ফন্ট সাইজ:
থিম:
এটা গল্প কার

২য় পর্ব

লেখক: ঝিলিক মল্লিক

#এটা_গল্প_কার ?

লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক

#পর্ব_০২

[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।]

“মেজর মাহাথির মোহাম্মদ রাভি?”

“ইয়েস!”

“আপনার সাক্ষাৎ তো পাওয়া-ই যায় না স্যার! এত ব্যস্ত আপনি! বিয়ে-শাদি করলে তো তখন আরো ব্যস্ত হয়ে যাবেন!”

মাহাথিরের মুখটা কিছু কারণে ভারী ছিল এতক্ষণ। সোহরাবের কথা শুনে এবার ফিচেল হেঁসে ফেললো ও। সোহরাব এমন একটা ছেলে, যার কথায় ও না হেঁসে পারে না৷ চরম রাগী, বদমেজাজী মানুষকেও সোহরাব হাসিয়ে ছাড়ে।

মাহাথির সবে বাসায় ফিরেছে। রিনিকে ওর দাদির কাছে দিয়ে এসে নিজের রুমে এসেছে। পরনের টি-শার্টটা খুললে ঝুলিয়ে রেখে এসে রকিং চেয়ারে একপ্রকার আধশোয়া হলো ও। রিল্যাক্স হয়ে বসে সোহরাবের উদ্দেশ্যে বললো, “ভীষণ ব্যস্ত বন্ধু! নিঃশ্বাস ফেলার সময় পাওয়াও দুষ্কর!”

“তুই তো এখন ছুটিতে। এরমধ্যে আয় একদিন দেখা করি। ইহরাম, সাফিন ওরাও একটা গেট টুগেদার করতে চাচ্ছে। সবাই জব-বিজনেস নিয়ে বিজি হয়ে গেলে কি হবে? এদিকে সাফিনের নয়া নয়া বিয়ে। ওর দেখা পাওয়া তো ধুমকেতুর দেখা পাওয়ার সমতুল্য! বেচারা বউয়ের আঁচল ছাড়তেই চায় না৷ তুইও তো ক’দিন পর একই পথে হাঁটবি। বিবাহ-শাদি করে নিবি৷ যদিও সাফিনের মতো বউয়ের আঁচল ধরা তুই হবি না বৈকি। তোকে ছোটবেলা থেকে চিনি তো!”

মাহাথির মৃদু হেঁসে বলে, “সুযোগ পেলে তুমি ট্রল করতে ছাড়ো না বন্ধু! সময় আমারও আসবে। দেখব তখন!”

মাহাথির আরো কিছু সময় সোহরাবের সাথে কথা বলে, পরশু বের হওয়ার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে কল কাটলো। এই মুহূর্তে ফ্রেশ হওয়া খুব জরুরি৷ বাইরে থেকে ফিরে ফ্রেশ না হয়ে রুমে থাকলে মাহাথিরের অস্বস্তি হয়। যতক্ষণ না ফ্রেশ হয়ে ক্ষ্যান্ত দেবে, ততক্ষণ এই অস্বস্তি কাটবে না। মাহাথির ফোনটা রকিং চেয়ারের ওপরে রেখে তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াতেই পুনরায় ফোনটা কর্কশ শব্দে কেঁপে উঠলো। ফোনের রিংটোন কানে যাওয়া মাত্র বিরক্তিতে ‘চ’ উচ্চারণ করলো মাহাথির। ভ্রু কুঁচকে পুনরায় ফিরে এসে ফোন তুলে নিয়ে দেখলো, আননোন নাম্বার হতে কল। ভাবলো, আবার বোধহয় জুহি কল দিয়েছে। ও কল রিসিভ করেই ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বলা শুরু করলো, “জুহি তোমাকে কতবার বলেছি, সময়ে-অসময়ে কল দিবে না। তুমি কি বুঝতে পারো না নাকি? তোমার মাথায় এই সহজ কথাটা ঢোকাতে কী করতে হবে আমার? বলো, সেটাই করবো!”

চিৎকার-চেঁচামেচির মাঝে ফোনের ওপাশ হতে একটা অপরিচিত, চিকন কন্ঠ ভেসে আসলো, “স্যরি, আপনি ভুল ভাবছেন, আমি জুহি নামক কেউ নই। আপনি কি মাহাথির রাভি বলছিলেন?”

মাহাথিরের ধারণা ভুল। ফোনের অপর প্রান্তে জুহি নয়, অন্য কেউ। ও এবার মেজাজ ঠান্ডা করে শান্ত স্বরে বললো, “জি, আপনি কে?”

“আমি কথা জামান। সাহারা বেগম নামক একজন আপনার নাম্বার দিয়েছেন আমাকে।”

সাহারা বেগম হচ্ছেন মাহাথিরের মা। মাহাথিরের মেজাজ বেজায় খারাপ হলো৷ তার মা যে কান্ড করেন! নতুন সিম নিয়েও শান্তি পাচ্ছে না মাহাথির। ওর মা যাকে-তাকে ওর নাম্বার দিয়ে বেড়াচ্ছে। তবুও মাহাথির ঠোঁট চেপে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে ভদ্রভাবে বললো, “কী চাই আপনার?”

“আপনাদের বাচ্চার জন্য হোম টিউটর জরুরি তলব করেছেন নাকি। সাহারা আন্টি অন্য এক টিউটরের কাছ থেকে আমার নাম্বার নিয়ে কল করেছিলেন আমাকে। কথাবার্তা বলে আপনাদের বাচ্চার জন্য আমাকে ঠিক করেছেন টিউটর হিসেবে। তারপর আপনার নাম্বার দিলেন। আপনি নাকি বাচ্চার মূল অভিভাবক। আপনার সাথে যেন একবার আলাপ করে নিই।”

মাহাথিরের একে তো মেজাজ নানান কারণে খারাপ, তারওপর চারিদিকের পেরেশানি মিলিয়ে বিধ্বস্ত ও। এজন্য কথা বাড়াতে চাইলো না। শান্ত স্বরে বললো, “আপনি আগামী শুক্রবার আমাদের বাসায় আসুন, তখন আলাপ করে নেবো। যিনি আপনাকে নাম্বার দিয়েছেন, তাকে কল করে বাসার ঠিকানা জেনে নিবেন।”

ওপাশের ব্যক্তি আরো কিছু বলতেই যাচ্ছিল। কিন্তু তাকে আর কিছু বলার সুযোগই দিলো না মাহাথির। নির্দ্বিধায় ঠাস করে কলটা কেটে দিলো।

.

.

আজ বৃহস্পতিবার। মাহাথিরের বন্ধুদের সাথে বের হওয়ার কথা। পার্কসাইড ক্যাফেকে এবারের আড্ডাস্থল হিসেবে ঠিক করা হয়েছে। মাহাথির সবে তৈরি হয়ে শার্টে পারফিউম লাগিয়েছে। এরইমধ্যে পেছন থেকে রিনির কান্নার আওয়াজ শোনা গেল। বুক কেঁপে উঠলো মাহাথিরের। রিনির কান্না তার সহ্য হয় না৷ ও কাঁদলে মাহাথিরের বুকের মাঝে অস্থিরতার

তোলপাড় শুরু হয়। ও পারফিউমটা ফেলে রেখে পেছনে ঘুরে দাঁড়িয়ে কান্নারত রিনিকে কোলে উঠিয়ে বুকের মাঝে নিলো। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আদুরে গলায় জিজ্ঞাসা করলো, “সোনা বাচ্চা আমার। কী হয়েছে? কাঁদছো কেন মা?”

“আমার কান্না পাচ্ছে তাই।”

রিনি তার বাবার শার্টে ভেজা চোখ-নাক মুছলো। শার্ট নোংরা হয়ে গেল। তবে সে নিয়ে মাহাথিরের কোনো তোয়াক্কা নেই। ও মেয়ের কান্না থামাতে ব্যস্ত। মেয়ের ভেজা চোখ মুছিয়ে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “কেন কান্না পাচ্ছে আমার সোনা বাচ্চাটার?”

“কারণ আজকে আমার মন ভালো নেই বাপি।”

“কেন মন ভালো নেই?”

“জানি না। শুধু জানি, মন ভালো নেই আমার।”

“আমার জান বাচ্চার মন ভালো করাে জন্য কী করতে পারি?”

“তুমি ঘোড়া হও বাপি। আমি তোমার পিঠে চড়তে চাই।”

“ঘোড়া হবো?”

মাহাথির পরলো বিপাকে। এখনই বের হওয়ার কথা। পৌঁছাতে মিনিট পনেরো-বিশেক সময় লাগবে। মাহাথির খুবই টাইম কনশাস পার্সন। কখনো কোথাও এক মিনিট লেইট করে না। ধরা-বাঁধা সময়ের মধ্যে পৌঁছানোর অভ্যাস ওর৷ ঘড়িতে সময় দেখলো ও। তিনটা বাজতে বাইশ মিনিট বাকি৷ এখন বের হলে তিনটার মধ্যে পৌঁছে যেত। তবে মেয়েকে উপেক্ষা করে বাইরে যাওয়ার কথা ও মাথাতেও আনলো না।

পরনের শার্ট নোংরা হয়ে গেছে। সেটা খুলে ফেললো। এখন আপাতত গায়ে ভেতরের কালো স্যান্ডো গেঞ্জি আর প্যান্ট।

মাহাথির ফ্লোরে ঘোড়ার মতো বসে মেয়েকে পিঠে তুলে নিলো। এরপর পুরো ঘরময় ঘুরতে লাগলো৷ রিনি বাবার পিঠে বসে বাবার কান টেনে ধরে ছড়া কাটতে লাগলো, “চল আমার ঘোড়া পিপ পিপ পিপ। চল আমার ঘোড়া পিপ পিপ পিপ. . .”

.

.

পার্কসাইড ক্যাফে এরিয়াটা বেশ সুন্দর। আউটডোর, ইনডোর, স্মোক জোন সব মিলিয়ে দারুণ একটা ক’জি ভাইব দেয়। মাহাথিররা সবাই ভেতরে আড্ডা দেওয়ার সোফায় বসেছে। একসাথে বড় ঘেরানো ধরনের সোফা। মোটামুটি সাত-আট জন আরামসে বসতে পারবে এখানে। মাহাথিরের আসতে মিনিট পনেরোর মতো দেরি হয়েছে। তবে দেরি হওয়ার কারণটা সোহরাব, সাফিনরা আন্দাজ করতে পেরেছে। যদিও আন্দাজ করার পরেও বন্ধুদের গ্রুপের সবচেয়ে চটপটে ইহরাম মাহাথিরকে ইতিমধ্যেই বলে বসেছে, “কী বন্ধু? হবু বউ নিয়ে ব্যস্ত ছিলা নাকি?”

মাহাথির অবশ্য এ প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি। সামান্য হেঁসেছে শুধু।

.

.

ফুড অর্ডার দিয়ে মাহাথির উঠেছে স্মোকিং জোনের ওদিকে যাবে বলে। এই ক্যাফের আউটডোরে তিন-চার ভাগ করা। ক্যাফের ভেতরে প্রবেশ করলে শুরুতেই একটা কর্ণার। তারপর আরো ভেতরের দিকে আরেকটা কর্ণার। প্রথম যেই সাইডটা, তার দক্ষিণ দিকেই মূলত স্মোকিং জোনে যাওয়ার ডোর।

মাহাথিরের স্মোক করার অভ্যাস আছে৷ খুব বেশি না হলেও দিনে অন্তত নিয়ম করে সময় মোতাবেক ছয়-সাত বার স্মোক না করলে ওর চলে না৷ খাবার আসতে এখনো আধঘন্টার মতো লাগবে৷

মাহাথির সেকেন্ড কর্ণার থেকে বের হয়ে স্মোক জোনে যাওয়ার জন্য বুকশেলফের পাশে ঘুরতেই আচনক সামনে একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেল৷ পেছনে ছিল টেবিল। ধাক্কা লাগতেই মেয়েটা পিছিয়ে চেয়ারের সাথে আঘাত পেল। মাহাথির অপ্রস্তুত হয়ে সামনে তাকাতে আরো হতভম্ব হলো।

সেই মেয়েটা! সেদিন সুপারশপে দেখা হয়েছিল যার সাথে। অধরা চেয়ার ধরে নিজেকে সামলে দাঁড়িয়ে আছে। ওর কাছের টেবিলে বসা একজন ছেলে। অধরাকে এভাবে ধাক্কা লেগে পরে যেতে দেখে ছেলেটা পেছন থেকে একপ্রকার কটাক্ষ নাকি উপহাস বোঝা গেল না, কিন্তু হেঁসে হেঁসে বললো, “দেখেছো তো, তোমার বয়স আসলেই হয়েছে অনেক। বয়স বেশি হলে মানুষ এমনিতেও চোখে কম দেখে। আজ বয়স বেশি বলেই এভাবে না দেখতে পেয়ে ধাক্কা লেগে পরে গেলে!”

অধরা কিছু বললো না৷ চুপ হয়ে গেল। সামনে সেই অপ্রত্যাশিতভাবে দেখা হওয়া অপরিচিত লোকটি এখনও ভ্রু কুঁচকে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। অধরার সাথের ছেলেটির সব কথাও শুনেছে বোধহয়। শুনে সামনের লোকটি কেন, এপাশে উপস্থিত সবাই শুনেছে৷ অনেকে আড়চোখে দেখছেও ওকে। এবং নিশ্চয়ই ভাবছে, ছেলেটা তো ঠিক কথা-ই বলেছে! মেয়েটাকে দেখলেই খুব বয়সী মনে হয়। যদিও অধরার বয়স-ই বা আর কত? পঁচিশ পেরিয়ে ছাব্বিশে পা দেবে এবার। তবুও নাকি সে বয়স্ক মেয়ে!

অধরার ধ্যান ভঙ্গ হলো। সামনের লম্বা গড়নের লোকটা ধাক্কা লেগে তার হাতের মুঠো থেকে পরে যাওয়া সিগারেটের প্যাকেটটা তুলে নিয়ে গটগট পায়ে হেঁটে স্মোকিং জোনের দিকে দিকে হেঁটে চলে গেল৷ অধরা আবারও হতাশ। গতবার ধন্যবাদ দেয়নি, আর এবার সামান্য একটা স্যরিও বললো না! ভারী নাকউঁচু লোক তো!

#চলবে

[এই গল্পটার রিচ শুরু থেকে খুবই কম। অথচ এটা আশা রাখা যায়, দারুণ একটা গল্প হবে৷ কিছুটা সামাজিক, কিছুটা রোমান্টিক। আর বাকিটা টুইস্ট৷ আমার গতানুগতিক গল্পগুলোর থেকে আলাদা। আপনারা গল্পটা পড়ে একটু কষ্ট করে দু-চারটা কমেন্ট আর রিয়্যাক্ট করিয়েন। নাহলে রিচ কম আসলে আমি আশাহত হয়ে অল্পতেই শেষ করে দিবো এই গল্প৷ ভাবতেও কষ্ট লাগছে।]

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন