#ছলেবলে_কৌশলে
#পর্ব ০৮
#মাকামে_মারিয়া
এলাকার শেষ প্রান্তে বড় মাটির ঢিলার পিছনে ছোট একটা দুচালা টিনের বাড়ি। কাঁচামাটির রান্না ঘর। বৃষ্টি আসলে ভিজে টইটম্বুর হয়ে থাকে। চুলাতে আগুন দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ছোট হেলদোলে থাকা পুঁই মাচা থেকে শাকপাতা তুলে নিচ্ছে মালাইকা বেগম। পিছন থেকে ডাক পড়লো মকবুলের — 'আম্মা!'
মালাইকা বেগম তড়িঘড়ি করে ঘাড় ঘুরিয়ে মকবুলের দিকে তাকালেন। হাত থেকে শাকপাতার জালিটা মাটিতে রেখে আঁচলে মুখ মুছতে মুছতে কাছে এসে বললেন—
'মায়ের লগে অভিমান করতে হয় বাপ?'
'অভিমান তো আমার নিজের লগে আম্মা। আপনার লগে কিয়ের অভিমান করুম।'
কথাটা বলতে বলতেই মকবুল ঘরের দিকে ছুটলো। যেতে যেতে এও বললো — 'খিদা লাগছে আম্মা। কিছু থাকলে খাইতে দেন।'
মালাইকা যেনো এই মূহুর্তটারই অপেক্ষা করছিলেন। ছেলে এসে খাবার চাইবে। দ্রুত ঘরে ঢুকেই আগে থেকে রেডি করে রাখা পান্তাভাত আর ডিম ভাজি দিলেন।
মকবুল একবার খাবারের দিকে আরেকবার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো — 'আগে থাইকা তৈয়ার কইরা রাখছেন আম্মা?
'হু! দুই দিন হইলো ঘরে ফিরোছ না-ই! এবার তো ফিরার সময়। আমি তো জানতাম তুই ফিরবি।
'আপনার এই জানার কারণেই আমাকে ফিরতে হয় আম্মা। আপনি এরপর থেকে জানবেন যে আমি আর ফিরবো না।'
'আইচ্ছা! সে পরে দেখা যাইবো! এখন খা! নিশ্চয়ই দুইদিন ধরে কোনো কিছু না খাওয়া।'
মকবুল মুখে লোকমা তুলতে তুলতে বললো— 'দুইদিন না খেয়ে মানুষ বাঁচে আম্মা?'
'মানুষ বাঁচে কিনা জানি না! আমার পোলায় বাঁচে।'
'আমিও বাঁচি না! বটতলায় একটা পাগল থাকে! ওই পাগলের থাইকা খাবারের ভাগ পাইছিলাম ওইটা খাইয়া জীবন্ত আছি।'
'শেষে কিনা রাস্তার পাগলের খাওন খাইলি?'
'তাতে কি? পাগলটা কি মানুষ না আম্মা? সে-ও তো কারো আদরের সন্তান! কারো না হওয়া প্রিয় মানুষ। কারো মামাও হয়তো।'
আচ্ছা মেহরিমা কোথায়?
মালাইকা বললেন — স্কুলে পাঠাইছি। মাশা-আল্লাহ অনেক মেধাবী মেহরিমা। কত আগ্রহ পড়ালেখাতে৷ কিন্তু আমাদের তো ওরকম সামর্থ্য নাই।'
'কি কন? কিয়ের সামর্থ্য নাই? মেহরিমার কোনো কমতি হইতে দিমু নাকি?'
মালাইকা মুখ কুঁচকে আওড়ালেন — 'এই তো! মুখে তো এই বড় বড় কথা বহুত শুনছি। কাজে কামে তো এগুলোর কিছুই হয়না। হইলে তো হতোই। এই দুঃখের দিন থাকতো না।
মকবুলের খাওয়া শেষ হলো। সে খাবার পাত থেকে উঠতে উঠতে বললো — 'দুঃখের দিন শেষ হইবে আম্মা। আমাদেরও সুখের দিন আইবো।
___________
নাফিজ চৌধুরী বাড়ির মেইন ফটকে এসে হাজির হলো। বাইকে বসেই গেইটের দিকে তাকালো। গেইট বন্ধ হলেও বাড়ির ছাঁদ স্পষ্ট দেখা যায়। আর সেখানে এই মূহুর্তে তিনজন মানব আছে সেটাও স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।
নাফিজ তিনটা মাথার দিকে তাকিয়ে হিসাব মিলানোর চেষ্টা করলো। হাশেম বাহাদুর মেহনাজের দাদু ভাই! মাথা অর্ধেক টাক সাথে স্বল্প সাদা পাকা চুল। তাকে চিনতে ভুল হতেই পারে না। বাকি রইলো আরও দু'জন। এখানেরই একজন তাশফিয়া আরেকজন মেহনাজ হবে বলে ভেবে নিলো নাফিজ।
হেয়ার ক্লিপ লাগিয়ে রাখা মাথাটা একটু পর পর এদিকে সেদিক হচ্ছে। আরেকটা মাথায় লাল ওড়না দিয়ে ঘোমটা দেওয়া। নাফিজ মনে মনে ভাবলো —
' লাল পরীই আমার এলিন হবে! ওই চুং চাং করা মাথাটা দেখলেই শালিকার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠছে। সুতরাং সে আমার একমাত্র শালিকাই।
বরাবরের মতো ছাঁদে আড্ডায় মেতেছে দাদু নাতনিরা। তাশফিয়ার তো আনন্দের শেষ নেই বোনের বিয়ে নিয়ে। খুশীতে বাক-বাকুম করছে সে। একটু পর পর মেহনাজকে জ্বালাচ্ছে। আর বলছে —
'আপু! তুমি কেমন নিরামিষ! তোমার সঙ্গে মজা পাচ্ছি না। জেরি আপুকে দ্রুত বলো আসতে। সে আসলে দারুণ মজা হবে।
তাশফিয়া অনেক বার বলার পর মেহনাজ জেরিনকে কল করে বাসায় আসতে বললো। জেরিন তখন বিকেলের টিউশনিতে। টিউশনি থেকে ফেরার পথে মেহনাজদের সঙ্গে দেখা করে যাবে বলেছে। তাশফিয়া তখনও জেরিনেরই অপেক্ষায়।
হাশেম বাহাদুর বসে বসে ঝিমাচ্ছে। মেহনাজ নকশীকাঁথাতে সেলাই থামিয়ে দাদু ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো —
'দাদু ভাই! তোমার ঘুম পেয়েছে? রুমে গিয়ে শুয়ে থাকো না হয়।
হাশেম বাহাদুর চোখ টিপটিপ করে তাকালেন। ফোকাল দাঁতে স্মিথ হেঁসে বললেন —
'ঘুম আর উদাস এর মধ্যে তফাৎ বুঝার বয়স হয়নি তোমার এলনি ভাই!'
মেহনাজ আগ্রহ নিয়ে হাশেম বাহাদুরে হাঁটু ঘেঁষে বসে জিজ্ঞেস করলো —
'বুঝাও তবে! তুমি কি তবে উদাস? কিন্তু তুমি উদাস কেন হবে??
মেহনাজের মুখের কথা টেনে নিয়ে তাশফিয়া বললো —
'দাদু ভাই উদাস কারণ সে দাদীকে মিস করছে। তুমি ওসব বুঝবেনা আপু। তুমি তো আগাগোড়া করলা।'
তাশফিয়ার কথায় হাশেম বাহাদুর হেঁসে দিলেও মেহনাজ চোখ দিয়ে গিলে খেলো তাশফিয়াকে।
হাশেম বাহাদুর মিনমিনে স্বরে বললো —
'আজকে সংবাদপত্র পড়িনি এলিন ভাই! এ জন্য ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।
মেহনাজ মাথায় হাত দিলো। তার একটুও মনে ছিল না আজকে দাদুর জন্য নিউজপেপার আনা হয়নি। দাদু একবার মেহনাজকে বলেছিলো, উনার সংবাদপত্রে সংবাদ থাক আর না থাক, প্রতিদিন পড়তেই হবে। আগে দাদী থাকতে নাকি দাদী নিয়ম করে সকালে এককাপ ধোঁয়া উঠা চা সাথে সংবাদপত্র নিয়ে হাজির হতো। দাদুর জন্য এটা একটা সুখকর মূহুর্ত ছিল। সেটা সে এখনো উপভোগ করে যখন সংবাদপত্র পড়ে।
মেহনাজ দ্রুত ফোনটা হাতে নিয়ে একটা নাম্বারে কল করলো। রিসিভ হতেই ওপাশ থেকে মকবুল লম্বা সালাম দিয়ে বললো —
'মেহনাজ এলিনা চৌধুরী আপা কি লাগবে বলুন?
'মকবুল ভাই! সিরিয়াস সময়েও আপনাকে আমার ওতো বড় নাম না বললেও চলে! যাইহোক দাদু ভাই আজকের নিউজপেপার পায়নি। একটু আনিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
'আইচ্ছা আপা! কিন্তু...!
'কি কিন্তু মকবুল ভাই? আপনাকে হেঁটে আসতে হবেনা। রিকশা করে চলে আসুন আমি ভাড়া দিয়ে দিবো।'
'আরেহ আপা ভাড়া টাড়ার জন্যও তো না। আমার পা-ই তো হেলিকপ্টার! আসলে হইছে কি..!
'ধ্যাতেরী কি হয়েছে ওটা বলেন?'
'আজকা একটু জেরিনরে দেখতে যাইবার চাইছিলাম।'
'আরে মকবুল ভাই। জেরিন এখুনি আমাদের এখানে আসবে। আপনি চলে আসুন।
মকবুল খুশিতে গদগদ হয়ে গেলো। দ্রুত রওনা করলো বাজারের দিকে।
নাফিজ দাঁড়িয়ে আছে তখনও গেইটে। রওনকের কথা মতো সত্যি সত্যি গেইটের ভেতর দুটো কুকুর দেখা যাচ্ছে। যদিও নাফিজ ভয় পেতো না। কিন্তু রওনক অভিশাপ দিয়েছে বলে কথা! যদি অভিশাপ লেগে যায় তখন? একটা দুটো কামড় দিয়ে ফেললে ইজ্জত থাকবে??
রওনক বাসায় যায়নি। বাজারে একটা বন্ধুর দোকান আছে। যেখানে সব সময় আড্ডা দেওয়া হয় সেখানে বসে বসে বাদাম খাচ্ছে আর বেসুরে গান গাচ্ছে।
গানের মধ্যেই ফোনটা বেজে উঠলো। ফোন স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে শত্রু নাম্বার ওয়ান! রওনক ফোনটা তুলে কানে দিয়ে বললো —
'জ্বী আমি নাফিজের বন্ধু রওনক বলছি। কোন হসপিটালে আসতে হবে বলেন? কুত্তা কি বেশি কামড়িয়েছে??
ওপাশে নাফিজ দাঁত কিড়মিড় করে বললো —
'তোর মতো কুত্তা থাকতে আবার অন্য বাড়ির পালা কুত্তা কেন আমাকে কামড়াতে যাবে হারামি?
রওনক নাক কুঁচকে বললো —
'উঁহু! তার মানে তুই এখনো জিন্দা? নিশ্চয়ই কুত্তার তোকে চয়েস হয়নি। এ জন্য এখনো কামড়ায়নি।
'হ্যাঁ নিশ্চয়ই! আমাকে চয়েস হয়নি। তোকে চয়েস হলেও হতে পারে সো চলে আয়।'
'আমি যাবো? মাথা খারাপ তোর?তখন তো সাথে নিলি না। এখন কেনো যাবো? আমার একটা আত্মসম্মান আছে ব্রো!
'তোর আত্মসম্মানের গুষ্টির শ্রাদ্ধ করবো।দ্রুত আয়।'
'আরে মামা! বুঝার চেষ্টা কর। আমার পকেট ফাঁকা। আমি যাবো কি ভাবে এখন? গাড়ি ভাড়াও হবেনা।
নাফিজ নিশ্বাস ছেড়ে বললো —
'বিকাশ একাউন্ট চেক কর। টাকা পাঠিয়েছি। পাশের কোনো দোকান থেকে উঠিয়ে নে। একটা সিএনজি করে ডিরেক্ট চলে আয়। বায়।
রওনকের মুখের উপর কলটা কেট দিলো। রওনক নিজের ফোনটাকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলতে গিয়েও থেমে গেলো। এরপর রওনা হলো শত্রু নাম্বার ওয়ানের শশুর বাড়ির দিকে।
নাফিজ বাইক থেকে নেমে পায়চারী করছে। ভাগ্যিস এই রাস্তা নির্জন। এটা লোকালয় নয়। মেইন রোড থেকে লম্বা সরু রাস্তা চলে এসেছে। সে-ই রাস্তার মাথায় চৌধুরী বাড়ি। যেকারণে এই রাস্তায় মানুষের চলাচল নেই। এই ভেবেই নাফিজ স্বস্তি পাচ্ছিলো ঠিক সেই মূহুর্তে পিছন একজন বললো — আপনি কে??
নাফিজ একপ্রকার লাফিয়ে উঠলো। জেরিন ভালো করে তাকিয়েও বুঝতে পারলো না লোকটা কে। নাফিজও জেরিনকে আগে কখনো দেখেনি বিধায় চিনলো না।
'এই কে আপনি? কথা বলছেন না কেনো? আমি সে-ই দূর থেকে দেখে আসতেছি আপনি এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। আপনি কি ডেলিভারি ম্যান? কারো পার্সেল আছে এ বাড়িতে??
নাফিজের মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। নিজেকে সামলাতে না পেরে বললো — এই খালাম্মা! আমাকে দেখে কি আপনার ডেলিভারি ম্যান লাগতেছে?? আমার গেটআপ কি ডেলিভারি ম্যানের মতো??
জেরিনও জ্বলে উঠলো। রুখে এসে বললো —
'আমাকে কোন দিক দিয়ে আপনার খালাম্মা মনে হচ্ছে শুনি??
'কোনো দিক দিয়েই খালাম্মা মনে হচ্ছে না। কিন্তু আমাকে ডেলিভারি ম্যানের সাথে তুলনা দেওয়াতে আমিও দিলাম।'
'এতো দেখি বাচ্চাদের মতো কাজকারবার!' এনিওয়ে বলুন কাকে চাই?
'হবু বউকে দেখতে আসছি।'
'হবু বউ?? কে হবু বউ??
'আমার বউ! সে তো এখন হবু বউই!
জেরিনের মাথা চক্কর দিতে থাকলো! এই লোক এতো প্যাচিয়ে কেন কথাবার্তা বলছে? সোজাসাপ্টা বললেও তো হয়। জেরিন নিজেকে শান্ত করে বললো —
'আচ্ছা আচ্ছা! তো এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো শুনি?'
নাফিজ গেইটের ভেতরে আড়চোখে তাকিয়ে বললো — কুত্তা..না মানে আমার বন্ধু আসবে। সে আসলেই তাকে নিয়ে যাবো আর কি!'
জেরিনের এবার খটকা লাগলো। কোনো ভাবে মেহনাজের বিয়ে পাকাপোক্ত হয়ে গেলো না তো? আর এ জন্যই নিশ্চয়ই তাকে ডেকেছে খবরটা জানাবে বলে। তাৎক্ষণিক মনে পড়লো লোকটার চেহারা দেখলেই তো সব ঝামেলা শেষ হয়ে যেতো। কারণ সে তো শেষ বার পাত্রপক্ষ দেখতে আসা পাত্রকে দেখেছিলো। বিয়ে হলে নিশ্চয়ই ওই পাত্রের সঙ্গেই হবে।
'আপনার হেলমেট খুলুন দেখি।'
'কেনো খুলবো?আপনি কেনো দেখবেন? আমার বউ শুধুমাত্র আমাকে দেখার অধিকার রাখে।'
'ওরে আসছে আমার পর্দাশীল! হেলমেট খুলুন বলছি।'
জেরিনের ধমকি-ধামকিতে নাফিজ হেলমেট খুললো। মূহুর্তেই কালো সিল্কি চুলগুলো কপালে আঁচড়ে পড়লো। ফর্সা মুখশ্রীতে কালো খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে পুরো মাশা-আল্লাহ লাগছে ছেলেটাকে। জেরিন কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকতেই নাফিজ কৌতুক করে বললো —
'এ ভাবে তাকাবেন না খালাম্মা! আমার বউ মারবে আমায়।'
জেরিন এবার না হেঁসে পারলো না। লোকটা বড্ড দুষ্ট। এতোক্ষণ ইচ্ছে করেই এমন দুষ্টমি গুলো করছিলো। জেরিন এবার জিজ্ঞেস করেই বসলো —
'আরে আপনি মফিজ ভাইয়া না?'
নাফিজ ব্রু কুঁচকে তাকাতেই জেরিন হতভম্ব হয়ে বললো — তওবা তওবা, বলছিলাম আপনি নাহিয়ান নাফিজ ভাইয়া না?
নাফিজ ডান হাতে চোখ মুখ মুছে চুল গুলো ঠিক করেত করতে বললো — হ্যাঁ! নাহিয়ান নাফিজ! কিন্তু, কিন্তু আপনি কি বললেন ওটা?'
'ও কিছু না! ভুল করে বলে ফেলছি কিছু মনে করবেন না।
নাফিজ কিছু বললো না। মুখটা টমেটোর মতো লাল হয়ে গেলো। তার বুঝতে বাকি রইলো না যে এরা ওর নামটাকে এমন ট্রল করছিলো বলেই এখন এটা মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছে।
জেরিন কথাবার্তা শেষ করে নাফিজকে নিয়ে গেইটে ঢুকে গেলো। গেইটের ভেতরে থাকা কুকুর দুটোর কাছে গিয়ে হাত মেলে দিয়ে হ্যান্ডশেক করলো। নাফিজকেও বললো — ভাইয়া আপনিও করেন। এরপর আর আপনাকে আক্রমণ করবে না। চেনা কেউ কাউকে নিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করিয়ে পরিচয় করিয়ে দিলেই এরা বুঝে যায় যে নতুন মানুষটাও এখানকারই।
নাফিজ বেশ আনন্দের সাথে এদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলো। জেরিন জানালো এদের নাম হলো নিরু আর কায়রু। নাফিজ বিনয়ের সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করলো। জেরিনকে পেয়ে গিয়েছে বলে স্বস্তি পাচ্ছে কিন্তু রওনকে শুধু শুধু ডেকে আনছে ভেবেই বিরক্ত হচ্ছিল।
ইতিমধ্যেই রওনক পৌঁছে গেলো। গাড়ি ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে ধেইধেই করে নেচে-কুঁদে গেইটের ভেতর ঢুকে গেলো। যেহেতু বাহিরে বাইক রাখা তার মানে নাফিজ ভেতরে গিয়েছে ভেবেই সে-ও কনফিডেন্সের সঙ্গে ঢুকতেই কুকুর দুটো ওরে ঘিরে ধরলো।
রওনকের আত্মায় পানি নেই। চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে সে। কুকুর গুলো দেখতেও কেমন ভয়ানক। দেখলেই আত্মা শুকিয়ে আসে।
রওনকের পায়ের কাছে আসতেই সে চোখ বন্ধ করে দোয়া দুরুদ পড়া শুরু করলো। আর মনে মনে ভাবছে — একি! এরা এখন আমায় কামড়াবে নাকি! অভিশাপ নিজের উপর পড়ে গেলো হায় মাবুদ রক্ষা করো।
চোখ খুলতেই দেখলো নিরু একহাত লম্বা জিহ্বা দিয়ে রওনকের প্যান্ট চাটছে। রওনক চৌধুরী বাড়ি কাঁপিয়ে দিলো এক চিৎকার......!
চলবে........
যার অভিশাপ তার উপরই পড়লো🐸
অভিশাপ হতে সাবধান 🥱 রওনক বেচারা 😞