ফন্ট সাইজ:
থিম:
চৈত্রিকা

১ম পর্ব

লেখক: বোরহানা আক্তার রেশমি

১.

-তোর বিয়ে পাকা হয়ছে চৈত্র। জমিদারের বড় ছেলের সাথে। ওই যার বউটা ম'রলো না! পরবর্তী জমিদার প্রহর রেনওয়াজ।'

মামাতো বোন সাথীর কথায় চোখ পিটপিট করে তাকায় চৈত্রিকা। বেশ অবাকই হয়েছে বটে সে। তার বিয়ে কি না বিবাহিত পুরুষের সাথে! তার বয়স কেবল ১৭ আর তার জানামতে জমিদারের সে ছেলে তার চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী। যেমন রাগী তেমন গম্ভীর, তেজী, অহং'কারীও বটে। সে ছেলেকে পুরো গ্রাম ভয় পায়। জমিদার চয়ন রেনওয়াজের দয়া মায়া থাকলেও প্রহর রেনওয়াজের মধ্যে দয়ামায়ার ছিটেফোঁটাও নেই। নেই মানুষকে বোঝার ক্ষমতা। সুদর্শন এই পুরুষের মনে কোনো নারী দাগ টানতে না পারলেও তার বউ মহুয়া ভীষণ করে দাগ টেনেছিলো। সে বউয়েরও মৃ'ত দেহ উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩ মাস আগে। চৈত্রিকা নিজের হাতে চুলগুলো আলগোছে খোঁপা করে নিলো। বারান্দা ছেড়ে উঠে নিজের মাটিতে গড়াগড়ি করা শাড়ির আঁচল ঠিক করতে করতে অনুভূতিশূণ্যের মতো বললো,

'বিয়েটা কি মামা ঠিক করলো!'

সাথী মাথা নাড়ায়। চৈত্রিকা আর কিছু না বলে নিজ জায়গা ত্যাগ করে। সাথী জানে এই নিশ্চুপতার কারণ৷ সে জানে এই বিয়েটা চৈত্রিকা করবে। দীর্ঘশ্বাস নেয় সে। চৈত্রিকার ভাগ্যের কথা ভেবে আফসোসও করে। এই তো গতবছর বাবা মা হারালো মেয়েটা। এই মেয়ের সৌন্দর্যের জন্য তার ফুপিমনিরা কতবার যে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলো। যেখানেই যাক না কেনো! হা'য়নারা সবসময় উৎ পেতে থাকে। মায়াবী চোখে যখন মেয়েটা তাকায় তখন মনে হয় এ চোখেই ডুবে ম'রা যাবে৷ নামের মতোই তার তেজ। মেয়েটার দিকে তাকালে মনে হয় চৈত্র মাসের উত্তপ্ত রৌদ্রের মতো চোখ ঝলসে যাবে। অথচ মেয়েটা কি ভীষণ শীতল স্বভাবের। মেয়েটা বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের মেয়ে হওয়া স্বত্বেও এখানে পড়ে থেকে তাকে অ'ত্যা'চা'র সহ্য করতে হয়। জমিদারের সুপুত্রকে বিয়ে করাটা অনেক মেয়ের কাছে সৌভাগ্য হলেও চৈত্রিকার জন্য তা ভ'য়ং'কর। আর যদি হয় তা প্রহর রেনওয়াজ তাহলে যেকোনো মেয়ে তার ভ'য়ং'কর রুপের কথা জানে। হঠাৎ তাদের নজর চৈত্রিকার দিকে পড়ার কারণ কি!

চৈত্রিকা এলোমেলো পায়ে মামার ঘরে আসে। ঘরের বাহির থেকে টোকা দিয়ে বললো, 'আসবো মামা!'

ভেতর থেকে চৈত্রিকার কন্ঠ শুনে আজম আলী লাফিয়ে উঠলেন। চকচক করা চোখ দুটো নিয়ে দ্রুত কন্ঠে বললো, 'আয় চৈত্র।'

চৈত্রিকা নিজেকে শক্ত করে নেয়। আশে পাশে তাকিয়ে হাতের মুঠো শক্ত করে নিজের শাড়ি ঠিক করে নেয়। আঁচল দিয়ে নিজেকে ঢেকে ঘরের মধ্যে পা রাখে। আজম আলী দৌড়ে এসে চৈত্রিকার বাহুতে হাত রেখে বললো, 'বোস এখানে!'

তার হাতদুটো শুধু ধরে রাখাতে নেই। হাত ততক্ষণে স্লাইড করা শুরু করেছে। চোয়াল শক্ত হয়ে আসলেও স্বাভাবিক ভাবেই মামার হাত সরিয়ে দিতে নিলে আজম আলী সে হাতই চেপে ধরে। চৈত্রিকা চমকে হাত সরাতে সরাতে বলে,

'হাত ছাড়েন মামা! আমি কিন্তু প্রহর রেনওয়াজকে সব বলে দিবো!'

প্রহরের কথা আসতেই আজম আলী ভ্রু কুঁচকায়। হাতটা ছেড়ে দিয়ে সন্দিহান কন্ঠে বলে, 'প্রহর রেনওয়াজকে বলে দিবি মানে? কি বলবি? আর সে তোর কথা শুনবে? '

চৈত্রিকা মৃদু হাসে। হাতের মুঠোয় রাখা সেফ্টিপিনটা হাতেই ঘুরাতে ঘুরাতে উত্তর দেয়, 'আপনিই না আমার বিয়ে পাকা করে এসেছেন! তা প্রহর রেনওয়াজের হবু বউয়ের গায়ে হাত লাগলে বুঝি উনি আপনাকে ছেড়ে দেবে?'

আঁতকে ওঠে আজম। কি বললো এটা চৈত্রিকা! প্রহর আর চৈত্র! হিসাবটা গড়মিল হলো। কোনো কিছু হাতড়েও খুঁজে পেলো না। অবশেষে চৈত্রিকাকেই বেশ ব্যস্ত কন্ঠে শুধালো,

'তোকে কে বললো আমি বিয়ে পাকা করেছি!'

চৈত্রিকা উত্তর দিলো না। শুধু বললো, 'তাদের বলে দিবেন আমি রাজী।' এটুকু বলেই ঘর ছাড়ে চৈত্রিকা। আজম আলী মাথাায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। তিনি যা ভাবছেন তা যদি হয় তবে ধ্বং'সের খেলা শুরু হয়ে যাবে। একের পর এক পাপ ধীরে ধীরে শেষ হবে। শেষ হবে জমিদারের একেকটা পাপ। তার এই জমিদারী বেশিদিন কুলোবে না। ব্যস্ত পায়ে নিজের ঘর থেকে বের হয়ে ছুট লাগালেন জমিদার বাড়ির দিকে। চৈত্রিকা মামার ব্যস্ত পায়ে যাওয়াটা দেখে হাসলো। গুণগুণ করে গান ধরে। ছোট ছোট পায়ে এগিয়ে এসে সাথীর কাছ ঘেষে দাঁড়ায়। সাথী কিছুক্ষণ মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,

'তুই তাহলে বিয়েটা করছিস!'

'না করার কি আছে! কোনো মেয়ে কি চাই এতো ভালো সম্বন্ধ ছেড়ে দিতে! তাও আবার আমার মতো বাপ-মা ম'রা মেয়ে!'

'অন্তত আমাকে বুঝ দিস না চৈত্র। আমি তোকে চিনি৷ আমি জানি তোকে। তুই কতটা ঘৃ'ণা পুষে রেখেছিস ওই জমিদারদের জন্য তা তো আমার থেকে ভালো কারোর জানার কথা না! কিন্তু তাই বলে বিয়ে?'

চৈত্রিকা একটা কথারও জবাব দিলো না। শুধু চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে রইলো৷ বুকের ভেতরটা দাউ দাউ করে জ্বলছে অথচ ওপরটা কত শান্ত। এটাই কি চৈত্রিকার বৈশিষ্ট্য! যে মেয়ের রুপে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। যাকে এক নজর দেখলে সহজেই মায়ায় পড়ে যাওয়া যায় সে মেয়ের মনে ভেতর এতো জ্বলন্ত আগুন কেন? কেউ কি এই মায়াবী চেহারা দেখে ঘুনাক্ষরেও টের পাবে মেয়েটার ভেতরের দহন!

সাথী কয়েক পল তাকিয়ে থাকে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, 'আব্বার রুমে কেনো গেছিলি?'

চৈত্রিকা ঠোঁট প্রসারিত করে হাসে। সাথীর হাতের ফাঁকে হাত গলিয়ে এগোতে এগোতে বলে, 'কেনো আবার! আমি যে বিয়েতে রাজি তা বুঝি বলবো না!'

সাথী আর কিছু বলে না৷ চৈত্রিকার সাথে পা মিলিয়ে হাঁটতে থাকে। চৈত্রিকা হাঁটতে হাঁটতে মুখে একটা কাপড় বেঁধে নেয়। সাথী জানে এটার মানে। তাই সে নিজেও মুখটা বেঁধে নেয়৷ দুজনে শাড়ি ঠিক করে ফের হাঁটতে শুরু করে৷ হাঁটতে হাঁটতেই চৈত্রিকা শুধায়,

'মামী কোথায় রে সাথী? সকাল থেকে একবারও দেখলাম না যে!'

'আম্মা একটু নানার বাড়ি গেছে। কি যেনো কাজ আছে তাই সকালেই বেড়িয়ে গেছে।'

চৈত্রিকা আর প্রশ্ন করে না। তবে কাপড়ের নিচে থাকা তার মুখের কোণে লেগে থাকে অদ্ভুত হাসি। কিছুটা পথ যাওয়ার পর বলে, 'কোথায় যাবি চৈত্র?'

'তোর হবু দুলাভাই অর্থাৎ জমিদারের বড় পুত্র প্রহর রেনওয়াজের সাথে ছোট্ট একটা সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছি।'

থেমে যায় সাথীর পা। আঁতকে উঠে দু পা পিছিয়েও যায়। আতঙ্কিত চোখে চৈত্রিকার দিকে তাকিয়ে বলে, 'তোর মাথা ঠিক আছে? ওদিকে যাওয়া তো আমাদের জন্য নিষেধ। মা কি বলেছে মনে নেই তোর?'

'মামী আমাদেরকে জমিদারের বাড়িতে যেতে নিষেধ করেছে। আমরা কি জমিদারের বাড়ি যাবো নাকি গা'ধী?'

' তাহলে কোথায় যাবি?'

'চল! এখন যেখানে তাকে পাওয়া যাবে সেখানেই যাবো। শুধু ছোট্ট একটা সাক্ষাৎ দিয়ে উধাও হয়ে যাবো।'

সাথী চৈত্রিকার কথার মানে বুঝলো না। তবে ভয় পেলো ভীষণ। যাবে না যাবে না করেও চৈত্রিকার জিদের সাথে হার মেনে সে যেতে রাজি হলো। সাথীর এতো ভয় পাওয়াটা মোটেও তার পছন্দ হয়নি। তবে এ ভয়ের কারণ তার কাছে অজানা নয়। দুজনে একটা বাগান পেড়িয়ে পুকুরপাড়ে আসে। একটা বড় গাছের পেছনে লুকিয়ে আশে পাশে দৃষ্টি দিতেই সাথী আতঙ্কিত কন্ঠে বলে,

'চৈত্র রে আর এগোনোটা ঠিক হবে না রে। সামনে এগোনো মানেই বিপদ নিজের দিকে টেনে আনা। এমন ভুল করিস না।'

চৈত্রিকা জবাব দেয় না। আশে পাশে ভালো করে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকায়। কেউ দেখে ফেলার চান্স নেই ভেবেই সাথীর হাত টেনে এগোতে নেয়। সাথী না এগিয়ে করুণ কন্ঠে বলে,

'যাস না চৈত্র। বিপদ হবে।'

'কিছু হবে না। আমার ওপর ভরসা নেই তোর?'

'আছে। তবুও?'

চৈত্রিকা থামিয়ে দিয়ে বলে, 'তবুও টবুও আর কিচ্ছু না। প্রহর রেনওয়াজের কাছে আমার জবাব চাই।'

'তুই না বললি ছোট্ট একটা সাক্ষাৎ দিয়ে বাড়ির পথে যাবি। তবে কিসের জবাব?'

চৈত্রিকা ঠোঁট বাকিয়ে হাসে। সাথী দেখে না সে হাসি৷ সে তখনো আতঙ্কিত চোখে আশে পাশে তাকাচ্ছে৷ তার বারংবার মনে হচ্ছে বিপদ কাছে অথচ চৈত্রিকা এসব কিছু মানতেই নারাজ। শেষমেশ চৈত্রিকার কাছে হার মেনে সে চৈত্রিকার হাত চেপে মেপে মেপে পা ফেলে। গাছের আড়াল দিয়ে এগিয়েই একটা এক তলার পাকা, টিনশেড বাড়ির পেছনদিকে দাঁড়ায়। আরো একবার আশে পাশে ভালো করে দেখে নিয়ে জানালার ছোট্ট কপাটে চোখ রাখে। সাথীও একপাশ দিয়ে চোখ রাখতেই চমকে ওঠে। অস্পষ্ট স্বরে বলে,

'আব্বা!'

সাথে সাথেই মুখ চেপে ধরে চৈত্রিকা। ফিসফিস করে বলে, 'চুপ! কথা বলবি না। দেখ কি হয়!'

সাথী কেঁপে কেঁপে ওঠে। চৈত্রিকার এক হাত শক্ত করে চেপে ধরে তাকায় ঘরের ভেতর। সেখানে প্রহর রেনওয়াজের জায়গায় তার বাবা চয়ন রেনওয়াজ আর চৈত্রিকার মামা আজম আলী বসে কিছু নিয়ে আলোচনা করছে। আজম আলী জমিদারের উদ্দেশ্যে বললো,

'জমিদার সাহেব আমি কখনো আপনার কথার ওপর কথা বলিনি। যখন যা বলেছেন, যা অর্ডার করেছেন সবটাই তো করেছি কিন্তু এ কেমন প্রস্তাব? চৈত্রকে কেন পুত্রবধূ করতে চাচ্ছেন? জানেন না 'ও' কার মেয়ে?'

চয়ন রেনওয়াজ বেশ গম্ভীর স্বরে বললেন, 'আমি সবই জানি। কিন্তু এখানে আমার কিছু করার নেই। তাছাড়া তোমার বোন আর বোনজামাই তো ম'রেই গেছে।'

'তবুও একবার ভেবে দেখবেন। ওই মেয়ে কিন্তু এতোটাও সরল না যতটা আমরা ভাবি। ওই মেয়ে ভ'য়ং'কর। চৈত্র মাসের উত্তপ্ত রৌদ্রের মতো তার তেজ, তার স্বত্তা।'

'ভেবো না আজম আলী। তোমার ভাগ্নী একবার জমিদার গৃহে প্রবেশ তো করুক তারপর দেখবে কিভাবে প্রহর তার বি'ষ দাঁত ভেঙে দেয়!'

আজম আলী সন্তুষ্ট হলেন না। মনে মনে কয়েকটা বি'শ্রী ভাষায় গা'লি দিলো। তারপর বিদায় নিয়ে ঘর থেকে বের হতে হতে বললো, 'শা'লা বুড়ো! তুই আর তোর ছেলে যখন নিজ ইচ্ছায় ম'রণ ডেকে আনতে চাস তখন ম'র। ভেবেছিলাম সুন্দরী ভাগ্নীটাকে কাছে রেখে আনন্দ করবো এখন তো আর তাও হবে না। এই দুই শা'লার জন্য আমার বারা ভাতে সবসময় ছাই পড়ে।'

চৈত্রিকা নিজের মামার যাওয়ার দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায়। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে। কবে যেন সে নিজ হাতে এইটাকে খু'ন করে দেয়। শুধুমাত্র মামী আর সাথীর জন্যই এখনো সে চুপচাপ। এদের জন্য পাকাপোক্ত ভাবে কিছু করতেই হবে। সাথী ফ্যালফ্যাল করে নিজের আব্বার যাওয়ার দিকে তাকায়। তার আব্বার চরিত্র সম্পর্কে সে খুব ভালো করেই জানে। লোকটাকে তার আব্বা বলতেও ভীষণ ঘৃ'ণা করে। অথচ বাস্তব সত্য এই লোকটাই তার জন্মদাতা। নিজেকে সামলে চৈত্রিকার দিকে তাকিয়ে বলে,

'জমিদারের বড়পুত্র তো এখানে নেই চৈত্র। এখন!'

চৈত্রিকা ভ্রু কুঁচকায়। আসলেই তো! আজকে প্রহর এখানে নেই কেনো? ভাবতে না ভাবতেই তাদের বক্ষ কাঁপিয়ে এক কন্ঠ ভেসে আসে,

'কে ওখানে? কি করছো ওখানে দাঁড়িয়ে!'

#চৈত্রিকা

#সূূচনা_পর্ব

#বোরহানা_আক্তার_রেশমী

চলবে..

(আসসালামু আলাইকুম। ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রথম পর্ব পড়েই দয়া করে কেউ বা'জে মন্তব্য করবেন না। অন্যান্য সব গল্পের মতো আশা করি এই গল্পেও আপনাদেরকে পাশে পাবো। এক পর্ব পড়েই কেউ পুরো থিমটা ভেবে ফেলবেন না।)#চৈত্রিকা (২)

#বোরহানা_আক্তার_রেশমী

__________

২.

পড়ার রুমে চেয়ারে বসে বসে কলম চিবুচ্ছে চৈতালী। বার কয়েক আড়চোখে তাকিয়েছে তার মাষ্টারমশাই নিবিড়ের দিকে। নিজের খাতার দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হলো সে। কলম রেখে উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে বললো,

'মাষ্টারমশাই একটা কথা বলি?'

নিবিড় গম্ভীর স্বরে বললেন, 'আগে যা করতে দিয়েছি তা করো!'

'আগে কথাটা বলি!'

'নাহ।'

চৈতালী ঠোঁট উল্টায়। গাল ফুলিয়ে দুগালে হাত রেখে নিজের অঙ্ক খাতার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ফের চকচকে চোখ নিয়ে বললো, 'মাষ্টারমশাই জানেন আমার সই হিমানীর ক'দিন পর বিয়ে। ওর বাবা ওর জন্য কতো কতো জিনিস কিনে এনেছে৷ ইসস কি সুন্দর বেনারসি, গহণা। আচ্ছা মাষ্টারমশাই ওর বিয়ে উপলক্ষে আমাকে ছুটি দিবেন না?'

নিবিড় এবার চোখ মুখ কুঁচকে তাকায় চৈতালীর দিকে। এ মেয়েটা পড়ালেখায় এতো ফাঁকিবাজ কেনো সে ভেবে পায় না! আচ্ছা জমিদার বাড়ির মেয়ের মাথায় এতোই গোবর পড়া কেনো? হবে না! পড়ে কম সারাদিন লাফানো, ঝাঁপানো আর বকবক নিয়েই ব্যস্ত থাকে। নিবিড় না পারে দু ঘা লাগাতে আর না পারে এসব সইতে। নেহাৎ ই জমিদারের মেয়ে বলে সে বাধ্য হয়েই পড়াচ্ছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে একবার চৈতালীর খাতার দিকে তাকিয়ে বলে,

'তুমি অঙ্কটা শেষ করবে নাকি আমি তোমার মেজো ভাইকে ডাকবো?'

চৈতালী ফট করে খাতায় মন দেয়। মেজো ভাইকে সে প্রচন্ড ভয় পায়। এর আগে দুবার চৈতালীকে থা'প্প'ড় মে'রেছিলো। মাঝে মাঝে চৈতালী এর ওর বিয়ে দেখে আর আফসোসের সুরে বলে, 'ইশশ এরা সবাই বিয়ে করে পড়ালেখা থেকে কি সুন্দর ছুটি পেয়ে গেছে। কবে যে আব্বাজান আমার বিয়েটা দিবে!'

নিবিড় চুপচাপ চৈতালীর অঙ্ক খাতার দিকে তাকিয়ে থাকে। সামনে মেয়েটার এসএসসি পরীক্ষা অথচ পড়াশোনায় পুরোটাই ডাব্বা। চয়ন রেনওয়াজের ৩ পুত্রের পর এই একটি মাত্রই কন্যা। সবচেয়ে আদরের। মেয়েটা ভীষণ বোকাসোকা। সারাদিন বাচ্চাদের মতো লাফানো আর অতিরিক্ত কথা বলা ছাড়া কিছু পারে না। চয়ন রেনওয়াজ মাঝে মাঝে ভীষন চিন্তায় পড়ে যায়। এই তো কিছুদিন আগে টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। অনেকে ১/২ সাবজেক্টে ফেল করলেও চৈতালী ফেল করেছে পুরো ৫ টা সাবজেক্টে। অদ্ভুত ভাবে তার মধ্যে বাংলাও আছে৷ অঙ্কে পুরো ১০০ এর মধ্যে ইয়া বড় গোল্লা নিয়ে বসে আছে৷ যেখানে চয়নের বড় ছেলে প্রহর আর ছোট ছেলে চিত্র পড়ালেখায় সবসময় প্রথম সেখানে চৈতালীর এহেন রেজাল্ট দেখে পুরো বাড়ি হতাশ। মেজো ছেলে পিয়াস এইচএসসি পরীক্ষার পর পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছিলো তবুও তো তার রেজাল্ট এতো খারাপ না। এসব ভাবলেই চয়ন শুধু হতাশার শ্বাস ফেলে৷ আদরের একমাত্র মেয়ে হওয়ায় সে কিছু বলেও না। চৈতালীর গোবর পড়া মাথার জন্য তার কোনো শিক্ষকও টিকে না। সবাই জমিদারের কাছে ভয়ে ভয়ে হলেও বলে দেয় এই মেয়েকে তারা পড়াবে না। শেষমেশ সে এই গ্রামে ছেলেমেয়েদের পড়ায় নিবিড়কে ধরে এনেছে মেয়েটার মাথার গোবর থেকে সার উৎপাদনের জন্য৷ তবে মনে হয় না এ কাজ নিবিড়ের দ্বারা হবে বলে! নিবিড় যখন নিজের ভাবনায় ব্যস্ত তখন চৈতালী কলমের গুতো দেয় তাকে। অন্যমনষ্ক হওয়ায় খানিকটা চমকায় নিবিড়। পরক্ষণেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,

'কি হয়েছে তোমার? আমি কিন্তু সত্যি সত্যি তোমার মেজো ভাইকে ডেকে আনবো।'

চৈতালী চোখের পাতা বার কয়েক ঝাপটিয়ে ভীত স্বরে বলে, 'আপনি সবসময় এমন করেন কেনো মাষ্টারমশাই? একটাই তো কথা বলবো। এতে মেজো ভাইকে কেনো ডাকবেন?'

'যা বলবে তাড়াতাড়ি বলে অঙ্কে মন দাও নয়তো এবার পিঠে লাঠির বা'রি পড়বে।'

'কিছুদিন পর হয়তো বড় ভাইজানের বিয়ে। তখনও কি আমাকে ছুটি দিবেন না মাষ্টারমশাই?'

নিবিড় অবাক হয়ে বলে, 'তোমার বড় ভাইয়ের বিয়ে?'

চৈতালীর চোখ চকচক করে ওঠে। মাথা কিছুটা নিবিড়ের দিকে এগিয়ে ফিসফিস করে বলে, 'হ্যাঁ। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে শুনেছি আম্মাজানের কথা। হয়তো এমাসেই ভাইজানের বিয়ে।'

'কার সাথে বিয়ে?'

চৈতালী মন খারাপ করে বলে, 'সে তো জানি না। তবে ভাবীজান নাকি অনেক রুপবতী। একদম চন্দ্রের মতো। কিন্তু আমার মহুয়া ভাবীই বেষ্ট ছিলো৷ কেনো যে সে চলে গেলো!'

৩.

চৈত্রিকা আর সাথী ফাঁকা ঢোক গিলে ধীরে সুস্থে পিছনে ফিরে তাকায়। একটা ছোট ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাফ ছেড়ে বাঁচে। ছেলেটা তখনো তাদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। চৈত্রিকা আর সাথীর কোনো উত্তর না পেয়ে সে এগিয়ে আসে। মাথা উঁচিয়ে দুজনকে দেখে বেশ ভাবুক স্বরে বলে,

'মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা কেনো? এখানে কি করছিলে তোমরা?'

চৈত্রিকা খানিকটা হাসে। বাচ্চা ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, 'এমনিতেই এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম গো।'

'তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? জানো না এখানে জমিদাররা থাকে।'

'হ্যাঁ আসলে আমার বোনের ভীষণ পানি পিপাসা পেয়েছিলো তাই দাঁড়িয়ে গেছি। আমরা এক্ষুণি চলে যাবো। তুমি যাবে?'

পিচ্চিটা কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঠোঁট প্রশস্ত করে হাসে। চৈত্রিকা আর সাথীর সাথে পা মিলিয়ে সেও হাঁটতে হাঁটতে বলে, 'তোমরা পানি খেয়েছো নাকি এনে দেবো?'

'নাহ নাহ খেয়েছি। তুমি এখানেই থাকো?'

'হ্যাঁ আমার মা জমিদারের বাড়িতে কাজ করে।'

চৈত্রিকা 'ওহ' বলে। পিচ্চি ছেলেটার সাথে কতক্ষণ এটা ওটা নিয়ে কথা বলে। জানতে পারে ছেলেটার নাম আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ খুব সহজেই মিশে গেলো চৈত্রিকার সাথে। চৈত্রিকার মুখের কাপড় দেখে ওদিকে আঙুল তুলে বলে,

'তোমরা এমন মুখে কাপড় বেধেছো কেনো?'

'আব..আসলে হয়েছে কি! আমাদের বাড়ির নিয়ম এটা।'

আব্দুল্লাহ ঠোঁটের কোণে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ ভেবে বলে, 'ওহ আচ্ছা।'

সাথী, চৈত্রিকা, আব্দুল্লাহ এগোতে এগোতে গল্প করে। একপর্যায়ে চৈত্রিকা হাসতে হাসতে বেশ কৌশলে জিজ্ঞেস করে প্রহরের কথা। আব্দুল্লাহ ফাঁকা ঢোক গিলে মুখটা শুকনো করে ফেলে। বেশ মিনমিনে স্বরে বলে,

'ওই জমিদারপুত্রের কথা আমাকে বলিও না। আমি কিছু জানি না।'

বলেই চৈত্রিকার হাত ছেড়ে ছুটে পালায়। চৈত্রিকা কপালে ভাজ ফেলে সেদিকে তাকিয়ে থাকে। সাথী ভীত দৃষ্টিতে তাকায়। আতঙ্কিত স্বরে বলে, 'আব্দুল্লাহ ভয় পেয়েছে বলে মনে হলো না!'

চৈত্রিকা মাথা নাড়ায়। ভীতু বোনটির হাত শক্ত করে চেপে ধরে। তারপর নিজেদের বাড়ির দিকে হাঁটা লাগায়। চৈত্রিকাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দুর থেকে হাসে কেউ। চৈত্রিকারা চোখের আড়াল হতেই তার অবয়বও মিলিয়ে যায় ক্ষণ মুহুর্তেই।

৪.

চারদিকে অন্ধকারে ছেয়ে আছে। ঝিঝিপোকার শব্দ আর থেকে থেকে শেয়ালের ডাক ভেসে আসছে দুর থেকে। সবকিছু উপেক্ষা করে এই রাতের অন্ধকারেই চৈত্রিকা বসে আছে দীঘির পাড়। আঁচল মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। চাঁদের আলো সরাসরি তার মুখে আছড়ে পড়ছে। এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে পানির দিকে। আশে পাশে কি হচ্ছে তার বিন্দুমাত্রও ভ্রুক্ষেপ নেই। স্বচ্ছ জলে চাঁদের প্রতিবিম্ব দেখে হাসে। বিড়বিড় করে বলে,

'চন্দ্র!'

সে সময় ধীর পায়ে এগিয়ে আসে সাথী। মেয়েটা তুলনার চেয়ে একটু বেশিই ভীতু। বার কয়েক ঢোক গিলে বলে, 'এই চৈত্র তুই রাতের বেলা এখানে কি করিস? আব্বা জানলে কি হবে!'

চৈত্রিকা জবাব না দিয়ে হাসে। শান্ত চোখে তাকায় সাথীর দিকে৷ সাথী চমকে ওঠে। ভীত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে নিজের শাড়ি আঁকড়ে ধরে। চৈত্রিকা স্বাভাবিক ভাবেই বলে,

'এখানে বোস! গল্প করি।'

সাথী কোনোরকমে ভাঙা ভাঙা ভাবে বলে, 'ন-নাহ। তুই বাড়ির মধ্যে আয়।'

চৈত্রিকা মুখ ফিরিয়ে নেয়। চোখে মুখে ভেসে ওঠে ভ'য়ং'কর রাগ। নিজের জায়গা ছেড়ে উঠে দু পা এগিয়ে রাতের বেলাতেই চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে নেয়। তারপর পানির দিকে নিজের কাঁপা কাঁপা প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে,

'বি'শ্বাসঘাতকার শাস্তি কি সাথী?'

সাথী চমকায়। দ্রুত পায়ে চৈত্রিকার কাছে এসে তার হাত চেপে ধরে। হাত ধরে টেনে তুলতে তুলতে বলে, 'রাতের বেলাতে একা একা চলে আসিস তোর ভয় করে না?'

'সে রাতের পর আমার ভেতরে আর ভয় বলে কোনো বস্তু নেই।'

সাথী আর জবাব দেয় না। টেনে নিয়ে কোনো রকমে বাড়ির ভেতরে ঢোকে। সবাই ঘুমে ব্যস্ত। রাতের বেলাতে চৈত্রিকাকে দেখতে মাঝে মাঝে খুব ভয় লাগে সাথীর। অন্যদিন সাথীর মা যায় চৈত্রিকার কাছে তবে আজ তার মা নেই। সাথী চৈত্রিকাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে দরজা আটকে দেয়। চৈত্রিকা কোনো শব্দ না করে শুয়ে পড়ে৷ সাথী তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। চোখ বন্ধ করে নেয় চৈত্রিকা। চোখের সামনে ভেসে ওঠে রক্তমাখা বাবার মুখ। বার বার বলছে, 'পালিয়ে যা চৈত্র।'

ধপ করে চোখ মেলে। সাথীকে বলে, 'তুই ঘুমিয়ে পড়। আমি একাই ঘুমিয়ে যাবো।'

সাথী দীর্ঘশ্বাস ফেলে পাশে শুয়ে পড়ে৷ দুজনের মাঝে অনেকক্ষণ নীরবতার পর সাথী মিনমিন করে বলে, 'তুই কি সত্যিই বিয়েটা করবি চৈত্র? ভেবে দেখেছিস এসবের পর কি হতে পারে!'

'ভেবেছি। আর এসবের পর ধীরে ধীরে পাপমুক্ত হবে। জমিদারের পাপের বোঝা একটু বেশিই হয়ে গেছে।'

চৈত্রিকার নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নেওয়া দেখে বেশ অবাক হয় সাথী। কিছু বলতে নিবে তার আগেই দরজায় খট খট শব্দ হয়। সাথী ভয়ে আঁকড়ে ধরে চৈত্রিকার হাত। চৈত্রিকা একবার সাথীর দিকে তাকিয়ে আরেকবার তাকায় দরজার দিকে। পর পর দুবার দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হওয়ার পর একাই থেমে যায়। সাথী ভয়ে ভয়ে বলে,

'আব্বা আসলো নাকি চৈত্র?'

'তোর আব্বা এখনো এতো কু'লা'ঙ্গা'র হয়নি যে মেয়ের ঘরে আসবে কু'ক'র্ম করতে।'

সাথীর মুখটা শুকিয়ে যায়। তবে আঁকড়ে ধরে থাকা হাতটা নরম হয় না। চৈত্রিকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাথীর হাত ছাড়াতে নিলে সেই হাত আরো শক্ত করে ধরে সাথী। মাথা নাড়িয়ে বোঝায় 'নাহ'। তবে সে বারণ শোনে না চৈত্রিকা। ধীর স্বরে আশ্বস্ত করে বলে,

"ভয় পাস না। আমি আছি তো!'

তবুও সাথী ছাড়তে চায় না। চৈত্রিকা জোড় করে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ঘরের কোণা থেকে রাম দা তুলে নেয়। ধীর পায়ে এগিয়ে আস্তে ধীরে দরজা খুলে দেখে ওপাশে কেউ নেই। ভ্রু কুঁচকে আশে পাশে তাকিয়ে জায়গাটা পরখ করে নিয়ে নিচে তাকাতেই চোখে পড়ে একটুকরো সাদা কাগজ। চৈত্রিকা দা হাতে নিয়ে সাবধানে কাগজ তুলে নিয়ে দরজা আটকায়। বিছানায় এসে আলগোছে কাগজটা খুলতেই চোখে পড়ে বড় বড় অক্ষরে লিখা,

'সাবধান। কাল প্রহর রেনওয়াজ তোমার সাথে দেখা করতে আসবে।'

চৈত্রিকা ঠোঁট বাকিয়ে হাসে। সাথী উঁকি দিয়ে লিখাটা পড়ে বেশ চমকায়। উত্তেজনা, ভয়ে হালকা জোড়ে বলে ফেলে, 'প্রহর রেনওয়াজ আসবে মানে কি? উনি কেনো আসবে?'

চৈত্রিকা সাথে সাথে সাথীর মুখ আটকে ধরে। চোখ রাঙিয়ে বলে, 'তোর বাপ রে জানাচ্ছিস চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া?'

সাথী শান্ত হয়। বেশ শান্ত স্বভাব নিয়েই বলে, 'তোকে এই কাগজ দিয়ে গেলো কে? আর সে জানলো কেমনে কাল প্রহর রেনওয়াজ আসবে?'

'ঘুমা। অনেক রাত হয়ে গেছে।'

সাথী বুঝলো চৈত্রিকা বিষয়টা এড়িয়ে গেলো। কে ওকে খবর দিলো! কে পেছন থেকে সাহায্য করছে ওকে! মাথায় হাজারটা প্রশ্ন নিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। চৈত্রিকা কাগজ টা হাতে নিয়ে অদ্ভুত স্বরে বলে,

'তবে প্রথমবারের মতো কোনো এক প'শু'র মুখোমুখি হবো।'

চলবে..

(আসসালামু আলাইকুম। ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন