ফন্ট সাইজ:
থিম:
সুখের নেশায়

পর্ব 23

লেখক: আসরিফা সুলতানা জেবা

সুখের_নেশায়
লেখিকাঃআসরিফা_সুলতানা_জেবা
৩৫+৩৬
পর্ব___৩৫

চৈত্রিকা চুপিসারে রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিল। মাথা থেকে শাড়ির আঁচল ফেলে অগ্রসর হলো সে বারান্দার দিকে। এই মুহুর্তে সাফারাতের সামনে থাকা যাবে না। হাত টার অবস্থা বেশ খারাপ। জ্বলন হচ্ছে তীব্র হতে তীব্রতর। ফর্সা মুখবিবর, চোখ, নাক কান্নার দরুন ফুলেফেঁপে,লাল হয়ে একাকার। চুল থেকে এখনও ফোঁটায় ফোঁটায় পানি ঝরছে। শাড়ির লম্বা আঁচল কিঞ্চিৎ মেঝে স্পর্শ করে চলেছে হাঁটার তালে তালে। জীবনের কঠিন পরিস্থিতি বুঝে উঠার পর অনেক ভেঙেছে চৈত্রিকা ভিতরে ভিতরে। আত্মচিৎকার করে বেড়িয়েছে অন্তর,মন। যার হিসেব সে কোনো কালে রাখে নি। সইতে সইতে কঠোর হয়েছে। সহ্যশক্তি অপার ওর। কিন্তু নিজের অভ্যন্তরে দমিয়ে রাখা নরম মনটা কাঁদে নিরবে,নিঃশব্দে।

বেলকনিতে দাঁড়াতেই সকালের স্নিগ্ধ বাতাস পুরো কায়া ছুঁয়ে দিচ্ছে অনবরত, বিরতিহীন। বাতাস যেন চৈত্রিকার মনের দুঃখ নিজের দখলে কেঁড়ে নেবার আপ্রাণ প্রয়াসে নিমগ্ন। চৈত্রিকা চায় নিজের জীবনের সকল কষ্ট উজার করে দিতে। ভারী নিঃশ্বাস বহন করে বেঁচে থাকা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে দিনকে দিন।

' কি ভাবছেন আপনি?'

আচানক পাশ থেকে গম্ভীর কন্ঠধ্বনি কর্ণপাত হতেই চৈত্রিকার দেহের সর্বাঙ্গে কাঁপুনি ধরে যায়। স্থায়িত্ব বেশিক্ষণ হয় নি। তবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক। পুড়ে যাওয়া হাত টা ঝটপট শাড়ির নিচে লুকিয়ে ফেলল কায়দা করে। নয়ত সাফারাতের দৃষ্টি পড়ে যাবে এতে। তারপর কি হবে বা কি ঘটবে তার জানা নেই। কিন্তু তার জন্য সম্পর্কে ফাটল ধরবে নিশ্চয়ই?সম্পর্কে দূরত্ব কতটা কষ্ট বয়ে আনে জীবনে তা চৈত্রিকা ভালো করে জানে। তাই চায় না সাফারাতের সাথে তার ফুপুর সম্পর্ক নষ্ট হোক। নিজেকে সামলে নিয়ে উত্তর দিল,

' কই কিছু না। আপনি ঘুমোন নি?'
' শাড়ির নিচে হাত লুকালেন কেন?আপনার চোখ মুখ এভাবে ফোলার কারণ?আপনি কান্না করেছেন?'

সাফারাতের রোষপূর্ণ কন্ঠে চৈত্রিকার বুকটা ভয়ে কেঁপে উঠল। নত মস্তকে হাতের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই দেখতে পায় হাত মুঠো করে রেখেছে সাফারাত। চোখ জোড়া লাল,রক্তিম। হঠাৎ এমন কেন করছে?এত রাগ কেন দেখাচ্ছে?

' হাত কেন লুকাতে যাবো?কি হয়েছে আপনার?'

হাত টা টেনে শাড়ির নিচ থেকে বের করে আনল সাফারাত। পুড়ে যাওয়া স্থানে একটুখানি লাগতেই চৈত্রিকা নিজেকে ধাতস্থ রাখতে পারল না। জ্বলনে মৃদু চিল্লিয়ে উঠলো ও চোখ মুখ কুঁচকে। হাত টা সামনে এনে হতভম্ব হয়ে যায় সাফারাত। ফর্সা চামড়ায় লালের আস্তরণ। পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন স্পষ্ট। সাফারাত দ্রুত কোলে তুলে নিল ওকে। হুট করে এমন করায় বিমূঢ়তায় বাকহারা চৈত্রিকা। কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই সাফারাত বড় বড় পা ফেলে সিঁড়ি ভেঙে ওকে কোলে করে নিচে নিয়ে এলো। ড্রইং রুমে উপস্থিত মৌসুমি,মিনা,সুফিয়া সবাইকে এড়িয়ে বাড়ির বাহিরে এনে গাড়িতে বসিয়ে দিল চৈত্রিকাকে। প্রিয়ন্তী পিছন পিছন দৌড়ে এলো। জোর গলায় ডেকে উঠল,

' কি হয়েছে ভাইয়া?ভাবী কে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?'
' হসপিটালে। '
সাফারাতের নির্লিপ্ত জবাব শুনে চক্ষু বৃহদাকার ধারণ করলো চৈত্রিকা ও প্রিয়ন্তী উভয়েরই। প্রিয়ন্তী হ্যাবলাকান্তের ন্যায় চৈত্রিকার দিকে এক পলক তাকিয়ে সাফারাতের দিকে চেয়ে মৌনতা ভাঙল। অবাক স্বরে প্রশ্ন করলো,

' কেন? '
' তোর ভাবী আমার হৃদপিণ্ড জ্বালিয়ে দিয়েছে তাই। '

সোজাসাপ্টা উত্তর দিয়ে গাড়িতে বসে পড়ল সাফারাত। ড্রাইভিং করতে করতে চৈত্রিকার দিকে তাকিয়ে বললো,

' রেডি থাকুন জবাবদিহিতা করতে। '
' কিসের জন্য? আর এই একটুখানি পুড়ার জন্য আমার ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে চলুন। সবাই কি ভাবছে?এভাবে সবার সামনে দিয়ে কোলে করে নিয়ে আসলেন?ছিঃ!'

সাফারাত এক হাতে নিজের ভেজা চুলগুলো পিছনের দিকে ঠেলে দেয়। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

' ছিঃ! এর কি আছে চৈত্র? কোলে নিয়েছি। সবার সামনে কিস তো করি নি। এটা আমি বদ্ধ রুমেই করবো। অস্থির হলে নিজের উপর কন্ট্রোল রাখতে পারব না। তাই বদ্ধ রুমই সেফ। '

সাফারাতের কথা শুনে কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে চৈত্রিকার। উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ছোটাছুটি করছে বেহায়া অনুভূতিরা। মনে থাকলে ও আর কখনও এমন কিছু বলতে যাবে না সাফারাতকে। লাল বর্ণে ছেয়ে থাকা মুখ আরো রক্তিম হয়ে উঠেছে। নিয়ন্ত্রণহীন বক্ষস্পন্দন। না জানি ঠিক কখন স্বাভাবিক হয়!

গাড়ি থামে হসপিটালের সামনে। সাফারাত গাড়ির দরজা মেলে দিতেই চৈত্রিকা দ্রুত পায়ে নেমে পড়ে। বলা তো যায় না যদি আবারো কোলে নিয়ে বসে?সাফারাতের পিছু পিছু হসপিটালে ঢুকে পড়লো। সকাল হলেও হাসপাতালের করিডোর জুড়ে মানুষের গিজগিজ। রিসিপশনে কথা বলে একজন মহিলা ডাক্তার এর সিরিয়াল কাটে সাফারাত। কিন্তু ওনাকে দেখাতে দেখাতে লেট হয়ে যাবে। মেয়েটা বলেছিল একজন পুরুষ ডাক্তার এখন ফ্রি আছে গেলেই দেখাতে পারবে তৎক্ষনাৎ তবুও সাফারাত নারাজ। কোনো পুরুষ ডাক্তার দেখাবে না ও। যেই মহিলা ডাক্তার এভেইলেবল আছেন এই মুহুর্তে ওনার কাছেই যেন এখন দেখানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। মেয়েটা বাধ্য হয়ে শেষমেশ ওদের সিরিয়াল ইমারজেন্সি বলে সামনে দেয়। একপাশে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে চৈত্রিকা কেবল দেখেই গেল। সবসময়কার মতো করে আজও এক ভিন্ন সাফারাত দেখতে পাচ্ছে সে। অদ্ভুত তার ব্যবহার। অত্যাধিক পসেসিভ যেন। সামান্য একটু হাত জ্বলেছে এতেই তার কত অস্থিরতা,কত ব্যাকুলতা!

ডাক্তার চৈত্রিকার হাত টা পর্যবেক্ষণ করে বললেন,' তেমন একটা খারাপ অবস্থা হয় নি। কিভাবে পুড়লেন? '
চৈত্রিকা মিনমিনে স্বরে জবাব দিল,' গরম পানি পড়ে গিয়েছিল ভুলবশত। '
' আচ্ছা কেয়ারফুল থাকবেন। আর কয়েকদিন এই হাত টা ভেজাবেন না। আমি মেডিসিন দিয়ে দিচ্ছি ঠিক হয়ে যাবে। '
' জ্বি। ধন্যবাদ। '

সাফারাত এতো সময় অব্দি পাশে বসে ছিল। ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেড়িয়ে গাড়িতে এসে বসল। চৈত্রিকাও বসল পাশের সিটে।
' গরম পানি করতে গিয়ে ভুলবশত আপনার হাতে পড়েছে এটা আমার বিশ্বাস হয় নি চৈত্র। সত্য আপনি বলবেন নাকি আমি আমার নিয়মে বের করবো?একসঙ্গে কাটানোর প্রথম সকালেই আপনি আমার সাথে মিথ্যে বলছেন?'

চৈত্রিকা ভড়কে গেলো। আমতাআমতা করে বললো- ' আপনি ভুল বুঝছেন। আমি সত্যি..'
এতটুকু বলে থেমে গেল চৈত্রিকা। সাফারাতের দৃষ্টি লুকিয়ে মিথ্যে বলার মতো সাহস করে উঠতে পারল না আর। মুখস্থের মতো করে আনতস্বরে জানালো-' আমি গরম পানি নিয়ে ড্রইং রুমে আসছিলাম ফুপুর ধাক্কায় গ্লাস থেকে সম্পূর্ণ পানি হাতে পড়েছে। আপনি ফুপু কে কিছু বলবেন না দয়া করে। '
সাফারাত মুখ ফিরিয়ে নিল। স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে সে। পুরো রাস্তায় ফিরে অব্দি তাকালো না চৈত্রিকার দিক। চোখে মুখে অন্ধকার ছেয়ে গেল চৈত্রিকার। বুঝতে পারে ও প্রথমে লুকিয়ে রাখার ফলস্বরূপ সাফারাত এর রাগের আভাস। বাড়ির দীর্ঘ বড় গেট অতিক্রম করে গাড়ি ভিতরে ঢুকল। ডিরেক্ট পার্কিং এর জায়গায় নিয়ে এলো গাড়িটা সাফারাত। নেমে গটগট করে ভিতরে ঢুকে পড়ল। চৈত্রিকা চেয়েও তাল মিলিয়ে হাঁটতে পারে নি তাগড়া লম্বাচওড়া সাফারাতের সঙ্গে।
সাফারাত ড্রইং রুমে এসে মিনার উদ্দেশ্যে বললো- ' নাস্তা রেডি করো মিনা। আর অন্য একজন সার্ভেন্ট কে ফুপুর রুমে পাঠাও প্যাকিংয়ে হেল্প করতে। '
আশ্চর্যান্বিত হয় চৈত্রিকাসহ ড্রইং রুমে উপস্থিত সকলে। মৌসুমি সোফা ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। কন্ঠে একরাশ বিস্ময় নিয়ে বলে উঠলেন,
' কেন?'
' কারণ আপনি চলে যাচ্ছেন?'- কাঠ কাঠ গলায় প্রতুত্তর করে সাফারাত।
' চলে যাচ্ছি মানে?'
' আপনি আপনার বাড়িতে যাচ্ছেন। '
সুফিয়া বেগম কন্ঠে তেজ আনার চেষ্টা করে বলে উঠলেন- ' কি হচ্ছে এসব সাফারাত?কি চাইছো তুমি?'
' চাওয়া টা একদম স্বাভাবিক দাদি। নাস্তা করে যেন চলে যায় ফুপু।'
রাগে থরথর করে কেঁপে উঠলেন মৌসুমি। চৈত্রিকার দিকে তীক্ষ্ণ চাউনি নিক্ষেপ করলেন। বললেন,
' এখন কি তোমার বউয়ের জন্য এই বাড়িতে থাকা নিষেধ? এই মেয়ের জন্য আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করবে?'
সাফারাত দূরে জড়ো হয়ে অবস্থান করা চৈত্রিকার দিকে এক নজর চেয়ে দৃষ্টি সরিয়ে আনলো। রাগ সংবরণের চেষ্টায় দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল,

' আপনি যদি ইচ্ছে করে আমার বউকে আঘা'ত করতে পারেন। তাহলে আমিও আমার বউয়ের সেফটির জন্য আপনাদের মতো বিপদকে দূরে সরিয়ে রাখতে জানি। আর আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা বলছেন?কিসের সম্পর্ক?দাদি ও প্রিয়ন্তী বাদে কারো সাথে আমার সম্পর্ক নেই। একটা সময় এই সম্পর্কের টানে এসেছিলাম আপনাদের কাছে আম্মুর মৃত্য'র পর। জার্মানি থেকে ফিরে এই বাড়ুিতে ঢুকতে পর্যন্ত দেওয়া হয় নি আমাকে। দারোয়ান দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিছুই ভুলি নি আমি। ভাগ্য ভালো এখনও আপনাদের মতো কালসাপ কে আমি আমার সান্নিধ্যে আসতে দেয়। নাস্তা করেই বেড়িয়ে যাবেন। আপনাকে আর আপনার মেয়েকে এই বাড়ির ত্রিসীমানায় যেন না দেখি। কোনো অধিকার নেই আপনাদের এ বাড়িতে। '

সাফারাত চলে যেতে নিলে মৌসুমি তেঁতে উঠলেন। চৈত্রিকার সামনে নিজের অপমান সইতে না পেরে কর্কশ গলায় বলে উঠলেন,
' সব অস্বীকার করলেও যার রক্ত শরীরে বহন করছিস তাকে অস্বীকার করে দেখা। একবার মুখে বলে দেখা তুই জাফর ভাইয়ের ছেলে না। না-কি তোর মা আমার ভাইকে ঠকিয়েছে?'

চক্ষুদ্বয় জ্বলে উঠল সাফারাত এর। হাত মুঠো করে পাশে সৌন্দর্য বিলীন করা ফুলদানি টা সজোরে আঘা'ত করে ফ্লোরে ফেলে দিল। ধ্বক করে উঠল চৈত্রিকার বুক। অকস্মাৎ থরথর করে কাঁপতে লাগল পা দুটো। ফ্লোরের দিকে নজর যেতেই দেখে কাঁচের ফুলদানি টা ভেঙে খন্ড দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ে আছে। চৈত্রিকা ভাবতেই পারে নি জল এতদূর গড়াবে। এহেন পরিস্থিতির জন্য নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে ওর। সব দোষের মূলে ও নিজেই। সাফারাত চোয়াল শক্ত করে বললো,
' আপনার ভাই চরিত্রহীন ব্যক্তি, আমার মা নই। গেট লস্ট। নয়ত আপনাদের অবস্থা খুব বাজে করবো আমি। নিঃশেষ করে দিব আপনাদের। আমার মায়ের টাকায় মুখে যেই খাবার তুলছেন তা আর জুটবে না। মাইন্ড ইট। '

এক মুহুর্তও না দাঁড়িয়ে সাফারাত চলে গেল রুমে। চৈত্রিকা সেদিকে তাকিয়ে রইল নিষ্পলক। মৌসুমি তেড়ে এসে কটমট করে বলে উঠলেন- ' বাহ!তুই তো অনেক ভালো খেলোয়াড়। দেহ,সৌন্দর্য দিয়ে ভুলিয়ে ফেললি সাফারাতকে। তুই কিভাবে শান্তিতে থাকিস দেখে নিব আমি৷ এই মিনা আমার সাথে আয়। ব্যাগ গুলো গুছিয়ে দিবি। '

সুফিয়া বেগম থম মেরে বসে রইলেন। ছোট ছোট শ্বাস ফেলছেন তিনি। বৃদ্ধ বয়সে সম্পর্কের এতো দূরত্ব ওনার আর ভালো লাগছে না। প্রিয়ন্তীর মা সুফিয়া বেগম কে উদ্দেশ্য করে চৈত্রিকার দিকে তাকিয়ে বললো- ' জাত-পাত না দেখে বিয়ে করে এমন মেয়ে ঘরে তুললে সম্পর্ক তো ছিন্ন ভিন্ন হবেই মা। সবে তো শুরু। এই মেয়ের জন্য আপনার নাতি আমাদের না আবার ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। '

তাচ্ছিল্যের সহিত কথাগুলো শুনিয়ে তিনিও ড্রইং রুম ছাড়লেন। চৈত্রিকা মলিন মুখে সুফিয়ার বেগমের দিকে এগিয়ে যেতে নিলে তিনি হাত দেখিয়ে নিষেধ করলেন। কিছুক্ষণ নিরব থেকে বললেন- ' সাফারাতের কাছে যাও। '

সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে পা ভেঙে আসছে চৈত্রিকার। কি থেকে কি হয়ে গেল এসব?ও তো এমন কিছুই চায় নি। বিয়ের পর সুন্দর একটা সংসার চেয়েছে সব মেয়েদের মতোই। শশুর -শাশুড়ী না থাকুক যারা আছে তাদের নিয়েই সুখের নেশায় ছুটতে চেয়েছে। কিন্তু সবকিছু যেন ভাবনার উল্টো। সবটা অন্যরকম। জীবনের নতুন মোড়ে নতুন করে যেন নব্য এক গোলকধাঁধায় ফেঁসে গেল ও। সাফারাতের বাবা কেন দূরে থাকে?কেন এ বাড়ির সবার সাথে সাফারাতের সম্পর্ক খারাপ? এছাড়া কষ্ট দেখেছে চৈত্রিকা সাফারাতের রাগান্বিত দু চক্ষে। কি এমন হয়েছিল অতীতের মাঝের সেই সময়গুলো তে?

রুমের সামনে আসতেই চৈত্রিকা বাকরুদ্ধ, স্তব্ধ হয়ে পড়ল। টালমাটাল এর ন্যায় পিছিয়ে গেল দু' পা। একি হাল করেছে সাফারাত!

লেখিকাঃআসরিফা_সুলতানা_জেবা
পর্ব___৩৬

চৈত্রিকা টলমল পা দুটো নিয়ে ফ্লোর আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে ঠাঁই। রুমে যেন ঝড় তান্ডব বয়ে গেছে। আসবাবপত্র ছড়ানো ছিটানো। ফ্লোর জুড়ে কাঁচের ছড়াছড়ি। এতো বড় ঝড় বয়ে গেল অথচ সাফারাত সটান হয়ে শুয়ে আছে চোখের উপর হাত রেখে। মুখভঙ্গি এমন যেন কিছুই হয় নি। দুরুদুরু বুক নিয়ে আস্তেধীরে রুমে প্রবেশ করল চৈত্রিকা। কাঁচের জন্য সঠিকভাবে হাঁটা যাচ্ছে না পাছে যদি পায়ে বিঁধে যায় সেই ভয়ে। অতি সাবধানে পা ফেলেও একটা কাঠের টবের সাথে পা বেজিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল সে সাফারাতের শরীরের উপর। পুরুষালি শক্ত দেহে হুমড়ি খেয়ে পড়ার কারণে ব্যাথায় মৃদু চিৎকার করে উঠল চৈত্রিকা। ঘটনার আকস্মিকতায় সাফারাত হতভম্ব হয়ে গেল। দু হাতে নিজের সাথে ঝাপটে ধরল চৈত্রিকাকে। বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে উত্তেজিত সুরে বলে উঠল,
- 'চৈত্র ঠিক আছেন আপনি?ব্যাথা পেয়েছেন? বেশি লেগেছে?কোথায় পেয়েছেন আমায় বলুন জান। '
ক্রমাগত প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সুযোগ পেল না চৈত্রিকা। ভালো হাতে সাফারাতের শার্ট আঁকড়ে ধরল। মুঠোয় পুরে মলিন,নিস্তেজ স্বরে বললো,
-' ঠিক আছি আমি। আপনি কি হাল করেছেন রুমের? '
-' সার্ভেন্ট এসে গুছিয়ে দিয়ে যাবে। '
-' আর আপনার রাগ?সেটাও কি সার্ভেন্ট কমিয়ে দিয়ে যাবে?'
সাফারাত ভ্রুঁ উঁচু করে তাকালো। চৈত্রিকাও মায়াময়,ভয়ার্ত দৃষ্টি নিবদ্ধ করল তার রক্তিম দু চোখে। চাতক পাখির ন্যায় চেয়ে আছে সে নিষ্পলক জবাবের প্রতীক্ষায়।

বলিষ্ঠ দু'হাতে টেনে ওকে উপরে তুলে নেয় সাফারাত। শাড়ি ভেদ করে কোমরে রাখা শক্তপোক্ত হাতের বাঁধন ঢিল হওয়ার বদলে আরো শক্ত হলো। চক্ষুদ্বয় মেলে রাখতে পারছে না চৈত্রিকা। মুখের একদম নিকটে ভাসমান সাফারাতের চেহারা খানি। হুট করে মাদকতাময় হয়ে উঠেছে চোখ দুটো। নেশাতুর গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাফারাত। চৈত্রিকার শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। সাফারাতের দৃষ্টি যেন ওর শ্বাস চেপে ধরছে। মাতালের ন্যায় টালমাটাল করছে অনুভূতিরা। বুক কাঁপছে দ্রিমদ্রিম শব্দ তুলে। সাফারাত মুখ অল্প পরিমাণ কাছাকাছি আনতেই চৈত্রিকা ছটফট করতে শুরু করলো। শক্ত করে চেপে ধরে ঠোঁট এগিয়ে এনেও সাফারাত ঠেলে সরিয়ে দিল চৈত্রিকাকে। থতমত খেয়ে গেল চৈত্রিকা। বিছানায় বসে চোখ বড়সড় করে তাকিয়ে রইল। এটা কি হলো?সাফারাতের দমে যাওয়া রাগ কি আবারো মাথা চারা দিয়ে উঠল নাকি চৈত্রিকার কান্ডে বিরক্ত হলো?

সাফারাত বিছানা থেকে উঠে হাট করে খুলে রাখা দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে আসে। চৈত্রিকা হতবাক হয়ে দেখে যাচ্ছে কেবল। দরজা বন্ধ করে এসে সাফারাত শক্ত হাতে চৈত্রিকার এক হাত টেনে কাছে নিয়ে এলো৷ চৈত্রিকা কিছু ঠাহর করবার আগেই সাফারাত কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিচেল স্বরে বলে উঠল,
-' দরজা খোলা ছিল বলেই ছটফট করছিলেন। আপনার সমস্যা সমাধান করে দিলাম তবুও কাঁপছেন কেন? '
-' কই না তো। '
লজ্জা মিইয়ে গেল চৈত্রিকা। সাফারাত টুপ করে ওর গালে চুমু খেয়ে নেয়। চৈত্রিকা লাল আকার ধারণ করা চেহারা নিমিষেই যেন নীল হয়ে গেল। চোখের পল্লব ঝুঁকিয়ে ফেলল ঝটপট। সাফারাত কপালে চুমু খেয়ে সরে যায়। বিছানায় হেলান দিয়ে বলে,
-' অস্থির হবার টাইমিং টা ভুল। দমিয়ে নিলাম নিজেকে। তবে আপনি চাইলে আমায় এক দুটো কিস করতে পারেন চৈত্র। '

সাফারাতের কথায় চৈত্রিকার মাথা ঘুরে গেল। যেখানে নিজেই সাফারাতের সান্নিধ্যে চুপসে যায়,মিইয়ে যায় সেখানে নাকি ও নিজ থেকে কিস দিবে!এটা এভারেস্ট জয় করার মতো কঠিন বিষয় তার নিকট। সাফারাত স্মিত হেসে চৈত্রিকাকে অবাক করে দিয়ে বললো,
' আপনাকে আমি আদরে কৃপণতা করি নি চৈত্র অথচ আপনি সামান্য চুমুতে পিছিয়ে যাচ্ছেন। '

পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর সম্বোধন বুঝি 'আপনি ' সম্বোধন টা। সাফারাতের কন্ঠে যতবার এই শব্দ টা শুনে ততবারই চৈত্রিকা সুখময় নেশায় ডুবে যায়। কতটা ভালোবাসা, সম্মান লুকায়িত এই আপনি নামক শব্দে চৈত্রিকার নিকট প্রকাশ করা অসম্ভব। হাঁটুতে ভর করে শাড়ি সামলে এগিয়ে গেল ও সাফারাতের কাছে। রিনঝিনে স্বরে আওড়ায়,
-' আপনি কি চোখ বন্ধ করবেন সাফারাত? '
-' কেন?আপনি কি চুমু খাবেন?'
চৈত্রিকা মাথা নাড়ালো। রাঙা হয়ে উঠেছে দু'গাল ইতোমধ্যে। সাফারাত চোখ বন্ধ করে অধর কোণ বাঁকিয়ে বললো,
-' শুরু করুন চৈত্র মাস। '
চৈত্রিকা লজ্জা মাখা চেহারা নিয়ে ঠোঁট ছুঁয়ে দিল সাফারাত এর কপালে। গালেও চুমু খায়। ঠোঁটের কাছে ওষ্ঠদ্বয় আনতেই চৈত্রিকার শিরা উপশিরায় কাঁপুনি ধরে যায়। এই জীবনে হয়ত ওর দ্বারা লিপ কিস করা হবে না। সরে আসতেই নিলেই সাফারাত চোখ বুঁজে থেকেই মাথার পিছনে হাত গলিয়ে কাছে টেনে নেয়। নিজের শুষ্ক ওষ্ঠযুগল চেপে ধরে চৈত্রিকার ঠোঁটে। চৈত্রিকা হকচকিয়ে গেল। সামনের মানুষ টা গভীরভাবে মত্ত হয়ে পড়ে ওর নরম অধর জোড়ায়। মিনিট খানেক পর সাফারাত ঠোঁট ছেড়ে দিতেই চৈত্রিকা থম মেরে রইল। জমে রইল বরফের ন্যায়। সাফারাত ঠোঁট মুছতে মুছতে বলে,
-' আপনি আমার রাগ প্রশমনের মেডিসিন। '
_______________

মিম নাস্তা করে রেডি হয়ে নেয় কলেজের জন্য। আজ মডেল টেস্ট আছে। কলেজে যাওয়া জরুরি। নয়ত বিয়ের এতো তোরজোরের মধ্যে থেকে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না। ফাহমিদা ব্যস্ত হাতে সব গুছিয়ে দিয়ে বললেন,
-' চৈত্রর সাথে তো কথা হলো না। একটু পর ফোন দিব। আমার মেয়েটা যে কেমন আছে। আর নিচে থেকে তো আজ গাড়ির হর্ণ শোনা যাচ্ছে না। দিহান আসে নি হয়ত তোকে আজ নিতে। গাড়ি ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি। হেঁটে যাস না আবার। '

মায়ের কথা শুনে হু হা কিছুই বলল না মিম। তবে বেশ অবাক হলো দিহান আসে নি শুনে। অকারণেই মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছে। হুট করে সবকিছু শূন্য শূন্য লাগছে। বিমর্ষ চেহারা নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে আসে। নিচে এসে দেখে সত্যিই আসে নি দিহান। মোবাইল তো উপরে রেখে এসেছে। দারোয়ানের কাছ থেকে চেয়ে ওনার মোবাইলটা নিয়ে দিহানের নম্বরে ফোন দিল। এ কদিনে নাম্বার টা একদম মুখস্থ তটস্থ করে নিয়েছে মিম। কেন নিয়েছে নিজেও জানে না। কিন্তু মাঝে মাঝে অনুভব হয় দিহান ছাড়া ভীষণ অচল ও। এই যে এই মুহুর্তেও ঠিক এমন অনুভূতি হচ্ছে। পরপর কয়েকবার কল দিল মিম। অপরপাশ থেকে প্রত্যেক বার বিজি শুনালো। ওয়েটিং দেখাচ্ছে। সাত সকালে কার সাথে এতো কথায় ব্যস্ত দিহান? ওকে নিতে পর্যন্ত এলো না। ভুলে গেল?প্রায় আধাঘন্টা ধরে ফোন করেও ব্যস্ত পেয়ে এবার মিমের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। চারপাশের সবকিছু বিষ মনে হচ্ছে ওর। কেন গা ভাসাতে গেল আবেগে?কেন পারলো না নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে?শেষমেশ ভালো বাসতেই হলো দিহানকে?অন্য কাউকে বাসা যেত না?হাবিজাবি প্রশ্নে মন ব্যাকুল। দারোয়ান এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,
-' কি হইছে মিম?'
-' কিছু না চাচা। এই নিন আপনার মোবাইলটা। '

গেট দিয়ে বের হয়ে একটা সিএনজি ডেকে উঠে যায় মিম। পরীক্ষা দিবে না সে আজ। মনের উচাটন নিয়ে কোনোভাবেই পরীক্ষা দেওয়ার সম্ভব না ওর পক্ষে। দিহানের অল্প পরিমাণ অবহেলা সহ্য করবার শক্তি নেই তার। নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি থামতেই ভাড়া মিটিয়ে নেমে পড়ল মিম। হাত ঘড়িতে সময় দেখে নিল। ১০ টা বেজে গেছে। এমন সময় অফিসে থাকে দিহান। তাই সোজা এখানেই আসে। লিফটের অপেক্ষা না করে সিঁড়ি বেয়ে ফোর্থ ফ্লোরে উঠে যায়। ক্লান্তিতে বড় বড় শ্বাস ফেলছে মেয়েটা। কলেজ ড্রেস টা ঘামে অল্পসল্প ভিজে গেছে। রিসিপশনে চাকরিরত মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করল,
-' মিস্টার দিহান আছেন?'
মেয়েটা তুখোড় দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে মিমকে। মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে,
-' আছেন ম্যাম। তবে স্যার এই মুহুর্তে মিটিংয়ে আছেন। আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। '
-' কতক্ষণ লাগবে?'
-' এই ধরুন দুই থেকে তিন ঘন্টা। '
-' এতো দেরি?আপনি উনাকে একটু ইনফর্ম করবেন যে মিম এসেছে। '
-' স্যরি ম্যাম। আই কান্ট ডু দিস। অপেক্ষা করুন। '
এতো সময় অপেক্ষা কি পসিবল?মিনিট পাঁচেক কথা বলেই তো চলে যাবে ও। মিম নাছোড়বান্দা হয়ে বললো,
-' আপনি একবার ইনফর্ম করুন। '
মেয়েটা রাজ্যের বিরক্তি প্রকাশ করে বললো,
-' আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে না জব রিলেটেড কোনো কাজে এখানে এসেছেন। আমার জানামতে আপনি স্যারের রিলেটিভও না। তাই মিটিংয়ের মাঝে আপনার জন্য আমি স্যার কে ডিস্টার্ব করতে পারব না। চাইলে ওয়েট করতে পারেন আদারওয়াইজ ইউ ক্যান গো। '

মিমের মেজাজ গরম হয়ে গেল মেয়েটার ব্যবহারে। কিন্তু একদিক থেকে মনে হলো মেয়েটা সঠিক। নিজের কর্তব্যই তো পালন করছে। মিম দিহানের কেবিনের সামনের সিটে বসে অপেক্ষা করতে থাকে। অফিসের সকল কর্মচারীরা অদ্ভুত চোখে দেখছে ওকে। সবার দৃষ্টি এমন হয়ত মিম কোনো চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে আসা প্রাণী নয়ত পাবনা ফেরত পাগল। এতো করে দেখার কি আছে?বসে থাকতে থাকতে মাথা ব্যাথা করছে। এবার অস্বস্তি লাগছেও ভীষণ। মিমের ইচ্ছে করছে কেবিনের দরজা ঠেলে রুমে ঢুকে যেতে। এতো অপেক্ষা সে কখনও করে নি। তবে দিহান কে অপেক্ষা করিয়েছে ঘন্টার পর ঘন্টা। একদিন তো ইচ্ছে করে কলেজ ছুটির টাইম ভুল বলেছে মিম। দিহানের ধৈর্য্যশক্তি পরীক্ষার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। তাই বলেছে ছুটি জলদি দিবে। এমন বলে দিহান কে পুরো একঘন্টা অপেক্ষা করিয়েছিল। দিহান জিতেছিল সেদিন ধৈর্য্য পরীক্ষায় নয়ত ভালোবাসায়। একটুও বিরক্তি কিংবা জেদের দেখা মেলে নি তার চেহারায়। উল্টো বলেছিল দীর্ঘ অপেক্ষার পর তোমার ঘর্মাক্ত মুখশ্রী দেখে হৃদয়ে শীতল স্রোত অনুভব করছি আমি মিম-ডিম।

অধিক ক্লান্তির মাঝেও মিমের অধর দু'টো প্রসারিত হয়ে এলো দিহানের সেদিনকার কথা মনে করে। আহা!কতই না মোহনীয় ছিল দিহানের উচ্চারিত সেই বাক্য টুকু। সময়ের স্রোতে মিম এখন বড্ড অবিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। দেয়ালে আটকানো বিশাল ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখে প্রায় দেড় ঘন্টা অতিবাহিত হয়েছে। এবার খুবই কষ্ট অনুভব করছে মিম। দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে রইল ও। আজ কিছুতেই ফিরে যাবে না সে দিহানের সাথে দেখা করা ব্যতীত। কেন থাকবে দিহানের ফোন ব্যস্ত? কেন ভুলে যাবে সে নিজ থেকে নেওয়া দায়িত্ব টুকু?নানান চিন্তায় বিভোর মিমের চক্ষুদ্বয় লেগে আসে একটা সময়। শত চেষ্টা করেও খোলা রাখতে পারলো না সে। ঘড়ির কাঁটার ঘূর্ণনের সাথে চোখ দু'টোও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
কিন্তু গভীর ঘুমে তলিয়ে যাবার মুহুর্তেই গালে শীতল হাতের স্পর্শে পুরো দেহ ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে। বিস্ফোরিত নয়নে সামনে তাকাতেই দেখে দিহান দাঁড়িয়ে আছে। ভ্রঁ যুগল কুঁচকানো তার। দিহান কে দেখেই সব জমে থাকা রাগ, অভিমান মাথা চারা দিয়ে উঠল। ঝড়ের বেগে দিক বিদিক ভুলে দিহানের কলার আঁকড়ে ধরল মিম। হতভম্ব, হতবাক দিহান। পাশাপাশি অফিসের সকল স্টাফ। দিহান চারদিকে চোখ বুলায়। পরক্ষণেই স্মিত হেসে কোমর জরিয়ে শূণ্যে তুলে নিল মিম কে। সবার উদ্দেশ্যে কড়া সুরে বলে উঠল,

' সবাই যে যার কাজে যান। '

অফিসের সকলের মাঝে কানাঘুঁষা শুরু হয়ে যায়। দিহান নিজেও বেক্কল বনে গেল মিমের কর্মকাণ্ডে। শূণ্যে তুলে কেবিনে নিয়ে এলো। মিমের কোমরে বলিষ্ঠ হাত জোড়া পেঁচিয়ে রেখেই প্রশ্ন করে,

-' কি হয়েছে মিম-ডিম?এতো রাগ?আজ কি কলেজ ছিল তোমার?'
-' খু/ন করবো আমি আপনাকে। এই আপনার দায়িত্ব? আমার পরীক্ষা ছিল আজ। অথচ আপনি ফোন টাও ধরেছিলেন না। মাত্র দুয়েক দিনে অবহেলা করা শুরু করে দিলেন আমাকে?ভালোবাসা শেষ? আমি অবহেলা একদম সহ্য করতে পারি না। ফেইক আপনার ভালোবাসা। '

রাগের চোটে চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে মিমের। দিহানের বুকে মাথা ঠেকিয়ে কেঁদে যাচ্ছে। দিহানের ঠোঁটের কোণে সুপ্ত বাঁকা হাসি ফুটে উঠে। মিমের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিচেল স্বরে বললো,

' আমি কি কখনও তোমায় ভালোবাসি বলেছি?'

চলবে,,!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 23 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন