ফন্ট সাইজ:
থিম:
My witless King

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: Nasrin akando

বিকেলের দিকে শুভ চৌধুরী অনেক কসরত করে আদ্রিয়ানের ঠিকানাসহ তার বংশলতিকার সব খবর জোগাড় করল। খোঁজ নিয়ে জানতে পারল, আদ্রিয়ানের পরিবারে তার বাবা-মা ছাড়া আর কেউ নেই। তার বাবা খুব সাধারণ একটা চাকরি করেন।

শুভ যখন এই সব তথ্য ঘাঁটছিল, পাশে বসে নীরা সবকিছুই দেখছিল। কাঁদতে কাঁদতে নীরার চোখ-মুখ ফুলে গেছে। নীরাকে এভাবে ভেঙে পড়তে দেখে শুভ না চাইতেও তাকে কথা দিল—কালকেই সে আদ্রিয়ানের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবে।

মাহির ফরেনসিক রিপোর্টটা হাতে নিয়ে স্তম্ভিত হয়ে বসে আছে। রিপোর্টে যা লেখা আছে, তা কোনো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়।

রিপোর্টে  পাওয়া গেছে

"মৃতদেহগুলোর ঘাড়ের পাশে খুব সূক্ষ্ম দুটি ছিদ্র পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো শক্তিশালী যন্ত্রের মাধ্যমে শরীরের সবটুকু রক্ত সেকেন্ডের মধ্যে শুষে নেওয়া হয়েছে। আরও অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ঘটনাস্থলে খালি চোখে কোনো রক্তের দাগ না পাওয়া গেলেও, ফরেনসিক টিম সেখানে লুমিনল পরীক্ষা করে দেখেছে যে একসময় সেখানে রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কেউ অত্যন্ত নিপুণভাবে রাসায়নিক ব্যবহার করে সেই রক্ত এমনভাবে মুছে দিয়েছে যে সাধারণ তদন্তে তা ধরা পড়া অসম্ভব।"

রিপোর্টের কথাগুলো শুনে অয়ন ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলল। তারপর মাহিরের দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ স্বরে বলল, "মাহির,  ডাক্তার আদ্রিয়ানের থেকে ফাইলটা যে মেয়েটার ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সে তো তোমার কাজিন, তাই না?"

অয়নের কথা শুনে মাহির এক মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। অয়ন আবার বলল, "তোমার কি মনে হয় না আমাদের একবার তার সাথে দেখা করা উচিত?"

মাহির মাথা নিচু করে খুব নিচু স্বরে বলল, "স্যার, আমার বোন আর যাই করুক, এসব ভয়াবহ কাজের সাথে কোনোভাবেই জড়িত থাকতে পারে না।"

অয়ন কপাল থেকে চুলগুলো হাত দিয়ে সরিয়ে একটু গম্ভীর হয়ে বলল, "খুনিরা গুলি করার জন্য তোমার বোনকেই খুঁজে পেল? চলো, আমরা সরাসরি তার সাথেই কথা বলি। তাকে কোথায় পাওয়া যাবে? চলো জলদি!"

মাহির আর কোনো কথা না বাড়িয়ে গুমোট মুখে হাঁটতে শুরু করল। তার মনের ভেতর এখন হাজারো আশঙ্কার মেঘ জমছে।

রাস্তার মাঝখানে একটি চেয়ার পেতে এভলিন শান্ত হয়ে বসে আছে। পাশে তাহসিন অনবরত বকবক করে যাচ্ছে; ছেলেটা কথা একটু বেশিই বলে। এরই মধ্যে এভলিনের গ্যাং-এর বাকিদের সাথে তাহসিন বেশ ভালোই মিশে গেছে। পার্থ চুপচাপ এভলিনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখটা আজ বেশ মলিন। সকালে এভলিন যেভাবে ডাক্তার আদ্রিয়ানের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল, সেটা পার্থ একদমই পছন্দ করেনি। কিন্তু এভলিনকে কিছু বলার মতো সাহস বা অধিকার তার নেই।

এভলিন আড়চোখে সবার দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, "তোরা সবাই এখন এখান থেকে যা । বিশেষ কেউ একজন আমার সাথে দেখা করতে আসছে।"

এভলিনের আদেশে কেউ কোনো পাল্টা প্রশ্ন করল না। সবাই একে একে চলে যেতে শুরু করল। তবে এভলিন হাত নেড়ে ইশারায় পার্থ আর তাহসিনকে থেকে যেতে বলল। এরপর তাহসিনের হাত থেকে বাদামের ঠোঙাটা টেনে নিয়ে সে আয়েশ করে বাদাম খেতে শুরু করল।

হঠাৎ গাড়ির ইঞ্জিনের তীব্র শব্দে এভলিন সামনের দিকে তাকাল। পুলিশের গাড়ি আসছে দেখেও এভলিনের চেহারায় কোনো ভয়ের রেশ নেই। তবে তাহসিন কিছুটা বিব্রত বোধ করছে। গাড়ি থামতেই মাহির দ্রুত নেমে দৌড়ে এভলিনের কাছে এল।

মাহির খুব নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, "কেমন আছিস রে বোন?"

এভলিন বাদাম চিবোতে চিবোতে নির্লিপ্ত স্বরে পাল্টা প্রশ্ন করল, "পুলিশের গাড়ি নিয়ে এসেছিস শুধু আমি কেমন আছি সেটা জিজ্ঞেস করতে?"

মাহির একটু ম্লান হেসে বলল, "এভাবে আসতে চাইনি রে, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়েছি। আমার ওপর রাগ করিস না, তোকে কিছু জরুরি বিষয় জিজ্ঞেস করার আছে।

এভলিন কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইল। অয়ন তখন গাড়িতে হেলান দিয়ে দূর থেকে এভলিনকে পর্যবেক্ষণ করছিল। মাহির আলতো করে এভলিনের হাত ধরে তাকে অয়নের সামনে নিয়ে এল।

অয়ন কিছু বলার আগেই এভলিন তার দিকে তাকিয়ে বাঁকা গলায় বলে উঠল, "এই পুলিশ অফিসার কি অন্ধ?"

মাহির অপ্রস্তুত হয়ে মাথা নেড়ে না বলল। অয়ন নিজের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এভলিনের ওপর স্থির রেখে গম্ভীর গলায় বলল, "কোন দিক দিয়ে আমাকে তোমার অন্ধ মনে হলো?"

এভলিন ঠোঁটের কোণে সেই রহস্যময় বাঁকা হাসিটা ফুটিয়ে বলল, "নাহ্, এমনি বললাম। সন্ধ্যার সময় কালো চশমা কে পরে থাকে? তাই মনে হলো চো

খদুটো বোধহয় অকেজো।"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন