ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম তুমি

৯ম পর্ব

লেখক: ইনায়া জারিশ

#প্রেম_তুমি #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ

#পর্ব____________৯

কয়েকটা দিন যেন ঝড়ের গতিতে কেটে গেল। আরিয়ানের ‘পারফেকশন’ এর চাপে পুরো টিমের অক্লান্ত পরিশ্রমে কোম্পানি আজ এক বিশাল সাফল্যের মুখ দেখল। নতুন ইনভেস্টমেন্ট আর প্রজেক্টের সাকসেস নিয়ে বড় বড় নিউজ পোর্টালে এখন কেবল এই কোম্পানিরই নাম।

বিকেলের দিকে অফিসের মেইন হলে সব এমপ্লয়িদের ডাকা হলো। সবার মুখে জয়ের হাসি। কোম্পানির এমডি হাসিমুখে সামনে এগিয়ে এলেন। তিনি ঘোষণা করলেন, "সবাইকে অনেক অভিনন্দন! মিস্টার আরিয়ানের সঠিক দিকনির্দেশনা আর আপনাদের পরিশ্রমের ফলে আমাদের এই প্রজেক্টটি ইন্ডাস্ট্রির সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। আর এই সাফল্যের আনন্দ উদযাপন করতে আজ রাতে এক গ্র্যান্ড সাকসেস পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।"

পুরো হলে হাততালির রোল পড়ে গেল।

"সাফল্য উদযাপন করাটা পরিশ্রমেরই একটা অংশ। আজ রাত ৮টায় আপনাদের সবার আমন্ত্রণ। আমি আশা করব, প্রফেশনালিজম যেমন অফিসে বজায় রেখেছেন, পার্টিতেও তেমনই শালীনতা বজায় থাকবে। এনজয় ইউর ইভনিং।"

মিথিলা নিজের ডেস্কে ফিরে এসে গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলল। গত কয়েকদিন আরিয়ান ওর সাথে কাজের বাইরে একটাও কথা বলেনি। এই দূরত্ব মিথিলাকে একদিকে যেমন শান্তি দিচ্ছিল, অন্যদিকে এক অজানা অস্বস্তিও কাজ করছিল।

অফিস শেষে মিথিলা বাসায় ফিরে । পার্টির জন্য কী পরবে! ভাবতে থাকে।

একটা গাউন বের করলো। গাউনটা সিল্ক আর নেটের সংমিশ্রণে তৈরি। গলার কাছ থেকে শুরু করে কোমর পর্যন্ত সূক্ষ্ম রূপালী সুতোর কাজ, নীল রঙটা মিথিলার ফর্সা ত্বকে মানিয়েছে ।

নিজের চুলগুলো আলতো করে খোঁপা করে বাঁধল, কয়েকটা চুল সামনে দিকে এসে আছে । কানে ছোট দুল,,ঠোঁটে ন্যুড শেডের লিপস্টিক। মিথিলা তৈরী।

জার্মানির মিউনিখ শহরের অন্যতম বিলাসবহুল একটি হোটেলের বিশাল হলরুমে আজ সাকসেস পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। মিথিলা ট্যাক্সি থেকে নামল, হোটেলের প্রবেশদ্বার দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই ওর চোখ ধাঁধিয়ে গেল।

ঝুলে থাকা বিশাল আকৃতির ক্রিস্টাল ঝাড়বাতিগুলো থেকে হিরের মতো আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। মেঝের ওপর বিছানো গাঢ় ধূসর রঙের মখমলের কার্পেট,

হলের একপাশে বিশাল কাঁচের দেয়াল, যেখান দিয়ে বাইরের আলোকোজ্জ্বল শহর দেখা যাচ্ছে। হলের মাঝখানে রাখা হয়েছে শ্যাম্পেন টাওয়ার, যেখানে কাঁচের গ্লাসগুলো পিরামিডের মতো সাজানো। ওয়েটাররা ট্রে হাতে সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব ধীর লয়ে বাজছে জার্মান ক্লাসিক্যাল সিম্ফনি,!

এক কোণে বিশাল বুফে টেবিল, যেখানে খাবারের রাজকীয় সমারোহ। কিন্তু সবার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রুমের একদম মাথায় তৈরি করা ছোট একটি স্টেজ, যেখানে বড় করে লেখা—

"Success Celebration of The Decade"।

এবার মিথিলার নজরে এল হলের একদম মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দীর্ঘদেহী পুরুষকে। আরিয়ান।

পরনে ব্ল্যাক ভেলভেট টাক্সিডো, সাদা শার্ট আর একটা নিখুঁত বো-টাই। এক হাতে শ্যাম্পেনের গ্লাস, অন্য হাত পকেটে গোঁজা।

মিথিলাকে দেখা মাত্রই আরিয়ানের চোখের মণি দুটো যেন এক মুহূর্তের জন্য প্রসারিত হলো। আরিয়ানের ওই স্থির চাউনি মিথিলার অস্তিত্বকে যেন পুড়িয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু আরিয়ান নিজেকে সামলে নেয় খুব দ্রুত। ঠোঁটের কোণে পরিচিত রহস্যময় হাসিটা ঝুলিয়ে রেখে সঙ্গীদের সাথে আবার আলোচনায় মগ্ন হলেন।

মিথিলা একটা পানীয়র গ্লাস হাতে নিয়ে এক কোণে দাঁড়াতেই জার্মান কলিগ হ্যান্স আর ক্লারা এগিয়ে এল। হ্যান্সের হাতে রেড ওয়াইনের গ্লাস, মিথিলার দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে বলল—

"মায়িন গট (Mein Gott)! মিথিলা, তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে , মনে হচ্ছে মিউনিখের এই তুষারশুভ্র রাতে তুমিই সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র।

ক্লারা পাশ থেকে সায় দিয়ে বলল, "একদম ঠিক বলেছ হ্যান্স। মিথিলা, তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে!!

মিথিলা মৃদু হাসল। "ধন্যবাদ হ্যান্স, ধন্যবাদ ক্লারা।

আরিয়ানের ধূসর চোখ জোড়া মিথিলার ওপর বিদ্ধ হয়ে আছে। আরিয়ান যেন কেবল মিথিলাকেই দেখছে।

মিথিলা যখন হাসছে কলিগদের কথার উত্তর দিচ্ছে, আরিয়ানের চোখের মণি দুটো তখন আরও গাঢ় হয়ে আসছে।

হ্যান্স কী একটা জোক বলতেই মিথিলা খিলখিল করে হেসে উঠল। ঠিক সেই মুহূর্তে আরিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে, ঘাড়ের রগগুলো ফুলে উঠেছে রাগে আর ঈর্ষায়।

_____________

"আরে! মিস বেপরোয়া? আপনি এখানেও!

মিথিলা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। মিথিলা দেখল, সামনে সেই উদ্ধত যুবকটি দাঁড়িয়ে।

মিথিলার মনে পড়ে গেল রাস্তার কথা । অবাক হয়ে বলল,

"আপনি! আপনি এখানে কীভাবে? আপনি তো সেই অসভ্য লোকটা যে আমাকে মাঝরাস্তায় ধমক দিয়েছিলেন!"

যুবকটি এক পা এগিয়ে এসে হাসল। "ধমকটা তো আপনার উপকারের জন্যই ছিল।

আর এখানে কীভাবে? ওয়েল, আমি আহির। এই যে এত বড় সাকসেস পার্টি হচ্ছে, এটা আসলে আমার বাবার কোম্পানি! "কিহ! আপনি... আপনি এই কোম্পানির মালিকের ছেলে?"

"কেন? দেখে কি মনে হচ্ছে না?

মিথিলা কিছু বলে না!

এরপর আহির জিজ্ঞেস করে মিথিলাকে!

মিথিলা জানায় সে এই কোম্পানির employee!

" আপনাকে এই নীল গাউনটায় অনেক বেশি ভালো লাগছে। যদিও আপনার কথা বলার স্টাইলটা এখনো সেই ঝগড়াটে রয়ে গেছে।"

মিথিলা রাগে ফুঁসে উঠল। "আমি ঝগড়াটে নই! আপনিই তখন বিনা কারণে চিল্লাচিল্লি করছিলেন।"

"বিনা কারণে?

আপনি তো গাড়ির সামনে আত্মাহুতি দিতে যাচ্ছিলেন!

" চলতে থাকে মিষ্টি ঝগড়া!

এই দৃশ্যটা খুব দূর থেকে দেখছে আরিয়ান

মিথিলা আর আহিরকে দেখে আরিয়ানের মস্তিষ্কের প্রতিটি স্নায়ুতে যেন অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে দিচ্ছে ।

আরিয়ানের চোখের মণি দুটো রাগে যন্ত্রণায় কুঁচকে এল। ভেতরে একটা দানব যেন ডুকরে মরছে। যে আরিয়ানের সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে।

হাতের মুঠোয় থাকা দামী ক্রিস্টাল গ্লাসটা আরিয়ানের হাতের চাপে গ্লাসটা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ভেঙে গেলো । কাঁচের ধারালো টুকরোগুলো চামড়া চিরে ভেতরে ঢুকে গেল, কিন্তু আরিয়ানের মুখে কোনো যন্ত্রণার রেখা ফুটল না। হাতের তালু বেয়ে গাঢ় লাল রক্ত চুইয়ে ধবধবে সাদা মেঝেতে টপটপ করে পড়ছে।

আরিয়ানের শীতল ধূসর চোখ আজ আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলছে। গত এক বছরের কথা— ভাবছে মিথিলাকে দূরে রেখে সুরক্ষা দিতে চেয়েছে , কিন্তু আজ অন্য কেউ সেই শূন্যস্থান দখল করতে চাইছে,

আরিয়ানের রক্তমাখা হাত দেখে একজন এলেন,

"মিস্টার আরিয়ান! আপনার হাত! এ কী করে হলো?"

আরিয়ান কারো দিকে তাকালো না। স্থির দৃষ্টি কেবল মিথিলার ওপর। এরপর আরিয়ান চলে আসে ওখান থেকে

______________________

মিথিলা বাসায় ফিরবে,, তাই ক্লারা আর হ্যান্সের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মিথিলা ধীরপায়ে করিডোর ধরে এগিয়ে গেল। লিফটের সামনে এসে বোতাম টিপল। লিফটটা খুলে যেতেই ভেতরে ঢুকল।

লিফটের দরজাটা যখন প্রায় বন্ধ হতে যাচ্ছে , ঠিক তখনই একটা বলিষ্ঠ হাত মাঝখানে এসে বাধা দিল। সেন্সর কাজ করতেই দরজাটা আবার খুলে গেল। ভেতরে প্রবেশ করল এক দীর্ঘদেহী ছায়া। আরিয়ান।

আরিয়ানের শার্টের হাতা গুটানো, আর যে হাত দিয়ে সে দরজা আটকেছে, সেই হাতের তালুতে একটা সাদা রুমাল পেঁচানো—যা রক্তে লাল হয়ে ভিজে গেছে। । লিফটের দরজাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে মিথিলা এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় বন্দি হয়ে গেল।

মিথিলার চোখ গেলো আরিয়ানের হাতের দিকে!

"আরিয়ান... আপনার হাত! ওটা তো রক্তে—"

কথা শেষ হওয়ার আগেই আরিয়ান এক ঝটকায় মিথিলাকে লিফটের দেয়ালে চেপে ধরে । মিথিলার ঠোঁট চেপে ধরে ।

আরিয়ান যেন মিথিলার ঠোঁট দুটোকে নিজের দখলে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে । মিথিলাকে এক মুহূর্তের জন্য পাথরের মতো নিশ্চল করে দিল।

মিথিলা নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে ,!

আরিয়ান যেন আজ মরিয়া। মিথিলার ঠোঁট আঁকড়ে ধরার ধরনটা ছিল তীব্র, অবাধ্য। মিথিলা আরিয়ানের শক্ত বুকের ওপর দুহাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে । কিন্তু আরিয়ান যেন আজ এক দুর্ভেদ্য পাহাড়। তার রক্তাক্ত রুমাল জড়ানো হাতটা মিথিলার কাঁধের ওপর চেপে বসল, যার উষ্ণ রক্ত মিথিলার নীল গাউনের কাঁধের ওপর দাগ ফেলে দিচ্ছে।

মিথিলার গোঙানি আরিয়ানের ঠোঁটের আড়ালে হারিয়ে গেল। আরিয়ান যেন মিথিলার নিঃশ্বাস শুষে নিতে চাইছে। সে বুঝিয়ে দিচ্ছে, "তুমি কেবল আমার।"

~~চলবে ~~

#everyonefollowers #উপন্যাসপ্রেমী #উপন্যাস #গল্পফ্যাক্ট

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন