ফন্ট সাইজ:
থিম:
সুখের নেশায়

পর্ব 18

লেখক: আসরিফা সুলতানা জেবা

সুখের_নেশায়
লেখিকাঃআসরিফা_সুলতানা_জেবা
২৫+২৬
পর্ব___২৫

চৈত্রিকা অফিসে ঢুকেই সম্মুখীন হলো মোনার। মোনা অন্যান্য নতুন কর্মচারীদের দের কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে। চৈত্রিকা চারপাশে চেয়ে দেখে যে যার কাজে নিমগ্ন। মোনা অন্যদের সাথে হেসে খেলে কথা বললেও তার সাথে বলছে না। বাধ্য হয়ে নিজেই এগিয়ে গেল। সালাম দিয়ে নম্র স্বরে প্রশ্ন করে চৈত্রিকা,

' কেমন আছেন ম্যাম?একচুয়ালি আমি কি কাজ করব বুঝতে পারছি না। যদি বলে দিতেন। '

মোনা বিরক্ত চোখে তাকায়। ক্রুদ্ধ কন্ঠে বললো,

' নিজের পজিশন জানো তো?'
' ইয়েস ম্যাম। '
' যাও স্যারের কফি দিয়ে আসো। আর আমার ডেস্কের উপর একটা ফাইল আছে সাইন করিয়ে আনবে।

মোনার সহকারী এসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে চৈত্রিকাকে। মোনার আন্ডারে তার সকল কাজ। ইন্টার পাস মেয়ের ক্ষেত্রে এই কাজটা একটু বেশিই উঁচুমানের। মোনার সাহস হচ্ছে না সাফারাতের সেই ওয়ার্নিং এর পর দ্বিতীয় বার তাকে ফেস করার। তবে তার এটিটিউডে চরম ফিদা হয়ে গিয়েছে মোনা। আপাতত চৈত্রিকাকে দিয়ে কাজ চালানো যাক। তাকে এড়িয়ে গেছে তার মানে চৈত্রিকাকেও লাই দিবে না।

চৈত্রিকা মৌন মুখে প্রস্থান করে। কানাঘুঁষায় শুনেছে আজ মিটিং আছে। এসেছে প্রায় বিশ মিনিট হবে কিন্তু সাফারাতের দেখা মিলে নি। সরাসরি ওর কক্ষেও যেতে পারছে না, কে কি বলে বসে চরিত্রে দাগ লাগিয়ে দেয় বলা তো যায় না৷ কেউ তো জানে না চৈত্রিকা সাফারাতের বউ। সবাই উল্টো টায় ভেবে বসবে। চরিত্রহীনার তকমা লাগিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করবে না। ক্যান্টিনে কফি নেবার সময় একটা ছেলে পাশে এসে দাঁড়াল। নিজের জন্য কফি হাতে তুলে নিয়ে কন্ঠে অবাকতা নিয়ে ডেকে উঠল,

' চৈত্রিকা!'

নিমেষে চৈত্রিকা পাশ ফিরে তাকালো। নিস্তব্ধ, নির্বাক সে। হৃদস্পন্দন বেগতিক। ঠোঁট দুটো নড়ে উঠল ক্ষীণ।

' আপনি?'

মাথায় ঝাঁকড়া চুল। মুখে হাসি নিয়ে শ্যামলা বর্ণের একটা ছেলে চৈত্রিকার দিকে চেয়ে আছে নিষ্পলক। ছেলেটা কি চৈত্রিকার অস্ফুটস্বরে করা প্রশ্ন টা শুনতে পেয়েছে? হয়ত পায় নি। গলায় জোর বাড়িয়ে বললো,

' আপনি এখানে কি করছেন?'

' জব করছি। কয়েকদিন আগে এখানে জব হয়েছে আমার। এতো বছর কোথায় লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলে তুমি?দ্বিতীয় বর্ষে উঠে পড়া কেন ছেড়ে দিলে?ডু ইউ নো?আমি অনেক খুঁজেছি তোমাকে। মিহিতার কাছে অনেক রিকুয়েষ্ট করেছি তোমার এড্রেস টুকু দেওয়ার। মেয়েটা এতো ঘাড়ত্যাড়া দিলোই না আমাকে। বরঞ্চ অফিসেও আমার থেকে পালিয়ে বেড়াই। '

একটানা এতো প্রশ্নের ভিড়ে হারিয়ে যাবার জোগাড় চৈত্রিকার। শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। যার থেকে ভার্সিটিতে পালিয়ে বেড়িয়েছে সর্বদা, বছরখানেক ঘুরতেই মুখোমুখি সে। এই সেই সিনিয়র ভাই যার কথা মিহিতা কয়েকদিন আগও বলেছিল। চৈত্রিকার মনে আছে ছেলেটা ফার্স্ট ইয়ারের শুরু থেকেই পিছু ঘুরত তার। প্রেমের প্রস্তাব টা বার বার প্রত্যাখ্যান করেও শান্তি মেলে নি। ছেলেটার নাম তনয়। চৈত্রিকার নোটস তৈরি করে দিত বারংবার না করা সত্ত্বেও। ফুচকাওয়ালা কে টাকা দিতে দিত না৷ রিকশার ভাড়া মিটিয়ে দিত মাঝে মাঝে আগ বাড়িয়ে, জোর করে। ভার্সিটির গেইটে দাঁড়িয়ে থাকত চৈত্রিকার মুখদর্শন করার জন্য সকাল হতে। তার এতো চেষ্টা প্রতিবার পরাস্ত হয়েছে। মন গলে নি চৈত্রিকার। নরম হবেই বা কেমন করে?যার মনে একজনের বসবাস সবটা জুড়ে সেই মনে কি আর অন্যের নিমিত্তে জায়গা মিলে?

তুড়ি বাজানোর শব্দ কর্ণগোচর হতেই সম্বিৎ ফিরে পেল চৈত্রিকা। হকচকিয়ে গেল আচমকা এহেন কান্ডে। তনয় স্মিত হেসে বললো,

' তুমি আজও আগের মতো চুপচাপ। আজ নতুন জয়েন করেছ এখানে?'
'হুম। এখন যেতে হবে আমার। '

চৈত্রিকা তাড়া দিয়ে বলে উঠল। কন্ঠে অতীব উত্তেজনা । অফিসে একটা ছেলের সাথে এভাবে খোলামেলা কথা বললে অন্য কেউ খারাপ না ভাবলেও, সাফারাতের চক্ষুগোচর হতে সময় লাগবে না।

' ঠিক আছে যাও। পরে কথা হবে কিন্তু। আমার জবাবগুলো পাই নি। '

ঝটপট হাতে কফির মগ তুলে নেয় চৈত্রিকা। তনয়ের কথার প্রতিউত্তর না করে দ্রুত পায়ে চলে এলো। এক হাতে কফি, অন্য হাতে ফাইল নিয়ে উপস্থিত হলো সাফারাতের কেবিনের সামনে।
বুঝে পায় না ও সব ভেজাল কেন তার ঘাড়েই এসে চাপে!এই বিতৃষ্ণার জীবনে আর কত যে তিক্ততার বাকি আছে। হাতের উল্টো পিঠে বার কয়েক দরজায় করাঘাত করে। তৎপরে অপর পাশ হতে পুরুষালী ভরাট, গম্ভীর স্বর শোনা গেল।

' কাম ইন মিসেস চৈত্র। '

ঠোঁট দুটো আলগা হয়ে এল চৈত্রিকার। মগের হাতলে আবদ্ধ হাতটা হালকা ঢিলে হয়ে গেল। মাটিতে পড়ার আগেই কোনোমতে পুনরায় শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। সাফারাত না দেখে কি করে জানল ও এসেছে। টলমলে পায়ে দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করল। চোখে বিঁধে এক সুদর্শন, তাগড়া পুরুষকে। যার নজর নিবদ্ধ একটা ফাইলে। চৈত্রিকার বুক টা ধক ধক শব্দ করছে। মনে ঝড়ো হাওয়া বইছে। উথাল পাতাল অভ্যন্তর। এতো সুন্দর কেন সাফারাত? চৈত্রিকাও তার মতোন সৌন্দর্যে ভরপুর কিন্তু তা যেন ফিকে পড়ে যায় এই ছেলের সামনে।

' আপনি ওইখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?কাছে আসুন। '

অকস্মাৎ বাক্যে চৈত্রিকা আবারো হকচকালো, থমকালো। তন্মধ্যে সাফারাত মাথা তুলে তুখোড় দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তার দিকে। মুখে গম্ভীরতার ছাপ। ধূসর রঙা চোখ দুটো নিঃসন্দেহে এই মুহুর্তে যেকোনো মানুষকে ভস্ম করার ক্ষমতা রাখে। এতো রাগ কেন?ধীরস্থ, মন্থর গতিতে হেঁটে এসে টেবিলে ফাইলটা রেখে কফির মগ টা এগিয়ে দেয় চৈত্রিকা। অনতিবিলম্বে সাফারাত মগটা হাতে নেয়। চুৃমুক দিতে গিয়ে মুখের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনে। চৈত্রিকার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে অত্যন্ত শান্ত স্বরে বললো,

' আপনি প্রথমে চুমুক দিন। '

রুদ্ধদার অবস্থা চৈত্রিকার। ভিতরটা হাস ফাঁস করছে। অফিসের বসের কফি এঁটো করবে ও?কন্ঠনালিতে কথা জড়িয়ে এলো। বললো,

' কিন্তু স্যার,,!'

' আ'ম নট ইউর বস। আ'ম ইউর হাসবেন্ড। অফিস হোক কিংবা রাস্তাঘাট আমি আপনার হাসবেন্ড। সম্পর্ক, অধিকার, পরিচয় নিশ্চয়ই বদলে যাবে না। হাসবেন্ড কে হাসবেন্ড হিসেবে দেখতে শিখুন। '

গম্ভীরতার অতলে বুঝি ডুবে গেল চৈত্রিকা। বিনা বাক্যে মগে নরম,কোমল ওষ্ঠযুগল ডুবিয়ে দিল। এক চুমুকের বদলে দুই,তিন চুমুক খেয়ে ফেলল। হতে পারে ভয়ের তাড়নায়। আরেক চুমুক দিতে যাবে তার আগেই সাফারাত হাত থেকে মগ টা টেনে নেয়। কফিতে চুমুক বসিয়ে বলে উঠল,

' প্রতিদিন আমাকে কফি দেওয়ার পূর্বে আপনি খাবেন অর্ধেক টা। আবার আজকের মতো তিনভাগের দুইভাগ খেয়ে আমাকে একভাগ দিতে যাবেন না। '

চৈত্রিকা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল। সাফারাত কেন তার এঁটো কফি খাচ্ছে? প্রতিদিনই বা কেন খাবে?এই মানুষটার মতিগতি বুঝার সাধ্য আজো কি চৈত্রিকার হবে?মিহি স্বরে বললো,

' ক্যান্টিনে কফি আছে। আমি নিয়ে আসি আরেক কাপ আপনার জন্য। '
' ক্যান্টিনের সব কফিতে কি আপনার অধরযুগলের স্বাদ আছে চৈত্র মাস?'

চৈত্রিকার সমস্ত দেহ জুড়ে শিহরণ খেলে গেল। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মৃদু কেঁপে উঠল বোধহয়। সাফারাতের কথার মানে চট করে বুঝে নিল ও। দাঁড়িয়ে রইল ঠাঁই। সাফারাত কাছাকাছি এলো। হাত টেনে চেয়ারে বসিয়ে তীক্ষ্ন কন্ঠে বলে উঠল,

' অযথা পা গুলোকে ব্যাথা দিচ্ছেন। '

একটুখানি ঝুঁকে চৈত্রিকার কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল,

' তনয়ের সাথে কি কথা বলছিলেন আপনি এতক্ষণ যাবত?আপনারা কি পূর্বপরিচিত?'

মুহুর্তেই চৈত্রিকার নেত্রযুগল বৃহৎ হয়ে এলো। কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম। সাফারাত কি করে জানল?শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমেও মৃদু মৃদু ঘামছে সে। চৈত্রিকা কেন ভয় পাচ্ছে?সে তো এতো ভীতু নয়। সাফারাতকে পুনরায় হারানোর ভয় কি তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে ক্রমে ক্রমে?ভালোবাসায় বিশ্বাস থাকে। এখানে ভুল কেন বুঝবে? স্বাভাবিক কন্ঠে উত্তর দেয়,

'ভার্সিটির সিনিয়র ভাই হয়। '
' আপনার ধারে কাছে আমি ব্যতীত অন্য কেউ আসার সাহস যেন না পায় চৈত্র। ফলাফল খারাপ এবং খুবই জঘন্য হবে। '

সাফারাত কি থ্রেট দিল?চৈত্রিকা বুঝতে পারছে না। চেয়ার ছেড়ে উঠতেই সাফারাত একটা শপিং ব্যাগ এগিয়ে দিল। আদেশের সুরে বললো,

' সন্ধ্যায় রেডি থাকবেন। এক জায়গায় যাবো আমরা। '
_________________

লাল টুকটকে একটা জর্জেট শাড়ি পরিধান করে রেখেছে চৈত্রিকা। শাড়িটা মিশে আছে তার চিকন শরীরে। উন্মুক্ত চুলগুলো কোমর ছাড়িয়েছে। গাড়ির সিটে পড়ে আছে এলোমেলো হয়ে। ফর্সা চেহারায় লাল লিপস্টিক চৈত্রিকার অপরূপ সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছে। রেড চেরির ন্যায় লাগছে তাকে। এটা অবশ্যই মিমের জোরাজোরিতে দিয়েছে। সাজগোজ করার ইচ্ছে তো মাটিচাপা দিয়ে ফেলেছে সে। দূর থেকে হু হু করে বাতাস প্রবেশ করছে গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে। সন্ধ্যার রূপ চৈত্রিকার মন ছুঁতে পারছে না। সে তো ভাবনায় মগ্ন। একটাবারও সাফারাত ফিরে তাকালো না ওর দিকে। একবার চোখ পড়েছে কিন্তু তাতে মুগ্ধতা ছিল কি-না তা বুঝার আগেই দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। বিকেল অব্দি তো ঠিক ছিল।

গাড়ি এসে থামে একটা চিলেকোঠার সামনে। চৈত্রিকা চারদিকে চোখ বুলিয়ে বুঝতে পারে ঢাকা থেকে দূরে কোথাও এটা। গ্রামীণ পরিবেশ মনে হচ্ছে। নদীর ধারে ছোট ছোট চিলেকোঠার ঘর। খাবারের আয়োজনও আছে। মানুষের উপস্থিতি নেই তেমন একটা। ছোট্ট গেইট দিয়ে হাত ধরে সাফারাত ভিতরে নিয়ে এলো। মানুষের সংখ্যা ভিতরেও কম। আরেকটু ভিতরে যেতেই পিছন থেকে চোখে ফিতা বেঁধে দিল সাফারাত। চৈত্রিকা উদ্বিগ্ন স্বরে বলে উঠল,

' কি করছেন?'

সাফারাত জবাব দিল না। চৈত্রিকাকে ধরে আরেকটু সামনে নিয়ে এলো। অতঃপর পিছনে দাঁড়িয়ে ফিতা খুলে দিয়ে বললো,

' চোখ খুলুন। '

আঁখিপল্লব ঝাঁকিয়ে চোখ মেলল চৈত্রিকা। সামনে না তাকিয়ে উল্টো ঘুরে সাফারাতের দিকে তাকালো। কেন যে মনটা কু ডাকছে তার। তীব্র ভয় হচ্ছে। সাফারাতের জ্যাকেট টা আঁকড়ে ধরল দুর্বল হাতে। কাতর দৃষ্টিতে তাকালো।

' কি হলো?সামনে তাকান চৈত্র। '

মাথা নাড়িয়ে না করল চৈত্রিকা। মলিন স্বরে বললো,

' আমার সারপ্রাইজ ভয় লাগে সাফারাত। '
' আমি থাকতে কিসের ভয়? আর কিছু কিছু সত্যের মুখোমুখি হতেই হয়। যেটা আপনার প্রাপ্য সেটা আপনি পাবেন। পরিবারের জন্য কঠোর হওয়া মেয়েটার চোখে ভয় মানায় না। ঘুরে তাকান। '

চৈত্রিকা ঘুরে তাকালো। সঙ্গে সঙ্গে পুরো শরীর প্রবলভাবে কেঁপে উঠল ওর। পড়ে যেতে নিলে সাপোর্ট হিসেবে পায় সাফারাতের প্রশস্ত বুক,বলিষ্ঠ হাত দু'টো। নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছে না তার সামনে অতীতের পরিচিত একটা মানুষ দাঁড়িয়ে। ও তো ভুলেই গিয়েছিল এই মেয়েটাকে। মানুষটাকে দেখে ধাক্কা লাগে নি ওর। লেগেছে পুরোনো কিছু কথা মনে পড়ে। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে,

' সিনথিয়া?'

হাসিমুখে দাঁড়ানো মেয়েটা এগিয়ে এলো। চৈত্রিকার হাত টা আলতো করে ধরে বলে উঠল,

' অনেক বছর। অনেক বছর পর আমাদের দেখা হলো চৈত্র। অবশ্য প্ল্যান করেই হলো। সারপ্রাইজ হয়েছিস নিশ্চয়ই? '

সারপ্রাইজ? চৈত্রিকা রীতিমতো ধাক্কা খেয়েছে। সিনথিয়া ও সাফারাতের বিষয়টা কি করে ভুলে গেল ও এতবছরে? কেন একটা বারও মাথায় রইল না এতো বড় বিষয়টা? কলেজ লাইফে নিজেই তো উঠে পড়ে লেগেছিল সাফারাতকে রাজি করাতে সিনথিয়ার জন্য। আচ্ছা সেদিন বদ্ধ রুমে সাফারাত কি রাজি হয়েছিল?আবেগি বয়সে কত বড় ভুল করে বসল চৈত্রিকা!যদি সাফারাতের জন্য মনে জন্ম নেওয়া অনুভূতিগুলো আগে উপলব্ধি করতে পারত তবে কখনও সিনথিয়াকে ও সাফারাতকে কাছাকাছি আনত না।কখনও না। ভালোবাসার মানে তো আগে বুঝে নি ও। বুঝেছে সাফারাতকে হারিয়ে। সেদিন বদ্ধ রুমে কি হয়েছিল?তারপর থেকেই তো সিনথিয়া ও সাফারাত দু'জনের দেখা পায় নি আর চৈত্রিকা। মাথাটা ঘুরছে ওর। এই বুঝি বেহুঁশ হয়ে যাবে। জড়ানো কন্ঠে বলে উঠল,

' এতো,, এতো বছর দু'জনের যোগাযোগ ছিল?সেদিন,, সেদিন কি হয়েছিল?'

সাফারাত তাচ্ছিল্য হাসল। সিনথিয়ার হাসি উবে গিয়ে চেহারায় কাঠিন্য ভাব প্রতীয়মান হয়।

' সেদিন কি হয়েছিল? সেদিন আপনার জন্য সিলেট শহর ছাড়তে হয়েছে আমার চৈত্র। কলেজ ছাড়তে হয়েছে। আমি আপনাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতাম। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই তো ওইদিন আপনি আমার অগোচরে ছুরি গেঁথেছিলেন আমার হৃদয়ে। নষ্ট করেছেন আমাদের বন্ধুত্ব। আমার কষ্টের কারণ হয়েছিলেন। আমার জীবনের সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট মানুষ আমার মা'কে অপমানিত হতে হয়েছে আপনার কারণে। '

ক্রুদ্ধ কন্ঠে কথাগুলো বলে চৈত্রিকাকে নিজের থেকে সরিয়ে দেয় সাফারাত। বুকে হাজারো ছুরি গাঁথলে হয়ত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মানুষের মৃত্যু ঘটে। কিন্তু এ কেমন যন্ত্রণা অনুভব করছে চৈত্রিকা, যার কোনো ঘা নেই। শুধু দম বন্ধ হয়ে আসছে। চোখে ঝাপসা হয়ে ভাসছে সবকিছু। হাতড়ে সাফারাতকে পুনর্বার ধরতে চাইল। খুব একটা বেগ পোহাতে হয় নি। সাফারাত নিজেই টেনে কাছে নিয়ে এলো উম্মাদের ন্যায়। রোষপূর্ণ স্বরে বললো,

' আপনার সাথে তীব্র অভিমান আমাকে জার্মান পাড়ি জমাতে বাধ্য করেছে। ভেবেছিলাম প্রতিশোধ নিব। আপনার দুঃখের জীবনটাকে আরো দুর্বিষহ করে তুলব আমি। তখন মাথায় এলো সরাসরি আক্রমণের চেয়ে ধীরে ধীরে ভালোবাসায় মারা ভালো। কাউকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য প্রেম নামক অস্ত্র হতে বড় অস্ত্র আর হয় না চৈত্র। '

সুখের_নেশায়
লেখিকাঃআসরিফা_সুলতানা_জেবা
পর্ব___২৬

প্রতি/শোধ? প্রেম অস্ত্র? শব্দগুলো তীক্ষ্ণভাবে কর্ণে বিঁধছে চৈত্রিকার। হালকা লাল,নীল,হলদে দীপ্ততায় সাফারাতের মুখের কাঠিন্য ভাব চৈত্রিকার শ্বাস আঁটকে দিচ্ছে। ভেঙে পড়েছে মেয়েটা আজ সম্পূর্ণভাবে। যাকে আঁকড়ে ধরে সুখ খোঁজার চেষ্টা করে, সেই মানুষটাই কষ্ট দেয় বেশি। দুমড়েমুচড়ে দেয় অন্তর। চৈত্রিকার মনে হচ্ছে আজ তার বেঁচে থাকার কোনো কারণ নেই। কি করে এই প্রতি*শোধের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসবে ও?সাফারাত কি ভালোবাসে নি তাকে?অভিনয় করেছে মাত্র। কিভাবে মুছে দিবে অতীত থেকে সেই তিক্ত স্মৃতিটুকু! সাফারাতের বুকে মাথা এলিয়ে দিল। কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া করছে না সাফারাত। চৈত্রিকার মনে পড়ছে সেই দিনটা। যেদিন নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডকে অন্যের সাথে প্রেমের বন্ধনে জড়িয়ে দেবার তীব্র প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।

ইকোনমিকস প্রাইভেটের জন্য সকাল সকাল কলেজে এসে হাজির হলো চৈত্রিকা। আজ মনটা ভালো না একদম। গতরাত থেকে ইচ্ছে করছিল বাবার সাথে একটু কথা বলার। কিন্তু সাহস করে উঠতে পারে নি। তাছাড়া অন্য চিন্তায় ঘুম হারাম ওর। ব্যাগ রেখে বাহিরে এসে দেখে সাফারাত কলেজের একপাশে করা ফুল বাগানের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। চৈত্রিকা মিষ্টি হেসে বলে উঠল,
'গার্লফ্রেন্ডের জন্য ফুল চুরি করার ধান্দা? '
' না। গার্লফ্রেন্ডে এলার্জি আছে আমার। '
দুষ্ট হেসে প্রতুত্তর করে সাফারাত। চৈত্রিকা বাঁকা হেসে বললো,
' তাহলে আমি কি?'
' তুমি তো চৈত্র মাস। যাকে আমি কিস করতে পারব না। যখন তখন জড়িয়ে ধরতে পারব না। আর,,,!'
সাফারাত চৈত্রিকার মুখে দেখে কথাগুলো অসমাপ্ত রেখে দিল। মেয়েটার ফর্সা গাল দুটো টসটসে লাল হয়ে উঠেছে ইতোমধ্যে। মাথা চুলকে বললো,
' এইবার বুঝলে? '
চৈত্রিকা ঠোঁট উল্টে বলে উঠল,
' বুঝলাম। তবে আমাদের ক্লাসের সুন্দরী সিনথিয়া তো তোমার জন্য পাগলপ্রায়। ওকে গার্লফ্রেন্ড বানালেই তো পারো। কিস করতে পারবে কিন্তু! '
কথাটা বলেই চৈত্রিকা দাঁত কেলায়। সাফারাত ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,
' মন টানে না। '
' আমার টানে জানো?'
' হোয়াট?'
ভ্রুঁ উঁচিয়ে চাইল সাফারাত। দৃষ্টি প্রশ্নবিদ্ধ। চৈত্রিকার মুখের অবস্থা থমথমে। আমতা আমতা করে বললো,
' আরে সিনথিয়ার প্রতি না। সামনের ফুলগুলোর প্রতি। আমার খুব ইচ্ছে আমার জীবনে প্রণয়ের আরম্ভ টা ফুল দিয়ে হবে। '
' প্রেমে পড়লে নাকি চৈত্র মাস?'
' উহু!এমনি এমনি ফিলিংস। '
সাফারাতের হাসি পেল। চৈত্রিকা যদি রেগে যায় তাই অন্যদিকে চেয়ে হাসল। ঠিকি চৈত্রিকা দেখল তা। রাগ হলো কিঞ্চিৎ।

টিফিন টাইমে বেঞ্চে মাথা দিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে সিনথিয়া।সবাই সেদিকে চেয়ে কানাঘুঁষা করছে। চৈত্রিকা এগিয়ে গিয়ে মাথায় হাত রাখে। সিনথিয়া আর ও একই স্কুলে একসাথে পড়ালেখা করেছে। খুব বেশি ক্লোজ না হলেও ভালো বন্ধুত্ব। চৈত্রিকা মাথায় হাত রেখে মলিন স্বরে জিজ্ঞেস করে,

' কাঁদছিস কেন?'

মাথা তুলে তাকালো সিনথিয়া। চোখ মুখ ফুলেফেঁপে একাকার মেয়েটার। অশ্রুসিক্ত কন্ঠে উত্তর দিল,

' কাঁদব না তো কি করব?তোর ওই বন্ধু সাফারাত আমাকে একটা কথা বলার সুযোগ পর্যন্ত দিচ্ছে না। এতো অহংকার ওই ছেলের। আমি কি করব চৈত্র? আমার অনেক কষ্ট হয়। আমি ওরে ছাড়া থাকতে পারমু না। প্লিজ তুই একটা বার কথা বলার ব্যবস্থা করে দে বইন। '

চৈত্রিকা কিয়ৎক্ষণ ভাবল। সাফারাতকে অনেক বার বলেছে, বুঝিয়েছে। কিন্তু ওই ছেলে কোনোমতেই কথা বলতে পর্যন্ত রাজি না। চৈত্রিকা ব্যতীত কোনো মেয়ের সাথেই কথা বলে না। সাফারাতের হাসি,মুগ্ধময় স্বর সবই চৈত্রিকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। চৈত্রিকা শুনেছে গম্ভীর ছেলেগুলো ভালোবাসে বেশি। একদম মাখোমাখো প্রেম হয় ওদের। একবার যদি সিনথিয়ার সাথে সেট করে দিতে পারে তাহলে দুই বন্ধুর ঘটকালি করার সুযোগ হবে একটা সময়। আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে চট করে একটা বুদ্ধি উড়ে এসে চৈত্রিকার মস্তিষ্কে বসল। সিনথিয়ার কানে কানে কিছু একটা বলে উৎফুল্ল হাসে।

কলেজ ছুটি শেষে সাফারাতকে ধরে বেঁধে এক প্রকার জোর করে একটা খালি ক্লাসে নিয়ে এলো চৈত্রিকা। কি একটা বিষয় নাকি বুঝতে পারে নি এটা যেন সাফারাত বুঝিয়ে দেয়। সাফারাত কোনোরকম বিরক্ত প্রকাশ না করে সাথে আসল। এই ক্লাসরুম টা ছোট। জরুরি দরকার ছাড়া এটাতে ক্লাস করানো হয় না। চৈত্রিকা একটা খাতা বের করে ব্যাগ টা রেখে খালি বোতল হাতে নিয়ে বলে উঠল,

' তুমি বসো। আমি পানি নিয়ে আসছি। '

সাফারাত মাথা নাড়ে। চৈত্রিকা দ্রুত পায়ে বেরিয়ে এসে আড়ালে গিয়ে ডাকে সিনথিয়াকে। তড়িঘড়ি করে বলে,

' জলদি যা। আমি খেয়াল রাখছি কেউ আসে কিনা। আজ রাজি করিয়েই ফেলিস বোন। যদি না পারিস সাফারাত কিন্তু আমায় এই কান্ডের জন্য ছেড়ে দিবে না। '

সিনথিয়া খুশিতে জড়িয়ে ধরল চৈত্রিকা কে। তৎপরে ছেড়ে দিয়ে রুমে ঢুকে যায়। সাথে সাথেই বাহির থেকে দরজা আঁটকে দেয় চৈত্রিকা। এছাড়া উপায় নেই। বদ্ধ রুম ছাড়া সাফারাতের সাথে কথা বলার সুযোগ পাবে না সিনথিয়া। সাফারাত দিবে না। টেনশনে হাঁটু কাঁপছে রীতিমতো। চৈত্রিকা ব্যস্ত পায়ে পায়চারি করছে কলেজ প্রাঙ্গণে। ভিতর হতে কোনো সাড়া পাচ্ছে না। প্রায় তিন মিনিট কেটে গিয়েছে। এর মধ্যে নিজেদের বাড়ির একটা পিচ্চি ছেলেকে দৌড়ে আসতে দেখে হতভম্ব হয়ে পড়ল চৈত্রিকা। কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো,

' কি হয়েছে? তুই এখানে কেন?'

ছেলেটা হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,

' তোমার আব্বারে হসপিটালে লইয়া গেছে। জলদি চলো। তোমার মা পাঠাইছে আমারে। '

ভূতল কেঁপে উঠল চৈত্রিকার। আশেপাশের সবকিছু ভুলে ছুটে চলে আসে বাড়িতে। ভুলে যায় দু'টো মানুষকে বন্দি রেখে গিয়েছে ও।

সাফারাতের শার্ট খামচে ধরল দুর্বল হাতে বিষাক্ত স্মৃতি হতে বেরিয়ে। সাফারাতের মুখভঙ্গি শক্ত, কঠিন। চৈত্রিকা ফুপিয়ে উঠল মুহুর্তেই। সে জানে না সেদিন কি হয়েছিল, তবে ও ভালোবাসে। ভীষণ ভালোবাসে সাফারাতকে। সাফারাত ওর স্বামী। আবেগের বয়সে নিজের অনুভূতি বুঝতে পারে নি। কিন্তু কি এমন হয়েছিল যার কারণে সাফারাত দূরে চলে গেল বন্ধুত্বের বন্ধন ভেঙে? সত্যিই সাফারাত প্রতি*শোধ নেওয়ার জন্য ফিরে এসেছে?চৈত্রিকার ভিতরটা ব্যাথায় জর্জরিত হয়ে উঠেছে। সাফারাতের বুক থেকে মাথা তুলে সিনথিয়ার দিকে অশ্রুসিক্ত আঁখিযুগল নিক্ষেপ করল। গলায় কান্নাগুলো দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। বহু কষ্টে প্রশ্ন করল,

' কি হয়েছিল ওইদিন? দয়া করে খুলে বল আমাকে। '
' সিনথিয়া কেন বলবে?আমি বলব আপনাকে। সবকিছু আমি বলব। আপনি তো চেয়েছিলেন সিনথিয়ার সাথে আমার প্রেম হোক তাই না?'

সাফারাতের কঠিন গলায় শেষের বাক্য টা শুনে চৈত্রিকার বক্ষস্থল কেঁপে উঠল। তবে কি সেদিন না বুঝে করা ভুলের জন্য ওদের মাঝে কিছু হয়েছে?করুন দৃষ্টি নিবদ্ধ করল সাফারাতের পানে। কিন্তু সাফারাত বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করল না। হাত টা ধরে টান দিয়ে পা বাড়াতেই চৈত্রিকার পড়ে যাওয়ার উপক্রম। এক পা ও নড়ার শক্তি টুকু নেই মেয়েটার। সাফারাত বিরক্তিকর নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে এসে পাঁজা কোলা করে চেয়ারে এনে বসালো। সিনথিয়া এগিয়ে এলো পিছু পিছু। সাফারাত সিনথিয়াকে চেয়ারে বসতে বলে নিজে একটা চেয়ার টেনে চৈত্রিকার মুখোমুখি বসল। চৈত্রিকার দিকে চেয়ে গম্ভীর স্বরে বলতে শুরু করে,

' সেদিন আপনার কাছ থেকে এমনটা আমি মোটেও আশা করি নি। আপনার জন্য আমার মা নিজের পরিবার, কলেজের শিক্ষকদের সামনে ছোট হয়েছে। বদ্ধ সেই রুমে সিনথিয়া যখন এগিয়ে এসে আমার হাত টা ধরেছিল আমার ওই মুহূর্তে আপনাকে খু/ন করার ইচ্ছে জেগেছিল চৈত্র। সিনথিয়ার অশ্রু আমার হৃদয় নাড়াতে পারে নি কিন্তু আপনার আমার সাথে করা কান্ডটা,ধোঁকা দেওয়াটা আমাদের বন্ধুত্বে আঘাত হেনেছিল। '

কথাগুলো বলে একটু থামল সাফারাত। কপালের শিরাগুলো দৃশ্যমান। সিনথিয়া মাথা নিচু করে রেখেছে।

' অনেক বার দরজায় করাঘাত করেও কারো সাড়া শব্দ পাই নি। কলেজে তো মেবাইল এলাউ ছিল না। বিকেল শেষ হয়ে সন্ধ্যা হওয়ার পথে। সিনথিয়া সাহস করে আমার কাছাকাছি আসতে পারে নি আর। দূরে বসে ছিল। তখনই দেখলাম মেয়েটার চোখ নিভু নিভু হয়ে আসছে। আমি জানতাম না ওর বদ্ধ রুমে শ্বাস ফেলতে কষ্ট হয়। মেয়েটার অবস্থা বেগতিক দেখে এগিয়ে যায় আমি৷ কাছে যেতেই ও আমার বুকে ঢলে পড়ে। সেই মুহুর্তে একজন দপ্তরি দরজা মেলে দেয়। আমাদের এই অবস্থায় দেখে আঁটকে রাখে। আমি যা বুঝার বুঝে গেলাম। উনি আমাদের ব্যাপার টা খারাপ ভাবে নিয়েছেন। অনেক বুঝিয়েও লাভ হয় নি উনাকে। একটা বদ্ধ রুমে দু'টো ছেলেমেয়ে একে অপরের কাছাকাছি নিশ্চয়ই ভালোভাবে নিবে না কেউ? প্রিন্সিপাল স্যার সহ বাকি অনেক টিচার আসলেন। আমার বাবা-মা, সিনথিয়ার বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়। কলেজের মান সম্মান ক্ষুণ্ণ হবে তাই চুপিচুপিই খবর পাঠালেন। তবুও এলাকায় পাঁচ কান হয়ে গেল৷ কিছু সর্দার সাজা লোকেরও আগমন ঘটল। আমার মা'কে বলা হলো তিনি ছেলে মানুষ করতে পারেন নি। চরিত্রহীন ছেলে পুষেছেন। মেয়েদের ফুসলিয়ে রুমে এনে জোর করার চেষ্টা করে। এমনকি ধ/র্ষ/ণ শব্দটাও বাদ যায় নি। আমার সব থেকে প্রিয় মানুষ আমার মা তখন চোখে অশ্রু নিয়ে শুধু একবার আমার দিকে তাকিয়েছিল। ছোট্ট করে ধরা গলায় বলেছিলেন -- ' আমার ছেলে এমন না। '

কিছু লোক তাচ্ছিল্য হেসেছিল প্রতুত্তরে। সিনথিয়া ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মুখ খুলে বলেছিল একবার সবাই যা ভাবছে তেমন কিছুই না। ও আমাকে পছন্দ করে নিজ থেকে আমার সাথে জোর করে কথা বলতে এসেছে এটাও জানায়। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করে নি। বাহির থেকে লক করা ছিল এটা দপ্তরি বললেও সবাই বিশ্বাস করে নি। মুখে মুখে এটাই ছিল দু'জন একা রুমে কি করছিলাম ছুটির পর?নিশ্চয়ই প্রেম অথবা অসভ্যতামি,নোংরামি ?আমার মন একটাবারও সায় দেয় নি আপনার নামটা নেওয়ার। শত হোক মায়ের পরে আমার মনে জায়গা নেওয়া দ্বিতীয় নারী ছিলেন আপনি। সিনথিয়ার বাবা গলা উঁচিয়ে বলেছিলেন উনার মেয়েকে নিয়ে কি করবেন উনি। কিভাবে মুখ দেখাবে সমাজে? একটা সঠিক বিচার যেন হয়। বিচার?হ্যাঁ দোষ না করেও বিচার হয়েছিল সেদিন আমার। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় আমার ও সিনথিয়ার বিয়ের। একটা ছেলের সাথে ধরা খাওয়া মেয়েকে ঘরে তুলবে না কেউ এটা ধারণা ছিল সিনথিয়ার পরিবারের। বিয়ে টাই যেন সঠিক সমাধান মনে হয়েছে উনাদের।

বিয়ে?আট বছর আগে সেদিন কি সিনথিয়া,সাফারাত এর বিয়ে হয়েছিল?তবে কি সিনথিয়া সাফারাতের প্রথম স্ত্রী? প্রতি/শোধ নেওয়ার জন্য দ্বিতীয় স্ত্রী বানালো ওকে? চৈত্রিকার মনে হচ্ছে তার শ্বাস রোধ করে ফেলছে কেউ। চোখ নিভে আসছে। একেবারে বন্ধ হবার আগে সাফারাতের মুখ টা ভেসে উঠল চক্ষে। দেখল সাফারাত হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে ওর দিকে। তা আঁকড়ে ধরার পূর্বেই চেয়ার থেকে মেঝেতে ঢলে পড়ল নরম দেহ টা তৎক্ষনাৎ।

#চলবে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 18 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন