#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins)
#লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক
#পর্ব ১
পর্ব ১
(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)
অন্ধকার ঘরটিতে বাতাসের প্রবাহ থমকে আছে। দরজার কপাট জোড়া আলতো শব্দে কেঁপে উঠছে। ভেতরে পা রাখলো কেউ একজন। পায়ে পালিশ করা দামি চামড়ার জুতো, যার প্রতিটি শব্দ যেন মৃ'ত্যুর আগাম বার্তা। ঘরের মাঝখানে চেয়ারে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা মধ্যবয়সী লোকটির শরীর থরথর করে কাঁপছে। তার মুখমণ্ডল র'ক্তে মাখা, ফোলা চোয়াল দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে লা'ল স্রো'ত। বাঁ'ধন ছিঁ'ড়ে পালানোর শেষ চেষ্টাও সে বি'স'র্জন দিয়েছে এখন শুধু গলার গভীর থেকে এক অস্ফুট জা'ন্ত'ব গো'ঙা'নি বেরিয়ে আসছে।
লোকটি ধীরপায়ে এগিয়ে এলো। তার পেছনে আরও তিনজন দীর্ঘদেহী দেহরক্ষী ছায়ার মতো ঘরে প্রবেশ করলো। তাদের প্রত্যেকের পরনে কালো স্যুট, আর চোখেমুখে শীতলতা। প্রধান লোকটির হাতের কালো পি'স্তলটি এখন সরাসরি লোকটির ক'পালে ঠে'কানো। ঠান্ডার চেয়েও শীতল সেই ধা'তুর স্পর্শে চেয়ারে বাঁধা লোকটির হৃ'ৎপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।প্রধান লোকটি নিচু স্বরে, ভরাট গলায় বলে উঠলো,
"I hate loose ends. And you are the biggest one I’ve found lately."
চেয়ারে বাঁধা লোকটি বাঁ'চার শেষ চেষ্টায় আ'র্তনাদ করে উঠলো। ব'ন্ধুক ধরা লোকটি এবার প্রশ্ন করলো,
"Any... last wish?"
লোকটি বুঝলো তার বাঁ'চার কোনো আশা নেই তাই সে এবার অনেক কষ্টে সাহস জোগাড় করে বললো,
, "K'ill me if you can... I want to see you r'ot in h'ell!"
পি'স্তল ধরা লোকটি হালকা একটু বাঁকা হাসলো যাকে হাসি না বলে বিদ্রূপ বলা ভালো। সে নিচু হয়ে লোকটির কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
"That’s never going to happen. H'ell is where I rule, and you’re just a guest."
কোনো সতর্কতা নেই, কোনো অনুশোচনা নেই।,,, ট্রি'গারে চাপ পড়লো। নিস্তব্ধতা ভেঙে এক অচেনা বজ্র'ধ্বনি ঘরে আছড়ে পড়লো। আগুনের ঝলকানিতে এক মুহূর্তের জন্য ঘরটা আলোকিত হয়েই আবার অন্ধকারে ডুবে গেল। ফিনকি দিয়ে ওঠা র'ক্ত আর বা'রুদের কড়া গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো। লোকটি পিছিয়ে দাঁড়ালো। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, শুধু পকেট থেকে সিল্কের রুমাল বের করে হাতের কাল্পনিক ধুলো ঝাড়লো। শহরের অ'পরাধ ইতিহাসে আজ আরও একটি নাম চি'রতরে মুছে গেল।
___________
মিলান শহর। এক আধুনিক রাজ্যের মতো জাঁকজমকপূর্ণ অফিস। নাম তার "Dominic scarlet" শুধু মিলান নয়, গোটা বিশ্বের শীর্ষ দশটি কর্পোরেট সাম্রাজ্যের মধ্যে একটি। কাঁচের দেয়াল ঘেরা উঁচু ভবনের ভেতরকার সেই অফিসটা যেন ক্ষমতা আর ভয়ের এক অদৃশ্য প্রতীক।
অফিসের অন্ধ'কার কাচঘেরা দুনিয়ায় বসে আছে রিভেন আরওয়ান ।তার চেহারাটা যেন কোনো দক্ষ ভাস্করের নিপুণ কারুকাজ। তীক্ষ্ণ চোয়াল, উন্নত নাসিকা আর প্রশস্ত কপাল। কিন্তু সব ছাপিয়ে নজর কেড়ে নেয় তার হ্যাজেল রঙের চোখ দুটি। সেই চোখে কোনো মায়া নেই, আছে এক গভীর ও ধারালো হিং'স্রতা। তাকালে মনে হয়, সে এক পলকেই সামনের মানুষের আ'ত্মাটা ছিঁ'ড়েখুঁ'ড়ে ফেলবে। তার হাসি বিরল, আর যখন সে হাসে, তখন সেটা শীতল ও বিদ্রূপাত্মক
ও'য়াইনের গ্লাসটা হাতে নিয়ে সে অবসরে খেলছে, কিন্তু তার প্রতিটি নড়াচড়ার ভেতরেও লুকিয়ে আছে রাজকীয় আধিপত্য। টেবিলের ওপরে পড়ে থাকা ফাইলের দিকে তাকিয়ে তার ঠোঁট বাঁকা হয়। বাইরে থেকে মনে হয় শান্ত, কিন্তু ভেতরে ঝড় উঠছে শহরের প্রতিটি মানুষ জানে, তার শান্ত দৃষ্টি আসলে আসন্ন ধ্বং'সের সংকেত।
____________________
অফিসের নিস্তব্ধ করিডোর। কাঁচের জানালার ওপাশে যান্ত্রিক শহর। রোজেলিয়া তার ডেস্কের ওপর ফাইলগুলো গোছাচ্ছে। পরনে সাধারণ সাদা টপস আর নীল জিন্স, কিন্তু তার সহজাত সৌন্দর্য সেই সাদামাটা পোশাককেও হার মানায়। পাশে দাঁড়িয়ে আছে তার ছায়ার মতো সঙ্গী, এলেনা।
রোজেলিয়া ক্লান্ত স্বরে বলল,
"তুই চলে যা এলেনা, আমি চলে যেতে পারব। প্রতিদিন এভাবে আমার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।"
এলেনা নরম হেসে মাথা নাড়লো,
"না রে, তোকে এভাবে একা ফেলে যেতে মন চাইছে না। আর রোজ... এভাবে আর কতদিন? নিজের শরীরের দিকে তাকিয়েছিস? তুই তো শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছিস।"
রোজেলিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"উপায় নেই রে। মায়ের চিকিৎসার খরচ বাড়ছে, বাবাও বেকার। আমি একটু পরিশ্রম না করলে কী হবে"
দুই বান্ধবী বাস স্টেশনের দিকে হাঁটা ধরলো। রাতের শীতল হাওয়া রোজেলিয়ার মুখে এসে লাগছে। হঠাৎ সে থমকে দাঁড়িয়ে এলেনাকে বলল,
"জানিস, বাবাকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে। কিছু জিজ্ঞাসা করলেই এড়িয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কিছু লুকাচ্ছে আমার থেকে ফোনেও মাঝে মাঝে কার সাথে কথা বলতে শুনি আমাকে দেখলেই কেটে দেন "
এলেনা চোখে সহমর্মিতা নিয়ে রোজেলিয়ার পাশে একটু ঘেঁষে দাঁড়াল।
“তুই চিন্তা করিস না, রোজি। হয়তো বড় কিছু না খুব তাড়াতাড়ি সব ঠিক হয়ে যাবে”
এলেনা নরম স্বরে বলল, কিন্তু রোজেলিয়ার চোখে এখনো উদ্বেগ দেখা যাচ্ছিল।
রাস্তার ওপাশে অন্ধকার ছায়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটি কালো মার্সিডিজ। গাড়ির কাঁচ নামানো। ভেতরে একজন বসে আছে। তার সেই হ্যাজেল চোখ দুটো রাস্তার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোজেলিয়ার ওপর স্থির।
রোজেলিয়ার হালকা ব্রাউন চুলগুলো বাতাসে উড়ছে, ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোয় তার বরফ শুভ্র ফর্সা মুখটা অপার্থিব সুন্দরী দেখাচ্ছে। গাড়িতে থাকা লোকটির হাতের সি'গারেট থেকে একরাশ ধোঁয়া ছাড়লো। তার চোখে এখন কোনো হিং'স্রতা নেই, বরং আছে এক অদ্ভুত শিকারি তৃপ্তি। সে নিচু গলায়,
"So, this is Afsar Chowdhury’s daughter... the one he kept hidden from me"
একটি বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো তার ঠোঁটে। সে ধীর'স্থির কণ্ঠে যোগ করলো,
"শীঘ্রই দেখা হবে,,,, soon to be mrs.arwain"
to be continue,,,,,,,,