#প্রেম_তুমি #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব___________১৪
( 🚫কেউ গল্প কপি করে কারো পেজে দিবেন না! আর কোনো youtube চ্যানেল ও না,, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাহলে,, already নেওয়া হয়েছে! ❌)
গোসল শেষে আরিয়ান মিথিলাকে একটা বড় তোয়ালেতে জড়িয়ে আবার কোলে করে ঘরে নিয়ে এল, মিথিলার মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে আছে। আরিয়ান ওকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে নিজেই আলমারি থেকে মিথিলার জন্য একটা হালকা বেগুনি রঙের শাড়ি বের করে আনল। আরিয়ান আজ মিথিকে শাড়িতে দেখতে চায়।
আরিয়ান নিজে মিথিলার ভেজা চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে মুছে দিতে লাগে । আরিয়ানের প্রতিটি স্পর্শে কোমলতা।
"আপনি আজ বড্ড বেশি পাগল হয়ে গেছেন আরিয়ান। এতো ভালোবাসা সামলাবো কী করে?"
আরিয়ান মুচকি হাসে ।
"সহ্য করতে তোমাকে হবেই মিথি।
আরিয়ানের সামনেই পড়তে হবে শাড়ি এটা আবদার!
মিথিলা শাড়িটা কোনোমতে গায়ে জড়াল, কিন্তু কুঁচি করতে গিয়ে ওর হাত কাঁপছিল। আরিয়ান আর দেরি করে না। মিথিলার সামনে হাঁটু গেড়ে মেঝেতে বসল।
আরিয়ানের বড় বড় বলিষ্ঠ হাতদুটো মিথিলার পেটের কাছে আলতো করে ছোঁয়া লাগছে । আরিয়ানের হাতের প্রতিটি স্পর্শ এ , মিথিলার সারা শরীর অপার্থিব এক শিহরণে অবশ হয়ে আসছে । আরিয়ানের আঙুলের অগ্রভাগ যেন মিথিলার ত্বকে আগুনের আলপনা আঁকছে।
মিথিলা ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় আরিয়ানের দিকে তাকায় । আরিয়ান অত্যন্ত মনযোগ দিয়ে কুঁচিগুলো করছে , যেন কোনো মূল্যবান শিল্পকর্ম তৈরি করছে।
কুঁচিগুলো ঠিক করে আরিয়ান সেগুলো মিথিলার নাভির নিচে গুঁজে দেয়। আয়নায় চোখাচুখি হতেই আরিয়ান মুচকি হাসে ।
"আমার এই চোখদুটো আজ সারাদিন শুধু তোমাকেই বন্দি করে রাখতে চায়।"
আরিয়ান মিথিলার ঘাড়ের অনাবৃত অংশে নিজের ওষ্ঠের ছোঁয়া দিলো। মিথিলা শিউরে উঠে আরিয়ানের শার্ট খামচে ধরে । আরিয়ান মিথিলাকে পেছন থেকে নিজের বুকের মাঝে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে । আয়নায় দেখা যাচ্ছিল—একজন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী পুরুষ আজ তার ভালোবাসার কাছে কতটা নতজানু, কতটা পাগল।
আরিয়ান মিথিলাকে ঘুরিয়ে নিজের মুখোমুখি করে! মিথিলার কাজল কালো চোখের পাতাগুলো থরথর করে কাঁপছে। আরিয়ান তার হাতটা মিথিলার কোমরে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে । শাড়ির পাতলা কাপড়ের ওপর দিয়ে আরিয়ানের হাতের উষ্ণতা মিথিলাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে কাল রাতের উন্মাদনার কথা।
"জানো মিথিলা, এক বছর আগে আমার মনে শুধু একটা জেদ ছিল—তোমাকে দূরে রাখার। কিন্তু আজ এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে, তোমাকে ছাড়া এই বিশাল সাম্রাজ্য, এই টাকা-পয়সা সবটাই মূল্যহীন। তুমি আমাকে শুধু ভালোবাসতে শেখাও নি মিথিলা, আমাকে মানুষ হতে শিখিয়েছো ।"
"আরিয়ান, ভালোবাসা মানে কাউকে বন্দি করা নয়, বরং কাউকে মুক্তি দিয়েও নিজের করে রাখা।
আরিয়ান মিথিলার চিবুকটা আলতো করে ধরে মিথিলার চোখের দিকে তাকায় ।
"আমি শিখছি মিথিলা। প্রতিটা দিন তোমার কাছে আমি নতুন করে ভালোবাসার পাঠ নিচ্ছি।"
আরিয়ান মিথিলার হাসিমাখা মুখটা দুই হাতে আগলে ধরে ওনার কপালে আবার নিজের ওষ্ঠের ছোঁয়া দিলো ।
_________________
শান্ত দুপুরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হুট করেই ভিলার সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকল নাতাশা। লিভিং রুমে মিথিলা বসে চা খাচ্ছে, আর পাশেই আরিয়ান ল্যাপটপে অফিসের কিছু জরুরি কাজ সারছে। নাতাশাকে দেখে মিথিলার হাতের চায়ের কাপটা স্থির হয়ে গেল।
নাতাশা বিধ্বস্ত চেহারায় আরিয়ানের সামনে এসে দাঁড়াল। ওর চোখে জল, কণ্ঠে অভিনয় মাখা করুণ সুর। আরিয়ানের হাত ধরার চেষ্টা করে বলল,
"আরিয়ান, প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি জানি আমি ভুল করেছি, কিন্তু বিশ্বাস করো আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।"
আরিয়ান ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে নাতাশার দিকে তাকাল। শান্ত চোখদুটো মুহূর্তেই আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলে উঠল। আরিয়ান এক ঝটকায় নাতাশার হাত সরিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল।
"ক্ষমা?
নাতাশা, তুমি একটা কালশাপ! আমার সাথে সম্পর্ক থাকাকালীন সময় তুমি আমার সৎ ভাই ভিকির সাথে ডেট করছিলে, সেটা কি আমি জানি না? তুমি শুধু আমার টাকাকে ভালোবেসেছিলে, আমাকে নয়।"
নাতাশা তোতলামি করে বলল, "না আরিয়ান, ওটা একটা ভুল ছিল..."
"চুপ করো!" আরিয়ান গর্জে উঠে । "আমার ক্ষতি করার জন্য তুমি ভিকির সাথে হাত মিলিয়েছিলে।
একবার শাস্তি দিয়ে বের করে দিয়েছিলাম, তাতেও শিক্ষা হয়নি? আবারও ফিরে এসেছ!
নাতাশা এবার মিথিলার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু আরিয়ান আর নিজেকে সামলাতে পারে না। ভেতরের ভয়ংকর রূপটা বেরিয়ে এল। আরিয়ান নাতাশার চুলে মুঠি ধরে টেনে আনে আর সপাটে একটা চড় বসিয়ে দেয়।
"এই চড়টা আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার জন্য!"—বলেই আরিয়ান আবারও মারতে শুরু করে । রাগে আরিয়ান অন্ধ হয়ে গেছে। নাতাশা আর্তনাদ করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল। আরিয়ান ওকে টেনেহিঁচড়ে মারতে মারতেমিথিলার পায়ের কাছে নিয়ে আসে ।
নাতাশা রক্তাক্ত অবস্থায় মিথিলার পায়ের কাছে পড়ে গোঙাতে লাগল।
নাতাশা যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে মিথিলার পা জড়িয়ে ধরল। মিথিলা স্তব্ধ হয়ে বসে আছে। আরিয়ানের এই রূদ্রমূর্তি ও আগে দেখেনি।
নাতাশা কান্নার স্বরে বলতে লাগল, "মিথিলা, প্লিজ আরিয়ানকে থামাও! ও আমাকে মেরে ফেলবে। তুমি তো খুব দয়ালু, তুমি কাউকে কষ্ট পেতে দেখতে পারো না। প্লিজ মিথিলা..."
মিথিলা ধীরলয়ে চায়ের কাপটা টেবিলে রাখল। চোখে আজ কোনো মায়া নেই, বরং এক ধরনের গভীর ঘৃণা ফুটে উঠেছে।
"সব অপরাধের শাস্তি ক্ষমা হয় না নাতাশা। তুমি আরিয়ানের বিশ্বাস নিয়ে খেলেছ, আমার সংসার ভাঙতে চেয়েছ, এমনকি আরিয়ানের এক্সিডেন্টের পেছনেও তোমার আর ভিকির হাত ছিল। তুমি প্রমাণ করেছ তুমি একটা কালশাপই। আজ যা হচ্ছে, তা তোমার প্রাপ্য। আজ আমি তোমাকে বাঁচাব না।"
মিথিলার কথাগুলো আরিয়ানের কানে আগুনের মতো কাজ করল। আরিয়ান আবারও নাতাশাকে চুলের মুঠি ধরে দাঁড় করায় ।
এই বাড়িতে পা রাখার সাহস তুমি কোথায় পেলে নাতাশা? ভিকির সাথে মিলে আমার বিজনেস ধ্বংস করতে চেয়েছিলে, আমাকে পঙ্গু করতে চেয়েছিলে! আজ আমি তোমাকে এমন শিক্ষা দেব যা তুমি জীবনেও ভুলবে না।"
আরিয়ান নাতাশাকে টেনে হিঁচড়ে সদর দরজার দিকে নিয়ে যেতে লাগল। নাতাশার চিৎকারে ভিলার প্রতিটি কোণ যেন কেঁপে উঠছে। বাড়ির বাকিরা দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে, কারও সাহস নেই আরিয়ানের সামনে দাঁড়ানোর। আরিয়ান নাতাশাকে গেটের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেয় ।
"আজ থেকে যেন তোমাকে আর না দেখা যায় আমার আসে পাশে ! যদি আবারও আমার বা মিথিলার ছায়া মাড়ানোর চেষ্টা করো, তবে তোমার লাশটাও কেউ খুঁজে পাবে না!"
মিথিলা উঠে এসে আরিয়ানের হাতটা ধরল। মিথির হাতের স্পর্শে আরিয়ানের রাগটা ধীরে ধীরে জল হতে শুরু করল।
"শান্ত হোন আরিয়ান। আবর্জনা পরিষ্কার হয়েছে, এবার শান্ত হোন।"
আরিয়ান মিথিলাকে জড়িয়ে ধরে।
চলবে ~~~