ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় অক্টোবর

৩৫তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তাসনিম

#প্রিয়_অক্টোবর

#সাদিয়া_তাসনিম

৩৫. প্রথম অংশ

এখন বিকাল-বিকাল ভাব। শীত কাল আসতে আর বেশি দেরি নেই। সূর্যটাও পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে হয়তো কারণ আকাশ দেখে সেটা ধারণা করা যাচ্ছে না। আজ সকাল থেকেই আকাশটা ধূসর হয়ে আছে।

আকাশে মেঘেদের আনাগোনা বেড়েছে, বাতাসে একটা স্যাঁতস্যাঁতে ভাবও দেখা যাচ্ছে। তাসনিয়া আজ তাড়াতাড়ি পড়ানো শেষ করে তার ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে বিল্ডিংয়ের লিফটের সামনে এসে দাঁড়াল। সবেমাত্র তিনটা প্রাইভেট পড়ানো শেষ করেছে সে। তাসনিয়া এখানে ক্লাস সেভেনের একটা ছাত্রীকে ইংরেজি পড়াতে আসে সপ্তাহে তিনদিন। মেয়েটা পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী, পড়াশোনায় আগ্রহী। মেয়েটার এতো আগ্রহের জন্য তাকেও তাসনিয়ার পড়াতে ভালো লাগে। এতে একদিকে যেমন তার কিছু আয় হয়, অন্যদিকে তার সময়টাও ভালো কাটে। সে ছাত্রীর বাসা থেকে দেখে ছিলো আকাশের অবস্থা তেমন একটা ভালো না। তার মনে হচ্ছে যখন-তখন বৃষ্টি নামতে পারে, একদম আচমকা বৃষ্টি যা তাকে ভিজিয়ে দিতে সময় নিবে না। সে আজ বাসা থেকে ছাতা নিয়ে বের হবে-হবে করেও ছাতা নিয়ে বের হতে পারেনি৷

তাসনিয়া লিফটের বাটনে চাপ দিয়ে সেটা আসার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। তার মনটাও সকাল থেকেই কেমন একটা ভারী ভারী। সকালে তাসনিফার সাথে টুকটাক ঝগড়া হওয়ার কারণে তার মনটা খারাপ। কেমন এক অস্বস্তিকর অনুভূতি তাকে ঘিরে রেখেছে। আসার সময়ও সে মেয়েটার সাথে ঝগড়া করে বের হয়েছে। ততক্ষণে লিফটটা চলে আসল। তাসনিয়া মাথা ঝাঁকিয়ে এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে চাইল। লিফটের দরজা খুলে গেল। তাসনিয়া ভেতরে পা রাখতে যাবে ঠিক তখনই তার চোখ পড়ল একজন ছেলের দিকে। ছেলেটা বিল্ডিংয়ের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছিল। তাসনিয়ার চোখ বড় হয়ে গেল। ছেলে আর কেউ না। সে রিফাত। ছেলেটাকে দেখে তার চক্ষু সজল হয়ে উঠল। তারা দুইজন এখন বন্ধুর থেকে অনেক বেশি কিছু। অবশ্য তারা কোনো সম্পর্কে নেই কিন্তু কিছু সম্পর্ক মুখে প্রকাশ না করলেও সেটার আবহ দুইটা মানুষই ভালো করে টের পাই। এতোক্ষণ রিফাতের নজর নিজের ফোনের দিকে ছিলো। সে সামনে এসে তাসনিয়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিজেও দাঁড়িয়ে পরলো। তার চোখেমুখে বিস্ময় দেখা দিলো। মেয়েটাকে অসময়ে দেখে তার মুখে একটা হাসি ফুটে উঠল।

'তাসনিয়া? তুমি এখানে?'

তাসনিয়া কিছু বলার আগেই লিফটের দরজা বন্ধ হতে শুরু করল। রিফাত তাড়াতাড়ি হাত বাড়িয়ে দরজাটা আটকাল। তারপর চোখের ইশারায় তাসনিয়াকে জিজ্ঞাসা করল সে ভেতরে যাবে কিনা। তাসনিয়া হ্যাঁ সূচকে মাথা নাড়লো। তারা দুইজনে ভেতরে ঢুকে পড়ল। লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। এবার দু'জনের মধ্যে একটা অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এল। রিফাত আবারও মেয়েটাকে জিজ্ঞাসা করল,

' তুমি এখানে যে?'

' আমি এখানে একটা বাচ্চাকে প্রাইভেট পড়াই।'

তাসনিয়া নিজের উত্তরটা দিয়ে রিনরিন কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল,

'আপনি এখানে কেন?'

রিফাত তার দিকে তাকাল। তারপর আলগোছে নিজের চুলে হাত চালিয়ে বিগলিত হেঁসে বলল,

'আমার এক বন্ধু এই বিল্ডিংয়ে থাকে। তার বাসায় গিয়েছিলাম। '

'ও আচ্ছা।'

'কোন ফ্লোরে?'

'পঞ্চম তলায়।'

'আমার বন্ধুও পঞ্চম তলায় থাকে। এতোক্ষণ আমরা হয়তো একই ফ্লোরে ছিলাম।'

তাসনিয়া লোকটার কথা শুনে নীরবতা বজায় রেখেই হালকা হাসলো। লিফটটা ধীরে ধীরে নিচে নামছে। তাসনিয়া লিফটের দেয়ালের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রিফাত তার দিকে তাকিয়ে ছিল। মেয়েটা আজ সাদা রঙের একটা সেলোয়ার-কামিজ পরেছে। তার কাঁধে নীল রঙের একটা ব্যাগ ঝুলছে। মেয়েটাকে আজ ক্লান্ত দেখাচ্ছে। তার চেহারার সবসময় যে হাস্যেজ্জলতা খেলা করে সেটা আজ নেই। রিফাত নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে উৎসুক কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল,

'তুমি ঠিক আছ? তোমাকে কেমন যেন ক্লান্ত দেখাচ্ছে।'

তাসনিয়া তাদের মাঝে থাকা নীরবতা ভেঙে জবাব দিল,

'হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি। একটু ক্লান্ত হয়ে গেছি।'

রিফাত কিছুটা চিন্তিত গলায় জিজ্ঞাসা করল,

'তুমি প্রতিদিন কতগুলো প্রাইভেট পড়াও?'

তাসনিয়া খুব আনন্দের সহিতই উত্তর দিলো

'তিনটা। সপ্তাহে পাঁচদিন।'

রিফাত মেয়েটার পানে পূর্ণ দৃষ্টিতে দিয়ে অবাক কন্ঠে বলল,

'তাহলে তো অনেক ব্যস্ত থাক।'

তাসনিয়া এবার নমনীয় গলায় বলল,

'ওই আরকি।'

মেয়েটা রিফাতকে কিছু বলতে দিলো না। সে রিফাতের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি গলায় বলল,

'তবে আমার ভালো লাগে। '

' কী?'

' আরে পড়াতে আমার ভালো লাগে।'

রিফাত মেয়েটার মুখে হাসি দেখে নিজেও বিগলিত হাসি হাসলো। সে আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু লিফটটা হঠাৎ করেই ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল। তারপর চলা থেমে গেল। ভেতরের লাইট নিভে গেল। শুধু ছোট্ট একটা লাইট জ্বলতে লাগল। তাসনিয়া হতচকিত হয়ে উঠল। সে হতচকিত কন্ঠেই রিফাতকে জিজ্ঞাসা করল,

'কী হলো?'

রিফাত নিজের অজান্তেই মেয়েটার হাতটা চেপে ধরলো। সে মেয়েটার হাত চেপে ধরেই লিফটের বাটনে চাপ দিল কিন্তু কিছু হলো না। তাসনিয়া এমন একটা ভীতিকর অবস্থার মুখোমুখি জীবনে প্রথমবারই পড়েছে তাই তার চেহারাখানা একদম ছোট্ট হয়ে গিয়েছে। রিফাতকে তার হাতটা চেপে ধরতে দেখে সেও রিফাতের পিঠের দিকের শার্ট চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা রিফাতের কাছে আসতেই তার নাকে গোলাপের সুঘ্রাণটা তীব্র হয়ে আসলো। সে কী যে করছিলো সেটা সে ভুলে বসল, সহসা চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে সেই সুন্দর গন্ধটা অনুভব করার চেষ্টা করল। হঠাৎ তার কর্ণকুহরে তাসনিয়ার আওয়াজ ভেসে আসল,

' কী হলো কিছু বলছেন না কেন?'

রিফাত এতোক্ষণ যে তাসনিয়ার মোহে আটকে গিয়েছিলো সেটা থেকে বের হয়ে আসল। সে বিষাদ ভরা কন্ঠে বলল,

'মনে হয় লিফট আটকে গেছে।'

তাসনিয়া লোকটার কথার প্রত্যুত্তরে অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,

'আটকে গেছে মানে?'

রিফাত মেয়েটাকে শান্ত করতে বলল,

'চিন্তা করো না। আমি এলার্ম বাটন চাপে দিয়েছি, কিছুক্ষণে মধ্যে দেখে কেউ না কেউ আসবে।'

রিফাত এলার্ম বাটন চাপল। তারা দু'জন কারোর আসবার অপেক্ষা করতে লাগল। তাসনিয়া রিফাতের হাত ধরেই লিফটের কোণায় দাঁড়িয়ে ছিল। তার হাত কাঁপছিল। রিফাত সেটা লক্ষ্য করল। দূর্দমনীয়,ভীষণ চঞ্চল মেয়েটাকে এমন করে কাঁপতে দেখে রিফাত মেয়েটার হাত শক্ত করে ধরলো।

'তুমি কী ভয় পাচ্ছ?'

নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তাসনিয়া নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু সে নিজেকে শান্তই রাখতে পারছে না। সে মলিন মুখে আস্তে করে বলল,

'একটু আমার ছোট থেকেই আটকানো জায়গায় ভয় লাগে। ক্লস্ট্রোফোবিয়া আছে আমার।'

রিফাত তার হাতটা আরো শক্ত করে চেপে ধরল।

'চিন্তা করো না।দেখো খুব শীঘ্রই কেউ আসবে এটা খুলতে। তুমি একটু শ্বাস নাও,গভীর শ্বাস নাও তাসনিয়া।'

তাসনিয়া রিফাতের কথা শুনে নিজের চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিতে লাগল। রিফাত তার পাশে দাঁড়িয়ে রইল। কয়েক মিনিট পর তাসনিয়া একটু ভালো বোধ করল। রিফাত এতোক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলো। সে মেয়েটার অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছিলো। মেয়েকে শান্ত হতে দেখে সে নিজেই জিজ্ঞাসা করল,

' ঠিক আছো তুমি?'

'জি।'

' ট্রাই টু বি নর্মাল তাসনিয়া।'

' হুম,থ্যাংক ইউ।'

'ইটস ওকে। এখন তুমি কেমন বোধ করছ?'

'আগের থেকে ভালো।'

এখনো কেউ আসছে না দেখে রিফাত আবারও এলার্ম বাটন চাপল। এবার একটা ইন্টারকম থেকে আওয়াজ এল।

'হ্যালো? কেউ আছেন লিফটে?'

রিফাত আওয়াজটা শুনতে পেরেই তাড়াতাড়ি বলল,

'হ্যাঁ, আমরা দু'জন আছি। আমাদের এখান থেকে তাড়াতাড়ি বের করুন আমরা লিফটে আটকে গেছি।'

'ঠিক আছে স্যার। আমরা দেখছি। আপনারা একটু অপেক্ষা করুন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঠিক করার চেষ্টা করছি।'

তাসনিয়া এতোক্ষণ পলকহীন ভাবে সামনের দিকে তাকিয়ে ছিলো৷ লোকটার কথা শুনে সে এবার চোখের পলক ফেললো।

'শুনলে? পাঁচ মিনিটের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।'

তাসনিয়া রিফাতের কথা শুনে মাথা নাড়ল। তারা দু'জন চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। এরপর হুট করেই রিফাত বলে উঠলো,

'তাসনিয়া, আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।'

তাসনিয়া মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে নিস্পৃহ কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল,

'কী?'

রিফাত এবার খানিকটা নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে রিনরিনে কন্ঠস্বরের বলল,

' আমি বুঝছি না আমি কীভাবে তোমাকে কথাটা বলব। কিন্তু.... '

রিফাতকে এই প্রথম নিজের সামনে কেমন আমতাআমতা করতে দেখে তাসনিয়ার কপালে ভাঁজ পড়ল৷

' কী এমন কথা যে বলতে এমন করছো?'

তাসনিয়ার কথায় রিফাত পক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসলো না। সে এবার তাসনিয়ার মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ালো। তাসনিয়া পাথর বনে দাঁড়িয়ে রইল। রিফাত নিজের গ্রীবাটা নিচু করে উষ্ণ শ্বাস ফেললো। উষ্ণ শ্বাস তাসনিয়ার মুখের উপর গিয়ে পরলো। রিফাতের আকস্মিক এমন কাজে তাসনিয়া ভয় পেলো। সে ভীতু চোখে লোকটার দিকে তাকিয়ে রয়ল। রিফাত গভীর শ্বাস ছেড়ে বলল,

'তাসনিয়া,আমি তোমাকে পছন্দ করি।'

রিফাতের এমন সময়ে, এমন পরিস্থিতিতে এমন সহজসরল স্বীকারোক্তি তাসনিয়াকে হতভম্ব করে দিলো। তার চোখ বড় হয়ে গেল। সে হিমশীতল বরফে রুপান্তর হলো। নির্লিপ্ত কন্ঠে আচ্ছন্ন গলায় শুধালো,

'কী?'

' আমি তোমাকে পছন্দ করি তাসনিয়া হয়তো ভালোবাসি। যখন থেকে তোমার সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে,তখন থেকে আমি বুঝতে পেরেছি তুমি আমার জীবনে কত গুরুত্বপূর্ণ। আমার যে তোমার সাথে কথা বলতে ভালো লাগে। তোমার হাসি, তোমার কথা, তোমার মায়াবি চাহনি, তোমার সবকিছু আমার ভালো লাগে। আমি জানি না তুমি আমার সম্পর্কে কী ভাব। কিন্তু আমি চাইলাম তুমি আমার অনুভূতি সম্পর্কে জানো।'

তাসনিয়া কিছু বলল না। সে শুধু রিফাতের দিকে তাকিয়ে রইল।

'তাসনিয়া। তুমি কি আমার কথাগুলো শুনে আমার উপর রাগ করেছ?'

তাসনিয়ার মুখটা কেমন যেনও রক্তশূণ্য হয়ে গেলো। তার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। সেও রিফাতকে পছন্দ করে তবে স্বীকার করলো কই। সে উল্টো প্রত্যুত্তর করল,

'না, রাগ করিনি। আমি কল্পনাও করতে পারিনি তুমি আমাকে নিয়ে এমন কিছু অনুভব করবে।'

' তুমি আমার সম্পর্কে কী ভাব?'

তাসনিয়া এবার মুখ তুলে রিফাতের দিকে তাকাল। সে শঙ্কিত কন্ঠে বলল,

'রিফাত, আমি কখনো এসব প্রেম ভালোবাসা নিয়ে চিন্তাও করিনি। আমি শুধু আমার পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি। আমি কখনো কাউকে পছন্দ... ।'

তাসনিয়া নিজের কথা শেষ করতে পারলো না তার আগেই রিফাত তার কাছে এগিয়ে আসল। তাসনিয়ার হাত দু'টো ধরে তাকে শান্ত করতে বলল,

'তাসনিয়া শান্ত হও। আমি তোমাকে আমার মন মতো উত্তরের জন্য চাপ দিচ্ছি না। তুমি সময় নাও,ভেবে দেখো তারপর আমাকে বলো। দরকার হলে আমি সারাজীবন তোমার অপেক্ষা করব।'

তাসনিয়া চোখ তুলে রিফাতের দিকে তাকালো। লোকটার কথাগুলো শুনে রিফাতের প্রতি তার সম্মান অনেকটা বেড়ে গেলো। ছেলেটা তার কল্পনার থেকেও ভালো। সে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রয়ল ছেলেটার দিকে ঠিক তখনই লিফটা আবারও ঝাঁকুনি নিয়ে উঠলো। লাইটের আলো গুলো জ্বলে উঠল। লিফট আবার চালু হলো। তারা দু'জনই একটু স্বস্তির শ্বাস ফেলল। লিফট গ্রাউন্ড ফ্লোরে পৌঁছাল। দরজা খুলে গেল। তারা দু'জন বাইরে বেরিয়ে এল। তারা লিফট থেকে বের হতেই বিল্ডিংয়ের রক্ষী এসে তাদেরকে জিজ্ঞেস করল, 'আপনারা ঠিক আছেন?'

রিফাত তাৎক্ষণিক জবাব দিলো,

'হ্যাঁ, আমরা ঠিক আছি। '

রক্ষী আরো দুইটা কথা বলে চলে গেল। তাসনিয়া আর রিফাত বিল্ডিংয়ের বাইরে বেরিয়ে এল। বাইরে তখন হালকা বৃষ্টি পড়ছিল। আকাশ কালো হয়ে গেছে। তাসনিয়া আকাশের দিকে তাকাল।

' হায় আল্লাহ,বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে।'

রিফাতও আকাশের দিকে তাকাল। সে চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলো,

' তাই তো দেখছি৷ এখন কীভাবে যাবে?'

তাসনিয়া আশেপাশে দেখতে দেখতে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,

' রিকশায় যাব।'

'কিন্তু এখানে তো কোনো রিকশা নেই। আর এই বৃষ্টিতে রিকশা পাওয়াও মুশকিল।'

তাসনিয়া চারপাশে তাকাল। সত্যিই কোনো রিকশা নেই। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। কয়েকজন মানুষ ছাতা মাথায় দিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে। তার নিজের উপরে রাগ লাগলো কেন সে আজ ছাতাটা আনলো না। সে এখান থেকে, রিফাতের কাছ থেকে দূরে যেতে চাচ্ছে। লোকটার সাথে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না যে।

'চলো একটু সামনে যাই। হয়তো কোনো রিকশা পাব।'

তাসনিয়া দীর্ঘ প্রশ্বাস টেনে নিজেকে শান্ত করলো। সে রিফাতকে না করতে চেয়েছিলো কিন্তু পারলো না।

তারা দু'জন হাঁটতে শুরু করল। এখন বৃষ্টিটাও ধীরে-ধীরে জোরালো হতে লাগলো। তাসনিয়া তার হিজাবটা একটু টেনে মাথায় ভালো করে দিল। মেয়েটাকে ভিজতে দেখে রিফাত তার জ্যাকেটটা খুলে সেটা দুইজনেরই মাথার উপর ধরলো। তাসনিয়া হাঁটতে হাঁটতে একরাশ স্নিগ্ধতার দৃষ্টিতে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইল। ছেলেটা হয়তো আজ তাকে নিজের প্রতি মুগ্ধ করতেই তার কাছে এসেছে। তারা দু'জনে প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটল কিন্তু কোনো রিকশা পেল না। তাসনিয়া বেশ নিরাশ গলায় বলল,

'এখানেও তো কোনো রিকশা নেই।'

রিফাত নির্বাক রয়ল। সে কিছু একটা ভাবল। তারপর বলল,

'আমার গাড়িটা পার্কিং লটে আছে। যদি তুমি চাও তবে আমি তোমাকে আমার গাড়িতে পৌঁছে দিতে পারি।'

তাসনিয়া রিফাতের কথার প্রত্যুত্তরে বলল,

'না, আপনার গাড়িতে যাব না। আমি রিকশায় যাব।'

'কিন্তু এই বৃষ্টিতে রিকশা পাওয়া মুশকিল।'

'সমস্যা নেই আমি অপেক্ষা করছি। একটা না একটা রিকশা ঠিক আসবেই।'

রিফাত বুঝল তাসনিয়া তার গাড়িতে যেতে চায় না। সে আর জোর করল না। সামনের দিক থেকে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে এনে মেয়েটার দিকে তাকালো। বৃষ্টির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফোঁটা মেয়েটার উপরে পড়েছে। ফর্সা মুখটাও একটু লাল লাল হয়ে আছে। রিফাতের কপালে ভাঁজ পড়লো৷ সে মেয়েটার সাথেই তাল মিলিয়ে হাঁটছে। বৃষ্টি আরো জোরালো হলো। এবার তাদের কাপড়ও ভিজতে শুরু করল। তাদের থেকে কিছুটা দূরে একটা রিকশা দেখা গেল। রিকশাটা প্রথমে তাসনিয়ারই চোখে পড়লো।

'এই রিকশা।'

তাসনিয়া জোরেই ডাক দিলো। রিফাতও রিকশাটা দেখে নিজের হাত নাড়ল। রিকশাওয়ালা মামা তাদেরকে দেখতে পেলো। সে তাদের কাছে এসে তাদের সামনে থামল। রিকশাওয়ালা মামা জিজ্ঞেস করল,

'কই যাবেন?'

তাসনিয়া তার গন্তব্যের নাম বলল। রিকশাওয়ালা কেমন চোখে তাসনিয়ার দিকে তাকালো। সেটা রিফাতের চোখে পরলো। রিকশাওয়ালা মামা জিজ্ঞাসা করল,

' দুজনে যাবেন?'

তাসনিয়া নাতে মাথা দুলিয়ে বলল,

' না মামা, আমি একা। '

সেটা শুনে রিকশাওয়ালা মামা বলল,

'উঠেন আপা।'

তাসনিয়া রিকশায় উঠতে যাচ্ছিল কিন্তু হুট করেই রিফাত তার হাত ধরল।

'তাসনিয়া, আমি তোমার সাথে যেতে পারি।'

তাসনিয়া তার দিকে তাকাল।সে অনেকটা অপ্রতিভ হয়ে পরলো। তাসনিয়া দেখলো বাহিরের বৃষ্টির মাত্রা আগের থেকে অনেক বেড়ে গেছে। লোকটা এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে ভিজে একাকার হয়ে যাবে।

' তাড়াতাড়ি উঠেন।'

দু'জন রিকশায় উঠল। রিকশাওয়ালা রিকশার হুড তুলে দিল। তারপর রিকশা চালাতে শুরু করল। তাসনিয়া আর রিফাত পাশাপাশি বসে আছে। রিফাত নিজের পকেট থেকে রুমাল বের করে সেটা তাসনিয়ার দিকে বাড়িয়ে দিলো।

' এটা নাও।'

তাসনিয়া আঁড়চোখে লোকটার দিকে তাকালো। সে আস্তে করে হাত বাড়িয়ে লোকটার হাত থেকে রুমালটা নিলো। রুমালটা নিতে গিয়ে লোকটার হাতের সাথে তার হাতের স্পর্শ লাগলো। রিফাত তাসনিয়ার দিকেই তাকিয়ে রয়ল। মেয়েটা তার হাত থেকে রুমালটা নিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। রিফাতের পাশে বসে তার এই বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তা, গাছপালা সবকিছু ভালো লাগছে। মনের মধ্যে অন্য রকমের অনুভূতি খেলে গেলো। মেয়েটাকে নিরলস ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখে রিফাত বলে উঠলো,

'তাসনিয়া।'

তাসনিয়া রিফাতের ডাক শুনে আগ্রহ নিয়ে সে তার দিকে তাকাল।

'তুমি কি আমার কথায় মন খারাপ করেছ?'

রিফাতের এমন প্রশ্ন তাসনিয়ার কাছে অত্যন্ত হাস্যকর ঠেকালো । রিফাত কপাল কুঁচকে তীর্যক ভাবে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে।

'না। মন খারাপ করিনি।'

'তাহলে তুমি এত চুপচাপ কেন?'

' কী করতে বলছেন এখন?'

তাসনিয়া বেশ রসিকতার ছলে জিজ্ঞাসা করল।

রিফাত তাসনিয়ার হাতের মধ্যে নিজের হাত রাখল। রিফাতের এমন কাছে নিমেষেই তাসনিয়ার হৃদয়ের গতি নিয়ন্ত্রণ হারা হয়ে পড়লো। কিন্তু সে লোকটার হাতের মধ্যে থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে আনলো না ।

' আমাকে একটা সুযোগ দেবে?'

তাসনিয়ার মুখ এবার রক্তশূণ্য, ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। সে ছেলেটাকে বলবে কী করে? সেও প্রথম দিন থেকে ছেলেটাকে অল্প অল্প পছন্দ করে তা যা এখন সময়ের সাথে ভালোবাসায় পরিবর্তন হয়ে গেছে। লজ্জায় তাসনিয়ার উজ্জ্বল চেহারাটা অনুজ্জ্বল, মলিন,বিবর্ণ হয়ে গেলো।

' একটাই কিন্তু। '

মেয়েটার থেকে রিফাত যে কখনো এমন কোনো উত্তর শুনবে সে কল্পনাও করেনি। মেয়েটার থেকে এমন একটা উত্তর শুনে সে বিচলিত কন্ঠে বলল,

'একটাই যথেষ্ট আমার জন্য।'

রিকশা চলতে লাগল। বৃষ্টি ধীরে ধীরে কমে এল। তারা তাসনিয়ার বাসার কাছে পৌঁছাল। রিকশা থামল। এই পথটুকুতে তারা আর কথা বাড়ালো না। রিকশা থামতেই তাসনিয়া রিকশা থেকে নামল।

'মামা কত?'

' পঞ্চাশ টাকা।'

'তুমি যাও আমি দিয়ে দিবনে।'

রিফাত তাসনিয়াকে ভাড়া দিতে দেখে উসখুস করে বলে উঠলো।

' সমস্যা নেই আমি দিচ্ছি। '

' ঠিক আছ বাসায় পৌঁছে আমাকে একটা মেসেজ দিও।'

রিফাত গলার স্বর স্বাভাবিক রেখেই বলল।

তাসনিয়া ভাড়াটা দিয়ে সামনের দিকে পা বাড়িয়ে বললো,

'ঠিক আছে।'

'আর তাসনিয়া?'

'হ্যাঁ?'

'আমি আজ যা বললাম, সেটা নিয়ে চাপ নিও না কোনো। '

রিফাত একটু মুখ ছোট্ট করে কথাটা বলল। তাসনিয়া একটু হাসল ছেলেটার মুখ দেখে,

'ঠিক আছে। বাই।'

'বাই।'

রিফাত নিঃসংকোচে হাত নাড়িয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রয়লো। তাসনিয়া তার বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল। রিফাত তার দিকে তাকিয়ে রইল। যতক্ষণ না মেয়েটা বাড়ির ভেতরে ঢুকল। তারপর সে রিকশাওয়ালাকে বলল,

'চলেন,মামা।'

রিকশা চলতে শুরু করল। রিকশা রিফাতের বাসার দিকে এগিয়ে চলতে লাগলো। বৃষ্টি কিছুক্ষণ আগেই থেমে গেছে। বৃষ্টির পর রাস্তা ভেজা, চারপাশে একটা সতেজ-সতেজ ভাব। রিফাত এই শান্ত, পরিষ্কার পরিবেশ, পরিষ্কার বাতাসে গভীর শ্বাস নিল। আজকের দিনটা তার জন্য একেবারে অন্যরকম ছিলো। একটা অপ্রত্যাশিত একটা দিন কিন্তু সুন্দর। খুবই সুন্দর। মেয়েটার কথা মনে পড়তেই রিফাতের ঠোঁটের কোণে একটা ছোট্ট মিষ্টি হাসি খেলে গেলো।

#প্রিয়_অক্টোবর

#সাদিয়া_তাসনিম

৩৫. দ্বিতীয় অংশ

তাসনিয়া বাসায় ঢুকেই দেখলো তাসনিফা সোফায় বসে টিভি দেখছে। তাসনিয়া কাক ভেজা হয়ে বাসায় ঢুকতে দেখে তাসনিফা লাফ দিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসল। তাসনিফা এগিয়ে এসে তাসনিয়ার দিকে তীক্ষ্ণ চাহনি নিক্ষেপ করে বলল,

' এতো ভিজলি কেমনে? ছাতা নিয়ে যাসনি নাকি?'

তাসনিয়া বিষণ্ণ মুখে মাথা নাড়ল। সে জুতো খুলে ভেতরে ঢুকে এল। তাসনিফা তাড়াতাড়ি রুম থেকে একটা তোয়ালে নিয়ে এসে বোনের হাতে দিল।

' যা গিয়ে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আস নাহলে ঠান্ডা লেগে যাবে।'

তাসনিয়া তোয়ালেটা নিয়ে নিজের চুলগুলো মুছে নিলো। তারপর রুমের দিকে পা বাড়ালো। সে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে গোসল করে এল।তাসনিয়া গোসল করার পর অনেকটা হালকা বোধ করল । নীল রঙের একটা সালোয়ার-কামিজ পরে চুল মুছতে মুছতে বিছানায় এসে বসল। হুট করে তার মনের মধ্যে একটা ঝড় বইছে। রিফাতের কথাগুলো বারবার তার কানে বাজছে। "আমি তোমাকে পছন্দ করি তাসনিয়া, হয়তো ভালোবাসি।" এই কথাটা শুনার পর থেকে তার বুকের মধ্যে কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি দোলা দিচ্ছে। সে জীবনে প্রথমবারের মতো এমন অনূভুতিতে, এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে সে। তাসনিয়ার মস্তিষ্ক অচল হয়ে পড়লো। সে বিছানায় শুয়ে পড়ল,চোখ বন্ধ করে নিলো কিন্তু কিছুতেই সে মনের চঞ্চলতা কমাতে পারলো না। রিফাতের সেই গভীর চোখের চাহনি, তার শক্ত পুরুষালি কণ্ঠস্বর, হাতের মৃদু স্পর্শ সবকিছু এখনো তার শরীরে অনুভূত হচ্ছে। তাসনিয়ার হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক হলো। সে এবার লজ্জায় বালিশে মুখ লুকাল।

তাসনিফা রুমে ঢুকে বোনকে এভাবে বালিশে মুখ গুঁজে থাকতে দেখে নিজের ভ্রু কুঁচকে নিলো।

'কী হলো? এভাবে শুয়ে আছিস কেন?'

তাসনিয়া বোনের ডাকে বালিশ থেকে মুখ তুলে বোনের দিকে তাকাল। তাসনিফা তার পাশে এসে বসল। তাসনিয়ার লাল হয়ে ওঠা চেহারা দেখে তাসনিফার কপালে ভাঁজ পড়ল।

' তোর মুখটা এত লাল হয়ে আছে কেন? জ্বর আসলো নাকি?এইটুকু বৃষ্টির পানি মাথায় লাগতে না লাগতে জ্বর বাঁধিয়ে বসেছিস?'

তাসনিফা চিন্তিত গলায় কথাগুলো বলে হাত বাড়িয়ে তাসনিয়ার কপালে হাত দিল। তাসনিয়া তাড়াতাড়ি বোনের হাত সরিয়ে দিল। তারপর অত্যন্ত ঠান্ডা গলায় বলল,

' না রে, জ্বর হয়নি। আমি ঠিক আছি।'

'তোর মুখ দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে। সত্যি করে বল তো কী হয়েছে? '

তাসনিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তাসনিফা তার মুখ থেকে সবটা শোনার জন্য তারই পাশে গোঁ ধরে বসে রইলো। তাসনিয়া বোনের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে বলল,

' তাসনিফা জানিস, আজ অনেক কিছু হয়েছে।'

তাসনিফা এইটুকু শুনেই আরো কিছু শোনার জন্য বেশ আগ্রহী হয়ে উঠল। সে বোনের আরো কাছ ঘেঁষে বসল।

'কী হয়েছে তাড়াতাড়ি বল। আমি শোনার জন্য মরে যাচ্ছি। '

তাসনিফা গদগদ হয়ে বলে উঠলো। তাসনিয়া তাসনিফার এতো আগ্রহ দেখে একটু হাসল। সে উঠে বসল। তারপর ধীরে ধীরে পুরো ঘটনা তাসনিফাকে বলতে শুরু করল। কীভাবে লিফটে রিফাতের সাথে দেখা হলো, কীভাবে লিফট আটকে গেল, কীভাবে রিফাত তাকে প্রপোজ করল, কীভাবে তারা একসাথে রিকশায় বাসায় ফিরল সবকিছু। কথাগুলো বলার সময় তাসনিয়ার গাল লাল হয়ে যাচ্ছিল। তাসনিফা মুখ হা করে বোনের কথা শুনতে লাগলো। তাসনিয়া যখন রিফাতের প্রপোজের কথা বলল,তখন তাসনিফা প্রায় চিৎকার করে উঠল।

' সত্যিই ওই ছেলেটা তোকে প্রপোজ করেছে?'

তাসনিয়া লজ্জায় মাথা নিচু করে হুম বলল। তাসনিফা খুশিতে লাফিয়ে উঠল। রিফাতের কথা ভাবতেই তাসনিয়ার অন্তঃকরণে বৃষ্টি নামলো। তার হৃদয় শীতল হলো।

তাসনিফা বোনের দিকে তাকালো তারপর ধিমে আসা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

' তুই কী বললি?'

'আমি বললাম তাকে একটা সুযোগ দিব।'

তাসনিয়া বোনের দিকে কোনো প্রকার চাহনি নিক্ষেপ না করেই বলল। তাসনিফা আঁড়চোখে বোনের দিকে তাকালো তারপর দুষ্টুমি করে বলল,

' আহারে যে মেয়ে বলত সে কখনো প্রেমে পড়বে না, সেই মেয়েই আজ প্রেমে পড়ে গেল। '

তাসনিয়া বেয়াদবটার কথায় বাজেভাবে লজ্জায় পরে গেলো। তার গালটাও আরো বেশি লাল হয়ে উঠল। সে বালিশ তুলে তাসনিফার দিকে ছুঁড়ে মারল। চেতে যাওয়া কন্ঠে বলল,

' খেপাস না তো৷ '

তাসনিফা হাসতে হাসতে বালিশটা ধরল। তারপর বোনের পাশে এসে বসে তার কাঁধে হাত রাখল।

'ঠিক আছে বাবা, আর খেপাব না। কিন্তু সিরিয়াসলি বল তো, তুই তাকে নিয়ে কেমন অনুভব করিস?'

তাসনিয়া কিছু বললো না। সে চুপ করে বসে রয়লো। তার কাছে উত্তর আছে তবে কথাটা বলতে তার বেশ লজ্জা লাগছে।তাসনিফা বোনের হাতটা ধরে মৃদু কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল,

'তুই কি রিফাতকে পছন্দ করিস?'

তাসনিয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে রিনরিন কন্ঠে আওড়াল,

' আমি ওকে ভার্সিটির প্রথম দিন থেকেই পছন্দ করতাম তাসনিফা। বলতে পারিস অনেক পছন্দ করি। হয়তো ভালোও বাসি। প্রথম দিন থেকেই তাকে আমার একটু অন্যরকম লাগত। কিন্তু আমি কখনো ভাবিনি সে আমার সম্পর্কে এমন কিছু অনুভব করবে। সবসময় ভেবেছি আমার অনুভূতিগুলো একতরফা। '

তাসনিফা বোনের কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ল। সে তাসনিয়াকে জড়িয়ে ধরল। সে বুঝলো তার বোনটা আজ অনেক বেশি খুশি। সে মেয়েটার কাঁধে নিজের মাথা রেখে আপ্লুত কন্ঠে বলল,

' আমি খুব খুশি হয়েছি তোর জন্য তাসনিয়া। তোর কথাগুলো শুনে ছেলেটাকে তো ভালোই মনে হলো। '

তাসনিয়া তাসনিফার কাছ থেকে আলগা হয়ে বলল,

' ও ভালো তা কিভাবে বুঝলি?'

'ছেলেটা নিজে প্রপোজ করার পরও তোকে কোনো প্রকার চাপ দেয়নি উল্টো বলেছে তুমি সময় নাও ভাই এটাই তো বড় একটা বিষয় একজনকে চেনার জন্য। '

তাসনিয়া কথাটা শুনে একটু চুপ হয়ে গেলো। তাসনিফা আবারও বোনের কাঁধে হাত রেখে গম্ভীর গলায় বলল,

'শোন ভাউ, প্রেম একটা সুন্দর জিনিস কিন্তু সেই সাথে এটা অনেক বড় দায়িত্বও। তুই যখন কাউকে ভালোবাসবি, তখন তোকে তার প্রতি সৎ থাকতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, তোকে নিজের প্রতি সৎ থাকতে হবে।'

তাসনিয়া মনোযোগ দিয়ে বোনের কথা শুনছিল। তাসনিফা বোনের হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে আবারও বলল,

' ভাইয়াটা তোর কাছে একটা সুযোগ চেয়েছে। এখন তোর উপর নির্ভর করছে তুই কীভাবে এই সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যাবি। ভালোবাসার সাথে বিশ্বাস, সম্মান, যত্ন, বোঝাপড়া সবকিছু একযোগে মিলে থাকে। আশা রাখি যা হবে ইনশাআল্লাহ ভালোই হবে৷ '

তাসনিয়া বিস্তর হেঁসে বোনের দিকে তাকালো। বোনের এমন আন্তরিক কথা শুনে তার মন ভরে গেল। সে তাসনিফাকে জড়িয়ে ধরল। সে দুর্বোধ্য হেঁসে বলল,

'থ্যাংক ইউ ভাই।'

তাসনিফাও বোনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

'আমি সবসময় তোর পাশে আছি। তুই যা-ই করিস না কেন, আমি তোর সাথে আছি। তুই খুশি থাকলে আমিও খুশি আপু।'

......

তাসনিয়া আজও তার নিয়মিত প্রাইভেট পড়ানো শেষ করে বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে এল। লিফট থেকে নেমে তাসনিয়া বিল্ডিংয়ের বাইরে পা রাখল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল একজন পরিচিত মানুষের দিকে। তাসনিয়া কিঞ্চিৎ ভ্রু কুঁচকে লোকটার দিকে তাকিয়ে রয়ল। রিফাত বিল্ডিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তাসনিয়াকে সামনের দিক থেকে আসতে দেখেই রিফাতের মুখে হাসি ফুটে উঠল। মেয়েটাকে এখানে দেখে তার মনটা পুলকিত হয়ে উঠলো। সে এগিয়ে গিয়ে গদগদকণ্ঠ বলল,

' তাসনিয়া।'

' তুমি এখানে? বন্ধুর বাসায় এসেছো নাকি?'

রিফাত একটু লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকাল। তার যে আজ কাল কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে সে নিজেও বুঝতে পারছে না। আজকাল তার মস্তিষ্কে প্রচন্ড দ্বিধাদ্বন্দ কাজ করে। রিফাত মেয়েটার দিকে আরো একটু এগিয়ে এসে ভ্রুঁ কুঁচকে জিজ্ঞাসা করল,

' আজ ভার্সিটিতে আসনি কেন?'

আজ ভালোই রৌদ্র। পরিবেশ তপ্ত না হলেও রোদটা গায়ে লাগছে। তাসনিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে রিকশা দেখতে দেখতে উত্তর দিলো,

' বোনের সাথে বাহিরে গিয়েছিলাম তাই যাওয়া হয়নি। কিন্তু তুমি এখানে কেন?'

রিফাত তাসনিয়ার কথায় তৎক্ষনাৎ কোনো উত্তর দিতে পারলো না। তবে একটু সময় নিয়ে দুই অধর নেড়ে বলে উঠলো,

' না আসলে আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।'

তাসনিয়া লোকটার সোজাসাপটা উত্তর শুনে চোখ বড় করে নিল। তারপর নিজের হৃদয়ের গতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ধিমে যাওয়া কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল,

'আমার জন্য? কেন?'

রিফাত নিজের পকেট থেকে একটা জিনিস বের করে তাসনিয়ার সামনে ধরল। তাসনিয়া চোখ মেলে সেটা দেখলো। এটা তার হাতঘড়ি।

'এটা। তুমি গতকাল লাইব্রেরিতে ফেলে এসেছিলে। টেবিলের উপরে পড়ে ছিল। আমি দেখে তুলে নিয়েছিলাম। ভাবলাম আজকে তোমাকে ফেরত দিয়ে দিব কিন্তু তুমি তো ভার্সিটিতে আসলে না তাই আমিই এখানে চলে আসলাম।'

রিফাত মেয়েটার দিকে ঘড়িটা বাড়িয়ে দিয়ে কোমল গলায় বললো।

তাসনিয়া ঘড়িটা কাল থেকে খুঁজে পাচ্ছিলো না। মনে করেছিলো হয়তো বাসায় আছে কিন্তু এটা যে লাইব্রেরিতে সেটা কে জানত। সে খেয়ালই করেনি যে কখন খুলে গেছে। তাসনিয়া ঘড়িটা নিল। তাসনিয়া নরম,নম্র কন্ঠে বলল,

'থ্যাংক ইউ। আমি তো খেয়ালই করিনি কখন খুলে গেছে।'

'ভালো হয়েছে ঘড়িটা আমার চোখে পড়েছে নাহলে হারিয়ে যেত।'

তাসনিয়া ঘড়িটা হাতে পরতে গেল কিন্তু পারল না। বাকলটা খুব ছোট্ট, একা একা পরা মুশকিল। রিফাত লক্ষ্য করল। রিফাত দুই অধর নেড়ে বলল,

'আমি কি সাহায্য করতে পারি?'

তাসনিয়া একটু ইতস্তত করল। তারপর মিনমিন করে বলল,

'হ্যাঁ।'

রিফাত এগিয়ে এসে ঘড়িটা নিয়ে তাসনিয়ার হাতে পরিয়ে দিল। তাসনিয়া অক্ষিপটে একরাশ স্নিগ্ধতা নিয়ে রিফাতের দিকে তাকিয়ে রয়ল। রিফাত ঘড়িটা পরিয়ে দিয়ে হাত সরিয়ে নিল।সে গাঢ় স্বরে বলল,

'হয়ে গেছে।'

তাসনিয়া ঘড়িটার দিকে তাকাল। নরম গলায় আওড়ালো,

'এটা আমার ভাইয়া আমাকে দিয়ে। আমার কাছে ঘড়িটা খুব প্রিয়।'

রিফাতের মুখে কোমল হাসি ফুটে উঠল। রিফাত মেয়েটার দিকে ঝুঁকে আসল। এবার তাসনিয়ার দম প্রায় আটকে গেলো। সে স্থির হয়ে রইল। ছেলেটা কাছে আসলে সে কেমন যেনও পাথর বনে যায়। সুঠাম, তাগড়া,সুগঠিত দেহের অধিকারী রিফাত মেয়েটার দিকে ঝুঁকে তার হিজাবের উপর থেকে পাতা ফেলে আবারও সোজা হয়ে দাঁড়ালো। বাতাস কখন যে একটা ছোট্ট আকৃতির পাতা তার হিজাবের উপর এসে পড়েছে সে নিজেও জানে না। রিফাত তাসনিয়ার পানে দৃষ্টি মেলে বলল,

'তাহলে ভালোই হলো আমি পেয়েছি। আচ্ছা এখন তুমি কোথায় যাবে?'

'বাসায়। আর আপনি?'

এই ঘটনার ফলে তাসনিয়া একটা অস্বস্তিতে পড়ে গেলো। সে একটু ইতস্তত করে কথাটা বলল। রিফাত মেয়েটার উত্তর শুনে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলল,

'আমিও বাসায় যাব। চলো একসাথে হাঁটি?'

তারা দু'জন হাঁটতে শুরু করল। তাসনিয়া সামনে হাঁটছিল। রিফাত তার পিছু পিছু আসছিল। রাস্তায় বেশ ভিড়। লোকজন ব্যস্ত হয়ে চলাচল করছে। দোকানপাটে জমজমাট ভিড় হয়ে আজ। বিকালের এই সময়ে এই পাশটা সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে। রিফাত তাসনিয়ার পাশে এসে তার সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে লাগল। 'তাসনিয়া।'

তাসনিয়া তার দিকে না তাকিয়েই উত্তর দিলো,

'হ্যাঁ?'

' আমাদের বিষয়টা নিয়ে তুমি কি ভেবেছ?'

রিফাত মেয়েটার দিকে অনেক আশা নিয়ে রিনঝিনে কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল। তাসনিয়া এবার চোখ তুলে তার দিকে তাকাল। তারপর সামনে তাকাল। লোকটা এখনো তার মনের কথা বুঝতে পারেনি? তাসনিয়া একটা সূক্ষ্ম নিঃশ্বাস ছাড়লো। সে কিছুটা নিরাশ হয়েই বলল,

'এখনো ভাবছি। এটা একটা বড় সিদ্ধান্ত। এখানে আমি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না।'

রিফাত আঁড়চোখে তাসনিয়ার দিকে তাকালো। সে ঠোঁটের কোণে চমৎকার একটা হাসি টেনে বলল,

'ঠিক আছে,আমি বুঝতে পারছি। তুমি যতদিন চাও ততদিন সময় নাও। আমি তাড়া দিচ্ছি না।'

' তুমি আমাকেই কেন পছন্দ করো?'

তাসনিয়া হঠাৎ করেই রিফাতকে কথাটা জিজ্ঞেস করল। রিফাত স্নিগ্ধ চোখে মেয়েটার দিকে চেয়ে তার মুখটা দেখতে লাগলো। সে ফিক করে হেঁসে দিলো। মেয়েটার কাছে এসে তার কর্ণকুহরে ফিসফিস করে বলল,

' তোমার মাঝে কৃত্রিমতা নেই। তুমি যা তাই। তোমার চিন্তাভাবনা, তোমার মূল্যবোধ, সবকিছু আমার ভালো লাগে। তাছাড়া.... '

' তাছাড়া কী?'

' তোমাকে দেখলেই আমার মনটা ভালো হয়ে যায়।'

তাসনিয়া কিছু বলল না। সে রিফাতের কথাটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করলো। তার গালে হালকা লাল আভা ফুটে উঠল। রিফাত তা লক্ষ্য করে মনে মনে হাসল। মেয়েটার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি দেখে রিফাতের মনের অভ্যন্তরে ভালো লাগা খেলে গেল। তারা দুজনে হাঁটতে হাঁটতে একটা ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়াল। এখন রাস্তা পার হতে হবে। রাস্তায় বেশ ভিড়। তারা দুজনে সিগন্যাল বন্ধ হওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইল।

কিছুক্ষণ পরে সিগন্যাল লাল হলো। মানুষজন রাস্তা পার হতে শুরু করল। তাসনিয়াও এগিয়ে গেল। রিফাত তার পাশে পাশে হাঁটতে লাগল। হঠাৎ একটা বাইক খুব জোরে এসে তাসনিয়ার পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিল। রিফাত তাড়াতাড়ি তাসনিয়ার হাত ধরে টেনে নিজের দিকে নিয়ে আনল। বাইকটা তাদের পাশ দিয়ে চলে গেল। তাসনিয়া এমন কান্ডে সামনের দিকে হোঁচট খেল। রিফাত তাকে সামলে দিল। তাদের মধ্যে খুব কম দূরত্ব। তাসনিয়া রিফাতের দিকে তাকাল। তাসনিয়া হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে গেলো। সে রিফাতের হাত থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিল কিন্তু রিফাত একটা অদেখা অধিকারবোধ নিয়ে তার হাতটা আবার ধরল। তাসনিয়া এবার কিছু বলল না। তারা রাস্তা পার হলো। অন্য পাশে এসে রিফাত তার হাত ছেড়ে দিল। তারা দুজনে আবার সামনের দিকে হাঁটতে লাগলো। তারা একটা লেকের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। রিফাত সামনের দিকে কিছু একটা দেখতেই হাত ধরে তাসনিয়াকে দাঁড় করিয়ে দিলো। তাসনিয়া ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে রয়ল।

' একটা জায়গায় যাবে?'

তাসনিয়া নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,

' কোথায়?'

'এখানে কাছেই একটা দোকান আছে। সেখানে খুব ভালো ভর্তা মাখা পাওয়া যায়। '

' তুমি এসব পছন্দ করো?'

' না করার কী আছে? অনেক মজা। একবার একটা বন্ধু সাথে খেয়েছিলাম।'

রিফাত তাসনিয়াকে কিছু বলার সুযোগই দিলো না। সে একটা ছোট্ট দোকানের সামনে তাকে এনে দাঁড় করালো। একজন বয়স্ক মানুষ দোকানটা চালাচ্ছে।

'চাচা, দুই প্লেট মাখা দেবেন?'

রিফাত বয়ষ্ক লোকটাকে দেখে হেঁসে কথাটা বলল।

'একটু অপেক্ষা করো বাবা।'

' আস্তে আস্তে করেন চাচা। আমার অপেক্ষা করছি সমস্যা নেই।'

পাঁচ মিনিটের মধ্যে দোকানদার তাদেরকে দুই প্লেট মাখা করে দিল। রিফাত টাকা দিয়ে দুটো প্লেটই নিল। সে একটা তাসনিয়ার দিকে বাড়িয়ে দিলো।

'খেয়ে বলতো কেমন।'

তাসনিয়া রিফাতের হাত থেকে প্লেটটা নিল। তারপর ভর্তাটা খেলো। তেঁতুল, কাঁচা কলা, চালতা, জলপাই, মরিচসহ আরো বিভিন্ন জিনিস দিয়ে করা মাখাটা খেতে খুবই ভালো লাগলো তার।

রিফাত তাসিময়াকে কিছু বলতে না দেখে জিজ্ঞাসা করল,

' কেমন?'

' অনেক ভালো।'

'বলেছিলাম না? এখানকার মাখা সবচেয়ে ভালো।'

তারা দু'জন মাখা খেতে খেতে হাঁটতে শুরু করল। সামনে একটা ছোট্ট লেক। লেকের চারপাশে গাছপালা। একটা হাঁটার পথ আছে লেকের ধারে। অনেক মানুষ সেখানে হাঁটছে। কেউ বসে আছে। কেউ কথা বলছে।

'চলো, লেকের পাশ দিয়ে যায়?'

'হ্যাঁ, চলো।'

তারা দুইজনে চুপচাপ লেকের পাশের পথের উপর উঠে পরলো। এই রাস্তাটা বেশ প্রশস্ত। রাস্তার দুপাশে গাছ লাগলো। লেকের পানিটা আজ অনেক পরিষ্কার। পরিষ্কার পানিতে বিকালের সূর্যের আলো পড়ে তার ঝিকমিক ঝিকমিক করছে। আজ এখানে অন্য দিনের মতো এতোটা লোকজন নেই। আজকের পরিবেশটা খুব শান্ত৷ রিফাত সামনের দিকে যেতে যেতে জিজ্ঞাসা করল,

' জায়গায়টা সুন্দর না?'

'হুম।'

' আমি মাঝে মাঝে এখানে আসি। মন খারাপ থাকলে বা একা থাকতে চাইলে এখানে চলে আসি। এই লেকের পাশে বসে থাকলে মনটা শান্ত হয়ে যায়।'

'আমিও এরকম জায়গা পছন্দ করি। শান্ত, নিরিবিলি জায়গা। যেখানে শুধু নিজের সাথে সময় কাটানো যায়।' তাসনিয়া চারিপাশ দেখতে দেখতে বলল।

তাসনিয়ার কথা শুনে রিফাত ঘাড় ঘুরিয়ে মেয়েটাকে দেখলো। তারা লেকের পাশ দিয়ে হাঁটতে লাগল। মাখা খেতে খেতে বিভিন্ন কথা বলতে লাগল।

' তাসনিয়া চলো একজায়গায় বসি।'

রিফাত নম্রতার সাথে প্রস্তাবটা দিলো। তাসনিয়া প্রস্তাবটা ফেলতে পারলো না। তারা একটা বেঞ্চে বসলো। রিফাত হুট করে মেয়েটার দিকে ঘুরে জিজ্ঞেস করল,

'তাসনিয়া, তোমার ভবিষ্যতের কী হওয়ার ইচ্ছে আছে?'

'শিক্ষক।'

' শিক্ষকতা একটা ভালো পেশা। '

' হুম। তোমার স্বপ্ন কী?'

রিফাত নিচের ঠোঁটে কামড় দিয়ে কিছু একটা ভেবে বলল,

'আমার স্বপ্ন হলো নিজের পায়ে দাঁড়ানো। বাবার ব্যবসাটাকে আরো বড় করা। আর আমি যাকে ভালোবাসবো তার সাথে সারাজীবন সুখে থাকা, তাকে ভালো রাখার চেষ্টা করা।'

রিফাতের কথাগুলো শুনে তাসনিয়া তার দিকে তাকাল। রিফাতও তার দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলল। দুজনের চোখাচোখি হলো। রিফাতকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে তাসনিয়া দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল। রিফাতের কথাগুলো শুনেনতাসনিয়ার মুখটা হা হয়ে গেলো। লোকটার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার তারিফ করতে মনে চাইলো কিন্তু করলো না। বিদুৎ গতিতে ছুটতে থাকা হৃদয়টাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে তাসনিয়া লেকের দিকে তাকিয়ে রয়ল।

চলবে...

[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন