ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছলেবলে কৌশলে

১৮তম পর্ব

লেখক: মাকামে মারিয়া

হুমায়ুন আহমেদ স্যার বলেছিলেন, "কাউকে মনে পড়লে তাকে ফোন করো, দেখতে ইচ্ছে করলে তাকে জানাও। বাঁচবেই বা কদিন! অপূর্ণতা নিয়ে পৃথিবী ছাড়তে নেই।" হুমায়ুন আহমেদ তো বলেনি বউ বাপরে বাড়ি বেড়াতে গেলে, আর স্বামী তাকে মিস করলে কি করা উচিৎ! তাই নাফিজ সরাসরি শশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। সন্ধ্যায় বাসায় না গিয়ে চলে আসলো মেহনাজদের বাসায়।

মেহনাজ তখন রান্নাঘরে চা বানাচ্ছে। নাফিজ এসেছে এটা টের পায়নি। ড্রয়িং রুমে স্বর্ণা টিভি দেখছিল, তাসফিয়া বসে বসে ফোন চাপছে। আগামীকাল শুক্রবার তাই সে পড়তে বসবে না, বাচ্চাদের এই অজুহাত সেও ব্যবহার করে। নাফিজকে হঠাৎ উপস্থিত হতে দেখে দরজা খুলেই তাসফিয়া চোখ বড় বড় করে বললো, ভাইয়া! আপনি? আপনি আসবেন সেটা তো আপু বললো না।"

নাফিজ বললো, "তোমার আপুও জানে না।"

"আপু জানে না? আমার তো মনে হয় আপুও জানে আমাদের জানায়নি। আপু যদি না-ই জানবে তবে আজকে এতো সাজুগুজু করেছে কেনো?'

" সাজুগুজু করেছে বুঝি? কই দেখি তো।" বলতে বলতেই নাফিজ ভেতরে ঢুকলো। স্বর্ণা মেয়ে জামাইকে দেখে অবাক হলো, নাফিজ সালাম দিয়ে বললো, " আম্মু না বলেই চলে আসছি।"

স্বর্ণা হাসার চেষ্টা করে বললো, "এসো বসো। সারপ্রাইজ ছিল বুঝি!"

তাসফিয়া বোনকে ডাকতে যাবে কিন্তু নাফিজ বারণ করলো। বললো, "থাক ডাকতে হবে না। আসতে দাও।"

মেহনাজ মনের সুখে চা বানাচ্ছে, বেশ যত্ন করেই আজকে চা-টা বানাবে ভেবেছে। কারণ আজকে মনটা বেশ ফুরফুরে। নাফিজকে দুপুরেই ফোনকলে বলছিল, "আমি কি আরও ক'টা দিন থাকতে পারি এখানে?"

ভেবেছিল নাফিজ একটা ধমক দিবে কিন্তু সে এমন কিছুই করলো না। কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলেছিল, "থাকো।"

মেহনাজ সেই আনন্দে শাড়ি পড়েছে, হাতে চুড়ি পড়েছে, ঠোঁটে লিপস্টিক আর চোখে কাজল পড়েছে। তাসফিয়া বোনের এমন সাজুগুজু দেখে বার কয়েক পিছু পিছু ঘুরে জানতে চেয়েছিল "কি হয়েছে এতো সাজুগুজু যে? মেহনাজ মুচকি হেঁসেছে আর বলেছে "আজকে মনটা ভালো।"

সেজেগুজে বা পরিপাটি হয়ে থাকলে যে মন অটোমেটিকলি ভালো হয়ে যায় মেহনাজ সেটা আজকে টের পেলো।

তখন তাসফিয়া জানতো না বোনের মন এতো ভালো কেনো! কিন্তু নাফিজকে দেখে সে ভেবেই নিয়েছে দুলাভাই আসবে তাই বোনের মনে ওতো আনন্দ।

মেহনাজ চা রেডি করে গলা উঁচু করে তাসফিয়ার উদ্দেশ্যে বললো, "তাসফিয়া চা রেডি নিয়ে যা-ও।"

তাসফিয়া বললো, "আমার টা নিয়ে আসো না আপু।"

"পারবো না, চা বানিয়ে খাওয়াচ্ছি এটাই কি বেশি নয়? নিজের টা নিজে নিয়ে খাও।" বলেই মেহনাজ চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হেলেদুলে ড্রয়িং অব্দি পৌঁছালো। আচমকা সামনে নাফিজকে বসে থাকতে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো, গরম চায়ে চুমুক দিয়ে জিহ্বাটাও গেলো পুড়ে।

তাসফিয়া ঠোঁট উল্টে হেঁসে আওড়ালো, "উচিৎ হয়েছে। এটা তোমার শাস্তি।" বলতে বলতে সে উঠে চলে গেলো। মেহনাজের বুঝতে বাকি রইলো না মা ও মেয়ে তাদেরকে স্পেস দেওয়ার জন্য সরে গিয়েছে।

মেহনাজ চোখ বড় বড় করে নাফিজের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো, "আপনি? আপনি আসছেন কখন?"

" মাত্রই আসলাম।"

" বললেন না তো আসবেন যে?"

মেহনাজের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নাফিজ সোজা হয়ে বসে বললো, " ওতো সাজুগুজু করেছো ভাবলাম বউটাকে একটু দেখে আসি।"

মেহনাজ আমতাআমতা করে বললো, "ওহ! সাজুগুজু করেছিলাম! ইয়ে মানে এমনি।"

হঠাৎ নাফিজকে দেখে মেহনাজ একটু এলোমেলো হয়ে গেলো। কি করবে ভেবে না পেয়ে নিজের আধখাওয়া চায়ের কাপটা এগিয়ে দিয়ে বললো, চা খাবেন?"

" এটাই? নাফিজ ব্রু কুঁচকে বললো।

" হ্যাঁ এটাই! কেনো আমি খেয়েছি বলে সমস্যা হচ্ছে? আমার ব্রাশ দিয়ে নিজে ব্রাশ করতে তো সমস্যা হয় না।"

নাফিজ কিছু না বলে মেহনাজের হাত থেকে চায়ের কাপটা নিয়ে চুমুক দিলো। দুই চুমুকে চা টুকু শেষ করে বললো, "বেশ ভালো চা বানাও তো তুমি।"

মেহনাজ হাসলো, এই একই প্রশংসা বাক্য সে আগে আরও শতবার বলেছে। প্রতিবারই এমন ভাবে প্রশংসা করে যেনো সে এই প্রথম মেহনাজের হাতে বানানো চা খেয়েছে।

রাত তখন খুব গভীর হয়নি, আকাশে চাঁদ হাসছে। শাড়ির আঁচল ছড়িয়ে, খোলা চুলে বারান্দায় নাফিজের হাঁটুতে ঘাড় রেখে বসে আছে মেহনাজ। নাফিজ স্ত্রীর খোলা চুলে আলতো হাত বুলিয়ে দিতে দিতে গল্প করছে।

" না বলে হঠাৎ চলে আসলেন যে?" মেহনাজ জিজ্ঞেস করলো মৃদু কন্ঠে।

চুলে হাঁটতে থাকা আঙুল দুটো থামিয়ে দিয়ে নাফিজ এবার দু'হাতের মুঠোয় সবগুলো চুল নিয়ে খোঁপা বেঁধে দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করতে করতে বললো, "তোমায় মিস করছিলাম এলিন।"

"আপনার মায়েরা জানে তাদের ছেলে শশুর বাড়িতে চলে এসেছে ওমন না বলেকয়ে?"

নাফিজ ব্রু কুঁচকে বললো, " তোমার কি মনে হয় আমার মায়েরা আমাকে শশুর বাড়িতে আসতে দেয় না বা আমি আসি এটা অপছন্দ করে?"

" ওমা সেটা কখন বললাম? জানতে চাইলাম তারা জানে কিনা আপনি এসেছেন যে!" ঘাড় ঘুরিয়ে নাফিজের দিকে তাকিয়ে বললো মেহনাজ।

নাফিজ দুই হাত মেহনাজের চুল থেকে সরিয়ে নিলো। দৃষ্টি এখন দূর আকাশে, কিন্তু হাস্যোজ্জ্বল চাঁদ দেখেও তার দৃষ্টি মোটেও চিকচিক করছে না বরং দৃষ্টিতে কেমন যেন তেঁতো রাগ।কিছুক্ষন চুপচাপ বসে থাকার পর নাফিজ উঠে রুমে চলে আসলো। মেহনাজের বড্ড মন খারাপ হলো। কিছু থেকে কিছু হলেই লোকটা কেমন রাগ করে বসে। আর মায়েদের নিয়ে যেন কিছু বলাই পাপ। মেহনাজ পিছু ডেকে বললো, "চলে যাচ্ছেন যে?"

"ঘুম পাচ্ছে ঘুমাবো।" বলেই নাফিজ হনহনিয়ে রুমে এসে শুয়ে পড়লো।

তাসফিয়া দুটো গ্লাসে দুই গ্লাস গরম দুধ, দুটো সিদ্ধ ডিম আর কিছু পরিষ্কার ফল নিয়ে আসলো। মেহনাজ হাসি মুখে বন্ধ দরজা খুলে দিয়ে সেগুলো গ্রহণ করলো। তাসফিয়ার ঠোঁটে দুষ্ট হাসি। মেহনাজ অস্বাভাবিক ভাবে সে-ই হাসির দিকে তাকিয়ে রইলো কিন্তু কিছু বুঝে উঠতে পারলো না।তাসফিয়া চলে গেলো।

নাফিজ একপাশে যে কাতঁ হয়ে শুলো আর ভুল করেও মেহনাজের দিকে তাকালো না। মেহনাজ শত চেষ্টা করেও লোকটার রাগ ভাঙাতে পারলো না।

গরম দুধ ঠান্ডা হলো, সিদ্ধ ডিম আর ফল বড় অবহেলায় পড়ে রইলো। তারচে বেশিই অবহেলায় পতিত হলো মেহনাজ ও তার আহাজারি, রাগ ভাঙানোর বৃথা চেষ্টা আর চোখের পানি।

নাফিজ ঘুমালো কিনা মেহনাজ জানে না। কিন্তু রাতের অন্ধকারের সেই হাস্যোজ্জ্বল চাঁদ সাক্ষী হয়ে রইলো সে-রাতে মেহনাজ চোখের পাতা দুটো এক করতে পারেনি।

#ছলেবলে_কৌশলে ( অংশ বিশেষ)

#পর্ব ১৮

#মাকামে_মারিয়া

#ছলেবলে_কৌশলে

#পর্ব ১৮.২

#মাকামে_মারিয়া

পাখির কিচিরমিচিরে ঘুম ভাঙলো নাফিজের। গতরাতে একটু দ্রুতই ঘুমিয়ে গিয়েছিল বলে ভোরেই ঘুম ভেঙে গেলো। পাশে তাকিয়ে টের পেলো মেহনাজ নেই। কপালে ভাজ পড়লো। গতরাতে কি কি হয়েছিল সেসব মস্তিষ্কে পুনরাবৃত্তি হতেই নাফিজ উঠে বসলো।গতরাতের জন্য খুব বেশি নয় হালকা একটু অনুতপ্ত হলো। একবার মনে মনে ভাবলো ওমন রাগ দেখানো উচিৎ হয়নি। চারপাশে তাকিয়েও মেহনাজের দেখা না পেয়ে মৃদু স্বরে ডেকে উঠলো "মেহনাজ, মেহনাজ!"

আদর করে এলিন ডাকলেও খুব সিরিয়াস মূহুর্তে সে মেহনাজ ডাকে। মেহনাজের কান অব্দি ডাক পৌঁছালো না। নাফিজ ফ্রেশ হয়ে বের হলো। তাসফিয়াকে সামনে পেয়ে জিজ্ঞেস করলো, " তোমার বোন কোথায়?"

তাসফিয়া মায়ের সাথে সকালের নাস্তা বানানোতে ব্যস্ত। সে এমনিতে অলস কিন্তু বাসায় মেহমান আসলে মা'কে বেশ সাহায্য করে। তাসফিয়া ব্যস্ত কন্ঠে বললো, " আপু বাগানে আছে হয়তো একটু দেখে নিন না ভাইয়া।"

নাফিজ বের হয়ে আসলো। বাড়ির পাশে বেশ সুন্দর একটা বাগান আছে। সেখানটায় তিনটে পোষা কবুতরকে গম ছিটিয়ে খাওয়াচ্ছে মেহনাজ। নাফিজ এসে পাশে দাঁড়াতেই মেহনাজ টের পেলো কিন্তু নিজের কাজ থামালো না। নাফিজ ভেবেছিলো স্ত্রী নিজ থেকে কিছু বলবে কিন্তু মেহনাজ কিছুই বললো না। নাফিজ নিজেই বললো, " মুখ ওমন ফ্যাকাসে লাগছে কেনো? সারারাত ঘুমাওনি?"

মেহনাজ কিছু বললো না চুপটি করে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নাফিজ ফোঁস করে উঠে বললো, " হয়েছে আসো। দ্রুত রেডি হও বাড়ি যাবো।"

মেহনাজ আহত চোখে নাফিজের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। নাফিজ অবাক হয়ে দেখলো মাত্র একটা রাতে মেয়েটাকে কি এমন দুঃখ দিয়েছে যে তার মুখটা ওমন মলিন হয়ে গেলো! আসার পর কত হাস্যোজ্জ্বল মুখটাই না সে দেখেছিল। নাফিজ এবার পুরোপুরি অনুতপ্ত হলো। কিন্তু সেটা বুঝতে দিলো না। চোখ মুখ গম্ভীর করে বললো, " তাকিয়ে আছো কেনো? যা বললাম করো। আজকে যদি বলো যাবে না তবে সারাজীবন বাপের বাড়িতেই থেকে যেও আর যেতে হবে না শশুর বাড়ি।'

মেহনাজের হৃদয় তার প্রিয় পুরুষের কথার আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেলো। একবার ভাবলো সত্যি সত্যি সে আর ফিরবে না ওবাড়িতে কিন্তু মেয়ে মানুষ চাইলে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

নাফিজ নাস্তা খেতে বসলো। মেহনাজকে ডেকেও পাওয়া গেলো না। স্বর্ণা কড়া দৃষ্টি দিয়েও মেয়েকে আনতে পারলো না। মায়ের তাকে সাড়া দিলো কিন্তু সে শশুর বাড়ি যাবে তাই গোছগাছ নিয়ে খুব ব্যস্ত এটাই বুঝালো।

রেডি হয়ে নাফিজ অপেক্ষা করতে লাগলো। মেহনাজ তার দাদু ভাইয়ের রুমে আসলো বিদায় নিতে। মন খারাপ নিয়ে দাদুকে জিজ্ঞেস করলো, "দাদু স্বামীরা মূলত কেমন হয়?"

হাশেম বাহাদুর হেঁসে বললেন, " নাতজামাইয়ের সাথে ঝামেলা হয়েছে বুঝি দাদু ভাই?"

মেহনাজ চুপ করে রইলো কিছুই বললো না। হাশেম বাহাদুর নাতনির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো, " বউ বাপের বাড়ি আসলে পুরুষজাতি ভালো চোখে দেখে না। বেহুদা রাগ দেখায়। বাড়ি ফিরে যাও দেখবে সব ঠিক হয়ে গিয়েছে।"

মেহনাজ জানে সত্যি সব ঠিক হয়ে যাবে। নাফিজের ওসব রাগ একদিনও টিকে না। কিন্তু তাই বলে সব সময় ওমন বাজে ভাবে রাগ করে কথা শোনাবে? মেহনাজের বুঝি কষ্ট হয়না? মেহনাজ ভেবেছে এবার আচ্ছামত শিক্ষা দিবে লোকটাকে।

________

মকবুলের মন বিষন্ন। মেহরিন গোসল করে এসে মামার পাশে বসে জিজ্ঞেস করলো, " মামা কি হয়েছে? মন খারাপ করে রেখেছো কেনো?"

মকবুল হাসার চেষ্টা করে বললো, "গরীবের আবার কিসের মন খারাপ মামা! গরীবদের মন খারাপ করতে হয়না।"

মেহরিন মুখ গোমড়া করে বললো, "এসব পঁচা কথা নানু বলতে নিষেধ করেছে মামা। তুমি তো অনেক পঁচা নানুর কথা শুনো না।"

মকবুল হুহু করে হেঁসে উঠলো। এই পুচকে মেয়েটা তার আরেক মা। খুব শাসনে রাখে মকবুলকে। পৃথিবীতে এই দুটো অস্তিত্বই ছিল মকবুলের জন্য। আর কেউ ছিল না, হবেও না। আর জেরিন?

জেরিনের কথা মনে হতেই বুক চিঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসলো। জেরিন মকবুলের হাতের নাগালের বাইরে। যার মন অন্য কেউ জব্দ করে ফেলে সে-ই মনের নাগাল পাওয়া আদোও সম্ভব? মকবুল বুঝলো সম্ভব না। জেরিন প্রেমে পড়েছে। কিন্তু সেই প্রেমিক মকবুল নয়। তবে মকবুল কি কিছুই ছিল না?

সেদিন জেরিনকে যখন বরাবরের মতোই রাস্তায় নাগাল পেলো। জেরিন এগিয়ে এসে হেঁসে বললো, " একটা হেল্প করবেন মকবুল ভাই?"

মকবুল মহাখুশি হয়ে বলেছিল, "করুম না মানে? তোরে হেল্প করার জন্যই তো আমার জন্ম।" শেষের কথাটা বিরবির করে বলেছে।

জেরিন বললো, " না না একটা না দুটো হেল্প।"

" আচ্ছা দুটো কেন চারটে হলেও করবো। বল কি হেল্প?"

"প্রথমে একটা কথা বলে রাখি মকবুল ভাই। আপনে আমারে কোন চোখে দেখেন সেটা আমি বুঝি। কিন্তু আমি কখনো আপনারে অন্য চোখে দেখি নাই। আপনি আমার বড় ভাইয়েরই মতো। তবে খুব বন্ধুসুলভ।"

" আমি তোর বন্ধু ছিলাম?"

জেরিন থেমে থেমে বললো, "ইয়ে মানে ওইরকমই আর কি! তারচে বেশি কিছু তো না।"

মকবুল তাচ্ছিল্যে হেঁসে নিজের মনে আওড়ালো, " আমি করিলাম প্রেম, সে করিলো বন্ধুত্ব।"

জেরিনকে অস্থির দেখাচ্ছে সে মকবুলকে আরও কিছু বলতে নিবে ওমনি মকবুল থামিয়ে দিয়ে বললো, "কাহিনি কি জেরিন? তুই কি অন্য কারো প্রেমে পড়ছোছ?"

জেরিন বিস্ময় নিয়ে বললো, "এতো তাড়াতাড়ি কেমনে বুঝে গেলেন মকবুল ভাই?"

" বুঝি, আমি তোরে খুব বুঝি জেরিন। তোর চোখের ভাষা আমার কাছে বিরাট সহজ। একেবারে মাতৃভাষার মতো সহজ।"

জেরিন আঙুল কামড়ে দাঁড়িয়ে রইলো। সে যেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছে সেটা কি আদোও উচিৎ হয়েছে! মকবুলকে প্রত্যাখান করে পরে আফসোস না করতে হয়। মকবুল বললো, "কি হেল্প লাগবো বল শুনি?"

একটু আমতাআমতা করে জেরিন বললো, "একটা চিঠি, ইয়ে মানে একটা চিঠি লিখছি। এটা একটু পৌঁছাই দিতে হইবো মকবুল ভাই।"

মকবুল হুহু করে হেঁসে উঠে বললো, "ওহ! তোর নাগরের কাছে চিঠি পৌঁছাইয়া দেওয়ার দায়িত্ব পড়ছে আমার ঘাড়ে। কি কপাল শালার!"

" নাগর কি কথা মকবুল ভাই। আপনি আর ভালো হইলেন না। কাজটা করে দিতে পারবেন কিনা সেটাই বলেন। না হয় আমি গেলাম।"

জেরিনকে থামিয়ে দিয়ে মকবুল বললো, " আচ্ছা শুন। ওতো উড়িস না। এই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় তোর নাগরকে চিঠি কেন দিতে হইবো?"

জেরিন চোখে মুখে মিছে রাগ এনে বললো, " তার নাকি শখ হয়েছে আমার হাতে লেখা চিঠি পড়বে। কি আর করার প্রেমিকা হয়েছি প্রেমিকের আবদার তো ফেলা যাবে না।"

মকবুল ঘাড় নাড়িয়ে বুঝালো সে রাজি। হেল্প টা করেই দিবে। জেরিন খুশী হয়ে ব্যাগ থেকে একটা ভাজ করা চিঠি সাথে দুটো লাল গোলাপ মকবুলের হাতে দিলো। মকবুল মৃদু কাঁপা হাতে সেগুলো গ্রহণ করলো। মকবুলের হৃদয়ের ঝড় জেরিন টের পেলো না।

"ঠিকঠাক বুঝাই দিও বুঝছো? ভন্ডামি করো না যেন!"

মকবুল বললো, "আচ্ছা। চিন্তা করিস না।"

জেরিন চিন্তা করছে না বরং নিশ্চিন্ত হয়েছে দায়িত্বটা মকবুলকে দিতে পেরে। মকবুল দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করবে এটা তার বিশ্বাস। চলে যেতে নিয়েও জেরিন ফিরে এসে বললো, " দ্বিতীয় হেল্প ছিল একটা। ওটা শুনবে না?"

"শুনবো না কেনো? শুনবো বল?"

জেরিন একটু আমতাআমতা করে বললো, " কিছু মনে করিয়েন না মকবুল ভাই। আপনি আর পথেঘাটে আমার পিছু নিয়েন না। সে দেখলে মাইন্ড করবো না বলেন? "

মকবুল মাথা চুলকিয়ে বললো, "হু ঠিকই তো মাইন্ড করারই তো কথা। আমি হইলেও করতাম। আমার প্রেমিকার পিছু কেউ নিলে আমারও মাইন্ডে লাগতো।"

" আপনার আবার প্রেমিকা? দিবাস্বপ্ন দেখছেন মকবুল ভাই আপনার কপালে প্রেমিকা জুটবে বলে আমার মনে হয় না।" বেশ হেঁসেই কথা গুলো বলে জেরিন চলে গিয়েছিল। মকবুলের বেশ জানতে মন চাচ্ছিলো তার কপালে কেনো প্রেমিকা থাকবে না?" কিন্তু জিজ্ঞেস করা আর হলো না। জেরিন ততক্ষণে নাগালের বাইরে।

" মামা কি এতো ভাবছো নানু ডাকছে খাবে চলো।"

মকবুল স্মিথ হেঁসে বললো, " আমি খেয়েছি রে মা। তুই খেয়ে আয় যাহ।"

মেহরিন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই মকবুল আবারও হাসার চেষ্টা করে বললো, " সত্যি খেয়ে এসেছি।'

মেহরিন চলে গেলো। মকবুল গড়গড় করে বমি করতে লাগলো। বড়লোকদের ওত দামী খাবার মকবুলের পেটে হজম হলো না। সে সত্যি পেট পুড়ে খেয়ে এসেছিল। কিন্তু বদহজম হবে কে জানতো? বমি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলো মকবুল। ফ্যাকাসে মুখে কল্পনা করলো জেরিন ভালো থাকবে এটাই বা কম কি? রওনক দেখতে শুনতে ভালো, গুড লুকিং ছেলে। বাবার টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ির অভাব নেই। সে নিজেও একটা জব নিয়েছে। অবশ্য সেটাও নাকি জেরিনকে ইমপ্রেস করার জন্যই ছিল। চিঠি দিতে গিয়ে এসব গল্প জেনে আসলো মকবুল। ছেলেটা মেহনাজের বরের বন্ধু। মকবুলের পূর্ব পরিচিত কিছুটা। কে জানতো এই রওনকই জেরিনের বয়ফ্রেন্ড?

মকবুল চিঠি বাহক এবং একই সাথে পূর্ব পরিচিত হওয়াই

রওনক কিছুটা জোর করেই দুপুরের খাবারটা নামীদামী একটা রেস্টুরেন্ট থেকে খাইয়ে দিলো। কিন্তু মকবুলের হজম হলো না। সমস্ত খাবার পেট থেকে বের হয়ে আসলো। ঠিক এ ভাবেই জেরিনকেও মন থেকে বের করতে পারলো একটু স্বস্তি পাওয়া যেতো। অন্য কারো প্রেমিকাকে মনে বসত করতে দেওয়া অন্যায়। বদহজম হওয়ার চান্স থাকে।

চলবে......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন