ফন্ট সাইজ:
থিম:
সুখের নেশায়

পর্ব 27

লেখক: আসরিফা সুলতানা জেবা

সুখের_নেশায়
লেখিকাঃআসরিফা_সুলতানা_জেবা
৪৩+৪৪
পর্ব___৪৩

উল্লাসে ভরপুর এপার্টমেন্ট নিমিষেই নিস্তব্ধতার চাদরে মুড়িয়ে গেল চৈত্রিকার রক্তজমানো চিৎকারে। চুপটি করে ফ্লোরে বসে রইল মেয়েটা এবড়োথেবড়ো হয়ে। চোখ,মুখের অবস্থা বিধস্ত। সাফারাত ফোন ধরছে না। ধরছে না বললে ভুল হবে তার মোবাইলে কল-ই ঢুকছে না। অপরপাশ থেকে বারংবার কর্ণপাত হচ্ছে মোবাইলটি বন্ধ। সিনথিয়া পাশে বসে ঝাপটে ধরল চৈত্রিকাকে। মাথায় হাত বুলিয়ে অস্থির চিত্তে বলে উঠল,
' এই চৈত্র কথা বল। কান্না থামা। আমি শুনেছি তুই অনেক স্ট্রং। তাহলে এভাবে ভেঙে পড়ছিস কেন?সাফারাতের রাগ টা একটু বেশি। তোর সামনে থাকলে তোর উপর প্রভাব পড়ত তাই তো রাগ দমাতে কিছু টা দূরে গিয়েছে। চলে আসবে। আয়ান গিয়েছে ওকে খুঁজতে। '

' সব আমার জন্য হয়েছে। আমি উনাকে আ'ঘাত করেছি। কিছু লুকানো উচিত হয় নি আমার। এতটা বোকা কি করে হতে পারলাম আমি?'

ভাঙা গলায় কথাগুলো বলে চৈত্রিকা চোখের জল মুছে নিল। কারো সাহায্য ছাড়াই বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল সে। আলো বেগম এগিয়ে আসতে নিলে মিহি স্বরে বললো,
' আমি পানি খাবো খালা মণি। তুমি বসো। '
সিনথিয়ার স্বর উদ্বিগ্ন শোনাল। তড়িঘড়ি করে বললো,
' তুই বস চৈত্র। আমি এনে দিচ্ছি। '
' প্রয়োজন নেই। আমি এতটাও দুর্বল হয়ে পড়ি নি। '

কাঁপা কাঁপা পায়ে হেঁটে এসে ডাইনিং টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাস তুলে নিল চৈত্রিকা। চেয়ারে বসে গ্লাসের অর্ধ জল পান করে নিঃশ্বাস ছাড়ল। দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস। সেই সাথে টুপ করে এক ফোঁটা নোনতা জল গড়িয়ে পড়ল গ্লাসে। মিলেমিশে মিশ্রিত হয়ে গেল বর্ণহীন পানির সাথে। বিদ্রুপের স্বরে আওড়ালো,

' নিজের সুখ নিজের পায়ে ঠেলে দিলি চৈত্র। নিজের মতো করে গর্ভে ধারণ করা অস্তিত্ব টাকেও নিঃস্ব করার চেষ্টা করছিস?ওর কপালেও কি সুখ জুটবে না? বাবার আদর জুটবে না?যেমন করে তোর কপালে,সাফারাতের কপালে জুটল না!'

চৈত্রিকা নিজের মোবাইলটা খুঁজে আনল। সবাই অবাক হয়ে দেখছে ওকে। কিছুক্ষণ আগেই নেতিয়ে পড়া মেয়েটা হুট করেই সজীব হয়ে উঠেছে। একের পর এক অনবরত কল দিতে লাগল সাফারাতকে। বিশেষ লাভ হলো না। আলো বেগম গভীর চোখে ওকে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে। মেয়েটা স্ট্রং। নিঃসন্দেহে জীবনে অনেক স্ট্রাগল করেছে সে। নয়ত সদ্য মূর্ছা যাওয়া নরম মনের মেয়েটা এত সহজে শক্ত হতে পারত না। নিজের পূর্বের অভ্যাস বশত পরিস্থিতি বুঝেই হয়ত এমন অদল বদল,পরিবর্তন হয় ওর মনের।

চৈত্রিকা একাধারে ফোন করে যখন কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকে পেল না মোবাইলটা এক সাইডে রেখে দিল। সিনথিয়া চিন্তিত ভঙ্গিতে বললো,
' আয়ানকে ফোন দেই। পেল কি-না জিজ্ঞেস করি। '
নিজের মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন দিবে তার আগেই মোবাইলটা ভাইব্রেট করে উঠল। তৎক্ষনাৎ দ্রুত বেগে মোবাইলটা রিসিভ করল সিনথিয়া। অপর পাশ থেকে শ্রবণগ্রন্থিতে পৌঁছাল আয়ানের করুন স্বর।

' সাফারাত নেই সিনথিয়া। কোথাও নেই। বাড়িতেও যায় নি। চেনা পরিচিত সব জায়গায় খুঁজেছি কোথাও পাই নি। চার ঘন্টা ধরে খুঁজে যাচ্ছি। মোবাইল বন্ধ থাকায় লোকেশন ট্র্যাক করতে পারছি না। '
' কোথায় যাবে ও?তুমি ভালো করে খুঁজো। '
' হুম।'

আয়ান ফোন রেখে দিল। পাশে থাকায় সবটা শুনল চৈত্রিকা। বুকটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে ওর। কিন্তু উপরে শক্ত রইল। অভ্যন্তরের কষ্টের ছাপ মুখে প্রকাশ করল না। লুকিয়ে নিল,চেপে নিল হৃদয়স্থলে।
_____________

পুরো একটা রাত পাড় হয়ে গেল অথচ সাফারাতের কোনো হদিস,খোঁজ খবর পাওয়া গেল না। চৈত্রিকার জোরাজোরিতে ওকে নিয়ে এহমাদ বাড়িতে এল সিনথিয়া, আলো বেগম। এখানেই এসেই বাঁধল আরেক বিপত্তি। কেউ ভালো করে কথা বলছে না চৈত্রিকার সাথে। উল্টো মেয়েটার বিধস্ত মুখখানি দেখেও একতাল কথা শুনিয়ে দিলেন প্রিয়ন্তীর মা। অনবরত দোষারোপ করতে লাগল চৈত্রিকাকে। ফাহমিদা, দিহান, মিম এলেও কারো সাথে কথা বলল না চৈত্রিকা। সারাটা সময় নিশ্চুপ রইল। টলমলে পায়ে প্রবেশ করে সুফিয়া বেগমের রুমে। গলায় তেজ ঢেলে সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করল,

' আপনি আমাকে মিথ্যে কেন বললেন দাদি?আজ আপনার কারণে আমার স্বামী আমার কাছে নেই। আমার অনাগত সন্তানের বাবা কাছে নেই। শুধুমাত্র আপনার জন্য আমি উনার বিশ্বাস, আত্মায় আ'ঘা'ত করেছি। ক্ষত বিক্ষত করেছি নিজের অজান্তেই। '

সুফিয়া বেগম চোখের চশমা খুলে অশ্রুসিক্ত আঁখিদ্বয় মুছে নিলেন। নরম স্বরে বলে উঠলেন,

' আমি জানি ফারুক যা করেছে তা ভুল নয় বরং অপরাধ। কিন্তু ও এখন নিজের ছেলেকে চায়। আমারও শেষ বয়সে এতটুকুই ইচ্ছে ছিল আত্মীয়তার মধ্যে সকল দূরত্ব ঘুচে যাক। তিলে তিলে কষ্ট পেতে থাকা সাফারাত ওর বাবার স্নেহ যেন পায়। '

রাগে থরথর করে কাঁপল চৈত্রিকার বদন,সমস্ত কায়া। মলিন মুখে মৃদু হাসল সে। তাচ্ছিল্যের স্বরে প্রতুত্তর করল,

' আপনি সঠিক দাদি। তবে এতে মায়ের সাথে ও সাফারাতের সাথে বেই/মানি হয়ে যেত। আল্লাহ হয়ত আমাকে এমন বেইমা/নি করা হতে সময় থাকতে বাঁচিয়ে দিলেন। '

কথাগুলো বলে দ্রুত গতিতে নিজেদের রুমে চলে এল চৈত্রিকা। নিজেদের রুম?হ্যাঁ! ওর আর সাফারাতের রুম। রুমের চার দেয়ালে,প্রত্যেকটা কোণায় কোণায় যেন ওদের ভালোবাসার ছড়াছড়ি। ভিন্ন ভিন্ন মুহুর্তের সাক্ষী। ডুকরে কেঁদে উঠল চৈত্রিকা মেঝেতে বসে। বিড়বিড় করে বললো,

' শুধু একবার। একবার আপনাকে পাই সাফারাত। আমি সবকিছু ঠিক করে দিব। কোথায় আপনি?কোথায় চলে গেলেন আমাদের ফেলে?আপনার চৈত্র মাস কষ্ট পাচ্ছে। অভিমান কি ভালোবাসার চেয়েও তীব্র?উঁহু! আপনার ভালোবাসা তীব্র, গভীর। '

মিম পড়নের শাড়ি টা সামলে দৌড়ে এলো। দু'চোখ টুকটুকে লাল হয়ে আছে তার। চৈত্রিকা দেখার আগে উল্টো ঘুরে অতি সন্তর্পণে মুছে ফেলল অবশিষ্ট জল টুকু। তবুও লাল রঙ কি ফিকে হয়?চৈত্রিকার পায়ের কাছে বসে গলায় দলা পাকিয়ে যাওয়া কান্না গুলো গিলে কথা বলার চেষ্টা করল। কন্ঠস্বর প্রভাবশূণ্য ,দানবিশেষ, নিষ্প্রাণ।

' আপু। তৈরি হয়ে নাও। আমরা এক জায়গায় যাবো। দিহান ভাইয়ার খোঁজ পেয়েছে। '

মেঝে থেকে চক্ষুদ্বয় তুলে চমকিত, চকচকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল চৈত্রিকা মিমের দিক। ক্রমাগত ব্যগ্র, অস্থির, কম্পনরত কন্ঠে জিজ্ঞেস করতে থাকে--' কোথায় উনি?'
মিম তাৎক্ষণিক জবাব দিল না। কিছু সেকেন্ড অতিবাহিত হতেই ছোট্ট করে বললো--' গেলেই দেখবে। '
চৈত্রিকার দৃষ্টির পরিবর্তন হলো। মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে উঠল। জহুরি চোখে কিয়ৎপরিমাণ সময় চেয়ে থেকে বলে- ' তোর চোখ লাল কেন মিমু?কাঁদছিস কেন?'

মিম বোনকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে বলে উঠল-' তোমাকে এভাবে দেখে শ্বাস ফেলতে কষ্ট হচ্ছে আপু। প্লিজ তুমি নিজেকে সামলাও। '
________

গাড়ি এসে হসপিটালের সামনে থামতেই চৈত্রিকা মিমের দিকে বিপন্ন চোখে তাকাল। দিহানকে উদ্দেশ্য করে কড়া সুরে বললো,

' এখানে নিয়ে এলেন কেন?সাফারাত ও বাকি সবার কাছে নিয়ে চলুন। আপনার কি হসপিটালে কোনো কাজ আছে?থাকলে আমাকে এড্রেস টা বলে দিন, আমি ট্যাক্সি ধরে চলে যাব। '

অসহায় দৃষ্টিতে এক পলক চেয়ে দিহান গাড়ি থেকে নেমে পড়ল। ধরা গলায় বললো,

' নেমে এসো। এখানেই সাফারাত। '

চৈত্রিকার বক্ষস্থল কেঁপে উঠল। কথা বলতে পারল না সে। কন্ঠনালি যেন চেপে ধরেছে কেউ। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এল ভিতরে। পিছু পিছু ছুটে এল দিহান। হাঁপাতে হাঁপাতে রিসিপশনের মেয়েটাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছে না চৈত্রিকা। চোখ থেকে অঝোরে জল ঝরছে। দিহান বিচলিত কন্ঠে প্রশ্ন করে,

' সাফারাত এহমাদ? '
' আইসিউতে রেখেছেন উনাকে। '
' থ্যাংকস। '

জীবনটা সুন্দর হতে গিয়েও সুন্দর হলো না ছোট বয়স থেকে ধুকে ধুকে বাড়ন্ত ছাব্বিশ বছর বয়সী চৈত্রিকার। কিছু মাস পূর্বেই এই হসপিটালের করিডোরে দেখেছিল বাবার রক্তমাখা দেহ। তৎপরেই দেখেছিল বাবা নামক মানুষ টার মৃ'ত দেহ। আজ পুনরায় এই হসপিটালে ওর পদলি পড়েছে। চোখের সামনে ভাসছে প্রাণপুরুষের নিস্তেজ সুদর্শন,তাগড়া দেহখানা। কপালে ব্যান্ডেজ। রক্তাক্ত হয়ে আছে একপাশ। হাতে ব্যান্ডেজ। আইসিইউ রুমের বেডে শুয়ে মানুষ টা বড় বড় শ্বাস ফেলছে। হয়ত লড়াই করে যাচ্ছে বেঁচে থাকার। ছোট্ট গ্লাস থেকে দৃষ্টি সরিয়ে চৈত্রিকা দুর্বোধ্য হাসল। পেটে এক হাত রেখে বললো,
' তোর মা'র কপালে সুখ ক্ষণিকের মেহমান ছিল। '

চিল্লিয়ে কাঁদার জায়গা নেই, প্রিয় মানুষটাকে কাছ থেকে স্পর্শ করার অনুমতি নেই। আলো বেগম করিডোরের পাতানো বেঞ্চে বসে নিরবে চোখের জল ফেলছেন। সাফারাত রাতে এক্সি/ডেন্ট করেছে। কিন্তু কেউ জানতে পারল না। আশেপাশের কিছু মানুষ হসপিটালে এডমিট করিয়ে দেয়। ডাক্তার রাতে চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় পরিবারের কাউকে খবর দিতে পারে নি। চেনা পরিচিত হওয়ায় সকালেই ফোন দিয়ে দিহান কে জানায়। সাফারাতের অবস্থা ভালো না। জ্ঞান কবে ফিরবে তা-ও সঠিক বলা যাচ্ছে না। মাথার আ'ঘা'ত টা খুবই কঠিন,গভীর।

চুপ করে এক কর্ণারে নিজের জায়গা করে নিল চৈত্রিকা। সুখ হয়ত চৈত্রিকার আঁজলাতে ধরা দিতে রাজি নয়। তাই তো পালিয়ে যায় বারংবার। সুফিয়া বেগমের শরীর খারাপ হওয়ায় উনাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাথে প্রিয়ন্তীও চলে গিয়েছে। আয়ান সিনথিয়া ও আয়মানকে নিয়ে চলে গেল। পরে আবার আসবে,হসপিটালে বেশি মানুষ এলাউ না বিধায়। আলো, ফাহমিদা একপাশে বসে রইলেন। মেয়ের দিকে তাকাতে পারছেন না ফাহমিদা। এত জলদি মেয়ের সুখের সংসারের ইতি ঘটবে কে জানত!

সকাল পেরিয়ে মধ্যাহ্ন শুরু হয়। চৈত্রিকা তখনও ভাবলেশহীন হয়ে বসে আছে এক কর্ণারে। নিজের কাছে কাউকে ভিড়তে দিচ্ছে না। কারো স্বান্তনা বাণী চায় না তার।সাফারাতের চাচী তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। এগিয়ে এসে এক টানে বসা থেকে টেনে দাঁড় করালো চৈত্রিকাকে। অকস্মাৎ এহেন কান্ডে সকলে ঘাবড়ে যায়। চৈত্রিকা হতবাক, বাকরুদ্ধ। ফাহমিদা, আলো বেগম কাছে এলে উনি ধা'ক্কা দিয়ে চৈত্রিকাকে ফেলে দিলেন ফাহমিদার শরীরের উপর। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দু'হাতে মেয়েকে বুকে আগলে নিলেন ফাহমিদা। কিছু জিজ্ঞেস করার পূর্বেই চাচী দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলেন,

' আপনার এই মেয়েকে এখান থেকে নিয়ে যান। অপয়া,অলক্ষুণে মেয়ে একটা। এই মেয়ে যেই সংসারে যাবে সেই সংসার টিকবে না। নিজের ভাইয়ের খু/'নী সে। আজ সাফারাতও মর'তে যাচ্ছে ওর কারণেই। '

দিহান এগিয়ে আসতে নিলে মিম হাত চেপে ধরল। রেগেমেগে প্রস্থান করল দিহান। মা'কে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো চৈত্রিকা। প্রতিবাদী কন্ঠে বললো,

' আমি সাফারাতকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। আমি যদি অলক্ষুণে, অপয়া হয় তবে আপনারা কি?কালপিট?মুখোশধারী শয়তান?নিকৃষ্ট মানুষ। যারা কি-না আমার স্বামীর দুর্বল সময়ের অপেক্ষা গুণে। এহমাদ বাড়ি আমার,আমার স্বামীর। আমার সংসার। আপনার কোনো অধিকার নেই সাফারাত থেকে আমাকে দূরে সরানোর। সময় থাকতে সতর্ক হোন। অনেক রেহাই পেয়েছেন আপনারা। আমি সিয়া মা না,আমি চৈত্রিকা। সাফারাতের রুক্ষ শুষ্ক,তেজস্বী চৈত্র মাস। '

চৈত্রিকার একেকটা বাক্য, শব্দে যেন আক্রোশ ফেটে পড়ছে। কঠিন মুখভঙ্গি। চাচী ভড়কে গেলেন। মুখে যেন কুলুপ এঁটে গেল উনার নিমেষে।

সুখের_নেশায়
লেখিকাঃআসরিফা_সুলতানা_জেবা
পর্ব___৪৪

চাচী অপমানে থমথমে মুখ নিয়ে নিশ্চুপে করিডোর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। সেদিকে চেয়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়লেন ফাহমিদা। মেয়ের উদ্দেশ্যে কড়া গলায় বলে উঠলেন,
' তুমি এটা ঠিক করো নি চৈত্র। শত খারাপ কিংবা ভুল হোক উনি সম্পর্কে তোমার চাচী শাশুড়ী। '
চৈত্রিকা সম্পূর্ণভাবে মা'য়ের কথার অবজ্ঞা করল। বিষাদমাখা চেহারায়,ঠোঁটে খেলে গেল মৃদু হাসির রেখা। অধর জোড়া নড়ে উঠল ক্ষীণ।
' উনারা প্রতা*রক,নিষ্ঠুর,অমা*নুষ। যেই থালাতে সারাজীবন খেল সেই থালা-ই ছেদ করল। এক একটা মুখোশধারী শয়*তান। আমার স্বামীর অসুখের কারণ। '

ফাহমিদা বলার মতো আর কিছু খুঁজে পেলেন না। সিনথিয়ার মুখে সবটা শুনেছেন উনি। আলো এগিয়ে এসে চৈত্রিকার মাথায় হাত রাখলেন। দৃঢ় কন্ঠে বললেন,
' শক্ত হও,কঠোর হও। একজন সাহসী নারী রূপে রাঙিয়ে নাও নিজেকে। শুধু মনে রেখো কখনও ভেঙে পড়া যাবে না। কঠিন হতে কঠিন কষ্টেও না। '

চৈত্রিকা শক্ত করে উনাকে জড়িয়ে ধরলো। তড়তড় করে বলে উঠল,
' দোয়া করবেন খালামণি। আড়ালের অনেক সত্য প্রকাশ্যে যেন আনতে পারি। আমার জীবন যেন রঙিন হয় রংধনুর সাত রঙের ন্যায়। কিছুই চাই না আমার। শুধু একটাই চাওয়া মৃ'ত্যু'র আগ পর্যন্ত থেকে যাবে তা হলো সাফারাত নামক সুখ। '
' অবশ্যই ডিয়ার। আমার ছেলেটা সুস্থ হলেই আমার শান্তি। '

আলো বেগমকে ছেড়ে দিয়ে চৈত্রিকা আবারও আইসিইউ রুমের সমুখে গেল। ছোট গ্লাস দিয়ে গভীর,গাঢ়,প্রখর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সাফারাতের বিবর্ণ, বিধস্ত চেহারায়। চৈত্রিকার আঁখিদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে এল। অভ্যন্তরের আর্তনাদ, আর্তচিৎকার বাহিরের কারো কর্ণপাত হলো না। কেবল জ্বলে উঠল চৈত্রিকার হৃদযন্ত্র।

গুটি গুটি পায়ে ডাক্তারের চেম্বারে আসতেই ডক্টর আদি ওকে বসার জন্য রিকুয়েষ্ট করল। চেয়ার টেনে বসল চৈত্রিকা। কাঁপা কন্ঠে তেজের অস্তিত্ব ঢেলে প্রশ্ন করে,
' উনার জ্ঞান ফিরছে না কেন ডক্টর? কখন ফিরবে?'

ডক্টর আদি সূক্ষ্ম নজরে চাইলেন। সাফারাতের রিপোর্ট টা চৈত্রিকার সামনে রেখে বলে উঠলেন,
' কবে,কখন ফিরবে আপাতত তা বলতে পারছি না মিসেস। সাফারাতের মাথার ইনজুরি টা খুবই গভীর। সময় প্রয়োজন। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আজ আরেকজন সিনিয়র ডক্টর আসবেন ওর ট্রিটমেন্টের জন্য। উনি খুব ভালো একজন নিউরোসার্জন। তবে আমরা আশঙ্কা করছি সাফারাত হয়ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে না। মানসিক ভারসাম্য হারাতে পারে নয়ত কোমায় চলে যেতে পারে। যদি আজকেই জ্ঞান ফিরে আসে তাহলে পজিটিভ হতে পারে সবকিছু। মিথ্যে হয়ে যেতে পারে আমাদের ভাবনা। '

মুহুর্তেই বৃষ্টির আগমন ঘটল। বিরতিহীন বৃষ্টি, প্রবল বর্ষণের ধারা। কাল বৈশাখী ঝড়ের তান্ডবও হার মেনে যাবে এই মুহুর্তে শুরু হওয়া বৃষ্টির বেগের কাছে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো এই বৃষ্টি কাউকে ভিজাতে সক্ষম হলো না। পানি বিন্দু হয়ে কারো দেহ,লোম,ওষ্ঠ, চোখের পাপড়ি কিছুই স্পর্শ করতে পারল না। পারল শুধু চৈত্রিকার ভেতরটা ভরিয়ে দিতে অশ্রুরুপে। মৌনমুখে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল চৈত্রিকা। শক্ত হতে হতে আজ সকল সীমা বুঝি অতিক্রম করে ফেলল মেয়েটা!তার চক্ষুকোল ভিজল না। অক্ষিকাচে ফোঁটায় ফোঁটায় জলের দেখা মিলল না। অথচ বক্ষস্থলে সেকি ঝড় বইছে!জ্বলছে অতীব। টালমাটাল দেহ খানি নিয়ে ডক্টর আদির কেবিন ছেড়ে করিডোরে মা'য়ের পাশে এসে বসল। যে কেউ দেখলে ঠাহর করতে পারবে না এই মেয়ের দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া। শুধু অবলোকন হবে একখানা সুন্দর, মায়াবী গড়নের মলিন, ফ্যাকাসে,রক্তশূণ্য চেহারা।

চৈত্রিকা দু' চক্ষু মুদে ভাবে পরিবারের প্রত্যেক টা সদস্য নিয়ে,সাফারাতকে নিয়ে। মনে মনে অংক কষে সে। ইন্টার অব্দি পড়লেও জাগতিক বাস্তবতার ব্যাপারে তার জ্ঞান কম নয়। সবকিছু মিলিয়ে সে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। নিজের সঙ্গে আনা মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন করে সাফারাতের অফিসের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারকে। কল রিসিভ হতেই প্রথমে সালাম দিল। মিহি স্বরে বললো,
' আমি চৈত্রিকা। '
অপর পাশ থেকে অর্ধবয়স্ক লোকটা হেসে বললেন,
' জ্বি ম্যাম। কেমন আছেন আপনি?স্যার কোথায়?আজ আপনি ও স্যার দু'জনেই অফিস আসলেন না এখনও। একটা জরুরি মিটিং আছে ম্যাম। স্যারকে ফোনে পাচ্ছিলাম না। কখন আসবেন?'

বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই চৈত্রিকা আগের মতো অফিসে যাওয়া শুরু করে। সাফারাত অফিসে ওকে নিজের বউ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলে নরমাল পদবিতে জব করেও শান্তি নেই চৈত্রিকার। নিজের পজিশন থেকে ছোট বড় সকলেই ম্যাম বলে সম্বোধন করে। চৈত্রিকা জবাবে বললো,

' আপনাদের স্যারের এক্সি'ডেন্ট হয়েছে। মিটিং টা আপনি সামলে নিয়েন। তার আগে আপনাকে আমার একটা কাজ করতে হবে সৈয়দ সাহেব। '
লোকটা বিনয়ী স্বরে বললেন,
' বলুন ম্যাম। '
' ফারুক এহমাদ নামে একজন বিজনেসম্যানের পুরো ডিটেইলস আমার চাই। উনার বিজনেস টা কানাডাতে। ডিটেইলস জেনে আপনি আমাকে ফোন দিবেন। রাখছি। '
' ঠিক আছে। '

আলো বেগমের শঙ্কিত, সন্দেহাতীত নজরের সম্মুখীন হলো চৈত্রিকা তৎক্ষনাৎ। সরব করে শ্রবণগ্রন্থিতে পৌঁছায় উনার চিন্তিত, অবাক কন্ঠস্বর।
' ফারুকের সব ডিটেইলস কেন জানতে চাইছ?সাফারাত যদি আবার জেনে যায়?'
চৈত্রিকা সাথে সাথে উত্তর দিতে পারল না। মন্থর গতিতে সূক্ষ্ম, খুবই সূক্ষ্ম একটা নিঃশ্বাস বিমোচন করে দিল লম্বা, জনপূর্ণ, অনবরত শব্দে মুখরিত হয়ে থাকা করিডোরে।

' সাফারাতের যে অনেক কিছু জানা বাকি খালামণি। যেই লোক কে সে শুধু মাত্র অত্যাচারের জন্য খু*নী বলে দাবি করে সেই লোক কি ওর মা'য়ের সত্যিকারের খু*নী হতে পারে না?এমনও তো হতে পারে মা'য়ের মৃত্যু টা স্বাভাবিক নয় বরং ফারুক এহমাদ নিজেই মে'রে ফেলেছেন যার সাথে পরকীয়ায় ছিলেন তাকে বিয়ে করার জন্য। '

পিলে চমকে উঠল আলো বেগমের। কিংকর্তব্য বিমূঢ় তিনি ও ফাহমিদা উভয়েই। শরীরের পশম দাঁড়িয়ে গেল বুঝি! এমনভাবে কখনও ভেবে দেখেন নি। সত্যিই কি মৃ'ত্যু টা রহস্যজনক?ফারুক খু*ন করার মতো ভুল করবে?করতেও পারে। এই লোকের কখনও নিজের স্ত্রী-সন্তানের প্রতি মায়া ছিল না। যা ছিল তা কেবল অভিনয়। আচ্ছা এতগুলো বছরে কেন একটা বারও এই বিষয়টা খতিয়ে দেখল না ওরা কেউ। সাফারাত দেখেছে কি?দেখলে ওর কোনো রিয়াকশন কেন প্রকাশ পায় নি। না-কি সে শুধু অত্যাচারের প্রেক্ষিতে বাবাকে খু*নী মানে?

চৈত্রিকা আলো বেগমকে জিজ্ঞেস করলো--' মা'য়ের মৃ*ত্যুর দিন চাচা-চাচী পৃথক, প্রিয়ন্তী কোথায় ছিল?'

' বাবার বাড়িতে ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে ছিল তাই ওরা সবাই সেখানে চলে গিয়েছিল সিয়ার মৃ'ত্যুর ঠিক দু'দিন আগে। '

চৈত্রিকা আর কিছুই বলল না। নিরবতায় কেটে গেল সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টার পর ঘন্টা। তিন ঘন্টা। বাতাবরণে সমীরণ বইছে অল্প সল্প,মৃদু। কড়া রোদ্দুরের তেজস্বী রুপ বিলীন হয়েছে। প্রকৃতি জুড়ে নেমে এসেছে বিকেল। একের পর এক নার্স,ডক্টরের আনাগোনা চলেছে সাফারাতের কেবিনে। করিডোরে মানুষের সমাগম। কারো কারো কষ্টদায়ক নিঃশ্বাসে,আহাজারিতে গরম হয়ে উঠেছে হাসপাতাল টা। পাশের কেবিন থেকে উচ্চস্বরে ক্রন্দন,রোদন ধ্বনি ভেসে আসছে। চৈত্রিকা সেদিকে এগিয়ে গেল। ছ্যাঁৎ করে উঠল ওর অন্তস্তল। কম বয়সী একটা মেয়ে। হয়ত আঠারোর ঘর এখনও পেরোয় নি৷ মেয়েটা ক্রমাগত চোখের জল ফেলছে। সাদা কাপড়ে আবৃত একটা লম্বাটে দেহ শুয়ে রাখা হয়েছে হসপিটালের নির্ধারিত সিংগেল বেডে। ঠিক সেই মুখ ঢেকে রাখা নিষ্প্রাণ, নিথর দেহটার দিকে আত্মীয় স্বজনরা চেয়ে চেয়ে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছেন। সেই মেয়েটার ধারে বসে একটা মহিলা মুখে আঁচল চেপে কাঁদছেন। দরজার কাছে দাঁড়ানো নার্সকে জিজ্ঞেস করতেই জানায় ছোট কিশোরী সেই মেয়েটার স্বামী মাত্র দু'মিনিট আগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। মেয়েটার বিয়ের বয়স মাত্র পনের দিন। একটা বিল্ডিংয়ের নির্মাণে কাজ করত ছেলেটা। গতকাল কাজের সময় উপর থেকে ছিটকে পড়ে পুরো দেহ থেঁতলে যায়। মাথার জখম অধিক হওয়ায় মা*রা গিয়েছে।

চৈত্রিকার পুরো কায়া কাঁপল। পিছিয়ে গেল সে কয়েক পা। দৌড়ে সাফারাতের কেবিনের সামনে গিয়ে উপস্থিত হলো। ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে ও প্রিয় মানুষটার কাছে না যেতে পেরে। ওর কষ্ট বুঝার একমাত্র মানুষ টা যে শুয়ে আছে নিরলসভাবে,নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে। আজও গম্ভীর মানুষ টা। ফোনের শব্দ পেয়ে পিছু ঘুরতেই দেখে ফাহমিদা ওর ফোন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছোট্ট করে,সাবলীল বাক্য উচ্চারণ করলেন,
' তোর ফোন বাজছে।'

চৈত্রিকা ফোন টা নিল। কানে ধরতেই অপর পাশের ব্যক্তি টা বললেন,
' ম্যাম ফারুক এহমাদ একেবারে বাংলাদেশ চলে এসেছেন। উনার বিজনেসে লস চলছিল গত সাত মাস ধরে। তিনি আমাদের কোম্পানিকে মানে সাফারাত স্যার কে বার বার কন্ট্রাক্ট করার চেষ্টা করছিলেন। কারণ আমরা যদি উনার সাথে ঢিল করি তাহলে উনার বিজনেসের ক্ষতি টা পুষে যাবে। '

এতটুকু বলে থামলেন সৈয়দ সাহেব। শ্বাস টেনে গলা ঝেড়ে বললেন,
' ম্যাম একটা কথা বলব?'
' বলুন সৈয়দ সাহেব। '-- সাদামাটা জবাব চৈত্রিকার।
সৈয়দ সাহেব আঁকুপাঁকু করছেন। শব্দমালা এলোমেলো হয়ে গেল হয়ত। তবুও গুছিয়ে বলার আপ্রাণ চেষ্টা করলেন,

' ম্যাম উনি তো স্যারের বাবা। স্যারের সাথে হয়ত উনার দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগ নেই। স্যার যদি একবার সবার কাছে উনাকে বাবা পরিচয় দেন তাহলে আমাদের যত বিজনেস ফ্রেন্ড আছেন মানে আমরা যাদের সাথে ডিল করি তারা ফারুক এহমাদকে কনটাক্ট দিবেন। এতে উনার জন্য কন্টাক্ট পাওয়া কঠিন হবে না। সবাই স্যারের মতই নিঃসন্দেহে উনার সাথে বিজনেস করবেন। যতটুকু জানতে পারলাম আমি উনার এসিস্ট্যান্ট থেকে। কথাটা একটু গোপন। উনার এসিস্ট্যান্ট এখন আমাদের এক বিজনেস পার্টনারের অধীনে কাজ করেন সেখান থেকেই সবটা জেনেছি আমি। ভুল হলে ক্ষমা করবেন ম্যাম। '

চৈত্রিকা ফোন টা রেখে দিল। রাখার আগে ক্ষীণ স্বরে সৈয়দ সাহেব কে বললেন--' ধন্যবাদ। '

জঘন্য, খারাপ কিছু মানুষের স্বভাব অথবা চরিত্র কোনোটারই পরিবর্তন ঘটে না। তন্মধ্যে একজন হলেন ফারুক এহমাদ। চৈত্রিকার অভিলাষ হলো,স্পৃহা জাগল মানুষটার মুখশ্রী তে একদলা থুতু ফেলতে। ফাহমিদার দিকে চেয়ে ব্যগ্র কন্ঠে বলে উঠল,
' মা আমি আসছি। '
' কোথায় যাচ্ছিস?'-- শঙ্কিত স্বর ফাহমিদার।
' বেশিক্ষণ লাগবে না মা। আমি এক ঘন্টার মধ্যে ফিরে আসব। খুব জরুরি একটা কাজ আছে। '
' কিন্তু চৈত্র,,!'
ফাহমিদা বলার পূর্বেই চৈত্রিকার ঝড়ের বেগে চলে গেল। একটা ট্যাক্সি ডেকে ড্রাইভার কে জানালো কোথায় যাবে। বিনিময়ে ড্রাইভার ভাড়া দ্বিগুণ চাইলেন। ইনিয়েবিনিয়ে বললেন সামনে জ্যাম পড়তে পারে। তিনি এখন যাবেন না। বেশি ভাড়া দিলেই যাবেন। এসব শুনতে বেশ বিরক্ত লাগছিল চৈত্রিকার। সে নির্দ্বিধায় বললো,-- ' ভাড়া বেশিই দিব মামা। চলুন প্লিজ। '
ড্রাইভার খুশিতে এক গাল হাসলেন। নিজের কান্ডে নিজেই আশ্চর্য,বিস্মিত চৈত্রিকা। যেই মেয়ে দশ-বিশ টাকা বাঁচানোর জন্য হেঁটে যেত টিউশনিতে ঘন্টার পর ঘন্টা। পায়ের তলায় মাঝে মাঝে ফসকা পড়ে যেত তবুও টাকা বাঁচানোর নিমিত্তে হেঁটে যাতায়াত করত সে কি-না আজ সামান্য একটু জায়গা দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে যেতে রাজি হয়ে গেল!সত্যি বিষয়টা বিস্ময়কর। চমকপ্রদ বিষয় হলো সময়। যার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনেরও পরিবর্তন হয়। চৈত্রিকার এখন আর টাকার পিছনে ছুটতে হয় না। টিউশনি করিয়ে হাজার-দু'হাজার টাকা দিয়ে পুরো মাস চলার কথা ভাবতে হয় না। কিন্তু টাকায় কি প্রকৃত সুখ মিলে?না। যদি মিলত তাহলে চৈত্রিকার কপালে সুখ নেই কেন?তাকে সুখের নেশায় আবারও ছুটতে হচ্ছে কেন?কেন অসুখে পরিণত হলো জীবনে আসা সাময়িক সুখগুলো?
_____________

সূর্য ঢলে পড়েছে। মাগরিবের আযানের ধ্বনি কর্নকুহর হচ্ছে কাছেই অবস্থিত একটা মসজিদ থেকে। চৈত্রিকা ভেবেছিল কাজটা ইজি হবে। কিন্তু তার ভাবনার চেয়েও কঠিন হলো। সেই সাথে উন্মোচন হলো কঠিন এক সত্য। রীতিমতো কাঁপছিল চৈত্রিকা সবটা জানার পর। পুরো শরীর অসাড় হয়ে পড়েছিল। শক্তি পাচ্ছিল না। বিশ্বাস হচ্ছিল না কোনো কিছুই। তবুও বিশ্বাস করা ছাড়া উপায় ছিল না। একেকটা কে আগুনে জ্বলসে দিতে পারলে মন শান্তি পেত।
গত রাত থেকে নির্ঘুম, ক্ষুদার্ত, দুর্বল দেহ টা টেনে টেনে কোনোমতে হসপিটালের সামনে এসে দাঁড়াল ও। ভিতরে প্রবেশ করবে তার মধ্যেই বেজে উঠল ফোন টা। তড়িৎ গতিতে রিসিভ করে কানে দিয়ে বলে উঠল,
' বল মিমু। '
' ভাইয়া,,'
চৈত্রিকার কানে এলো না মিমের কথাগুলো। মোবাইলটা হাত থেকে পড়ে গেল অকস্মাৎ মাথা ঝিমঝিম করে উঠার দরুন। দূর হতে যেন কেউ অতি সন্তর্পণে বলে গেল,
' তুই অতি মূল্যবান কিছু হারাতে যাচ্ছিস চৈত্র। '

#চলবে,,,,!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 27 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন