ফন্ট সাইজ:
থিম:
Haunting Adeline-2

১১তম পর্ব

লেখক: সিজন - ২

#Haunting_Adeline

#Translator_by_গল্প

#পর্বঃ১১ (সিজন ২)

⚠️সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন। ❌

Chapter 11

The Hunter

বেবি, রেগে গেলে এভাবে তেড়ে যাওয়া থেকে তোমাকে কতবার বিরত থাকতে বলেছি?

তাহলে এখন কেন মায়ের সেই ভাঙা ভাঙা কণ্ঠস্বর আমাকে তাড়া করে ফিরছে?

ধ্বংস ঠিক আমার আঙুলের ডগায়,

মুক্তি পেতে শুধু অপেক্ষায় আছে।

একটা লাইটার জ্বালানোর মতোই সহজ হবে, সামান্য আগুন থেকে শুরু হবে সবকিছু শেষ করে দেওয়ার আয়োজন।

“Zade?”

Jay-এর গলা মায়ের ফিসফিসানিকে ছেদ করে, ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে যায়।

ধোঁয়ার কথাই উঠল যখন, আমি হাত পকেটে ঢুকিয়ে সিগারেট বের করি, জ্বালিয়ে নিই।

Jay-এর মুখ খুলে কিছু বলতে যায়—

যা আমি এখন শুনতে চাই না।

“আমাকে সিগারেট না খাওয়ার কথা বলবি না, আর জিজ্ঞেস করবি না আমি ঠিক আছি কিনা,”

আমি কেটে বলি, রাগে গলা ভেঙে আসে।

তার মুখ বন্ধ হয়ে যায়, সে মাথা নাড়িয়ে ভিডিওর দিকে ফিরে যায়—

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে Addie নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য লড়াই করছে,

তারিখে লেখা ঠিক সাত দিন আগের রেকর্ড।

ক্যামেরায় কোনো অডিও নেই,

তাই কেন ওই ডাক্তার ওকে অপহরণ করার চেষ্টা করেছিল, তা আমি জানি না,

তবে সে চেষ্টা করেছিল, এটুকু স্পষ্ট।

তাকে তাড়াহুড়ো করে Addie-কে বিছানা থেকে তুলতে দেখা যাচ্ছে, Addie প্রাণপণ প্রতিরোধ করছে।

Addie হঠাৎ তার ওপর আক্রমণ করে কোনো স্ক্যালপেল দিয়ে,

ডাক্তারও পাল্টা আক্রমণ করে।

তারপর হঠাৎ ডাক্তার যখন ওর ওপর চেপে ধরে, তখন পিছন দিক থেকে তার মাথা উড়ে যায়।

এটা নিঃসন্দেহে ভয়ানক ট্রমার,

তবে আমাকে যতটা ক্ষেপিয়ে তুলেছে, সেটা নয়।

যে নোংরা লোকটা ডাক্তারকে মেরে ফেলেছিল, তারপর Addie-কে অনুসরণ করে উপরে গিয়ে ওর স্নান করার সময় তাকিয়ে ছিল,

Rio।

Daya যথেষ্ট খোঁজ নিয়েছে,

Rick Boreman-এর অনেক তথ্য পেলেও, Rio-র কোনো তথ্যই প্রায় পাওয়া যায়নি।

শুধু এটুকু জানা গেছে যে সে পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম ও বড় হয়েছে, স্কুলে পড়াশোনা করেছে,

তারপর আঠারো বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে।

এরপর তার ভিসা, ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্ট আর দুটি স্পিডিং টিকেট ছাড়া আর কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আমি এটাকে সম্পূর্ণ বাজে কথা বলেই মনে করি।

“বস, এই লোকের রুমের ক্যামেরাগুলো কেমন যেন অদ্ভুত, শুধু শাওয়ার আর বেডের দিকেই ফোকাস করা,”

Jay নিজের মতো বিড়বিড় করে।

আমি তখন সিগারেটে এমনভাবে টান দিচ্ছি যেন এটা আমাকে বাঁচাচ্ছে, মেরে ফেলছে না।

ভিডিওটা যদি আরেকবার দেখি, তাহলে হয়তো আমার পিস্তল বের করে মনিটরটাকে গুলি করে টুকরো টুকরো করে ফেলবো।

Jay-এর আঙুল এত দ্রুত কিবোর্ডে চলে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে তার বেগুনি নেইল পলিশের কণা উড়ে যাচ্ছে।

ভিডিও ফিড থেকে Addie-র ভিডিও মুছে গিয়ে

এর জায়গায় কয়েক বছরের পুরনো আর্কাইভ ভিডিও চলে আসে।

যে-ই হোক এই লোকটা,

সে অবৈধভাবে বহু বছর ধরে এসব করে আসছে।

প্রতি মাসে কয়েকবার আহত মানুষকে তার কাছে আনা হতো—

তাদের চেহারা দেখে মনে হয় তারা ভালো কোনো কাজের জন্য আহত হয়নি।

আমি সিগারেট মাটিতে ফেলে পায়ের তলায় মুচড়ে দেই, ধোঁয়া ছেড়ে মনিটরে চোখ রাখি।

পা সরিয়ে ফেলতে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ থেমে যাই,

জিহ্বার নিচে Addie-র গলা যেন শুনতে পাই—

Stop littering.

যদিও এই জায়গাটা আমি ছাই বানিয়ে ছাড়ব,

তবু আমি কথা দিয়েছিলাম, তাই থামি।

বাটটা কুড়িয়ে পকেটে ঢুকিয়ে আবার মনিটরে মনোযোগ দেই।

স্ক্রীনে একের পর এক মেয়েদের স্নান করার ভিডিও চলে।

প্রতিটি ভিডিওর সাথে সাথে আমার দাঁত শক্ত হয়ে যায়,

মনে হচ্ছে মুখের হাড়গুলো ভেঙে যাবে।

তারা সবাই হাসপাতালের গাউন পরে, অনেকে ব্যান্ডেজ বা কাস্ট পড়া।

তাদের চিকিৎসার নামে এখানে এনে অজান্তে ভিডিও করা হতো,

ডাক্তারের নোংরা আনন্দের জন্য।

Jay-এর মুখ কঠিন হয়ে আছে, স্ক্রীনে শত শত ভিডিও ভাসছে।

হঠাৎ সে থেমে যায়, বাতাস ভারী হয়ে আসে।

“কী হলো?”

আমি স্ক্রীনের দিকে তাকাই, কী দেখছে সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।

দুই সেকেন্ডের মধ্যে আমি দেখতে পাই, আমার হৃদস্পন্দন থমকে যায়।

“ভিডিওগুলো চালাও,”

আমি বলি।

Jay মাথা নাড়িয়ে ফিসফিস করে,

“তুই জানিস এই ভিডিওতে কী আছে, Zade। তোর দেখার দরকার নেই—”

“শালার Jay, আমাকে দেখতে হবেই। তুই জানিস, আমি জানি।”

Jay একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, কাঁধ ঝুলিয়ে রাজি হয়, ভিডিও চালিয়ে দেয়।

এটা সেই রিচুয়ালের মতো—

তাদের বাঁচাতে পারিনি বলে

তাদের যন্ত্রণার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব না আমি।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ডাক্তার এক অচেতন মেয়েকে বিছানায় নিয়ে আসছে,

হয়তো উপরের তলার ট্রিটমেন্ট থেকে নিয়ে আসা।

সে মেয়েটিকে শুইয়ে তার গাউন খুলে ফেলে, তারপর নিজের জামাকাপড়ও খুলে ফেলে।

পরবর্তী কয়েক মিনিট ধরে, সে অচেতন মেয়েটির শরীরের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায়।

ঘৃণায় পেটের ভেতর মোচড় দিতে থাকে,

আর ক্রমশ এক অগ্নিশিখার মতো ক্রোধ ও ইচ্ছা দানা বাঁধে—

যদি পারতাম, তাকে কবর থেকে তুলে আবার মেরে ফেলতাম।

Jay ভিডিওগুলো স্কিপ করতে করতে বুঝে যায়, এই মেয়ে সেই শত শত মেয়ের মধ্যে একজন,

যাদেরকে অজ্ঞান অবস্থায় নরকের মতো ব্যবহার করা হয়েছে।

আর তাদের মধ্যে অনেকেই শিশু।

Jay কাঁপা গলায় বলে, “আর দেখতে চাই না ভাই। আর এই নোংরা কিছু দেখতে পারছি না।”

আমি দাঁত চেপে বলি,

“দ্রুত দেখে নে এই লোকটা কে।”

Jay আমার কথা মতো করে, আর আমি আবার এক টান সিগারেট খুঁজতে থাকি।

পনেরো মিনিট পর Jay বলে ওঠে,

“Dr. Jim Garrison। আগের বউ Wilma Garrison, ২০০৪-এ হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়। তার আগের স্বামীর দুই মেয়ে অভিযোগ করেছিল, কিন্তু লোকটা Wilma-র লাশ অটপসি হওয়ার আগেই পুড়িয়ে ফেলেছিল, তাই প্রমাণ হয়নি। ২০০০ সালে মালপ্র্যাকটিসের জন্য হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়, তারপর কয়েক মাসের মধ্যে এই বিল্ডিং কিনে নেয়। কয়েকটা মামলা হয়েছিল, কিন্তু হয়তো ভালো ল'ইয়ার ছিল, প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যায়। তারপর থেকে এখানেই অপারেশন চালিয়ে আসছে।”

দেখেই বোঝা যায়, এই লোকটা অসুস্থ মানসিকতার এক পশু।

হয়তো রোগীদের নিয়ে নোংরা কিছু করতো বলে চাকরি গেছে,

তারপর নিজের দুনিয়া বানিয়ে তার সব অন্ধকার ইচ্ছা পূরণ করে গেছে।

হয়তো নিজের বউকেও মেরে ফেলেছে।

আমি বলি,

“ভিডিওগুলোতে যখন পেশেন্টদের আনা হচ্ছে, তখন দেখ, চেহারাগুলো চিনতে পারি কি না।”

Jay আবার ভিডিওতে ফিরে যায়, শত শত মুখ ভেসে ওঠে,

বিভিন্ন বয়সের আহত নারী-পুরুষ ও শিশু।

মনে হয় গ্যাং ফাইট বা কোনো অন্ধকার কারবারে আহত হয়ে এসেছে।

হঠাৎ দেখা যায়, ডাক্তার এক পাঁচ বছরের মেয়ের পায়ে গুলির ক্ষত সারাচ্ছে।

এক দৈত্যাকৃতি মানুষ, হালকা বাদামি রঙের চুল বুন করে বাঁধা, হাতে গলায় উল্কি,

তাদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

Jay পরের ভিডিওতে যেতে যাচ্ছে, আমি তার কাঁধে হাত রেখে থামিয়ে দেই,

“থাম, এটা দেখতে চাই।”

আমার ভেতর একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে,

এই ভিডিওটা আমাকে দেখতে হবে।

আমি স্ক্রীনের দিকে ঝুঁকে যাই,

লোকটার মুখের দিকে তাকাই, মেয়েটির দিকেও।

তাদের সম্পর্ক কী? মেয়ে কি পাচারকারীদের শিকার?

ডাক্তার তাড়াহুড়ো করে মেয়েটিকে অজ্ঞান করে সার্জারি করে,

রক্ত বের হচ্ছে, সে গুলি বের করছে।

ডাক্তার চলে গেলে লোকটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে, নড়াচড়া করে না।

আমি ফোকাস করে দেখি, লোকটা বিছানার চারপাশে ঘুরে এসে মেয়েটির গালের পাশে চুল সরিয়ে দেয়।

মেয়েটি অজ্ঞান, তাই কিছু বোঝা যাচ্ছে না।

আমার চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।

লোকটার কোমলতা আসলেই কি সত্যিকারের দয়া, নাকি কোনো বিকৃত আনন্দ?

আর এই ছোট মেয়েটির পায়ে গুলি লাগলো কীভাবে?

কেন জানি না, কিন্তু এই ভিডিওটা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।

আমি বলি,

“সব ফাইল আমাকে পাঠিয়ে দে। তারপর সিকিউরিটি ক্যামেরা থেকে দেখে নেই গাড়িটা কোনটা, যেটাতে করে এরা পালিয়েছে।”

Jay-এর পিঠে টোকা দিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই,

একটা নিঃশব্দ ধন্যবাদ।

আমি জানি, আমি রাগে আর দুঃখে অমানুষের মতো ব্যবহার করছি,

তবুও Jay ধৈর্য ধরে আছে।

Jay হঠাৎ গালি দেয়, কিবোর্ডের শব্দ বেড়ে যায়।

আমি দাঁত চেপে ধরি, বুঝে যাই কী বলবে।

Jay হতাশ গলায় বলে ওঠে,

“পিছনের কোনো ক্যামেরা নেই। আশেপাশের বিল্ডিং থেকে কোনো ক্যামেরাও ওই দিকে নেই। দুঃখিত ভাই, কিছুই পেলাম না।

আমি মাথা পেছনে ঠেলে নিই, নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নিই, যখন কালো আগুন আমার স্নায়ুতে লেলিহান করে।

Addie এখানে থেকে চলে গেছে মাত্র এক সপ্তাহ, কিন্তু মানব পাচারের জগতে এটা বিশাল এক সময়।

“তুই ফাইলগুলো পাঠিয়েছিস?” আমি জিজ্ঞাসা করি।

নিজের গলার শব্দ পর্যন্ত চিনতে পারি না।

“হ্যাঁ,” Jay নিশ্চিত করে।

তার জিনিসপত্র গোছানোর খসখসানি শুনতে পাই, ধ্বংসযজ্ঞের ঘনঘটা টের পেয়ে যাচ্ছে সে।

“এখন চলে যা, Jay।”

“ঠিক আছে, ধরে নে আমি গেছি।”

“Jay?”

সে থামে, “হ্যাঁ?”

“এই জানালাগুলোর দিকে মুখ করে ক্যামেরা বসিয়ে দিস। তবে আমি ভাঙার পর বসাবি,” আমি নির্দেশ দেই।

সে একটু থেমে থেকে শেষমেশ রাজি হয় এবং বেরিয়ে যায়।

আমি তাকে দুই মিনিট সময় দেই চলে যাওয়ার জন্য।

এই দুই মিনিটে মাথার ভেতর যুদ্ধের ঝড় ওঠে, ওপরে উঠে আসে, মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে,

যেমন নিচে ফোলা লাশটা পড়ে আছে রক্ত মেখে।

আমার শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নড়তে থাকে।

আমি নিচে হাসপাতালের ঘরে গিয়ে আলমারি তল্লাশি করি, পর্দা, কাপড় আর যা কিছু দাহ্য আছে তা বের করি,

তারপর সেগুলো পুরো বিল্ডিং জুড়ে ছড়িয়ে দেই।

এরপর অ্যালকোহল-ভিত্তিক তরল খুঁজি,

মেঝেতে ঢেলে দেই।

হাসপাতালে আগুন লাগা যতটা ভাবা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি ঘটে,

আর এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য এটা একদম পারফেক্ট।

তারপর আমি প্রতিটি বিছানার চাদর একত্র করে দড়ির মতো বেঁধে ফেলি,

একপাশে রাখি।

গভীর শ্বাস নিয়ে, সমস্ত রাগ জমাই,

তাকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে পা দিয়ে আঘাত করি।

রান্নাঘর থেকে আনা ভারী আলমারিটা জানালার সাথে ঠেস দিয়ে রেখেছিলাম,

এক লাথিতে কাঁচে ফাটল ধরে, মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

গর্জন করে আরেক লাথি দেই,

একটা বড় বিকট শব্দের সাথে আলমারিটা জানালা ভেঙে নিচে পড়ে যায়।

ক্ষুদ্র কাঁচের টুকরো আমার চামড়ায় বিঁধে যায়,

তবে আমি টেরই পাই না,

যেমন কানের কাছে ভাঙা কাঁচের বিকট আওয়াজও কানে আসে না।

আমি ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় তলায় নেমে যাচ্ছি,

যেখানে ডাক্তার মৃত পড়ে আছে।

সেখানে তার সাপ্লাই থেকে গ্লাভস আর মাস্ক পরে নেই।

গন্ধ আমার নাক আর চোখে কামড় বসায়,

N95 মাস্কও গন্ধ আটকাতে পারে না।

দুটি স্তরের গ্লাভস পরে,

লাশের শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে যাই তার স্টুডিওতে,

যেখানে সে অসুস্থ বিকৃতিতে রোগীদের অজ্ঞান অবস্থায় ধর্ষণ করত।

তার এই বিকৃত শখ ছাড়াও,

ডাক্তার যে মানব অঙ্গ-চামড়ার কারবারের সাথে জড়িত ছিল, তা স্পষ্ট।

তাই এই আগুন শুধু Society-কে নয়,

প্রতিটি পাচারকারীকে বার্তা দেবে, যারা ভুল করে এই জায়গায় পা রেখেছে।

তারা জানবে Z জানে।

লাশের গন্ধে গা গুলিয়ে উঠে, বমি গলায় উঠে আসে,

তবুও লাশটিকে জানালার কাছে টেনে নিয়ে যাই।

শেষ বোতল অ্যালকোহল নিয়ে তার শরীরে ঢেলে দেই।

শ্বাস আটকে, চাদর দিয়ে বানানো দড়ি নিয়ে তার বাহুর নিচে গিরদির মতো বেঁধে দেই,

অন্য প্রান্ত বিছানার ফ্রেমের সাথে বেঁধে দেই।

তারপর তাকে জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেই।

ফ্রেমের পা সিমেন্টের মেঝেতে ঘষটে কয়েক ফুট এগিয়ে যায়,

শেষমেষ আটকে যায়।

সন্তুষ্ট হয়ে গ্লাভস আর মাস্ক খুলে ফেলি,

আরেকটা সিগারেট বের করে জ্বালাই,

গভীর টান নেই, বিছানার ধারে বসি।

একটা পর্দার প্রান্তে আগুন ধরি,

সঙ্গে সঙ্গে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে, আগুন ছড়িয়ে যেতে থাকে।

আর আমি সিগারেটের টান দিতে দিতে নিজের ক্রোধের জন্ম দেখা উপভোগ করি।

মাথার ভেতর একসাথে উচ্চস্বরে নিস্তব্ধতা,

সাদা শব্দে ভরে যায়, কোনো ভাবনা আর কানে আসে না।

সবকিছু অনুভব করি, আবার কিছুই অনুভব করি না।

আমি কোনোদিন এত বিপজ্জনক হইনি।

কোনোদিন এত প্রাণঘাতী হইনি।

আমি হেসে উঠি,

এই জায়গাটা পুড়তে দেখি।

এখানে অনেক ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে।

অনেক শিকার—অনেক নারী-শিশু—এখান দিয়ে গিয়েছে,

অস্থায়ী চিকিৎসার অজুহাতে আবার কোথাও নিয়ে গিয়ে তাদের ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে পড়ি, ঘর থেকে বেরিয়ে যাই।

গরমে শরীর ঘেমে যায়, কপাল আর ঘাড় বেয়ে ঘাম নামে।

ধোঁয়া ফুসফুসে ঢুকে যায়, আগুন চামড়ার কিনার ছুঁয়ে যায়।

তবুও, আমি কিছুই অনুভব করি না।

বিল্ডিং থেকে ঠিক বের হওয়ার সময়,

টাটকা বাতাস টেনে নিই, সামনে Jay-কে দেখি, মুখে আতঙ্ক।

কয়েকবার কাশি দেই, ফুসফুস যতটা পারি পরিষ্কার করি,

তারপর সিগারেটে আরেক টান দেই।

“সিরিয়াসলি ভাই? বিল্ডিং জ্বালিয়ে দিচ্ছিস, তাতেও ধোঁয়া খাচ্ছিস, আর সিগারেট খাচ্ছিস? আগুন থেকে তো already এক ট্রাক ধোঁয়া খেয়েছিস।”

আমি কোনো উত্তর দিই না,

পেছনে হেঁটে গিয়ে দেখি, লাশ দড়িতে ঝুলছে।

জানালার ধারে ধোঁয়া লেলিহান করছে,

চাদরের দড়িগুলো পুড়তে শুরু করছে,

তবে আমি ইচ্ছে করেই এগুলো শুকনো রেখেছিলাম।

সিগারেটের শেষ টান দেই,

তারপর ডাক্তারের শরীরে ছুঁড়ে দেই।

তার শরীর সঙ্গে সঙ্গে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।

আমি হাসি, দাঁতের ফাঁক দিয়ে ধোঁয়া বের হয়।

এটাই ঠিক হলো।

একটা বাতিঘরের মতো,

প্রতিটি হারামজাদাকে জানিয়ে দিচ্ছে, কে আসছে তাদের জন্য—

আগুনে বাসা বাঁধা এক দানব।

এই আগুন নিভে যাবে,

তবে নরকের আগুন চিরকাল জ্বলবে।

সেখানে দেখা হবে তোর সাথে, হারামজাদা।

তৃপ্ত হয়ে,

আমি পিঠ ঘুরিয়ে হাঁটা দেই,

যে আগুন আমি শ্বাস নিয়ে জন্ম দিয়েছি, তাকে পেছনে রেখে হেঁটে চলে যাই।

আমি আমার ছোট্ট মাউসকে (Addie-কে) বলেছিলাম, আর ফেলনা ফেলব না,

তবে আমার মনে হয়,

এই একবারের জন্য ও কিছু বলত না।

***************

(Dairy 📜)

নভেম্বর ২০২১

ও আমাকে শেষমেশ ধোঁকা দিল।

ধ্বংস করে দিল সব।

তীব্র রাগে এখন হাত কাঁপছে, ঠিকমতো লেখাটাও দুষ্কর হয়ে গেছে।

প্র‍্যাকটিসে আমি এতটা ভালো করছিলাম! Francesca ছিল আমার ধাওয়াকারী, আর অনেকক্ষণ ধরে ও আমাকে খুঁজে বের করতে পারেনি। আর যখন পেরেছিল, তখন আমি খুঁজে পেয়েছিলাম যে, একটা তীর আবার সেট করতে সতের সেকেন্ড লাগে।

হ্যাঁ, ঠিক সতেরো সেকেন্ড।

আমি বুদ্ধিমানের মতো খেলছিলাম। কতক্ষণ দৌড়াব, কখন লুকাব— সব হিসাব করে নিচ্ছিলাম। ওকে ফাঁকি দিচ্ছিলাম, যাতে তীর ছুড়ে ফেলার পর আবার দৌড় দিতে পারি। ও আমাকে মারতে পারছিল না।

আমি এত ভালো করছিলাম!

তারপর হঠাৎ করে সেই নরকের Sydney গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো, যেন আগেই ওখানে বসে ছিল আমাকে ধ্বংস করার জন্য।

ও আমাকে ফেলে দিল! ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল!

খেলার মাঠে ছোট বাচ্চারা যেমন করে, ঠিক তেমনভাবে।

কে এভাবে করে, বলতো?

আমি মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে গেলাম, আর ঠিক দু’ সেকেন্ড পরে, একটা তীর এসে গিয়ে আমার পায়ে বিধলো।

ভাগ্যিস প্র‍্যাকটিসে প্লাস্টিকের তীর ব্যবহার করে, তবুও বিষয়টা মোটেই ছোট নয়।

বিশেষ করে যখন আমি জানি,

আমার শাস্তি ওই তীরবিদ্ধ হবার যন্ত্রণাকেও শিশুতোষ মনে করাবে।👄

Adeline

চলবে...........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন