#Haunting_Adeline
#Translator_by_গল্প
#পর্বঃ২২ (সিজন ২)
⚠️সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন। ❌
Chapter 22
The Diamond
আমার পায়ের আঙুলের ডগা একটা পাথরে ঠেকে যায়, আর আমি সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়তে পড়তে শেষ মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিই। ঠাণ্ডা আমার হাড়ের ভেতর গেঁথে গেছে, হাত-পায়ের সব অনুভূতি প্রায় চলে গেছে।
কতক্ষণ ধরে দৌড়াচ্ছি জানি না, তবে আমি কতগুলো ট্রেলার পেরিয়েছি তা গুনেছি।
বারোটা। মাত্র বারোটা।
চারপাশে এখনো ঘন অন্ধকার, দূরে কোনো এক জায়গায় পেঁচার ডাক শোনা যাচ্ছে, কিন্তু আমার নামে কে ডাকছে, সেই আওয়াজে সেটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।
“ডায়মন্ড!”
ট্রেনের কাছে পৌঁছাতেই Rocco-র বন্ধুরা আমাকে ডাকছিল, আর আমি বমি করার ঠিক আগ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। যদি বমি করি, তারা ঠিকই ধরে ফেলবে, যদি না শব্দে ধরে, তাহলে বমির দাগে ঠিকই ধরে ফেলবে।
এই জঙ্গলে আমি একবার মাত্র দৌড়ে গিয়েছি, তাই ট্রেনটা খুঁজে পেতে সময় লেগেছে। আগে যখন দৌড়েছি, তখনও এখানে ফাঁদে ভরা এক গোলকধাঁধার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলাম। এখন মাথা পরিষ্কার নেই, তাই কোনো তারে পা আটকে যাওয়া এড়াতে ঘুরে এসেছি।
“ডায়মন্ড!” আবার একজন ডাক দেয়, আর আমার গলা আটকে আসে, এড্রেনালিনে গা কাঁপতে থাকে।
তাদের আওয়াজ এখনো বেশ দূরে, কিন্তু আমি কোনো ট্রেস মুছে ফেলিনি, সময় পাইনি। তারা ট্রেস ফলো করতে জানে কিনা জানি না, কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। Francesca জানে, কারণ Culling-এর জন্য প্র্যাকটিসের সময় ও আমাকে শিকার করেছিল।
আমি বিশ নম্বর ট্রেলারের কাছে পৌঁছে আবার হোঁচট খাই, আর এবার আর সামলাতে পারি না। আমি সামনের দিকে পড়ে যাই, হাত আর হাঁটুর উপর, ব্যথায় চোখে অন্ধকার দেখি। ব্যাগ ছিটকে পড়ে, আর আরেকটা পানির বোতল বেরিয়ে যায়। মাথা নিচু করে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করি।
ভিতরে, বাইরে। ভিতরে—শালা, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।
আমার অবশ মুখ ব্যথায় কুঁচকে যায়, গলা বেয়ে কান্না উঠে আসে, একটা ছোট্ট মাকড়সার মতো।
লড়াই করে যাও, বেবি। লড়াই করে যাও।
Zade, আর জানি না কিভাবে লড়তে হয়। শালা, জানি না।
মাথা ঝাঁকাই, তীব্র শ্বাস নেই, নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করি। আরেকটা শ্বাস নেই, আর জোর করে উঠে দাঁড়াই, হাতের তালুতে পাথর, পাতা, কাঠের টুকরো বিঁধে গেছে।
সেগুলো ঝেড়ে ফেলে পাশে থাকা ট্রেলারের দিকে তাকাই। দেখতে অন্যগুলোর মতোই—সাদা, মরিচা ধরা, ক্ষয়ে যাওয়া। কিন্তু এর পাশে একটা মই আটকানো আছে।
আর বাইরে থাকলে ওরা ঠিকই খুঁজে বের করবে, আমাকে এখন কোনো জায়গায় লুকিয়ে শক্তি ফিরে পেতে হবে। এখনো শক কাটেনি, এড্রেনালিনে শরীর বন্ধ হয়ে আসছে।
নাক মুছে জিনিসগুলো হাতে নেই, এক হাতে আঁকড়ে ধরি ঠাণ্ডা লোহার মই, আর উঠতে শুরু করি।
“দ্য ইটসি-বিটসি স্পাইডার ক্লাইম্বস আপ দ্য ওয়াটার স্পাউট,” গুনগুন করি, এক রঙ মিস করে আবার পিছলে যাই। হাঁটুতে ধাক্কা লাগে, ব্যথায় শ্বাস আটকে আসে। দাঁত কেটে উঠে যাই, ট্রেলারের মাঝ বরাবর পৌঁছাই।
হ্যাচের কাছে গিয়ে লিভার ঘুরিয়ে দরজাটা খুলি, আমার শেষ শক্তিটুকু দিয়ে।
“ডাউন কেম দ্য রেইন অ্যান্ড ওয়াশড দ্য স্পাইডার আউট।” ভিতরে উঁকি দেই, দেখি ফাঁকা, কেবল লতাপাতা ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে পড়েছে। হয়তো আমি নিজের কবরের মধ্যেই ঢুকছি, কিন্তু এখানেই মরতে রাজি আছি।
হ্যাঁ, মনে হচ্ছে এখানে মরাটাই ভালো।
***********
আমি জেগে উঠি, কিছু একটা পায়ের উপর দিয়ে দৌড়ে যাওয়ার অনুভূতিতে।
মুহূর্তেই আতঙ্কে সোজা হয়ে বসে যাই, গলার কাছে চাপা চিৎকার আটকে যায়।
মুহূর্তের জন্য মনে হয় আমি আবার সেই বাড়িতে, Sydney-র উপর বসে কলম হাতে আছি।
দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে শান্ত হই, চোখের সামনে পরিবেশ স্পষ্ট হতে শুরু করে।
হাফাতে হাফাতে হাতের দিকে তাকাই, এখনো রক্তে ভেজা। জামাকাপড়ের মধ্য দিয়ে হাত-পা পর্যন্ত ভিজে গেছে। ত্বক চুলকাচ্ছে, খোসা পড়ছে।
অর্ধনিদ্রিত, ঠাণ্ডায় কাঁপতে থাকা শরীরে ট্রেলারের ভিতরে তাকাই। ফাঁকফোকর দিয়ে লতাপাতা ঢুকে গেছে, ভেতরটা ময়লা আর ঘিঞ্জি, তবে ফাঁকা। উপরের হ্যাচটা আধা খোলা রেখেছি, ভোরের আলো এক ফোঁটা ঢুকছে, এতেই চারপাশ দেখা যাচ্ছে।
একটা দীর্ঘ গোঁ গোঁ শব্দ বের হয় গলা থেকে, পিঠ ব্যথায় ধরে আছে। জায়গা বদলাতে গিয়ে দেখি কয়েক ফুট দূরে একটা বাদামী কাঠবিড়ালী মাটিতে গন্ধ শুঁকছে, চোখ রাখছে আমার দিকে।
“হাই, কিউটি,” ফিসফিস করে বলি, গলায় ঘুমের রেশ। হাসি দেই, মুগ্ধ হয়ে দেখি ও ধীরে ধীরে কাছে আসে, এক ইঞ্চি দূর পর্যন্ত চলে আসে। হাত বাড়ালেই সরে যায়, তাই আর চেষ্টা করি না।
“তোর নাম কি?” ফিসফিস করে বলি, হাসি ফোটে মুখে, যখন দেখি ও আমার পায়ের উপর উঠে বসে, ছোট্ট নখগুলো ট্রাউজারের কাপড় ভেদ করে ঢুকে যাচ্ছে।
কয়েক মিনিট ধরে আমরা একে অপরকে দেখি, আর মাসের পর মাস পর প্রথমবারের মতো নিজেকে হালকা লাগতে শুরু করে। এই ছোট্ট প্রাণীটাকে দেখেই চোখে জল চলে আসে, কারণ এতদিন ধরে শুধু ফাঁপা মৃত মানুষ দেখেছি, এমন জীবন্ত কিছু দেখা ভুলিয়ে দিচ্ছে সব।
নাক টেনে মুখ মুছি, আবার পানি চলে আসে চোখে।
“তুই জানিস, আমার নানি জানালার কাছে বসে কাঠবিড়ালী দেখত?” হেসে বলি। “তোর নাম May রাখছি। নানির র জন্মদিন মে মাসে, ও তোকে পছন্দ করত।”
কাঠবিড়ালীটাও টুং করে ডাকে, পা বেয়ে নামতে থাকে। হেসে উঠি, যখন ও জুতার ফিতেতে কামড় বসিয়ে টানতে থাকে।
হঠাৎ চোখের কোণে দেখি আরেকটা কাঠবিড়ালী আমাদের দিকে ছুটে আসছে।
“ওহ মাই গড, তোমরা দুইজন!” ফিসফিস করে বলি। May নেমে যায়, আরেক কাঠবিড়ালীর সাথে মিলে যায়। দুজন মিলে দৌড়ে বেড়াতে শুরু করে, বুক থেকে হাসি বেরিয়ে আসে।
লতাপাতা বেয়ে ওরা হ্যাচের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায়।
“বাই, May,” ফিসফিস করি, নিঃসঙ্গতা বুকের মধ্যে গেঁথে যায়।
কিন্তু আমি ডুবে যেতে দেই না, জোর করে দাঁড়িয়ে পড়ি, পিঠ আর পা ব্যথায় কাঁপছে।
ড্রপ দিয়ে পড়ার পর আর মনে নেই কী হয়েছিল, মনে আছে শুধু গিরে পড়ার সময় পা মচকেছিল, তারপর ঘুমিয়ে পড়েছি। আলো এখনো নীলচে, তাই বেশি হলে কয়েক ঘণ্টা কেটেছে।
তারা এখনো আমাকে খুঁজছে, আর আমি ভাবছি চলতে থাকবো নাকি অপেক্ষা করবো। ট্রেনের আশ্রয় ছাড়া বের হলে একদম খোলা জায়গায় পড়বো, সঙ্গে শুধু দুইটা রান্নার ছুরি।
অবশেষে চলার সিদ্ধান্ত নেই। একটা গ্র্যানোলা বার খেয়ে, অর্ধেক পানির বোতল খেয়ে নিই, কারণ কতদিন লুকিয়ে থাকতে হবে জানি না।
কিন্তু যখন লাফ দিয়ে নেমেছিলাম, তখন উপরে ওঠার কথা ভাবিনি। এখন বুঝতে পারছি এটা কত বড় ভুল।
হে ঈশ্বর, কোনো মেলা হবে নাকি? আমাকে এখান থেকে বের হতে দাও, তাহলে আমার দশ বছর আয়ু কেটে নাও। এত স্ট্রেসে বাকি পাঁচ বছর বাঁচলেই খুশি।
মাথা পরিষ্কার হওয়ার পর বুঝতে পারি, না, আমি আসলে এখানে মরতে চাই না।
কিন্তু মনে হচ্ছে, এখানেই মরতে হবে।
চোখে আবার পানি চলে আসে, গলা বুজে আসে।
ঠিক তখনই ট্রেলারের বাইরে কিছু আওয়াজ শুনি। শ্বাস বন্ধ করে শুনি, আতঙ্কে শরীর পাথর হয়ে যায়।
কী বলছে শুনতে পাই না, তবে স্পষ্টভাবে রেডিওর আওয়াজ শুনতে পাই।
ওহ শালা, এরা ওরা।
হাইপারভেন্টিলেশন শুরু।
আমি হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরি, হঠাৎ মনে হতে থাকে ওরা মোটা লোহার ভিতর দিয়েও আমার নিঃশ্বাস শুনতে পাবে। উপরের হ্যাচের দিকে তাকাই, আর তখনই নিচু গলায় একজনের কথা শুনি—
“হ্যাচটা খোলা মনে হচ্ছে।”
ভয় আমাকে গিলে খায়, আর আমি আস্তে করে দুইটা ছুরি হাতে নেই, প্রতিটা হাতে একটা করে চেপে ধরি, আর ট্রেলারের কোণের অন্ধকারের দিকে সরে যাই।
অবশ্যই, ওরা দরজা খুললেই আমায় দেখে ফেলবে, কিন্তু আর কিছু করার নেই। যতক্ষণ না ওরা নেমে আসে, ততক্ষণ এটাই করতে পারি।
ট্রেলারের গায়ে কেউ লাফ দিয়ে ওঠে, ধাতব শব্দে পুরো শরীর কেঁপে ওঠে, বুকের ভেতর হার্ট গলায় উঠে আসে।
আমি ছুরিগুলো শক্ত করে ধরি, কাঁপতে থাকি, শুনি লোকটা উপরে উঠছে।
“হেই!” জোরে ডাক দেয় কেউ। লোকটা থেমে যায়, আর দরজার কাছে চলে আসায় ওর আওয়াজ পরিষ্কার শোনা যায়।
“তুই শালা কে?”
ওরা কী বলছে শুনতে পাই না, তবে লোকটা তেলে বেগুনে জ্বলছে।
“তুই কী বললি শালা? এখানে তোর কোনো কাজ নেই।”
অজানা মানুষটার কথা এখন কাছে থেকে শোনা যাচ্ছে, কিন্তু স্পষ্ট নয়।
“আমার বালেরও মাথা ব্যথা নেই এটা প্রাইভেট প্রপার্টি কিনা। তুই শালা কে যে আমাকে প্রশ্ন করবি?”
আমি ভয় আর স্বস্তির মিশ্র অনুভূতিতে স্তব্ধ হয়ে যাই। শুনি লোকটা নিচে নেমে আসে, সম্ভবত ওর সাথে দাঁড়িয়ে কথা কাটাকাটি করতে।
হৃদয়ের তীব্র ঢাকে আর কিছু শুনতে পাই না, ওরা কী বলছে বোঝা যাচ্ছে না।
ওদের চিৎকার বাড়ে, বিশেষ করে সেই লোকের, যে আমাকে পেতে খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।
যখন মনে হলো হাতাহাতি শুরু হবে, হঠাৎ এক সেকেন্ডের জন্য নীরবতা, তারপর তীক্ষ্ণ ধাতব আওয়াজ—মনে হলো গুলির শব্দ, কিন্তু গুলির আওয়াজ পাইনি, হার্টবিটের শব্দে কিছুই শুনছি না।
কারো মুখ থেকে মনে হলো বের হলো, “ফাকার,” তবে নিশ্চিত নই।
চোখ বড় হয়ে যায়, হ্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকি, শুনি কেউ আবার মইয়ে ওঠছে।
ওহ না। না, না, না, না।
সে ফিরে এসেছে।
মুখে হাত চাপা দিয়ে কান্না ওঠে, শুনতে না পায় তাই।
যদি আমাকে বের করে নিতে চায়, তাহলে ওকে নেমেই নিতে হবে, আর আমি লড়াই ছাড়া যাব না।
আমি নিজের গলা কেটে ফেলব, তবু সেই বাড়িতে, Xavier-এর কাছে ফিরে যাব না।
হ্যাচের ঢাকনা কাঁপে, আমার গলা পর্যন্ত বমি উঠে আসে। মূর্ছা যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আমি তার মুখ দেখি।
চোখ আরও বড় হয়ে যায়, ভয় মিলিয়ে গিয়ে অবিশ্বাসে বদলে যায়।
একটা চোখ এত হালকা নীল, প্রায় সাদা, তার উপর দিয়ে ক্ষতচিহ্ন চলে গেছে। আরেকটা চোখ গভীর বাদামী, যেন কালো পাথর। হুড তোলা থাকলেও মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আর এখন, সম্পূর্ণ স্বস্তি নিয়ে সেই মুখ আমাকে দেখছে।
“Zade ?”
“শালা, বেবি, সেখানেই থাকো। নড়বে না।”
“সে ওখানে?” একজন মেয়ে তাড়াহুড়ো করে বলে ওঠে, উপরে ওঠার শব্দ শোনা যায়। কিন্তু আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। Zade এক সেকেন্ড পরে ট্রেলারে লাফ দিয়ে নামে, ওজনের ধাক্কায় ধাতব ট্রেলারের ভিতর কেঁপে ওঠে।
আমার গলা থেকে হাঁপানির মতো শব্দ বের হয়, স্বস্তিতে প্রায় শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, আমি ওর দিকে হোঁচট খেয়ে যাই, ওর বুকে গিয়ে ধাক্কা খাই।
ও সঙ্গে সঙ্গে আমাকে কোলে তুলে নেয়, পা দিয়ে ওর কোমর আঁকড়ে ধরি, আর ও হাঁটুতে ভেঙে বসে, আমাকে এমন শক্ত করে ধরে যে নিশ্বাস নিতে পারি না।
অবিশ্বাসে আমি কাঁপতে থাকি, গলা দিয়ে কান্না ফেটে বের হয়, এত জোরে যে হাড় কেঁপে ওঠে।
“আমি আছি, লিটল মাউস, আমি আছি,” ও ফিসফিস করে। “শালা, তুমি কত ঠাণ্ডা।” ওর গলা ভেঙে যায়, আমাদের দোলাতে থাকে, দম বন্ধ করে কান্না আটকানোর চেষ্টা করে।
টুকরো টুকরো হয়ে আমরা ভেঙে পড়তে থাকি, কষ্টের বৃষ্টিতে আমাদের চারপাশে ভেঙে পড়া টুকরোগুলো ছড়িয়ে যায়। আমি জানি, Zade যখন আমাদের এই টুকরোগুলো জোড়া লাগাবে, তখন আমরা চিরদিনের মতো এক হয়ে যাব।
ও আমার মাথা, গাল, ঘাড়, কাঁধে নরম কিন্তু তড়িঘড়ি করে চুমু খেতে থাকে। ওর হাত আমার ঠাণ্ডা ত্বকে ঘুরে বেড়ায়, মনে হয় যেন ও আমাকে উপাসনা করছে।
কতক্ষণ এভাবে ছিলাম জানি না, কিন্তু আমার কান্না থেমে যায়, তবুও Zade আমাকে ছাড়ে না।
“Addie?” নিচু গলায় কেউ ডাকে। চোখ বড় হয়ে যায়, আমি উপরে তাকাই, হ্যাচে দেখি Daya-র মুখ। তার চকচকে বাদামী ত্বক অশ্রুতে ভিজে গেছে, তার সেজ গ্রিন চোখে জল।
“ও মাই গড, Daya,” কাঁপা গলায় বলি, অবিশ্বাসে ভেঙে পড়ি।
“চলো উঠো, বেবি,” Zade বলে। “ঠাণ্ডা পড়ছে, জায়গাটা এখনো লোকে ভরা, তোমাকে খুঁজছে।”
আমি নাক মুছি, মাথা নাড়ি। ও আমাকে তুলে ধরে, Daya হাত ধরে টেনে তোলে। ট্রেলার থেকে বের হতেই Daya আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে; ওর আলিঙ্গনও Zade-র মতো শক্ত।
“আর কোনোদিন আমাকে ছেড়ে যাবি না,” ও কাঁদে, গলা কাঁপে। আমি মাথা নাড়ি, আবার ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হয়।
হঠাৎ পেছন থেকে একজন মহিলা চিৎকার করে ওঠে, অজগর চিৎকারে কিছু বোঝা যায় না, তবে মনে হলো বলছে “ও মাই গড, তোমরা ওকে খুঁজে পেয়েছ, ও তো ঠাণ্ডায় জমে গেছে!” এরকম কিছু।
Daya আর আমি আলাদা হয়ে যাই, দেখি এক লাল চুলের মহিলা আর আরেকজন অজানা লোক ছুটে আসছে। এক মুহূর্ত পরে, Zade হ্যাচ ধরে সহজেই উপরে উঠে যায়।
“তুমি ওকে খুঁজে পেয়েছ!” মহিলা আবার চেঁচায়।
“যীশু, Ruby, দুনিয়াকে জানিয়ে দিও না। এখনো ওকে খুঁজে বেড়াচ্ছে লোকজন,” Zade ঝাঁঝিয়ে ওঠে।
ও হাত নেড়ে বলে, “তুমি ওদের সামলাবে।”
আর সে পারবে। মাটিতে দুটো মৃতদেহ পড়ে আছে, বুকে গুলির দাগ।
“তুমি কীভাবে…?”
“শুধু এক পাশে দুই পা এগিয়ে গিয়ে এক গুলিতে দুইজনের বুক চিরে দিয়েছি,” Daya জবাব দেয়, এমনভাবে তাকায়, যেন বলছে “সে পাগল, কিন্তু কুল।”
Ruby আমাকে কাছে ডাকতে হাত নেড়ে বলে, “এসো বেবি, তোমাকে গরম করে দেই।”
আমি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকি, মস্তিষ্কে যেন জেলি জমে গেছে, কিছুই প্রসেস হচ্ছে না। Daya হালকা করে ধাক্কা দিলে মই দিয়ে নিচে নামি, পা প্রায় পিছলে যায়। Ruby নামতে না নামতেই আমাকে জড়িয়ে ধরে।
“তুমি এখন নিরাপদ, বেবি,” ও ফিসফিস করে, আমার বাহু মথতে মথতে হেঁটে নিয়ে যায় পরিত্যক্ত ট্রেনের পাশ দিয়ে।
আমি কাঁধের উপর তাকাই, দেখি Zade পেছন পেছন আসছে, চোখে লেজারের মতো ফোকাস, মনে হয় এক সেকেন্ডের জন্য চোখ ফেরালেই আমি হারিয়ে যাব।
আমি এখন নিরাপদ।
তবুও মনে হচ্ছে আমি এখনো নরকে আছি।
**************
(Dairy 📜)
জানুয়ারি ২১, ২০২২
আমার মনে হচ্ছে, আমার শরীর এখনো মুক্তি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়। এটা এখনো বাস্তব মনে হচ্ছে না। আমি শুধু অপেক্ষা করে আছি, কেউ এসে পর্দা টেনে খুলবে আর বলবে,
“টাডা!”
আমি এখনো সেই ঘরে বন্দি, যেখানে একটা অচেনা মানুষের ঘৃণ্য যৌনাঙ্গ আমার মুখের সামনে।
ফাক।
আমি মুক্ত।
তবুও, আমার এখনো মনে হয়, আমি মরে যেতে চাই।
👄 আমার লিপস্টিকের রঙ আগের মতো নেই, আর আমি সেটা নিয়ে কেঁদেছি।
Adeline
চলবে