ফন্ট সাইজ:
থিম:
জোনাকি প্রদীপ

২৬তম পর্ব

লেখক: নুসরাত জাহান

#জোনাকি_প্রদীপ (পর্ব ২৬)

নুসরাত জাহান লিজা

খানিকটা সুস্থির হয়েছিলেন আজমল সাহেব। কিন্তু সকাল থেকে উত্তেজনা অনুভব করছিলেন। নির্বাচন শুরু হয়েছে। কিন্তু এমন অসহায় অবস্থা এর আগে অনুভব করেননি। মিডিয়া আজ আরও তোলপাড়। বুকে আবারও ব্যথা অনুভব করছেন তিনি।

দুপুরের পরে একসাথে জীবনের সবচাইতে খারাপ দুটো খবর শুনলেন। নির্বাচনে তার ভরাডুবি হতে যাচ্ছে এটা তো অনুমেয় ছিলই, সাথে তাকে দল থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। এই যে হাসপাতালে শুয়ে আছেন, তার পাশে নিজের এতদিনের বিশ্বস্ত কিছু সাগরেদ ছাড়া অন্য কেউ নেই। স্ত্রী একবারও আসেননি তাকে দেখতে। নিজের চাহিদার বেশি পেয়েছেন সবসময়, সাথে স্বামীর ক্ষমতার দর্প। তাই নিজের মতোই থেকেছেন। পাশাপাশি থেকে দুজন সরে গেছেন যোজন যোজন দূরত্বে।

আজমল খানের মনে হলো এই যে তিনি জীবনে এতকিছু করলেন, তার তো আসলে প্রাপ্তি বলতে সমস্ত শূন্য, এ বিগ জিরো। স্বাচ্ছন্দ্যে চলার জন্য জীবনে যতটুকু প্রয়োজন তারও অনেক বেশির পেছনে তিনি আজীবন ছুটেছেন। তার মনে হলো এর শাস্তি তিনি শ্বাস চলমান অবস্থায়ই পেলেন।

তার মনে হচ্ছে তার সময় যেন শেষ হয়ে আসছে, এই সময় তার কোনো আপন মানুষ পাশে নেই। তার জন্য একফোঁটা চোখের জল কারোর পড়বে না। এরচাইতে বড় শাস্তি মানুষের জীবনে আর কী হতে পারে। এত অর্জন যদি প্রয়োজনেই না লাগে, তবে সমস্তই যেন বৃথা, অর্থহীন।

বুকে ব্যথা ক্রমশ বাড়ছিল তার, মনে হচ্ছিল একটা ভালো কাজ অন্তত করতে। হাসানকে নিষেধ করতে চাইছিলেন। কিন্তু আশেপাশে নিজের মোবাইলটা কোথাও দেখলেন না। তিনি প্রাণপণে চিৎকার করতে চাইলেন, কিন্তু গোঙানির শব্দ বের হলো। বুকের একপাশে হাত দিয়ে চেপে ধরলেন, শ্বাস আটকে আসছে। অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। শুধু একবার মনে হলো, সমস্ত কর্ম ইরেজার দিয়ে মুছে জীবনটা যদি একবার নতুন করে শুরু করা যেত!

উপলব্ধিটুকু হলেও আত্মশুদ্ধির সময় তিনি পেলেন না। পৃথিবীতে তার যাত্রা এটুকুই ছিল।

***

হাসান গতকাল থেকে সুযোগ খুঁজছিল, রবিনের পরিবারের অন্তত একজনের হলেও যেন চরম ক্ষতি করা যায়। নিজের জীবন গুছিয়ে সে বিশ্বাসভাজন হয়ে উঠেছিল আজমল খানের মতো মহীরুহের। তার জন্য কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি তাকে। মহীরুহকে আশ্রয় করে সে হয়ে উঠেছিল ত্রাস। কিন্তু মহীরুহই যখন উপড়ে গেছে, সে-ও এখন উদ্বাস্তু। আজমল খান হাসপাতালে, বেঁচে ফিরবে কিনা ঠিক নেই, বাঁচলেও তিনি এখন একজন সাধারণ মানুষের মতোই মূল্যহীন।

নতুন আরেকটা আশ্রয় হাসান আবার কতদিনে পাবে! ওই আফনান তাকে একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে। অনেক মাথা খাটিয়ে সে দেখল, সদ্যোজাত শিশুটাই সকলের কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রতিপক্ষকে ভেঙে দেবার মোক্ষম টার্গেট।

হাসানের চাপদাড়ি আর গোঁফ ছিল, গতকাল রাতে সব কেটে ফেলেছে। বেশ পরিবর্তন করে নিজের হাঁটাচলা অবধি পাল্টে ফেলেছে। এখন খুব বেশি পরিচিত কেউ ছাড়া তাকে কেউই চিনবে না। সে সকাল থেকে হাঁটাহাঁটি করছে শায়লার কেবিন যেই ফ্লোরে, তার আশেপাশে। সাথে একজন মহিলাকে জোগাড় করেছে, সে-ও তার দলেরই একজন কর্মী। ভাবখানা এমন যে এই ফ্লোরে তাদের কোনো একজন আত্মীয়ের সন্তান হয়েছে, তারা দেখতে এসেছে।

ওদের সিকিউরিটির খানিকটা ঢিলেমির জন্য, একসময় সুযোগ এলো। পকেটে হাত দিয়ে ছু রিটার অস্তিত্ব আরেকবার পরীক্ষা করে নিল। এরপর ঢুকে পড়ল কেবিনে।

***

আফনান গতকাল থেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হতে ঠিকমতো বিশ্রামও জোটাতে পারেনি। একেক চ্যানেল থেকে আসছিল, নিলয়ের হস্তক্ষেপে সেটা একটা প্রেস কনফারেন্স হিসেবে করা হয়েছে। তবুও তাদের এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ লাগবে। পুলিশের চুলচেরা জেরা তো আছে। কিছু সাংবাদিকের প্রশ্ন আবার ভীষণ আপত্তিকর। প্রশ্ন শুনে মেজাজের পারদ চড়ে যায়। সে বিরোধী দলের সাথে আঁতাত করে কোনো ষড়যন্ত্র করেছে কিনা, কারণ নির্বাচনের সময়েই এমন একটা ঘটনা।

আফনান চেষ্টা করেছে মেজাজ না হারিয়ে জবাব দিতে। এখন আবার থানায় এসেছে শফিককে সাথে নিয়ে। শাফকাত সাথে ডেকেছেন।

***

নীরা আয়েশাকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে বিশ্রাম নেবার জন্য। তিনি আসতেন না, কিন্তু দুপুরের খাবারের বন্দোবস্ত করা দরকার বলে চলে এসেছেন। নিজের হাতে রান্না করে খাবার নিয়ে ফিরবেন।

রবিনকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অন্য ওয়ার্ডে দেয়া হয়েছে। অনেকরকম শারীরিক আর মানসিক ধকল গেছে ওর। এই মুহূর্তে পরিপূর্ণ বিশ্রাম আর নিরবচ্ছিন্ন ঘুম না হলে মানসিকভাবে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। নীরা শায়লার সাথে আছে। বাচ্চার গায়ে লাল লাল কিছু একটা যেন উঠেছে। ভীষণ কাঁদছিল। সে এসেছিল একবার ডাক্তারকে বিষয়টা জানাতে। যদিও আসতে চাইছিল না, কিন্তু শায়লা জোর করে পাঠাল। বাচ্চার কান্নায় বেচারি কষ্ট পাচ্ছে।

সিকিউরিটির দুইজনের একজন গিয়েছে চা খেতে, আরেকজনের চোখে তন্দ্রা এসে পড়ায় বসে গা এলিয়ে দিয়েছিল। তারা তেমন সন্দেহজনক কিছু দেখেনি বলে খানিকটা গা ছাড়া ভাব চলে এসেছিল। এই সুযোগে ভেতরে এলো কেউ একজন।

শায়লার চোখে পড়তেই সে চিৎকার করল, "কে আপনি?"

হাসান এগিয়ে এলো দ্রুত। হাতে বেরিয়ে এসেছে ছু রিটা।

..........

ক্রমশ

এই পর্বটা ছোট হলো। কয়েকদিন থেকে চোখ চুলকাচ্ছিল, আজ ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় ফিরে আর লেখা হয়নি। গতকাল যেটুকু লিখেছিলাম, সেটুকুই দিলাম। পরের পর্ব চেষ্টা করব আগামীকাল বা পরশু দিতে ইনশাআল্লাহ। দোয়া করবেন।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন