‘ঝরা ফুল’
বিনতে ফিরোজ
১৩.
শিমু হাপুস নয়নে কাদঁছে। মিতু বিরক্ত হয়ে বলল, ‘ সবাই তোর দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবছে আমি তোকে মে’রেছি।’
চোখ মুছে চারদিকে তাকালো শিমু। আসলেই সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। টিফিন পিরিয়ডে অনেকের আড্ডার মধ্যমণি হয়ে গেছে শিমু। তার কান্নার জন্য। ক্লাস ক্যাপ্টেন মেয়েটা এগিয়ে এলো, ‘ কি হয়েছে শিমু?’
শিমু নাক টেনে বলল, ‘ কিছু না।’
মেয়েটা আড়চোখে একবার মিতুর দিকে তাকালো। শিমু বলল, ‘ মিতু টিসির জন্য আবেদন করেছিলো। আজকে পেয়ে গেছে। ও অন্য স্কুলে চলে যাবে।’
মুহুর্তের মাঝে চেনা, আধাচেনা মেয়েগুলো মিতুকে ঘিরে ধরলো। মায়ের বিয়ের কথা শুনে কেউ কেউ মুখ বাকালো। ক্লাসের ঘন্টা পরে গেলে সবাই মিতুকে বিদায় জানিয়ে নিজেদের জায়গায় যেয়ে বসে পড়ল। শিমু বলল, ‘ মিতু তুই কি এখানে থাকতে পারিস না?’
‘ এখানে কোথায় থাকবো?’
শিমু চুপ করে গেলো। এখানে মিতুর পক্ষে থাকা সম্ভব হবে না। সে জানে।
‘ ঐ লোকের বাড়িতে তুই থাকবি কিভাবে? সৎ বাবা কি ভালো হয়? তোর নিজের বাবাই তো তোকে দেখে না। আবার সৎ বাবা!’ শেষ বাক্য দুটো গিলে নিলো শিমু। মিতু বলল, ‘ জানি না। কোথায় আর যাবো। যাওয়ার তো জায়গা নেই।’
শিমুর বুকটা হু হু করে উঠলো। বাবা বেঁচে থাকতেও মেয়েটাকে থাকার জায়গা নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে।
‘ তুই ঐ লোকটাকে কি বলে ডাকবি?’
‘ কাকে?’
‘ তোর মায়ের নতুন বরকে।’
‘ কি জানি? আঙ্কেল বলবো হয়তো।’
‘ বাবা বলবি না?’
মিতু হাসলো, ‘ নিজের বাবাকে বাবা বলতে পারি না। আর অন্য মানুষকে বাবা বলবো!’
যাবার কালে শিমু মিতুর হাতে একটা রুমাল গুঁজে দিলো।
‘ মিতু তোর সাথে হয়তো আমার আর কোনোদিন দেখা হবে না। আবার হতেও পারে। কিন্তু তুই আমাকে ভুলে যাস না।’ মিতুকে জাপটে ধরলো শিমু, ‘ আমি তোকে অনেক ভালবাসি মিতু। আল্লাহ তোকে অনেক অনেক ভালো রাখুক।’
শিমুর পিঠে হাত রেখে মিতু ফিসফিস করে বলল, ‘ সাথে আমার ভাইজানকেও।’
অল্প কিছুদিনের মাঝেই সব গোছগাছ করে নিলেন জাহানারা। সাইফুল কোনো ফার্নিচার নিতে নিষেধ করলেন। জাহানারার গাইগুই শুনলেন না। সেগুলো বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন জাহানারা। রাবেয়ার খুশি দেখে কে। ঘরভর্তি ফার্নিচার দেখে সে গদগদ হয়ে ননাশকে ফোন দিলো। জাহানারা হু হা করে ফোন কে’টে দিলেন। তার এখন অনেক তাড়া।
সাইফুল এলেন দুপুর নাগাদ। জাহানারাকে তাগাদা দিলেন বের হওয়ার জন্য। মাসের মাঝে বাড়ি ছেড়ে দিলেও পুরো ভাড়াই দিয়ে যেতে হলো। উপায় নেই। আগে থেকে কোনো ধরনের নোটিশ দেয়া হয়নি। বাড়িওয়ালাও তো এখন ভাড়াটিয়া পাবেন না। সে ভাড়া অবশ্য সাইফুল দিলেন। জাহানারা মনে মনে তৃপ্ত বোধ করলেন।
নবদম্পতি আগে আগে ছুটলো। নিজের স্কুল ব্যাগটা পিঠে নিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে ক্ষণিকের আবাসটা শেষবারের মতো দেখে নিলো মিতু। আর কোনোদিন এখানে এভাবে থাকা হবে না। কোথায় থাকতে হবে কে জানে! এই কয়েকটা মাস তার ঘরের জানালাটা হয়েছিল তার সর্বক্ষণের সঙ্গী। টর্চ লাইটটা হয়েছিল চিঠি লেখার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। সেই টর্চ লাইটটা হারিয়ে গেছে। খুঁজে পাননি জাহানারা। জানালাটা সেটে আছে দেয়ালের সাথেই। সবাইকে পিছু ফেলে সামনে এগিয়ে গেলো মিতু। এক নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
~
উঠানের দু পাশে দুটো করে ঘর। দেয়াল প্লাস্টার করা হলেও উপরে টিনের চাল। বাকি ভাইয়েরা আলাদা হয়ে গেছে। নিজেদের মতো করে বাড়িঘর বানিয়ে নিয়েছে। এই বাড়িতে ইসমত আরা মাঝে মাঝে এসে থাকেন। পুরোনো বাড়িটার দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে জায়গায় জায়গায়। লোনা জমে শ্যাওলা জন্মেছে। বোঝাই যায় যত্নের কিছুই বাড়িটার কপালে জোটেনি। জাহানারার অবশ্য খারাপ লাগে না। নিজের হাতে সবটা গুছিয়ে শূন্য থেকে শুরু করা যাবে। বেশ একটা আনন্দ আছে।
ইসমত আরা আগে থেকেই বাড়ির উঠানে পায়চারি করছিলেন। বয়সের ভারে পিঠটা সামান্য বাঁকা হয়ে গেছে। ঝুঁকে গেছে নিচের দিকে। লম্বা একটা লাঠি নিয়ে তিনি ঠকঠক করে হাঁটছিলেন উঠানের এ মাথা থেকে ও মাথা।
সাইফুল এগিয়ে গেলেন মায়ের কাছে। সালাম দিয়ে বললেন, ‘ তুমি কখন এসেছ মা?’
ইসমত আরা তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে পেছনে দাঁড়ানো জাহানারা এবং মিতুকে দেখলেন। জাহানারাকে দেখে বুঝলেন ছেলে তার কেনো পিছলে গেছে।
‘ কিছুক্ষণ আগে।’
মিতু চারপাশটা দেখলো। উঠানটা বড় আছে। চাঁদ উঠলে এখান থেকে নিশ্চয়ই আরাম করে দেখা যাবে?
সাইফুল এগিয়ে গেলেন। তালা খুলে বিব্রত কণ্ঠে বললেন, ‘ দেশে ছিলাম না বাড়িঘরের যত্ন নেয়া হয়নি। কিছুদিন একটু কষ্ট করে থাকো। এই বাড়ি তো আর ঠিক করা যাবে না। নতুন করে একটা বানানো পর্যন্ত।’
জাহানারা মুচকি হাসলেন। ভরসা দেয়া কণ্ঠে বললেন, ‘ এতদিন তো মাথার উপর ছাদই ছিল না। শক্ত একটা ছাদ পেয়েছি। এই অনেক।’
জাহানারা মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। সাইফুল ইসমত আরার কাছে এসে নরম কণ্ঠে বললেন, ‘ মা আপনি যদি ওদের সাথে রাগ করেন তাহলে সেটা আমার সম্মানে লাগবে। আপনি আমার মা। আপনার ভালো ব্যবহারই ওদের কাছে আমার সম্মান বাড়াবে।’
ইসমত আরা গম্ভীর কন্ঠে বললেন, ‘ এক পাখির পলক আরেক পাখির গায়ে লাগে না। ঐ মেয়ে আরেক বংশের। তুই ওকে নিয়ে এসেছিস কেনো? ওর বাপ নেই?’
‘ আছে।’
‘ তাহলে যেই বংশের মেয়ে সেই বংশে থাকবে। বাপ থাকতে আরেক লোকের বাড়িতে থাকবে কেনো ও?’
‘ আস্তে বলেন মা। জাহান ওকে নিজের কাছে রাখতে চায়। সেখানে আমি কি বলতে পারি? থাকুক। ওইটুকু মেয়ে আর কি করবে। কয়েকটা বছর গেলে বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যাবে। আমাদের সাথে তো আর সারাজীবন থাকবে না।’
‘ নিজের একটা হলে তারপর বুঝবি।’ বিড়বিড় করে বললেন ইসমত আরা। তিনি কিন্তু অন্য বাড়িতে গেলেন না। উঠানের আরেক দিকে নিজের জন্য বরাদ্দ রাখা ঘরে ঢুকলেন। বোঝা গেলো তিনি ওখানেই থাকতে চান। জাহানারা মনে মনে বিরক্ত হলেও মুখে কিছু বললেন না। কি মনে করে রাতের বেলা মিতুকে পাঠিয়ে দিলেন শাশুড়ির কাছে। মহিলা আগে থেকেই রেগে ছিলেন। মিতুকে দেখে রাগটা বের হলো। জাহানারা শান্ত ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিলেন।
‘ আমার মেয়ের নিজের দাদী মা’রা গেছে অনেক আগেই। ও যদি আপনাকে দাদী বলে ডাকে আপনি কি কিছু মনে করবেন মা?’
ইসমত আরা ভেতরে ভেতরে গজগজ করলেও কিছু বললেন না। বলতে পারলেন না। জাহানারা নরম কণ্ঠে কথা বলেন। শাশুড়ির সাথে কথা বলার সময় তাতে আরো কোমলতা যোগ করেছেন। ইসমত আরা সম্মতি না দিলেও আর উচ্চবাচ্য করলেন না। সংক্ষিপ্ত সময়ে পাশের ঘরটা মিতুর জন্য প্রস্তুত করে দেয়া হলো।
~
শিশির জমে টিনের চাল ঠান্ডা হয়ে গেছে। সেই শীতল ভাব যেনো চুয়ে চুয়ে ঘরের ভেতরে পড়ছে। কাঁথার ভেতরে কুঁকড়ে আছে মিতু। কিছুটা শীতে, একটু বেশি ভয়ে। ঘরের পেছনেই একটা বড় গাছ আছে। মিতু দেখেছিল। তবে কি গাছ ধরতে পারেনি। বটগাছ হবে হয়তো। সেটায় মনে হয় বাদুড় এসেছে। একটু পরপরই চালে তার ডানা ঝাপটানোর শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। মিতুর ভয় লাগছে। এর আগেও সে একা থেকেছে। তবে জায়গা বদলেছে সাথে পরিবেশও। এভাবে টিনের ঘরে থাকা হয়নি কখনও। ফলে অল্প শব্দেই সে আঁতকে আঁতকে উঠছে। রাত গভীর হলে মিতু উঠে বসলো। সে ঘুমাতে পারছে না। মায়ের কাছে যাবে? পরক্ষণেই মত পাল্টালো। লোকটা সাথে আছে। অস্বস্তি বোধ করলো মিতু। তখুনি আবার বাদুড়টা ঝপ করে বসলো। লাফিয়ে উঠে দাঁড়ালো মিতু। ভয়ে তার কান্না পেলো। কিছুক্ষণ এদিক ওদিক করার পর মনে হলো পাশের ঘর থেকে শব্দ আসছে। ইটের দেয়ালের কাছে কান পেতে দাঁড়ালো সে।
ইসমত আরা অসহ্য হয়ে উঠে বসেছেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে ঘরটা গুমোট হয়ে আছে। সেখানে মশার দল বেশ ভালোভাবেই গেড়ে বসেছে। কয়েল জ্বে’লেও লাভ হচ্ছে না। মশাগুলো কানের কাছে এসে সমানে গুনগুন করে যাচ্ছে। আরে তুই র’ক্ত খাবি খা! কানে মুখে এসে শব্দ করার কি মানে? কাজেই মশা নি’ধনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়ে ইসমত আরা ডিম লাইটের মৃদু আলোয় দুই হাতে তালি বাজিয়ে যাচ্ছেন। তাতে মশা কতগুলো ম’র’ছে তিনি জানেন না তবে মনে কিছু স্বস্তি আসছে। সেই ঢের।
মিতু টুকটুক করে দরজায় কড়া নাড়ল। নিস্তব্ধ রাতে এই শব্দটুকুই তীক্ষ্ম হয়ে ইসমত আরার কানে ধরা দিলো। সাবধানী গলায় তিনি বললেন, ‘ কে রে!’
মিতু ফ্যাসফ্যাসে কণ্ঠে বলতে চাইলো, ‘ আমি।’ কিন্তু গলা কথা বের হলো না। রাতের ঠান্ডা বাতাস কানের পাশ দিয়ে ছুটে ছুটে যাচ্ছে। মিতু শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
ইসমত আরা সময় নিয়ে দরজা খুললেন। লাঠিটা শক্ত করে ধরা। দরজার ফাঁক দিয়ে মিতুকে দেখে চোয়ালের ভাঁজ নরম হলো। গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ‘ কি চাই?’
মিতু ঝরঝর করে কেঁদে দিল, ‘ আমার..আমার অনেক ভয় লাগছে দাদী।’
ইসমত আরার কপালের ভাঁজ মুছে গেলো।
‘ আমি কি করবো?’
‘ আপনার সাথে একটু থাকি?’ ঘাড় কাত করে বলল মিতু। উঠানের একপাশে কল ঘর। সেখানে ষাট ওয়াটের একটা হলুদ বাতি জ্বলছে। সেই বাতির হলুদ রং শিশিরের প্রাচীর ভেদ করে বিচ্ছুরিত হয়ে আসছে এদিকেই। মিতুর শ্যামলা মুখে হলুদ রংটা যেনো নৃত্য করছে নিজের সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে। ইসমত আরা না করতে পারলেন না। একপাশে সরে এসে মেকি বিরক্তি নিয়ে বললেন, ‘ মানুষের পোলাপান এখন আমার বিছানা দখল করতে চায়।’
মিতু তড়িঘড়ি করে ঢুকে পড়ল। এক কোনায় দাঁড়িয়ে বলল, ‘ আমি কথা শোবো?’
‘ আমার মাথায় শো।’ ইসমত আরা শুয়ে পড়লেন। মিতু কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো। মাটির একটা থালায় কয়েল ধরানো। তবে সেটা নিভে গেছে বহু আগেই। বিছানার এক কোণে দেয়াশলাই পেলো মিতু। নিজ উদ্যোগে কয়েল ধরালো। গুটি গুটি পায়ে হেঁটে গেলো বিছানার কাছে। সন্তর্পনে ইসমত আরার পাশে শুয়ে পড়লো। ক্লান্ত চোখে ঘুম নামলো নিমিষেই। ইসমত আরা টের পেলেন মশা কমে গেছে। তার বিরক্তিকর গান আর শোনা যাচ্ছে না। কিন্তু উষ্ণ একটা হাত তার শাড়ির আঁচল ধরে আছে শক্ত করে। একটু পরই হাতটা তার বুকের কাছে উঠে এলো। ইসমত আরা চোখ বন্ধ করলেন। চেপে ধরলেন দু চোখের পাতা। মেয়েটার মনে কি অনেক দুঃখ? তার বুকটা এতো ভারী লাগছে কেনো?
________________
সিয়ামের বাবা যে ফোন করবেন এটা মামুনের চিন্তার বাইরে ছিল। লোকটা ফোন করে রীতিমত তাকে অনুরোধ করা শুরু করেছে। বয়স মঈনুলের কাছাকাছি। মামুন কয়েকবার না করার পর রাজি হয়ে গেলো। বয়স্ক একটা মানুষ তার কাছে অনুরোধ করছে। কতবার তাকে ফিরিয়ে দেয়া যায়?
সিয়ামের বাড়িতে যেয়ে লিলিকেও পাওয়া গেলো। তারা মা মেয়ে মিলে বেড়াতে এসেছে। সিয়ামের বাবা এক ফাঁকে এসে মামুনের সাথে দেখা করলেন।
‘ সিয়াম তোমার হিউজ প্রশংসা করেছে। অবশ্য ও না করলেও আমি বুঝি। আমার ছেলের কোনো টিউটর এক মাসের বেশি টেকে না। বছরের বেশিরভাগ সময় চলে যায় ওর জন্য টিউটর খুঁজতে খুঁজতে। সেখানে তুমি চার মাস কন্টিনিউয়াসলি পড়াচ্ছ। থ্যাংকস ইয়াং ম্যান!’
মামুন নিজের প্রশংসা শুনে অভ্যস্ত নয়। কাজেই কি উত্তর দেয়া যায় সে বুঝলো না। খানিকটা বিব্রত বোধ করলো।
সিয়াম আজ বেশ মনোযোগ নিয়েই পড়ছে। মামুন হঠাৎ করেই বলল, ‘ সিয়াম আসো একটা ডিল করি।’
সিয়াম চোখে কৌতূহল নিয়ে তাকালো, ‘ কিরকম ডিল স্যার?’
‘ তুমি যদি আমার সাব্জেক্টে প্লাস আনতে পারো তাহলে তোমাকে এক দিনের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরে নিয়ে যাব।’
‘ কোথায়!’ সিয়ামকে উৎফুল্ল দেখালো।
‘ সেটা সারপ্রাইজ। আগে তোমাকে এইটটি প্লাস আনতে হবে। ডিল?’
‘ ওকে ডিল!’
লিলি ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, ‘ আমিও জয়েন করতে চাই। সব সাব্জেক্টেই প্লাস এনে দেখাবো। চলবে?’
মামুন সিয়ামের খাতার দিকে তাকিয়ে শক্ত কণ্ঠে বলল, ‘ না।’ লিলির মুখে আঁধার ঘনিয়ে এলো।
মেসে ফেরার পথে মামুন দুটো ভাঁপা পিঠা কিনল। নিশান ফেরা পর্যন্ত জেগে থাকলো। নিশান ঘরে ঢুকলো ঢেঁকুর তুলে। তার রাতের খাওয়া হয়ে গেছে। বই খাতা একপাশে সরিয়ে লেপের নিচে চাপা দিয়ে রাখা পিঠা বের করলো মামুন।
‘ নিশান আসো পিঠা খাও।’
নিশান আলস্য ভঙ্গিতে এসে জড়তা ছাড়াই একটা পিঠা তুলে তাতে কামড় বসালো।
‘ দীর্ঘ দিনের পরিচিত ছেলে মানুষ আবার রুমমেট। তুমি করে বললে কেমন শোনা যায়? তুই বল।’
মামুন কিছু বলল না। এই পর্যন্ত নিশানকে সম্বোধন করে কখনও কিছু বলতে হয়নি।
নিশান বাকি পিঠাটা মামুনের দিকে ঠেলে দিয়ে বলল, ‘ খা।’
‘ তুই খা। আমি খেয়েছি।’ অন্যদিকে তাকিয়ে বলল মামুন।
‘ কালকে রাতের শোধ দিচ্ছিস? এভাবে হবে না। একদিন আমার জ্বর আসবে। তুই সারারাত জেগে বসে থাকবি। তাহলে শোধ বাদ হবে।’
মামুন হাসলো, ‘ আচ্ছা।’
‘ বাই দ্যা ওয়ে। আমি মানুষের মিথ্যা কথা ধরতে পারি। খাসনি কেনো?’
মামুনের হাসিটা মুছে গেলো। কিছুক্ষণ ইতস্তত করে বলল, ‘ মিতু মনে হয় এখনও ভাঁপা পিঠা খায়নি। তাই..’ একটা চিঠিতেও মিতু ভাঁপা পিঠার কথা বলেনি। খেলে নিশ্চয়ই বলতো।
পিঠা চাবানো বন্ধ করে নিশান মামুনের মুখের দিকে তাকালো। মিনিট দুইয়ের মাঝে জামা কাপড় পাল্টে দ্বিতীয় পিঠায় কামড় বসিয়ে বলল, ‘ আজকে মিতুর গল্প শুনবো। গতকালের পেমেন্ট।’
মামুন নিশানের দিকে তাকালো। এই বিশাল রাজশাহীর কেউ কখনও তার গল্প শুনতে চায়নি। মামুনের কি বলা উচিত? তার শিশিরভেজা জীবনে মিতু নামের একটা শিউলি আছে। তার গল্প কি করা উচিত?
|চলমান|