বৃষ্টিভেজা প্রথম দেখা
লেখিকা: মেঘলা আক্তার সুমাইয়া
দ্বিতীয় পর্ব: বৃষ্টির দিনে অচেনা মানুষ
সকাল থেকেই আকাশটা কেমন মেঘলা। জানালার কাঁচে হালকা বাতাস এসে ধাক্কা দিচ্ছে। রহমান বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেহের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। তার হাতে এক কাপ চা, আর অন্য হাতে প্রিয় ডায়েরি।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে। কিন্তু মেহেরের মনটা আজ পড়াশোনায় বসছে না। আকাশের এই মেঘলা রূপটা তার ভীষণ প্রিয়। বৃষ্টি হলে তার মনে হয়, পৃথিবীর সব ব্যস্ততা একটু থেমে গেছে।
ঠিক তখনই পেছন থেকে মিমের ডাক ভেসে এল—
— আপু!
মেহের পেছনে ফিরে তাকাল।
— কী হয়েছে?
মিম মুখে দুষ্টু হাসি নিয়ে বলল,
— তুমি কি আকাশের প্রেমে পড়েছ?
মেহের ভ্রু কুঁচকে বলল,
— তোর কি আর কোনো কাজ নেই?
— আছে তো! তোমাকে বিরক্ত করা আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ।
মেহের হেসে ফেলল।
— বেশি কথা না বলে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে। তোর স্কুলে যেতে হবে না?
— ওহ! আপু আবার বড় বোনের দায়িত্ব পালন শুরু করেছে!
মিম দৌড়ে নিজের ঘরে চলে গেল। মেহের মাথা নেড়ে আবার আকাশের দিকে তাকাল।
কিছুক্ষণ পর মা নুসরাত জাহান রান্নাঘর থেকে ডাকলেন,
— মেহের, নাশতা করে নে মা। দেরি হয়ে যাচ্ছে।
— আসছি মা!
নাশতার টেবিলে বাবা মাহমুদ রহমান পত্রিকা পড়ছিলেন। মেহেদীও আজ একটু আগে বের হবে বলে টেবিলে বসেছে।
মেহের এসে চুপচাপ নিজের জায়গায় বসল।
মেহেদী বোনের দিকে তাকিয়ে বলল,
— কী ব্যাপার? আজ এত চুপচাপ কেন?
— কিছু না।
— কিছু না বললেই তো বুঝি, কিছু একটা হয়েছে।
মেহের বিরক্ত হয়ে বলল,
— ভাইয়া, সকালে আমাকে বিরক্ত করো না।
মেহেদী হেসে বলল,
— আচ্ছা, আর বিরক্ত করব না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার সময় ফোন দিবি।
মেহের মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
নাশতা শেষ করে সে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
---
অন্যদিকে চৌধুরী বাড়িতে সকালটা বেশ ব্যস্ততায় কাটছে।
আরহাম নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল। আজ অফিসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে। তার মা শায়লা চৌধুরী দরজায় এসে দাঁড়ালেন।
— আরহাম, নাশতা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে বাবা।
— আসছি মা।
— তোমার এই আসছি আর আসছি! কতক্ষণ ধরে ডাকছি।
আরহাম ল্যাপটপ বন্ধ করে মায়ের দিকে তাকাল।
— আচ্ছা মা, আর দেরি করছি না।
নাশতার টেবিলে আনিকা বসে ফোনে কিছু দেখছিল। ভাইকে দেখে বলল,
— ভাইয়া, আজ আমার জন্য চকলেট আনবে।
আরহাম গম্ভীর মুখে বলল,
— গতকালও তো এনেছি।
— গতকালেরটা শেষ।
— তোমার চকলেট খাওয়ার গতি দেখে মনে হচ্ছে, একদিন দোকানটাই কিনে দিতে হবে।
আনিকা হেসে বলল,
— কিনে দিলেই তো হয়!
কামরুল চৌধুরী পত্রিকা নামিয়ে বললেন,
— তোমরা দুজন সকালবেলা শুরু হয়ে গেলে?
আরহাম মুচকি হেসে নাশতা করতে লাগল।
খাওয়া শেষ করে সে বাবার সঙ্গে অফিসের কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলল। তারপর গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল।
---
দুপুর গড়িয়ে বিকেল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষ করে মেহের আর নিশাত ক্যাম্পাসের বাইরে একটি ছোট ক্যাফেতে গেল। তানিয়াও আসার কথা ছিল, কিন্তু তার জরুরি কাজ পড়ে যাওয়ায় আসতে পারেনি।
নিশাত বসেই বলল,
— আজকে তোর মুখটা এত গম্ভীর কেন?
মেহের ব্যাগ থেকে ফোন বের করতে করতে বলল,
— আমার মুখ এমনই।
— না, তোর মুখ এমন না। তুই কিছু একটা ভাবছিস।
— সব সময় কি মানুষকে কিছু না কিছু ভাবতেই হবে?
নিশাত হেসে বলল,
— অবশ্যই! বিশেষ করে তোর মতো উপন্যাস লেখার স্বপ্ন দেখা মেয়েদের।
মেহেরও হেসে ফেলল।
দুজনের কথার মাঝেই বাইরে বৃষ্টি শুরু হলো। প্রথমে অল্প, তারপর ধীরে ধীরে বৃষ্টির গতি বেড়ে গেল।
মেহের জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
— আহা! কী সুন্দর বৃষ্টি!
নিশাত বলল,
— তুই চাইলে বৃষ্টিতে ভিজতে পারিস। কিন্তু পরে অসুস্থ হলে আমাকে দোষ দিতে পারবি না।
— আমি কি এতটাই বাচ্চা?
— আমার কাছে তো তুই এখনো বাচ্চাই।
মেহের কিছু না বলে হাসল।
কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি একটু কমতেই দুজন ক্যাফে থেকে বের হলো। কিন্তু রাস্তায় এসে বুঝল, বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই।
নিশাতের ফোনে বাড়ি থেকে কল এল। কথা শেষ করে সে একটু চিন্তিত মুখে বলল,
— মেহের, আমাকে এখনই যেতে হবে। বাসায় একটা কাজ পড়েছে। তুই পারবি তো?
— হ্যাঁ, চিন্তা করিস না। আমি চলে যেতে পারব।
— ঠিক আছে, পৌঁছে আমাকে জানাবি।
নিশাত চলে গেল।
মেহের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির অপেক্ষা করতে লাগল। হাতে ছাতা নেই। বৃষ্টির পানি বাতাসের সঙ্গে এসে তার ওড়না ভিজিয়ে দিচ্ছে।
ঠিক তখনই একটি কালো গাড়ি রাস্তার পাশে এসে থামল।
গাড়ির ভেতরে বসে থাকা আরহাম জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। তার চোখ হঠাৎ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে আটকে গেল।
মেয়েটি এক হাতে ব্যাগ ধরে আছে, অন্য হাতে ওড়না সামলানোর চেষ্টা করছে। বৃষ্টিতে তার চুলের সামনের কিছু অংশ কপালের কাছে এসে পড়েছে।
আরহাম কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে আবার সামনে তাকাল।
কিন্তু গাড়ি চালু করার আগেই সে দেখল, রাস্তার পাশের জমে থাকা পানির ওপর দিয়ে একটি গাড়ি দ্রুত চলে গেল। পানির ছিটা এসে মেয়েটির পোশাকে লাগল।
মেহের বিরক্ত হয়ে বলে উঠল,
— মানুষ কি একটু ধীরে গাড়ি চালাতে পারে না!
আরহামের মুখে হালকা হাসি ফুটল।
সে গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে বলল,
— আপনি চাইলে ছাতাটা নিতে পারেন।
মেহের অবাক হয়ে তাকাল।
— জি?
আরহাম গাড়ির পাশের সিটে রাখা কালো ছাতাটার দিকে ইশারা করল।
— ছাতা। বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে আছেন, তাই বললাম।
মেহের একটু ইতস্তত করে বলল,
— ধন্যবাদ। কিন্তু আপনার ছাতা নিয়ে আমি কীভাবে যাব?
— ব্যবহার করে পরে ফেরত দিতে পারেন। অথবা কাছের কোনো দোকানে রেখে দিতে পারেন।
মেহের এবার একটু বিরক্ত গলায় বলল,
— আমি কি ছাতা চেয়েছি?
আরহাম কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর শান্ত গলায় বলল,
— না, চাননি। আমি শুধু সাহায্য করতে চেয়েছিলাম।
মেহের বুঝতে পারল, কথাটা একটু বেশি কঠিনভাবে বলে ফেলেছে।
তবুও নিজের অভিমানী স্বভাবের কারণে সহজে কিছু বলতে পারল না।
— আমার সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
আরহাম আর কিছু বলল না। শুধু ছাতাটা গাড়ির দরজার পাশে রেখে বলল,
— ঠিক আছে। ভালো থাকবেন।
গাড়ি ধীরে ধীরে চলে গেল।
মেহের কয়েক সেকেন্ড সেদিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর নিজের মনেই বলল,
— অদ্ভুত মানুষ! সাহায্য করতে এসেও কেমন গম্ভীরভাবে কথা বলে!
সে আবার গাড়ির অপেক্ষা করতে লাগল।
---
অন্যদিকে গাড়ি চালাতে চালাতে আরহামের ফোন বেজে উঠল। রাফির কল।
— কোথায় তুই?
— রাস্তায়।
— আজ সন্ধ্যায় দেখা করার কথা ছিল ভুলে গেছিস?
— না। অফিসের কাজ শেষ করে আসছি।
রাফি হেসে বলল,
— তোর জীবনটা শুধু অফিস আর কাজ নিয়ে। একটু ঘোরাঘুরি করলেও পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে না।
আরহাম শান্ত গলায় বলল,
— তোর মতো সারাদিন আড্ডা দেওয়ার সময় আমার নেই।
— বাহ! খুব ব্যস্ত মানুষ! আচ্ছা, তোর পাশে কি কেউ বসে আছে?
— না।
— তাহলে এত গম্ভীর হয়ে কথা বলছিস কেন?
— রাফি, ফোন রাখ।
রাফি হেসে উঠল।
— আচ্ছা বাবা, রাখছি। সন্ধ্যায় দেখা হবে।
কল কেটে গেল।
কিন্তু আরহামের মনে হঠাৎ সেই মেয়েটির কথাগুলো ফিরে এল।
'আমি কি ছাতা চেয়েছি?'
সে নিজের মনেই মৃদু হাসল।
— অদ্ভুত মেয়ে!
---
এদিকে মেহের অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর একটি রিকশা পেল। বাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে তার ওড়না আর চুল বেশ ভিজে গেছে।
দরজা খুলে মিম তাকে দেখে চিৎকার করে উঠল,
— আপু! তুমি তো একেবারে বৃষ্টির পরী হয়ে এসেছ!
মেহের চোখ বড় করে বলল,
— মিম!
মিম হেসে দৌড়ে পালিয়ে গেল।
মা নুসরাত এগিয়ে এসে বললেন,
— এ কী অবস্থা হয়েছে তোর? ছাতা নিয়ে বের হসনি?
— না মা। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল।
— আগে কাপড় বদলে আয়। ঠান্ডা লেগে যাবে।
মেহের নিজের ঘরে চলে গেল।
কাপড় বদলে বিছানায় বসতেই ফোনে নিশাতের কল এল।
— হ্যালো, বাসায় পৌঁছেছিস?
— হ্যাঁ, এই তো একটু আগে এলাম।
— ভিজেছিস নাকি?
— একটু।
— একটু মানে? তোর গলার আওয়াজ শুনেই বুঝতে পারছি!
মেহের হেসে বলল,
— আচ্ছা, বাদ দে। আজ একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে।
— কী ঘটনা?
মেহের পুরো ঘটনাটা খুলে বলল। ছেলেটির গাড়ি, ছাতা দেওয়ার কথা, আর নিজের রাগ করে উত্তর দেওয়ার কথাও।
সব শুনে নিশাত হেসে বলল,
— বাহ! অচেনা একজন মানুষ তোকে সাহায্য করতে চেয়েছিল, আর তুই তাকে ঝাড়ি দিয়ে দিলি?
— আমি ঝাড়ি দিইনি!
— হ্যাঁ, একদম মিষ্টি করে কথা বলেছিস!
— নিশাত!
নিশাত হাসতে হাসতে বলল,
— আচ্ছা, আচ্ছা। ছেলেটা দেখতে কেমন ছিল?
মেহের একটু থেমে বলল,
— জানি না। খুব একটা খেয়াল করিনি।
— মিথ্যা কথা! নিশ্চয়ই খেয়াল করেছিস।
— তুই চুপ করবি?
দুজনেই হেসে উঠল।
কথা শেষ হওয়ার পর মেহের ফোনটা রেখে জানালার কাছে গেল। বাইরে তখনও হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।
হঠাৎ তার মনে হলো, ছেলেটার চোখ দুটো কেমন শান্ত ছিল। কথাবার্তায় গম্ভীর, কিন্তু ব্যবহারে খারাপ নয়।
মেহের নিজের মনেই বলল,
— থাক, এসব ভেবে লাভ নেই। হয়তো আর কখনো দেখাই হবে না।
---
সন্ধ্যায় আরহাম বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে একটি রেস্টুরেন্টে গেল।
রাফি তাকে দেখেই বলল,
— এই যে আমাদের ব্যস্ত সাহেব এসে গেছেন!
আদনান হেসে বলল,
— আজকে মনে হচ্ছে কারও মেজাজ ভালো।
আরহাম চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল,
— তোমাদের দুজনের কথা শুনলে মনে হয়, আমার জীবনে কোনো কাজ নেই।
রাফি বলল,
— কাজ তো আছেই। তবে আজকে তোর মুখে অন্য রকম একটা ভাব দেখছি।
আরহাম ভ্রু কুঁচকে বলল,
— কী রকম?
— মনে হচ্ছে, বৃষ্টির মধ্যে কোনো সিনেমার দৃশ্য দেখে এসেছিস।
আদনান হেসে ফেলল।
আরহাম পানির গ্লাস হাতে নিয়ে বলল,
— আজ রাস্তায় একটা মেয়েকে দেখেছিলাম। বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে ছিল। ছাতা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে নিতে চায়নি।
রাফি সঙ্গে সঙ্গে আগ্রহী হয়ে উঠল।
— ওহ! তাহলে ঘটনা এখানে!
— কোনো ঘটনা নেই।
— নাম কী মেয়েটার?
— জানি না।
— কোথায় থাকে?
— জানি না।
— তাহলে কী জানিস?
আরহাম কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— শুধু জানি, মেয়েটা বেশ রাগী।
রাফি হো হো করে হেসে উঠল।
— বাহ! নাম জানিস না, ঠিকানা জানিস না, কিন্তু রাগী সেটা বুঝে গেছিস!
আদনান মৃদু হেসে বলল,
— হয়তো মেয়েটা অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিতে স্বস্তি বোধ করেনি। বিষয়টা স্বাভাবিক।
আরহাম মাথা নেড়ে বলল,
— সেটাই তো। আমি আর কিছু ভাবিনি।
কিন্তু কথাটা বললেও তার মনে অচেনা মেয়েটির মুখটা একবারের জন্য হলেও ভেসে উঠল।
---
রাত প্রায় দশটা।
মেহের নিজের ঘরে বসে ডায়েরি খুলল। বাইরে বৃষ্টির শব্দ। টেবিলের ওপর ছোট্ট বাতিটা জ্বলছে।
সে কলম হাতে নিয়ে লিখতে শুরু করল—
“আজকের দিনটা অন্য রকম ছিল।
বৃষ্টির দিনে একজন অচেনা মানুষের সঙ্গে দেখা হলো। মানুষটা খুব বেশি কথা বলেনি। শুধু একটা ছাতা দিতে চেয়েছিল।
আমি কেন জানি একটু রাগ করে ফেললাম। হয়তো অপরিচিত কারও কাছ থেকে সাহায্য নিতে আমার ভালো লাগে না।
তবুও একটা বিষয় অদ্ভুত লাগছে। মানুষটা চলে যাওয়ার পরও তার কথাগুলো কেন যেন মনে পড়ছে।
হয়তো কাল আর মনে থাকবে না। হয়তো কয়েক দিন পর এই ঘটনাটাও ভুলে যাব।
কিন্তু আজকের বৃষ্টিটা মনে থাকবে।
কারণ কিছু কিছু মুহূর্ত খুব সাধারণ হয়েও স্মৃতিতে জায়গা করে নেয়।”
ডায়েরি বন্ধ করে মেহের জানালার বাইরে তাকাল।
অন্যদিকে আরহামও নিজের ঘরে বসে অফিসের কিছু কাগজপত্র দেখছিল। হঠাৎ জানালার বাইরে বৃষ্টির শব্দে তার বিকেলের ঘটনাটা মনে পড়ে গেল।
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবার কাজে মন দিল।
দুজনের কেউই জানত না, এই ছোট্ট ঘটনাটাই একদিন তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে উঠবে।
একজনের কাছে অন্যজন তখনো সম্পূর্ণ অচেনা।
কিন্তু গল্পের শুরুটা হয়ে গেছে।
চলবে....