#কৃষ্ণচূড়া🍂
নুসরাত সুলতানা সেজুথি
পর্ব--২০
নূবায়রার পরলোকগমনের সপ্তাহ তিনেক পার হতে চললো। মা বোন দুজনের মৃত্যুতে ছবি এখন আগের থেকেও অনেক বেশিই চুপচাপ হয়ে গিয়েছে।
খুব গভীর রাতে প্রায়শই কান্নার শব্দ শ্রুতিগম্য হয় কাব্যের। অবশ্য এটা ঠিক কার কান্নার আওয়াজ বুঝে উঠতে খুব একটা অসুবিধে হয়না তার।
এই সাতদিনে কাব্যের সাথে খুব কম কথা বলেছে ছবি। কাব্য নিজে থেকে এসে ছবিকে দেখেশুনে নিজ দায়িত্বে খাইয়ে গেলেও অন্য দিক থেকে ছবি একিভাবে নিরুত্ত্যর থেকেছে সব সময়।
ছবির এমন নিস্তব্ধতা মেনে নিতে বেগ পেতে হয় কাব্যকে।মেয়েটা শান্ত ছিলো,,,কিন্তু এতোটাও নয়।
আজকাল সারাক্ষন বারান্দার প্রান্তরে কাটিয়ে দেয় ছবি,,,,মাঝে মাঝে আবার ডুকরে কেঁদে ওঠে,,,কখনও চিৎকার করে কাঁদতে কাদতে ওখানেই হুশ হারিয়ে ফেলে।
আগে অন্তত একটু হলেও হাসতো। মাঝরাতে চাঁদ দেখতে যাওয়ার বায়না ধরতো,,,নানান জিনিস নিয়ে বকবক করতো,,সার্ভেন্ট থাকা সত্ত্বেও সারাক্ষন ঘরের এটা সেটা করে রাখতো,,, কিন্তু এখন?? এখন যে তার কোনও টাই হয়না।
আর তাই ছবির এমন একাকিত্ব কাটাতে এবার থেকে নিজের কাছেই ছবিকে রেখে দেয়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে কাব্য।
এ নিয়ে ছবির কোনও রুপ আপত্তি বরদাস্ত হবেনা এমন টা ভেবে থাকলেও এখন অব্ধি এ বিষয়ে ছবির দিক থেকে হ্যা কিংবা না,,, কোনও বোধক উত্তর-ই যে পাওয়া হয়নি তার।অবশ্য উত্তর দেবার মত পরিস্থিতিতে আদৌ কি রয়েছে ছবি??
তবুও থাকুক না মেয়েটা তার চোখের সামনে,,,, অন্তত ভালো মন্দ কিছু একটা ঘটলেও সে জানতে তো পারবে। ।
কতোই বা বয়স মেয়েটার ,,,এই বয়সে হেসে খেলে যে মেয়ের দিন কাটানোর কথা,,সেখানে ছবির কাধে কতশত দায়িত্ব ছিলো,,,আর তারও ওপরে এখন আপন জন হারানোর নিষ্ঠুরতম বেদনা এসে ভিড়েছে।
হয়তো আশেপাশে মানুষের সঙ্গ পেলে শোকের রেশ একটু হলেও কাটবে এবার।
_______________
______________
,,,
,,,
________
ভ্রু ক্রুটি করে কাব্যের রুমে দাড়িয়ে আছে রাজীব। আর তার সামনে ক্রমাগত পায়চারি করে যাচ্ছে কাব্য।
দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা ভাবছে তার কাব্য স্যার। কিন্তু কি ভাবছে? জিজ্ঞেস করতে মন চাইলেও ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে সেই চিন্তা করে পরক্ষনেই দমিয়ে রাখছে নিজেকে।
যদিও কাব্য খুব রগচটা তা নয়। পৃথিবীতে কোনও বস তার সহকারী কে এতোটা সমীহ করেনা যতোটা রাজীব কাব্যের থেকে পেয়ে থাকে। তবুও কাব্যের রাগ কে ভীষণ ভয় তার।
অল্পতে রেগে না গেলেও একবার রেগে গেলে আলিফ লায়লার জীনদের মত কাব্যও মুখ হা করলে ভেতর থেকে অগ্নিলাভা বেরিয়ে আসবে এমন টাই ধারনা রাজীবের।
আর তার প্রমান ইরফান কে দিয়ে বেশ ভালোভাবে বুঝে নিয়েছে রাজীব।
অবশ্য কথায় আছেনা যেমন কুকুর তেমন মুগুর। ইরফানের এক পায়ের ওপর এতো এতো পিটিয়েছে কাব্য যে পায়ের হাড্ডি গুড়ো হয়ে চুরে পরিনত হয়েছে একবারে । হয়তো আর কখনওই সোজা হয়ে দাড়াতে পারবেনা ওই পা দিয়ে। পারবেনা কখনও মেয়েদের পেছনে ঘুরে ঘুরে তাদের কে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে লালসা চরিতার্থ করতে। সব কাহিনির এক্কেবারে ইতি টেনে দিয়েছে তার কাব্য স্যার।
,,,,,,,,,,,
,,,,,,,,,,
,,,,,,,,,
--- মানুষের মেজাজ ঠিক করার সব থেকে বেটার উপায় কি রাজীব??
এতক্ষনে কাব্যের কথায় পুরোনো ধ্যান ধারনা রেখে হুশে ফিরলো রাজিব।
--- আমাকে বলছেন স্যার?
--- এখানে তুমি ছাড়া আর কাউকে তো দেখছিনা।
--- না মানে.....শুনতে পাইনি স্যার.??
---- আজকাল কোথায় মন লাগিয়ে রাখো?? জিজ্ঞেস করলাম যে মানুষের মন ভালো করার সব থেকে ভালো,,,একেবারে বেস্ট উপায় কি??
---- কার মন ভালো করবেন স্যার..??
--- ছবির। দেখছোতো সারাদিন কেমন মন মরা হয়ে থাকে।
আমি চাই উনি হাসুক। প্রান খুলে হাসুক। পৃথিবীর সব থেকে উজ্জ্বল তারার মতো ওনার মুখে হাসিরা জ্বলজ্বল করুক।
কিন্তু আমি কিছু ভেবেই পাচ্ছিনা। কি করলে ওনার মন ভালো হবে??
---- মন ভালো করার অনেক উপায় আছে স্যার...আমি আপনাকে বলতে পারি...
--- তাহলে বলো আমাকে..?
---- আমাকে একটু সময় দিন স্যার। আমি আগামি তিন দিনের মধ্যেই আপনাকে জানাচ্ছি....
রাজীবের কথায় উত্তেজিত কাব্যের মুখ মুহুর্তেই মিইয়ে এলো। অতঃপর দাত কপাটি খিচে বলে উঠলো...
--- গাঁধা.....
আমার এক্ষুনি জানা দরকার।
----ওহ। তাহলে আমি এখনই জানাচ্ছি স্যার।
--- হুম।
মাথার মধ্যভাগ চুলকে চুলকে ভাবতে শুরু করলো রাজীব। তার সাথে যোগ দিলো কাব্য নিজেও। দুজন দুদিকে দুভাবে হাটতে হাটতে ভাবছে। এক পর্যায়ে কিছু একটা পেয়ে খুশির ঝিলিক খেলে উঠলো রাজিবের চোখে মুখে।
--- পেয়েছি স্যার।পেয়েছি।
--- পেয়েছো?? কি পেয়েছো বলো....
--- স্যার আপনি ছবি ম্যাডাম কে গান গেয়ে শোনাতে পারেন।
--- এতক্ষন ভেবে এটা আসলো তোমার মাথায়?? আমি গান গাইতে পারি?? জানোনা তুমি??গর্ধভ।
--- ওহ হ্যা,,,স্যরি স্যার আমার তো মনেই ছিলোনা। আপনার যা গানের গলা দেখা যাবে এ গলায় গান শুনলে হিতে বিপরীত হয়ে ছবি ম্যাডাম বেহুশ হয়ে যাবেন। এমনিতেই উনি কথায় কথায় বেহুশ হয়ে যান কিনা...!!
---- এতো কথা বলতে কে বলেছে তোমায়?? চুপচাপ যা বলেছি তাই করো। আবারো ভাবো। অন্য কিছু ভাবো। যেটা আমি পারবো সেরকম কিছু....
---- আপনি পারবেন সেরকম কিছু...?স্যার পারবে সেরকম কিছু?? কি হতে পারে...কি হতে পারে...??( আবারো ভাবনায় ডুব দিয়ে)
পেয়েছি স্যার...এবার পেয়েছি।
--- বলো...বলো...কি পেলে??
---স্যার আপনি ছবি ম্যাডাম কে নেঁচে দেখাতে পারেন। আপনি তো নাঁচ জানেন তাইনা স্যার। সিনেমার গানে কি সুন্দর নাঁচেন আপনি । কি স্যার এই আইডিয়াটা কেমন দিলাম....
--- তুমিও যেমন তোমার আইডিয়াও তেমন। কিচ্ছু হবেনা তোমাকে দিয়ে। ইউজলেস একটা।
--- রাগ করবেন না স্যার। আর একটু সময় দিন,,,আমি ভাবছিতো...( কাচুমাচু মুখ নিয়ে)
--- আর ভেবে কি করবে?? তোমার মাথায় তো সারাক্ষন অকাজের ব্যাপার গুলোই ঘুরে বেড়ায়...
--- ঘুরে বেড়ায়?? হ্যা?? ঘুরে বেড়ায়...ইয়েস ইয়েস পেয়েছি স্যার। পেয়েছি...
--- তাই? তা কি পেয়েছেন। ..শেষ বারের মতো আপনার ব্যাবহার এর অযোগ্য বুদ্ধি টা শুনি একটু।
--- স্যার। আপনি ছবি ম্যাডাম কে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে পারেন। বলা হয়না? নির্জীব মানুষ কে পুনরায় সতেজ করে তুলতে ভ্রমনের জুড়ি নেই?? দেখবেন কোথাও গেলে ছবি ম্যাডাম একেবারে চাঙ্গা হয়ে ফেরত আসবে।
---- ঘুরতে যাবো?? এই কথাটা খুব একটা খারাপ বলোনি। কিন্তু কোথায় যাবো?? ধারে কাছে কোথাও গেলে ইচ্ছেমতো সময় কাটাতে পারবোনা। একবার লোকজন দেখে ফেললে ঘিরে ফেলবে আমাকে। আর দূরে কোথাও যাওয়া মানে কমসে কম দু তিনদিনের ব্যাপার তো হবেই।
--- তাতে কি হয়েছে স্যার??
--- ছবি কি আমার সাথে বাইরে কোথাও যেতে রাজী হবেন??
🍁
🍁
🍁
🍁
সাজেক ভ্যালী??
ওখানে গিয়ে কি হবে?
--- আমার কিছু জরুরী কাজ আছে। আমি চাই আপনিও আমার সাথে চলুন।
--- আমি গিয়ে কি করবো মিস্টার রেয়ান। আপনার কাজ আছে আপনিই যান না হয়।
--- আমি আপনাকে আমার সাথে নিয়ে যেতে চাইছি ছবি।
--- কিন্তু আমি যেতে চাইছিনা। এই মুহুর্তে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার মত মানসিকতা আমার মধ্যে নেই।
--- ঘুরতে যাচ্ছি কে বললো। যেহেতু আমার কাজ আমি যাচ্ছি,,,সাথে রাজিব যাচ্ছে,,,, আপনি শুধুমাত্র একা এখানে থেকে কি করবেন?
--- আমার অসুবিধে হবেনা। আমি পারবো।
--- আপনি পারলেই তো হতে দিচ্ছিনা আমি। ইরফানের জেলে যাওয়ার পেছনে আমি জড়িত এটা সবাই জানে। এই মুহুর্তে যে কোনও সময় আমার বাড়িতে ওর লোক দ্বারা এট্যাক হতে পারে। এই অবস্থায় আপনাকে কোনও ভাবেই একা রেখে যাবোনা আমি।
--- কিন্তু মিস্টার রেয়ান,,একবার বোঝার চেষ্টা করুন,,
--- আমাকে কিছু বুঝিয়ে লাভ নেই। আমি জানি আপনার মনের অবস্থা ঠিক কি? তবুও অতীতের শোকের জন্য বর্তমান কে নষ্ট করার কোনও মানেই হয়না ছবি। আমার শেষ কথা আপনি আমার সাথে যাচ্ছেন।
---- কিন্তু.....
--- কোনও কিন্তু নয়,,,সন্ধ্যায় ফ্লাইট,,সব গোছগাছ করে রাখবেন।
🍂
🍂
🍂
🍂
🍂
রাঙামাটির আকাবাকা পথ দিয়ে ধেয়ে চলছে কাব্যের গাড়ি। গাড়ির সামনের সিটে বরাবরের মতো রাজীব,আর পেছনের দু -সিট দখল করে আছে ছবি ও কাব্য। ছবি আগের মতোই উদাসীন।
আর তাই এই প্রথম বার ছবির মন মেজাজ ঠিকঠাক করতে বকবক করছে কাব্য। ব্যাপারটা রাজীবের কাছে অতিকায় অস্বাভাবিক।
আজ অব্দি কাব্যের মুখ থেকে এতো কথা শুধু সিনেমার পর্দাতেই শুনেছে সে। অবশ্য তার স্যার এর থেকেও অনেক চঞ্চল ছিলো,,,, যদিও সেসব এখন অতীত। কিন্তু কালক্রমে কাব্যের চঞ্চলতা ছাই চাপা আগুনের মতো বেরিয়ে আসছে । অন্তত এটা ভাবতেও আনন্দ হয়।
--- জানেন ছবি? আমি যখন এখানে প্রথম বার এসেছিলাম,,,তখন পাহাড়ে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পরে গিয়েছিলাম।
কাব্যের কথায় জানলা থেকে মুখ ঘুরিয়ে ওর দিকে ফিরলো ছবি।
--- তারপর??
ছবির চোখে মুখে তীব্র আগ্রহের আভা দেখতে পেয়ে একটু নড়ে বসলো কাব্য। মুখমন্ডলে বেশ উৎসাহ নিয়ে বলতে শুরু করলো...
--- তার পর সেটের লোকজনের সে কি হৈচৈ। কোনও ভাবে সেদিন আমাকে বাচিয়ে নিয়েছিলো সবাই। আমিতো ভেবেছিলাম আমি বোধ হয় গেলাম।
---- শ্যুটিং করতে গেলে প্রায়শই অনেক বিপদ এ পরতে হয় তাইনা??
--- সে বলা যায়।
দুজনের কথার মাঝে সামনের সিট থেকে ঘাড় ঘোরালো রাজীব।
--- কিন্তু...স্যার,,কবে পরে গিয়েছিলেন? আমি তখন কোথায় ছিলাম??
--- তুমি তখন আকাশে ছিলে,,,
চুপচাপ বসে থাকো ইডিয়ট ( দাঁত খিচে)
--- ও...ওকে..স.. স্যার।
স্যার নিশ্চয়ই ছবি ম্যাডামের মুড ঠিক করতে বানিয়ে বলেছেন। নাহলে আমি গত সাত বছর ধরে কাজ করছি,,,এরকম কিছু তো শুনিনি কখনও।
( মনে মনে)
----------------
--------------------------------------------
-------------------------------------
সময় পেরোতে পেরোতে গাড়ি এসে তার গন্তব্যে ভিড়লো। যথারীতি গাড়ি থেকে নেমে এসে রাজীব আর ছবিসহ হোটেলের ভেতরের দিকে পা বাড়ালো কাব্য।
রিসেপশন থেকে চাবি নিয়ে তন্মধ্যে একটি রাজিব কে বুঝিয়ে দিয়ে নিজেই ছবিকে সাথে নিয়ে হাটা ধরলো নির্ধারিত রুমের দিকে।
নিজের আর ছবির রুম মুখোমুখি নিয়েছে কাব্য। ছবিকে রুম বুঝিয়ে দিয়ে নিজেও ঢুকে পরলো তার কামরাতে।
_____________
🍁
🍁
🍁
🍁
🍁
🍁
লাগেজ থেকে কাপড় বের করে করে পাশের আলমিরাতে তুলে রাখছে কাব্য। আপাতত এখানে দিন পাঁচেকের মতো থাকার চিন্তা ভাবনা রয়েছে তার।
কিছুক্ষন বাদে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে ঝুকে থাকা অবস্থাতেই ফিরে তাকালো কাব্য।
--- আরে ছবি। ভেতরে আসুন।
কাব্যের অনুমতি পেয়ে ভেতরে এসে দাড়ালো ছবি।
--- কি ব্যাপার আজ আপনি আমার রুমে??
--- কেনো আসতে নিষেধ বুঝি??
--- না,, তা হবে কেনো?? আপনি তো কোনও কাজ ব্যাতিরেকে আসেন না,তাই বললাম।
---- কিন্তু এখন আমি এমনিই এসেছি।
--- তাই?
--- হ্যা,, দরজাতো আপনি খুলেই রেখেছিলেন। আর খোলা দরজা থেকে দেখতে পেলাম আপনি ঠিক ভাবে গোছাতে পারছেন না। উল্টে ভাজ করে রাখা জামা কাপড় গুলোকেও অগোছালো করে দিচ্ছেন।
---- হ্যা। ওই আর কি। আসলে এসব আমি কখনও করিনি কিনা। সার্ভেন্ট করে দেয়। দূরে এলে রাজীব করে দেয়,,,কিন্তু এত জার্নি করে এসে বেচারা হয়তো ক্লান্ত,,,তাই আর ডাকিনি। নিজেই শুরু করলাম। এইজন্যেই একটু আকটু এদিক ওদিক হয়ে যাচ্ছে।
--- বুঝতে পেরেছি। আপনি সরুন আমি করে দিচ্ছি...
--- আরে না না। আপনি কেনো করবেন। আমি পারবো।
--- কি পারবেন সেতো দেখতেই পাচ্ছি। সরুন আপনি।
অগত্যা লাগেজ থেকে একটু দূরে সরে দাড়ালো কাব্য।
ছবি এগিয়ে এসে এতক্ষনে কাব্যের অগোছালো কাপড় গুলো থেকে শুরু করে বেশ যত্ন নিয়ে গোছাতে শুরু করলো একে একে।
ব্যাপারটা কাব্যের কাছে খুব একটা মন্দ লাগছিলোনা। অন্তত কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত থাকুক।
হঠাৎ হাতে রাখা ফোন বেজে উঠতেই ভাবনায় ছেদ ঘটলো কাব্যের।
--- আব,,ছবি আপনি থাকুন,আমি কল টা এ্যাটেন্ড করে আসছি।
--- ঠিক আছে।
।
।
।
।
বেশ মনোযোগ দিয়ে কাপড় গুছিয়ে যাচ্ছে ছবি। তাকে দেখে মনে হচ্ছে এই মুহুর্তে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজের অন্যতম এটি।
--- মিস্টার রেয়ান তো বলেছিলেন দুদিন থাকবেন। দুদিনের জন্যে এতো কাপড় কেনো এনেছেন কে জানে? অবশ্য বড়লোক দের ব্যাপার স্যাপার,,,, এক কাপড়ে বেশিক্ষন কমফোর্ট ফিল করেনা হয়তো।
শেষ পর্যায়ে আচমকা ছবির হাত পৌছালো ব্যাগের অভ্যন্তরীণ কাচবিশিষ্ট কোনও বস্তুর ওপর। ওপর থেকে শক্ত জিনিসটা বুঝে উঠতে পারলোনা ছবি। কৌতূহল মেটাতে ব্যাগ থেকে বাইরে বের করতেই বুঝতে পারলো এটা ফটো ফ্রেম জাতীয় কোনও কিছু।
উল্টে ধরা ফ্রেম টা কে এবার নিজের দিকে ঘোরালো ছবি। ফ্রেমের ভেতরে আটকে থাকা ছবিটা দেখেই বাকরুদ্ধ হয়ে এলো মুহুর্তেই। হতভম্ব হয়ে কিচ্ছুক্ষন তাকিয়ে রইলো ছবিটির দিকে।
বিয়ের সাজে কাব্য। তার হাতের মুঠোয় হাত রেখে এক গাল হেসে কাব্যের দিকে তাকিয়ে আছে বধুবেশি একটি সুন্দরী মেয়ে।
এক বার দেখলেই যে কারো পক্ষে বুঝতে পারা সম্ভব যে এরা দুজনেই কপোত-কপোতী।
--- মিস্টার রেয়ান কি তাহলে বিবাহিত??
চলবে....