইনুল শেখকে কথা বলতে বলতে প্রায় নিজের দিকে ঝুঁকে যেতে দেখে আরাবী হকচকিয়ে উঠল। সে উল্টো মাথা নিচু করে বলল,
‘ আঙ্কেল,এসব কি করছেন? আমরা আপনার মেয়ের বয়সী, দয়া করে এসব করবেন না। পারলে একটু মন খুলে আমাদের দুই বোনের জন্য দোয়া করে দিন।’
এমন সময়ে সাদমানও আরাবীর কাছে এগিয়ে এল। সে আরাবীর দিকে তাকিয়ে আছে। আরাবী সাদমানের দিকে তাকাল না। সে মাথা নিচু করে রইল। এবার একজন নার্স এসে আরাবীকে ভেতরে নিয়ে চলে গেল।ভেতরে নিয়ে গিয়ে আরাবীকে একটা বেডে শোয়ানো হলো। কিছুক্ষণ পরে একজন নার্স এসে তার হাতে সূঁচ ফোটালো। হাতটা চিনচিন করে উঠল। আরাবী ব্যথায় না বরং ভয়ে নিজের চোখটা বন্ধ করে সোজা হয়ে শুয়ে রইলো । ঠান্ডা ঠান্ডা নিরুত্তাপ পরিবেশ আরাবী শুয়ে রইল।
‘অস্বস্তি লাগছে কোন? শরীর চিনচিন করছে?’ নার্স জিজ্ঞেস করল।
‘না, আমি ঠিক আছি।’
আরাবী চোখ না প্রত্যুত্তর করল।
তার শরীর থেকে রক্ত বের হতে শুরু করল। লাল তরল রক্ত ধীরে-ধীরে একটা ব্যাগে জমা হতে লাগল। আরাবী চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইল। সামান্য একটু রক্ত দেখলে ভয়ে গুটিসুটি মেরে যাওয়া,উত্তেজিত হয়ে যাওয়া মেয়েটা অন্যের উপকারের আশায় চুপচাপ চোখ খিঁচে শুয়ে রইল। প্রায় চল্লিশ মিনিট কেটে গেল। রক্ত দেওয়া শেষ হল। নার্স এসে আরাবী হাত থেকে সূঁচটা খুলে হাতে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিল।
‘দুই মিনিট শুয়ে থেকে ধীরে ধীরে উঠবেন, তাড়াহুড়ো করবেন না ।’ নার্স রক্তের ব্যাগটা হাতে তুলে নিতে-নিতে বলল।
বাইরে সবাই আরাবী জন্য অপেক্ষা করছে। আসমা শেখের জ্ঞান ফিরেছে, তিনি বসে আছেন। আবার মাঝে-মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ কেঁদে উঠছেন। ফারাবী পায়চারি করছে। সাফওয়ান আর সাদমান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সাজিদ আর সাহাদ আম্মুর পাশে বসে আছে। মইনুল শেখ করিম সাহেবের সাথে কথা বলছেন। এমন সময়ে নার্সের সাথে হাসি মুখে ভেতর থেকে আরাবী বের হয়ে আসল। মেয়েটার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে আছে, হাতে ব্যান্ডেজ।ফারাবী দৌড়ে বোনের কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
‘ আপু ঠিক আছিস তুই?শরীরটা কী দুর্বল লাগছে?’
‘চিন্তা করিস না বোন, তেমন কিছু হচ্ছে না।আমি ঠিক আছি।’
আরাবী স্নেহ ভরে বোনের পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল। আরাবীকে দেখে আসমা শেখ উঠে দাঁড়ালেন। তিনি ফারাবীদের কাছে এগিয়ে এলেন। তার পা টলছে। মায়ের এমন অবস্থা দেখে সাদমান এগিয়ে এসে মাকে ধরল। আসমা শেখ আরাবীর সামনে এসে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি হুট করে আরাবীকে জড়িয়ে ধরলেন।
‘তোর ঋণ আমি কী করে শোধ করবো মা?’ আসমা শেখ তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন। সে আসমা শেখকে জড়িয়ে ধরল।
‘আন্টি, আপনি কাঁদবেন না প্লিজ, দেখবেন আপনার ছেলে তাড়াতাড়িই সুস্থ হয়ে যাবে। আর ঋণের কথা বলছেন না,এই যে আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এতেই আমাদের ঋণ শোধ হয়ে গেলো।’
আসমা শেখ আরাবীকে মুক্ত করে তার কপালে চুমু খেল। তারপর তার দুই গালে চুমু খেল। ফারাবী ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে সবটা দেখতে লাগল। আসমা শেখ ফারাবীর কাছে এগিয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো।
‘তোমরা আমার মেয়ের মতো মা। দোয়া করি তোমরা সবসময় সুখে থেকো, ভালো থেকো।’
মইনুল শেখও এগিয়ে আসল। তিনি মলিন মুখে বলল,
‘ ধন্যবাদ মা আমার ছেলেটাকে এখানে আনার জন্য। ’
‘ না আঙ্কেল, ধন্যবাদ আমাদের দিয়ে না। সবই করিম চাচা জন্য হয়েছে। সব ক্রেডিট করিম চাচার। চাচা লোকটাকে না দেখলে, গাড়ি না থামালে, আজ ওনাকে এখানে আনাই হতো না।’
ফারাবী হেসে মিষ্টি করে প্রত্যুত্তর করল। মইনুল শেখ করিম সাহেবের দিকে তাকালেন। তিনি করিম সাহেবকে জড়িয়ে ধরলেন।
‘ ধন্যবাদ ভাই। ’
কিছুক্ষণ পরে ডাক্তার বেরিয়ে এলেন। মইনুল শেখ সেটা দেখে দ্রুত ডাক্তারের কাছে গেলেন।
‘ডাক্তার আমার ছেলে কেমন আছে?’ মইনুল শেখের স্বরনালী বিষন্ন, বেদনা মিশ্রিত।
‘চিন্তা করবেন না। রোগীর অবস্থা এখন স্ট্যাবল। রক্ত দেওয়ার পরে তার অবস্থা অনেক ভালো হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা এখনো তাকে আইসিইউতে রাখব, আশা করছি সে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে।’
কথাটা শুনে সকলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। আসমা শেখ দুই হাত জোড় করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন। মইনুল শেখও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
‘আমরা ওকে এখন দেখতে পারব?’ সাফওয়ান এগিয়ে এসে চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করল।
‘হ্যাঁ,একটু পরে দেখা করা যাবে তবে একবারে দুইজনের বেশি যাবেন না আর বেশিক্ষণ থাকবেনও না। রোগীর এখন বিশ্রাম দরকার।’
কাঠখোট্টা স্বভাবের সাফওয়ান ফারাবীদের দিকে এগিয়ে আসল৷ গুমোট, গাম্ভীর্যতায় ছড়াছড়ি এই করিডোরের সাফওয়ানের নরম গলার স্বর শোনা গেলো।
‘বোন তোমাদের ধন্যবাদ দিয়ে ছোট্ট করবো না, তবে তোমরা দুজনে আজ আমাদের জন্য যা করলে তার ঋণটুকু সারাজীবনেও শোধ করতে পারবো না।’
‘ভাইয়া এভাবে বলেন না। আঙ্কেল, আন্টিও একই কথা বলছে। আমাদের আর লজ্জা দিবেন না। ’
ফারাবী কথা শুনে সাফওয়ান উল্টো ফারাবীর মাথায় হাত রেখে বলল,
‘এই ঋণ শোধ করার সময় আসলে আমি ঠিকই শোধ করে দিব বোন।’
আরাবী খানিক নরম কণ্ঠেই বলল, ‘বোন বলে ডাকছেন আবার ঋণ শোধের কথাও বলছেন এটা কিন্তু ঠিক না ভাইয়া।’
সাফওয়ান কথাটা শুনে বিনয়ের সাথে হাসল। তার ফোনটা বেজে উঠল। সে চোখ সরিয়ে কলটা রিসিভ করে অন্যপাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
কিছুক্ষণ পরে সায়ানের সাথে দেখা করতে প্রথমেই আসমা শেখ আর মইনুল শেখ প্রথমে গেলেন। তারা আইসিইউতে ঢুকতেই ঠোঁটে-ঠোঁট চেপে নিলেন। সায়ান বেডে শুয়ে আছে,পাশেই মনিটর। মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ। হাতে আইভি লাইন। হাতেও ব্যান্ডেজ, ছেলেটা শ্বাস নিচ্ছে। ওর বুকটা আস্তে-আস্তে ওঠানামা করছে। আসমা শেখ ছেলে কাছে গিয়ে ছেলের হাতটা ধরলেন। কপালের কাছের মুখ এনে মুখের চারপাশে আলতো করে অজস্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চুমু দিলেন। মইনুল শেখ সায়ানের কপালে হাত রেখে ছেলেটাকে দেখতে লাগলেন। তারা দুইজনেই কিছু বলল না,শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়ল। কয়েক মিনিট পরে মইনুল শেখ আসমা শেখকে বুঝিয়ে শুনিয়ে নিয়ে বেরিয়ে এল। এবার সাফওয়ান আর সাদমান গেল। তারপর সাজিদ আর সাহাদও। সবাই বেরিয়ে এল। আসমা শেখ এসে ফারাবী আর আরাবীর পাশে বসল। তিনি দুজনের হাত ধরে বসে রইল।
‘তোমরা বাসা কোথায় মা?’
‘গুলশানে আন্টি।’
ফারাবী ধীরস্বরে ছোট্ট করে উত্তর দিল।
তারা কথা বলছিলো এমন সময়ে ফারাবীর ফোনটা বেজে উঠল। ফারাবী দেখলো তার বাবা কল করেছে। সে আরাবীকে সেটা দেখালো। ঘড়ির কাঁটায় নজর যেতেই দুজনে চমকে একে অপরের দিকে তাকাল। তারপর ফারাবী আর আরাবী দুইজনই একসাথে উঠে দাঁড়াল। বিনয়ের সাথে বলল,
‘ আঙ্কেল আমরা এখন যাই। বাবা বারবার কল দিচ্ছে। ’
‘এত রাতে একা যাবে?দাঁড়াও সাফওয়ানকে বলি ও তোমাদের দিয়ে আসুক না হয়।’ মইনুল শেখ চিন্তিত গলায় বলল।
‘তার কোনো দরকার নেই আঙ্কেল করিম চাচা আছেন তো। তিনি আমাদের ঘরেরই লোক, চিন্তা করবেন না।’
আরাবী করিম চাচার দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলল। করিম চাচা আরাবীকে নিজেদের ঘরের লোক বলায় সেও এক অমায়িক হাসি দিল।
‘ আবার আসবে তো তোমরা?’
আসমা শেখ ফারাবীর মুখে হাত বুলিয়ে হুট করেই বলে উঠলো। ফারাবী থতমত খেলো। ছোট্ট করে বলল,
‘ জি, অবশ্যই। উনি একটু সুস্থ হলে দেখতে আসব। ’
আরাবী তাদের দুজনের কথা শুনে চুপ করে রইল। সে সামনের দিকে পা বাড়াতে যাবে কিন্তু হুট করে তার মাথাটা ঘুরে উঠল। রক্ত দেওয়ার ফলে হয়তো তার শরীরটা দুর্বল হয়ে গেছে। সে টলে গেল। সাদমান সেটা লক্ষ্য করল। সে দ্রুত এগিয়ে এসে আরাবীকে ধরে ফেলল।
‘ঠিক আছেন আপনি।’ সকলে সামনের দিকে তাকাল৷আরাবী সাদমানের হাতে ভর দিয়ে নিজেকে সামলাল।
‘ জি ঠিক আছি। ’
আরাবী যখন দেখলো সাদমানের হাত তার কোমরে তখন সে দূরে সরে গেলো। বিষয়টা সাদমানও বুঝতে পারল। দুজনেই একটু ইতস্তত বোধ করল। সাদমান আস্তে আস্তে আরাবীর হাতটাও ছেড়ে দিল। আরাবী বেশ লজ্জা পেল। সে চোখ নিচু করে রইল। ফারাবী এগিয়ে এসে বোনের হাত ধরে বলল, ‘ চল আপু, আমি আছি আর পড়বি না। ’
উপস্থিত সবাইকে বিদায় জানিয়ে ফারাবী আর আরাবী বেরিয়ে গেল। তারা গাড়িতে গিয়ে উঠল।
.....
ড্রয়িং রুমে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে ফারাবী আর আরাবী। আলাউদ্দিন চৌধুরী তাদের সামনে নিশ্চল চাহনি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সোহেল পায়ের উপর পা তুলে আপেল খাচ্ছে আর বোনদের দেখছে; তার দৃষ্টির কোনো নড়াচড়া হচ্ছে না।
‘এতোকিছু হয়ে গেলো আর তোমরা আমাকে কিছুই জানাবে না? জানো আমি কতটা চিন্তিত ছিলাম?’
‘ স্যরি আব্বু।’ ম্লান হেসে নির্বিকার ভাবে উত্তর দিল আরাবী আর ফারাবী। দুজনে একসাথে বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল। সতর্কতার সহিত চাহনি দিয়ে দেখলো বাবা কতটা ক্ষেপে গেছে । আলাউদ্দিন চৌধুরী চোখ পাকিয়ে একবার বড় মেয়ের দিকে তারপর ছোট্ট মেয়ের দিকে তাকাল । চোখ ঘুরিয়ে গলা ঝাড়ল, গমগমে স্বরে বলল,
‘তোমরা যে কাজটা করেছো সেটা নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। কিন্তু তোমরা আমাকে কিছু বলা প্রয়োজন মনে করলে না? আমিও তোমাদের সাহায্য করতে পারতাম।’
‘আসলে স্যরি বাবা, আমরা ভেবেছিলাম লোকটাকে হসপিটালের দিয়েই চলে আসবো কিন্তু লোকটার পরিবারের লোকজন বিশেষ করে উনার মায়ের কান্না দেখে আর আসতে পারিনি। তার উপর আপু আবার রক্ত দিল।’
ফারাবী মিনমিন করে কথাগুলো বলল। আলাউদ্দিন চৌধুরী মেয়েকে জড়িয়ে নিয়ে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে আওড়াল,
‘ঠিক আছে আর কোনো কৈফিয়ত দিতে হবে না। দুইজনই অনেক ক্লান্ত রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও, সব কথা সকালে হবে।’
‘শাঁকচুন্নিরা তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসবি। তোদের জন্য আমি আর আব্বু এখনো না খেয়ে আছি। আম্মুর প্রেশার বেড়ে গিয়েছিলো তাই খাওয়ায়ে দিয়ে,ওষুধ দিয়ে ঘুম পারিয়ে দিয়েছি। ’সোহেল আপেলে শক্ত করে কামড় দিয়ে বোনদের দিকে তাকাল।
‘এখনো খাওনি কেনও? প্রেশারের ওষুধও খাওনি তাই না?’আরাবী তার বাবার কাছে এগিয়ে এসে বলল।
‘তোমরা ফ্রেশ হয়ে এসো, তারপর না হয় খাব। ’
সোহেল আর আলাউদ্দিন চৌধুরী ডাইনিং টেবিল সাজাতে লাগলো। দু'জনে মিলে খাবারগুলো গরম করে নিল। আরাবী পোশাক পাল্টে,ফ্রেশ হয়ে সোজা নিচে নেমে আসল। সোহেল জগ থেকে সকলের গ্লাসে পানি ঢালছিলো। সে আরাবী দিকে তাকাল। আরাবী এসে চেয়ার টেনে বসল।
‘ওই বে'য়া'দবটা এখনও নামলো না কেন?’
‘ কী জানি, দাঁড়াও দেখে আসছি। ’
আরাবী নিজের ফোনটা টেবিলের ওপর রেখে উঠে দাঁড়াচ্ছিলো কিন্তু সোহেল ইশারা করে তাকে বসতে বলল। ফারাবীর কাজে চোখমুখ দিয়ে সোহেলের বিরক্তিকর প্রকাশ পেলো৷ সে উফফ শব্দ করে বলল,
‘এই মেয়েটার জন্য আমরা এখনো না খেয়ে আছি আর ওর নিচে নামার কোনো নামগন্ধ নেই। তোমরা বসো আমি গিয়ে নিয়ে আসছি। ’
ধপাধপ পা ফেলে সোহেল ওপরে উঠে গেলো। আলাউদ্দিন চৌধুরী এসে টেবিলে বসলেন। আরাবী উঠে সকলের প্লেটে ভাত বাড়তে শুরু করল। আচমকা দরজায় টোকা পড়ায় ফারাবী ঘুমের মধ্যে নড়েচড়ে উঠল। ক্লান্তিতে চোখ দু'টো লেগে এসেছে তার। দরজা খোলা ছিলো৷ সোহেল রুমে এসে দেখলো মেয়েটা ফ্রেশ হয়েই শুয়ে পড়েছে। সোহেল গম্ভীর কণ্ঠে ডাকল,
‘ফারাবী। এই ফারাবী।’
ফারাবী ঘুমুঘুমু কন্ঠে উত্তর দিলো, ‘ কী ভাইয়া?’
সোহেল খাটের পাশে বসে বোনের মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞাসা করল,‘ খাবি না?’
‘ না, তোমরা খেয়ে নাও।’
সোহেল ফরাবীর ঘুমুঘুমু কন্ঠ শুনে বোনের মাথায় স্নেহের সাথে হাত বুলিয়ে দিলো। রাগ-বিরক্তি ছেড়ে বলল,
‘ ওঠ, আমি তোকে খাইয়ে দিচ্ছি। ওঠ দেখি।’
সোহেলর কথা ফারাবীর কানে গেলো কিন্তু সে কোনো প্রত্যুত্তর করলো না৷ সোহেল আরাবী আর ফারাবীর থেকে থেকে বড়৷ সোহেল আর আরাবীর মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক থাকলেও ফারাবীর সাথে তার দা-কুমড়ার সম্পর্ক৷ ফারাবীকে শুয়ে থাকতে দেখে সোহেল টেনে মেয়েটাকে তুলল।
‘ ভাইয়া বিরক্ত করিস না। ’
‘ চল, দু গাল ভাত খেয়ে নে।’
ফারাবী ঘুমের ঘরে ঠোঁট উল্টে বলল,
‘ খাবো না আমি।’
সোহেল তার কোনো কথা কানে নিলো না। ফারাবীকে এক প্রকার টেনে নিচে নিয়ে আসল। ফারাবীকে জোর করে চেয়ারে বসাল। আলাউদ্দিন চৌধুরী সেটা দেখে সরল গলায় শুধাল,
‘ কী হয়েছে? ’
‘ খাবে না বলছে?’ আরাবীও জিজ্ঞাসা করল।
‘হুম।’
‘ সর ভাইয়া আমি খাইয়ে দিচ্ছি। তুই খেতে বস। ’
আরাবী উৎসাহের সহিত বলল তবে সোহেল উল্টো বলল,
‘তুই অনেক ক্লান্ত। তাড়াতাড়ি খেয়ে রুমে যা আমি ওরে খাইয়ে দিচ্ছি। তোর হাতে খেলে বিভিন্ন তালবাহানা করবে আমার উপর ছেড়ে দে।’
সোহেল প্লেটে ভাত মাখতে-মাখতে বলল। সে ভাত মেখে ফারাবীর সামনে ধরল। ফারাবী মুখ কুঁচকালো। সোহেল নিরাশ কন্ঠে বলল,
‘মুখ না কুঁচকে একটু খেয়ে দেখ আগে ৷ খারাপ লাগলে খেতে হবে না, আগে হা কর। ’
সোহেলের কথায় দোনামোনা করে ফারাবী মুখ খুললো তারপর আস্তে-আস্তে প্লেটের সব খাবারটুকু শেষ করে দিলো।
চলবে...
[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]