ফন্ট সাইজ:
থিম:
বৃষ্টিভেজা প্রথম দেখা

পর্ব 2

লেখক: : মেঘলা আক্তার সুমাইয়া

🌧️ উপন্যাস: বৃষ্টিভেজা প্রথম দেখা

✍️ লেখিকা: মেঘলা আক্তার সুমাইয়া

🌸 প্রথম পর্ব🌸

দুটি পরিবার, দুটি আলাদা পৃথিবী

ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় রহমান পরিবারের বসবাস। তিনতলা বিশাল বাড়ি। বাড়ির সামনে ছোট্ট একটি বাগান, যেখানে নানা রঙের ফুল ফুটে আছে। বাড়ির পরিবেশটা বেশ শান্ত, তবে সেই শান্ত পরিবেশ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। কারণ বাড়িতে রয়েছে একজন চঞ্চল, অভিমানী মেয়ে।

সকাল ৮টা।

রহমান বাড়ির রান্নাঘরে নাস্তা তৈরি করছেন নুসরাত জাহান। ডাইনিং টেবিলে বসে পত্রিকা পড়ছেন মাহমুদ রহমান।

হঠাৎ ওপরতলা থেকে চিৎকার শোনা গেল।

মেহের: আম্মুউউউ!

নুসরাত: কী হয়েছে আবার? সকাল সকাল চিৎকার করছিস কেন?

মেহের: আম্মু, আমার সাদা ওড়নাটা কোথায় রেখেছ?

নুসরাত: তোর জিনিস তুই জানিস না, আমি জানব কীভাবে?

মেহের: আম্মু! তুমি না আমার মা? নিজের মেয়ের একটু খোঁজও রাখো না!

নুসরাত হেসে বললেন,

নুসরাত: হ্যাঁ রে, তোর সবকিছুই আমাকে খুঁজে দিতে হবে!

ঠিক তখনই ছোট বোন মিম এসে বলল,

মিম: আপু, তোমার ওড়না তো কাল তুমি নিজেই সোফায় ফেলে রেখেছিলে!

মেহের: এই মেয়ে! তুই আমার পেছনে এত গোয়েন্দাগিরি করিস কেন?

মিম হেসে দৌড়ে পালিয়ে গেল।

মাহমুদ রহমান পত্রিকা থেকে মুখ তুলে বললেন,

বাবা: আমার বাড়িতে সকালবেলা এত চিৎকার কেন?

মেহের দৌড়ে বাবার কাছে গিয়ে বলল,

মেহের: বাবা! দেখো না, তোমার ছোট মেয়েটা আমাকে কত জ্বালায়!

বাবা: আচ্ছা, আমার রাজকন্যার কী হয়েছে?

মেহের: কিছু হয়নি। তুমি শুধু আমাকে ভালোবাসো, ওকে না!

মিম: বাবা, আপু মিথ্যা বলছে! ও আমাকে একদম ভালোবাসে না!

সবাই হেসে উঠল।

🌷 মেহেরের বড় ভাই

সকাল ৮টা ৩০ মিনিট।

ঠিক তখনই মেহেরের বড় ভাই মেহেদী অফিসে যাওয়ার জন্য নিচে নামল।

মেহেদী: কী ব্যাপার? সকাল সকাল এত হাসাহাসি কিসের?

মিম: ভাইয়া, তোমার আদরের বোন আজ আবার ওড়না হারিয়েছে!

মেহের: ভাইয়া! তুমি ওর কথা বিশ্বাস করবে না। ও একটা মহা পাজি!

মেহেদী: তোরা দুই বোন সকালবেলা আমার মাথা খারাপ করে দিবি!

মেহের মুখ ফুলিয়ে চুপচাপ বসে পড়ল।

মেহেদী বোনের মাথায় হাত রেখে বলল,

মেহেদী: আচ্ছা, রাগ করিস না। কী খেতে চাস বল, ফেরার সময় নিয়ে আসব।

মেহের সঙ্গে সঙ্গে হাসল।

মেহের: চকলেট আর আইসক্রিম!

মেহেদী: বুঝেছি, আমার বোনের রাগ ভাঙানোর দাম অনেক!

🌸 মেহেরের ছোট্ট পৃথিবী

মেহের রহমান। বয়স ২০ বছর।

সে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি বই পড়তে, গল্প লিখতে এবং ডায়েরিতে নিজের অনুভূতি জমিয়ে রাখতে ভালোবাসে।

তার স্বপ্ন একদিন নিজের লেখা একটি উপন্যাস বই আকারে প্রকাশ করা।

মেহেরের স্বভাবটা একটু অদ্ভুত। কখনো অনেক কথা বলে, আবার কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুপচাপ থাকে। কেউ তার মন খারাপের কারণ জানতে চাইলে বলে, কিছু হয়নি।

কিন্তু তার ডায়েরির পাতাগুলো জানে, তার মনের মধ্যে কত গল্প জমে আছে।

🌷 বান্ধবীর ফোন

সকাল ১০টা।

মেহের নিজের ঘরে বসে চুল আঁচড়াচ্ছিল। ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।

স্ক্রিনে নাম ভেসে উঠল— নিশাত 💗

মেহের: হ্যালো, কী হয়েছে?

নিশাত: কোথায় তুই?

মেহের: বাড়িতে। কেন?

নিশাত: তাড়াতাড়ি তৈরি হ। আজকে দেখা করবি আমার সঙ্গে।

মেহের: কেন? আমাকে ছাড়া তোর দুনিয়া চলে না?

নিশাত: একদম চলে না, ম্যাডাম!

মেহের: আচ্ছা, কোথায় আসতে হবে?

নিশাত: আমাদের সেই পরিচিত ক্যাফেতে। আর শোন, আজকে কিন্তু দেরি করবি না।

মেহের: ঠিক আছে মা! এত আদেশ দিতে হবে না।

ফোন রেখে মেহের হেসে ফেলল।

নিশাত তার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী। মেহেরের জীবনে এমন কোনো ঘটনা নেই, যা নিশাত জানে না। দুজনের বন্ধুত্বে ভালোবাসা, অভিমান, ঝগড়া আর হাজারো স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

🌸 ক্যাফেতে দুই বান্ধবী

দুপুর ১২টা।

মেহের ক্যাফেতে পৌঁছাতেই নিশাত দূর থেকে হাত নাড়ল।

নিশাত: এই যে মহারানী! অবশেষে আপনার আগমন হলো!

মেহের: চুপ কর। রাস্তার জ্যামে আটকে গিয়েছিলাম।

নিশাত: হুম, বুঝেছি। তোর জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমার জীবন শেষ!

মেহের: আচ্ছা, এবার খাবার অর্ডার দে। অনেক ক্ষুধা পেয়েছে।

দুজনেই হেসে উঠল।

কিছুক্ষণ গল্প করার পর নিশাত হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,

নিশাত: আচ্ছা মেহের, একটা কথা বলি?

মেহের: বল।

নিশাত: তোর কি কখনো কাউকে ভালো লেগেছে?

মেহের অবাক হয়ে তাকাল।

মেহের: হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?

নিশাত: এমনি। তোর জীবনে প্রেম-ভালোবাসা বলে কিছু আছে নাকি, সেটা জানতে ইচ্ছা হলো।

মেহের: আমার জীবনে এখন শুধু পড়াশোনা, পরিবার আর তুই আছিস। আর কাউকে দরকার নেই।

নিশাত: বাহ! তাহলে তোর জন্য একটা রাজপুত্র খুঁজতে হবে!

মেহের: আগে তোর নিজের জন্য খুঁজে নে!

দুজনের হাসিতে ক্যাফেটা যেন মুখর হয়ে উঠল।

🖤 অন্যদিকে চৌধুরী বাড়ি

সকাল ৯টা।

ঢাকার অন্য একটি অভিজাত এলাকায় চৌধুরী পরিবারের বসবাস।

ডাইনিং টেবিলে বসে আছেন কামরুল চৌধুরী। পাশে স্ত্রী শায়লা চৌধুরী। কিছুক্ষণ পর সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল আরহাম।

পরনে কালো শার্ট, হাতে ঘড়ি, মুখে গম্ভীর ভাব।

শায়লা: বাবা, এত দেরি করে উঠলে কেন?

আরহাম: মা, একটু কাজ ছিল।

কামরুল: অফিসে আজ মিটিং আছে। সময়মতো পৌঁছাবে।

আরহাম: ঠিক আছে, বাবা।

ঠিক তখনই ছোট বোন আনিকা এসে ভাইয়ের পাশে বসল।

আনিকা: ভাইয়া!

আরহাম: আবার কী?

আনিকা: আমার জন্য একটা চকলেট আনবে?

আরহাম: তুই কি ছোট বাচ্চা?

আনিকা: হ্যাঁ! তোমার ছোট বাচ্চা বোন!

আরহাম মুচকি হেসে বলল,

আরহাম: আচ্ছা, নিয়ে আসব।

আনিকা খুশিতে ভাইকে জড়িয়ে ধরল।

🖤 আরহামের পরিচয়

আরহাম চৌধুরী। বয়স ২৫ বছর।

চৌধুরী পরিবারের বড় ছেলে। বাবার ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার কাঁধে।

সে গম্ভীর, আত্মসম্মানী এবং কিছুটা রাগী স্বভাবের। অপরিচিত মানুষের সঙ্গে বেশি কথা বলতে পছন্দ করে না।

তার কাছে পরিবার সবার আগে। নিজের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করে না। তবে পরিবারের মানুষদের জন্য যেকোনো কিছু করতে পারে।

বই পড়া, গাড়ি চালানো এবং নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানো তার পছন্দ।

🖤 বন্ধুদের আড্ডা

বিকেল ৪টা।

আরহাম অফিসের কাজ শেষ করে নিজের কেবিনে বসে ছিল। এমন সময় ফোনে কল এল।

রাফি: কিরে ভাই, বেঁচে আছিস?

আরহাম: না, তোর সঙ্গে কথা বলছি মানে ভূত কথা বলছে।

রাফি: বাহ! আজ দেখি মেজাজ ভালো!

আরহাম: কী দরকার বল।

রাফি: সন্ধ্যায় দেখা করবি। আদনানও আসবে।

আরহাম: দেখি।

রাফি: তোর এই দেখি শব্দটা শুনতে শুনতে জীবন শেষ!

আরহাম: বেশি কথা বলিস না। আসছি।

সন্ধ্যায় তিন বন্ধু একটি ক্যাফেতে মিলিত হলো।

রাফি: দোস্ত, তোর জীবনটা একদম অফিস আর বাড়ির মধ্যে শেষ!

আদনান: ওকে ছেড়ে দে। ওর জীবনে আনন্দ বলতে ব্যবসা আর ল্যাপটপ।

আরহাম: তোদের কাজ নেই?

রাফি: আছে। কিন্তু তোর মতো বোরিং না!

তিনজনেই হেসে উঠল।

🌧️ অজানা এক অনুভূতি

রাত ১০টা।

মেহের নিজের ঘরের জানালার পাশে বসে আছে। বাইরে হালকা বাতাস বইছে। আকাশে মেঘ জমেছে।

সে নিজের ডায়েরিটা খুলে লিখতে শুরু করল—

"জীবনে কিছু মানুষ আসে, যাদের আসার আগে আমরা কিছুই জানি না। জানি না, তারা আমাদের হাসির কারণ হবে, নাকি চোখের জলের। তবুও কোথাও একটা বিশ্বাস থাকে, একদিন কেউ একজন আসবে, যে আমার না বলা কথাগুলোও বুঝতে পারবে।"

লেখা শেষ করে মেহের জানালার বাইরে তাকাল।

অন্যদিকে আরহাম নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল। হঠাৎ ফোনে রাফির মেসেজ এল।

রাফি: কাল বিকেলে একটু বাইরে যাবি। একটা জায়গায় নিয়ে যাব তোকে।

আরহাম: কোথায়?

রাফি: কাল গেলেই বুঝবি।

আরহাম ফোনটা পাশে রেখে আবার কাজে মন দিল।

কিন্তু সে জানত না, আগামীকালের সেই বিকেল তার জীবনের গল্প বদলে দিতে চলেছে।

একটি বৃষ্টিভেজা বিকেল।

একটি অচেনা মেয়ে।

একটি গম্ভীর ছেলে।

আর শুরু হতে চলেছে এমন এক গল্প, যার নাম—

বৃষ্টিভেজা প্রথম দেখা।

━━━━━━━━━━━━━━━━━━
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন