ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমার নামের রোদ্দুরে

২য় পর্ব

লেখক: আশফিয়া হিয়া

#তোমার_নামের_রোদ্দুরে

#আশফিয়া_হিয়া

#পর্ব_২

( কপি পেস্ট বা কোনো রকম কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)।

বাড়ির গিন্নীরা রান্না ঘরে কাজে ব্যস্ত। কর্তারা অনেক আগেই অফিসের উদ্দেশ্য বের হয়েছেন। বাচ্চারা যে যার রুমে আছে। ডাইনিং টেবিলে আপাতত দুই মানব- মানবী বসা। এদিকটা আপাতত কেউই নেই ফাঁকাই রয়েছে। রুদ্ধ গম্ভীর স্বরে আবারও বলল,

- " কি হলো?আমি কোনো প্রশ্ন করেছি?"

আরু কেঁপে উঠল, নিজেকে সামলে বলল,

- " আমি কেনো আপনার মোবাইল ধরতে যাব?"

রুদ্ধ আরুর হাত আরও শক্ত করে চেপে ধরলো হিসহিসিয়ে বলল,

- " দেখিনি আমি?"

- " ভু..ভুল দেখেছেন।"

- " আমার চোখে সমস্যা বলছিস?"

আরু অবাক হওয়ার ভান করে বলল,

- " সেটা কখন বললাম!"

-" তাহলে কি বলেছিস?"

আরু মিনমিন করে বলল,

- " কিছুই তো বলিনি আমি।"

মনে মনে বলল চোখে সমস্যাই তো নাহলে কি আর আমার মতো পিচ্চি একটা মেয়ের মন নিয়ে এইভাবে ছিনিমিনি খেলতে পারতেন?

- " তোকে যেন আর আমার রুমে যেতে না দেখি। মনে থাকবে?" শেষের কথাটা ধমকে বলল রুদ্ধ।

আরু উপর - নিচ মাথা দোলাতে লাগল।

রুদ্ধ তার কপালে বেশ জোড়ে একটা টোকা দিল।

- " মুখে বল।"

আরু কপাল ডলতে ডলতে বলল,

- " আচ্ছা।"

____________

আহি আজ স্কুলে যায় নি পেট ব্যাথার বাহানা দিয়ে মেয়েটা বাড়িতে থেকে গিয়েছে। আহি রুম থেকে বের হয়ে উকি ঝুঁকি মারছে। সে মূলত ছাদে যেতে চাইছে। আজকের আবহাওয়াটা ভীষণ সুন্দর যেটি তাকে নিজের ঘরে থাকতেই দিচ্ছে না তবে ম মা দেখলে তার পিঠে ধুপধাপ পড়বে নিশ্চিত। ইয়াজ মাএ ঘুম থেকে উঠে রুম থেকে বের হলো সে কলেজে যায় নি। আরু আর তার সেম কলেজ হলেও ক্লাসরুম আলাদা। তাদের সব ভাই বোনদের ঘর দো - তলায় দেয়া হয়েছে পাশা - পাশি৷ নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আহিকে চোরের মতো উঁকি - ঝুকি দিয়ে দেখে ইয়াজের কপালে ভাঁজ পড়ল, সে এগিয়ে এসে আহির চুল টেনে ধরে বলল,

- " কিরে চুন্নি এইভাবে উকিঝুঁকি মারছিস কেন?"

- " উফফ চুল ছাড়ো তো। "

- " ছাড়বো না কি করবি? ওয়েট তোর আজকে স্কুল নেই?"

- " না নেই সরো তো।" বলেই দুই হাত দিয়ে ইয়াজকে ঠেলতে লাগলো।

- মেজো মায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া... আহি ইয়াজের চুল টেনে মুখ চেপে ধরল। ইয়াজের নিজের চোখ বড় বড় করে ফেলল কত বড় সাহস তার চুল ধরে টানছে ভাবা যায়? আহি তড়িঘড়ি করে বলল,

- " সরি সরি মাকে ডেকো না আমি তোমার কথা শুনছি।"

ইয়াজ আহিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল,

- " ফাজিল মেয়ে আমার চুল কি তুই সরকারি পেয়েছিস?"

- " স্যারি বললাম তো চেঁচাচ্ছো কেন? আর হবে না।" আহি মিনমিন করলো।

- " মনে থাকে যেন।" বলেই গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে চলে গেল।

আহি ভেংচি কাটলো তার হাবভাব দেখে।

______________

আরুর আজকে কলেজে একটা ক্লাস হয়নি। তিন বান্ধবি ক্যাম্পাসে বসে আছে। তিন জনের হাতেই আইস্কীম রয়েছে। আরু মুখ গোমড়া করে খাচ্ছে। তার গোমড়া মুখ দেখে তনিমা বলল,

- " কিরে মুখটা এমন লটকে বসে আছিস কেন?

জারিন বলল,

- " ওর তো মন খারাপ হওয়ার একটাই কারণ শেখ রুদ্ধ মাহতাব।

আরু হতাশার শ্বাস ফেলে বলল,

- " মানুষটা আসলে কি চাই বুঝতেই পারছি না। আমি এতো ইঙ্গিত দেয়ার পরেও উনি কি আমার অনুভূতি বুঝতে পারেন না?"

আরুর কথা শুনে দুজনেরই মন খারাপ হয়ে গেল। আরুর অনুভূতি সম্পর্কে তারা প্রথম থেকেই জানে।

তানহা আরুকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল,

- " থাক বাদ দে মন খারাপ করতে হবে না চল ফুসকা খেয়ে আসি?"

- ' এখন খেতে ইচ্ছে করছে না। ' জেরিন তার মন খারাপ বুঝতে পেরে বলল,

- " বাইরে যাবি?" জেরিনের কথা শুনে আরু আতকে উঠলো।

- " না না বাইরে যাওয়া যাবে না উনি জানলে আমি শেষ। গলায় হাত দিয়ে মরার ভঙ্গি করলো সে। আরুর অ্যাক্টিং দেখে দুই বান্ধবি হেসে উঠলো।

তনিমা বলল,

-" আরে চল কিছু হবে না। যাই না চল প্লিজ প্লিজ।

ওদের এতো জোড়াজোড়িতে আরু রাজি হয়ে গেল। তার নিজেও যেতে ইচ্ছে করছিলো কিন্তু ঔই নিমপাতার জন্য কোথাও গিয়ে শান্তি নেই তার কানে ঠিকই খবর পৌছে যায়।

তিন বান্ধবি বাইরে বের হয়ে এদিক সেদিক ইচ্ছেমতো ঘুরলো। সামনে যা পাচ্ছে তাই খাচ্ছে কিচ্ছু বাদ নেই। আরুর হাতে এখন আরও একটা আইস্কিম। চকলেট ফ্লেভারের কোন একটু একটু করে খাচ্ছে আর গল্প করছে। হঠাৎ করে ওদের সামনে ওদের ক্লাসমেট রিহান এসে হাজির।

- " আরু তোমার সাথে একটু কথা ছিল।

তার তুমি বলা আর লজ্জা পাওয়া দেখে আরু বিরক্ত হলো। কি ঢং শুরু করেছে এটা? আরু বিরক্ত হয়ে বলল,

- " এইটা আবার কি নতুন ঢং তুমি তুমি শুরু করেছিস কেনো?"

রিহান আরোও একটু লজ্জা পাওয়ার ভান করে বলল,

- " তোমাকে কিছু বলতে চাই?"

- " কি বলবি বলে ফেল আমাদের সময় নেই। পাশ থেকে তানহা বলে উঠলো।

রিহান ব্যাগ থেকে একটা চিঠি বের করে আরুর হাতে দিয়ে দৌড় দিল কোনোরকম। আরুর হাত থরথর করে কাপঁতে লাগলো। তার কাঁপা কাঁপা হাত দেখে তনিমা চিঠিটা নিজের কাছে নিয়ে নিল। আশেপাশে ভালো মতো দেখলো রুদ্ধ যদি এসব কোনোভাবে জানতে পারে সে শেষ। তনিমা চিঠি খুলে শব্দ করে পড়তে লাগল। চিঠির লেখাগুলো পড়ে তিন বান্ধুবী হেসে গড়াগড়ি খেল।

চলবে?

( গল্পটা কেমন লাগছে অবশ্যই জানাবেন। যারা গল্পটা পড়বেন সবাই রেসপন্স করবেন প্লিজ।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন