ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছলেবলে কৌশলে

৪র্থ পর্ব

লেখক: মাকামে মারিয়া

#ছলেবলে_কৌশলে

#পর্ব ০৪

#মাকামে_মারিয়া

থমথমে পরিবেশ, নাফিজ চোয়াল শক্ত করে বসে আছে। মেয়ে দেখতে এসেছে, মেয়ের সঙ্গে একটু আলাদা ভাবে কথাবার্তা বলার সুযোগ দেওয়া হয় বলেই সে জানতো। কিন্তু এই সুযোগ থেকে সে বঞ্চিত।

কারণ নাফিজের মামা খোরশেদ যখনই বললো —

' আলহামদুলিল্লাহ মেয়ে তো মাশা-আল্লাহ। আর আপনাদের নিয়ে আলাদা করে আর কি বা বলবো! পুরো এলাকা জুড়ে আপনাদের নামডাক। তা মেয়েরও নিশ্চয়ই মতামতের দরকার আছে তাইনা?

স্বর্ণা গম্ভীর কন্ঠে বললো — একদমই না। মতামত দেওয়ার মতো বয়স আমার মেয়ের হয়নি। তার সমস্ত মতামত আমিই দিচ্ছি।

খোরশেদ খান একটু নড়েচড়ে বসলেন। এখানে আসার আগে হালকা পাতলা খোঁজ নিয়ে জেনে ছিলেন মেয়ের মা বেজায় কড়া স্বভাবের। কিন্তু এতোটাও সেটা তো জানতেন না। কিন্তু দেখতে ভারী মিষ্টি, তেঁতো কথাগুলোও বেশ হেঁসে হেঁসেই বলেন।

নাফিজের খালা খুশী একটু ঝেড়ে কেশে বললেন —

' ছেলেমেয়েদের একটু আলাদা কথা বলার ব্যবস্থা করুন তবে। নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে নেওয়া জরুরি। '

স্বর্ণা চৌধুরী বিচক্ষণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন —

' উঁহু জরুরি নয়। এটার প্রয়োজনীয়তা ঠিক কতটুকু বলতে পারেন?

খোরশেদ হেহেহেহে করে হেঁসে কৌতুকের স্বরে বললো —

' কেনো আপা, ভাইজান যখন আপনাকে দেখতে যায় তখন বুঝি আলাদা কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি?'

' হ্যাঁ! তা দেওয়া হয়েছিল। আপনার ভাইজান তো পাক্কা দেড় ঘন্টা যাবৎ আমার সাথে কথা বলেছেন। নানান প্রশ্ন করেছেন।

' এই তো, তবে আপনি কেনো এখন নিজের মেয়ের বেলায় সেটাতে রাজি হচ্ছেন না?'

' এটা আহামরি জরুরি কোনো কিছু নয়। একঘন্টা দেড় ঘন্টা কথাবার্তা বলেই কারো সঙ্গে সংসার করে ফেলার মতো মহৎ কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিশ্চয়ই খুব চতুরতার কাজ নয়।

মানুষকে চিনতে হয় ধীরে ধীরে, হুঁচোট খেয়ে। হুট করে চিনতে গেলে ভুল থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমার মেয়েকে আমি ভুল করতে দেইনি আজ অব্দি।

নাফিজের নাকের ঢগায় ঘাম জমেছে। কান গুলো লাল টকটকে। বুঝাই যাচ্ছে রাগে লাল টমেটো হয়ে যাচ্ছে বেচারা। এই মূহুর্তে রওনকে মিস করছে আর মনে মনে গালি দিচ্ছে — শালা, সুন্দরী বলে খুব তো প্রশংসা করছিলি।এখন থাকলে বুঝতি এই মহিলার কি ঝাঁঝ!!

মেহনাজ আগের ন্যায় চুপচাপ বসে আছে। নড়াচড়া করার প্রয়োজন বোধটুকুও বোধহয় সে করছে না। চোখে মুখে কোনো প্রকার ক্লান্তির ছাপ নেই, নেই কোনো অস্থিরতা।

নাফিজ আড়চোখে মেহনাজের দিকে দৃষ্টি দিতেই দুজন চোখাচোখি হয়ে গেলো। নাফিজ তড়িঘড়ি করে চোখ সরিয়ে নিলেও মেহনাজের মধ্যে ছিল না কোনো তাড়াহুড়ো, আর না ছিল কোনো রকম অস্বস্তি।

রাস্তায় হাঁটতে গেলে অচেনা কিছু পথিকের চোখে চোখ পড়ে গেলে আমরা যতটা সহজে এড়িয়ে যা-ই, মেহনাজ তার থেকে দিগুণ সহজে নাফিজের দৃষ্টি এড়িয়ে গেলো।

ক্রমশ নাফিজের মেজাজ খারাপ হতে শুরু করলো, একে তো মায়ের এমন ঝাঁঝ, তার মধ্যে মেয়ের এমন বেখেয়ালি ভাবসাব।

মামা খোরশেদের দিকে ইশারায় বুঝালে সে আর এখানে এক মূহুর্তও থাকতে চায় না।

খোরশেদ ভাগিনার অবস্থা বুঝতে পেরে কথা গুছিয়ে আনার চেষ্টা করে বললেন —

' আচ্ছা আপা! তবে আর কি! উঠি তবে?

স্বর্ণা মুখে শব্দ না করেই ঘাড় নাড়িয়ে সায় দিলেন।

ঘটক মশাই বুঝতে পারলেন বিয়ের জোড়াটা বুঝি লাগছে না। তিনি ওমনি তড়িঘড়ি করে বলে বসলেন —

' আহা কি যে বলেন! শুধু উঠলেই হবে? উনাদেরকে দাওয়াত করে যাবেন না? কবে যাবে আপনাদের বাড়িতে? কথাবার্তা এগুতে হবে তো!

খোরশেদ খান একটু ইতস্ততবোধ করলেন। নাফিজের দিকে তাকাতেই নাফিজ ঘটকের উদ্দেশ্যে গড়গড় করে বলে দিলেন—

' সেটা আপনাকে পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। আপনি উনাদেরকে জানিয়ে দিয়েন।'

সামনেই বসে থাকা মেহনাজের দাদু হাশেম বাহাদুরের থেকে সবাই হাসি মুখে বিদায় নিলেন।

স্বর্ণা গটগট পায়ে রুমে চলে যেতে নিয়েও থামলেন। মেহনাজের উদ্দেশ্যে বললেন —

' দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নেও। একঘন্টা পরে এসেও যেনো তোমাকে সেম ড্রেসে না দেখি। তোমার তো আবার ড্রেস চেঞ্জ করতে আলসেমি লাগে।

স্বর্ণা চলে যেতেই এতোক্ষণ মুখ বন্ধ করে রাখা মেহনাজ উচ্চস্বরে হেসে দিলো। খুশীতে গদগদকণ্ঠে দাদু ভাইয়ের গলা জড়িয়ে বললো —

' দাদু ভাই!! হাসো একটু! এবারও বিয়ে হচ্ছে না ইয়েএএ।

' এ কেমন কথা এলিন ভাই? একথা বলতে হয়না!

' উহু তুমি বুঝতে পারছো না দাদু। আম্মুর পছন্দ করে আনা রাজপুত্র ভেবেছিলো সে আমার সাথে এক্সট্রা টাইপ পাস করতে পারবে। কিন্তু সে তো আর জানতো না আমার আম্মু হচ্ছে চিড়িয়াখানার বাঘিনী আর আমি তার মেয়ে হরিণী। যে কিনা তার ভয়ে ভয়ে থাকি সব সময়।

বেচারার মুখখানা দেখেছো? একেবারে টমেটো হয়ে গিয়েছে যেনো!

' ওহ! তুমি তাহলে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিলে রাজপুত্রটাকে!!

মেহনাজের মুখের হাসি এবার লজ্জায় পরিণত হলো। দাদুর কথা আচমকা সে খুব লজ্জা পেয়ে আর এক সেকেন্ডও এখানে দাঁড়ালো না। দ্রুত ছুটলো রুমে।

রুমে যেতেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকা দুই রমনী

জেরিন আর তাশফিয়া লাফিয়ে উঠলো।

' ছেলে অনেক সুন্দর তাই না রে?'

মেহনাজ শাড়ি খুলতে খুলতে বললো —

' দেখিনি তো'

তাশফিয়া ব্রু কুঁচকে বললো —

' তা দেখবা কেন? ওই পুরুষ যেই ঘায়েল করা হাসি দেয়। ভাগ্যিস দেখো নাই দেখলেই এতোক্ষণে আম্মুর পায়ে পায়ে ঘুরতে তাকেই বিয়ে করার জন্য।

' ঘায়েল করা হাসি? সিরিয়াসলি? কেমন দাঁত কেলিয়ে ফ্যাবলার মতো হাসে ছেহহ!

তাশিফয়া আর জেরিন হাহাহোহো করে হেঁসে উঠে সমস্বরে বললো — তুমি নাকি দেখো নাই??

মেহনাজ মুখ ভেঙ্গচি কেটে বললো —

' কথা কম বলে চুল ঠিক থেকে ফুলগুলো খুলে দে চৌবাচ্চা কোথাকার। '

________

নাফিজ আর রওনক বসে আছে রেস্টুরেন্টে। নাফিজ ফুসফুস করে ফুলছে আর সিগারেট টানছে।

রওনক বাঁধা দিয়ে বললো ' আচ্ছা ভাই মানলাম রেগে আছিস। তাই বলে রেস্টুরেন্টের মতো একটা ভদ্রসমাজে এ ভাবে সিগারেট টানবি??

' জ্ঞান দিবি না, খেতে নিয়ে আসছি কি খাবি খেয়ে আমাকে উদ্ধার কর।'

' হুহ্!! খেতে নিয়ে আসছে! নবাবজাদা। আমাকে ছাড়া মেয়ে দেখলি তো এ জন্য সমস্ত ব্যাপারটা তোর বদহজম হচ্ছে।

নাফিজ রক্ত বর্ণ চক্ষু নিয়ে রওনকের দিকে তাকাতেই রওনক মাথা চুলকিয়ে খাবার অর্ডারের ব্যস্ত হয়ে পড়লো।

নাফিজ চুপচাপ বসে ফুলছে, তার মনে এখনো টগবগে রাগ আগুনের মতো জ্বলছে। মামা আর খালাকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে মেহনাজদের বাড়ি থেকে সোজা রওনকরে নিয়ে রেস্টুরেন্টে এসেছে। উদ্দেশ্যে বন্ধুকে খাওয়াবে, কারণ তাকে মেয়ের বাসায় ঢুকতে দেয়নি নাফিজ নিজেই।

রওনক চিকেন ফ্রাইয়ে কামড় বসিয়ে চিবাতে চিবাতে বললো ' যাই বলিস মেয়েটা কিন্তু ঝাক্কাস।

নাফিজ কড়া চোখে রওনকের দিকে তাকিয়ে বললো ' তুই তো বাহিরে ছিলি! দেখলি কি ভাবে??

' হিহি দেখেছি! '

' আরে হারামি বল কি ভাবে দেখেছিস?'

' দেখেছি বলে তোর এতো জ্বলছে কেন ভাই? তুই তো আর তাকে বিয়ে করছিস না!'

' বিয়ে করছি না মানে? যে ভাবেই হোক আমি নাহিয়ান নাফিজ ওই স্বর্ণা চৌধুরীর মেয়ে মেহনাজ এলিনাকেই বিয়ে করবো, তাকে বিয়ে করা আমার জন্য জায়েজ হয়ে গিয়েছে।

' এতো কিছুর পরেও?

' এতো কিছুর কি হলো?? মেয়ে তো মাশা-আল্লাহ একেবারে চুম্মা টাইপ। চুপচাপ স্নিগ্ধ পরী একেবারে। এরে বিয়ে করে আমার রুমে সাজিয়ে রাখবো।

রওনক হাসতে হাসতে কেশে দিলো, পানি খেয়ে গলা পরিষ্কার করে বললো ' তোর মতিগতি বুঝা কঠিন ব্রো।

' তুই নেক্সট এ আমাকে বুঝতে আসবি না, আর আমার কোনো কিছুতে বাম হাত ঢুকাবি না। '

' তাহলে ডান হাত তো ঢুকাতে পারি?'

' হাত কেটে জায়গা....

বাকি কথাটা বলার আগেই রওনক তড়িঘড়ি করে বললো

' হইছে ভাই ভুল হইছে থাম! তোর রাগ উঠলে তুই একটা অশ্লীল হয়ে যাস।

' হু আমি অশ্লীল।তুই কি এই বুড়া বয়সে সুশীল বন্ধু খোঁজার পায়তারা করছিস?

' এই ওয়েট আমি বুড়া? তোর কি আমাকে বুড়া লাগে? একটা স্মার্ট হ্যান্ডসাম বয়।

' হ্যান্ডসাম? আর তুই? নাউজুবিল্লাহ ব্রো। আমার হবু পরীর দাদু ভাই হাশেম বাহাদুরও তোর থেকে হ্যান্ডসাম আছে।

রওনক খাবারের শেষ অংশ টুকু মুখে পুড়ে নিয়ে বললো

' ধ্যাত! খাবো না তোর খাবার। আর জীবনে তুই আমাকে খাওয়াবি না।'

' পাঁচ হাজার নয়শো নিরানব্বই বার বলেছিস এই কথা। এরপরেও খেয়েই যাচ্ছিস। লজ্জা শরম তো গিলে বসে আছিস।

___________

জেরিন বিকেলে বের হয়েছে, মেহনাজের কাছে যাবে।

রাস্তায় মকবুলের সাথে দেখা, মকবুল এগিয়ে এসে দাঁত কেলিয়ে বললো ' কোথায় যাওয়া হচ্ছে জরিনা?

' আপনারে কওন লাগবো?'

' তো জিগাইছি কি না কওয়ার জন্যে?'

' যেখানে খুশী যাই। আপনের কি? রাস্তায় দেখলেই আপনে আইসা কৈফিয়ত চাওয়া শুরু করেন,কই যাই, কেন যাই! এগুলো কি ধরনের অসভ্যতা মকবুল ভাই?

' আহা জরিনা চেতোস ক্যান? তোরে ভালা কথাও কইবার পারিনা, খালি চেত দেহাস। ' শরীলডা ভরা চেত।'

জেরিনের মন মেজাজ খারাপ হয়ে যাবে বুঝতে পেরেই সে আর কথা না বাড়িয়ে দ্রুত হাঁটা লাগালো। মকবুলের সাথে কথা বলা মানেই চুলোচুলি হয়ে যাওয়া।

তিন দিন গিয়ে চার দিন হলো, পাত্রপক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া গেলো না। কথা ছিল তারা দাওয়াত দিবে, তবেই এখান থেকে মানুষ গিয়ে কথাবার্তা এগুবে। কিন্তু এখনো কোনো খবরই আসেনি। ঘটকও ফোন রিসিভ করে না। স্বর্ণা চৌধুরীর মন মেজাজ বিরাট রুক্ষ। বিয়ে সে নিজে ভাঙ্গে সব সময়, তাই এবার তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে ভেবেই নিজের অহংকারী মন জ্বলছে।

ছাঁদের কোণায় মৃদু রোদে হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে শান্তি মনে আচার খাচ্ছে মেহনাজ,একটু দূরে হাশেম বাহাদুর বইয়ে মুখ গুঁজে বসে আছে, তারই পাশে গুনগুন করে গান গাচ্ছে তাশফিয়া —

' দিবানিশি মন চাই ওরে

বাইন্ধা তোরে রাখি রে আমার

আমার সোনার ময়না পাখি।'

ভারী মিষ্টি গানের গলা মেয়েটার। সারাক্ষণ গুনগুন করতেই থাকে।

এর মধ্যেই জেরিন এসে উপস্থিত। এসেই গাল ভরে হেঁসে বললো ' বিয়ের আপডেট কি রে?

জেরিনের কথায় মেহনাজের আচার খাওয়া থেমে গেলো, তাশফিয়া গান বন্ধ করে দিলো, হাশেম বাহাদুর বই থেকে মুখ তুলে তাকালো।

তাশফিয়া বললো ' জেরি আপু, আপুর সামনে আর বিয়ের কথা বলো না।

' কেনো?

তাশফিয়া হেঁসে কুটিকুটি হয়ে বললো ' কারণ পাত্রপক্ষ আপুকে রিজেক্ট করেছে।

তাশফিয়া ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। মেহনাজ রিজেক্ট হওয়ার মতো মেয়ে না। দেখতে শুনতে কোনো কিছুতেই তার কমতি নেই, সৃষ্টিকর্তা পরিপূর্ণ করে সৃষ্টি করেছে মেয়েটাকে।

মেহনাজ তাশফিয়ার মাথায় থাপ্পড় মেরে বললো ' একদম বাজে কথা বলবি না তাশফু! ওই বুড়া ব্যাটাকে বিয়ে করতে আমি বসে আছি নাকি হুহ্! আমাকে কি রিজেক্ট করবো, আমিই রিজেক্ট করলাম ওই মফিজ আলীকে।

হাশেম বাহাদুর টেনে টেনে বললেন ' এলিন ভাই, মফিজ নয় ওটা হবে নাহিয়ান নাফিজ! খানদানি নাম বৈকি।

' হুহ্ আসছে নাহিয়ান নাফিজ! ওরে আমি মফিজ আলীই ডাকবো।

তাশফিয়া আর জেরিন হেঁসে গড়াগড়ি খাচ্ছে মেহনাজের কথায়। মেহনাজ আগের ন্যায় আচারের বয়াম কোলে নিয়ে বসে পড়লো, আচার খাচ্ছে আর বিরবির করে মফিজ মফিজ জপছে।

চলবে.......

আমি বি লাইক - 1k রিয়েক্ট না হলে নেক্সট দিবো না।

পাঠক বি লাইক - আসছে শালি! ১০০ রিয়েক্টই উঠে না আবার নাকি 1k! 🙂

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন