ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম তুমি

৮ম পর্ব

লেখক: ইনায়া জারিশ

#প্রেম_তুমি #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ

#পর্ব___________৮

আরিয়ানের কথাগুলো মিথিলার কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। পরিস্থিতির শিকার? হ্যাঁ, হয়তো আরিয়ান পরিস্থিতির শিকার ছিল।

কিন্তু মিথিলার কী অপরাধ ছিল? এক বছর ধরে একটা জড়বস্তুর মতো অবহেলা সহ্য করা, নাতাশার সামনে অপমানিত হওয়া—এই যন্ত্রণার ক্ষতগুলো তো আরিয়ানের এক মুহূর্তের স্বীকারোক্তিতে মুছে যেতে পারে না।

মিথিলা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ঠিক করলো যা হয়েছে হয়েছেই এখন নিজের মতো করে আছে এভাবেই থাকবে। কারো অধীনে নয়।।

সারাটা রাত মিথিলা চোখের পাতা এক করতে পারল না।

_______________

সকালে অফিসের জন্য বের হলো।

রাস্তাটা আজ অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশিই ব্যস্ত। দ্রুত বেগে গাড়িগুলো ছুটে চলছে। মিথিলা ফুটপাত থেকে নেমে রাস্তা পার হতে লাগে , এমন সময় কানে এল টায়ারের তীব্র ঘর্ষণের বিকট শব্দ।

একটি দামী কার মিথিলার কাছে এসে থেমেছে । এক ইঞ্চির এদিক-সেদিক হলে আজ বড় কোনো অঘটন ঘটে যেত। মিথিলা ভয়ে চোখ বুজে ফেলেছিল, ওর হাতে থাকা ছোট হ্যান্ডব্যাগটা ছিটকে রাস্তার একপাশে গিয়ে পড়েছে ।

গাড়ির দরজাটা সশব্দে খুলে গেল। বেরিয়ে এল এক দীর্ঘদেহী যুবক। পরনে দামী সাদা শার্ট আর ডার্ক গ্রে ফরমাল প্যান্ট। চোখে দামী সানগ্লাস, লোকটার চেহারায় এক ধরণের ধারালো আভিজাত্য আছে, তবে হাবভাব বেশ রুক্ষ।

মিথিলা ভেবেছিল লোকটা ক্ষমা চাইবে, কিন্তু লোকটা ওর সামনে এসেই তীব্র স্বরে ধমকে উঠল।

" মরার শখ থাকলে অন্য কোথাও গিয়ে মরুন, আমার গাড়ির নিচে কেন?"

মিথিলা বিস্ময়ে আর অপমানে থমকে গেল। লোকটার কণ্ঠস্বর যেমন গম্ভীর, তেমনই কর্কশ। মিথিলা বলল, "আমি... আমি তো ঠিকভাবেই পার হচ্ছিলাম। আপনিই তো স্পিড লিমিট ক্রস করেছেন।"

যুবকটি সানগ্লাসটা নামাল। চোখের মণি দুটো কুচকুচে কালো, আর সেই চোখে এক ধরণের অবজ্ঞা। এক পা এগিয়ে এসে মিথিলার ওপর ঝুকে এল। এক তীব্র দামী পারফিউমের ঘ্রাণ মিথিলার নাকে এল, " কমন সেন্স কি একদমই নেই?"

মিথিলার রাগ হলো প্রচুর! "আপনি আমাকে ধমকাচ্ছেন কেন? আপনি প্রায় আমাকে মেরেই ফেলেছিলেন!"

লোকটা এক মুহূর্তের জন্য মিথিলার রাগী মুখের দিকে তাকায় । ঠোঁটের কোণে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। নিচু হয়ে মিথিলার ব্যাগটা রাস্তা থেকে তুলে নিল, কিন্তু সেটা মিথিলার হাতে না দিয়ে ওর দিকে ছুঁড়ে মারার ভঙ্গিতে বাড়িয়ে ধরল।

"ব্যাগটা নিন আর নিজের চরকায় তেল দিন। "

পরের বার রাস্তার মাঝে ডেরেক্টলি দাঁড়িয়ে থাকলে ব্রেক কষার বদলে আমি এক্সিলারেটর চেপে দেব। গট ইট?"

মিথিলা ব্যাগটা ছিনিয়ে নিল। লোকটা আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে গাড়িতে গিয়ে বসল যাওয়ার সময় মিথিলার দিকে এক পলক তাকিয়ে ও বিড়বিড় করে কী যেন বলল, যা মিথিলা শুনতে পেল না।

মিথিলা স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এই লোকটা কে? এত ঔদ্ধত্য আর এত রুক্ষ ব্যবহার! লোকটার ভেতর যেন কেবল আগ্নেয়গিরি।

____________

​অফিসে গিয়ে মিথিলা এক মুহূর্তের জন্যও নিজেকে অবসর দিল না। নিজেকে পুরোপুরি কাজে ডুবিয়ে রাখল।

​অফিস শেষে ফেরার পথে মিথিলা একটা নার্সারিতে ঢুকল। ওর ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দাটা বড্ড খালি খালি লাগে। বেছে বেছে কয়েকটা সতেজ ইনডোর প্ল্যান্ট আর কিছু সুগন্ধি ফুলের গাছ নিল—

​বাসায় ফিরে মিথিলা ব্যাগটা একপাশে রেখে বারান্দায় গাছগুলো সাজাতে শুরু করল।

​রাত নেমে এসেছে। মিথিলা এক কাপ চা হাতে নিয়ে নিজের বারান্দার ছোট্ট বাগানের মাঝে বসল। মিথিলা সময়টা এখন নিজেকে দিচ্ছে—সম্পূর্ণ নিজের মতো করে বাঁচার জন্য।

______________

ঠিক সকাল ১০টা। অফিসের কাঁচের মেইন গেটটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গেল। সবার নজর সেদিকে। মিথিলা নিজের ডেস্ক থেকে আড়চোখে তাকাল।

ভেতরে প্রবেশ করে আরিয়ান। পরনে ছাই রঙের কাস্টমাইজড স্যুট,! প্রতিটা পদক্ষেপ যেমন মাপা, তেমনই আত্মবিশ্বাসী। পেছনে ব্যক্তিগত সেক্রেটারি আর বডিগার্ডদের বিশাল বহর।

আরিয়ান ফ্লোরের মাঝখান দিয়ে হেঁটে আসছে , গম্ভীর ব্যক্তিত্ব আজ যেন কয়েক গুণ বেশি ধারালো।

মিনিট দশেকের মধ্যে সব টিমের কাছে নোটিশ এল—"মিস্টার আরিয়ান কনফারেন্স রুমে মিটিং কল করেছেন। সবাইকে ৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছাতে হবে।"

কনফারেন্স রুমে মিথিলা ঢুকল সবার শেষে। আরিয়ান বড় চেয়ারটায় বসে ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ বুলোচ্ছে । মিথিলা বসার পর আরিয়ান মাথা তুলল। নজর সবার ওপর একবার বুলিয়ে নিয়ে স্থির হলো প্রজেক্ট ফাইলের ওপর।

"গুড মর্নিং এভরিওয়ান। আমি এখানে এসেছি আমার ইনভেস্টমেন্টের রেজাল্ট দেখতে । আমি চাই এই প্রজেক্ট যেন নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়। আর মিথিলা—"

হুট করে নামটা শুনে মিথিলার বুক ধক করে উঠে । আরিয়ান ওর দিকে সরাসরি তাকায় ।

"আপনার প্রজেক্ট রিপোর্টের তিন নম্বর স্লাইডে কিছু সমস্যা আছে একটু আগেই চেক করেছি । ওটা আজ লাঞ্চের আগে কারেকশন করে আমার পিএ-র কাছে সাবমিট করবেন। নেক্সট টাইম যেন আমি কোনো অপেশাদার ভুল না দেখি।"

পুরো মিটিং রুমে একটা হিমশীতল নীরবতা নেমে এল। মিথিলা পাথরের মতো বসে রইল। আরিয়ানের এই পরিবর্তন বিস্ময়কর, ।

আরিয়ান মিটিং শেষ করে দ্রুত বেরিয়ে গেলো। পেছনে ফেলে গেল মিথিলার মনে এক নতুন অস্থিরতা। মিথিলার জীবনটা যেন এক জটিল ধাঁধায় পরিণত হয়েছে।

চলবে...

#গল্পফ্যাক্ট #উপন্যাসপ্রেমী #উপন্যাস #everyonefollowers

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন