#প্রেম_তুমি #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব___________১৫ ( শেষ পর্ব )
( 🚫কেউ গল্প কপি করে কারো পেজে দিবেন না! আর কোনো youtube চ্যানেল ও না,, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাহলে,, already নেওয়া হয়েছে! ❌)
সময়ের স্রোতে কেটে গেছে দুটি বছর। এই দুই বছরে আরিয়ান আর মিথিলার জীবনের গল্পের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে গেছে। তিক্ততা আর ঘৃণার কালো মেঘগুলো সরিয়ে এখন সেখানে শুধুই আনন্দ আর হাসির ফোয়ারা। আর সেই আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু হলো ওদের দুই বছরের ছোট্ট রাজকন্যা—আয়েশা।
__________________
জানালার ওপাশে তখন তুষারপাত শুরু হয়েছে। ঘরের ভেতর ফায়ারপ্লেসের আগুনের উষ্ণতা আর আয়েশার খিলখিল হাসি এক অদ্ভুত আবাহ তৈরি করেছে। আরিয়ান আজ অফিস থেকে একটু আগেই ফিরে এসেছে শুধু তার কলিজার টুকরো আয়েশার জন্য।
আয়েশার বয়স এখন মাত্র এক বছর; ওর টলমলে পায়ে হাঁটা আর আধো আধো 'বাবা' ডাক আরিয়ানের জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
আরিয়ান সোফায় বসে আছে , আর এক বছরের আয়েশা আরিয়ানের পা ধরে টলমলে পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আয়েশার পরনে গোলাপি রঙের একটা ফ্রক, যাতে ওকে পুতুলের মতো লাগছে। বাবার প্যান্ট ধরে টেনে টেনে অবশেষে দাঁড়িয়ে আয়েশা নিজের দুই হাত ওপরে তুলে ডানা ঝাপটানোর মতো করে বলল—
"ব্বাবা ...বাবা !"
আরিয়ানের বুকটা যেন এক মুহূর্তে r9ভালোবাসায় ভরে উঠল। নিচু হয়ে আয়েশাকে দুই হাতে পাঁজাকোলা করে শূন্যে তুলে ধরল। আয়েশা আনন্দে পা ছুড়তে লাগল। আরিয়ান ওকে নিজের নাকের সাথে নাক ঘষে আদর করে দিলো ।
মিথিলা তখন রান্নাঘর থেকে এক বাটি সুজি নিয়ে ঘরে ঢুকল। দৃশ্যটা দেখে ও দাঁড়িয়ে পড়ল।
মিথিলা সামনে এসে হাসিমুখে বলল, "আরিয়ান, আপনি ওকে বড্ড বেশি মাথায় তুলছেন। এখন থেকেই যা জেদ শুরু করেছে, বড় হলে তো আপনার কথা শুনবেই না।"
আরিয়ান থামে। আয়েশাকে কোল থেকে নামিয়ে নিজের কোলের মধ্যে বসালো । আয়েশা আরিয়ানের কোল থেকে মিথিলার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, "মা... আবা (বাবা)!"
"ও আমার মেয়ে মিথিলা, ও জেদ করবে না তো কে করবে? ওর সব আবদার পূরণ করার জন্যই তো আমি বেঁচে আছি।
আরিয়ান আয়েশার ছোট্ট তুলতুলে হাতটা নিজের হাতের তালুতে নিলো । ছোট্ট হাতে আলতো করে চুমু খেলো । আয়েশা তখন আরিয়ানের নাকের ডগায় নিজের ছোট্ট আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দিল।
"আজ আমি খাওয়াব। আমার মামণি আজ বাবার হাতে খাবে।"
আরিয়ান ছোট চামচে করে সুজি নিয়ে আয়েশার মুখে দিলো। আয়েশা প্রথমে একটু মুখ কুঁচকে তাকালেও বাবার হাসি মুখ দেখে খেয়ে নিল।
এক বছরের আয়েশা যেন ওদের দুজনের জীবনের সব পুরনো ক্ষত মুছে দিয়ে এক নতুন সজীবতা নিয়ে এসেছে।
________________
ছোট্ট আয়েশা তার দোলনায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরিয়ে গেছে, কিন্তু আরিয়ানের দেখা নেই। মিথিলা ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে অপেক্ষা করছে। পরনের ড্রেসটা কিছুটা এলোমেলো হয়ে আছে,!
আরিয়ান যখন ঘরে ঢুকল, ক্লান্ত চোখে এক পলক মিথিলাকে দেখেই সব অবসাদ যেন উবে গেল। মিথিলা তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছে! আরিয়ান কোটটা খুলে একপাশে রাখল। ঠোঁটে এক চিলতে হাসি—এই মানুষের জন্য বাড়িতে ফেরার টানটা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
আরিয়ান ধীর পায়ে মিথিলার কাছে এগিয়ে গেলো । এলোমেলো হয়ে থাকা চুলের ভাঁজে নিজের হাতটা ডুবিয়ে দেয় । মিথিলার নিঃশ্বাস তার হাতে আছড়ে পড়ছে। আরিয়ান পাঁজাকোলা করে মিথিলাকে নিজের বলিষ্ঠ বুকে তুলে নিলো ।
মিথিলার ঘুমটা চট করে ভেঙে গেল।ও চোখ মেলে দেখল আরিয়ানের ধূসর চোখদুটো ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।
"আরিয়ান... আপনি কখন এলেন?" মিথিলা জড়ানো গলায় জিজ্ঞেস করল।
আরিয়ান কোনো কথা বলল না, শুধু মিথিলার চোখের মণি দুটোর দিকে তাকিয়ে কপালে নিজের ওষ্ঠ ছোঁয়ালো । মিথিলাকে নিয়ে শোবার ঘরে চলে এল। বিছানায় মিথিলাকে শুইয়ে দিতেই মিথিলা শার্টের কলারটা খামচে ধরে । আরিয়ান মিথির ওপর ঝুঁকে পড়ে বলল—
"আজ রাতে ঘুম নেই মিথিলা। এই কয়েকদিন কাজের চাপে তোমাকে ঠিকমতো নিজের কাছেই পাইনি। আজ আর কোনো অজুহাত চলবে না।"
আরিয়ানের স্পর্শে মিথিলা শিউরে উঠল। আরিয়ানের ওষ্ঠ মিথিলার গ্রীবায়ছুঁয়ে যাচ্ছে , মিথিলা নিজের চোখদুটো বুজে নিল। আরিয়ান আজ বড্ড বেশি তৃষ্ণার্ত। পরম আবেশে মিথিলার ড্রেসের বাঁধনগুলো আলতো করে সরিয়ে দিলো ।
আরিয়ান মিথিলার চুলে মুখ গুঁজে দিয়ে মাদকতাময় ঘ্রাণটা নিলো । আরিয়ান এর ওষ্ঠ এখন মিথিলার উদর থেকে শুরু করে বক্ষ—প্রতিটি ভাঁজে ছাপ রেখে যাচ্ছে। মিথিলার অস্ফুট আর্তনাদ আর আরিয়ানের ভারী নিঃশ্বাস নিস্তব্ধতাকে ভেঙে চুরমার করে দিল।
রাত যত গভীর হতে লাগল, ওদের মিলনের তীব্রতা যেন আরও তীব্র হতে লাগল। আরিয়ান আর মিথিলা হারিয়ে গেছন এক অজানা সুখে, এক অবর্ণনীয় পূর্ণতায়।—যেখানে এক পরাধীন ভালোবাসা আজ সবচেয়ে স্বাধীন আর সার্থক।
_______________
বাগানের চারদিকে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। আজ আয়েশার দ্বিতীয় জন্মদিন।
আজকের মধ্যমণি আয়েশা পরেছে ধবধবে সাদা রঙের একটা নেট আর সিল্কের ফ্রক। ছোট্ট একটা পরীর মতো লাগছে। মাথায় বসানো হয়েছে একটা ছোট হীরের মুকুট।
মিথিলা পরেছে একটি অফ-হোয়াইট মসলিন শাড়ি, যার পাড়ে সোনালী সুতোর ভারী কাজ। আরিয়ান আজ নীল রঙের একটা সুট পড়েছে।
বাগানের মাঝখানে পাঁচ স্তরের একটি বিশাল ভ্যানিলা কেক রাখা হয়েছে, । আরিয়ান আয়েশাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আধো আধো সুরে বলছে, "আব্বা... মে (কেক) খাবো!"
তিনজনে মিলে একসাথে কেক কাটল। চারদিকে তখন হাততালির রোল ।আরিয়ান এক টুকরো কেক নিয়ে প্রথমে আয়েশার মুখে দিলো তারপর মিথিলার দিকে তাকিয়ে ওর মুখেও তুলে দিলো । মিথিলাও সলজ্জ হাসিতে আরিয়ানকে কেক খাইয়ে দিল। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অতিথিরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে রইলেন।
______________
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিদায় নিলে আরিয়ান মিথিলা আর আয়েশাকে নিয়ে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ায় । আয়েশা তখন ক্লান্ত হয়ে আরিয়ানের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে। আরিয়ান এক হাতে মেয়েকে ধরে রেখেছে অন্য হাত দিয়ে মিথিলার কোমর জড়িয়ে ধরেছে ।
"আমি ভাবতেও পারিনি আমার এই পাথরের মতো জীবনে এমন একটা বসন্ত আসবে।
মিথিলা আরিয়ান এর বুকে মাথা রেখে বলল,
"আমাদের শুরুটা হয়তো ভুল ছিল আরিয়ান, কিন্তু শেষটা এক সার্থক পৃথিবী।
আরিয়ান মিথিলার কপালে এক দীর্ঘ চুমু খায় , "আমি তোমাকে আর আয়েশাকে আমার জানের চেয়েও বেশি ভালোবাসি মিথিলা।
আমার প্রেম তুমি, কেবল তোমার জন্যই আজ আমি সম্পূর্ণ।"
আরিয়ান মিথিলাকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয় । ছোট্ট পরিবারটি আজ এক তপ্ত ভালোবাসায় সিক্ত । যে গল্পের শুরু হয়েছিল ঘৃণা আর জেদ দিয়ে, তার অবসান হলো এক চিরন্তন পবিত্র ভালোবাসার জয়গানে।
— সমাপ্ত —