#প্রিয়_অক্টোবর
#সাদিয়া_তাসনিম
১৮.
সকাল বেলা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটা ছাত্রছাত্রীতে মুখরিত হয়ে আছে। চারপাশের পরিবেশটা বেশ মনোরম।আজকের দিনটা অন্যদিনের থেকে কিঞ্চিৎ আলাদা। গাছের পাতায়, ঘাসে এখনো শিশির বিন্দু জমে আছে,বাহিরে হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে। করিডোর শিক্ষার্থীদের আনাগোনা দ্বিগুণ হচ্ছে। তাসনিয়া আজ তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বেরিয়েছে। আজ তার পরীক্ষা। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ঠিক আগের এই মিড টার্ম পরীক্ষাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রাতভর পড়েছে সে, চোখে ঘুম নেই তেমন, কিন্তু মনের মধ্যেটা খুঁতখুঁত করছে। নিজের প্রতি তার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস আছে তুবও কেমন যেনও ভয় করছে তার।
তাসনিয়া অবশ্য ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। তার ডান হাতে ছোট্ট একটা ব্যাগ, তাতে কলম আর পরীক্ষার হলকার্ড। নীল রঙের সালোয়ার কামিজ পরা তাসনিয়াকে ঝরঝরে দেখাচ্ছে। ক্লান্তিহীন মুখটা জ্বলজ্বল করছে। তার লম্বা চুলে বেণী করা যা হিজাবের ফলে কারোর চোখে পড়ে না। মূল রাস্তা থেকে এইটুকু পথ হেঁটে আসতেই তার কপালে হালকা ঘাম জমেছে।
ক্যাম্পাসের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে তাসনিয়া সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই কেউ একজন এসে তার হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে নিল। তাসনিয়া হয়তো চমকালো। সে পিছনে ফিরে তার বান্ধবী নাফিসা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শ্বাস নিল। সে নিজেও মেয়েটার হাতও শক্ত করে ধরে নিল। নাফিসাও তার সাথে একই বর্ষে পড়ে। মেয়েটা বেশ চঞ্চল স্বভাবের, সবসময় হাসিখুশি থাকে আর তাসনিয়াকেও হাঁসানোর চেষ্টা করে।
‘ কী অবস্থা তোর?’
নাফিসা উচ্ছ্বসিত গলায় তাসনিয়াকে শুধায়। তাসনিয়া একবার হাত ঘড়িটার দিকে তাকায় তারপর মেয়েটার হাত ধরে দ্রুত পায়ে সামনের দিকে যেতে লাগে।
‘খবর আর কেমন হবে ভালোই। তোর কী অবস্থা? দুইদিন ধরে ভার্সিটিতে আসিস না কেন?’
‘একটু গ্রামের বাসায় গিয়েছিলাম। ’
‘আঙ্কেল আন্টি কেমন আছেন?’
‘ সকলেই ভালো আছে বোন, শুধু আমি বাদে।’
তাসনিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে একবার নাফিসার দিকে তাকাল তারপর জিজ্ঞাসা করল,
‘ কেন কী হয়েছে তোর?’
‘আর বলিস না এই পড়াগুলো কাল সারারাত করেছি কিন্তু এগুলো কিছুই আমার মাথায় ঢুকছে না।’
নাফিসা হাতে ধরা একটা নোট তাসনিয়াকে খুলে দেখাল। নোটের পাতায় লাল নীল কালি দিয়ে অনেক কিছু আন্ডারলাইন করা। মেয়েটার কথায় আর কাজে তাসনিয়া না হেঁসে পারলো না।
‘আপনার কিছু মনে থাকে না, আবার রেজাল্টে বেশি সিজিপিএ নিয়ে বসে থাকেন। ’
‘হ আপনার থেকে বেশি কই পাই মিয়া? ভাই তোর এতো সব কী করে মনে থাকে। ’
নাফিসার এমন প্রশ্নের উত্তর তাসনিয়ার কাছে নেই তাই সে চুপ থাকল৷ পাগলের মতো প্রশ্ন করলে সে কী উত্তর দিবে? দুই বান্ধবী পাশাপাশি হাঁটতে-হাঁটতে পরীক্ষার হলের দিকে যেতে লাগে। ক্যাম্পাসের বড় বড় গাছ আছে। এই গাছের ছায়ার ফলে রাস্তাটা বেশ শীতল।সকালের এই সময় বলে পাখির কিচিরমিচির শব্দ কানে আসছে, এমন প্রাণবন্ত পরিবেশ সকলের হাঁটতে ভালো লাগে বয় খারাপ লাগে না।
'তুই কাল রাতে কয়টা পর্যন্ত পড়েছিলি?'
নাফিসা নিজের কৌতুহলী স্বভাবের কারণে জানতে চাইল।
‘ প্রায় তিনটা পর্যন্ত। তারপর একটু ঘুমিয়ে ছয়টায় উঠেছি। আবার একটু রিভিশন দিয়েছি।’ তাসনিয়া কোনো মিথ্যা বলল না।
‘ভাই তোর দ্বারাই সম্ভব, আমি দশটার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ভোরে উঠে পড়তে চেয়েছিলাম, কিন্তু ঘুম ভাঙেনি। আল্লাহ কী হবে আমার! ’
নাফিসা কপালে হাত দিয়ে বলল। মেয়েটার বাচ্চামো কন্ঠের উত্তর শুনে তাসনিয়া হাঁসল।
তাসনিয়া মিহি কন্ঠে মেয়েটাকে বলল,
‘এতো চিন্তা করিস না, পরের বার উঠে পরিস।’
‘তুই আমাকে কল করে উঠিয়ে দিস বোন নাহলে এই পরের বার আমার জীবনে আর কখনো আসবে না।’
নাফিসা আশাবাদী গলায় বলল। তাসনিয়া হাঁসে,মুখে কিছু বলে না শুধু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে৷ তারা দুইজন কথা বলতে বলতে পরীক্ষার হলের সামনে এসে গেলো। সেখানে অনেক শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছে। রুমের দরজা এখনো খোলেনি। তাসনিয়া আর নাফিসা একটা কোণে দাঁড়াল।
‘এদের কাজ বাজ বুঝি না, একটু আগে দরজা খুললে কী ক্ষতি হয়।’ নাফিসা বিরক্তিকর মুখ নিয়ে বলে। তাসনিয়া চুপ।
‘ভাই তুই দাঁড়া একটু,আমি আরেকবার ইম্পর্টেন্ট পয়েন্টগুলোতে চোখ বুলিয়ে নি। ’
‘ হ্যাঁ, দ্যাখ বাবা। ’
তাসনিয়ার ছোট্ট করে উত্তর এলো।গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে নাফিসা শেষবারের মতো চোখ বুলিয়ে নিল । কিছুক্ষণ পর পরীক্ষার হলের দরজা খুলে গেল। শিক্ষার্থীরা ভেতরে ঢুকতে শুরু করল। তাসনিয়য়া আর নাফিসাও লাইনে দাঁড়াল। একজন শিক্ষক দরজায় দাঁড়িয়ে হলকার্ড চেক করছেন। তাসনিয়া নিজের হলকার্ড দেখাল, শিক্ষক মাথা নেড়ে অনুমতি দিলেন। ভেতরে ঢুকে সে তার নির্ধারিত সিটে বসল। নাফিসা তার থেকে একটু দূরে বসল।
পরীক্ষা শুরু হয়েছে৷ পরীক্ষার হলে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে। শুধু খাতা পৃষ্ঠা ওল্টানোর শব্দ ছাড়া তেমন কোনো শব্দই আসছে না। তাসনিয়া খুব মনোযোগে দিয়ে সব লিখতে শুরু করল। তার হাতের লেখা পরিষ্কার, প্রতিটা উত্তর সে সাজিয়ে-গুছিয়ে লিখছে। তিন ঘণ্টার পরীক্ষা শুরু হতে না হতে শেষ হয়ে গেলো। শিক্ষকরা সকলের লেখা থামাতে বললেন।তাসনিয়া দ্রুত নিজের শেষ লাইনটা লিখে খালার উপর কলম রাখল। সে নিজের উত্তরপত্র জাম দিল।
নাফিসাও তার উত্তরপত্র জমা দিয়ে বাইরে আসল। দুই বান্ধবী হলের বাইরে এসপ মুখ চাওয়াচাওয়ি করল।
’ কেমন হলো?’
নাফিসা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল।
‘মোটামুটি ভালো। তোর?’ তাসনিয়া জবাব দিল।
‘আমারও ভালো হয়েছে মনে হচ্ছে। তবে শেষ প্রশ্নটায় গন্ডগোল করেছি।’ নাফিসা ছোট্ট করে বলল।
'কোনটা?' তাসনিয়া জিজ্ঞেস করল।
‘ শেষে একটা থিওরির প্রশ্ন ছিলো না? ওটা।’
নাফিসা কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বলল।
‘ ও ওইটা, আমি তো ওখানে স্ট্যান্ডার্ড ডেফিনিশন দিয়েছি, তারপর উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছি। ’
তাসনিয়া নাফিসার কথাটা বুঝতে পেরে বলল।
‘ তাহলে, আমি ভুল করে অন্য একটা থিওরি লিখে ফেলেছি মনে হয়। ’ নাফিসা আবারও কপালে হাত দিয়ে বলল।
‘ এখনই এমন করছিস কেন? আমার টা সঠিক না হয়ে তোরটাও তো সঠিক হতে পারে। এত চিন্তা করিস না এখন। ’
তানসনিয়া নাফিসাকে অস্থির হয়ে যেতে দেখে বলল।
নাফিসা একটু শান্ত হলো,তারা পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে ক্যাম্পাসের মূল রাস্তায় এলো। এখন দুপুর। রোদটা তীব্র হয়ে উঠেছে,রোদের এমন তেজে ত্বক জ্বলে যাওয়ার উপক্রম। তাসনিয়া হিজাব পড়া ছিলো, নাফিসা এতো রোদের ফলে মাথায় ওড়না টেনে নিল।
‘চল, একটু ক্যাফেটেরিয়ায় যাই। এই রোদে একটু ঠান্ডা ঠান্ডা কিছু খেয়ে নি।’
নাফিসা তাসনিয়ার হাত ধরে বলল।
‘ না রে, আমাকে এখন বাসায় যেতে হবে। বাসায় অনেক কাজ আছে। তুই যা।’ তাসনিয়ার ছোট্ট উত্তর আসল।
‘ ঠিক আছে। কাল আসবি?’ নাফিসা জিজ্ঞেস করল।
‘হ্যাঁ।’
নাফিসা হাত নেড়ে বিদায় জানাল। নাফিসা ক্যাফেটেরিয়ার দিকে চলে গেলো আর তাসনিয়া একা সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করল। ক্যাম্পাসের বাইরের থেকে রিকশা নিবে সে। পরিক্ষা ভালো হয়েছে বলে তার মনটাও এখন হালকা। ক্যাম্পসের এই রাস্তা দিয়ে তখন, কয়েকটা রিকশা আর মোটরসাইকেল বাদে কিছু যাচ্ছে না। তাসনিয়া শান্ত ভঙ্গিতে সামনের দিকে হেটে যাচ্ছে। তাসনিয়া নিজের মনে হাঁটছিল, হঠাৎ পেছন থেকে কেউ একজন তাকে ডেকে উঠল।
‘ আপু,আপু একটু দাঁড়ান।’
তাসনিয়া প্রথমে গুরুত্ব দিলো না কারণে এখানে তাকে ডাকার মতো কেউ নেই। তবে পিছনে থেকে গলাটা আবারও কানে আসল।
‘ আপু একটু দাঁড়ান প্লিজ।’
তাসনিয়া এবার পিছন ফিরে তাকাল। একটা ছেলে তার দিকে দৌড়ে আসছে। ছেলেটা বেশ শীর্ণকায়, চশমা পরা, হাতে একটা খাম। তাসনিয়া তাকে ঠিক চিনতে পারল না। সে চিনবে কী করে ছেলেটা তো প্রথম বর্ষের।ছেলেটা হাঁপাতে-হাঁপাতে তাসনিয়ার সামনে এসে দাঁড়াল।
‘ আপু, এটা আপনার জন্য।’
ছেলেটা একটা খাম তাসনিয়ার দিকে এগিয়ে দিল।তাসনিয়া অবাক হয়ে খামটার দিকে তাকাল।
‘ আমার জন্য? এসব কী? ’
‘আমি জানি না আপু। একজন ভাইয়া আমাকে বলেছে আপনাকে দিতে।’
তাসনিয়া কিছু ভুল বোঝার আগে ছেলেটা দ্রুত বলল।
‘ মানে?’
তাসনিয়ার কণ্ঠে কেমন একটা অস্বস্তি জড়িয়ে গেলো। সারা জীবনে এমন বাজে মূহুর্তে তাকে পড়তে হয়নি। ছেলেটা তার দিকে চোখ ছোট্ট করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
‘ কোন ভাইয়া?’
তাসনিয়া নিজেকে শান্ত করে জিজ্ঞেস করল।
‘আমি চিনি না আপু। তিনি আমাকে কিছু টাকা দিয়ে বলেছেন এটা আপনাকে দিতে।’
তাসনিয়া খাম নিচ্ছে না দেখে ছেলেটা তাসনিয়ার হাতে খামটা গুঁজে দিয়ে, দ্রুত সেখান থেকে চলে গেল। তাসনিয়া খামটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার দৃষ্টি পরে রইলো দূরে চলে যাওয়া ছেলেটার দিকে। হাতে তার সাদা রঙের একটা খাম, সেখানে কোনো নাম লেখা নেই। শুধু তার সামনে লেখা আছে ‘তাসনিয়া ’।
খামটা হাতে নিতেই তার কেমন একটা লাগল। এটা তাকে কে পাঠাতে পারে সেটা চিন্তা করতে লাগল? প্রথমে ভাবলো সে খামটা ফেলে দিবে কিন্তু পরে যে মনটা খুঁত খুঁত করবে তাই খামটা খুলল,ভেতরে একটা চিঠি। সে খাম থেকে চিঠিটা টেনে বের করল। চিঠির ভাঁজ খুললো। চিঠিটা সুন্দর করে লেখা। তাসনিয়া চিঠিটা পড়তে শুরু করল।
প্রিয় তাসনিয়া,
আমি জানি না এই চিঠিটা তোমার কাছে কেমন লাগবে। হয়তো তুমি অনেক অবাক হবে বা বিরক্ত হবে কিন্তু আমার কিছু কারার নেই প্রিয়। আমি আর চুপ থাকতে পারছি না। তোমাকে দেখার পরে আমার মনের মধ্যে যে অনুভূতিরা দোলা দিয়েছিলো সেগুলো আমি আজও ভুলতে পারি না। আমার মনে হচ্ছে আমি মনের মধ্যে কথাগুলো চেপে রেখে দিন-দিন পাগল হয়ে যাচ্ছি,তাই আজ সাহস করে বলে দিলাম। তোমাকে দেখার পর থেকে আমি তোমার স্নিগ্ধ কাজল কালো দু'টি চোখ কিছুতেই ভুলতে পারছি না৷ তোমাকে নিজের সামনে দেখলে আমার হৃদপিণ্ড প্রচন্ড ভাবে ধুকপুক করে, তুমি আমাকে চেনো না, কিন্তু আমি তোমাকে চিনি, এই কয়েক বছরে অসংখ্যবার তোমাকে দেখেছি। আমাদের সামনাসামনি দেখা হয়েছে কতবার।
আমি জানি না তুমি এখন আমাকে নিয়ে কী ধারণা পোষণ করছো, জানি না তুমি আমার এই অনুভূতি বুঝবে কি না, যদি না বোঝো তাহলে নিজের মনকে বুঝ দিতে পারবো আমি, তাকে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলাম, সেই আমার ভাগ্যে ছিলো না।
আচ্ছা এই চিঠিটা পড়ার পর কী আমার নামটা জানতে চায়ছে তোমার মন? যদি জানতে চায় তবে কিছু করার নেই, আমি এখন জানাতে পারব না, খুব তাড়াতাড়ি আমরা মুখোমুখি হবো, আমার অপেক্ষায় থেকো।
ইতি,
তোমার কেউ একজন।
তাসনিয়া চিঠিটা পড়ে শেষ করে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এটা কী? কে লিখেছে? কে এই অজ্ঞাত লোক? তার মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল। সে চারপাশে তাকাল। আশপাশ দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী হেঁটে যাচ্ছে, কারোর হাতে সময় নেই তার দিকে তাকানোর। তাসনিয়া অজ্ঞাত লোকটার এমন ধরনের কাজে বিরক্ত হলো। তার মুখ শক্ত হয়ে গেল। সে চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে চিঠিটা আবার ভাঁজ করে নিল, তারপর দুই হাতে টান দিয়ে সেটা ছিঁড়ে ফেলল। একবার, দুইবার, তিনবার এমন ভাবে ছোট ছোট টুকরে বিভক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাসনিয়া চিঠিটা ছিঁড়তে লাগল।
তার ফর্সা মুখটা ক্রোধে লাল হয়ে গেছে, চোখ কুঁচকে গেছে, সে এই ধরনের বাজে জিনিস সহ্য করতে পারে না।এসব তার পছন্দ না। তাসনিয়া রাস্তায় চারপাশে তাকাল। সে একটা ডাস্টবিন খুঁজছিলো ভাগ্যক্রমে সেটা পেয়েও গেলো। তাসনিয়া দ্রুত পায়ে সেখানে এগিয়ে আসল এবং চিঠির ছেঁড়া টুকরোগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিল। তারপর নিজের হাত ঝেড়ে নিল।
‘ বিরক্তিকর, নাম পর্যন্ত বলার সাহস নেই আবার চিঠি দিচ্ছে।’
তাসনিয়া বিরক্ত নিয়েই নিজের মনে বিড়বিড় করল। সে নিজেকে শান্ত করল। তাসনিয়া এসব কিছু নিয়ে ভাবতে চায় না। সে বাড়ির পথে পা বাড়াল।
চলবে...
[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]