ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম তুমি

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: ইনায়া জারিশ

#প্রেম_তুমি #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ

#পর্ব___________৬

মিথিলা সারারাত ঘুমাতে পারল না। ভোরের দিকে সিদ্ধান্ত নিল—এখানে আর এক মুহূর্ত নয়। দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে নিল। ড্রেস বদলে তৈরি হয়ে নিচে নামল,

চেক-আউট করে হোটেল থেকে বের হলো।

​হাইডেলবার্গ স্টেশনে পৌঁছে মিথিলা টিকিট কেটে দ্রুত ট্রেনের কামরায় গিয়ে বসে । জানালার কাঁচের ওপর কপাল ঠেকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ট্রেনটা স্টেশন ছাড়তে শুরু করেছে,, মিথিলার বুকটা ধক করে উঠল। জানালার ওপাশে একটি অবয়ব স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

—আরিয়ান।

আরিয়ান প্ল্যাটফর্মের ঠিক মাঝখানটায় দাঁড়িয়ে আছে। পরনে কালো ওভার কোট, দুই হাত পকেটে গোঁজা। স্থির ধূসর চোখ জোড়া ট্রেনের জানালার দিকেই নিবদ্ধ—ঠিক যেখানে মিথিলা কপাল ঠেকিয়ে বসে আছে।

ট্রেনটি গতি বাড়াতে শুরু করল, আরিয়ান এক কদমও নড়ল না।

মিথিলা জানালার ওপাশ থেকে দেখছে আরিয়ানের অবয়বটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। এই মানুষটা এক অদ্ভুত অস্থিরতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

ট্রেন যখন পুরোপুরি স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে এল, মিথিলা সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজল। কাল রাতের স্পর্শ অনুভব করলো আরিয়ান চায়ছে টা কি। বিড়বিড় করে বলল, "আরিয়ান, আপনি এখন হাঁটতে পারেন, —সেটা আপনার জীবনের উন্নতি। কিন্তু আমার জীবনে আপনার আর কোনো জায়গা নেই।"

বাসায় ফিরে দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল মিথিলা।এরপর নিজেকে সামলে

মিথিলা দ্রুত ফ্রেশ হয়ে রান্না বসালো । রান্না করতে করতে মিথিলা ভাবছে।

​"আরিয়ান চাইছেটা কী?" — এই প্রশ্নটাই এখন মিথিলার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। যে মানুষটা এক বছর ওকে স্রেফ একটা আসবাবপত্রের মতো ব্যবহার করেছে, সে আজ হুট করে সম্পূর্ণ আলাদা আচরণ করছে।

এরপর মিথিলা খাবার খেয়ে ফোন করলো জারাকে কালকে দেখা করবে জানাল। কতক্ষন কথা বলে এরপর ফোন রেখে শুয়ে পড়ে

_______________

পরদিন মিথিলা অফিসে ঢুকল। নিজের ডেস্কে বসে ফাইলগুলো গোছাচ্ছে, এমন সময় বসের এসিস্ট্যান্ট এসে জানাল—", কনফারেন্স রুমে জলদি এসো। আমাদের নতুন বিজনেস পার্টনার আর ইনভেস্টর এসেছেন, ওনার সাথে তোমাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।"

মিথিলা হালকা একটা হাসি দিয়ে ল্যাপটপ আর ফাইল নিয়ে কনফারেন্স রুমের দিকে এগোল।

রুমের দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই ওর পায়ের তলার মাটি সরে গেল।

বিশাল কাঁচের টেবিলের ওপাশে বসে আছে এক দীর্ঘদেহী পুরুষ। পরনে নেভি ব্লু রঙের একটা দামী স্যুট, সাদা শার্ট ভিতরে।

আরিয়ান "!

আরিয়ান মিথিলার বসের সাথে কথা বলছে , মিথিলা ঢুকতেই তার তীক্ষ্ণ ধূসর চোখ জোড়া স্থির হলো মিথিলার ওপর। ঠোঁটের কোণে খুব সূক্ষ্ম একটা বিজয়ী হাসি, যা কেবল মিথিলাই বুঝতে পারল।

মিথিলার বস হাসিমুখে বলল, "মিথিলা, মিট মিস্টার আরিয়ান। তিনি আমাদের কোম্পানির নতুন মেজর স্টেকহোল্ডার। এখন থেকে আমাদের এই প্রজেক্টের সব বড় সিদ্ধান্ত ওনার হাত দিয়েই আসবে।"

মিথিলা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। ওর হাত কাঁপছে, কিন্তু ও সেটা বুঝতে দিল না। মিথিলা এটা বুঝতে পারছে আরিয়ান তার পিছু নিচ্ছে। কিন্তূ কেন কিছুই বুঝতে পারছে না।

​মিটিং শেষ হওয়ার পর সবাই বেরিয়ে যাচ্ছে।। মিথিলাও সুযোগ বুঝে দ্রুত ফাইল গুছিয়ে বের হয়ে আসে!

মিথিলা নিজের ডেস্কে ফিরে এসে ধপ করে চেয়ারে বসল। ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে ঠিকই, কিন্তু চোখের সামনে ভাসছে আরিয়ানের এই নতুন রূপ।

মনে মনে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল, "শান্ত হ মিথিলা! প্রফেশনালি কাজ করবি, কাজ শেষ হলে বাড়ি চলে যাবি। ওনার সাথে কথা বলার কোনো দরকার নেই।"

_________________

অফিস ছুটির পর মিথিলা জারার সাথে দেখা করতে গেলো। জারাকে ও সবটা খুলে বলল ।

জারার সাথে কথা বলে মনটা কিছুটা হালকা হলো।

এরপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই জারার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মিথিলা নিজের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে ও দ্রুত পায়ে নিজের গলিতে ঢুকল।ক্লান্ত লাগছে , বাসায় গিয়ে একটা লম্বা শাওয়ার নিয়ে সব ক্লান্তি ধুয়ে ফেলবে হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে থাকে ।

চাবি বের করে নিজের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টের দরজাটা খুলল । সারা ঘর অন্ধকার। হাত বাড়িয়ে দেয়ালের সুইচটা টিপল।

লাইটটা জ্বলে উঠতেই মিথিলার হাত থেকে ব্যাগটা নিচে পড়ে গেল। হৃৎপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেছে

বিছানায় বসে আছে আরিয়ান । পরনে নেভি ব্লু স্যুটের প্যান্ট, সুট খুলে পাশে রাখা,, পরনের শার্টের হাতাগুলো কনুই পর্যন্ত গোটানো। ওপরের দুটো বোতাম খোলা থাকায় বলিষ্ঠ বুকের অংশ বিশেষ দেখা যাচ্ছে। আরিয়ানের এক হাতে একটা জ্বলন্ত সিগারেট।, লাইট জ্বলতেই তার স্থির ধূসর চোখ জোড়া মিথিলার ওপর এসে পড়েছে । সিগারেটে একটা গভীর টান দিয়ে ধোঁয়াটা খুব ধীরে ছাড়ল।

আরিয়ানের এই শান্ত ভঙ্গি যেন এক ভয়ংকর ঝড়ের পূর্বাভাস।

মিথিলা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মনে শুধু একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—আরিয়ান এখানে কীভাবে?

~চলবে ~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন