ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমার নামের রোদ্দুরে

৩য় পর্ব

লেখক: আশফিয়া হিয়া

#তোমার_নামের_রোদ্দুরে

#আশফিয়া_হিয়া

#পর্ব_৩

( কপি পেস্ট বা কোনোরকম কপি করা নিষিদ্ধ)

- " চিঠিটা কোথায়?"

- " কিসের চিঠি?"

রুদ্ধ উওর দিল না আরুর পাশ কাটিয়ে পড়ার টেবিল আরুর ব্যাগ সব তন্নতন্ন করে খুঁজলো।আরু অবাক হয়ে রুদ্ধর কার্যকলাপ দেখতে লাগলো। আরু মনে মনে ভাবল,

-"নিমপাতাটা কি চিঠির কথাটা জেনে গেল? জানতেও পারে উনার কাছে তো সব খবরই থাকে।

ওয়েট উনি এতোটা রিয়্যাক্ট করছে কেন? উনি কি জেলাস? " আরুর খুশিতে লাফাতে ইচ্ছে করছে। তবে রুদ্ধর সামনে আনন্দটা প্রকাশ করতে পারছে না। চিঠিটা তো সে বাড়িতে ঢোকার আগেই ফেলে দিয়ে এসেছে। ওটা যদি কোনোভাবে মায়ের হাতে পড়ত তাকে মেরে তক্তা বানাত।

রুদ্ধ তেড়ে এসে আরুর হাত পিছন থেকে মুচড়ে ধরলো।হাতটা ভীষণ জোরে চেপে ধরেছে ব্যাথায় আরুর চোখ - মুখ কুঁচকে গেল। রুদ্ধর গরম নিশ্বাস আরুর মুখের ওপর পড়ছে। রুদ্ধ রাগে ফসফস করছে শুধু। আরু রুদ্ধর চোখে চোখ রেখে বলল,

- " ব্যাথা পাচ্ছি। ছাড়ুন।"

- " কলেজ থেকে বের হয়েছিস কেন?"আরু চুপ করে রইল।

- " কি বলেছি কথা কানে যাচ্ছে না?" রুদ্ধ ধমকে উঠল।

- " তো কি করবো? আমার বুঝি বাইরে যেতে ইচ্ছে করে না? বাবা - চাচ্চুর কারোও সময় হয় না নিয়ে যাওয়ার। আর আপনি.. আপনিও তো নিয়ে যান না।" শেষের কথাটা মিনমিন করে বলল।

রুদ্ধ আরুর হাত ছেড়ে দিল। হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে গেল। চোখ বুঝে নিশ্বাস ছাড়ল।

- " ছেলেটার নাম কি?"

- " রি.. রিহান।"

-" ডিস্টার্ব করেছে?"

- " না।"

- " খেয়েছিস?"

-" না। "

- " নিচে আয়।"

রুদ্ধকে শান্ত হতে দেখে স্বস্তির শ্বাস নিল আরু। যাক বাচাঁ গেল।

***********

ডাইনিং টেবিলে আপাতত বাড়ির বাচ্চারা রয়েছে। মা- চাচিরা খাবার পরিবেশন করতে ব্যস্ত। রুদ্ধকে এই সময়ে বাড়িতে দেখে বড়রা কিছুটা অবাক হলো।

রুমা বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞেস করলেন-

- কিরে বাবা শরীর খারাপ লাগছে? এত তাড়াতাড়ি চলে এলি?"

- " কিছু না মা আমি ঠিক আছি।" রুদ্ধ মাকে দেখে হালকা হাসল।

মিতা বেগম রান্নাঘর থেকে আজকের স্পেশাল ডিশ নিয়ে আসলেন গরুর মাংস। গরুর মাংস এ বাড়ির সবারই খুব পছন্দের বিশেষ করে আরু আর রুদ্ধর। এটা পেলে তাদের আর কিছুই লাগে না। আরুর ভীষণ ক্ষিদে পেয়ে গিয়েছিল। তাই নিজের ঘর থেকে এক প্রকার দৌড়ে এল। আরুকে সিড়িঁ দিয়ে দৌড়ে আসতে দেখে মিতা বেগম খ্যাঁক করে উঠলেন।

- ' এত বড় মেয়ে হয়েছে এখনো লাফালাফি কমলো না,ধীরে - সুস্থে আসা যায় না? পড়ে গেলে কে ব্যাথা পাবে শুনি?'

রুমা বেগম বললেন,

- আহ্ মেজো চুপ কর তো তুই বাচ্চা মেয়ে এখনই তো এসব করবে।"

আরু মুখটা ছোট করে টেবিলে গিয়ে বসলো। রুদ্ধর দিকে তাকাতেই দেখল রুদ্ধ তার দিকে তাকিয়ে আছে। আরুর মুখটা নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে। আরু চোখ সরিয়ে নিল। এই চোখে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। রুদ্ধ মাংসের বাটিটা তার দিকে এগিয়ে দিল। আরুর মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠল। মানুষটা এমন অপ্রকাশির যত্ন দেখেই তো সে বার বার তার প্রেমে পড়ে যায়।

_____________

সন্ধ্যায় আরু ইয়াজ আর আহি একসাথে পড়তে বসেছে। ইয়াজ হঠাৎ করে আহির খাতা টেনে নিল।

-" বলতো ( a+ b)2 এর সূএ কি?? "

আহি চটপটে কন্ঠে জবাব দিল,

- " I love you"

ইয়াজ ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। আরু আহির দিকে কলম ছুড়ে মারল।

- " হোয়াট! এসব কে শেখায় তোকে ফাজিল মেয়ে।"

- " এটা তো আপুই আমাকে শিখিয়েছে। "

- " এই বেয়াদব এটা তোকে আমি কখন শিখিয়েছি? দাঁড়া তুই।"

আরু আহির পিছনে দৌড় লাগালো। আহি দৌড়ে ছাদের সিঁড়ির দিকে চলে গেল। রুদ্ধ মাএই বাইরে থেকে এল। উপরের সিঁড়িতে উঠতেই আরুর সাথে খুব জোড়ালো ধাক্কা খেল।

রুদ্ধ আরুকে ঝাপটে ধরল। আরু চোখ খিঁচে বন্ধ করে রাখল। পেছন থেকে রুদ্ধর শার্ট মুঠো করে ধরল। ভয় পেয়েছে ভীষন। আহি রুদ্ধকে দেখেই ছাদের দিকে দৌড় দিয়েছে।

চলবে?

( কি লিখছি নিজেও জানি না। গল্পটা কেমন লাগছে অবশ্যই জানাবেন।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন